Oops! It appears that you have disabled your Javascript. In order for you to see this page as it is meant to appear, we ask that you please re-enable your Javascript!
 #  সিলেটে জাতীয় পিঠা উৎসব শুরু আজ #  মাধবপুরে চোরাই বৈদ্যুতিক তারসহ শ্রমিকলীগ নেতা আটক #  বানিয়াচঙ্গে যুবকের ঝুলন্ত লাশ উদ্ধার #  জর্ডানে উদ্ধার হওয়া চুনারুঘাটের খাদিজা দেশে আসছেন রোববার #  চুনারুঘাটে ভারতীয় চা পাতাসহ আটক ২ #  সিলেটে ৪৮ বছর আগে হারিয়ে যাওয়া বাবার সন্ধান পেলেন সন্তানেরা #  ছাতকে নববধূকে নিয়ে ফেরার পথে ডাকাত সর্দার গ্রেফতার #  ‘ভিক্ষুকমুক্ত সিলেট’ পররাষ্ট্রমন্ত্রী #  জাতীয় শিশু পুরস্কার প্রতিযোগিতা ১ম হয়েছে সানশাইন স্কুলের তুহিন #  এক বছরে বিমানে লাভ ২৭৩ কোটি টাকা #  শায়েস্তাগঞ্জের বাংলা কম্পিউটার ট্রেনিং সেন্টারের শিক্ষা সফর #  মিরপুর বালিকা উচ্চ বিদ্যালয় ও কলেজের অধ্যক্ষকে সংবর্ধনা #  জকিগঞ্জে অগ্নিকাণ্ড: ২ কোটি টাকার ক্ষতি #  যুব বিশ্বকাপের পর্দা উঠছে আজ #  সিলেটে থেকেও চুনারুঘাটের ধর্ষণ মামলার আসামী বানিয়াচংয়ের ফজলু

আজ শ্রীমঙ্গল মুক্ত দিবস

শ্রীমঙ্গল (মৌলভীবাজার) প্রতিনিধি: আজ ৬ ডিসেম্বর শ্রীমঙ্গল মুক্ত দিবস। ১৯৭১ সালের ৬ ডিসেম্বর মৌলভীবাজার জেলার শ্রীমঙ্গল মুক্ত হয়েছিল। ১৯৭১ সালের এই দিনে লড়াকু মুক্তিযোদ্বারা মরণপন লড়াই করে হানাদার বাহিনীকে শ্রীমঙ্গল থেকে হটিয়ে শক্রু মুক্ত করেছিল। তবে এর আগে হানাদার বাহিনীর সাথে লড়াই করে নিহত হয়েছিলেন বেশ কয়েকজন মুক্তিযোদ্বা। এদিকে স্বাধীনতার যুদ্ধে নিরীহ নীরস্ত্র শ্রীমঙ্গলের সাধারণ মানুষের পাশাপাশি শত শত চা শ্রমিককেও হত্যা করে পাক বাহিনী। এসব হত্যাকান্ডের নীরব সাক্ষী শ্রীমঙ্গলের ৫ টি বধ্যভূমির ৪টি পড়ে আছে অযত্ন আর অবহেলায়। ১টি আশাপাশ বিনোদনের কেন্দ্র হলেও মুল জায়গাটি এখনো উন্নয়নের ছোয়া লাগেনি এবং আরেকটির মধ্যে একটি স্তুম্ভ তৈরী হয়। ফলে এ প্রজন্মের অনেকেই জানেনা এসব বধ্যভূমির সর্ম্পকে।

