Category Archives: শীর্ষ সংবাদ

যেভাবে মেসিকে টপকে গেলেন রোনালদো

ক্রীড়া ডেস্ক: মাঠ ও মাঠের বাইরে দুই তারকার লড়াই অব্যাহত। তবে ক্রিস্টিয়ানো রোনালদো রিয়াল মাদ্রিদ ছেড়েছেন। আর অনেক জল্পনার পর জানা গেছে, আপাতত আরও এক বছর লিওনেল মেসির বার্সেলোনাতেই থাকছেন। তাই এই মুহূর্তে হয়ত দুই তারকার মাঠে মুখোমুখি সাক্ষাৎ সম্ভব হচ্ছে না। তবে মাঠের বাইরের লড়াইয়ে মেসিকে পিছনে ফেললেন রোনালদো। আয়ের দিক থেকে ফোর্বস তালিকায় মেসির চেয়ে এগিয়ে রোনালদো। অবশ্য পার্থক্য মাত্র ১ মিলিয়ন মার্কিন ডলারের।

আয়ের দিক থেকে বিশ্বের প্রথম দশজন তারকার তালিকা প্রকাশ করেছে ফোর্বস ম্যাগাজিন। তাতে আয়ের দিক থেকে ফুটবলারদের মধ্যে সবচেয়ে উপরে রয়েছে ক্রিশ্চিয়ানো রোনালদোর নাম। গত ২০১৯-২০ মৌশুমে মোট ১০৫ মিলিয়ন মার্কিন ডলার আয় করেছেন সিআর সেভেন। অন্যদিকে, এক মিলিয়ন কম আয় করে রোনালদোর পরে রয়েছেন মেসি। তার মোট আয় ১০৪ মিলিয়ন মার্কিন ডলার।

এছাড়া মূল তালিকায় যথাক্রমে ৪ এবং ৫ নম্বরে রয়েছেন রোনালদো এবং মেসি। তবে ক্রীড়াক্ষেত্রে সবচেয়ে বেশি আয় করেছেন টেনিস তারকা রজার ফেদেরার। এই সুইস খেলোয়াড় গত বছর আয় করেছেন ১০৬ মিলিয়ন মার্কিন ডলার। যদিও মূল তালিকায় তিনি রয়েছেন তিন নম্বরে। তালিকায় প্রথম ও দ্বিতীয় স্থানে রয়েছে কাইলি জেনার (‌৫৯০ মিলিয়ন মার্কিন ডলার) এবং কেনিই ওয়েস্ট (‌১৭০ মিলিয়ন মার্কিন ডলার)। সাত নম্বরে আছেন নেইমার। তিনি আয় করেছেন ৯৫.‌৫ মিলিয়ন মার্কিন ডলার। আর মোহম্মদ সালার আয়ের পরিমাণ সেখানে ৩৫.‌১ মিলিয়ন মার্কিন ডলার।

যে কারণে বঙ্গবন্ধু শতাব্দীর মহানায়ক

ড. মো. গিয়াসউদ্দীন মিয়া : ১৯২০ সালের ১৭ মার্চের সোনালি সন্ধ্যায় গোপালগঞ্জ জেলার টুঙ্গিপাড়া গ্রামের শেখ পরিবারের প্রাঙ্গণ আলোকিত ও মুখরিত হয়ে উঠেছিল একটি শিশুর জন্ম উপলক্ষে। জন্মলগ্নে মা-বাবা ও আত্মীয়স্বজন খুশিতে শিশুটিকে ‘খোকা’ বলে ডাকতে শুরু করলেন।

নিভৃত পল্লীর ছায়াঘেরা ও প্রাকৃতিক সৌন্দর্যের লীলাভূমি বাইগার নদীর তীরে বেড়ে ওঠা সেই খোকা পরবর্তী সময়ে হয়ে উঠলেন একজন বিশ্বনন্দিত নেতা, একটি স্বাধীন দেশের স্থপতি, একটি জাতির পিতা এবং হাজার বছরের শ্রেষ্ঠ বাঙালি।

জাতির কাছে তিনি পিতা, বিশ্ববাসীর কাছে তিনি বাংলাদেশের প্রতিষ্ঠাতা। বিশ্ব ইতিহাসে বঙ্গবন্ধুই একমাত্র নেতা যিনি একই সঙ্গে একটি স্বাধীন দেশ ও স্বাধীন জাতির পিতা। রাজনৈতিক নেতা হিসেবে বঙ্গবন্ধুকে মূল্যায়ন করতে গিয়ে ব্রিটিশ মানবতাবাদী আন্দোলনের অগ্রনায়ক লর্ড ফেন্নার ব্রোকওয়ে একদা মন্তব্য করেছিলেন- ‘নেতা হিসেবে বঙ্গবন্ধু আমেরিকার জর্জ ওয়াশিংটন, ভারতের মহাত্মা গান্ধী ও আয়ারল্যান্ডের জর্জ ডি ভেলেরার চেয়েও মহান ও অনন্য।’

১৯৭২ সালে সুমন্ত বন্দ্যোপাধ্যায় বঙ্গবন্ধুর সঙ্গে প্রথম সাক্ষাতের পর সাংবাদিক হারুনুর রশীদ খানকে বলেছিলেন, ‘হারুন, আমার সাংবাদিক জীবনে বহু বড় বড় রাষ্ট্রনায়কের দেখা পেয়েছি- ব্রেজনেভ, নিক্সন, হ্যারল্ড উইলসন, এডওয়ার্ড হিথ, কাস্ত্রো, শ্রীমতী ইন্দিরা গান্ধী, ইয়াসির আরাফাত প্রমুখ।

কিন্তু বঙ্গবন্ধুর মতো এত বড় নেতা- গোটা বিশ্বে যার নাম অত্যন্ত শ্রদ্ধার সঙ্গে উচ্চারিত হয়- তিনি এত সহজ-সরল, বিশাল হৃদয়ের মানুষ আমি ভাবতেই পারিনি। সত্যিই তিনি তোমাদের জাতির পিতা। তিনি শতাব্দীর মহানায়ক।’

১৯৭৩ সালে জোটনিরপেক্ষ সম্মেলনে কিউবার সমাজতান্ত্রিক নেতা ফিদেল কাস্ত্রো বঙ্গবন্ধু সম্পর্কে বলেছিলেন, ‘আমি হিমালয় দেখিনি। আমি শেখ মুজিবকে দেখেছি। সাহস ও ব্যক্তিত্বে এ মানুষটি হিমালয়ের মতোই উঁচু।’ মিসরের বিখ্যাত সাংবাদিক হাসনাইন হাইকেল বঙ্গবন্ধুকে নিয়ে মন্তব্য করেছেন- ‘শেখ মুজিবুর রহমান শুধু বাংলাদেশের নন, সমগ্র বিশ্বের নেতা।’

বঙ্গবন্ধু তার ব্যক্তিত্ব, রাজনৈতিক প্রজ্ঞা ও দেশপ্রেম দিয়ে বিশ্বসভায় বাংলাদেশকে একটি মর্যাদাশীল দেশ হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করতে সক্ষম হয়েছেন। একজন রাজনৈতিক কর্মী কীভাবে নেতা হয়ে উঠলেন, কীভাবে একটি দেশের স্থপতি হলেন, সেটি আমরা তার ‘অসমাপ্ত আত্মজীবনী’ বই থেকে বুঝতে পারি।

বঙ্গবন্ধুর বর্ণাঢ্য জীবন কাহিনী এত অল্প পরিসরে তুলে ধরা সম্ভব নয়। তিনি গোটা দেশ ঘুরেছেন। পকেটে পয়সা নেই, কোথায় কখন কী খাবেন তা জানতেন না। হেঁটেছেন, রিকশা বা নৌকায় উঠেছেন, এমনকি ট্রেনের থার্ড ক্লাসেও ভ্রমণ করেছেন। তার কোনো বিলাসবহুল গাড়ি ছিল না।

এত সীমাবদ্ধতার পরও কীভাবে তিনি বাংলাদেশ আওয়ামী লীগকে একটি ঐতিহ্যবাহী রাজনৈতিক দল হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করেছেন, কীভাবে জনগণের স্বপ্ন সবার মাঝে ছড়িয়ে দিতেন- এগুলোই আজ আমাদের রাজনীতির বিবেচ্য হওয়া উচিত।

বঙ্গবন্ধুর সুকৌশল নেতৃত্বে দীর্ঘ নয় মাসের আন্দোলন, সশস্ত্র সংগ্রাম, দু’লাখ মা-বোনের সম্ভ্রমের বিনিময়ে অর্জিত স্বাধীন ও সার্বভৌম বাংলাদেশ ছিল অর্থনৈতিকভাবে পুরোপুরি বিধ্বস্ত একটি ভূখণ্ড। স্বাধীনতা যুদ্ধে এদেশের অকৃতজ্ঞ স্বাধীনতার চেতনাবিরোধী আলবদর ও আলশামস বাহিনীর মদদে পাকিস্তানি হানাদার বাহিনী কর্তৃক দেশের শ্রেষ্ঠ সন্তান বুদ্ধিজীবীদের হত্যার মাধ্যমে বাঙালি জাতির চিন্তাকোষে বিশাল শূন্যতার সৃষ্টি হয়।

এমন একটি শূন্য অবস্থা ও ভয়ানক পরিস্থিতিতে বঙ্গবন্ধুর নেতৃত্বে অর্থনৈতিকভাবে সমৃদ্ধ সোনার বাংলাদেশ গড়ার লক্ষ্যে বাঙালি জাতি যখন ঐক্যবদ্ধ, ঠিক তখনই দেশীয় ও বিদেশি কুচক্রী মহলের গভীর ষড়যন্ত্রে ১৯৭৫ সালের ১৫ আগস্ট রাতের অন্ধকারে অত্যন্ত নৃশংসভাবে বঙ্গবন্ধুকে সপরিবারে হত্যা করা হয়।

বাঙালি জাতির ইতিহাসে ১৫ আগস্টের চেয়ে কলঙ্কময় অধ্যায় আর নেই। বঙ্গবন্ধুকে হত্যার মূল লক্ষ্য ছিল একটি দেশের ইতিহাস, ঐতিহ্য ও স্বাধীনতাকে ভূলুণ্ঠিত করা। তারপর প্রায় দেড় যুগ চলে স্বৈরশাসনের নানা রকম অপকর্ম। শুরু হয় জাতির শ্রেষ্ঠ অর্জন মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাস ও দলিল বিকৃতির খেলা। স্বাধীনতাবিরোধী শক্তি ও বঙ্গবন্ধুর খুনিদের উচ্চ পদ দিয়ে পুরস্কৃত করা হয়।

