#  সেপ্টেম্বরে এইচএসসি পরীক্ষার পরিকল্পনা #  দেশে ২৪ ঘন্টায় করোনায় মৃত্যু ৩৩ জন #  বানিয়াচংয়ে হাসপাতাল ব্যবস্থাপনা কমিটির সভা #  বাহুবলে শ্রীশ্রী শচীঅঙ্গন ধামে রহস্যজনক চুরি,আটক ১ #  নবীগঞ্জে ভুয়া সিআইডি আটক #  হবিগঞ্জ- লাখাই আঞ্চলিক মহাসড়কে ঘটতে পারে দূর্ঘটনা #  নবীগঞ্জে বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান ও ব্যক্তিকে জরিমানা #  প্রণোদনা পাচ্ছেন হবিগঞ্জের কৃষকরা #  পিইসি ও জেএসসি পরীক্ষা হচ্ছে না #  হবিগঞ্জে আরও ৩৪ জনের করোনা শনাক্ত #  বিশ্বনাথে এমপি মোকাব্বির খানের গাড়িতে হামলা #  বাহুবলে জাতীয় শোক দিবস পালনের প্রস্তুতি সভা #  শায়েস্তাগঞ্জে গরীব মেধাবী শিক্ষার্থীদের মাঝে শিক্ষাবৃত্তি প্রদান #  দেশে ২৪ ঘন্টায় করোনায় মৃত্যু ৩৯ জন #  মাধবপুরে ভারতীয় চা পাতাসহ আটক ২

মৌলভীবাজার মুক্ত দিবস আজ

নিজস্ব প্রতিনিধি, মৌলভীবাজার: আজ মৌলভীবাজারের একটি স্মরণীয় দিন। এই দিনে পাকাহানাদারদের পরাজিত করে মৌলভীবাজারকে মুক্ত ঘোষণা করা হয়। একাত্তরের এই দিনে মৌলভীবাজার শহর তথা জেলার সর্বত্র স্বাধীন বাংলাদেশের লাল সবুজ পতাকা পতপত করে ওড়তে থাকে। পাক হানাদারবাহিনীকে হটিয়ে মুক্তিযোদ্ধারা মৌলভীবাজারকে শত্রæমুক্ত এলাকা হিসেবে ঘোষণা করেন ।

মৌলভীবাজার জেলা পরিষদের চেয়ারম্যান ও আওয়ামী লীগ নেতা বীর মুক্তিযোদ্ধা মো. আজিজুর রহমান জানান, তিনি ছিলেন মুক্তিযুদ্ধে ৪ নম্বর সেক্টরের রাজনৈতিক সমন্বয়কারী। এই এলাকায় জেড ফোর্সের সদস্যরা দায়িত্বে ছিলেন। ডিসেম্বরের শুরুতে মুক্তিযোদ্ধারা মিত্রবাহিনীর সহযোগিতায় আক্রমণ আরও তীব্র করে। ৪ ডিসেম্বর জেলার কমলগঞ্জ উপজেলা শত্রæমুক্ত হয়।

৫ ডিসেম্বর জেলার সর্বত্র শুরু হয় তীব্র আক্রমণ। জেলার চারদিক দিকে মুক্তি ও মিত্রবাহিনীর যৌথ আক্রমণে একের পর এক এলাকা শত্রুমুক্ত হতে থাকে। ৫ ও ৬ ডিসেম্বর দুই দিনে মুক্তিযোদ্ধারা রাজনগর, শ্রীমঙ্গল, কুলাউড়া ও মুন্সীবাজার এলাকা মুক্ত করে মৌলভীবাজার শহর অভিমুখে আসতে অভিযান শুরু করে। ৬ ডিসেম্বর সন্ধ্যার পর মিত্র ও মুক্তিবাহিনী শহর ঘেরাও করে। এখানে মহকুমা হেড কোয়ার্টার থাকার কারণে পাকবাহিনীর ব্রিগেড হেড কোয়ার্টার ছিল।

জানা যায়, জেড ফোর্সের ১৭টি ইউনিটের মধ্যে জব্বার (কুলাউড়ার সাবেক এমপি) ও মুহিবের নেতৃত্বে ২টি ইউনিট কুলাউড়ার দিকে গেলেও বাকি ১৫ টি ইউনিট নিয়ে তারা মৌলভীবাজার শহরে ঢুকার চেষ্টা শুরু করেন। তুমুল যুদ্ধ আর অনেক হতাহতের পর ৭ ডিসেম্বরই মৌলভীবাজার পুরো মহকুমা এলাকা থেকে পাকবাহিনীকে হটিয়ে মুক্তিযোদ্ধারা শহরে ঢুকে পড়েন। কিন্তু শহরের বিভিন্ন স্থানে পাকবাহিনী প্রচুর মাইনসহ অস্ত্র পুতে রাখায় রাস্থা থেকে এগুলো অপসারণ ও নিষক্রিয় করার পর ৮ ডিসেম্বর মৌলভীবাজার মুক্ত এলাকা ঘোষণা করা হয়। ।

স্থানীয় মুক্তিযোদ্ধা কমান্ডার ইউনিট থেকে জানা যায়, মৌলভীবাজার শত্রæ মুক্ত ঘোষনাকালে মির্জা আজিজ আহমদ বেগ প্রথমে যুদ্ধ শেষ করে মৌলভীবাজার এসে পৌঁছান। তারপর আসেন বর্তমান জেলা পরিষদ চেয়ারম্যান আজিজুর রহমান, সাবেক সমাজকল্যান মন্ত্রী সৈয়দ মহসীন আলী,মির্জা ফরিদ আহমদ বেগ,খুরশেদ আহমদ,আব্দুল ওয়াহাব চৌধুরী। তিনি আরো বলেন, সরাসরি পাক সৈন্যের সাথে যুদ্ধে মোকাবেলা করে মৌলভীবাজার ফিরেন- আশরাফ চৌধুরী,আব্দুল লতিফ।

তৎকালীন মহকুমা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক আজিজুর রহমান ৮ ডিসেম্বর সকাল সাড়ে ১০টায় তৎকালীন মৌলভীবাজার মহকুমা প্রশাসকের কার্যালয়ের সামনে স্বাধীন বাংলাদেশের পতাকা ওড়ান। তার সাথে ছিলেন- মির্জা আজিজ আহমদ বেগ, সৈয়দ মহসীন আলীসহ অনেক মুক্তিযোদ্ধারা। এদিকে দিবসটি উপলক্ষে জেলা প্রশাসন ও জেলা মুক্তিযোদ্ধা কমান্ডারের আয়োজনে জাতীয় পতাকা উত্তোলন, মুক্তিযোদ্ধাদের প্রতি স্মৃতিচারণ, মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক প্রদর্শনী ও জেলা মুক্তিযোদ্ধা কার্যালয়ে মুক্তিযুদ্ধের উপর চলচিত্র প্রদর্শনী হবে বলে জানা গেছে ।