Category Archives: শিক্ষা ও সাহিত্য

শ্রীকুটা আদর্শ উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক হলেন আফজাল

চুনারুঘাট (হবিগঞ্জ) প্রতিনিধি : চুনারুঘাট উপজেলার শ্রীকুটা আদর্শ উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক হিসেবে নিয়োগ পেলেন আফজাল আহমেদ চৌধুরী। এর আগে তিনি উপজেলার গনেশপুর আলহাজ্ব মোজাফফর উদ্দিন উচ্চ বিদ্যালয়ে সহকারী প্রধান শিক্ষকের দায়িত্ব পালন করেছেন।

আদর্শ উচ্চ বিদ্যালয়ের সাবেক প্রধান শিক্ষক এম.এ. আওয়াল রিটায়ার্ড করলে পদটি শূণ্য হয়ে পড়ে। বেশ কিছুদিন পর নিয়োগ প্রক্রিয়ার মাধ্যমে আফজাল আহমেদ চৌধুরী নিয়োগ লাভ করেন।

তিনি উপজেলার রানীগাঁও (চৌধুরীগাঁও) গ্রামের সাবেক ইউনিয়ন পরিষদ সচিব মহুরম আব্দুস সোবহান চৌধুরীর ছোট ছেলে। তিনি জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয় থেকে বি.এ এবং এশিয়ান ইউনিভার্সিটি অব বাংলাদেশ থেকে বি.এড ডিগ্রি অর্জন করেন।

আফজাল আহমেদ চৌধুরী বলেন- “আমার ছোটবেলার স্বপ্ন ছিল, আমি মানুষ গড়ার কারিগর শিক্ষক হব। স্বপ্ন পূরণ করতে গিয়ে শিক্ষক হয়েছি। কঠোর পরিশ্রম ও অধ্যাবসায়ের মাধ্যমে প্রধান শিক্ষক হিসেবে নিয়োগ পেয়েছি। আমার বাবা-মা বেঁচে নেই। যদি বেঁচে থাকতেন, তারা খুবই খুশি হতেন।”

তিনি আরো বলেন- “ইনশাআল্লাহ মানসম্মত শিক্ষাদানের মাধ্যমে শ্রীকুটা আদর্শ উচ্চ বিদ্যালয় প্রতিষ্ঠানকে আরো সামনের দিকে এগিয়ে নিতে যথাযথ পদক্ষেপ নেব। আমি অর্পিত দায়িত্ব পালনে সকলের নিকট দোয়া প্রার্থী।”

প্রসঙ্গত, উক্ত পদে নিয়োগ পরিক্ষায় ১০জন শিক্ষক অংশগ্রহন করেছেন।

সংসদে পাস হলো ‘হবিগঞ্জ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয় স্থাপন বিল-২০২০’

করাঙ্গীনিউজ: কৃষি, বিজ্ঞান ও প্রযুক্তির ক্ষেত্রে উন্নত শিক্ষা প্রসারে হবিগঞ্জ জেলায় কৃষি বিশ্ববিদ্যালয় স্থাপনের জন্য জাতীয় সংসদে ‘হবিগঞ্জ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয় স্থাপন বিল-২০২০’ পাস হয়েছে।

বৃহস্পতিবার (১০ সেপ্টেম্বর) জাতীয় সংসদে শিক্ষামন্ত্রী ডা. দীপু মনি বিলটি প্রস্তাব করলে তা কণ্ঠভোটে পাস হয়। এর আগে বিলটি বাছাই কমিটিতে পাঠানো ও সংশোধনী প্রস্তাবগুলো কণ্ঠভোটে নিষ্পত্তি হয়।

হবিগঞ্জ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয় বিলটি গত বছরের ২৩ ডিসেম্বর মন্ত্রিসভার বৈঠকে চূড়ান্ত অনুমোদন দেয়া হয়। এরপর চলতি বছরের ২৩ জুন বিলটি সংসদে উত্থাপিত হলে পরীক্ষা করে প্রতিবেদন দেওয়ার জন্য শিক্ষা মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত সংসদীয় স্থায়ী কমিটিতে পাঠানো হয়।

স্থায়ী কমিটি গত ৭ সেপ্টেম্বর সংসদে বিলটির প্রতিবেদন উপস্থাপন করে। এই বিলে ৫৪টি ধারা হয়েছে। এতে সংক্ষিপ্ত শিরোনাম, প্রবর্তন, সংজ্ঞা ছাড়াও আচার্য, উপাচার্যের দায়িত্ব-কর্তব্য, ট্রেজারার, সিন্ডিকেট, একাডেমিক কাউন্সিল এবং অর্থ কমিটি সম্পর্কিত বিধান আছে।

এই বিশ্ববিদ্যালয়ে চারটি অনুষদ থাকবে বলে বিলে বিধান রাখা হয়েছে। অনুষদগুলো হলো- কৃষি অনুষদ, মৎস্য অনুষদ, প্রাণিচিকিৎসা ও প্রাণিসম্পদ বিজ্ঞান অনুষদ এবং বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি অনুষদ।

বিলের উদ্দেশ্য সম্পর্কে বলা হয়েছে, কৃষি, বিজ্ঞান ও প্রযুক্তির ক্ষেত্রে অগ্রসর বিশ্বের সঙ্গে সংগতি রক্ষা ও সমতা অর্জন এবং জাতীয় পর্যায়ে কৃষি বিজ্ঞানে উন্নত শিক্ষাদানের পাশাপাশি বিজ্ঞান, প্রযুক্তি ও প্রচলিত অন্যান্য বিষয়ে উচ্চতর শিক্ষা ও গবেষণার সুযোগ সৃষ্টি এবং নতুন প্রযুক্তি উদ্ভাবনসহ দেশে কৃষি, বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি শিক্ষার সম্প্রসারণের লক্ষ্যে প্রধানমন্ত্রীর প্রতিশ্রুতিতে হবিগঞ্জ জেলায় একটি কৃষি বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠার উদ্যোগ গ্রহণ করা হয়েছে।

সেখানে আরও বলা হয়, উচ্চশিক্ষার বিভিন্ন ক্ষেত্রে বিভিন্ন বিষয়ে স্নাতক এবং স্নাতকোত্তর পর্যায়ে শিক্ষা, গবেষণা ও প্রশিক্ষণ এবং সম্প্রসারণ কার্যক্রমের অগ্রগতিকল্পে এবং এ বিশ্ববিদ্যালয়ের বিজনেস ইনকিউবেটরের মাধ্যমে দেশ ও বিদেশে কৃষিখাতে নতুন নতুন উদ্যোক্তা সৃষ্টি, কর্মসংস্থান সম্প্রসারণ করে অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধির মাধ্যমে নির্ধারিত সময়ের মধ্যেই দেশকে উন্নত দেশে রূপান্তর করার লক্ষ্যে হবিগঞ্জ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয় স্থাপন করা খুবই প্রয়োজন এবং যুক্তিযুক্ত।

একজন আল্লাহ ওয়ালা মানুষের বিদায়

এম এ মজিদ: একজন মানুষের মৃত্যুর সংবাদ লিখতে কয়বার কাঁদা যায়, আমি জানি না। লিখতে গিয়ে বারবারই চোখে পানি চলে আসছে। আপাদমস্তক একজন ভাল মানুষ ছিলেন হবিগঞ্জ জেলা এডভোকেট সমিতির সিনিয়র সদস্য আলহাজ্জ মোঃ নজরুল ইসলাম। হঠাৎ করে তার মৃত্যুর সংবাদটি পুরো আদালত পাড়ায় শোকের ছায়া নেমে আসে। বিজ্ঞ বিচারক, বিজ্ঞ এডভোকেট, কোর্টগুলোর পেশকার, সেরেস্তাদার, মোহরার, আইনজীবী সমিতির স্টাফ,
কোর্টগুলোর স্টাফ, অনেক বিচার প্রার্থী প্রায় সবার মধ্যেই শোক বিরাজ করছে।

অনেককে কোর্টের ভেতরেই কাদতে দেখেছি। করোনা আক্রান্ত হয়ে এডভোকেট নজরুল ইসলাম যখন হবিগঞ্জ থেকে ঢাকার মুগদা হাসপাতালে ভর্তি হন, তখন থেকেই এক ধরনের টেনশন কাজ করছিল।

মুগদা হাসপাতাল থেকে আশংকাজনক অবস্থায় বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ে তাকে স্থানান্তরের সংবাদটি ছিল আমাদের কাছে খুবই আতংকের। করোনা আক্রান্ত হওয়ার মাত্র কয়েকদিনের ব্যবধানে ৬ সেপ্টেম্বর
সকাল সাড়ে ৯টার দিকে তিনি মারাই গেলেন।

হবিগঞ্জ জেলা আইনজীবী সমিতিতে নজরুল ইসলাম নামে বেশ কয়েকজন আইনজীবী রয়েছেন। তিনি ছিলেন দাড়িওয়ালা নজরুল ভাই। সবার কাছে এই নামেই পরিচিত। একজন সাধারণ শিক্ষায় শিক্ষিত হয়ে রাসুল (সাঃ) এর সুন্নত পালনে তার জুড়ি ছিল না। সুন্নতী দাড়ি রাখা, টাকনুর উপরে পেন্ট পড়া, পাচ ওয়াক্ত নামাজ জামাতে পড়ায় এডভোকেট নজরুল ইসলাম ছিলেন সর্বাগ্রে। রাতের
প্রথমভাগে তিনি ঘুমাতেন। উঠতেন ফজরের নামাজের আগে। বাসায় তাহাজ্জুত পড়ে ফজর নামাজ পড়তেন মসজিদে গিয়ে। এসব রাসুল (সা) এর অন্যতম সুন্নত ছিল।

কোর্টে আসার সময় হালকা খাবার ও পানি নিয়ে আসতেন ব্যাগে করে। বাহিরের কিছু
তেমন খেতেন না। এডভোকেট নজরুল ইসলাম খুজে খুজে আত্বীয় বের করতেন। অনেক দুরের আত্বীয় তার কাছে অনেক কাছের, ঘনিষ্ট। আত্বীয়ের হক আদায় করা তার কাছে অনেক গুরুত্বপূর্ণ ছিল। বর্তমান যোগে আত্বীয় স্বজন থেকে দুরে থাকা যেখানে কালচারে পরিনত হয়েছে সেখানে এই একটি সুন্নত পালনে তিনি ছিলেন ব্যতিব্যস্ত।

আত্বীয়দের কে কোন জায়গায় কিভাবে আছে তা নিয়মিতই বর্ণনা করতে আমাদের
কাছে। সদা হাস্যোজ্জল ও ফুর্তিবাজ মানুষ ছিলেন তিনি। যেখানে যেতেন, বসতেন,
সবাইকে একটা আনন্দের মাঝে ডুবিয়ে রাখতেন। ফুল ও আতর ছিল তার কাছে অধিক জনপ্রিয়। বাসা থেকে নিজের লাগানো গাছের বিভিন্ন ফুল সাথে করে কোর্টে নিয়ে আসতেন নজরুল ভাই। ফুলের পাপড়ি বিলাতেন আমাদের মাঝে। মজা করে বলতেন, আমাকে ফুল মিয়াও ডাকতে পারো তোমরা। উন্নত মানের আতর ব্যবহার করতেন তিনি।

নিত্যসঙ্গী ছিল আতর। কোর্টে নিয়ে আসতেন। আমাদের সহকর্মীরা তার কাছ থেকে আতর পায়নি, এমন সংখ্যা খুব কম। আতর দেয়ার সময় বলতেন, আমাকে আতর আলী ডাকবে না? তিনি ফুল ও আতর ভালবাসতেন এই জন্য যে, রাসুল (সাঃ) ফুল ও আতর ভালবাসতেন বলে।
এডভোকেট নজরুল ইসলাম আল-াহর ঘরের মেহমানদের এতো বেশি সম্মান ও স্নেহ করতেন, সাধারণত তা দেখা যায় না। ২০১৫ সালে আমি পবিত্র ওমরা হজ্জে যাব শুনেই তিনি একটি দাবী রাখলেন। বাসায় গিয়ে দাওয়াত খেতে হবে। আমি অবাক হলাম। এমনিতেই আমরা খুব ঘনিষ্ট, তবে বাসায় দাওয়াত খাওয়ার মতো সম্পর্ক ছিল না নজরুল ভাইর সাথে। স্ত্রী ও সন্তানকে নিয়ে গেলাম দাওয়াত খেতে। আমাদের জন্য এতো বেশি খাবারের আইটেম
তৈরী করলেন, দেখে আমরা অবাক। বারবার বললেন, তুমি আল-াহর ঘরের মেহমান হতে যাচ্ছ, তোমার খুশিতে আল-াহ ও রাসুল (সা) খুশি হবেন। ক্বানায়ে ক্বাবায় ও রাসুল (সা) এর রওয়াজায় মোনাজাতের সময় যদি আমি নজরুল ইসলামের নামটি তোমার মুখ দিয়ে উচ্চারণ হয়ে যায়, তাহলেই হল। বিশ্বাস করুন, এই নামটি আমি ভুলতে পারিনি।

কথা প্রসঙ্গে তিনি জানলেন-আমার স্ত্রী তার এক ভাগ্নীর ক্লাশ ফ্রেন্ড। ব্যস, আমি তার
ছোট ভাই, আমার স্ত্রী তার ভাগ্নী। এরপর থেকে এই সম্পর্কই বিদ্যমান ছিল। দেখা হলেই জানতে চাইতেন, ছোট ভাই ভাগ্নী কেমন আছে। আইনজীবী সমিতির সিনিয়রদের প্রতি তার সম্মান ছিল চোখে পড়ার মতো। এডভোকেট আজিজুল বারী কামাল ছিলেন তার সিনিয়র। এডভোকেট আজিজুল বারী কামাল সাহেবকে তিনি এতো সমীহ করতেন, আজিজুল বারী কামাল সাহেব কোর্টে থাকলে প্রায় সময়ই এডভোকেট নজরুল ইসলাম
চেয়ারেই বসতেন না। অথচ এডভোকেট নজরুল ইসলামও অনেক সিনিয়র।

এডভোকেট নজরুল ইসলামের এক ছেলে মেডিকেল কলেজে পড়ছে। আরেক ছেল স্কুলে পড়ছে। পরিবারের অন্য সদস্যদের প্রায় সবাই প্রবাসে। একটা সুখি ও সুন্দর পরিবার থেকে এক আল্লাহ ওয়ালা মানুষের বিদায়ে শোকে মহ্যমান সবাই। এডভোকেট নজরুল ইসলামের মুত্যুতে আবারও প্রমানিত হল সমাজে, আত্বীয় স্বজনের মাঝে, কর্মক্ষেত্রে, পরিবারে সর্বত্র ভাল
মানুষ হওয়ার প্রয়োজন আছে। যেটা তিনি দেখিয়ে গেলেন।

লেখকঃ আইনজীবী ও সংবাদকর্মী
হবিগঞ্জ ৬ সেপ্টেম্বর ২০২০

পরিবেশ মন্ত্রীর শহরে পানির মারণ! বড়লেখাবাসীর বিড়ম্বিত জীবনের গল্প

আবদুল কাদের তাপাদার: স্বাধীনতার সুদীর্ঘকাল পর দেশের সীমান্তবর্তী ও ঐতিহ্যবাহী জনপদ বড়লেখা অঞ্চলে একজন পূর্ণ মন্ত্রীর গাড়িতে পতাকা উড়ছে। এই দৃশ্যমান চেতনা এলাকাবাসীকে গৌরবান্বিত করেছে। বড়লেখা পৌরসভার প্রাণকেন্দ্র পাখিয়ালার বাসিন্দা সরকারের বন, পরিবেশ ও জলবায়ু পরিবর্তন মন্ত্রী মোঃ শাহাব উদ্দিন তৃণমূল থেকে উঠে আসা একজন জনদরদী রাজনীতিক।

মহামারী করোনা পরিস্থিতিতে এলাকার অসহায় গরীব মানুষের মাঝে মন্ত্রীর ব্যক্তিগত ও মানবিক সহায়তা সাধারণ মানুষের মধ্যে আলোচিত হয়েছে। গণমাধ্যমেও বিষয়টি ইতিবাচকভাবে এসেছে।