বর্তমানে শত সংগ্রাম আর ত্যাগ-তিতিক্ষার মাধ্যমে বঙ্গবন্ধুর সুযোগ্যকন্যা জননেত্রী শেখ হাসিনা সব ষড়যন্ত্র উপেক্ষা করে এদেশবাসীর মুক্তির সংগ্রামে কাজ করে যাচ্ছেন। স্বাধীনতা যুদ্ধের নেতৃত্বদানকারী বঙ্গবন্ধুর দল আওয়ামী লীগ আজ রাষ্ট্র পরিচালনার দায়িত্বে বিধায় উন্নয়নের প্রায় সব সূচকে বাংলাদেশ পাকিস্তানের চেয়ে এগিয়ে।

২০১৫ সালের ১৫ ডিসেম্বর প্রকাশিত জাতিসংঘের মানব উন্নয়ন সূচকের সর্বশেষ প্রতিবেদন অনুযায়ী শিক্ষা, স্বাস্থ্য, সম্পদ সংস্থান, সামাজিক বৈষম্যনিরোধ, লিঙ্গসমতা, জননিরাপত্তা, দারিদ্র্যবিমোচন, কর্মসংস্থান, জনমিতি ইত্যাদি সূচকে বাংলাদেশ থেকে পিছিয়ে পড়েছে পাকিস্তান।

১৯৭২ সালে সাড়ে সাত কোটি মানুষের মধ্যে সাড়ে পাঁচ কোটি ছিল দারিদ্র্যসীমার নিচে। আর এখন ১৬ কোটি মানুষের মধ্যে চার কোটি দারিদ্র্যসীমার নিচে। যদিও কিছু কিছু ক্ষেত্রে বৈষম্য বেড়েছে; কিন্তু নিম্নআয়ের মানুষ শেখ হাসিনা সরকারের আমলে সুখে আছে।

জননেত্রী শেখ হাসিনা গরিব-মেহনতি মানুষের জন্য বহুবিধ কর্মসূচি গ্রহণ করেছেন। স্বাধীনতার সময় যেখানে মাত্র চার শতাংশ নারী অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ডের সঙ্গে সম্পৃক্ত ছিল, এখন তা ৪০ শতাংশে উন্নীত হয়েছে।

জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু সবসময় মনেপ্রাণে উপলব্ধি করতেন, অর্থনৈতিকভাবে উন্নত ও সমৃদ্ধ একটি সোনার বাংলা গড়তে কৃষিশিল্পের উন্নয়নের কোনো বিকল্প নেই। তিনি দৃঢ়ভাবে বিশ্বাস করতেন, কৃষি একটি জ্ঞাননির্ভর শিল্প। চিরায়িত ও গতানুগতিক কৃষিব্যবস্থার মাধ্যমে দ্রুত বর্ধমান বাঙালি জাতির খাদ্যের জোগান নিশ্চিত করা সম্ভব নয়।

তাই খাদ্যে স্বয়ংসম্পূর্ণতা অর্জনের জন্য কৃষির ব্যাপক আধুনিকীকরণের পরিকল্পনা গ্রহণ করার প্রয়োজনীতা সবসময় অনুভব করতেন তিনি। আর কৃষিশিল্পের আধুনিকীকরণ ও লাগসই উন্নয়নের একমাত্র কারিগর হচ্ছে কৃষিশিক্ষায় শিক্ষিত গ্রাজুয়েটরা। এজন্য বঙ্গবন্ধু কৃষিবিদদের প্রথম শ্রেণির মর্যাদার আসনে প্রতিষ্ঠিত করেন।

বিজ্ঞানমনস্ক ও গবেষণার প্রতি তার এ ঐকান্তিক প্রচেষ্টার ফলে বাংলাদেশ এখন খাদ্যে স্বয়ংসম্পূর্ণ হয়ে বিদেশেও রফতানি করতে সক্ষম হয়েছে। জননেত্রী শেখ হাসিনার দূরদর্শী পরিকল্পনায় কৃষিতে অভাবনীয় সাফল্য বিভিন্ন তথ্যচিত্র থেকে আমরা স্পষ্টভাবে অনুধাবন করতে পারি।

কৃষি সম্প্রসারণ অধিদফতরের দেয়া তথ্যানুযায়ী, দেশের খাদ্যশস্য উৎপাদন আগের প্রায় এক কোটি টন থেকে বেড়ে এখন সাড়ে তিন কোটি টনের বেশি হয়েছে। পাশাপাশি তৈলবীজ, পেঁয়াজ, রসুন, সবজি, আলুসহ সব নিত্যপণ্যের উৎপাদন বেড়েছে কয়েকগুণ। শেখ হাসিনা সরকারের আমলে কৃষিতে প্রতি বছর গড়ে ৪.৭ শতাংশ হারে প্রবৃদ্ধি হয়েছে।

কৃষিতে বাংলাদেশ আজ বিশ্ব উদাহরণ। বৈরী আবহাওয়া তথা বন্যা, খরা ও লবণাক্ততা সত্ত্বেও খাদ্যশস্য উৎপাদনে বাংলাদেশ বিশ্ববাসীর কাছে রোল মডেল। এ সবই সম্ভব হয়েছে বঙ্গবন্ধুর আদর্শের প্রতি অবিচল থাকার কারণে।

যুদ্ধবিধ্বস্ত একটি দেশকে সব সেক্টরে স্বয়ংসম্পূর্ণ করার চ্যালেঞ্জ গ্রহণের পাশাপাশি দেশের ক্রমবর্ধমান জনসংখ্যার খাদ্য নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে বঙ্গবন্ধুর ক্যারিশম্যাটিক নেতৃত্ব ও দর্শন যেমন সমগ্র বাঙালি জাতিকে মুক্তি সংগ্রামে সফলতা এনে দিয়েছিল, ঠিক তেমনি তার সুযোগ্য উত্তরসূরি জননেত্রী শেখ হাসিনার ‘ভিশন ২০২১ ও ২০৪১’ বাস্তবায়নের সংগ্রামেও বাঙালি জাতি আজ প্রতিজ্ঞাবদ্ধ। স্বাধীন-সার্বভৌম রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠার সংগ্রামের চেয়েও শোষণ-বঞ্চনামুক্ত ও অর্থনৈতিকভাবে সমৃদ্ধ একটি উন্নত বাংলাদেশ গঠনের সংগ্রাম বেশি কঠিন।

বঙ্গবন্ধুর রাজনৈতিক আদর্শ ও চেতনাকে লালন করে দেশরত্ন শেখ হাসিনা বঙ্গবন্ধুর স্বপ্ন বাস্তবায়নের লক্ষ্যে সাফল্যের সঙ্গে নিরলসভাবে কাজ করে যাচ্ছেন। ১৯৭৫ সালের ১৫ আগস্টের পর থেকে আজকের বাংলাদেশে পৌঁছাতে জননেত্রী শেখ হাসিনাকে অনেক কাঠখড় পোড়াতে হয়েছে।

অক্লান্ত পরিশ্রম আর অসীম ত্যাগের বিনিময়ে আজকের এ বাংলাদেশ। আর যতদিন বিশ্ব মানচিত্রে বাংলাদেশ নামে একটি দেশ থাকবে; বাংলা ভাষা, সংস্কৃতি ও সভ্যতা থাকবে; পদ্মা, মেঘনা ও যমুনা বহমান থাকবে; যতদিন জাতি হিসেবে বাঙালির পরিচয় থাকবে, ততদিন এদেশের প্রত্যেক মানুষের হৃদয়ের মণিকোঠায় বঙ্গবন্ধু চিরঞ্জীব, চির অম্লান হয়ে বাঙালি চেতনার এক অনির্বাণ শিখা হিসেবে প্রজ্বলিত হয়ে থাকবেন। জাতির পিতার প্রতি জানাই হাজারও সালাম, লাখো শ্রদ্ধাঞ্জলি।

প্রফেসর ড. মো. গিয়াসউদ্দীন মিয়া : উপাচার্য, বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়, গাজীপুর। সূত্র: যুগান্তর অনলাইন।

