• Youtube
  • English Version
  • সোমবার, ২৬ ফেব্রুয়ারী ২০২৪, ০৯:২৭ অপরাহ্ন

করাঙ্গী নিউজ
স্বাগতম করাঙ্গী নিউজ নিউজপোর্টালে। ১৫ বছর ধরে সফলতার সাথে নিরপেক্ষ সংবাদ পরিবেশন করে আসছে করাঙ্গী নিউজ। দেশ বিদেশের সব খবর পেতে সাথে থাকুন আমাদের। বিজ্ঞাপন দেয়ার জন‌্য যোগাযোগ করুন ০১৮৫৫৫০৭২৩৪ নাম্বারে।

হাওরের ফসলরক্ষা বাঁধের কাজ নিতে মরিয়া সরকারদলীয় নেতারা

  • সংবাদ প্রকাশের সময়: বৃহস্পতিবার, ২৬ জানুয়ারী, ২০২৩

এম,এ আহমদ আজাদ, সিলেট বিভাগীয় প্রধান:
হাওর অঞ্চলের ফসলরক্ষা বাঁধের কাজ বাগিয়ে নেওয়ার চেষ্টা করছেন সরকারদলীয় কয়েকজন নেতা। বাঁধের কাজের জন্য প্রকল্প বাস্তবায়ন কমিটি (পিআইসি) ঘোষণা এবং কাজ শুরুর ক্ষেত্রে দেরির কারণ অনুসন্ধানে সামনে এসেছে এমন তথ্য।

জেলায় বাঁধের কাজে সবচেয়ে পিছিয়ে আছে বড় দুই উপজেলা তাহিরপুর ও ধর্মপাশা। তাহিরপুরে ফসলরক্ষা বাঁধের অর্ধেক কাজও শুরু হয়নি। ধর্মপাশায়ও এ প্রক্রিয়া চলছে ধীরগতিতে।

সুনামগঞ্জের ধর্মপাশা, জামালগঞ্জ, তাহিরপুর ও মধ্যনগর এলাকার হাওর অঞ্চলের ফসলরক্ষা বাঁধের কাজ বাগিয়ে নেওয়ার চেষ্টা করছেন সরকারদলীয় কয়েকজন নেতা। বাঁধের কাজের জন্য প্রকল্প বাস্তবায়ন কমিটি (পিআইসি) ঘোষণা এবং কাজ শুরুর ক্ষেত্রে দেরির কারণ অনুসন্ধানে সামনে এসেছে এমন তথ্য।

একটি উপজেলায় দায়িত্বপালনকারী পাউবোর এক প্রকৌশলী বলেন, ‘এমপি সাহেব, সংরক্ষিত আসনের নারী সংসদ সদস্য, আওয়ামী লীগের সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদক, চেয়ারম্যান সবাই কৃষকের নাম দিয়ে বলছেন- আমার এই কৃষককে পিআইসির সভাপতি করতে হবে।’

তাহিরপুর উপজেলা হাওররক্ষা বাঁধ নির্মাণ ও মনিটরিং কমিটির সদস্য সচিব প্রকৌশলী শওকতুজ্জামানকে গত মঙ্গলবার উপজেলা আওয়ামী লীগের যুগ্ম সম্পাদক শফিকুল ইসলাম গালাগাল করেছেন জানিয়ে তিনি স্থানীয় সংসদ সদস্য ও ইউএনওর কাছে মৌখিকভাবে নালিশ করেছেন। শওকতুজ্জামান বলেন, ‘সফিকুল ইসলাম আমার বিরুদ্ধে অনৈতিক লেনদেনের অভিযোগ আনেন। অনৈতিক লেনদেন দূরে থাক, এক কাপ চা খেতেও হিসাব করি আমরা।’

শফিকুল ইসলাম দাবি করেন, কাজে বিলম্ব হওয়ায় রাজনীতিবিদদের দোষারোপ করছেন বাঁধ নির্মাণকাজে দায়িত্বশীলরা। অথচ পাউবো প্রকৌশলী শওকতুজ্জামানের মাধ্যমে টাকা নিয়ে পিআইসিতে নাম যুক্ত করা হচ্ছে, নাম কাটা হচ্ছে। প্রতি পিআইসিতে দু-তিন লাখ টাকা করে হাতিয়ে নেওয়া হচ্ছে। তিনি বলেন, বাঁধের কাজ ১৫ ডিসেম্বর শুরু হওয়ার কথা, এখন পর্যন্ত ১১২ বাঁধের মাত্র ৪৮টিতে কাজ শুরু হয়েছে।