কিন্তু সপ্তাহান্তে বড়লেখা পৌরসভাসহ আশপাশের বিপুল সংখ্যক অধিবাসীর জীবনে পানির মারণ অস্বস্তিকর ও চরম বিড়ম্বনার এক বিপর্যস্ত পরিস্থিতির সৃষ্টি করে। যা বিগত ৫০ বছরে দেখেনি বড়লেখার মানুষ। ৫ বছর আগে এমনই হঠাৎ
ভারীবর্ষণে পাহাড় ভাঙ্গা ঢল নেমে প্লাবিত হয়েছিল বড়লেখা শহর। মাত্র দুই ঘন্টায় পানি নেমে গেলেও কিছু ক্ষয়ক্ষতি হয়েছিল।

কিন্তু গত রোববার, সোমবার জুড়ে তিন দফায় ৯/১০ ঘন্টার পাহাড়ি ঢল বড়লেখা শহরসহ আশপাশের সড়কপথ, রাস্তাঘাট, হাটবাজার, অফিস আদালত ও মাঠের ফসলী জমির ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে। দোকানপাটে পানি উঠেছে।
এক, দুইদিনে সমস্ত পৌরশহরের মানুষ জীবনযাত্রায় বড় ধরনের বিড়ম্বনা ও বিপর্যস্ত পরিস্থিতির মুখোমুখি হন।

এক ধরনের উঁচু ও পাহাড় টিলার পাদদেশে এই এলাকার ভৌগোলিক পরিমণ্ডল গড়ে উঠায় অধিবাসীরা এর আগে কখনো এমন পরিস্থিতির সম্মুখীন হননি। ফলে উপজেলা পরিষদ এলাকা, বড়লেখা শহরের দোকানপাট, সড়ক ও জনপথের ব্যস্ত সড়ক, বড়লেখা উত্তর চৌমুহনা থেকে দক্ষিণের নিকড়িছড়ার পার কাঠালতলী পর্যন্ত শিক্ষা প্রতিষ্ঠানসহ গুরুত্বপূর্ণ স্হাপনা পানিতে সয়লাব হয়ে যায়।

পানিতে ডুবে যাওয়ার এমন উদ্বেগজনক পরিস্থিতির অস্বাভাবিক চিত্র সামাজিক যোগাযোগের কল্যানে দেশ বিদেশে মুহূর্তেই ভাইরাল হয়ে যায়। দেশে বিদেশে অবস্থানরত বড়লেখাবাসী পৌরসভা কর্তৃপক্ষকে এজন্য দায়ী করে নানা তির্যক মন্তব্য করতে দেখা যায়।

যেদিন যেভাবে ঢলের তোড়ে ভেসে যায় পৌরশহর

স্থানীয় অধিবাসীরা জানান, শনিবার রাত ১১টা থেকে বড়লেখায় ভারী বৃষ্টিপাত শুরু হয়ে একটানা চলে রোববার সকাল ৯টা পর্যন্ত। প্রায় ১০ ঘন্টার ভারী বর্ষণ ও উজান থেকে নেমে আসা ঢলের পানি দ্রুত নেমে যেতে না পারায় পৌর শহরের বিভিন্ন বাসা-বাড়ি ও ব্যবসা প্রতিষ্ঠানে ঢুকে পড়ে। এছাড়া বড়লেখা-মৌলভীবাজার আঞ্চলিক মহাসড়কের বিভিন্নস্থান তলিয়ে যায়। রোববার বৃষ্টি কম হলেও সোমবার সকালের ভারীবর্ষণে নতুন নতুন এলাকা প্লাবিত হয়েছে।

বড়লেখা শহরের একজন ব্যবসায়ী জানান, বৃষ্টি ও উজান থেকে নেমে আসা ঢলে শহরের বিভিন্ন বাসা ও ব্যবসা প্রতিষ্ঠানে পানি উঠেছে। বিভিন্ন ব্যবসা প্রতিষ্ঠানে পানি ওঠে মালামাল নষ্ট হয়েছে। বড়লেখা-মৌলভীবাজার আঞ্চলিক মহাসড়কের বড়লেখা থানা, হাসপাতাল, উপজেলা পরিষদ, পল্লী বিদ্যুতের সাব-স্টেশন, ফায়ার সার্ভিস স্টেশনের সম্মুখ, কাঠালতলী বাজার ও দক্ষিণভাগের টিলাবাজার নামক স্থান পানিতে তলিয়ে গেছে। এসব স্থানে পানি ওঠায় যানবাহন চলাচল ব্যাহত হয়েছে। পানি ঠেলে চলতে গিয়ে অনেক যানবাহন বিকল হয়ে মারাত্মক ক্ষতির মুখে পড়েছেন চালক মালিকরা। মানুষজনকে পানি মাড়িয়ে চলাচল করতে চরম দুর্ভোগে পোহাতে হয়েছে।

পৌর শহরের কয়েকজন বাসিন্দার অভিযোগ, দখল আর দূষণে নালা, ছড়া-খাল ভরাট হয়ে যাওয়ায় পানি প্রবাহের পথ বন্ধ হয়ে পড়েছে। ফলে বিভিন্ন সময় বৃষ্টি ও উজান থেকে নেমে আসা ঢলের পানি দ্রুত নামতে না পেরে গোটা পৌর শহরে জলাবদ্ধতার সৃষ্টি হয়। এছাড়া পৌরশহরে অপর্যাপ্ত ড্রেনেজ ব্যবস্থার কারণেও অল্প বৃষ্টিতে কৃত্রিম জলাবদ্ধতা দেখা দেয়। যার কারণে স্থানীয়দের বাসা বাড়ি ও ব্যবসা প্রতিষ্ঠানে পানি ঢোকায় তাদের লাখ লাখ টাকার ক্ষয়ক্ষতি হয়।

বড়লেখা পৌরশহরে বিশেষ করে এমন পরিস্থিতিতে আওয়ামী লীগ সরকার তথা মন্ত্রী শাহাব উদ্দিনের দীর্ঘ সফলতায় বিরোধিরা একটা অজুহাত খোঁজার চেষ্টা করতেই পারে! কারা এমন পরিস্থিতি তৈরি করছেন? কেনো এমন কিছু মুখরোচক প্রশ্নের মুখোমুখি আজ ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগ?

বড়লেখার মাটি মানুষের নেতা ও সরকারের জনপ্রিয় মন্ত্রী শাহাব উদ্দিন তৃণমূল পর্যায়ে আলাপ আলোচনা করে বড়লেখার প্লাবন সম্পর্কে খোঁজ নিয়েছেন বলে একটি সূত্র জানিয়েছে। তিনি এ ব্যাপারে প্রশাসনিকভাবেও জানার চেষ্টা করতে পারেন বলে জানিয়েছেন বড়লেখা আওয়ামী লীগের একজন নেতা।

ষাটমা নিকড়িছড়া খননের নামে লেফাফাদুরস্ত, দায়িত্বহীনতার অভিযোগ

কয়েক বছর আগে যখন মাত্র ৬/৭ ঘন্টার ভারীবর্ষণে পাহাড়ি ঢলের তোড়ে বড়লেখা পৌরশহর আকস্মিক পানিতে নিমজ্জিত হয়ে পড়ে তখন থেকেই আলোচনায় আসে পাথারিয়া পাহাড়ে সৃষ্ট এককালের খরস্রোতা পাহাড়ি ছড়া ষাটমা নিকড়িছড়া খননের প্রসংগ।

বড়লেখা শহরের উজানে এই দুটি খরস্রোতা পাহাড়ি ছড়া ভরাট হয়ে যাওয়াকে পৌরশহরের আকস্মিক বন্যার কারণ হিসেবে চিহ্নিত করা হয়। নানাভাবে আলাপ আলোচনার পর বর্তমান মেয়র আবুল ইমাম মো. কামরান চৌধুরীর বিশেষ প্রচেষ্টায় এবং মন্ত্রী শাহাব উদ্দিনের ঐকান্তিক সহযোগিতায় বাংলাদেশ কৃষি উন্নয়ন কর্পোরেশন বড়লেখা পৌশহরকে অকাল বন্যার হাত থেকে রক্ষায় “বন্যা, জলাবদ্ধতা ও তীরবর্তী পতিত ভূমি সেচের আওতায় নিয়ে আসতে “বড়লেখা পৌরসভার উত্তর সীমানার পাহাড়ি ছড়া ষাটমা ও দক্ষিণ সীমানার নিকড়িছড়া পুনঃখননের প্রকল্প নেয়।

কিন্তু খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, কয়েক দফায় এই দুটি ছড়ার পুনঃখননের কাজের নামে এক ধরনের লেফাফাদুরস্ত করা হয়। মেয়র কামরান চৌধুরী এসব কাজের সার্বিক তত্ত্বাবধান করেন। ঠিকাদারির দায়িত্ব পালন করেন বিএডিসির লোকজন। কিন্তু এই প্রতিবেদকের সাথে আলাপকালে মেয়র কামরান চৌধুরী ও বর্তমানে খাগড়াছড়িতে দায়িত্বরত তৎকালীন মৌলভীবাজার বিএডিসির সাব এসিট্যান্ট ইঞ্জিনিয়ার গিয়াসউদ্দিনের বক্তব্যে বিস্তর ফারাক লক্ষ্য করা যায়।

মেয়র কামরান জানিয়েছেন তিনি কাজের তদারকি করেছেন। সবকিছু তার মনে নেই। প্রকল্পে কতো টাকা ব্যয় হয়েছে বা কত কিলোমিটার খনন হয়েছে তা বিএডিসির ঠিকাদাররা বলতে পারবেন। বিএডিসির যে কর্মকর্তা এখানে কাজ করেছেন সেই গিয়াস উদ্দিনের সঙ্গে আলাপকালে জানান, তিনি এখন খাগড়াছড়িতে কর্মরত আছেন।

তিনি জানান, দুই ছড়া মিলে ৪ কিলোমিটার খনন করা হয়েছে বলে তার মনে হয়। এবং এই প্রকল্পের বাজেট খুব বেশি নয়। ১৪/১৫ লাখ টাকা হতে পারে। তবে মেয়র কামরান চৌধুরী দুই ছড়া মিলে ৬ কিলোমিটার খনন হয়েছে বলে জানান। তিনি জানান, বাজেট কত তাঁর সঠিক মনে নেই। তবে প্রায় কোটি টাকার কাছাকাছি হবে বলে তার ধারণা।

কাউন্সিলর যেহিন সিদ্দিকীর আগ্রহের প্রকল্প, মেয়র জানতে দেননি কিছুই

ষাটমা ও নিকড়িছড়া পুনঃখনন প্রকল্প নিয়ে প্রথম থেকেই খুব আগ্রহ নিয়ে খোঁজ খবর রাখছিলেন বড়লেখা পৌরসভার প্রভাবশালী কাউন্সিলর, উপজেলা আওয়ামী লীগের দফতর সম্পাদক যেহিন সিদ্দিকী। তিনি জানান, বড়লেখাকে অকাল বন্যার হাত থেকে রক্ষায় এলাকার সংসদ সদস্য ও মন্ত্রী শাহাব উদ্দিন ভাইয়ের বিশেষ সহযোগিতায় এই প্রকল্প আলোর মুখ দেখে।

কিন্তু খাল পুনঃখনন প্রকল্পের নামে এই প্রকল্পে অনিয়ম ও দুর্নীতির ঘটনা ঘটেছে। সত্যিকারার্থে, প্রকল্প অনুযায়ী খাল খনন হলে মাত্র দুই বছরের মাথায় বড়লেখা পৌর শহর পানিতে ডুবে সয়লাব হতো না।

তিনি অভিযোগ করেন, খাল পুনঃখনন প্রকল্প অনুযায়ী খালের তলদেশ থেকে আরো ৬ ফুট গভীর পর্যন্ত খনন করার কথা। কিন্তু দেখা গেছে, খালের সাইড খুঁড়ে কিছু মাটি পারে তোলা হয়েছে। ফলে গত দুবছর ধরে পাহাড়ী ঢল নেমে ধীরে ধীরে পারের মাটি খালে পড়ে তা আরো বেশি আকারে ভরাট হয়ে পড়েছে।

এবার ভারী বর্ষণ ও একটানা পাহাড়ি ঢলের তোড়ে তাই খালের দু পার ছাপিয়ে জনপদের বাসা বাড়ি, দোকানপাট, সড়কপথসহ সবকিছু প্লাবিত হয়েছে। সঠিক নিয়মে খাল পুনঃখনন হলে অনেক বছর ঢলের পানি খাল নালা ধরে রাখতে পারতো। প্রকল্পের আরেকটি উদ্দেশ্য পারের পতিত জমিতে সেচ দিয়ে। ফসল আবাদ করা যেতো। কিন্তু অনিয়মের কারণে সবকিছু ভেস্তে গেছে।

পৌর পরিষদের সভায় এই প্রকল্প সম্পর্কে জানতে চাইলে মেয়র কামরান কিছুই জানতে দেননি বলে দাবি করেছেন কাউন্সিলর যেহিন সিদ্দিকী।

তিনি বলেন, এ বিষয়ে শুধু মেয়র কামরান সবকিছুই জানেন। তিনিই এই প্রকল্প তদারকি করেছেন। আমরা খাল খনন প্রকল্পে তাকেই শুধু দেখেছি। কোনো ঠিকাদারকে দেখিনি। যেহিন জানান, এই প্রকল্পে কয়েক কোটি টাকার বাজেট ছিল বলে তার ধারণা। খান খননের নামে দুই ছড়ায় ৭ কিলোমিটার খোঁড়া হয়েছে বলে তিনি মনে করেন।

যেহিনের এই অভিযোগের বিষয়ে জানতে চাইলে মেয়র কামরান বলেন, এই প্রকল্প তাকে জানানোর কথা নয়। আমি একা কিছুই করিনি। বিএডিসি সবকিছু করেছে। আমি তদারকি করেছি।

অপরিকল্পিত পৌর শহর, জোর যার মূলক তার

২০০১ সালে সাবেক বড়লেখা সদর ইউনিয়নকে ভেঙে উপজেলা সদরের ৭ বর্গ কিলোমিটার এলাকা নিয়ে গড়ে উঠে বড়লেখা পৌরসভা। বড়লেখা পৌরসভার যাত্রা শুরুর প্রায় দুই দশক অতিক্রান্ত হতে চললেও আজো কোনো সমন্বিত পরিকল্পনা নেয়া হয়নি।

সম্পূর্ণ অপরিকল্পিতভাবে গড়ে উঠছে বড়লেখা পৌর শহর। শহরের অনেক নালা খাল এখন তার অস্তিত্ব হারিয়েছে। সওজসহ সরকারি জায়গা দখল করে স্হায়ী স্হাপনা গড়ে তোলা হয়েছে। অবৈধভাবে অনেক ভূমি অনেক দখল করে বাসা বাড়ি, দোকান পাট নির্মাণের হিড়িক পড়েছে। জোর যার মূলক তার নীতিতে বদলে যাচ্ছে বড়লেখা পৌর শহর।

পৌর শহরের উত্তর সীমানা ষাটমা ছড়া থেকে উত্তরে পানিধার নিকড়িছড়া এলাকা পর্যন্ত দখল বেদখলের খেলা চলছে। এটা দেখার যেনো কেউ নেই। তাছাড়া পৌরসভা গঠিত হলেও এখন পর্যন্ত শহরে পর্যাপ্ত ড্রেনেজ ব্যবস্হা গড়ে উঠেনি।পয় নিষ্কাশনের তেমন কোনো পরিকল্পিত ব্যবস্হাপনাও গড়ে তোলা হয়নি।

দখলে ক্ষিনেশ্বরী খাল, লংলীছড়াসহ নালা খালের অস্তিত্ব হারাচ্ছে

বড়লেখা পৌর শহর এলাকায় উপজেলা কমপ্লেক্স সংলগ্ন টিটিডিসি স্কুলের পাশ দিয়ে বয়ে যাওয়া একসময়ের পাহাড়ি খরস্রোতা ক্ষিনেশ্বরী খাল কিংবা উত্তর বাজার বালিকা বিদ্যালয়ের পাশ দিয়ে বয়ে যাওয়া লংলীছড়া ও নিমাই কালভার্টের অস্তিত্ব এখন হারিয়ে যেতে বসেছে।

এভাবে খাল নালা এবং সড়ক জনপথের জায়গা দখল করে বাড়িঘর, দোকাটপাটসহ নানা রকম স্হাপনা গড়ে তোলা হয়েছে। প্রতিনিয়ত দখল বেদখলের খেলা চললেও এসব অনিয়মের বিরুদ্ধে কেউ কোনো ব্যবস্হা নিচ্ছেন না বলে অভিযোগ পৌরবাসী সচেতন মানুষের।