চলুন নিকলী হাওর ঘুরে আসি

এম এ মজিদ: ২০০৪ সালের পর সম্ভবত ২০২০ সালের আগে এতো পানি হয়নি। শহরতলী হলেও আমি পানির রাজ্যেই বড় হয়েছি। তবুও তৃষ্ণা মেটে না। সপ্তাহ খানেক আগে বর্ষার পানি দেখতে স্ত্রী সন্তানকে নিয়ে গেলাম আজমিরীগঞ্জে। গাড়িতে করে আসা যাওয়া। অথৈ পানি। তবে পানিতে নামা হয়নি। দেখলাম সাগর দিঘী। হবিগঞ্জের ৯টি উপজেলা সদর তাদেরকে দেখানোর অংশ হিসাবে বানিয়াচং, আজমিরীগঞ্জ যাওয়া। পানিতে গাঁ না ভেজালে আমার মন ভরে না। সেটা কোথাও গেলে সুইমিং পুল হউক বা প্রাকৃতিক পানি হউক। সাতার কাটা আমার সখও বলা যায়। এডভোকেট দেওয়ান জাকির হোসেন জাকারিয়া ভাই বললেন- যাবে পানি দেখতে? কোথায় জানতে চাইনি। আর কে যাবে তাও জানতে চাইনি। রাজি হয়ে গেলাম। দিন তারিখ ঠিক হল আমরা ৮ আগষ্ট সকালের দিকে বুল­া বাজার থেকে স্পিড বোটে পানির রাজ্যে যাব। জানানো হল স্পিড বোটে ৫টি লাইফ জেকেট আছে, আমরা ৬ জন। আগের দিন রাত তখন ৯টা। সাথে বাল্য বন্ধু এডভোকেট সেলিম থাকলেও মাশাল­াহ তার স্বাস্থ্য আমার চেয়ে উন্নত। তাছাড়া অন্য ৪ জনের মধ্যে সিনিয়র এডভোকেট আব্দুল হাই, এডভোকেট জসিম উদ্দিন এডভোকেট দেওয়ান জাকারিয়া এবং এডভোকেট জসিম উদ্দিন সাহেবের গেষ্ট হয়ে আসা জাফলং এর পাথর ব্যবসায়ী ছালেক ভাই আমার চেয়ে বয়সে বড়। ৬ জনের মধ্যে আমিই সবচেয়ে নিরীহ এবং ভাগ বাটোয়ারা করলেও যে কেউ বলবে বিপদে পড়লে লাইফ জেকেটগুলো তাদেরই প্রাপ্য, তোমার না। বিপদ তো বলে কয়ে আসে না। মাত্র কিছুদিন আগে হাওরে নৌ ডুবির ঘটনায় ১৮জন হাফেজের মৃত্যুর দৃশ্যও চোখের সামনে ভেসে উঠল। অথৈ জল, বিশাল হাওর তার আচরণ বদলে ফেলতে পারে যে কোনো সময়। সাত পাচ ভেবে রাত ১০টার দিকে আমি একটি লাইফ জেকেট কিনে আনলাম। প্রস্তুতি সম্পন্ন। সকাল ৯টার মধ্যে আমরা পৌছুলাম বুল­া বাজারে। সেখানে আগ থেকেই স্পিড বোট ম্যানেজ করে রেখেছিল এডভোকেট খোকন গোপ। এলাকায় তার বেশ প্রভাব। সাড়ে ৯টার দিকে স্পিড ছাড়লো চালক সেলিম। গন্তব্য নিকলী হাওর, চামড়া বন্দর, মিঠামইন, ইটনা, অষ্ট্রগ্রাম, আদমপুর হয়ে বুল­া। অষ্ট্রগ্রাম গিয়ে রাষ্ট্রপতি আব্দুল হামি সেতুতে গিয়ে কয়েকটি ছবি তুললাম। এরপরই নিকলী হাওর। এতো বড় হাওর আমি জীবনেও দেখিনি। নিকলী হাওরের মধ্যখান থেকে আসলে কোনো জনপথই দেখা যায় না। শুধু পানি আর পানি। অনেক ঢেউ। বিপদকে সাথে নিয়েই আপনাকে চলতে হবে। স্পিড বোটকে দুর থেকে যে কেউ মনে করতে পারে পানির নিচ দিয়ে চলে যাচ্ছে কোনো একটি ছোট জলযান। গভীর জলরাশিতে মৃত্যুঝুকি একেবারেই কম নয়। নিকলী উপজেলা সদরের পাশ দিয়ে আমরা চলে গেলাম চামড়া বন্দরে। বেশ বড় নৌ বন্দর। অনেক জাহাজ নোঙ্গর করা। গভীর জল থেকে মাছ শিকার করে বন্দরে বিক্রি করছেন জেলেরা। দুরের রাস্তা। ওইখানে যে মাছটি জীবিত তা বাসায় আসতে আসতে নিশ্চিত মৃত কিংবা পচে যাবে। চামড়া বন্দর থেকে মাছ না আনাই ভাল। চামড়া বন্দরে আমি পানিতে নামলেও অন্য কেউ নামেনি। চামড়া বন্দর থেকে চলে আসলাম আমরা মিঠামইন রাষ্ট্রপতি আব্দুল হামিদ সাহেবের বাড়িতে। এক অজপাড়া গায়ে জন্ম নেয়া বালক হয়ে গেলেন এক ইতিহাস। পুরাতন বাড়ির পাশাপাশি কিছু নতুন ভবন করা হয়েছে মহামান্য রাষ্ট্রপতির থাকার জন্য। তার বাড়ির সামনের ১শ ফুট দুরুত্বে নির্মাণ করা হচ্ছে ক্যান্টনমেন্ট। মাটির লেভেল থেকে কমপক্ষে ত্রিশ ফুট উচ্চতায় নির্মিতব্য ক্যান্টেনমেন্টটি হবে ভাটি অঞ্চলের অন্যতম আকর্ষন। মিঠামইন বাজারে আমরা আইল মাছ ও ছোট মাছ দিয়ে ভাত খেলাম। তাজা মাছ হলেও রান্নার মান তেমন ভাল না। শতশত পর্যটক রাষ্ট্রপতির বাড়ি দেখছেন। রাষ্ট্রপতির বাড়িটিকে আসলে ঢাকার বঙ্গভবনের ছোয়া দেয়া হয়েছে। সীমানা পিলারগুলো প্রায় একই ধরনের। তাছাড়া বাড়ির সামনে রয়েছে ৪০ ফুট গভীরের নয়নাভিরাম এক পুকুর। ইটনা মিঠামইন অষ্ট্রগ্রামের বিশাল সড়কে এসে আমার মনে হল এলাকার প্রতি কতটুকু দরদ থাকলে একজন মানুষ হাওরের বুক ছিড়ে বিশাল রাস্তা করতে পারেন। এতো দীর্ঘ, এতো উচু, এতো নয়ন জুড়ানো রাস্তার স্বপ্ন হয়তো প্রেসিডেন্ট আব্দুল হামিদ সাহেবও কোনো সময় দেখেননি। রাষ্ট্রপতির প্রতি সম্মান দেখিয়ে রাষ্ট্র বিশাল বাজেটে যে রাস্তাটি করেছে, ক্যান্টনমেন্টের মতো বিশাল ও স্পর্শকাতর প্রকল্প বাস্তবায়ন করছে, সত্যি প্রশংসনীয়। আমার মনে হয় কোনো সময় যদি অতি বন্যায় হাওরাঞ্চলের গ্রামগুলো তলিয়ে যায় অন্তত ১০/১২ লাখ মানুষ নির্ধিদ্বায় সড়কে আশ্রয় নিতে পারবে। শতশত পর্যটক হাওরের বুক ছিড়ে চলে যাওয়া সড়কে আসছে, বিশাল হাওরের পানিতে গোসল করছে। এডভোকেট জাকারিয়া ভাই ছাড়া আমরা সবাই পানিতে এক ঘন্টারও বেশি সময় সাতরিয়েছি। সাথে লাইফ জেকেট। যে কোনো অঘটনের আশংকায় স্পিড বোটটি পাশাপাশি থেকেই আমাদেরকে নজরে রাখছিল। মিঠামইন থেকে আদমপুর আসার পথে ঘটল অন্য ঘটনা। আমরা আসছিলাম বাতাসের উল্টোদিকে। আকাশের অবস্থাও ভাল ছিল না। বিশাল ঢেউ যখন আচড়ে পড়ছিল স্পিডবোটে, তখন মনে হচ্ছিল যে কোনো সময় স্পিড বোটটি উল্টে যেতে পারে। চালকও অনেকটা ভয় পেয়ে গিয়েছিল। একটি গ্রামের পাশাপাশি পৌছাা পর্যন্ত আমরা আতংকের মধ্যেই ছিলাম। পরে আদমপুর বাজার। সেখানে কোনো মাছ কেনা হয়নি। বিকাল ৫টার দিকে বুল­া বাজার। আমাদের চেহারার পরিবর্তন ছিল লক্ষ্যনীয়। সান বার্ণ এ চেহারা পুড়ে যায়। যদিও ৪০ এসপিএফ সান স্ক্রিণ আমাদের সাথে ছিল।

লেখকঃ আইনজীবী ও সংবাদকর্মী

চুনারুঘাটে আ’লীগের জাতীয় শোক দিবস পালন

চুনারুঘাট (হবিগঞ্জ) প্রতিনিধি:
হবিগঞ্জের চুনারুঘাট উপজেলায় নানা আয়োজনে জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের ৪৫তম শাহাদাত বার্ষিকী ও জাতীয় শোক দিবস পালন করা হয়েছে।

এ উপলক্ষ্যে উপজেলা আওয়ামীলীগের উদ্যোগে সকাল ৮টায় জাতীয় ও দলীয় পতাকা উত্তোলন, শোক র‌্যালী, আলোচনা সভা ও মিলাদ মাহফিল অনুষ্ঠিত হয়েছে।

শহরের দক্ষিন বাজারস্থ অস্থায়ী কার্যালয়ে উপজেলা আওয়ামীলীগের সভাপতি এডভোকেট আকবর হোসেন জিতুর সভাপতিত্বে আলোচনা সভায় বক্তব্য রাখেন উপজেলা আওয়ামীলীগের সাধারন সম্পাদক ও সাবেক চেয়ারম্যান মোঃ আবু তাহের, আওয়ামীলীগের সাংগঠনিক সম্পাদক সজল দাশ, যুগ্ন সম্পাদক আনোয়ার আলী, সুজিত চন্দ্র দেব, উপজেলা আওয়ামীলীগের সহ-সভাপতি মদরিছ মিয়া মহালদার, মুক্তিযোদ্ধা আঃ সামাদ, পৌর আওয়ামীলীগের সাধারণ সম্পাদক আবুল খয়ের, মিরাশী ইউনিয়ন আওয়ামীলীগ সভাপতি ইদ্রিছ আলী, সাবেক ছাত্রলীগ নেতা মুক্তাদির চৌধুরী, উপজেলা কৃষকলীগ, শ্রমিকলীগ, উপজেলা ছাত্রলীগের নেতৃবৃন্দ।

সভায় উপজেলার ১০টি ইউনিয়নের সভাপতি, সেক্রেটারিসহ নেতৃবৃন্দ এবং বিভিন্ন অঙ্গসংগঠনের নেতৃবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন। এর আগে এক শোক মিছিল শহরের বিভিন্ন রাস্তা প্রদক্ষিন শেষে জাতির পিতার প্রতিকৃতিতে ফুল দিয়ে শ্রদ্ধা জানানো হয়। বাদ জোহর পৌর শহরের বিভিন্ন মসজিদে মিলাদ মাহফিল এবং বাসুদেব মন্দিরে বিশেষ প্রার্থনা অনুষ্ঠিত হয়।

এদিকে উপজেলা প্রশাসনের উদ্যোগে সকাল ৮টায় জাতির পিতার প্রতিকৃতিতে ফুল দিয়ে শ্রদ্ধা জানানোর পর সকাল ১১টায় ভার্চুয়াল আলোচনা সভায় প্রধান অতিথি ছিলেন উপজেলা পরিষদ চেয়ারম্যান আব্দুল কাদির লস্কর।

এতে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা সত্যজিত রায় দাশ, ভাইস চেয়ারম্যান, বিভাগীয় কর্মকর্তা, ইউপি চেয়ারম্যান, সাংবাদিক, মুক্তিযোদ্ধারা অংশ নেন।

এছাড়া উপজেলা বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠান যথাযোগ্য মর্যাদায় দিবসটি পালন করে।