১৯৭১ সালের এই দিনে বীর মুক্তিযোদ্ধাদের তীব্র আক্রমণের মুখে শ্রীমঙ্গল শহর ছেড়ে পালিয়েছিল পাক হানাদার বাহিনী। তবে এই মুক্তির স্বাদ নিতে গিয়ে অনেক ত্যাগ স্বীকার করতে হয়েছে চা বাগান ঘেরা এই জনপদের মানুষকে। ১৯৭১ সালে বঙ্গবন্ধুর ৭ই মার্চের ভাষনের পর তৎকালীন সংসদ সদস্য আলতাফুর রহমান, কমান্ডার মানিক চৌধুরী ও ফরিদ আহমদ চৌধুরীর নেতৃত্বে শ্রীমঙ্গলে গঠিত হয় মুক্তিবাহিনী। ২৩ মার্চ শ্রীমঙ্গল পৌরসভার সামনে পাকিস্তানের পতাকা নামিয়ে স্বাধীন বাংলার রক্তস্নাত পতাকা উত্তোলন করেন তৎকালীন ছাত্র সংগ্রাম পরিষদের নেতারা। দীর্ঘ নয় মাসের যুদ্ধ শেষে ৬ ডিসেম্বর শহরের ভানুগাছ সড়ক দিয়ে আবারও পৌরসভা চত্বরে প্রবেশ করেন বীর মুক্তিযোদ্ধারা। সেখানে স্বাধীন বাংলার পতাকা উড়িয়ে বিজয়ের উল্লাসে মেতে উঠেন তারা।

এদিকে স্বাধীনতা যুদ্ধে বিভিন্ন শ্রেণী পেশার মানুষের সাথে সেদিন মুক্তিবাহিনীতে যোগ দিয়েছিল এ অঞ্চলের নিরীহ চা শ্রমিকরা। মুক্তিযুদ্ধ চলাকালীন এক পর্যায়ে ৩০ এপ্রিল পাক হানাদার বাহিনী নির্মম গণহত্যা চালায় তাদের উপর। যুদ্ধের ব্যাংকার বানানোর কথা বলে শহর সংলগ্ন ভাড়াউড়া চা বাগানে প্রবেশ করে সেখানে এক সঙ্গে ৫৫ জন চা শ্রমিককে সারিবদ্ধভাবে দাঁড় করিয়ে তাদের উপর গুলি চালায় পাক বাহিনী। সেদিন সম্মুখ যুদ্ধ করে মুক্তির স্বাদ নিয়ে আজও বেঁচে আছেন চা শ্রমিক মুক্তিযোদ্ধা পরাগ বাড়ই।

শ্রীমঙ্গল উপজেলার ৫টি বধ্যভূমির মধ্যে অন্যতম এই ভাড়াউড়া বধ্যভূমিতে ১৯৯৭ সালে একটি স্মৃতিস্তম্ভ গড়ে তোলা হলেও আজও পূর্ণতা পায়নি। কোন সীমানা প্রাচীর না থাকায় বধ্যভূমির জায়গা বেদখল হতে চলেছে। অপরদিকে সাধু বাবার বটতলী হিসাবে পরিচিত বধ্যভূমিটি স¤প্রতি সংস্কার করে ‘বধ্যভূমি ৭১’ নামে গড়ে তোলা হলেও বধ্যভূমির কেন্দ্রবিন্দু সাধুবাবার বটতলী বিজিবি ক্যাম্পের ভেতরে থাকায় সেখানে বিশেষ দিবস গুলোতে সাধারণ মানুষ যাতায়াত করতে পারেনা। অপরদিকে এর পাশে চা বাগানের ছড়ার উপর একটি দৃষ্টি নন্দন স্মৃতিস্তম্ভ নির্মাণ করা হয়েছে। মূলত এটি বিনোদন কেন্দ্র হিসাবে সবার কাছে পরিচিত। শহরের পূর্বাশা আবাসিক এলাকার বধ্যভূমিটির জায়গা বেদখল হয়ে গেছে আরো আগেই। সেখানে নাম মাত্র একটি স্মৃতিস্তম্ভ থাকলেও সেটি এখন বাসাবাড়ীর দেয়ালের মাঝখানে। এলাকার অনেকেই জানেন না এটি মুত্তিযুদ্ধকালীন একটি গণকবর। একই দশা শহরের ওয়াপদা রেষ্ট হাউজ সংলগ্ন বধ্যভূমির।

এদিকে উপজেলার সবচেয়ে বড় বধ্যভূমিটি রয়েছে সিন্ধুরখান ইউনিয়নে। এলাকাবাসী জানান, যুদ্ধের সময়ে সেখানে শত শত নিরীহ মানুষদের হত্যা করে ফেলে রাখা হতো এই বধ্যভূমিতে। সেখানে আজও গড়ে উঠেনি কোন স্মৃতিস্তম্ভ।