ক্রম বর্ধমান প্রায় অর্ধ লক্ষ মানুষের এই পৌর শহরে দিন দিন বাড়ছে জীবনের কোলাহল। মানুষ বাড়ছে। দোকানপাট, বাণিজ্যিক বিপণী, শিক্ষা প্রতিষ্ঠান, বাড়িঘর বৃদ্ধি পাচ্ছে। কিন্তু সেরকম সুযোগ সুবিধা বাড়ছে না। যে যার মতো সেখানে যেখানে স্হাপনা নির্মাণ করছেন। কেউ এতে বাধা দিচ্ছেন না।

এক ধরনের বেপরোয়া প্রতিযোগিতা চলছে স্হাপনা নির্মাণের। এভাবেই সম্পূর্ণ অপরিকল্পিতভাবে গত দুই দশক ধরে অগোছালোভাবে গড়ে শহরের অবকাঠামো। যা ভবিষ্যতের জন্য হুমকিস্বরূপ বলে মনে করছেন পৌরসভার অনেক বাসিন্দা।

প্রায় দুই দশকেও প্রাতিষ্ঠানিক রূপ পায়নি এই পৌরসভা

২০০১ সালে বড়লেখা পৌরসভা গঠনের পর প্রথমে প্রশাসক হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন তৎকালীন উপজেলা নির্বাহী অফিসার- ইউএনও জসিম উদ্দিন বাদল। ২০০৩ সালে পৌরসভার প্রথম নির্বাচনে পৌরসভা চেয়ারম্যান হিসেবে নির্বাচিত হন আওয়ামী লীগ নেতা আবদুল মালিক।

তার দায়িত্বকালিন সময়েই চেয়ারম্যান পদবীটিকে সরকার মেয়র হিসেবে ঘোষণা করে। বর্ধিত মেয়াদে দায়িত্ব পালনকালিন সময়ে ২০০৮ সালে মহবন্দ প্রকাশিত সোনাপুর নিবাসী মেয়র আবদুল মালিক ইন্তেকাল করেন।

পরবর্তীতে প্যানেল মেয়র ও বিএনপি নেতা পাখিয়ালার মতিউর রহমান ইরাজ আলী ভারপ্রাপ্ত মেয়র হিসেবে ২০১১ পর্যন্ত দায়িত্ব পালন করেন। পরবর্তী পৌরসভা নির্বাচনে বিএনপি নেতা গাজিটেকার ফখরুল ইসলাম মেয়র হিসেবে বিজয়ী হন। সর্বশেষ নির্বাচনে পৌরসভার মহবন্দের বাসিন্দা উপজেলা আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক ও উপজেলা ছাত্র লীগের সাবেক সভাপতি আবুল ইমাম মোঃ কামরান চৌধুরী মেয়র নির্বাচিত হন। বর্তমানে তিনি মেয়র হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন।

বড়লেখা বি-ক্যাটাগরির একটি পৌরসভা। বিগত ২০ বছরেও পৌরসভার নিজস্ব কোনো ভবন নির্মিত হয়নি। জেলা পরিষদের “উপজেলা জনমিলন কেন্দ্র” কে পৌরসভা অস্হায়ী অফিস হিসেবে ব্যবহার করছে।

অপরিকল্পিত শহর, ড্রেনেজ সংকট ও বেদখলের কথা সবার মুখে

বড়লেখা শহরে অকাল বন্যায় ক্ষয়ক্ষতি ও বাসিন্দাদের বিড়ম্বনার জীবন প্রসংগে কথা বলতে গিয়ে সাবেক ও বর্তমান মেয়রসহ আওয়ামী লীগ এবং বিএনপির নেতৃবৃন্দ
অপরিকল্পিত শহরে অপর্যাপ্ত পয়ঃনিষ্কাশন, ড্রেনেজ ব্যবস্হার সংকট এবং দখল বেদখলের কারণে বিপর্যস্ত অবস্থার কথা প্রায় একই সুরে উচ্চারণ করেছেন।

বড়লেখা উপজেলা পরিষদের তরুণ জনপ্রিয় ও প্রভাবশালী চেয়ারম্যান, উপজেলা আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক সোয়েব আহমদ, বড়লেখা উপজেলা পরিষদের ভাইস চেয়ারম্যান ও উপজেলা যুবলীগ সভাপতি তাজ উদ্দিন, সাবেক মেয়র, বিএনপি নেতা ফখরুল ইসলাম, সাবেক উপজেলা পরিষদ চেয়ারম্যান ও উপজেলা আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক রফিকুল ইসলাম সুন্দর, পৌর আওয়ামী লীগের সভাপতি আবদুল আহাদ, পৌর বিএনপির সভাপতি আনোয়ারুল ইসলাম, বড়লেখা সদর ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যান সিরাজ উদ্দিন ও দক্ষিণভাগ উত্তর (কাঠালতলী) ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যান এনাম উদ্দিন আহমদ বড়লেখা পৌরসভা ও আশপাশের এলাকায় অকাল বন্যা এবং বিশেষ করে পৌরবাসীর নানা সংকট সমস্যা নিয়ে কথা বলেছেন।

সোয়েব বললেন, অপরিকল্পিত শহরে সুষ্ঠু পয়ঃনিষ্কাশন ব্যবস্থা গড়ে উঠেনি

বড়লেখা পৌর শহরে অকাল বন্যার কারণে বাসিন্দাদের বিড়ম্বনার বিষয় নিয়ে কথা গিয়ে উপজেলা পরিষদের তরুণ চেয়ারম্যান সোয়েব আহমদ বললেন, বড়লেখা পৌর শহর গড়ে উঠছে সম্পূর্ণ অপরিকল্পিতভাবে।পয়ঃনিষ্কাশন ব্যবস্হা, ড্রেনেজ ব্যবস্হাপনার মারাত্মক সংকট ক্রমবর্ধমান এই ছিমছাম শহরকে এখন সমস্যাগ্রস্ত করে তুলছে।

খাল নালাসহ জায়গা জমি বেদখল হয়ে বাড়িঘর, দোকানপাট নির্মিত হচ্ছে। তিনি বলেন, সড়ক ও জনপথের উভয়পাশে দখল হওয়া জায়গায় ড্রেনেজ ব্যবস্হাপনা গড়ে তুলতে পারলে পয়ঃনিষ্কাশনের ব্যবস্থা হবে। এতে করে ঢলের পানি নেমে যেতে পারবে।

ষাটমা নিকড়িছড়া পুনঃখনন সঠিকভাবে হয়েছে কিনা জানতে চাইলে সোয়েব বলেন, আমার জানামতে খনন হয়েছে। তবে কতটুকু সঠিকভাবে হয়েছে সেটা আমি জানি না। তিনি ষাটমা ও নিকড়িছড়ার উজানের অংশ খনন না করলে এই পরিস্থিতি থেকে রক্ষা পাওয়া কঠিন হবে বলে মত দেন। একটি পরিকল্পিত শহর গড়ে তুলতে তিনি পরিকল্পনা তৈরি করার উপর গুরুত্বারোপ করেন।

পাহাড়ি ছড়া ষাটমা নিকড়িছড়ার উজানে খনন না হলে বিড়ম্বনার শেষ হবে না: ভাইস চেয়ারম্যান

এবার ষাটমার উজান এলাকা জফরপুর, সাতকরাকান্দি এবং দক্ষিণে নিকড়িছড়ার উজানে মুছেগুল কুতুবনগর দিয়ে পাহাড়ি ঢল নেমে বড়লেখা পৌর শহর প্লাবিত হয়েছে বলে মনে করেন উপজেলা পরিষদের তরুণ ভাইস চেয়ারম্যান তাজ উদ্দিন। তিনি জানান, খননকৃত ষাটমা নিকড়িছড়ার সাইডের মাটি খালে পড়ে যাওয়ার কারণেও ঢলের পানি জনপদে ঢুকে পড়েছে।

তিনি বলেন, শহরে অবৈধভাবে খাল নালা ভরাট হয়ে গিয়ে বর্তমান পরিস্থিতি তৈরি করেছে। এ থেকে উত্তরণে পরিকল্পিত শহর গড়ার দিকে মনোনিবেশ দিতে হবে বলে তিনি মনে করেন।

কর্তৃপক্ষের খামখেয়ালিপনা ও দায়িত্বহীনতার কারণে অকাল বন্যাঃ সাবেক মেয়র ফখরুল

বড়লেখা পৌরসভার নির্বাচিত দ্বিতীয় (সাবেক) মেয়র বিএনপি নেতা প্রভাষক ফখরুল ইসলাম মনে করেন, খাল খননের নামে অনিয়ম ও শহরজুড়ে খাল নালা বেদখলের বেপরোয়া প্রতিযোগিতার কারণে বড়লেখায় পাহাড়ি ঢলে নেমে মানুষজন বিড়ম্বনার মুখোমুখি হয়েছেন।

সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের খামখেয়ালিপনা ও দায়িত্বহীনতার কারণে এমন অস্বস্তিকর পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে বলে মনে করেন সাবেক এই মেয়র। তিনি বলেন, যথাযথ কর্তৃপক্ষ দায়িত্ব পালন করলে এই অবস্থার সৃষ্টি হতো না।

ভরাট ও বেদখলের কারণে বড়লেখা পৌর শহর প্লাবিত হয়েছেঃ সুন্দর

একটি সুষ্ঠু পয়ঃনিষ্কাশন ব্যবস্থা গড়ে তুলতে না পারা ও পরিকল্পনার অভাবে পৌর শহরে অকাল বন্যা দেখা দিয়েছে বলে মনে করেন বড়লেখা উপজেলা পরিষদের সাবেক চেয়ারম্যান ও এককালের তারকা ফুটবলার রফিকুল ইসলাম সুন্দর। তিনি বলেন, সড়ক ও জনপথের জায়গাসহ সরকারি খাল নালা নিজেদের মতো ব্যবহার করে বাড়িঘর নির্মিত হচ্ছে। এটা দেখার কেউ নেই।

অবৈধ দখল ও ভরাট বন্ধ করতে বললেন আবদুল আহাদ

বড়লেখা পৌর আওয়ামী লীগের সভাপতি ও সাবেক কৃতি ফুটবলার মহবন্দ নিবাসী আবদুল আহাদ পৌর শহরকে সংকটের হাত থেকে রক্ষা করতে সবরকমের দখল বেদখল খেলা ও নালা খাল ভরাট বন্ধ করার আহবান জানান। তিনি একটি সুন্দর শহর গড়ে তুলতে বড়লেখাবাসীকে চিন্তা চেতনায় ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করার দৃঢ় সংকল্প ব্যক্ত করেন।

খাল খননের নামে সামান্য কাজ হয়েছে, তদন্ত চাইঃ আনোয়ার

বড়লেখা পৌরসভা বিএনপির সভাপতি আনোয়ারুল ইসলাম জানান, আমরা শুনেছি অকাল বন্যার হাত থেকে বড়লেখা পৌর শহরকে রক্ষায় বড় অংকের প্রকল্প নেয়া হয়। ষাটমা নিকড়িছড়া পুনঃখনন করার এই প্রকল্পে আসলে কী হয়েছে আমাদের জানার সৌভাগ্য হয়নি। তবে পুরোপুরি খনন হলে এটা মাত্র দুই বছরে ভরাট হওয়ার কথা নয়। দুই খালের তীর ছাপিয়ে পাহাড়ি ঢলের পানিতে পৌর এলাকা সয়লাব হয়েছে। আনোয়ারুল ইসলাম এই প্রকল্পে কী কাজ হয়েছে তার তদন্তের দাবি জানান। তিনি পরিকল্পিত পৌর শহর গড়ে তোলার বিষয়ে পরিকল্পনা প্রণয়নেরও দাবি করেন।

ষাটমা নিকড়িছড়া উজান থেকে গভীরে গিয়ে খনন করার দাবি চেয়ারম্যান সিরাজের

বড়লেখা সদর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান, সদর ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সভাপতি, এলাকার দীর্ঘদিনের জনপ্রতিনিধি সিরাজ উদ্দিনকে বুধবার সকালে যখন ফোন করি জানালেন, তিনি এখন তার ইউনিয়নের নিকড়িছড়া তীরের বিভিন্ন ওয়ার্ডে অকাল বন্যায় ক্ষতিগ্রস্ত রাস্তাঘাট, কালভার্ট ও বাড়িঘর দেখতে বেরিয়েছেন। তিনি জানালেন, নিকড়িছড়া বা ষাটমায় খালের তলদেশ গভীরভাবে খনন করতে হবে।

সদর ইউনিয়নের সীমানা উজানের ৩ কিলোমিটারসহ সঠিকভাবে ও গভীরতাসহ খনন না করলে পাহাড়ি ঢলের তোড়ে আমরা আগামীতে ভেসে যাবো। ষাটমা নিকড়িছড়া সঠিকভাবে খনন হয়নি দাবি করে তিনি অবিলম্বে সঠিকভাবে খাল খননের প্রকল্প নেয়ার দাবি জানান।

নিকড়িছড়ার উজানের ৩ কিলোমিটার খননের দাবি চেয়ারম্যান এনামের

নিকড়িছড়ার প্লাবনে শুধু পৌরবাসী নয়, এবার নাকাল হয়েছেন কাঠালতলী বাজারসহ এলাকার মানুষ। কাঠালতলী বাজার বড়লেখা পৌরসভার সীমানা পেরিয়ে বড়লেখা উপজেলার দক্ষিণভাগ উত্তর ইউনিয়ন পরিষদের অন্তর্ভুক্ত। এই ইউনিয়নের চেয়ারম্যান এনাম উদ্দিন এবারের পাহাড়ি ঢলের মতো প্লাবনের তোড় আর কোনোদিন দেখেননি উল্লেখ করে বলেন, মানুষের অনেক ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে। বিড়ম্বনার শেষ ছিল না। নিকড়িছড়ার ডাউন অংশ শুধু খনন করলে সমস্যার সমাধান হবে না বলে মত দেন দেশের একমাত্র আকর্ষণীয় জলপ্রপাত মাধবকুণ্ড এলাকার এই তরুণ চেয়ারম্যান।

আমার কারণেই ষাটমা নিকড়িছড়া পুনঃখনন সম্ভব হয়েছে, দুর্নীতির অভিযোগ সঠিক নয়ঃ মেয়র কামরান

বড়লেখা পৌরসভার বর্তমান মেয়র আবুল ইমাম মোঃ কামরান চৌধুরী মহবন্দের বাসিন্দা। তিনি উপজেলা আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক। পৌর শহরকে অকাল বন্যার হাত থেকে রক্ষা করা ও খালের পারের পতিত জমি সেচের আওতায় এনে চাষাবাদের উপযুক্ত করতে তার একান্ত প্রচেষ্ঠায় এই প্রকল্প নেয়া হয় বলে তিনি জানান।

মেয়র কামরান জানান, গত ৫০ বছরে কেউ এ ধরনের পাহাড়ি ছড়া খননের চিন্তা করেননি। বড়লেখা উপজেলার গুরুত্বপূর্ণ পাহাড়ি ছড়া দেওছড়া, মাধবছড়া খননের খুব দরকার ছিল। এগুলো কেউ খনন করার সাহস করেনি। আমি সাহস করে ষাটমা ও নিকড়িছড়া খননের প্রকল্প নেই। খাল পুনঃখনন হওয়ায় পৌরবাসী অনেক সুবিধা পাবে। খাল পুনঃখনন সঠিকভাবে হয়নি এবং এতে অনেক অনিয়মের বিষয়ে জানতে চাইলে মেয়র বলেন, কাজ করেছে বিএডিসি। তিনি তদারকি করেছেন। তাই অনিয়মের বিষয়ে তিনি বলতে পারবেন না।

খাল খননের বাজেট কত টাকা এ বিষয়ে জানতে চাইলে মেয়র কামরান বলেন, কোটি টাকার মতো হবে। তবে এটাও বিএডিসি ভালো বলতে পারবে। তাদের কাছে হিসাবপত্র আছে। তবে বড়লেখা পৌর শহরে অবৈধ দখল ও খাল নালা ভরাট করে বেআইনি স্হাপনা নির্মাণের বিষয়ে তিনি বলেন, আগে থেকেই এসব দখল বেদখলের খেলা চলছে। এসব বন্ধ হওয়া উচিত বলে তিনি মন্তব্য করে বলেন, সড়ক জলপথের জায়গা দখলমুক্ত করে পয়ঃনিষ্কাশন ও ড্রেনেজ ব্যবস্থাপনা গড়ে তুলতে হবে।

পৌরশহরকে বন্যা ও জলাবদ্ধতা থেকে রক্ষার প্রকল্প কী আসলে আলোর মুখ দেখেছে?