সেপ্টেম্বরে এইচএসসি পরীক্ষার পরিকল্পনা

করাঙ্গীনিউজ: মহামারী করোনার কারণে এখনো স্থবির পুরো শিক্ষাঙ্গন। আটকে গেছে এ বছরের এইচএসসি ও সমমানের পরীক্ষা। কবে অনুষ্ঠিত হবে কিংবা কিভাবে এবারের পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হবে এ নিয়ে চলছে জল্পনা কল্পনা। এবার জানা গেল, আসছে সেপ্টেম্বর মাসের শেষ দিকে অথবা অক্টোবরের শুরুতে শুরু হতে পারে এইচএসসি ও সমমানের পরীক্ষা।

ইতোমধ্যে একটি রোডম্যাপ তৈরি করে বিভিন্ন প্রস্তুতি শুরু করেছে শিক্ষা বোর্ডগুলো। সংশ্লিষ্ট সূত্র গণমাধ্যমকে এ তথ্য জানিয়েছে।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক ঢাকা শিক্ষা বোর্ডের এক কর্মকর্তা গণমাধ্যমকে বলেন, বর্তমানে সবকিছু সচল হচ্ছে। আগামী সেপ্টেম্বরের শেষ দিকে অথবা অক্টোবরের শুরুতে এইচএসসি ও সমমানের পরীক্ষা আয়োজনের লক্ষ্যমাত্রা নিয়ে নতুনভাবে প্রস্তুতি শুরু করা হয়েছে।

তিনি আরও বলেন, স্বাস্থ্যবিধি নিশ্চিত করতে পরীক্ষা কেন্দ্রের সংখ্যা বাড়ানো হবে। এজন্য শিক্ষা বোর্ডের নির্ধারিত কেন্দ্রের বাইরে পার্শ্ববর্তী ভালো শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের তালিকা চাওয়া হয়েছে। নতুনভাবে কেন্দ্র বাড়িয়ে সেসব শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে পরীক্ষার আয়োজন করা হবে।

এর আগে, চলতি বছরের ১ এপ্রিল এইচএসসি ও সমমানের পরীক্ষা শুরু হওয়ার কথা ছিল। কিন্তু করোনাভাইরাসের কারণে এ পরীক্ষাসূচি স্থগিত করতে বাধ্য হয় শিক্ষা মন্ত্রণালয়।

স্থগিত পরীক্ষার পরবর্তী সময় ঘোষণা না করায় অনিশ্চয়তায় দিন পার করছে প্রায় ১২ লাখ পরীক্ষার্থী। এ অবস্থায় করোনা পরিস্থিতি স্বাভাবিক হওয়ার অন্তত ১৫ দিন পর থেকে এইচএসসি পরীক্ষা শুরু হতে পারে বলে জানিয়েছেন সংশ্লিষ্টরা।

আন্তঃশিক্ষা সমন্বয়ক বোর্ড থেকে জানা গেছে, পরীক্ষা কেন্দ্রগুলোতে স্বাস্থ্যবিধি নিশ্চিত করে এইচএসসি ও সমমান পরীক্ষা আয়োজন করা হবে। পরীক্ষার হলে শিক্ষার্থী কমিয়ে একটি বেঞ্চে একজন করে বসানো হবে। ক্লাসরুমে যতগুলো বেঞ্চ থাকবে ততজন পরীক্ষার্থীর সিট নির্ধারণ করা হবে। কোনো কেন্দ্রে পরীক্ষার্থীর সংখ্যা বেশি হলে পার্শ্ববর্তী ভালো শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলোকে কেন্দ্র হিসেবে নির্বাচন করা হবে। পরীক্ষা কেন্দ্রগুলোর গেটের সামনে হ্যান্ড স্যানিটাইজার রাখা হবে। পরিদর্শক ও পরীক্ষার্থীরা ভালোভাবে হাত পরিষ্কার করে ভেতরে প্রবেশ করবেন।

জানা গেছে, ইতোমধ্যে জেলা-উপজেলা শিক্ষা কর্মকর্তা এবং উপজেলা ইউনিয়ন পরিষদের কর্মকর্তাদের কাছে শিক্ষা বোর্ডগুলো থেকে চিঠি দেয়া হয়েছে। চলতি বছর সারাদেশে কোথায় কোন কেন্দ্রে কতজন পরীক্ষার্থী রয়েছে সে তথ্য পাঠাতে অনুরোধ জানানো হয়েছে। পাশাপাশি পরীক্ষা কেন্দ্রের আশপাশের ভালো শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের তথ্য পাঠাতে বলা হয়েছে। সেখানে অতিরিক্ত কেন্দ্র হিসেবে পরীক্ষা নেয়া হবে।

এ বিষয়ে আন্তঃশিক্ষা বোর্ডের সমন্বয়ক ঢাকা শিক্ষা বোর্ডের চেয়ারম্যান মু. জিয়াউল হক মঙ্গলবার গণমাধ্যমকে বলেন, পরীক্ষা অবশ্যই নিতে হবে। তবে পরীক্ষার্থীদের জন্য সেই পরিবেশ ও পরিস্থিতি তৈরি করতে হবে। পরীক্ষা আয়োজনে আমাদের সব প্রস্তুতি অনেক আগেই শেষ হয়েছে। শিক্ষা মন্ত্রণালয় থেকে নির্দেশনা দিলে পরীক্ষা শুরু করা হবে।

তিনি বলেন, এইচএসসি ও সমমান পরীক্ষা শুরু করতে আমরা একটি রোডম্যাপ তৈরি করেছি। পরীক্ষার জন্য পরিবেশ ও পরিস্থিতি সৃষ্টি করতে প্রস্তুতি নেয়া হচ্ছে। মাঠ কর্মকর্তাদের মাধ্যমে জরিপ করে পরীক্ষা কেন্দ্রগুলোতে স্বাস্থ্যবিধি নিশ্চিত করা হবে।

পরীক্ষার্থীদের সুরক্ষায় পরীক্ষা কেন্দ্রে স্বাস্থ্যবিধি নিশ্চিত করতে ক্লাসের মধ্যে এক বেঞ্চে একজন করে পরীক্ষার্থী বসানোর চিন্তাভাবনা করা হচ্ছে জানিয়ে ঢাকা শিক্ষা বোর্ডের চেয়ারম্যান গণমাধ্যমকে বলেন, পরীক্ষা কেন্দ্রের ভেতরে স্বাস্থ্যবিধি নিশ্চিত করা হবে। করোনা পরিস্থিতি কিছুটা স্বাভাবিক হলে স্বাস্থ্য বিভাগ থেকে পরামর্শ নিয়ে বিদ্যালয় খোলার ১৫ দিন পর এইচএসসি ও সমমানের পরীক্ষা শুরু করা হবে।

বঙ্গমাতার ৯০তম জন্মবার্ষিকী আজ

করাঙ্গীনিউজ: বঙ্গমাতা শেখ ফজিলাতুন্নেছা মুজিব বঙ্গবন্ধুর সহধর্মিণীই নয়, তিনি ছিলেন জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের একজন যোগ্য ও বিশ্বস্ত সহচর, বাঙালি মুক্তিসংগ্রামের সহযোদ্ধা।

এই মহীয়সী নারীর ৯০তম জন্মবার্ষিকী আজ। ১৯৩০ সালের ৮ আগস্ট গোপালগঞ্জ জেলার টুঙ্গিপাড়া গ্রামে তিনি জন্মগ্রহণ করেন। ১৯৭৫ সালের ১৫ আগস্ট তিনি জাতির পিতার হত্যাকারীদের হাতে নির্মমভাবে মৃত্যুবরণ করেন।

ইতিহাসে বেগম ফজিলাতুন্নেসা মুজিব কেবল একজন প্রাক্তন রাষ্ট্রনায়কের সহধর্মিণীই নন, বাঙালির মুক্তি সংগ্রামে অন্যতম এক নেপথ্য অনুপ্রেরণাদাত্রী। বাঙালি জাতির সুদীর্ঘ স্বাধিকার আন্দোলনের প্রতিটি পদক্ষেপে তিনি বঙ্গবন্ধুকে সক্রিয় সহযোগিতা করেছেন। ছায়ার মত অনুসরণ করেছেন প্রাণপ্রিয় স্বামী বঙ্গবন্ধুর আদর্শকে। এই আদর্শ বাস্তবায়নের জন্য অবদান রেখেছেন। জীবনে অনেক ঝুঁকিপূর্ণ কাজ করেছেন, এজন্য অনেক কষ্ট-দুর্ভোগ পোহাতে হয়েছে তাকে।

বঙ্গমাতার জন্মদিন উপলক্ষে সরকারি বেসরকারিভাবে বিভিন্ন কর্মসূচী গ্রহণ করা হয়েছে। এ উপলক্ষে রাষ্ট্রপতি মো. আবদুল হামিদ ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা পৃথক পৃথক বাণী দিয়েছেন। দেয়া বাণীতে রাষ্ট্রপতি বলেন, ‘বঙ্গমাতা শেখ ফজিলাতুন্নেছা মুজিব বাঙালির অহংকার, নারী সমাজের প্রেরণার উৎস। দেশের স্বার্থে বঙ্গবন্ধুকে অসংখ্যবার কারাবরণ করতে হয়েছে। বঙ্গমাতা শেখ ফজিলাতুন্নেছা মুজিব সেই কঠিন দিনগুলো স্বামীর পাশে থেকে দৃঢ়তার সাথে পরিস্থিতি মোকাবিলা করেছেন।’

তিনি বলেন, ‘বঙ্গবন্ধুর ঐতিহাসিক ৭ মার্চের ভাষণের নেপথ্যেও ছিলেন বঙ্গমাতা শেখ ফজিলাতুন্নেছা মুজিব। তারই অনুপ্রেরণায় বঙ্গবন্ধু হৃদয় থেকে উৎসারিত যে অলিখিত ভাষণ প্রদান করেছিলেন তা ছিল স্বাধীনতার ডাক। দেশ ও জাতির জন্য অপরিসীম ত্যাগ, সহমর্মিতা, সহযোগিতা ও বিচক্ষণতা তাকে বঙ্গমাতায় অভিষিক্ত করেছে।’

দেয়া বাণীতে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেন, ‘তিনি অসাধারণ বুদ্ধি, সাহস, মনোবল, সর্বসংহা ও দূরদর্শিতার অধিকারী ছিলেন এবং আমৃত্যু দেশ ও জাতি গঠনে অসামান্য অবদান রেখে গেছেন।’

