• Youtube
  • English Version
  • সোমবার, ১৫ এপ্রিল ২০২৪, ০৯:১৪ পূর্বাহ্ন

করাঙ্গী নিউজ
স্বাগতম করাঙ্গী নিউজ নিউজপোর্টালে। ১৫ বছর ধরে সফলতার সাথে নিরপেক্ষ সংবাদ পরিবেশন করে আসছে করাঙ্গী নিউজ। দেশ বিদেশের সব খবর পেতে সাথে থাকুন আমাদের। বিজ্ঞাপন দেয়ার জন‌্য যোগাযোগ করুন ০১৮৫৫৫০৭২৩৪ নাম্বারে।

নবীগঞ্জে ফসলি জমির টপ সয়েল কেটে নেয়া হচ্ছে ইটের ভাটায়!

  • সংবাদ প্রকাশের সময়: মঙ্গলবার, ১৬ জানুয়ারী, ২০২৪

নবীগঞ্জ (হবিগঞ্জ) প্রতিনিধি:
নবীগঞ্জে প্রতিযোগিতার মাধ্যমে ফসলি জমি থেকে মাটির টপ সয়েল কাটা মহা উৎসব চলছে। অবৈধ মুনাফার জন্য এসব কাজে সহযোগিতা করচ্ছেন জন প্রতিনিধি, সরকার দলীয় রাজনৈতিক নেতারা। ফসলি জমির টপ সয়েল কেটে নেওয়ার ফলে পরিবেশসহ জমির ব্যাপক ক্ষতি হচ্ছে। আগামী পরিবেশ বিপর্যয়ের পাশাপাশি কৃষি ক্ষেত্রে চরম সংকট সৃষ্টি হবে।

 

ইট ভাটার মালিকগন প্রভাবশালী হওয়ায় প্রশাসন মাটি কাটার বিষয় জানার পর রহস্যজনক কারনে পালন করা হচ্ছে নিরবতা যেন দেখার কেউ নেই। ফসলি জমির মাটি কাটার বিষয়ে আইনের প্রতি কোন কর্নপাত করছেন না। কেউ কেউ আবার রাতের বেলা মেশিনের সাহায্যে মাটি কাটছেন। এসব মাটি পাটির কাছে প্রশাসনের লোকজন অসহায় হয়ে পড়েছেন।

 

 

নবীগঞ্জ উপজেলার কুর্শি ইউনিয়ন, আউশকান্দি ও দেবপাড়াসহ বেশ কয়েকটি ইউনিয়নে এক্সেভেটর মেশিন ও শ্রমিক দিয়ে আবাদি জমির উপরি ভাগের মাটি কেটে শতাধিক ট্রাক্টর দিয়ে নেওয়া হচ্ছে বিভিন্ন ইট ভাটায়। এভাবে নির্বিচারে জমির মাটি কাটার ফলে আবাদি জমির উৎপাদন হ্রাস পাচ্ছে, নষ্ট হচ্ছে মাটির জৈব গুণাগুণ। নিচু হয়ে যাচ্ছে কৃষি জমি। ভারসাম্য হারাচ্ছে পরিবেশ।

 

বাংলাবাজার এলাকার হাসন আলী নামে একজন জানান, নবীগঞ্জ উপজেলার এনাতাবাদ,বাংলা বাজার, রতনপুর,মাটভাঙ্গা দাগা নোয়াগাও গ্রামের ফসলি জমি থেকে মাটি কেটে নেওয়া হচ্ছে নবীগঞ্জের গোল্ড ব্রিকফিল্ড,বরাক ফিল্ড, বিজনা ব্রিকফিল্ড,মাষ্টার ব্রিক ফিল্ডে মাটি। এসব ভাটার চাহিদা মেটাতে ফসলি জমি থেকে নির্বিচারে আবাদি জমির উপরি ভাগের মাটি কাটা হচ্ছে। ইটভাটা বাড়ার সঙ্গে বেড়েছে ইটের জন্য মাটির চাহিদা। তাই ফসলী জমি কেটে নিপাত করা হচ্ছে।
গহর পুর এলাকার কৃষক আব্দুল মুহিত বলেন, আমি কিছু বোরো জমি করেছি এর চারিপাশের সব ফসলি জমির মাটি নিয়ে গেছেন আমাদের এলাকার প্রভাবশালী ইট ভাটার মালিক।ফলে আগামীতে এসব জমিতে ফসল ফলানো সম্ভব নয়। প্রশাসনের লোকজন দেখেও না দেখার ভান করছেন। আসলে আমাদেও সাধারণ মানুষের ব্যাপক ক্ষতি হচ্ছে।

 

 