২০১৯ সালের মার্চে সিলেটের সংবাদপত্রে প্রকাশিত নীচের এই রিপোর্ট আমাদেরকে আসলে কী জানান দেয়?

রিপোর্টটি শিরোনামসহ তুলে ধরা হলোঃ

“ষাটমাছড়া পুণঃখনন কর্মসুচির দ্বিতীয় ধাপের কাজ শুরু”

বড়লেখা পৌরশহরের অকাল বন্যা ও জলাবদ্ধতার অন্যতম কারণ শহরের উত্তর সীমান্ত দিয়ে প্রবাহিত ষাটমাছড়া (নদী) ভরাট ও ভুমি দস্যুদের জবর দখল। পৌরমেয়র আবুল ইমাম মো. কামরান চৌধুরীর বিশেষ তৎপরতায় ছড়াটির পুণঃখননের প্রকল্প গ্রহণ করে বাংলাদেশ কৃষি উন্নয়ন কর্পোরেশন (বিএডিসি)। প্রকল্পের প্রথম ধাপের ২ কিলোমিটার খনন কাজ গত বছর সম্পন্ন হয়। বৃহস্পতিবার দুপুরে কর্মসুচির দ্বিতীয় ধাপের ৩ কিলোমিটার এলাকার খনন কাজের উদ্বোধন করেন মেয়র কামরান চৌধুরী।

বড়লেখা ডিগ্রী কলেজ সংলগ্ন ষাটমা ব্রীজের পার্শে খননকাজের উদ্বোধনকালে উপস্থিত ছিলেন সদর ইউনিয়নের চেয়ারম্যান (ভারপ্রাপ্ত) সিরাজ উদ্দিন, পৌরসভার কাউন্সিলার আব্দুল মালিক ঝুনু, বিএডিসি’র সাব-এসিসটেন্স ইঞ্জিনিয়ার মো. গিয়াস উদ্দিন, সাংবাদিক আব্দুর রব, ইকবাল হোসেন স্বপন, ইউপি মেম্বার ফারুক আহমদ, মাওলানা জুবায়ের আহমদ, ব্যবসায়ী আব্দুল আজিজ, মৌলুদ হোসেন চৌধুরী, এবাদুর রহমান প্রমূখ।

বিএডিসি সুত্রে জানা গেছে, বন্যা, জলাবদ্ধতা ও তীরবর্তী পতিত ভুমি সেচের আওতায় নিয়ে আসতে বড়লেখার ষাটমা ছড়া পুণঃখননের উদ্যোগ গ্রহণ করে বাংলাদেশ কৃষি উন্নয়ন কর্পোরেশন (বিএডিসি)। বিএডিসি’র সিলেট বিভাগ ক্ষুদ্র উন্নয়ন প্রকল্পের আওতায় গত বছর কর্মসুচির প্রথম ধাপে ষাটমাছড়ার ২ কিলোমিটার এলাকা পূণঃখনন করা হয়। একই প্রকল্পের আওতায় আরো ৩ কিলোমিটার এলাকা দ্বিতীয় ধাপে পূণঃখনন কাজের প্রকল্প গ্রহণ করা হয়। এতে সরকারের ব্যয় হচ্ছে ৩৫ লাখ টাকা।

বিএডিসি’র সাব-এসিসটেন্স ইঞ্জিনিয়ার মো. গিয়াস উদ্দিন জানান, ষাটমাছড়ার প্রথম ধাপের খনন কাজ গত বছর সম্পন্ন হয়েছে। চলিত বছর পৃথক দুটি লটে ছড়ার আরো ৩ কিলোমিটার পূণঃখনন কাজ শুরু হয়েছে। প্রকল্পটি বাস্তবায়িত হলে শুধু বড়লেখা পৌরশহরের অকাল বন্যা ও

জলাবদ্ধতার স্থায়ী সমাধানই হবে না, এছাড়াও ষাটমা ছড়ার উভয় তীরের ব্যাপক কৃষি জমি চাষাবাদের আওতায় আসবে।”

উপরের রিপোর্টে দেখা যাচ্ছে দ্বিতীয় ধাপের এই প্রকল্পে ব্যয় ধরা হয়েছে ৩৫ লাখ টাকা। এবং এখানে ৩ কিলোমিটার কাজ করার কথা রয়েছে। রিপোর্টে দেখা যাচ্ছে এর আগে ষাটমা ছড়ায় আরো ২ কিলোমিটার কাজ সম্পন্ন হয়েছে। অর্থাৎ শুধুমাত্র ষাটমা ছড়ায় ৫ কিলোমিটার কাজ হয়েছে। তাহলে নিকড়িছড়ায় কত টাকায় কত কিলোমিটার কাজ হয়েছে? বিএডিসির প্রকৌশলী গিয়াসউদ্দিন এখন বলছেন, সবমিলিয়ে ১৫/১৬ লাখ টাকার কাজ হয়েছে।

আসলে এখন কেউই সঠিক কোনো হিসাব বলছেন না কেনো? ষাটমা ও নিকড়িছড়া খাল পুনঃখনন প্রকল্পে আসলে কত কিলোমিটার কাজ হয়েছে এবং কত টাকা খরচ হয়েছে এই তথ্য নিশ্চিত করে এখন কেউই বলতে চাচ্ছেন না। তাহলে খাল পুনঃখননের নামে লেফাফাদুরস্তের যে অভিযোগ উঠেছে তাই কি সত্য?

মন্ত্রী শাহাব উদ্দিনের সামনে আধুনিক বড়লেখা গড়ার এক সুবর্ণ সুযোগ অপেক্ষমান

বড়লেখা পৌরসভার পাখিয়ালায় জন্ম ও বেড়ে উঠা তৃণমূলের রাজনীতিক আজকের পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তন মন্ত্রী শাহাব উদ্দিন আওয়ামী লীগ সরকারের প্রধানমন্ত্রী ও দলের সভাপতি বঙ্গবন্ধু কন্যা শেখ হাসিনার অত্যন্ত প্রিয়ভাজন মন্ত্রী হিসেবে অনেকেই মনে করেন।

তাঁর সামনে বড়লেখা পৌরসভাকে এ ক্যাটাগরিতে উন্নীতকরণ ও বড়লেখা পৌর শহরকে একটি আধুনিক শহরে রূপান্তরের সুবর্ণ সুযোগ অপেক্ষা করছে।

আধুনিক বড়লেখা গড়ার নির্মাতা হিসেবে তাঁর নাম ইতিহাসের সোনালী পাতায় লিখে রাখতে তিনি নিশ্চয়ই চাইবেন। যেহেতু তিনি এ মাটির ‘সান অব দ্য সয়েল। তিনি বড়লেখার ভূমিপুত্র। বড়লেখাবাসী চেয়ে আছেন তাঁর দিকে। তাদের স্বপ্ন ও আশা নিয়ে।

লেখক: সম্পাদক,এখন সিলেট।

কেন বার বার প্রশ্নবিদ্ধ হচ্ছে ১৬৪ ধারার জবানবন্দি?

শাহ ফখরুজ্জামান: আমাদের সমাজে প্রতিনিয়ত ছোট বড় অনেক ফৌজদারি অপরাধ হচ্ছে। এই অপরাধের কিছু কিছু ঘটনায় আদালতে মামলা হচ্ছে। আবার অনেক ঘটনা মামলার আগেই সালিশে নিষ্পত্তি হচ্ছে। আবার আদালতে মামলা হওয়ার পরও অনেকটা আপস হয়ে যাচ্ছে। মামলা যখন কগনিজেন্স বা আমলি আদালতে থাকে, তখন আসামিরা অপরাধের ধরন অনুযায়ী কারাভোগ করলেও অনেক মামলা শেষ পর্যন্ত পরিচালনা হয় না। আবার যে মামলাগুলো পরিচালিত হয় তার সবগুলোতে অপরাধ প্রমাণিত করা সম্ভব হয় না বলে অপরাধী যথাযথ শাস্তি পাচ্ছে না। অপরাধ প্রমাণে যথাযথ সাক্ষী, মেডিক্যাল সার্টিফিকেট, অভিযোগপত্র, অন্যান্য ডকুমেন্টস এবং আইনি যুক্তিতর্কের বিষয় জড়িত।

চাঞ্চল্যকর মামলা প্রমাণে ১৬৪ ধারার জবানবন্দি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। এই জবানবন্দি আইনের দৃষ্টিতে সাক্ষ্য আইন অনুযায়ী প্রমাণ হিসেবে অভিযুক্ত ব্যক্তির বিরুদ্ধে গ্রহণযোগ্য হয়। কিন্তু বাস্তবে ১৬৪ ধারার জবানবন্দি নিয়ে নতুন নতুন প্রশ্ন দেখা দিয়েছে। জজ মিয়া নাটকের পর কয়েকদিন আগে নারায়নগঞ্জের ঘটনায়ও প্রশ্নবিদ্ধ হয়েছে ১৬৪ ধারার জবানবন্দি।

আমরা যারা মিডিয়াকর্মী হিসেবে কাজ করি এবং যখন জানতে পারি চাঞ্চল্যকর ঘটনার দায় স্বীকার করে গ্রেফতার হওয়া আসামি ১৬৪ ধারায় জবানবন্দি দিয়েছে, তখন ছুটে যাই সেই সংবাদ প্রকাশ করার জন্য। পরে ফলাও করে সেই সংবাদ প্রকাশ করি রহস্যের উদঘাটন হয়েছে বলে। আবার যেহেতু আইন পেশায় জড়িত রয়েছি, ১৬৪ ধারার অনেক জবানবন্দি নিয়ে দুঃখজনক গল্প শুনতে পাই। এই গল্পগুলো এমন, পুলিশ আসামিকে বলে ‘আমি তোকে যা শিখিয়ে দেব ম্যাজিস্ট্রেটের সামনে তা বললে তোকে ছেড়ে দেব’। গ্রাম থেকে আসা সহজ-সরল লোকজন এ কথা বিশ্বাস করে নিজে অপরাধ না করলেও অনেক সময় পুলিশের কথা সরল বিশ্বাসে ম্যাজিস্ট্রেটের কাছে বলে দেয়।

এই জবানবন্দি দেওয়ার পর যখন আসামি ভুল বুঝতে পারে, তখন আর কিছু করার থাকে না। তবে আমার অনেক সহকর্মীকে দেখেছি, পরে তারা একটি হলফনামা দিয়ে ১৬৪ ধারার জবানবন্দি প্রত্যাহারের জন্য আদালতে আবেদন করেন। তবে ম্যাজিস্ট্রেট তা আমলে নেন না। তখন আইনজীবীরা সেই আবেদনটি নথির সঙ্গে সামিল করে দিতে বলেন, যাতে করে বিচারের সময় বিষয়টিকে ডিফেন্স করতে পারেন।

আমার একটি মামলায় দেখেছি, এক নৃতাত্ত্বিক জনগোষ্ঠীর কিশোরী গণধর্ষণের শিকার হয়েছে। এ ব্যাপারে ভিকটিমের পরিবার মামলা করতে চাইলে প্রথমে থানা মামলা নেয়নি। পরে আমি এ বিষয়ে সংবাদ প্রকাশ করি। একটি মানবাধিকার সংস্থা বিষয়টি নিয়ে থানায় যোগাযোগ করলে পরে মামলাটি রেকর্ড হয়। এই ঘটনার সঙ্গে জড়িত তিন আসামিকেও গ্রেফতার করে পুলিশ। কিন্তু পরে আসামিদের রক্ষার জন্য শুরু হয় দৌড়ঝাঁপ। আমি জানতে পারি ধর্ষণের শিকার হওয়া কিশোরী ও তার মাকে চারদিন আটকে রেখে প্রলোভন দেওয়া হয়, ভিকটিমের ২২ ধারার জবানবন্দিতে যেন ওই তিন আসামির নাম না বলে যিনি ভিকটিমকে উদ্ধার করেছেন এবং যাকে মামলার সাক্ষী মানা হয়েছে, তিনি ধর্ষণ করেছেন বলা হয়। এতে করে ওই সাক্ষীর সঙ্গে কিশোরীর বিয়ের ব্যবস্থা করা হবে এবং দুই লাখ টাকা দেওয়া হবে। পাহাড়িরা সহজ-সরল হয়। আবার কিশোরীর বয়সও কম। ফলে সে সহজেই সেই প্রলোভনে পা দিয়ে ২২ ধারায় জবানবন্দিতে পুলিশের শেখানো কথাই বলে ম্যাজিস্ট্রেটের কাছে।

অপরদিকে যিনি ধর্ষকের কাছ থেকে ভিকটিমকে উদ্ধার করেছেন, সেই ব্যক্তিকে পুলিশ আটকে নির্যাতন করে বাধ্য করেছে ১৬৪ ধারায় জবানবন্দিতে তিনি নিজেই ধর্ষণ করেছেন সেই কথা বলাতে। পরে ভিকটিমের ২২ ধারায় জবানবন্দি এবং উদ্ধারকারীর ১৬৪ ধারার জবাবন্দি হুবহু একই হয়। আর সেই সুযোগে তিন ধর্ষণকারী জামিনে বের হয়ে আসে। কারাগারে আটকে আছেন সেই উদ্ধারকারী। বিষয়টি আমাকে ভিকটিম ও তার লোকজন বললে আমি দরখাস্ত দিয়ে আদালতের নজরে আনার চেষ্টা করি।

এবার আসা যাক নারায়ণগঞ্জের ঘটনার দিকে। সেখানে কিশোরীকে ধর্ষণ শেষে হত্যা করে লাশ নদীতে ফেলে দেওয়া হয়েছে এমন স্বীকারোক্তি দেওয়া মামলার তিন আসামি কারাগারে বন্দি। কিন্তু ওই জবানবন্দি দেওয়ার ১৪ দিন পর ওই কিশোরীকে জীবিত উদ্ধার করেছে পুলিশ। এর আগে গত ৪ জুলাই থেকে নিখোঁজ হয় নারায়ণগঞ্জ শহরের পঞ্চম শ্রেণির ছাত্রী। গত ১৭ জুলাই সদর মডেল থানায় জিডি করেন তার বাবা। এরপর ৬ আগস্ট থানায় অপহরণ মামলা করেন তিনি।

পুলিশ মেয়েটির মায়ের মোবাইলের কললিস্ট চেক করে রকিবের সন্ধান পায়। রকিবের মোবাইল নম্বর দিয়ে আব্দুল্লাহ কিশোরীর সঙ্গে যোগাযোগ করতেন। এ ঘটনায় রকিব, আব্দুল্লাহ ও নৌকার মাঝি খলিলকে গ্রেফতার করে পুলিশ। গত ৯ আগস্ট নারায়ণগঞ্জ সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট মিল্টন হোসেন ও জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আহমেদ হুমায়ূন কবিরের পৃথক আদালতে ১৬৪ ধারায় জবানবন্দি দেন আসামিরা। স্বীকারোক্তিতে তারা জানান, কিশোরীকে সংঘবদ্ধভাবে ধর্ষণের পর হত্যা করে লাশ ভাসিয়ে দেওয়া হয়েছে শীতলক্ষ্যা নদীতে।

এ ধরনের স্বীকারোক্তির পর যখন ভিকটিম জীবন্ত উদ্ধার হয়, তখন ১৬৪ ধারার জবানবন্দি নিয়ে প্রশ্ন দেখা দেওয়াই স্বাভাবিক। এর আগে জজ মিয়া নাটকও দেশবাসী দেখেছে। অথচ কোনো আসামি যখন আদালতে ১৬৪ ধারায় জবানবন্দি দেয়, তখন বিচারের আগে তার জামিন পাওয়াটা অনেক কঠিন হয়ে যায়। কারণ বিজ্ঞ বিচারকরা ১৬৪ ধারার জবানবন্দি ও কিছু কিছু মামলায় আসামির আগের পিসিপিআর গুরুত্ব দিয়ে বিবেচনা করেন এবং জামিন দিতে বিলম্ভ করেন। শুধু তাই নয় ,কোনো আসামি যখন ১৬৪ ধারায় জবানবন্দিতে বড় ধরনের কোনো ঘটনার সাথে জড়িত কারও নাম প্রকাশ করে তখন তার নাম যদি মামলার এজাহারে নাও তাকে সে আসামি হয়। স্বীকারোক্তিতে নাম থাকায় ওই আসামীর জামিন পাওয়াও কঠিন হয়।

