1. nafiz.hridoy285@gmail.com : Hridoy Fx : Hridoy Fx
  2. miahraju135@gmail.com : MD Raju : MD Raju
  3. koranginews24@gmail.com : সম্পাদক : সম্পাদক
হবিগঞ্জ ইটভাটার শ্রমিকরা জানে না মে দিবস কি - করাঙ্গীনিউজ
  • Youtube
  • English Version
  • শুক্রবার, ০৯ ডিসেম্বর ২০২২, ০৭:৪৫ পূর্বাহ্ন

করাঙ্গী নিউজ
স্বাগতম করাঙ্গী নিউজ নিউজপোর্টালে। ১৪ বছর ধরে সফলতার সাথে নিরপেক্ষ সংবাদ পরিবেশন করে আসছে করাঙ্গী নিউজ। দেশ বিদেশের সব খবর পেতে সাথে থাকুন আমাদের। বিজ্ঞাপন দেয়ার জন‌্য যোগাযোগ করুন ০১৮৫৫৫০৭২৩৪ নাম্বারে।

হবিগঞ্জ ইটভাটার শ্রমিকরা জানে না মে দিবস কি

  • সংবাদ প্রকাশের সময়: বৃহস্পতিবার, ২৮ এপ্রিল, ২০১৬

নিজস্ব প্রতিনিধি, হবিগঞ্জ: হবিগঞ্জের ইটভাটার শ্রমিকরা জানে না মে দিবস কি। ফলে তাদের অধিকার সম্পর্কে তারা এখনও রয়েছে অন্ধকারে। তারা শুধু জানে মে দিবস মানে দল বেধে মাথায় লাল কাপড় বেধে গাড়ীর শ্রমিকদের মিছিল করা আর সংগঠকদের দেয়া নাস্তা খাওয়া?  টানা ষোল ঘন্টা কাজ করতে হয় তাদের। তাদের নেই কোন নিয়োগপত্র, নেই কোন কর্মঘন্টা, নেই কোন সাপ্তাহিক ছুটি, নেই শ্রমিক রেজিষ্টার, নেই ছুটির রেজিষ্টার, নেই ছুটির বহি, নেই ব্যক্তিগত নিরাপত্তা উপকরণ । ইটভাটার শ্রমিকের সাথে কথা বলে জানা গেছে এসব তথ্য।

কিন্তু যাদের জন্য এই দিন পালন তারা কি জানে এর ইতিহাস কিংবা আসল প্রয়োজনীয়তা? নাকি দিন শেষে সেই তিমিরেই অবস্থান করে? তারা কি জানে তাদের মে দিবস পালনের নাম করে আরেক প্রস্থ পয়সা লোটপাটের মচ্ছবে মেতে উঠে আমাদের মালিক কিংবা সংগঠক শ্রেণির লোকেরা?

যদিও শ্রম আইনে বলা হয়েছে শ্রমিকদের নিয়োগপত্র, ছবিসহ পরিচয়পত্র, সার্ভিস বহি প্রদান, রেজিস্টার সংরÿন, ছুটির রেজিষ্টার সংরÿণ, ছুটির বহি প্রদান, সাপ্তাহিক ছুটি, ওভারটাইম রেজিষ্টার, দৈনিক রেজিষ্টার কথা থাকলেও আজ পর্যন্ত ইটভাটার  কোন মালিক তা শ্রমিকদের জন্য কার্যকর করেননি।

বছর ঘুরে আবারো খেটে খাওয়া মানুষের স্বপ্ন সার্থকতার দিন মহান মে দিবস এসেছে। তবে আর দশ-পাঁচটা দিবসের মত আপামর বাঙালির জীবনে এ নিয়ে তেমন কোনো উচ্ছাস নেই। থাকার কথাও নয়। এখানে মে দিবস আসে নেহায়েত ৩০ এপ্রিলের পরের দিন ১লা মে, সেই হিসেবে। ওই দিন সরকারি ছুটি থাকে বলে মধ্যবিত্ত বাঙালিরা বউ বাচ্চা নিয়ে একটু ঘুরতে টুরতে বেরোয়। পয়লা বৈশাখের মত পান্তা ইলিশের জবজবানি নেই। ভ্যালেন্টাইন দিবসের মত রংচঙা কাপড় চোপড় পরে একে অপরকে খামোখা ভালোবাসার ছেনালি দেখাবার সুযোগও নেই।