পরিচয় প্রকাশে অনিচ্ছুক একই উপজেলার আরেক রাজনীতিবিদ অভিযোগ করেন, সংসদ সদস্যের শ্বশুরবাড়ির আত্মীয়স্বজনসহ কমপক্ষে ৩০টি পিআইসি তাঁর পছন্দের মানুষকে দিয়ে করানো হয়েছে। উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি আবুল হোসেন খান ও সাধারণ সম্পাদক অমল কর পিআইসি দেওয়ার জন্য বড় একটি তালিকায় স্বাক্ষর করে ইউএনওকে দিয়েছেন।

এ বিষয়ে অমল কর বলেন, ‘আমি দেশেই ছিলাম না। বাঁধের কাজ নিশ্চিতের জন্য সংগঠনের উপজেলা সভাপতি কিছু পিআইসির সুপারিশ করলে অপরাধের কিছু মনে করছি না।’

ইউএনও সুপ্রভাত চাকমা বলেন, ‘এমপি সাহেব হাওররক্ষা বাঁধ নির্মাণ ও মনিটরিং কমিটির উপদেষ্টা। এ জন্য তাঁর কিছু পরামর্শ নেওয়া হয়েছে। অন্যরাও কিছু সুপারিশ করেছেন। আমরা সবকিছু দেখে ভালো কৃষকদের যুক্ত করার চেষ্টা করেছি। এ জন্য সামান্য দেরি হয়েছে।’

একই অবস্থা ধর্মপাশায়ও। উপজেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক শামীম আহমদ বিলকিসসহ চারজন ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যান সংসদ সদস্যের পক্ষে পিআইসির তালিকা দেখভাল করছেন বলে অভিযোগ।

ধর্মপাশা আওয়ামী লীগের যুগ্ম সম্পাদক শামীম আহমদ মুরাদ বলেন, গত বছরও বাঁধের কাজের সময় পিআইসি করিয়ে দিয়ে প্রতি পিআইসিতে এক থেকে তিন লাখ টাকা নিয়েছে একটি চক্র। এবারও উপজেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক শামীম আহমদ বিলকিস এবং স্থানীয় সংসদ সদস্যের ভাই ধর্মপাশা উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান মোজাম্মেল হোসেন রুকনের নেতৃত্বে একটি সিন্ডিকেট কাজ করছে।

তবে শামীম আহমদ বিলকিস বলেছেন, বাঁধের কাজে কোনো কৃষকের নাম দিয়ে সুপারিশ করেননি তিনি। কয়েকজন ইউপি চেয়ারম্যান আবেদন বেশি হওয়ায় যাচাই করার দায়িত্ব পালন করেছেন। নীতিমালায় ইউপি চেয়ারম্যানরা কৃষক যাচাই করবেন- এমন কথা উল্লেখ নেই জানালে তিনি বলেন, ‘তাঁরা কেবল সহযোগিতা করছেন।’

উপজেলা চেয়ারম্যান মোজাম্মেল হোসেন রুকন বলেন, ইউএনও না থাকায় বাঁধের কাজ কিছুটা পিছিয়েছিল। দু’দিন আগে নতুন ইউএনও যোগদান করেছেন। এখন দ্রুতই কাজ হবে।

সুনামগঞ্জ পাউবোর নির্বাহী প্রকৌশলী মামুন হাওলাদার জানান, নীতিমালায় কৃষক যাচাইয়ের দায়িত্ব ইউপি চেয়ারম্যানদের দেওয়া হয়নি। এটি উপজেলা কমিটির কাজ। আজ (বুধবার) পর্যন্ত তাহিরপুরে ১১২টি বাঁধের মধ্যে ৪৮ ও ধর্মপাশার ৫৮টির মধ্যে ৫৫টিতে কাজ শুরু হয়েছে।

বাঁধের কাজ শুরু করতে দেরি হওয়ার বিষয়টি স্বীকার করে সংসদ সদস্য মোয়াজ্জেম হোসেন রতন বলেন, ‘আমার কোনো আত্মীয়স্বজন বাঁধের কাজে যুক্ত হয়নি। উপজেলায় দলের সভাপতি বা সম্পাদক ভালো কৃষককে পিআইসিতে যুক্ত করার অনুরোধ জানালে দোষের কিছু দেখছি না।’

জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক এনামুল কবির ইমন বলেন, ‘পিআইসি কোন কৃষককে দিয়ে করা হবে সেটি দলের নেতাদের সিদ্ধান্তের বিষয় নয়। কমিটি দেখবে।’

এবার সুনামগঞ্জ জেলায় ৪৮টি বড় হাওরে ১ হাজার ৮৯টি প্রকল্পে ২০৫ কোটি টাকা বাঁধের কাজে বরাদ্দ দেওয়ার প্রস্তাব করা হয়েছে। এই পর্যন্ত বরাদ্দ হয়েছে ১০০ কোটি টাকা। অর্থছাড় হয়েছে ২৫ কোটি টাকা।

সংবাদটি শেয়ার করুন

এ জাতীয় আরো সংবাদ