ফৌজদারি কার্যবিধি আইনের ১৬১ ধারায় সাক্ষীর জবানবন্দি রেকর্ড করার জন্য তদন্তকারী কর্মকর্তাকে ক্ষমতা দেওয়া হয় যা জুডিশিয়াল রেকর্ড হিসেবে বিবেচিত হয় না। কিন্তু উক্ত আইনের ১৬৪ ধারা বলে কোনো জবানবন্দি বা স্বীকারোক্তি যদি ম্যাজিস্ট্রেট কর্তৃক গৃহীত হয়, তবে এটা জুডিশিয়াল রেকর্ড হিসেবে অন্তর্ভুক্ত হয় বিধায় বিচারামলে এর গুরুত্ব অপরিসীম। এই ধারার অধীনে একজন অভিযুক্ত ব্যক্তি তার নিজের অপরাধের লিখিত স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়ে থাকেন একজন ম্যাজিস্ট্রেটের সামনে। ১৬৪(১) ধারায় বলা হয়েছে, যেকোনো মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট অথবা প্রথম শ্রেণির একজন ম্যাজিস্ট্রেট অথবা বিশেষভাবে ক্ষমতাপ্রাপ্ত দ্বিতীয় শ্রেণির একজন ম্যাজিস্ট্রেটের এই জবানবন্দি রেকর্ড করার ক্ষমতা রয়েছে এবং তা বিচার বা তদন্ত শুরু হওযার আগে বা পরে যেকোনো সময় হতে পারে।

এখন ১৬৪ ধারায় স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি রেকর্ড করার আগে যিনি রেকর্ড করবেন, তিনি যে কাজগুলো করেন, সেগুলো হলো:

ক. স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি কোনো পুলিশের সামনে রেকর্ড করা যাবে না, এটা অবশ্যই শুধু ম্যাজিস্ট্রেটের সামনে এবং তার তত্ত্বাবধানে রেকর্ড হবে, এমনকি এ স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি রেকর্ড করার সময় সংশ্লিষ্ট ম্যাজিস্ট্রেটের কক্ষেও কোনো পুলিশ উপস্থিত থাকতে পারবেন না।

খ. ফৌজদারি কার্যবিধির ১৬৪(৩) ধারা মোতাবেক, সংশ্লিষ্ট ম্যাজিস্ট্রেট স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি রেকর্ড করার আগে তিনি অবশ্যই জবানবন্দিদাতাকে এটা পরিষ্কারভাবে ব্যাখ্যা করবেন যে, এই জবানবন্দি দিতে তিনি কোনোভাবেই বাধ্য নন এবং তাকে এ-ও পরিষ্কার করে বলতে হবে যে, যদি এ ধরনের কোনো স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দেন, তাহলে এটা তার বিরুদ্ধেও ব্যবহৃত হতে পারে।

গ. সংশ্লিষ্ট ম্যাজিস্ট্রেট জবানবন্দিদাতাকে প্রশ্ন করার মাধ্যমে ব্যক্তিগতভাবে সন্তুষ্ট হতে হবে যে, এই জবানবন্দিদাতা সম্পূর্ণ স্বেচ্ছায় এবং কোনো প্রকার প্রভাবে প্রভাবিত না হয়ে এই স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়েছেন।

ঘ. ফৌজদারি কার্যবিধির ৩৬৪ ধারায় জবানবন্দি রেকর্ড ও স্বাক্ষর করার যে পদ্ধতি বলা হয়েছে, সে মোতাবেক সংশ্লিষ্ট ম্যাজিস্ট্রেট জবানবন্দিদাতার স্বাক্ষর নেবেন এবং স্বাক্ষর নেওয়ার আগে তিনি কী জবানবন্দি দিয়েছেন, তা তাকে অবশ্যই পড়ে শোনাবেন।

ঙ. এবং সর্বশেষ তিনি স্বীকারোক্তির শেষে সবকিছু উল্লেখ করেন, অর্থাৎ আইন দ্বারা আরোপিত দায়িত্বগুলো তিনি কীভাবে পালন করেছেন এবং তিনি কীভাবে আশ্বস্থ হয়েছেন যে, এই জবানবন্দি স্বেচ্ছাপ্রণোদিতভাবে দেওয়া হয়েছে এবং তিনি জবানবন্দি দেওয়ার ফলাফল সম্পর্কে ব্যক্তিকে অবহিত করেছেন কি-না ইত্যাদি উল্লেখ করে একটি মেমোরেন্ডাম লিখবেন, যেটা স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দির একেবারে শেষে থাকবে এবং ওই মেমোরেন্ডামের নিচে তিনি স্বাক্ষর করবেন।

সবকিছু মিলে ন্যায় বিচার নিশ্চিত করার জন্য তদন্তকারীর রহস্য উদঘাটনের প্রচেষ্টাকে ২/১টি বিচ্ছিন্ন ঘটনা দিয়ে বিচার না করে বরং ১৬৪ ধারা নিয়ে যেন কেউ প্রশ্ন না করতে পারেন, তার জন্য সংশ্লিষ্ট সবাইকে আরও সতর্ক ও মনোযোগী হওয়া প্রয়োজন বলে আমি মনে করি। আর না হলে আদালতে জজ মিয়া নাটক আর নারায়ণগঞ্জের ঘটনাকে নজির হিসেবে উপস্থাপন করে ১৬৪ ধারার জবানবন্দিকে প্রশ্নবিদ্ধ করার চেষ্টা করা হবে। তাই বলছি, বিচ্ছিন্ন ঘটনাগুলো বিচ্ছিন্নই থাক আর সাধারণ মানুষ ন্যায় বিচার পেতে ১৬৪ ধারা জবানবন্দির প্রতি আস্থাশীল থাকুক এটাই আমার প্রত্যাশা।

লেখক: সাংবাদিক ও আইনজীবী

সানশাইন ক্লাস রেকর্ডিং স্টুডিও’র উদ্বোধন

প্রেস বিজ্ঞপ্তি:
আজ ২৯ আগষ্ট শনিবার সকাল ১১ ঘটিকায় সানশাইন অনলাইন ক্লাস রেকর্ডিং স্টুডিও আনুষ্ঠানিকভাবে উদ্বোধন করা হয়। উদ্বোধন করেন উপজেলা নির্বাহী অফিসার স্নিগ্ধা তালুকদার।

করোনাকালীন দূর্যোগময় মূহুর্তে শিক্ষার্থীদের সময়োপযোগী পাঠ দানের লক্ষে সরকারি নির্দেশনায় হবিগঞ্জ জেলার বাহুবল উপজেলার স্বনামধন্য শিক্ষা প্রতিষ্টান সানশাইন মডেল হাই স্কুলে গত ৯ জুন জেলা শিক্ষা কর্মকর্তা মোহাম্মদ রুহুল্লাহ আনুষ্ঠানিক উদ্বোধনের মাধ্যমে অনলাইন ক্লাস শুরু হয়।

নিরবিচ্ছিন্নভাবে সফল অনলাইন ক্লাস পরিচালনায় অনলাইন ক্লাস রেকর্ডিংয়ের সুন্দর পরিবেশ হিসেবে অত্র প্রতিষ্টানের পরিচালক মহোদয় শিক্ষকদের জন্য একটি মানসম্মত রেকর্ডিং স্টুডিও উপহার দেওয়ার সিদ্ধান্ত নেন।

তারই ধারাবাহিকতায় আজ প্রধান অতিথি হিসেবে ভার্চুয়ালী সানশাইন অনলাইন ক্লাস রেকর্ডিং স্টুডিও উদ্বোধন করেন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা জনাব স্নিগ্ধা তালুকদার।

বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্হিত ছিলেন উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তা আসাদুজ্জামান,সানশাইন স্কুলের সভাপতি নিরঞ্জন সাহা নিরু,যুব উন্নয়ন কর্মকর্তা মো.হোসেন শাহ,হবিগঞ্জ জেলা এটুআই এ্যাম্বেসেডর মো.লোকমান খান ও মো.মামুনুর রশীদ প্রমুখ।

অনুষ্টানের সভাপতিত্ব করেন সানশাইন মডেল হাই স্কুলের পরিচালক এম.শামছুদ্দিন।

প্রধান অতিথিসহ উপস্থিত অতিথিগণ বাহুবল উপজেলার একমাত্র অনলাইন প্রতিষ্টান হিসেবে আজকের সানশাইন অনলাইন ক্লাস রেকর্ডিং স্টুডিওর উদ্বোধনী অনুষ্ঠানের প্রশংসা করে বিভিন্ন দিক নির্দেশনামূলক বক্তব্য প্রদান করেন। অনুষ্টানে কোরঅান তেলাওয়াত করেন সহকারি শিক্ষক মোঃ মহিউদ্দিন। গীতা পাঠ কনেন সানশাইনের ছাত্রী শৈলী দেব স্বেতা। অনুষ্টান পরিচালনা কনেন শারমিন অাক্তার মুমি।সহযোগী ছিলেন অাল সায়েম শাকিল।

বদলির ক্ষেত্রে এক অন্যন্য নজির স্থাপন করলেন সুনামগঞ্জের ডিসি!

হাবিব সরোয়ার আজাদ:
গণপ্রশাসনে বদলি একটি নিয়মিত ও স্বাভাবিক চর্চা। নির্দিষ্ট সময় অন্তর অন্তর কর্মস্থল পরিবর্তন সরকারি বিধি বিধান দ্বারা নির্ধারিত।

এ ধরনের একটি স্বাভাবিক বিষয় তখনই আলোচ্য বিষয় হিসাবে গুরুত্ব পায় যখন সেটি ইতিবাচক বা নেতিবাচকভাবে আলোচিত সমালোচিত হয়।

বলা বাহুল্য সুনামগঞ্জ জেলা প্রশাসনের সম্প্রতি একটি বদলি আদেশ সুশীল সমাজ ও সুধীজনের দৃষ্টি আকর্ষণ করেছে। যা প্রশংসনীয় ও অনুকরণযোগ্য উদ্যোগ হিসাবে দেখছে গোট জেলাবাসী।

বিভিন্ন স্থানীয় , আঞ্চলিক ও জাতীয় দৈনিকে সম্প্রতি প্রকাশিত সংবাদ সূত্রের আলোকে জানা যায়, সুনামগঞ্জ জেলা প্রশাসন থেকে সম্প্রতি ১০ জন ভূমি সহকারি কর্মকর্তা ও ১৮ জন ভূমি উপ সহকারি কর্মকর্তাকে বদলি করা হয়েছে।

এ বদলি আদেশ জারি করতে যে প্রক্রিয়া অনুসৃত হয়েছে সেটিই আসলে শুধু মাত্র জেলাবাসীকে নয় গোটা দেশবাসীর সামনে একটি দৃষ্টান্ত বা অনুকরণীয় কাজ হিসাবে প্রশংসার দাবি রাখে।

ওই ২৮ জন সরকারি কর্মচারি সরকারি নীতিমালা অনুসারে বদলিযোগ্য ছিলেন।

কর্তৃপক্ষ যাকে যেমন ইচ্ছা তেমন স্থানে বদলি করতে পারতেন। আবার ওইসব সরকারি কর্মচারী কর্মকর্তার চাহিদা মাফিক নিজের পছন্দেও স্থানে বদলী করতে পারতেন।

বিশেষ করে ভূমি সহকারি বা উপ সহকারি কর্মকর্তাদের বদলির ক্ষেত্রে অতীতে নানা অনৈতিক সুবিধা বিনিময়ের বিস্তর অভিযোগ শোনা যেত।

জনপ্রতিনিধিদের দিয়ে চাঁপ তৈরী,তদবির, ঘুষ বাণিজ্য প্রদান ইত্যাদি অনৈতিক প্রক্রিয়ায় উপরি আয়ের দিক দিয়ে বেশ ভালো আয়ের স্থানে বা তহসিল অফিসে পদায়ন পাওয়ার পুরনো প্রথা চালু ছিল। জেলার শিল্প নগরী ও প্রবাসী অধ্যুষিত ছাতক , প্রবাসী অধ্যুষ্যত জগন্নাথপুর, জেলা সদর, খনিজ, প্রাকৃতিক সম্পদ, বাণিজ্যিক ও সীমান্তজনপদ তাহিরপুর সহ জেলার কোনো কোনো তহসিল অফিসে পদায়ন পেতে নানাবিধ লোভনীয় উপটৌকন, পকেট ভর্তি নয় ব্যাগ ভরে টাকা লেনদেনের গল্প গুজবও শোনা যেতো। আলোচ্য চলমান বদলিটিও সেভাবেই হতে পারত।

কিন্তু হয়নি একজন জেলা প্রশাসকের স্বদিচ্ছা ও স্বচ্ছতা ও নিজ দায়িত্ব কর্তব্যেও গুরুত্ব অনুধাবন করার কারনে।

সুশীল স্বজ্জন জনবান্ধব ব্যক্তিত্ব হিসাবে সুনামগঞ্জর জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ আব্দুল আহাদ ইতোমধ্যে অত্র জেলার সর্বমহলে নিজের স্বতন্ত্র সাদামাটা জীবনের অধিকারী হিসাবে পৃথক একটি ভাবমূর্তি দাড় করাতে পেরেছেন ।

ভূমি কর্মকর্তাদের আলোচিত বদলি আদেশটি তাঁর ওই ভাবমূর্তিকে আরও উজ্জ্বল করেছে।

এই ২৮ ভূমি কর্মকর্তার বদলির ক্ষেত্রে জেলা প্রশাসক গতানুগতিকতা পরিহার করে লটারির ব্যবস্থা করে দিয়েছিলেন। বদলিযোগ্য কর্মচারিরা নিজেরাই লটারির মাধ্যমে নিজেদের বদলিকৃত কর্মস্থল নির্ধারণ করেছেন। এতে কারও ভালো কিংবা অপেক্ষাকৃত কম ভালো কর্মস্থল নির্ধারিত হয়েছে, কিন্তু সবচাইতে যেটি ভাল হয়েছে তা হল, এই পদায়ন নিয়ে কারও কোনো আপত্তি জানাবার সুযোগই থাকলো না।

একই সাথে এ বদলির ক্ষেত্রে কোন জনপ্রতিনিধির চাঁপ, উপটৌকন বিনিময় ,তদবির, প্রভাব, সম্পর্ক, অর্থ ইত্যাদি অসৎ ও অনৈতিক সংযোগের কোন সেতুবন্ধন ছিলো না।

সম্পূর্ণ স্বচ্ছতা ও নিরপেক্ষতা বজায় রেখে এই বদলি আদেশ জারি করা হয়েছে। এ হেন একটি অনুকরনীয় ও দৃষ্টান্ত স্থাপনকারী কাজ করার জন্য সুনামগঞ্জ জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ আব্দুল আহাদকে জেলার সর্বমহল সাধুবাদ জানিয়েছেন। তার এ কাজ দেশের অন্যান্য জেলার নিকট অনুকরণীয় কাজ হিসাবে গ্রহনযোগ্য হতে পারে বলে জেলার সুশীল সমাজ আস্থা করেন।

সরকারী নানা অধিক্ষেত্রে বড় বড় দুর্নীতি ও অব্যবস্থাপনার খবর দেশের প্রিন্ট, ইলেকট্রনিক্স, অনলাইন মিডিয়ার নানা সময়ে ফলাও করে প্রচার হয়।
সরকারি পর্যায়ে থাকা প্রশাসনযন্ত্র বা বিভিন্ন দফতর নিয়ে দেশের সাধারণ মানুষের মনোভাব আজো স্বস্থিকর কিংবা সুখকর নয়। বরং জনমনে সরকারি বেসরকারী প্রশাসন, দফতর নিয়ে সন্দেহ, ভয় ও অন্যায্যতার চিন্তা শঙ্কা কাজ করে।

