1. nafiz.hridoy285@gmail.com : Hridoy Fx : Hridoy Fx
  2. miahraju135@gmail.com : MD Raju : MD Raju
  3. koranginews24@gmail.com : সম্পাদক : সম্পাদক
হঠাৎ আলোচনায় হাওরে উড়াল সেতু - করাঙ্গীনিউজ
  • Youtube
  • English Version
  • রবিবার, ২৯ জানুয়ারী ২০২৩, ১২:৪১ অপরাহ্ন

করাঙ্গী নিউজ
স্বাগতম করাঙ্গী নিউজ নিউজপোর্টালে। ১৪ বছর ধরে সফলতার সাথে নিরপেক্ষ সংবাদ পরিবেশন করে আসছে করাঙ্গী নিউজ। দেশ বিদেশের সব খবর পেতে সাথে থাকুন আমাদের। বিজ্ঞাপন দেয়ার জন‌্য যোগাযোগ করুন ০১৮৫৫৫০৭২৩৪ নাম্বারে।

হঠাৎ আলোচনায় হাওরে উড়াল সেতু

  • সংবাদ প্রকাশের সময়: শনিবার, ১৪ জানুয়ারী, ২০২৩

এম,এ আহমদ আজাদ,হাওরাঞ্চল প্রতিনিধি(সিলেট):
ডলার সংকটের পর এখন টাকারও সংকট দেশে। অতিমারি করোনার অভিঘাত, রাশিয়া-ইউক্রেন পরিস্থিতি ও গ্যাস-বিদ্যুতের সংকট প্রশমনে আগেই কৃচ্ছ্র নীতি নেওয়া হয়েছে। উন্নয়ন প্রকল্পে ব্যাপক কাটছাঁট চালানো হয়েছে। বাস্তবায়ন পর্যায়ে থাকা ৮৫টি প্রকল্পের বরাদ্দ মাঝপথে স্থগিত রাখা হয়েছে। ২৫ শতাংশ বরাদ্দ স্থগিত ৬৩৬টি প্রকল্পের। খুব গুরুত্বপূর্ণ না হলে নতুন প্রকল্প নেওয়া হচ্ছে না। পুরোনো প্রকল্প সংশোধনের ক্ষেত্রে বেশি টাকার বিষয় থাকলে ফেলে রাখা হচ্ছে। মন্ত্রণালয় এবং বিভাগ থেকে আসা প্রকল্প ফেরত দিচ্ছে পরিকল্পনা কমিশন। এ রকম বাস্তবতায় ধান বাজারজাত করতে সড়ক উন্নয়নে পাঁচ হাজার ৬৫১ কোটি টাকার প্রকল্প নিচ্ছে সরকার। সব ঋতুতে চলাচল উপযোগী যোগাযোগ স্থাপন এবং পর্যটন বিকাশের মতো তুলনামূলক গুরুত্বহীন আরও কিছু উদ্দেশ্য রয়েছে প্রকল্পটির। কিশোরগঞ্জের মিঠামইন উপজেলা সদর থেকে করিমগঞ্জের মরিচখালি পর্যন্ত দুই হাজার ৮০০ কোটি টাকায় সাড়ে ১৫ কিলোমিটার দৈর্ঘের উড়াল সড়ক নির্মাণ করা হবে। ৪৩৩ কোটি টাকা ব্যয়ে সাড়ে ১৩ কিলোমিটার বিদ্যমান সড়ক প্রশস্ত করা হবে। ভূমি অধিগ্রহণ এবং ক্ষতিপূরণে ব্যয় করা হবে ৫০০ কোটি টাকার মতো। তবে এ মেগা প্রকল্প নিয়ে শুরু হয়েছে আলোচনা-সমালোচনা।
বিশিষ্ট অর্থনীতিবিদ এবং বিশ্বব্যাংকের সাবেক লিড ইকোনমিস্ট ড. জাহিদ হোসেন মনে করেন, এ মুহূর্তে এ ধরনের প্রকল্পের কোনো যুক্তি নেই। এগুলো হয়তো রাজনৈতিক অর্থনীতির বিষয়। সমকালকে তিনি আরও বলেন, ব্যয়ে শৃঙ্খলা ফিরিয়ে আনার উদ্দেশ্যে সরকারের পক্ষ থেকে কৃচ্ছ্র নীতি নেওয়া হয়েছে। যাতে ব্যয়ের ক্ষেত্রে সাশ্রয়, স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা থাকে। এর মধ্যে কম গুরুত্বপূর্ণ প্রকল্পে এত বড় ব্যয়ের খাত যোগ করার অর্থ সরকারের কাছে আসলে উন্নয়ন খাতের শৃঙ্খলার বিষয়টি গুরুত্ব পাচ্ছে না।