আর বছরের মত এবারও এই দিনটিতে সরকার প্রধান, মন্ত্রীবর্গ, রাষ্ট্র প্রধান, প্রধান বিরোধী দল, ছাও পোনা বিরোধী বা সহমতের দলগুলো বাণী দেবে। খুব সকালে পরিবহন শ্রমিকরা মাথায় লাল পট্টি বেঁধে বিনা ভাড়ার বাসে-ট্রাকে মিছিল করে হৈহুল্লোর করবে। নেতা-নেত্রীরা এখানে ওখানে ভাষন টাষন দেবেন। মিডিয়ায় দিন ভর আরোপিত শ্রমিক দরদি কাসুন্দি বেটে দর্শককে খাওয়ানো হবে।

রাতে তাবড় তাবড় সব বিদ্ব্যৎজনেরা স্টুপিড বাক্সো গরম করে ফেলবেন। বেসুরো হেঁড়ে গলায় এক স্বখ্যাত বিপ্লবী ‘জন হেনরী’ গান গেয়ে বাবরি চুল ঝাঁকিয়ে মাতম করবেন। পত্রিকাঅলারা প্রথম পাতার কোণায় এক ইট ভাঙ্গা শ্রমিকের বা নারী শ্রমিকের ছবি ছেপে ক্যাপশন লিখবে..‘আজ ঐতিহাসিক মে দিবস’! ‘আজও কি শ্রমিকের মুক্তি এসেছে?’ এবং রাত ফুরোলেই ওই মহান মে দিবসের যবনিকা টেনে দেয়া হবে।

কিন্তু, যে শিশু শ্রমিকটি প্রচন্ড রোদে অগুনতি ঘণ্টা ধরে গাধার খাটনি খেটে চলেছে, খুব ভোরে উঠে যার দিন শুরু, আবার রাতে সবার খাওয়া দাওয়া শেষ হলে যার ঘুমোনোর সময়, তার জন্য কোন আট ঘণ্টার মহান মে দিবস নেই। সে জানেও না আট ঘণ্টা মানে কত ঘণ্টা? ট্যানারির নাড়িভুড়ি বেরিয়ে যাওয়া গন্ধময় পরিবেশে যে শ্রমিকরা কাজ করছে, তাদের সাথে যে শিশু শ্রমিকরা নোংরা ময়লা ঘেটে জীবনের সুকুমার শৈশবকে মাটি চাপা দিচ্ছে, কাচা ইট জ্বালানো কিলিংয়ের আগুনের উপর দাঁড়ানো যে শ্রমিকটির মুখ সারাক্ষণই লাল হয়ে জ্বলছে, ভাটায় মায়ের সাথে ইট কাটছে যে কচি শিশুটি তার কাছেও মে দিবস কোন গুরুত্ব বহন করে না। সে জানে তার হাতে ধরা ফর্মা বেসামাল হলেই আর এক হাতে পড়বে! চিরতরে পঙ্গু হয়ে যাবে।

বাহুবল উপজেলার বিভিন্ন এলাকায় প্রায় অর্ধশতাধিক ইটভাটায় ফজরের আজানের আগেই ঘুম থেকে উঠে ইটকাটার কাজে ব্যস্থ হয়ে পড়ে হাজারো শ্রমিক। কাচা ইট কাটে টানা সন্ধ্যা পর্যন্ত।  গোড়ার টপ শ্রমিকদের হাতগুলো থ্যাকথেকে সাদা সাদা হয়ে আছে। সেই দগদগে ঘা কখনোই শুকোয় না। ঝাল মরিচে রান্না তরকারি দিয়ে ভাত খেতে গেলই অন্তরাত্মা পর্যন্তজ্বলে উঠে। চোখের পানি গাল বেয়ে ঠোঁটের কোণা দিয়ে মুখে চলে যায়। ওভাবেই দিন শুরু আর দিন শেষ!