বাংলাদেশ পরিবেশ আন্দোলন বাপা হবিগঞ্জ জেলা শাখার সাধারণ সম্পাদক তোফাজ্জল সোহেল বলেন, ফসলি জমির টপ জমির মাটির উপরিভাগের মাটিতে যে তপ সয়েল থাকে সেটি প্রস্তুত শতাধিক বছর সময় লাগে। ইট ভাটার জন্য এসব মাটি বা টপ সয়েল গুলো কেটে নেওয়ার জন্য যেমন ফসলের ক্ষতি হচ্ছে তেমনি মাটির উর্বরতা কমে যাচ্ছে। এসব জমিতে কম পক্ষে ২০/২৫ বছর কোন ধরনের ফসল উৎপাদন হবে না। কোন পোকা মাকর বা কেচো বসবাস করবে না ফলে এসব টপ সয়েল ধ্বংসের সাথে পরিবেশের ব্যাপক ক্ষতি হচ্ছে প্রশাসনকে এই বিষয়ে দ্রুত ব্যবস্থা নিতে হবে। আর না হয় কৃষিক্ষেত্রে বিভিন্ন ফসলের মধ্যে বির্পযয় দেখা দিবে।

 

 

মাটি কাটা সম্পর্কে ব্যবসায়ী আজাদ আলী বলেন, ইট ভাটার মালিকরা হয়েছেন বেপরোয়া। অভাবী জমির মালিকদের অর্থের লোভে ফেলে তারা কেটে নিচ্ছে আবাদির জমির মাটি। অবাধে মাটি কাটার ফলে এসব ইউনিয়নের আবাদি জমি নিচু হয়ে গেছে। সচেতন মহলের ভাষ্য,এভাবে জমির মাটি কাটা অব্যাহত থাকলে একসময় কৃষিতে বিপর্যয় দেখা দেবে। কমে যাবে আবাদি জমির পরিমাণ। জমি হতে কেটে নেয়া মাটি দিয়ে ভরাট করা হচ্ছে কোটি কোটি টাকার জায়গা,সরবরাহ করা হচ্ছে বিভিন্ন ইট ভাটায়।এতে জমির উর্বরতা নষ্ট হওয়ার পাশাপাশি পরিবেশের ভারসাম্যও হুমকির মুখে পড়েছে।
আলী আহমদ নামে একজন বলেন, পরিবেশ আইন অনুযায়ী কৃষি জমির মাটি কাটা দন্ডনীয় অপরাধ। কিন্তু এসব আইনের প্রতি বৃদ্ধা আঙ্গুলি প্রদর্শন করছেন ইট ভাটা মালিকরা। তারা দিনে রাতে বিরামহীন ভাবে এক্সলেটর মেশিন দিয়ে মাটি কাটছেন।

 

জানা যায়, পরিবেশ সংরক্ষণ আইন ১৯৯৫ (সংশোধিত ২০১২ এর ৬ ধারায়) অনুযায়ী, প্রাকৃতিকভাবে সৃষ্ট টিলা ও পাহাড় নিধন সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ। অন্যদিকে ১৯৮৯ সালের ইট পোড়ানো নিয়ন্ত্রণ আইন (সংশোধিত ২০০১) অনুযায়ী, কৃষি জমির টপ সয়েল বা উপরিভাগের মাটি কেটে শ্রেণি পরিবর্তন করাও সম্পূর্ণভাবে নিষিদ্ধ রয়েছে। দুই আইনে শাস্তির বিধান একই রকম। এসব কাজে জড়িত ব্যক্তিদের দুই লাখ টাকার জরিমানা ও দুই বছরের কারাদন্ড দেওয়ার বিধান রাখা হয়েছে। একই অপরাধ দ্বিতীয় বার করলে দায়ী ব্যক্তির ১০ লাখ টাকা জরিমানা ও ১০ বছরের কারাদন্ড হবে। এ ক্ষেত্রে এ কাজের সঙ্গে জড়িত জমি ও ইটভাটার মালিক উভয়ের জন্যই সমান শাস্তির বিধান রাখা হয়েছে।

 

 

এ ব্যাপারে নবীগঞ্জ উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) শাহীন দেলোয়ার বলেন, আমি অভিযোগ পেয়ছি। দ্রুত আইনানুক ব্যবস্থা গ্রহণ করব। আমরা ইট ভাটা মালিকদের মুখিক ভাবে জানানো হয়েছে তারা যদি শর্তক না হন তাহলে দ্রুত ব্যবস্থা গ্রহন করা হবে।
সিলেট পরিবেশ অধিদপ্তরে পরিচালক মো: ইমরান

 

হোসেন বলেন, আমরা খবর নবীগঞ্জের বিভিন্ন জায়গায় মাটি কাটা হচ্ছে এসব মাটি যদি কোন ব্রিক ফিল্ডে নেয়া হয় তাহলে তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়া হবে। মাটির টপ সয়েল কাটা সম্পূর্ন নিষিদ্ধ কেন এসব হচ্ছে খবর নিয়ে আমরা দ্রুত ব্যবস্থা নিবো।

 

সংবাদটি শেয়ার করুন

এ জাতীয় আরো সংবাদ