এইরকম বাস্তবতায় সরকার জনপ্রশাসনকে গণমুখী করতে নানামুখী প্রক্রিয়া শুরু করেছেন। সরকারি প্রশাসনে শুদ্ধাচার, উদ্ভাবন, সমানাভূতি, প্রাযুক্তিক উৎকর্ষতা, ইত্যাকার বিভিন্ন আধুনিক ধ্যান ধারণার প্রয়োগ ঘটানো হয়েছে। কিছু কিছু কর্মকর্তা যে সরকারি এই উদ্যোগগুলোকে নিছক খেতাবি পরিভাষা না ভেবে অন্তরে আত্বায় ধারণ করে রেখেছেন সুনামগঞ্জ জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ আব্দুল আহাদ আরও একাধিক দাফতরিক কর্মকান্ডের সাথে এই বদলি আদেশ জারির মাধ্যমে তার উজ্জল এক দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছেন।
আমরা চাইব এই অভিনব প্রক্রিয়ার অন্তর্নিহিত সদ্ভাবনাটি দেশের সর্বত্র অনুকরনীয় হোক।

বিশেষ করে যে সব সরকারী দফতর সমুহে সেবা ও উন্নয়ন কর্মকান্ড বাস্তবায়ন করা হয় সেইসব দফতরে এ ধরনের চর্চার প্রসার প্রয়োগ ঘটুক।

তাহলে জনপ্রশাসন সত্যিকার অর্থে জনমুখী চরিত্র ধারণ করে শুভ্র সমুজ্জ্বল হয়ে দেশের সাধারন নাগরিকগণের নিকট আস্থা অর্জনে সক্ষম হবে, থাকবেনা জনমনে কোন রকম শঙ্কা, টাকা খরচ কওে বধলী হয়ে টাকা কামানোর মেশিনে রুপন্তিরিত হওয়ার চিন্তা চেতনা থেকেও বেড়িয়ে আসবেন অনেক সরকারী কর্মচারী-কর্মকর্তা।

সবশেষে ছোট্ট একটি কথা।
লটারি একটি যান্ত্রিক ও ভাগ্যনির্ভর প্রক্রিয়া। এতে কর্মস্থলের জন্য উপযুক্ত লোক নির্বাচন নাও হতে পারে। তবে আর সব প্রক্রিয়া যখন প্রশ্নবিদ্ধ ও নিষ্কলুষ রাখা কঠিন তখন লটারিই উত্তম। একসময় হয়তো উপযুক্ততা ও ন্যায্যতা বিবেচনা করে পদায়ন করার পরিবেশ তৈরি হবে।

সুনামগঞ্জ জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ আব্দুল আহাদের নিজস্ব উদ্যোগে বদলীর ক্ষেত্রে নিজের পছন্দের জায়গার পরিবর্তে লটারি উদ্যোগটি সেই পথকেই প্রসারিত করেছে।

লেখক:
হাবিব সরোয়ার আজাদ, দৈনিক যুগান্তর, স্টাফ রিপোর্টার।

প্রতিভার অপমৃত্যু

মোঃ মনিরুজ্জামান: তুখোড় মেধাবী ছাত্র নীরব। হেডস্যার শিক্ষক মিলনায়তনে শিক্ষকদেরকে নীরবের প্রতি আলাদা দৃষ্টি দিয়ে পড়ানোর জন্য অনুরোধ করেন। বিশেষ করে অংক, ইংরেজি ও বিজ্ঞানের শিক্ষকদের প্রতি তিনি এই বিশেষ অনুরোধ করলেন। নীরব প্রতিটি পরীক্ষায় তার মেধার দ্যুতি ছড়িয়ে সকল বিষয়ে সর্বোচ্চ নম্বর পেয়ে প্রথম হতে লাগলো। স্কুলের শিক্ষকগণ ও ছাত্র/ছাত্রীর কাছে নীরব দ্রুতই প্রিয়ভাজন হয়ে উঠলো। সে সময়ে স্কুলে কোনো শিক্ষয়িত্রী ছিলো না।

নীরব ৬ষ্ট শ্রেণি থেকে গণিতে পূর্ণ ১০০ নম্বর এবং অন্যান্য বিষয়ে ৯০ এর উপরে নম্বর পেয়ে প্রথম স্থান অধিকার করে ৭ম শ্রেণিতে উত্তীর্ণ হয়। তার এই সফলতার পিছনে স্কুলের প্রধান শিক্ষক ও অন্যান্য শিক্ষকদের অবদান ছিল খুবই গুরুত্বপূর্ণ। এছাড়াও পরিবার থেকে নীরবের সেজো ভাই সরণের ভূমিকা ভিন্ন মাত্রায় অবদান রেখেছিল। তিনি সকাল-সন্ধ্যায় নীরবকে নিয়মিত পড়াতেন, লেখাতেন এবং প্রয়োজনীয় বিষয়সমূহ যথাযথভাবে বুঝিয়ে দিতেন। তার ভূমিকা শুধু লেখা-পড়া শেখানোর মধ্যেই সীমাবদ্ধ ছিলো না, তিনি নীরবকে শাসন-বারণ, জীবন দর্শন ইত্যাদি জীবন-সংশ্লিষ্ট সকল বিষয়েই গাইড করতেন। সেজো ভাই তার ভূমিকার কারণেই ছিলেন নীরবের জীবনাদর্শ।

টানা-পোড়েনের সংসারে নুন আনতে পান্তা শেষ হয়, শেষে নুন ছাড়াই পান্তা খেতে হয়। সে পান্তা যে কত স্বাদের তা যারা খাইনি তারা তা আঁচও করতে পারবে না। নুন ছাড়াই পান্তা খাবার খেয়ে নীরবদের পরিবারের সদস্যরা নীরবের জন্য সর্বোচ্চ ত্যাগ করতে থাকে। তাদের সকলেরই আশা- নীরব একদিন অনেক বড় হবে, তখন সংসারের দুঃখ ঘুচবে, আজকের এই কষ্টের কথা তখন আর মনে থাকবে না।

নীরবের সেজো ভাই কলেজে দু’বছর যেতে না যেতেই বিমান বাহিনীতে চাকরি পান। তিনি চাকরিতে যোগদান করেন। সেজো ভাইয়ের অনুপস্থিতিতে নীরব এক গভীর সংকটে পড়ে, সংকটে পড়ে তাদের পরিবার। নীরবের ছোট দুই বোন ময়না আর অহনাও বেশ মেধাবী। নীরবের মেধাই তাদের এ অনুপ্রেরণার পিছনে অনেকটা ভূমিকা রেখেছে। নীরবের ছোট দুই ভাই মাঝারি ধরনের মেধাবী। সেজো ভাই-ই এদের সকলের পড়াশুনার দেখভাল করতো। মাঠে সামান্য পৈত্রিক জমিতে চাষাবাদ হতো, মেজো ভাই রহম চাষাবাদ করতো ও মাঠ দেখাশোনা করতো। তাকেও পরামর্শও দিয়ে সহযোগিতা করতো সেজো ভাই সরন।

সেজো ভাইয়ের অনুপস্থিতিজনিত সংকট কাটিয়ে ওঠার জন্য সংগত কারণে নীরবকেও ভূমিকা রাখতে হলো। সে ছাড়া এমন কেউ নেইও যে এ ভূমিকা রাখতে পারে। যদিও মেজো ভাই রহম ছিলো কিন্তু তার অক্ষরজ্ঞান না থাকায় লেখাপড়া সংক্রান্ত ব্যাপারে তার ভূমিকা রাখা সম্ভব ছিল না। বড় ভাই আরব অভাবের সংসারের অভাব ঘোঁচতে টাকা রোজগারের প্রত্যাশা নিয়ে একদিন ঢাকায় যাচ্ছে বলে সেই যে ঢাকায় গিয়েছে আর ফিরে আসেনি। সেটা ছিল মুক্তিযুদ্ধের পরের বছরের ঘটনা। বছর দুই পরে নীরবদের গ্রামের আনিসুল ঢাকা থেকে গ্রামে এসে নীরবের মাকে গোপনে বলেছিল, ‘আরব ভাইকে ঢাকায় বাসের হেলপারের কাজ করতে দেখেছি।’

নীরবের মা একটা দীর্ঘনিঃশ্বাস ফেলে বলে,”যে সংসারের বড় ছেলে বট গাছ হতে পারে না, সে সংসারের পতন আসে তাড়াতাড়ি।”
সংসার চালাতে সাহায্য করা এবং ছোট ভাই-বোনদের লেখাপড়ায় সাহায্য করতে গিয়ে নীরব তার লেখাপড়ার গতিতে সমত্বরণ রক্ষা করতে ব্যর্থ হয়। যদিও নীরব লেখাপড়ায় অসম্ভব মেধাবী। ঐ বয়সেই তার মধ্যে প্রতিভার আলোকছটা দেখা যাচ্ছিল। তার গ্রাম, আশেপাশের গ্রামের অনেক কিশোরী, তার ক্লাসের একাধিক ছাত্রী নীরবের সাথে একটু আগবাড়িয়ে কথা বলতে মুখিয়ে থাকে। বয়সের স্বাভাবিক লজ্জা, অজানা শিহরণ, আশঙ্কামিশ্রিত দুষ্টুমি নীরবের মাথায় ঘুরপাক খায়। সেজো ভাই না থাকাতে শাসন-নিয়ন্ত্রণ কমে যাওয়ায় নিজের মধ্যে একটা স্বাধীন স্বাধীন ভাব জেগে উঠতে থাকে।

জীবনের লক্ষ্য স্থির করা এবং মেধার সাথে অধ্যবসায়ের সমন্বয় সাধন করতে না পারলে, জীবন মাঝিবিহীন নৌকার পরিণতি পায়। নীরবকেও এ সত্য গ্রাস করতে থাকে। বার্ষিক পরীক্ষায় আগের থেকে অপেক্ষাকৃত কম নম্বর পেয়ে সে দ্বিতীয় স্থান অর্জনকারী বিকাশের থেকে মাত্র ১৮ নম্বর বেশি পেয়ে প্রথম স্থান অধিকার করে ৮ম শ্রেণিতে উত্তীর্ণ হয়।

চলবে…

লেখক: পুলিশ পরিদর্শক, পিবিআই,নরসিংদী জেলা।

করোনা: ৩ অক্টোবর পর্যন্ত বন্ধ থাকবে প্রাথমিক শিক্ষা প্রতিষ্ঠান

করাঙ্গীনিউজ: করোনাভাইরাসের কারণে দেশের সব প্রাথমিক শিক্ষা প্রতিষ্ঠান বন্ধের মেয়াদ আগামী ৩ অক্টোবর পর্যন্ত বাড়ানো হয়েছে।

প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়ের জ্যেষ্ঠ সচিব আকরাম-আল-হোসেন দৈনিক যুগান্তরকে এমন তথ্য নিশ্চিত করেছেন।

তিনি বলেন, বিশ্বব্যাপী মহামারী করোনার কারণে কওমি মাদ্রাসা ছাড়া দেশের সব শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের চলমান ছুটি আগামী ৩ অক্টোবর পর্যন্ত বৃদ্ধি করা হয়েছে।

আগের ঘোষণা অনুযায়ী, এই ছুটির মেয়াদ ছিল ৩১ আগস্ট পর্যন্ত। সেই মেয়াদ শেষ হওয়ার আগেই ছুটি বাড়ানোর ঘোষণা দেয়া হলো।

গত কয়েক দিন ধরেই সরকারের পক্ষ থেকে বলা হচ্ছিল, দেশে করোনা সংক্রমণের বিদ্যমান পরিস্থিতিতে আগামী সেপ্টেম্বরেও শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান খোলার মতো পরিবেশ সৃষ্টি হয়নি।

করোনার কারণে গত ১৭ মার্চ থেকে দেশের শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে বন্ধ রয়েছে।

দেশে করোনা প্রাদুর্ভাব বাড়তে থাকায় গত ১৭ মার্চ সব ধরনের শিক্ষা প্রতিষ্ঠান বন্ধ ঘোষণা করা হয়। ২৬ মার্চ থেকে সারা দেশে সব অফিস-আদালত আর যানবাহন চলাচল বন্ধ রাখা শুরু হয়।

টানা ৬৬ দিন সাধারণ ছুটির পর ৩১ মে থেকে সীমিত পরিসরে অফিস খুলে যানবাহন চলাচল শুরু হলেও শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলো বন্ধই থাকে।

১ এপ্রিল থেকে নির্ধারিত এইচএসসি ও সমমানের পরীক্ষাও মহামারীর কারণে স্থগিত হয়ে আছে। এবারের প্রাথমিক ও ইবতেদায়ী সমাপনী পরীক্ষাও নেবে না সরকার।

প্রতিভার অপমৃত্যু

মোঃ মনিরুজ্জামান: বছরের শুরুতেই হাইস্কুল গুলো ৬নং ক্লাসে ছাত্র ভর্তির জন্য ব্যাকুল হয়ে পড়তো। গ্রামের স্কুলগুলো পার্শ্ববর্তী অন্য স্কুলের সাথে একটা মনোদ্বান্দ্বিক অসুস্থ প্রতিযোগিতায় লিপ্ত হতো। প্রধান শিক্ষকের নির্দেশে বিভিন্ন শিক্ষকগন, কখনো তিনি নিজে এলাকার ৫নং ক্লাস পাশ করা ছাত্র-ছাত্রীর বাড়ীতে গিয়ে অভিভাবকদের বুঝিয়ে ছাত্র কিংবা ছাত্রীটিকে তার বা তাদের স্কুলে ভর্তি করানোর জন্য রাজী করাতেন।

এই কাজে তারা আত্মীয়তার সূত্র, ভাল সম্পর্কের সূত্র, ভাল রেজাল্ট করানোর প্রতিশ্রুতি, বিনা বেতন বা হাফ বেতনে পড়ার সুযোগ করে দেবার প্রতিশ্রুতি দিতেন।
ছাত্রী হলে বেশিরভাগ ক্ষেত্রেই শিক্ষকদের সকল প্রচেষ্টা ভেস্তে যেতো। কারন, সংশ্লিষ্ট অভিভাবক তার মেয়েকে ঐ বয়সে পাত্রস্থ করে ঘাড় থেকে বোঝা নামিয়ে যেন হাফ ছেড়ে বাঁচতেন। তারা বলতেন, মেয়ের পড়িয়ে কি আর হবে- ‘সেইতো চুলার ছাই ফেলা আর রান্না বান্না করে সংসার করা। তা আমার মেয়ে সব পারে- বলে তৃপ্তির ঢেকুর তুলে এক খিলি পান খাইয়ে শিক্ষকদেরকে সস্মানের সাথে বিদায় দিতেন।’

নিরবদের বাড়িতেও আশেপাশের দুটি স্কুল থেকে প্রধান শিক্ষকসহ অন্যান্য শিক্ষকরাও এসেছিলেন। এক স্কুল থেকে তো ম্যানেজিং কমিটির লোকও এসেছিল। সকলেই বিভিন্ন সূত্র ধরে নিরবের মা ও বাবাকে বুঝানোর চেষ্টা করেন। নিরবের বাবা এসব কানে নেয় না। সে ধর্মীয় গোঁড়ামির মানুষ। নামাজ কালাম আর পীর মুর্শিদ নিয়ে পড়ে থাকে। পার্থিব বিষয় তার কানে বাজে না। তাই নিরবের মাকেই সকলে বুঝাতে চেষ্টা করেন।

নিরবের মা কাউকেই কথা দেয় না, শুধু এই বলেই বিদায় দেয়- ছেলে তো আপনাদেরই। ভালমন্দ মানুষ আপনারাই করে দিবেন। আমার বাপু খরচ দিয়ে পড়ানোর সামর্থ্য নেই।

সেদিন রাতে কুপির আলোতে খেতে বসে নিরবের মা, নিরবের মেঝে ভাই আর সেজে ভাইয়ের সাথে কুপি বাতির আলোর মতই অনুজ্জ্বল আলোচনায় সিদ্ধান্ত নেয়- বাড়ির কাছে যে হাই স্কুল সেখানেই নিরবকে ভর্তি করাবে।

পরদিন সকালে নিরবের ছোট দুই বোন ময়না আর অহনা না খেয়েই গ্রামের প্রাইমারী স্কুলে গেল। ছোট দু’ভাই তারুন্য আর অরোন্য দু’খানা শুকনো রুটি খেয়ে স্কুলে গেল। তারা সকলেই পড়াশুনায় অনেক মেধাবী বটে। গ্রামের লোকেরা বলাবলি করতো- এ যেন গোবরে পদ্মফুল!