বাংলাদেশের স্বাধীনতা ও মুক্তিসংগ্রামের ইতিহাসে তার অবদান চিরস্মরণীয় হয়ে থাকবে উল্লেখ করে শেখ হাসিনা বলেন,
‘দেশের স্বাধীনতার জন্য তিনি জাতির পিতার সঙ্গে একই স্বপ্ন দেখতেন। এ দেশের মানুষ সুন্দর জীবন পাক, ভালভাবে বাঁচুক এই প্রত্যাশা নিয়েই তিনি বাঙালির অধিকার আদায়ের সংগ্রামে সবসময় ছিলেন সজাগ এবং দূরদর্শী।’

১৯৭৫ সালের ১৫ আগস্ট জাতির পিতার সঙ্গে তিনিও সপরিবারে ঘাতকদের হাতে নির্মমভাবে নিহত হন, যা জাতির ইতিহাসে এক কলঙ্কজনক অধ্যায় হিসেবে চিহ্নিত হয়ে আছে।

বঙ্গমাতা শেখ ফজিলাতুন্নেসা মুজিবের জন্মবার্ষিকী জাতীয়ভাবে উদযাপনের লক্ষ্যে মহিলা ও শিশু বিষয়ক মন্ত্রণালয় ‘বঙ্গমাতা ত্যাগ ও সুন্দরের সাহসী প্রতীক’ প্রতিপাদ্যে বিস্তারিত কর্মসূচি গ্রহণ করেছে।

বাংলাদেশ শিশু একাডেমি মিলনায়তনে বঙ্গমাতার জন্মবার্ষিকী উদযাপন উপলক্ষে আয়োজিত অনুষ্ঠানে সভাপতি করবেন মহিলা ও শিশু বিষয়ক প্রতিমন্ত্রী ফজিলাতুন নেসা ইন্দিরা।

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা গণভবন থেকে ভার্চুয়াল প্লাটফর্মে বঙ্গমাতা ফজিলাতুন নেছা মুজিবের জন্মবার্ষিকী উপলক্ষে আয়োজিত অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে যোগদান করবেন। জন্মবার্ষিকী অনুষ্ঠানে মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করবেন আওয়ামী লীগের সভাপতিমন্ডলীর সদস্য বেগম মতিয়া চৌধুরী।

বঙ্গমাতার জন্মবার্ষিকীতে মন্ত্রণালয়ের পক্ষ থেকে করোনায় ক্ষতিগ্রস্ত নারীদের আর্থিক সাহায্য ও কর্মসংস্থান সৃষ্টির লক্ষ্যে দুঃস্থ নারীদের সেলাই মেশিন ও মোবাইল ব্যাংকিং এর মাধ্যমে নগদ অর্থ প্রদান করা হবে। সকল জেলা প্রশাসকের কার্যালয় থেকে প্রাপ্ত সুবিধাভোগীদের তালিকা অনুযায়ী ৬৪ জেলায় তিন হাজার দুইশত সেলাই মেশিন ও তেরশ জন দুঃস্থ ও অসহায় নারীদের মধ্যে দুই হাজার টাকা করে মোট ছাব্বিশ লাখ টাকা প্রদান করা হবে। একই সাথে গোপালগঞ্জ জেলার দরিদ্র মেধাবী শিক্ষার্থীদের মধ্যে একশত ল্যাপটপ বিতরণ করা হবে।

সারা দেশে জেলা প্রশাসকদের সাথে সমন্বয় করে মহিলা ও শিশু বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের অধীন দপ্তর-সংস্থা বঙ্গমাতার জন্মবার্ষিকী উদযাপনে আলোচনা সভার আয়োজন করবে।

এছাড়াও মহীয়সী নারী বঙ্গমাতার গৌরবময় কর্মজীবনের উপর প্রামাণ্যচিত্র নির্মাণ ও স্মরণিকা প্রকাশ করা হবে। দিবসটি উপলক্ষে বাংলাদেশ টেলিভিশন, বাংলাদেশ বেতারসহ অন্যান্য ইলেকট্রনিক মিডিয়া বিশেষ অনুষ্ঠান প্রচার করবে।

দিবসটিতে আওয়ামী লীগসহ বিভিন্ন সামাজিক সাংস্কৃতিক সংগঠন নানা কর্মসূচি গ্রহণ করেছে। আওয়ামী লীগের কর্মসূচির মধ্যে রয়েছে সকাল ১০ টায় বনানী কবরস্থানে শহীদ ফজিলাতুন্নেসার সমাধিতে শ্রদ্ধার্ঘ্য অর্পণ শেষে কোরানখানি, মিলাদ ও দোয়া মাহফিল।এছাড়া যুব মহিলা লীগ ধানমন্ডির ৩২ নম্বরে মোমবাতি প্রজ্জলন এর কর্মসূচি গ্রহণ করেছে।

বঙ্গমাতার জন্মদিন উপলক্ষে আজ শনিবার দুপুর ১২ টায় বঙ্গবন্ধু এভিনিউস্থ আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে বাংলাদেশ কৃষক লীগ আলোচনা সভা ও দোয়া মাহফিলের আয়োজন করেছে। অনুষ্ঠানে আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক এবং তথ্য মন্ত্রী ড. হাছান মাহমুদ প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত থাকবেন।

বাঙালীর আরেকটি বৈচিত্রময় উৎসব কোরবানীর ঈদ

করাঙ্গীনিউজ: ছোট বেলা থেকেই দেখে আসছি কুরবানীর ঈদ বাঙালীর জন্য আরেকটি বৈচিত্র্যময় উৎসব হিসেবেই আসে। বাঙালী যেকোন উপলক্ষকেই উৎসবে পরিনত করে । একুশে ফেব্রুয়ারী যেখানে গাম্ভীর্য আর শ্রদ্ধার সাথে পালন করার কথা, সেটাও উৎসব হয়ে যায়! কুরবানী হওয়ার কথা ত্যগের চেতনায়, হয় উৎসবের আমেজে! অবশ্য ঈদ মানেই উৎসব। এক্ষেত্রে ত্যগের উৎসব। তা সে যাই হোক ছোটবেলার মত আনন্দ এখন আর ঈদে পাই না।

কোরবানীর ঈদ শুরু হয় গরু কেনা দিয়ে। হাট থেকে গরু কিনে বাড়ি পর্যন্ত যেতে যেতে কমপক্ষে ৫০ জনকে ফিরিস্তি দিতে হয় গরুর দাম কত! গরু কেনার পর থেকে ঈদের দিন পর্যন্ত আগে খুব ভাল লাগত।

ছোটবেলায় গরু জবাইয়ের সময় সামনেই থাকতাম। কোন অনুভূতি ছিল না। আর এখন বিষয়টা বেশ নিষ্ঠুর মনে হয়। আসলে জবাই করা কোন সুখকর দৃশ্য হতে পারে না। তাই বলে মাংস খাওয়া বাদ দিলে চলবে কেন! বাজারের মাংস কেনার সময় আমরা কিন্তু জবাইয়ের দৃশ্যটা দেখি না! এমনকি আগে মুরগিও বাসায় এনে জবাই করা লাগত। এখন আর লাগে না। উন্নত বিশ্বে স্টটারিং হাউজ ছাড়া জবাই করা যায় না। অবশ্য একদিনের জন্য কোরবানীর এতগুলো পশু, বাংলাদেশের মত গরীব দেশে স্টটারিং হাউজে করা সম্ভব না। তবে অন্তত একটু ঢেকে ঢুকে করতে পারলে ভাল হত। অবশ্য যাদের দৃশ্যটা পছন্দ না, তারা সামনে না থাকলেই হয়!

জবাই দেখি না মানে কিন্তু মাংস কাটাকুটি বাদ থাকে না! কাটাকাটি, ভাগাভাগি, রান্না সবকিছুতেই অংশগ্রহন করি! বিচ্ছিরি লাগে ফুসফুস আর কলিজা কাটতে (কারন ফুসফুসে কিছু পরজীবি থাকে…ইয়াক!)। আবার সবার আগে খাওয়া হয় কলিজাটাই! অনেকে আবার ভূড়ি খেতে খুব পছন্দ করে। আমি আগে খেতাম এবং এখনও খেতে ইচ্ছে করে। কিন্তু সেই একই সমস্যা, ব্যপারটা অরুচিকর!

কোরবানীর ঈদে সবচেয়ে অরুচিকর ব্যপারটা হয় অন্য জায়গায়। মাংস কাটার ঠিক পর পরই। গরীব মানুষ গেইটে এসে ভিড় করে। তাদের হাহাকার দেখলে নিজেই লজ্জা পাই। এই ঘটনা অবশ্য কোরবানী ছাড়াও অন্য সময়ও হয়। যেমন- ঈদুল ফিতরে যাকাতের শাড়ি নিয়ে কামড়া কামড়ি। এসব দেখলে মনে হয় আমরা এখনও সেই তলাবিহীন ঝুড়িই রয়ে গেলাম। স্বার্থপরতার অর্থনীতি থেকে আমরা এখনও বের হতে পারলাম না।
কোরবানীর ঈদে আরও কিছু ছোট খাট ব্যপার খুবই খারাপ লাগে। কার গরু কত বড়, কে জিতল কে ঠকল, কার গরুতে মাংস বেশি হইল, কারটা স্বাদ বেশি হবে, কে কয়টা গরু কোরবানী দিল এই ধরনের আলোচনা মোটামুটি সারাদিনই চলতে থাকে। আর সামনে নির্বাচন থাকলে ত কথাই নাই! আসলে এই ব্যাপারগুলো বোধহয় আগের প্রজন্মের মধ্যেই সীমাবদ্ধ থাকবে।

খুজে খুজে খারাপ ব্যপারগুলিই বললাম! ভাবলাম সবাইকে একটা ঈদ মোবারক জানাব, তা আর হল না! খুজে খুজে হতাশার দিকগুলিই দেখছি। সময়টাই বোধহয় এরকম। মানুষের মধ্যে হিংসা-বিদ্বেষ, পরশ্রীকাতরতা, সম্পদ নিয়ে কাড়াকাড়ি, মারামারি এসব থাকবেই। বন্টন ঠিকমত হচ্ছে না, হবে না এটাই স্বাভাবিক। তাই বলে অন্যের ভালকে হিংসার চোখে না দেখে নিজের উন্নতির চিন্তা করা উচিৎ। অন্যের খুত না ধরে নিজের খুতগুলো খুজে বের করা উচিৎ। সেটাই ত কোরবানীর আসল লক্ষ্য!