হবিগঞ্জ জেলায় ঠিক কত সহস্ত্রাধিক এবং সেই সব শ্রমিকের কত শতাধিক বয়সের শিশু শ্রমিক তার কোন খতিয়ান মহান রাষ্ট্রের কোন দপ্তরে নেই। ঠিক কত জন শ্রমিক এই জেলায় শ্রম শোষণের শিকার তারও কোন অথেনটিক স্ট্যাটাস সরকারের হাতে বা তথাকথিত মানবাধীকার সংগঠনগুলোর কাছে নেই। এদের কেউ তার কর্ম জীবনে আট ঘণ্টা বলে যে একটা শব্দ আছে সেটাই জানেনি। বোঝেনি। তাদের জানতে বা বুঝতে দেয়া হয়নি।

শ্রম শোষণ বা শ্রম চুরির মত একটি অত্যন্ত জরুরি বিষয় নিয়ে এই রাষ্ট্র, সরকার, বিরোধী দল, ছোট বড় হেন-ত্যান দল এবং বুদ্ধিব্যাপারিদের কোন চিন্তা নেই। এ নিয়ে সংবিধান সংশোধনও হবে না, সংসদে কোনো বিলও পাশ হবে না। অথচ জেলার প্রায় বিশ হাজার গতরখাটা শ্রমিকের সিংহভাগই শ্রম শোষণের শিকার। সেই অজ পাড়াগাঁ থেকে শুরু করে এই তিলোত্তমা পৌরশহরেও বেশুমার সেই শ্রম শোষণ আর শ্রমচুরি চলছে। ইটভাটায় যে শ্রমিকরা কাজ করে সে মনে করে এখানে ষোল ঘণ্টা কাজ করলেও সকাল-বিকাল মালিকদের লাথি গুতো খেতে হয়। জিঞ্জিল দিয়ে বেধে কাজ করানো হয়।

দেশের বিভিন্ন জায়গা থেকে শ্রমিকরা এসে কাজে যোগ দেয় ইটভাটায়। জেলায় প্রায় শতাধিক ইটভাটায় প্রায় বিশ হাজার শ্রমিক কাজ করছে।

কথা হয় মেঘনা ব্রিকসের ম্যানেজার রাসেল মিয়ার সাথে, সে বলে ছুঠি কি জিনিস আমরা জানি না। মে দিবস মানে কি তাও জানি না। জানি শুধু ২৪ ঘন্টা কাজ করতে পারলেই এই ইটভাটার মালিকরা বেতন তুলে দেয়।

শরীয়তপুর থেকে আসা আগুন মেস্ত্রী আবুল হাশিম জানান, এত দূর থেকে আগুনের লোক নিয়ে এসে এখানে কাজ করাই, নেই কোন ছুঠি। ছয়মাসের জন্য আসলে আমাদের ঈদ পর্যন্ত এখানেই করতে হয়।

কথা হয় ব্রাÿণবাড়িয়া থেকে আসা মেইল সর্দার আতিকের সাথে সেও বলে একই কথা। ছয় মাসের জন্য এসেছি মরি বাচি তবুও ভাটায় কাজ করতে হবে।

হবিগঞ্জ ইটভাটা শ্রমিক ইউনিয়নের সাধারণ সম্পাদক মহিবুর রহমান জানান, আমরা কি পাব শ্রমিকদের ন্যায্য অধিকার। টানা ষোল ঘন্টা আমাদের শ্রমিকরা পরিশ্রম করেও ন্যায্য বেতন পাচ্ছে না। কাজ করানোর পরে মালিকরা বিভিন্ন ভাবে হুমকি দমকি দিয়ে বিদায় করে দিচ্ছে। আমরা কি মে দিবসের শ্রম আইনে পড়ি না, আমরা কি শ্রমিক না। আমাদের দ্বারা সরকার কোটি কোটি টাকার ভ্যাট আদায় করছে ইটভাটা থেকে। এদিকে জীবনের মরণ মাথায় নিয়ে রাত দিন দগদগে আগুনের উপর ২৪ ঘন্টা কাজ করে আগুন মেস্ত্রীরা। তাদের নেই ব্যক্তিগত নিরাপত্তা উপকরণ।

সংবাদটি শেয়ার করুন

এ জাতীয় আরো সংবাদ
x