নিরব তার সেজো ভাই সরনের সাথে হাই স্কুলে গেল। প্রধান শিক্ষকের রুমে ঢুকলে তিনি অনেক আন্তরিকতার সাথে তাদের বসতে বলেন। নিরব দাড়িয়েই থাকে। তার ভাই প্রধান শিক্ষকের সামনে বসে বিনীতভাবে জানায়- তার ভাই এই স্কুলে ভর্তি হবে কিন্তু আপাততঃ তাদের কাছে কোন টাকা নেই। প্রধান শিক্ষক ক্রিং ক্রিং বেলে দু’চড় মারতেই আওয়াজে পিয়ন এসে হাজির। স্যার-
অফিস করনিক স্যারকে ডাকো।

জি স্যার।
তোহা স্যার আসলেন-স্যার, আসসালামু আলাইকুম।
ওলাইকুম আসসালাম। নিরবকে দেখিয়ে হেড স্যার বললেন, ‘ওকে চিনেন?
তোহা স্যারের জবাব, না স্যার।
ওর নাম নিরব।
স্যার চিনেছি। ও এবার প্রাথমিক বৃত্তি পরীক্ষায় মহাকুমায় ফার্স্ট হয়েছে।

ওকে নিয়ে যান, ৬ষ্ঠ শ্রেণিতে ভর্তি করান। টাকা নিবেন না। আমার নামে লিখবেন।

‘জি স্যার’-বলে তোহা স্যার নিরবকে বললেন, বাবা আমার সাথে এসো।

এতক্ষনে স্কুলে জানাজানি হয়ে গেছে, হৃদয়ডাঙ্গা গ্রামের মেধাবী ছাত্র নিরব ভর্তি হতে এসেছে। অনেক ছাত্র ছাত্রী উঁকি দিয়ে নিরবকে এক নজর দেখে তৃপ্ত হয়।

নিরব ভর্তি হয়, কিন্তু ঐদিন ক্লাস না করে তার ভাইয়ের সাথে বাড়ি চলে যায়।

চলবে….
লেখক:
পুলিশ পরিদর্শক
পিবিআই, নরসিংদী জেলা।

এবার উপবৃত্তি থাকবে, বৃত্তি থাকবে না

করাঙ্গীনিউজ: প্রতি বছর পঞ্চম শ্রেণি উত্তীর্ণ শিক্ষার্থীদের মেধাবৃত্তি দেওয়া হলেও এবার এই পরীক্ষা না নেয়ায় সেই বৃত্তি দেবে না সরকার। তবে প্রাথমিকের সব শিক্ষার্থীর জন্য উপবৃত্তি কার্যক্রম আগের মতোই চলবে।

প্রাথমিক ও গণশিক্ষা প্রতিমন্ত্রী জাকির হোসেন সাংবাদিকদের এ তথ্য জানান।

করোনাভাইরাস মহামারীর মধ্যে শিক্ষা প্রতিষ্ঠান বন্ধ থাকায় এবারের প্রাথমিক সমাপনী পরীক্ষা না নেওয়ার সিদ্ধান্ত মঙ্গলবার জানান প্রতিমন্ত্রী।

এ সময় সাংবাদিকদের প্রশ্নে তিনি বলেন, ‘বার্ষিক পরীক্ষা নিয়ে শিক্ষার্থীদের পঞ্চম থেকে ষষ্ঠ শ্রেণিতে ওঠানো হবে। উপবৃত্তি থাকবে। বৃত্তিটা থাকবে না।’

প্রাথমিক ও গণশিক্ষা সচিব আকরাম-আল-হোসেন বলেন, ‘সমাপনী পরীক্ষার ভিত্তিতে যে বৃত্তি দেওয়া হয় সেটা এ বছর দেওয়া সম্ভব হবে না। প্রাথমিক সমাপনী পরীক্ষা এবার হচ্ছে না।’

প্রাথমিক সমাপনী পরীক্ষার ফলাফলের ভিত্তিতে ৮২ হাজার ৫০০ জন শিক্ষার্থীকে বৃত্তি দেওয়া হয়। এরমধ্যে ৩৩ হাজার জনকে ট্যালেন্টপুলে এবং ৪৯ হাজার ৫০০ জনকে সাধারণ বৃত্তি দেওয়া হয়।

ট্যালেন্টপুলে বৃত্তিপ্রাপ্তদের মাসে ৩০০ টাকা এবং সাধারণ বৃত্তিপ্রাপ্তদের মাসে ২২৫ টাকা করে দেওয়া হয়। ষষ্ঠ থেকে অষ্টম শ্রেণি পর্যন্ত তিন বছর বৃত্তিপ্রাপ্ত শিক্ষার্থীরা বৃত্তির টাকা পায়।

অর্থাৎ এবার প্রাথমিক সমাপনী পরীক্ষার ফলাফলের ভিত্তিতে আগামী ৩ বছরে সরকারের প্রায় ৮০ কোটি টাকা খরচ হওয়ার কথা ছিল।

আগে পঞ্চম শ্রেণির শিক্ষার্থীদের বৃত্তি দেওয়ার জন্য আলাদা পরীক্ষা নেওয়া হলেও ২০১০ সালে ক্ষুদে শিক্ষার্থীদের সমাপনী পরীক্ষা চালুর পর এই পরীক্ষায় উত্তীর্ণদের মধ্য থেকে উপজেলাভিত্তিক মেধাবৃত্তি দেওয়া হচ্ছে।

প্রসঙ্গত, প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রাক-প্রাথমিক শ্রেণির একজন শিক্ষার্থীকে মাসে ৭৫ টাকা এবং প্রথম থেকে পঞ্চম শ্রেণির শিক্ষার্থীদের মাসে ১৫০ টাকা করে উপবৃত্তি দেওয়া হয়।

এছাড়া যেসব প্রাথমিক বিদ্যালয়ে অষ্টম শ্রেণি খোলা হয়েছে সেসব বিদ্যালয়ের ষষ্ঠ থেকে অষ্টম শ্রেণির শিক্ষার্থীদের মাসে ২০০ টাকা করে উপবৃত্তি দেওয়া হচ্ছে। এই উপবৃত্তি শিক্ষার্থীরা আগের মতোই পাবে।

স্থানীয় নির্বাচনে দলীয় প্রতীক চাই না

শাহ ফখরুজ্জামান: দলীয় প্রতীকে স্থানীয় নির্বাচনের ধারণা আমাদের নতুন অভিজ্ঞতা। বেশি দিন হয়নি এই চর্চা। এরমধ্যেই রেকর্ড খারাপ এ পদ্ধতির। এখন পর্যন্ত এই চর্চা আমাদের সুখকর কোনো অনুভূতি দেয়নি। বরং রাজনীতির আদর্শহীনতা, কোটারি স্বার্থ আর ইজমের বিষয়টি সামনে নিয়ে এসেছে চরমভাবে। এক ধরনের প্রশ্নবিদ্ধ করেছে রাজনীতিকে। অবজ্ঞা আর অবহেলার মুখে ফেলে দিয়েছে রাজনীতিবিদদের নীতি-আদর্শকে। এমনকি বাড়িয়ে দিয়েছে অভ্যন্তরীণ কোন্দলও।

বাংলাদেশের স্থানীয় নির্বাচনে দলীয় প্রতীক ব্যবহার নতুন হলেও বহু দেশে এই সংস্কৃতি পুরোনো। ভারত, যুক্তরাজ্যসহ বিভিন্ন দেশেও স্থানীয় সরকার নির্বাচন দলীয়ভাবে। পশ্চিমবঙ্গে পুর নির্বাচন হয়েছে স্ব স্ব দলের প্রতীকে। দলীয় প্রতীকে নির্বাচনের ঐতিহাসিক প্রেক্ষাপট ঔপনিবেশিক ও নয়া ঔপনিবেশিক শাসনব্যবস্থা সর্বদা রাজনীতি-বিযুক্ত নির্বাচন ব্যবস্থা চেয়েছে ও চায়। আমাদের গণতান্ত্রিক দীক্ষা ও উত্তরাধিকার যেখান থেকে পেয়েছি, সেই যুক্তরাজ্যেও কিন্তু দলীয় ভিত্তিতে স্থানীয় নির্বাচন হয়। প্রতিবেশী ভারতেও দীর্ঘদিন ধরে স্থানীয় নির্বাচনে দলীয় প্রার্থী হওয়ার সংস্কৃতি বিদ্যমান। এ প্রেক্ষাপটেই হয়তা বাংলাদেশে স্থানীয় সরকার নির্বাচনে দলীয় প্রতীক চালু হয়। কিন্তু আমাদের মধ্যে যে এখনও এটি মেনে নেওয়ার মতো প্রস্তুতি নেই, তা বিগত কয়েকটি নির্বাচনে প্রমাণিত হয়েছে। আমরা এই ধারায় অভ্যস্থ নই এবং চর্চা করারও আগ্রহ নেই। তাই বর্তমানে এটি পরিবর্তনের কথাও চলছে।

রাজনীতি নিয়ে সুযোগ পেলেই এক শ্রেণির মানুষ নেতিবাচক কথা বলে। কিন্তু রাজনীতি এবং গণতন্ত্রের মধ্যেই একটি দেশ এবং সমাজের পরিবর্তন নির্ভরশীল। রাজনীতিতে শেষ কথা বলে কিছু নেই বলে যে টার্মটি ব্যবহার করা হয়, সেটিও একটি নেতিবাচক ধারণা থেকে। এ কথার মানে একজন রাজনীতিবিদ তার সিদ্ধান্ত এবং নীতি আদর্শ যেকোনো সময় পরিবর্তন করতে পারেন। যারা সারাজীবন শুদ্ধ রাজনীতি চর্চা করেন, তাদের কাছে রাজনীতি নিয়ে এ ধরনের অবহেলা পীড়াদায়ক। অথচ স্থানীয় সরকার নির্বাচনে দলীয় প্রতীক দেওয়ার পর রাজনীতিবিদদের নীতি-আদর্শ আরও বড় ধরনের প্রশ্নবিদ্ধ হয়েছে।

রাজনীতিতে যারাই নেতা হন, তারা চেষ্টা করেন ইজম তৈরি করার জন্য। যোগ্য ও ত্যাগী লোককে স্থান না দিয়ে নিজের আস্থাভাজন লোকজনকে বড় বড় পদে আনেন। শুধু তা-ই নয়, নিজের আত্মীয়-স্বজনকেও নিয়ে আসেন সামনে। এতে যারা শুদ্ধ রাজনীতি চর্চা করেন, তারা উৎসাহ হারিয়ে ফেলেন। এছাড়া স্থানীয় সরকার নির্বাচনে দলীয় প্রতীক দেওয়ার পর মনোনয়ন পেতে তৃণমূলের নেতার সমর্থন প্রয়োজন হয়। ফলে এখন সেই পদে নিজের লোক বসানোর কাজ চলে। আবার যারা দলীয় প্রতীক পান না, তারা দলের সিদ্ধান্তের বাইরে গিয়ে বিদ্রোহী স্বতন্ত্র প্রার্থী হন। তাদেরও কেন্দ্র এজেন্ট এবং কর্মীর জন্য তারা যে ইউনিটের নেতা, সেই ইউনিটে নিজের আস্থাভাজন লোককে বসাবেন।

বাংলাদেশের রাজনীতির ইতিহাস পর্যালোচনা করলে দেখা যাবে, ছাত্ররাজনীতির মাধ্যমেই একজন নেতার সৃষ্টি হয়। একসময় ছাত্রনেতারা অনেক ত্যাগ এবং সাধনার মাধ্যমে কর্মী সৃষ্টি করতেন। তারা এই কর্মীদের দলের নীতি ও আদর্শের প্রশিক্ষণ দিয়ে বড় নেতা হিসেবে গড়ে তুলতেন। পরবর্তীকালে এখান থেকেই হতেন জনপ্রতিনিধি।

কিন্তু এই ধারার পরিবর্তন হয়েছে। এখন আর কেউ আদর্শ দেখে এবং নেতাদের মমতাময় আহবানে সাড়া দিয়ে দল করতে আসেন না। এখন যারা দল করতে আসেন, তাদের কাছে ব্যক্তিগত ফায়দা গুরুত্বপূর্ণ। গোষ্ঠী অথবা ব্যক্তি স্বার্থ চরিতার্থ করার জন্যই অনেকে এখন রাজনীতিতে আসেন। ফলে রাজনীতির ভিত্তি দিনে দিনে আরও দুর্বল হচ্ছে।

যে যে দলই করুক না কেন রাজনীতি একটি নিয়ম শৃঙ্খলার মধ্য দিয়েই করতে হয়। এই নিয়ম শৃঙ্খলার মধ্যে অবশ্যই করণীয় বিষয় দলের সিদ্ধান্ত মেনে চলা। দলীয় প্রতীককে সম্মান দেখানো এবং সেই প্রতীকে ভোট দেওয়া এবং ভোট চাওয়া। পাশাপাশি দলের নেতার প্রতি পূর্ণ আনুগত্য থাকা। কিন্তু স্থানীয় সরকার নির্বাচনে দলীয় প্রতীক আসার পর দেখা গেলো নেতাকর্মীরা আর কেউই এই ধারার মধ্যে নেই।

যেকোনো নির্বাচনে একজন নেতা দলীয় মনোনয়ন পান। এক্ষেত্রে ওই নেতাকে যারা পছন্দ করেন না, অথবা তাকে দিয়ে নিজেদের স্বার্থ হানীর আশঙ্কা থাকে, তখন তারা আর দলীয় মনোনয়ন পাওয়া নেতার পাশে থাকেন না। অনেকেই নিষ্ক্রিয় হয়ে যান। অনেকেই আবার দলীয় প্রার্থীকে ফেল করানোর জন্য প্রতিদ্বন্ধী প্রার্থীকে প্রকাশ্যে অথবা গোপনে সমর্থন করেন। এছাড়াও অনেকে মনোনয়ন বঞ্চিত হয়ে হয়ে যান স্বতন্ত্র প্রার্থী।

ওই স্বতন্ত্র প্রার্থীরা আবার থাকেন রাজনৈতিক দলের কোনো ইউনিট বা সহযোগী সংগঠনের প্রধান নেতা। তখন ওই বিদ্রোহী প্রার্থীরা তারা যে ইউনিট বা সহযোগী সংগঠনের নেতা, সেখানের নেতাকর্মীদের বাধ্য করেন দলীয় প্রার্থী ছেড়ে তার পক্ষে কাজ করার জন্য। নেতাকর্মীরাও থাকেন মানসিকভাবে দুর্বল। কারণ নেতাকে অনেক অনুনয় করে পদ পেয়েছিলেন তারা! শুধু তা-ই নয়, ভবিষ্যতে আরও বড় পদ পেতে হলে ওই নেতার আর্শীবাদই প্রয়োজন। তাই দলীয় প্রধানের সিদ্ধান্তে দলীয় প্রতীক বাদ দিয়ে ইউনিটের নেতাকে তোষণে ব্যস্থ থাকেন তারা।

এতে রাজনীতির গুণগত মান কতটা নিচে নামছে, তা কী কেউ ভেবে দেখেছেন। এই পদ্ধতিতে দলের চেয়ে ব্যক্তি বড় হয়ে যাচ্ছে কিন্তু। আবার নেতাকর্মীরা যে দল এবং আদর্শ দেখে রাজনীতিতে আসেন না, তারও একটি জ্বলন্ত প্রমাণ এটা। একইসঙ্গে দলীয় প্রতীকের বিরুদ্ধে যাওয়া নেতাকর্মীরা যখন রাজপথে ভোট চান, তখন সাধারণ মানুষ মনে মনে হাসেন। রাজনৈতিক নেতা এবং দলকে তারা খাটো করে দেখার সুযোগ পান।

যদি এখন স্থানীয় সরকার থেকে দলীয় প্রতীক বাদ না দেওয়া যায়, তাহলে ভবিষ্যতে যখন দলের বিভিন্ন কমিটি হবে, তখন নেতারা দলের উন্নতি চিন্তা না করে যোগ্য লোককে পদ না দিয়ে নিজের আজ্ঞাবহ এবং ঘনিষ্ঠদের দিয়ে পদ পূরণ করবেন। এতে করে দুর্বল হবে দল। রাজনীতির গুণগত মান আরও কমবে। পাশাপাশি নব্য ঔপনিবেশিকদের স্বার্থ উদ্ধার হবে। তাই এখনই সময় এ ব্যাপারে যথাযথ সিদ্ধান্ত নেওয়ার। না হলে দেশের রাজনীতি দেউলিয়াপনা হয়ে যাবে।