 

বাহুবলে গ্রাম্য মাতব্বরের লাশ উদ্ধার

টিপু সুলতান জাহাঙ্গীর,  বাহুবল (হবিগঞ্জ): হবিগঞ্জের বাহুবলে নুরুল ইসলাম ওরফে মুক্ত হোসেন (৭০) নামের এক গ্রাম্য মাতব্বরের লাশ উদ্ধার করেছে পুলিশ

বৃহস্পতিবার বেলা ২টার দিকে উপজেলার রশিদপুর চা বাগান এলাকার ডোবার খিল থেকে তার লাশ উদ্ধার করা হয়।

নিহত ব্যক্তি উপজেলার ভাদেশ্বর ইউনিয়নের বিহারীপুর গ্রামের মৃত আতিক উল্লার ছেলে।

নিহতের ছেলে জহিরুল ইসলাম জানায়, তার বাবা সকাল ১০টার দিকে জালের ছটি ক্রয় করতে ওলিপুর গ্রামে যান। বেলা ২টার দিকে তারা খবর পায় তার বাবার লাশ একটি ডোবায় ভাসমান অবস্থায় রয়েছে।

খবর পেয়ে বাহুবল মডেল থানার ওসি কামরুজ্জামান, ওসি-তদন্ত আলমগীর কবীর ঘটনাস্থলে পৌঁছে লাশ উদ্ধার করেন।

থানার ওসি জানান, তাৎক্ষনিক লাশে আঘাতের কোন চিহৃ  পাইনি,আমাদের তদন্ত চলছে।

বাড়ি বাড়ি গিয়ে শিশুদের বই দিচ্ছেন এক যুবক

কামরুল হাসান: নৃবিজ্ঞানী মার্গারেট মিড বলেছেন- “শিশুদের শিক্ষা দেয়া উচিত যে তারা কীভাবে চিন্তা করবে, কী চিন্তা করবে সেটা নয়’। তেমনি শিশুদের জন্য এক চিন্তা মাথায় ঢুকিয়েছেন তাজুল ইসলাম মোতালিব নামে এক যুবক। তিনি পেশায় শিক্ষক ও টমটম চালক। একটি মহিলা মাদরাসার (কওমি) মোহতামিমের দায়িত্ব পালন করছে। মাদরাসা ছুটির পর যতটুকু সময় পান অতিরিক্ত আয়ের জন্য শহরের টমটম চালান।

তিনি শিশুদের জন্য তার মতো করে তৈরি করেছেন আদর্শিক বই। এর আগে বাজার থেকে আমরা শিশুদের জন্য যেবই কিনে সন্তানদের পড়তে দেই সেগুলো ছোট্টদের জন্য আদর্শিক বই নয় বলে মনে করেন তিনি।

যেমন- অ-তে অজগর। “অজগরটি আসছে তেড়ে, আমটি আমি খাব পেরে” ইত্যাদি বাক্য দিয়ে বর্ণমালা সাজানো।

আর মোতালিব তার বইটিতে লিখেছেন। ন-তে নৌকা। “নৌকা চলে-নদীর জলে, মুমিন চলে ঈমানের বলে”। নবীর আশিক চিনার উপায়-এক মুষ্টি দাড়ি থুতায়” ইত্যাদি। তিনি বই প্রকাশ করে বাড়ি বাড়ি গিয়ে শিশুদের বিনামূল্য উপহার দিচ্ছেন। শিশুরা বই পেয়ে অনেক খুশি।
তাজুল ইসলাম মোতালিব হবিগঞ্জের শায়েস্তাগঞ্জ পৌরসভাধীন ১নং ওয়ার্ডের শ্যামপুর গ্রামের বাসিন্দা। তার বাড়ী পাশে বড় ভাই আব্দুন নুর প্রতিষ্ঠিত ‘রাহবায়ে জান্নাত’ মহিলা মাদরাসার (কওমি) দায়িত্ব নিয়েছেন তিনি। শিক্ষকতার পাশাপাশি লেখালিখি করেন নিয়মিত। তার অনেক ছড়া কবিতা রয়েছে।

সম্প্রতি তিনি যে বইটি প্রকাশ করেছেন বাংলা বর্ণমালা দিয়ে “ছন্দে ছন্দে আকিদা শিক্ষা”। এই বইটি বাড়ি বাড়ি গিয়ে শিশুদের হাতে তুলে দিচ্ছেন বিনামূল্যে। প্রায় শতাধিক বই বিতরণ করেছেন।

তাজুল ইসলাম মোতালিবের মতে শিশু সদ্য ফুটা ফুল। কুলস মুক্ত হৃদয়ের আঙিনা। যা শ্রবণ করে তাই তার স্মৃতিপটে সংরক্ষিত হয়। ক্রমান্বয়ে তা জীবনা চরিত্রে বিকশিত হতে থাকে। শিশুকাল, শিক্ষা অর্জনের পাঠশালা। যা শিখে তা জীবন ভর মনে থাকে। কথিত আছে“ ছোট্ট বয়সের জ্ঞানার্জন পাথরের অন্ধনের সমতুল্য”। তাই শিশুকে আদর্শিক শিক্ষা দিতে হবে। কিন্তু সমাজে ছোট্টদের আদর্শিক বই পাওয়া দুষ্কর। যে বই পাওয়া যায়, তাতে শিশুর শিক্ষার অভাব থেকে যায়। আশাকরি এই বইটি পড়ে শিশুরা উপকৃত হবে। তাই গ্রামে গ্রামে ঘুরে শিশুদেরকে বিনামূল্যে বই বিতরণ করছেন মোতলিব। তারমতে প্রতিটি শিশু আদর্শিক শিক্ষার আলোতে বিকশিত হয়ে দেশ, সমাজ ও ইসলামের সেবায় নিজের জীবনকে উৎসর্গিত করতে পারে।

লাখাই মধ্যগ্রাম ছাত্র ফোরামের পূর্ণাঙ্গ কমিটি

নিতেশ দেব, লাখাই ( হবিগঞ্জ):  ‘শিক্ষার সাজে মানবিক কাজে’ এই স্লোগানকে ধারণকে করে সকলের সম্মিলিত প্রচেষ্টা ও আন্তরিকতায় এগিয়ে যাওয়ার প্রত্যয় নিয়ে “সাতাউক মধ্যগ্রাম ছাত্র ফোরাম” এর কমিটি গঠন করা হয়েছে। কমিটিতে সাইফুল ইসলাম আজাদকে সভাপতি ও শিপার মাহমুদ জুম্মানকে সাধারণ সম্পাদক হিসেবে মনোনীত করা হয়।
ফোরামের নব-নির্বাচিত সভাপতি সাইফুল ইসলাম আজাদ বলেন, ২০১৯ সালের ২৭ মে থেকে আমাদের ছাত্র ফোরামের পক্ষ থেকে সামাজিক ও মানবিক কার্যক্রম পরিচালনা করে আসছি। করোনাকালীন সময়েও আমাদের সংগঠনের উদ্যোগে খাদ্য-সামগ্রী বিতরণসহ নানা ধরণের কর্মসূচি পালন করেছি।
ফোরামের সাধারণ সম্পাদক শিপার মাহমুদ জুম্মান বলেন, অসঙ্গতি ও অমানবিক কর্মকাণ্ড থেকে সমাজকে আলোর পথে নিয়ে আসতে ছাত্র ফোরামের যথার্থ ভূমিকা থাকবে।
কমিটিতে অন্যান্যরা হলেন  সহ-সভাপতি: আব্দুল্লাহ আল মামুন রনি, আবু সাঈদ আল কারিম শামীম, সহ-সাধারণ সম্পাদক:  আতাউর রহমান মাহি, সাংগঠনিক সম্পাদক: রফিকুল ইসলাম, সহ-সাংগঠনিক: মীর রাজিক আহমেদ, প্রচার সম্পাদক: আরিফুল ইসলাম, অর্থ সম্পাদক: আরিফ বিল্লাহ, আইন সম্পাদক: গোলাম কিবরিয়া, ধর্ম বিষয়ক সম্পাদক: আলী আশরাফ, ক্রীড়া সম্পাদক: সানভীর সাদমান সোহাইল, ছাত্র কল্যাণ সম্পাদক: আবু বকর সিদ্দিক, প্রবাসী কল্যাণ সম্পাদক: শাহরিয়ার ইমন হৃদয়, সংস্কৃতি বিষয়ক সম্পাদক ইমতিয়াজ তানভীর, সমাজ কল্যাণ সম্পাদক: সাইফুল ইসলাম উজ্জ্বল, দপ্তর সম্পাদক: তাসরিফ আজমান, সদস্য: হা. জাবের মাহমুদ জোবায়ের, ইয়াহিয়া আজাদ, ইকরামুল হক, মঈন আজাদ, ইসমাঈল আহমেদ ইমন, জহিরুল ইসলাম, মীর রাসেল আহমেদ, শাহরিয়ার ইসলাম শুভ।

নবীগঞ্জ করোনায় স্বাস্থ্য পরিদর্শকের মৃত্যু

করাঙ্গীনিউজ: করোনা উপসর্গ নিয়ে নবীগঞ্জ উপজেলায় স্বাস্থ্য পরিদর্শক মৃত্যুবরণ করেছে। বুধবার (১৫ জুলাই) ভোর ৫ টায় নিজ বাড়িতে মারা যান।

১৩ই জুলাই সোমবার দুপুরে তার নমুনা সংগ্রহ করে পরীক্ষার জন্য পাঠানো হয়।

মৃত্যুর ১৮ ঘন্টা পর বৃহস্পতিবার (১৬ জুলাই) আসা প্রতিবেদনে জানা গেছে, তিনি করোনা ‘পজিটিভ’ ছিলেন। ওই স্বাস্থ্য পরিদর্শকের নাম জগদীশ চন্দ্র দাশ(৫৯)। তার বাড়ি নবীগঞ্জ উপজেলার পৌর এলাকার গয়াহরি গ্রামে।

তিনি উপজেলা স্বাস্থ্য বিভাগের ৭নং করগাঁও ইউনিয়নের স্বাস্থ্য পরিদর্শক হিসাবে কর্মরত ছিলেন।

উপজেলা স্বাস্থ কমপ্লেক্স আবাসিক মেডিকেল অফিসার চম্পক কিশোর সাহা সূত্রে জানা গেছে, জগদীশ চন্দ্র দাশ কয়েকদিন ধরে জ্বর ও কাশীতে ভুগছিলেন। এছাড়া উনি দীর্ঘ দিন ধরে হাই পেশার ও হৃদ রোগে ভোগছিলেন।