‘কিশোরগঞ্জ জেলার মিঠামইন উপজেলা সদর থেকে করিমগঞ্জের মরিচখালি পর্যন্ত উড়াল সড়ক নির্মাণ’ নামের প্রকল্পটির কাজ এ মাস থেকে শুরু করতে চায় সেতু বিভাগ। পাঁচ বছর মেয়াদের প্রকল্পটি আগামী ২০২৮ সালে শেষ করার পরিকল্পনা রয়েছে। আগামী মঙ্গলবার অনুষ্ঠেয় জাতীয় অর্থনৈতিক পরিষদের নির্বাহী কমিটির (একনেক) বৈঠকে অনুমোদনের জন্য প্রকল্পটি উপস্থাপন করা হবে। একনেক চেয়ারপারসন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা সভায় উপস্থিত থাকবেন।
পরিকল্পনা কমিশনের ভৌত অবকাঠামো বিভাগ প্রকল্পটি যাচাই-বাছাই করেছে। অর্থ সংকটের কৃচ্ছ্রসাধনের সময়ে এ ধরনের কম গুরুত্বপূর্ণ প্রকল্প কেন নেওয়া হচ্ছে জানতে চাইলে ভৌত অবকাঠামো বিভাগের সদস্য সরকারের সচিব ড. মোহম্মদ এমদাদ উল্লাহ মিয়া বলেন, প্রকল্পের প্রয়োজনীয়তা বিবেচনা করেই একনেকে অনুমোদনের জন্য সুপারিশ করা হয়। এছাড়া এখনই প্রকল্পটিতে অর্থের প্রয়োজন হবে না। সব প্রক্রিয়া শেষে আরও অন্তত দেড় বছর পর অর্থের প্রয়োজন হবে। সে দিক থেকে প্রকল্প অনুমোদন পেলে কাজ এগিয়ে থাকল। তবে প্রকল্পটি আদৌ বাস্তবায়ন করা হবে কিনা সে ব্যাপারে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেবে একনেক।
কিশোরগঞ্জে এরকম একটি প্রকল্প নেওয়ার যৌক্তিকতা সম্পর্কে প্রকল্পে নথিতে বলা হয়, ভৌগোলিকভাবে হাওর অঞ্চল পশ্চাৎপদ। বছরের ছয় মাস থাকে পানির নিচে। অর্থনৈতিক কর্মকা-, যোগাযোগ ও শিক্ষার দিক থেকে উন্নত নয়। বছরে একবার মাত্র বোরো ফসল হয়। উন্নত রাস্তাঘাট না থাকার কারণে উৎপাদিত ধান বাজারজাত করতে সমস্যা হয়। হাওরের অঞ্চলটি বন্যার ঝুঁকিতে রয়েছে। প্রকল্প এলাকায় পর্যটন সম্ভাবনা রয়েছে। প্রকল্পটি বাস্তবায়িত হলে স্থানীয় পর্যটনশিল্প বিকশিত হবে।
প্রকল্প এলাকা কিশোরগঞ্জের ঐতিহাসিক গুরুত্ব রয়েছে। রাষ্ট্রপতি মোঃ আবদুল হামিদ এ জেলার মিঠামইনে জন্মগ্রহণ করেন। সাবেক রাষ্ট্রপতি জিল্লুর রহমান এবং দেশের প্রথম অস্থায়ী রাষ্ট্রপতি সৈয়দ নজরুল ইসলাম কিশোরগঞ্জে জন্মগ্রহণ করেন। সৈয়দ নজরুল ইসলামের ছেলে বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের প্রয়াত সাধারণ সম্পাদক সৈয়দ আশরাফুল ইসলামও কিশোরগঞ্জের সন্তান।
পরিকল্পনা কমিশন সূত্রে জানা গেছে, প্রকল্পের মূল্যায়ন কমিটির (পিইসি) সভায় প্রকল্পের অর্থায়ন নিয়ে প্রশ্ন তোলা হয়। ব্যয় নির্বাহে সরকারের অনুদান পাওয়ার বিষয়ে বিদ্যমান পদ্ধতি অনুসরণের কথা বলা হয়। এই পর্যবেক্ষণের জবাবে সেতু বিভাগ বলেছে, পদ্মা সেতু প্রকল্পের সম্পূর্ণ অর্থ সুদসহ আগামী ৩৫ বছরের মধ্যে অর্থ বিভাগকে পরিশোধ করবে সেতু কর্তৃপক্ষ।

সংবাদটি শেয়ার করুন

এ জাতীয় আরো সংবাদ
x