লেখক: সাংবাদিক ও আইনজীবী
২৪/০৮/২০২০

হবিগঞ্জে শিক্ষক কর্মচারীদের হয়রানির অভিযোগ

নিজস্ব প্রতিনিধি, হবিগঞ্জ: হবিগঞ্জে এমপিওভুক্তির ফাইল নিয়ে চরম ভোগান্তিতে আছেন বিভিন্ন বেসরকারি মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষক-কর্মচারীরা। কারণ ছাড়াই অনেকের ফাইল আটকে দেয়ার অভিযোগ উঠেছে জেলা শিক্ষা অফিসারের বিরুদ্ধে। এ অবস্থায় অফিসে হট্টগোল করেছেন শিক্ষকরা।

তবে শিক্ষা কর্মকর্তা বলছেন, বিধিবহির্ভূত আবেদন হওয়ায় তা আটকে দেয়া হয়েছে।

শিক্ষকরা জানান, করোনাকালীন দুর্যোগ মুহূর্তে নতুন এমপিওভুক্ত মাধ্যমিক শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের শিক্ষক কর্মচারীদের বেতন দেয়ার জন্য গত রমজান মাসে অনলাইনে আবেদন চায় মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা অধিদফতর। এ সময় আবেদনকারীর থেকে সুবিধা নিয়েছেন জেলা শিক্ষা অফিসার (ভারপ্রাপ্ত) মোহাম্মদ রুহুল্লাহ।

অনেকের অভিযোগ, সুবিধা না পেয়ে তাদের ফাইল বাতিল করেছেন। এমনকি কিছু শিক্ষকের কাছ থেকে সুবিধা নিয়েও ফাইল বাতিল করা হয়েছে। গত জুন মাসে বঞ্চিত শিক্ষক-কর্মচারীরা দ্বিতীয়বার আবেদনের সুযোগ পেলে এ সময়ও একই আচরণ করা হয়। চলতি মাসে আবারও তারা আবেদনের সুযোগ পান।

জেলার বিভিন্ন স্কুল থেকে নতুন এমপিও ও উচ্চতর গ্রেড মিলে প্রায় ২০০ শিক্ষক কর্মচারী অনলাইনে আবেদন করেন। অনলাইনের প্রাপ্ত আবেদনগুলো যাচাই-বাছাই শেষে অগ্রায়ন করেন বিভিন্ন উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা অফিসার। গত ২১ আগস্ট জেলা শিক্ষা অফিস থেকে আবেদন অগ্রায়ন করার শেষ দিন ছিল।

ওই দিন বিকালে আবেদনকারী শিক্ষক কর্মচারীরা জানতে পারেন তাদের অনেকের ফাইল বাতিল হয়েছে। কোনো কোনো শিক্ষক তাদের ফাইল বাতিলের কারণ জানতে চাইলে তারা কোনো সদুত্তর পাননি। পরে শিক্ষকরা জানতে পারেন ফাইল বাতিলের কোনো কারণ উল্লেখ নেই।

সন্ধ্যায় আবারও শিক্ষক-কর্মচারীরা জড়ো হন জেলা শিক্ষা ভবনে। সেখানে ফাইল বাতিলের সঠিক কারণ তাদের জানানো হয়। এ সময় শিক্ষকের মাঝে উত্তেজনা দেখা দিলে হট্টগোলের সৃষ্টি হয়।

তরপ উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মোস্তাফিজুর রহমান জানান, তিনিসহ তার স্কুলের ৫ জন শিক্ষক কর্মচারী আবেদন করেছিলেন। এর মধ্যে ১ জন শিক্ষকের আবেদন বাবদ তিনি জেলা শিক্ষা অফিসার মোহাম্মদ রুহুল্লাহকে ৫০ হাজার টাকা দিয়েছেন। তিনি সমুদয় টাকা ফেরত চান।

রত্না উচ্চ বিদ্যালয় প্রধান শিক্ষক আবু তাহের বলেন, ফাইল বাতিলের যে কারণ তিনি উল্লেখ করেছেন তার সঠিক ব্যাখ্যা তিনি পাননি। একই রকম আবেদন করে কয়েকজন শিক্ষকের আবেদন অগ্রায়ন করেছেন। আর আমাদের ফাইল বাতিল করেছেন।

বক্তারপুর আবুল খায়ের উচ্চ বিদ্যালয় ও কলেজের প্রধান শিক্ষক কামাল হুসেন বলেন, জেলা শিক্ষা অফিসার কারণ ছাড়াই শিক্ষকদের হয়রানি করছেন। অযৌক্তিক কারণে তিনি হবিগঞ্জ সদর উপজেলা বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়, তরপ উচ্চ বিদ্যালয়, রামপুর উচ্চ বিদ্যালয়, আদর্শ বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়, আশেরা উচ্চ বিদ্যালয়, বানিয়াচং উপজেলার রত্না উচ্চ বিদ্যালয়, আদর্শ উচ্চ বিদ্যালয়, নবীগঞ্জের এনএসপি উচ্চ বিদ্যালয় ও আজমিরীগঞ্জের পশ্চিমভাগ উচ্চ বিদ্যালয়সহ অনেক বিদ্যালয়ের শিক্ষক কর্মচারীর ফাইল বাতিল করেছেন।

এ বিষয়ে জেলা শিক্ষা কর্মকর্তা মোহাম্মদ রুহুল্লাহ জানান, মোট আবেদন হয়েছে ১৫৬টি। এর মাঝে বাতিল হয়েছে ৪০টি। বাকি ১১৬টি আবেদনই অগ্রায়ন করা হয়েছে। যাদের বাতিল হয়েছে তাদের আবেদন সরকারি বিধিবহির্ভূত ছিল। নীতিমালা কাভার না করায় তা দেয়া সম্ভব হয়নি।

তিনি বলেন, তাদের অনেকেরই চাকরির ১০ বছর পূর্ণ হয়নি। অনেকে আবার নীতিমালা বহির্ভূতভাবে বেতন বাড়ানোর আবেদন করেছেন। এ ফাইলগুলো আমি ছাড়লেও মন্ত্রণালয়ে গিয়ে আটকে যাবে। আমাকে জবাবদিহি করতে হবে। তাদের বলা হয়েছে- পরবর্তীতে যেন আবারও তারা আবেদন করেন।

সেপ্টেম্বরে এইচএসসি পরীক্ষার পরিকল্পনা

করাঙ্গীনিউজ: মহামারী করোনার কারণে এখনো স্থবির পুরো শিক্ষাঙ্গন। আটকে গেছে এ বছরের এইচএসসি ও সমমানের পরীক্ষা। কবে অনুষ্ঠিত হবে কিংবা কিভাবে এবারের পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হবে এ নিয়ে চলছে জল্পনা কল্পনা। এবার জানা গেল, আসছে সেপ্টেম্বর মাসের শেষ দিকে অথবা অক্টোবরের শুরুতে শুরু হতে পারে এইচএসসি ও সমমানের পরীক্ষা।

ইতোমধ্যে একটি রোডম্যাপ তৈরি করে বিভিন্ন প্রস্তুতি শুরু করেছে শিক্ষা বোর্ডগুলো। সংশ্লিষ্ট সূত্র গণমাধ্যমকে এ তথ্য জানিয়েছে।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক ঢাকা শিক্ষা বোর্ডের এক কর্মকর্তা গণমাধ্যমকে বলেন, বর্তমানে সবকিছু সচল হচ্ছে। আগামী সেপ্টেম্বরের শেষ দিকে অথবা অক্টোবরের শুরুতে এইচএসসি ও সমমানের পরীক্ষা আয়োজনের লক্ষ্যমাত্রা নিয়ে নতুনভাবে প্রস্তুতি শুরু করা হয়েছে।

তিনি আরও বলেন, স্বাস্থ্যবিধি নিশ্চিত করতে পরীক্ষা কেন্দ্রের সংখ্যা বাড়ানো হবে। এজন্য শিক্ষা বোর্ডের নির্ধারিত কেন্দ্রের বাইরে পার্শ্ববর্তী ভালো শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের তালিকা চাওয়া হয়েছে। নতুনভাবে কেন্দ্র বাড়িয়ে সেসব শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে পরীক্ষার আয়োজন করা হবে।

এর আগে, চলতি বছরের ১ এপ্রিল এইচএসসি ও সমমানের পরীক্ষা শুরু হওয়ার কথা ছিল। কিন্তু করোনাভাইরাসের কারণে এ পরীক্ষাসূচি স্থগিত করতে বাধ্য হয় শিক্ষা মন্ত্রণালয়।

স্থগিত পরীক্ষার পরবর্তী সময় ঘোষণা না করায় অনিশ্চয়তায় দিন পার করছে প্রায় ১২ লাখ পরীক্ষার্থী। এ অবস্থায় করোনা পরিস্থিতি স্বাভাবিক হওয়ার অন্তত ১৫ দিন পর থেকে এইচএসসি পরীক্ষা শুরু হতে পারে বলে জানিয়েছেন সংশ্লিষ্টরা।

আন্তঃশিক্ষা সমন্বয়ক বোর্ড থেকে জানা গেছে, পরীক্ষা কেন্দ্রগুলোতে স্বাস্থ্যবিধি নিশ্চিত করে এইচএসসি ও সমমান পরীক্ষা আয়োজন করা হবে। পরীক্ষার হলে শিক্ষার্থী কমিয়ে একটি বেঞ্চে একজন করে বসানো হবে। ক্লাসরুমে যতগুলো বেঞ্চ থাকবে ততজন পরীক্ষার্থীর সিট নির্ধারণ করা হবে। কোনো কেন্দ্রে পরীক্ষার্থীর সংখ্যা বেশি হলে পার্শ্ববর্তী ভালো শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলোকে কেন্দ্র হিসেবে নির্বাচন করা হবে। পরীক্ষা কেন্দ্রগুলোর গেটের সামনে হ্যান্ড স্যানিটাইজার রাখা হবে। পরিদর্শক ও পরীক্ষার্থীরা ভালোভাবে হাত পরিষ্কার করে ভেতরে প্রবেশ করবেন।

জানা গেছে, ইতোমধ্যে জেলা-উপজেলা শিক্ষা কর্মকর্তা এবং উপজেলা ইউনিয়ন পরিষদের কর্মকর্তাদের কাছে শিক্ষা বোর্ডগুলো থেকে চিঠি দেয়া হয়েছে। চলতি বছর সারাদেশে কোথায় কোন কেন্দ্রে কতজন পরীক্ষার্থী রয়েছে সে তথ্য পাঠাতে অনুরোধ জানানো হয়েছে। পাশাপাশি পরীক্ষা কেন্দ্রের আশপাশের ভালো শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের তথ্য পাঠাতে বলা হয়েছে। সেখানে অতিরিক্ত কেন্দ্র হিসেবে পরীক্ষা নেয়া হবে।

এ বিষয়ে আন্তঃশিক্ষা বোর্ডের সমন্বয়ক ঢাকা শিক্ষা বোর্ডের চেয়ারম্যান মু. জিয়াউল হক মঙ্গলবার গণমাধ্যমকে বলেন, পরীক্ষা অবশ্যই নিতে হবে। তবে পরীক্ষার্থীদের জন্য সেই পরিবেশ ও পরিস্থিতি তৈরি করতে হবে। পরীক্ষা আয়োজনে আমাদের সব প্রস্তুতি অনেক আগেই শেষ হয়েছে। শিক্ষা মন্ত্রণালয় থেকে নির্দেশনা দিলে পরীক্ষা শুরু করা হবে।

তিনি বলেন, এইচএসসি ও সমমান পরীক্ষা শুরু করতে আমরা একটি রোডম্যাপ তৈরি করেছি। পরীক্ষার জন্য পরিবেশ ও পরিস্থিতি সৃষ্টি করতে প্রস্তুতি নেয়া হচ্ছে। মাঠ কর্মকর্তাদের মাধ্যমে জরিপ করে পরীক্ষা কেন্দ্রগুলোতে স্বাস্থ্যবিধি নিশ্চিত করা হবে।

পরীক্ষার্থীদের সুরক্ষায় পরীক্ষা কেন্দ্রে স্বাস্থ্যবিধি নিশ্চিত করতে ক্লাসের মধ্যে এক বেঞ্চে একজন করে পরীক্ষার্থী বসানোর চিন্তাভাবনা করা হচ্ছে জানিয়ে ঢাকা শিক্ষা বোর্ডের চেয়ারম্যান গণমাধ্যমকে বলেন, পরীক্ষা কেন্দ্রের ভেতরে স্বাস্থ্যবিধি নিশ্চিত করা হবে। করোনা পরিস্থিতি কিছুটা স্বাভাবিক হলে স্বাস্থ্য বিভাগ থেকে পরামর্শ নিয়ে বিদ্যালয় খোলার ১৫ দিন পর এইচএসসি ও সমমানের পরীক্ষা শুরু করা হবে।

পিইসি ও জেএসসি পরীক্ষা হচ্ছে না

করাঙ্গীনিউজ ডেস্ক: করোনা পরিস্থিতির কারণে প্রাথমিক শিক্ষা সমাপনী (পিইসি), মাদরাসা শিক্ষা বোর্ডের ইবতেদায়ি শিক্ষা সমাপনী (ইইসি), জুনিয়র স্কুল সার্টিফিকেট (জেএসসি) ও জুনিয়র দাখিল সার্টিফিকেট (জেডিসি) পরীক্ষা হচ্ছে না বলে জানা গেছে। করোনার কারণে দেশের শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলো বন্ধ রয়েছে প্রায় ৫ মাস। এ মধ্যে এই খবরটি জানা গেল। এ স্তরের শিক্ষার্থীদের এবার বার্ষিক পরীক্ষার মাধ্যমে পাস করানো হবে বলে জানা যায়।

জানা গেছে, গত সপ্তাহে এ নিয়ে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে মুখ্য সচিব আহমদ কায়কাউসের উপস্থিতিতে শিক্ষা এবং প্রাথমিক ও গণশিক্ষা সচিবের একটি বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। সেখানে এই সিদ্ধান্ত নেয়া হয়। এসব পরীক্ষা বাতিল করে দুই স্তরের শিক্ষার্থীদের বার্ষিক পরীক্ষার আয়োজন করা হবে। এ পরীক্ষার ফলাফলের ওপর ভিত্তি করে পঞ্চম ও অষ্টম শ্রেণির শিক্ষার্থীদের একটি অংশকে মেধাবৃত্তি দেয়ার চিন্তা আছে। শিক্ষাবর্ষ দীর্ঘ না করে বছরের মধ্যেই ছাত্র-ছাত্রীদের শ্রেণিভিত্তিক লেখাপড়া শেষ করার চিন্তাভাবনাও চলছে।

সেপ্টেম্বর থেকে নভেম্বরের মধ্যে প্রাথমিক ও মাধ্যমিক স্তরের শিক্ষা প্রতিষ্ঠান খুলে দেয়া সম্ভব হলে সংক্ষিপ্ত সিলেবাসে ডিসেম্বরে এ বার্ষিক পরীক্ষা নেয়া হবে বলে জানা গেছে। ডিসেম্বরের মধ্যে তা সম্ভব না হলে শিক্ষার্থীদের পরবর্তী শ্রেণিতে ‘অটো-পাস’ দিয়ে তুলে দেয়া হবে। এই উভয় ক্ষেত্রেই পাঠ্যবই বা সিলেবাসের যে অংশটুকু পড়ানো সম্ভব হবে না তার অত্যাবশ্যকীয় পাঠ পরের শ্রেণিতে দেয়া হবে।

এ জন্য জাতীয় পাঠ্যক্রম ও পাঠ্যপুস্তক বোর্ড (এনসিটিবি) ‘কারিকুলাম ম্যাপিং’ করে দেবে। এ লক্ষ্যেই বুধবার এনসিটিবিতে কারিকুলাম বিশেষজ্ঞদের বৈঠক শুরু হচ্ছে। এছাড়া কয়েকদিন ধরে এ নিয়ে ময়মনসিংহে জাতীয় প্রাথমিক শিক্ষা একাডেমিতে (নেপ) বিশেষজ্ঞদের বৈঠক চলছে।