গত বুধবার ভোর ৫ টায় নিজ বাড়িতে ঘুমন্ত অবস্থায় মৃত্যু বরণ করেন। পরে সকাল ৯টায় উনার নিজ বাড়ির শশ্মান ঘাটে তার দাহ সম্পন্ন হয়। দাহ অনুষ্ঠানে অর্ধ শতাধিক মানুষ উপস্থিত ছিলেন।

উপজেলার স্বাস্থ্য ও পঃপঃ কর্মকর্তা ডা. আব্দুস সামাদ বলেন, ‘মৃত স্বাস্থ্য কর্মীর বাড়ি লকডাউন করা হয়েছে। তার স্ত্রীসহ পরিবারের লোকজন হোম আইসোলেশনে রাখা হয়েছে। নবীগঞ্জ উপজেলায় এই প্রথম কোন স্বাস্থ্য কর্মী করোনায় আক্রান্ত হয়ে মৃত্যু হয়েছে। নবীগঞ্জ এই পর্যন্ত আক্রান্ত আছেন ১১১ জন। সুস্থ হয়েছেন ৫৮ জন।

বাহুবলের মিরপুর ইউপি চেয়ারম্যানকে মুচলেকা দিয়ে ক্ষমা চাওয়ার নির্দেশ

নিজস্ব প্রতিবেদক ঃ
করোনার জন্য সরকার থেকে গরীবের জন্য বরাদ্দ করা ত্রাণ উচ্চবিত্তদের দেয়া এবং ত্রাণ গ্রহনকারীর নামের তালিকায় ঘষামাজার অপরাধে অভিযুক্ত হওয়া বাহুবলের ৬ নম্বর মিরপুর ইউনিয়নের চেয়ারম্যান মো.সাইফুদ্দিন লিয়াকতকে ক্ষমা করে দেয়ার পাশাপাশি কঠোরভাবে সতর্ক করে দিয়ে আদেশ জারি করেছে স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয়। পাশাপাশি এমন কাজ আর করবেন না বলে হবিগঞ্জের জেলা প্রশাসকের কাছে গিয়ে মুচলেকা দিতে হবে চেয়ারম্যানকে।

মঙ্গলবার (১৪ জুলাই) স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয়ের উপসচিব ইফতেখার আহমেদ চৌধুরী স্বাক্ষরিত আদেশে বলা হয়, ‘কর্তব্যকাজে অবহেলা ও গাফিলতির  কারণে চেয়ারম্যান মো. সাইফুদ্দিন লিয়াকতকে কঠোরভাবে সতর্ক করা হলো। আদেশে এও বলা হয়, ভবিষ্যতে এ ধরণের কর্মকান্ড আর করবেন না মর্মে হবিগঞ্জের জেলা প্রশাসকের কাছে গিয়ে আগামী সাতদিনের মুচলেকা দেয়া শর্তে প্রথমবারের মত ক্ষমা করা হল।’

এরআগে এ ঘটনায় চেয়ারম্যান মো. সাইফুদ্দিন লিয়াকতের বিরুদ্ধে দু’দফায় তদন্ত করে স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয়।

সংশ্লিষ্টরা বলেছেন, গত মে মাসে গরিবের জন্য বরাদ্দ করা চাল মিরপুরের চেয়ারম্যান উচ্চবিত্তদের মধ্যে বিতরণসহ ত্রাণের তালিকায় ঘষামাঝার পর বাহুবল উপজেলার প্রশাসন তদন্ত করেছিল। সেই তদন্ত প্রতিবেদনের ভিত্তিতে মিরপুরের চেয়ারম্যানের বিরুদ্ধে ‘ব্যবস্থা’ নেয়ার সুপারিশ করে হবিগঞ্জ জেলা প্রশাসন নথিটি স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয়ে পাঠায়। স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয়ে প্রতিবেদনটি যাওয়ার পর তদন্ত প্রতিবেদনে বেশ কিছু অসঙ্গতি ধরা পড়ে। ত্রুটিপূর্ণ প্রতিবেদনটির ভিত্তিতে চেয়ারম্যানের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়া যায়নি। এরপরই নতুন করে তদন্তের সিদ্ধান্ত নেয় স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয় এবং একইসঙ্গে চেয়ারম্যানের বিরুদ্ধে তদন্ত করার জন্য তিন সদস্যের উচ্চ পর্যায়ের তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়। উচ্চ পর্যায়ের তদন্ত কমিটির প্রধান ছিলেন সিলেট বিভাগের স্থানীয় সরকার বিভাগের পরিচালক। কমিটির অন্য দুই সদস্য হবিগঞ্জের স্থানীয় সরকার বিভাগের উপ-পরিচালক ও হবিগঞ্জ জেলা ত্রাণ ও পুনর্বাসন কর্মকর্তা। গত ২১ জুন দ্বিতীয়দফায় তদন্ত প্রতিবেদনটি মন্ত্রণালয়ে পাঠায় কমিটি।
গত মে মাসে চেয়ারম্যান সাইফুদ্দিনের বিরুদ্ধে গরিবের চাল বিতরণ বিষয়ে অভিযোগ ওঠে। এরপর উপজেলা প্রশাসন তদন্ত কমিটি গঠন করে। গণমাধ্যমেও বিষয়টি নিয়ে সংবাদ প্রকাশ হয়। এর বিপরীতে চাল চুরির অপবাদ থেকে বাঁচতে নিজ ইউনিয়ন পরিষদ প্রাঙ্গনে চেয়ারম্যান প্রতিবাদ সভা করেছিলেন। ওই সভায় সাংবাদিকদের জামায়াত-শিবির বানিয়ে বক্তৃতাও দিয়েছিলেন চেয়ারম্যান। তিনি এও বলেছিলেন, ত্রাণের চাল বিতরণে কোনো অনিয়ম করেননি। কিন্তু প্রতিবেদনে ঘষামাঝার প্রমান পাওয়া যায়।

সংশ্লিষ্টরা বলেছেন, করোনাভাইরাসের প্রাদুর্ভাবে বৈশ্বিক পরিস্থিতিতে কর্মহীন নি¤œ আয়ের মানুষের মাঝে দেশের প্রতিটি ইউনিয়নে প্রধানমন্ত্রীর উপহার হিসেবে ত্রাণ সামগ্রী বিতরণ করা হয়। কিন্তু হবিগঞ্জের বাহুবল উপজেলার ৬ নম্বর মিরপুর ইউনিয়ন চেয়ারম্যান সাইফুদ্দিন লিয়াকত এর ত্রাণ বিতরণে ব্যাপক অনিয়মও আত্মসাতের ফলে এলাকার শত শত অসহায়, দরিদ্র্য ও কর্মহীন মানুষ প্রধানমন্ত্রীর উপহার থেকে বঞ্চিত হয়েছেন। ত্রাণের তালিকায় রয়েছে চেয়ারম্যান এর শশুড়, শাশুড়ী, শ্যালক, শ্যালকপুত্র, সমন্ধিকের বউ, তার তৃতীয় স্ত্রীর বড়বোনসহ অসংখ্য আত্মীয়স্বজন। অনেকেই আবার একাধিকবার ত্রাণ পেয়েছেন বলেও অভিযোগ রয়েছে। এছাড়া মিরপুর বাজারের কয়েকজন বিশিষ্ট কোটিপতিসহ ১৮ জন ব্যবসায়ী রয়েছে। এমনকী ত্রাণ আত্মসাতের উদ্দেশে গায়েবি তালিকা করা হয়েছে এবং পিতা/স্বামীর নামেও রয়েছে ব্যাপক অনিয়ম ও গড়মিল। আবার অনেকের নাম তালিকায় থাকলেও ত্রাণ না দিয়ে তাদের স্বাক্ষর জালিয়াতি করে ত্রাণ উত্তোলনের অভিযোগ রয়েছে। তালিকায় রয়েছে ঘষামাঝারও অভিযোগ।

এরপরই গত ১১ মে ত্রাণ বিতরণে অনিয়ম ও আত্মসাতকারী ৬নম্বর মিরপুর ইউনিয়নের চেয়ারম্যান সাইফুদ্দিন এর বিরুদ্ধে মানববন্ধন করেন এলকাবাসী। এতে মিরপুর ইউপি চেয়ারম্যান সাইফুদ্দিনের পদত্যাগ চাই, প্রধানমন্ত্রীর উপহার ভেস্তে যেতে দেব না, বঙ্গবন্ধুর বাংলায় চাল চোরের ঠাঁই নাই, চাল চোর ও চাল আত্মসাতকারী চেয়ারম্যান সাইফুদ্দিন এর বিচারের দাবীসহ বিভিন্ন লেখাযুক্ত প্ল্যাকার্ড হাতে নিয়ে ভুক্তভোগী মানুষ শ্লোগান দেন।

 

এসময় ভুক্তভোগীরা অভিযোগ করে বলেছিলেন, ত্রাণের তালিকায় নাম থাকা সত্ত্বেও প্রধানমন্ত্রীর উপহার আমাদের হাতে না দিয়ে স্বাক্ষর ও টিপসই জাল করে আত্মসাৎ করেন চেয়ারম্যান। তারা আরও বলেন, অন্য ইউনিয়নের একই পরিবারের তিন জনের নাম তালিকায় অন্তর্ভূক্তিসহ শতাধিক ভুয়া নাম তালিকায় অন্তর্ভূক্তি করে ত্রাণ সামগ্রী আত্মসাৎ করেছেন ইউপি চেয়ারম্যান।

কামরানের বর্ণাঢ্য জীবন

করাঙ্গীনিউজ ডেস্ক: সিলেট আওয়ামী লীগ মানে বদর উদ্দিন আহমদ কামরান। দলের জন্য প্রশংসিত নেতৃত্ব দিয়ে পৌঁছান শেকড় থেকে শিখরে। ছাত্র রাজনীতি থেকে শহর, নগর থেকে কেন্দ্রীয় আওয়ামী লীগের নেতৃত্বে পৌঁছেছেন। তাই জনপ্রতিনিধি হিসেবে তার নাম লেখা থাকবে সিলেট সিটি করপোরেশনের ইতিহাসে।

সিলেট সিটি করপোরেশন গঠনের পর পৌর চেয়ারম্যান থেকে ভারপ্রাপ্ত মেয়র, এরপর নির্বাচিত মেয়র হিসেবে তার নাম লেখা থাকবে স্বর্ণাক্ষরে।

সর্বদা হাস্যোজ্জ্বল কামরান মাথায় সাদা টুপি, মুখে কালো গোঁফ। কখনো চোখে সাদা চশমা পড়া লোকটি ছিলেন সিলেটের মানুষের নয়নমণি।

ছাত্রবস্থায় ১৯৬৯- এর গণঅভ্যুত্থানে রাজপথ মাতিয়েছেন। এরপর সত্তোরের নির্বাচনকালীন সময়েও ছাত্রাবস্থায় বিভিন্ন আন্দোলন সংগ্রামে মাঠ কাঁপিয়েছেন। দীর্ঘ তিন দশক সিলেটের রাজনীতিতে নেতৃত্ব দিয়েছেন বদর উদ্দিন আহমদ কামরান।

১৯৮৯ সালে শহর আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক হিসেবে সিলেটের আওয়ামী রাজনীতির শীর্ষ নেতৃত্বে আসেন কামরান। ১৯৯২ সালে এবং ১৯৯৭ সালে পুনরায় সাধারণ সম্পাদক নির্বাচিত হন। ২০০২ সালে প্রথমবারের মত সিলেট মহানগর আওয়ামী লীগের সভাপতি নির্বাচিত হন তিনি। ২০০৫ এ সম্মেলনের মাধ্যমে এবং ২০১১ সালে গঠিত কমিটিতে মহানগর আওয়ামী লীগের পুনরায় সভাপতির দায়িত্ব পান।

এদিকে, রাজনীতিতে যেমনটি দলের নেতাকর্মীর কাছে জনপ্রিয় ছিলেন কামরান, তেমনী জনপ্রতিনিধি হিসেবে সাধারণ মানুষের মনে ঠাঁই করে নিয়েছিলেন। ১৯৭২ সালে উচ্চ মাধ্যমিকের ছাত্র থাকা অবস্থায় সিলেট পৌরসভার সর্বকনিষ্ঠ কমিশনার হয়ে চমক দেখান জনতার কামরান। সেই থেকে সিলেট পৌরসভার অবিচ্ছেদ্য অংশ হয়ে পড়েন তিনি।

আর পেছনে ফিরে তাকাতে হয়নি তাকে। টানা ১৫ বছর ছিলেন পৌরসভার কমিশনার। মাঝপথে খানিকটা বিরতি ছিল প্রবাসে যাওয়ায়। সেবার নির্বাচন থেকে বিরত ছিলেন। প্রবাস থেকে ফিরে ১৯৯৫ সালে পৌরসভার চেয়ারম্যান নির্বাচিত হন।

২০০২ সালে দু’টি পাতার একটি কুঁড়ির দেশ সিলেট সিটি করপোরেশনে উন্নীত হলে তিনি হন ভারপ্রাপ্ত মেয়র।

২০০৩ সালে প্রথম সিটি নির্বাচনে তিনি বিএনপির প্রার্থীকে হারিয়ে বিপুল ভোটে বিজয়ী হন। সিলেট সিটি করপোরেশনের প্রথম মেয়র নির্বাচিত হয়ে ইতিহাসে নাম লেখান তিনি।

করোনা ভাইরাসের সঙ্গে যুদ্ধ করে সোমবার (১৫ জুন) ঢাকার সম্মিলিত সামরিক হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় পৃথিবী থেকে বিদায় নিলেন সিলেটের সবার প্রিয় রাজনীতিবিদ, জনপ্রতিনিধি বদর উদ্দিন কামরান।

অসহায়দের ঈদ উপহার দিল শায়েস্তাগঞ্জ সমিতি-চুনারুঘাট এসোসিয়েশন

করাঙ্গীনিউজ: লন্ডনস্থ শায়েস্তাগঞ্জ সমিতি ও চুনারুঘাট এসোসিয়েশন দীর্ঘদিন যাবত এলাকায় বিভিন্ন সমাজসেবা মূলক কাজ করে যাচ্ছে। তন্মধ্যে শিক্ষা বৃত্তি, দরিদ্রদের চিকিৎসা সহায়তা, শীতবস্ত্র বিতরণ, ঈদে খাদ্য সামগ্রী বিতরণ ও বিনামূল্যে চক্ষু চিকিৎসা এদতঞ্চলের মানুষের মাঝে প্রশংসা অর্জন করেছে সংগঠন দুটি।

এরই ধারাবাহিকতায় শনিবার দুপুরে শায়েস্তাগঞ্জের লস্করপুর, নুরপুর ও সাবাসপুর এলাকায় দুই শতাধিক অসহায় দরিদ্র মানুষের মাঝে সংগঠন দুটির পক্ষ থেকে ঈদ উপহার হিসেবে নগদ অর্থ পাঠিয়েছেন শায়েস্তাগঞ্জ সমিতি ইউকে এর প্রেসিডেন্ট এডভোকেট মীর গোলাম মোস্তুফা ও সেক্রেটারী আব্দুল আহাদ সুমন এবং চুনারুঘাট এসোসিয়েশনের সভাপতি গাজীউর রহমান গাজী ও সাধারণ সম্পাদক জালাল আহমেদসহ সকল সদস্যবৃন্দ।

তাদের পক্ষ থেকে লস্করপুরে নগদ অর্থ বিতরণকালে উপস্থিত ছিলন- মোছাব্বির হোসেন দুলাল মাষ্টার, ফারুক আহমেদ, জয়নাল মেম্বার, হেলাল মেম্বার, মনির মেম্বারসহ আরো অনেকেই।

এদিকে নুরপুরে ঈদ উপহার বিতরণকালে উপস্থিত ছিলেন- লাল মিয়া সরদার, মীর আবু তাহের, মুসলিম উদ্দিন ধনী, আক্তার হোসেন ও প্রত্যাশা সংগঠনের সভাপতি সাখাওয়াত হোসেন টিটু, সাধারণ সম্পাদক ফয়েজ আহমেদ রুবেল সহ আরো অনেকেই।

লস্করপুরের হেলাল মেম্বার বলেন- শায়েস্তাগঞ্জ সমিতি ও চুনারুঘাট এসোসিয়েশনের যৌথ উদ্যোগে আমাদের এলাকার কিছু সংখ্যাক অসহায় মানুষকে নগদ অর্থ প্রদান করায় এলাকাবাসির পক্ষ থেকে ধন্যবাদ ও কৃতজ্ঞতা জানাই।

প্রত্যশা সংগঠনের সভাপতি সাখাওয়াত হোসেন টিটু বলেন- দেশের এই ক্রান্তিকালে এলাকার অসহায় দরিদ্র মানুষকে ঈদ উপহার প্রদান করায় শায়েস্তাগঞ্জ সমিতি ও চুনারুঘাট এসোসিয়েশনকে অশেষ ধন্যবাদ ও মোবারকবাদ।

এদিকে চুনারুঘাট উপজেলায় একই দিনে উল্লেখিত দুটি সংগঠনের পক্ষ থেকে দুই শতাধিক অসহায় দরিদ্র লোকজনের মাঝে ঈদ উপহার নগদ অর্থ বিরতণ করা হয়েছে।

বড়লেখায় ব্যবসায়ীকে গলা কেটে হত্যা

নিজস্ব প্রতিনিধি, মৌলভীবাজার: মৌলভীবাজারের বড়লেখা উপজেলায় সমছ উদ্দিন (৩৪) নামে এক ব্যবসায়ীকে গলা কেটে হত্যা করা হয়েছে।

রোববার দিবাগত রাত আড়াইটার দিকে উপজেলার মোহাম্মদনগর (বাজারিটিলা) এলাকার একটি পরিত্যক্ত ঘর থেকে ওই ব্যবসায়ীর মরদেহ উদ্ধার করা হয়।

নিহত সমছ উদ্দিন দক্ষিণ শাহবাজপুর ইউনিয়নের মধ্যগ্রামতলা গ্রামের আমির উদ্দিনের ছেলে। সোমবার দুপুরে পুলিশ ময়নাতদন্তের জন্য নিহতের মরদেহ মৌলভীবাজার সদর হাসপাতাল মর্গে পাঠিয়েছে।

স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, সমছ উদ্দিন গত প্রায় আট মাস আগে দক্ষিণ শাহবাজপুর ইউপির পূর্ব মোহাম্মদনগর (বাজারিটিলা) এলাকায় রহমানীয় চা বাগানসংলগ্ন বেশ কিছু ভূমি ক্রয় করেন। এর কিছু অংশে তিনি দুটি মৎস্য খামার গড়ে তোলেন।

দিনের পাশাপাশি তিনি প্রায়ই রাতে খামারে যাওয়া-আসা করতেন। শনিবার রাতে খামারের উদ্দেশ্যে বাড়ি থেকে বেরিয়ে রাতে আর ফেরেননি।

রোববার সকালে পরিবারের লোকজন তার মোবাইল ফোনে যোগাযোগের চেষ্টা করেন। বেশ কয়েকবার রিং হলেও তিনি রিসিভ করেননি। এর পর ফোনটি বন্ধ পাওয়া যায়।

দুপুরে পরিবারের লোকজন তাকে খুঁজতে গিয়ে একটি বাড়ির সামনে তার ব্যবহৃত মোটরসাইকেল দেখতে পান। কিন্তু তার কোনো সন্ধান পাননি। স্বজনরা তাকে খোঁজাখুঁজি অব্যাহত রাখেন।

একপর্যায়ে রাত সোয়া ১২টার দিকে মোহাম্মদনগর (বাজারিটিলা) এলাকায় খামারের অদূরে একটি পরিত্যক্ত ঘরে তার (সমছ উদ্দিনের) রক্তাক্ত নিথর দেহ দেখতে পান স্থানীয়রা। এর পর তারা বিষয়টি পুলিশকে জানান।

খবর পেয়ে পুলিশ রাত আড়াইটার দিকে ঘটনাস্থলে গিয়ে তার মরদেহ উদ্ধার করে থানায় নিয়ে যায়। তবে হত্যাকাণ্ডের প্রকৃত কারণ জানা যায়নি।

খবর পেয়ে রাতেই ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেন অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (কুলাউড়া সার্কেল) সাদেক কাউসার দস্তগীর।

বড়লেখা থানার ওসি মো. ইয়াছিনুল হক জানান, ধারালো অস্ত্র দিয়ে গলা কেটে ওই ব্যবসায়ীকে হত্যা করা হয়েছে।

ময়নাতদন্তের জন্য নিহতের মরদেহ মৌলভীবাজার সদর হাসপাতাল মর্গে পাঠানো হয়েছে। হত্যাকাণ্ডের প্রকৃত কারণ উদ্ঘাটনে পুলিশের তদন্ত চলছে।