Oops! It appears that you have disabled your Javascript. In order for you to see this page as it is meant to appear, we ask that you please re-enable your Javascript!
 #  লিবিয়ায় মানব পাচারকারীদের গুলিতে ২৬ বাংলাদেশিসহ নিহত ৩০ #  লাখাইয়ে ‘বিপর্যয়ে সৈনিকরা’ কাজ করেছে দিন রাত #  করোনা ও কৃষি #  হবিগঞ্জে আরো ৭ জন শনাক্ত, মোট ১৭১ #  বাহুবলে অবৈধ বালু উত্তোলন, লক্ষ টাকা জরিমানা #  বাহুবলে সরকারি চালের বস্তা জব্দ: দোকান কর্মচারীর জেল #  ১৫ জুন পর্যন্ত মানতে হবে ১৫ শর্ত #  খোয়াই পত্রিকার সার্কুলেশন ম্যানেজারের পিতা আর নেই #  নবীগঞ্জে সরকারি ২৫০০ টাকার তালিকায় অনিয়ম! #  দেশে করোনায় নতুন শনাক্ত ২০২৯ #  শ্রীমঙ্গলে মুক্তিযোদ্ধা বিকাশ দত্ত’র সৎকার করল এক মুসলিম সংগঠন #  বাহুবলে মিষ্টির দোকান থেকে সরকারী চাল জব্দ: আটক ১ #  ইউনাইটেড হাসপাতালে আগুন, ৫ করোনা রোগীর লাশ উদ্ধার #  ভারতীয়দের গণপিটুনিতে মাধবপুরের যুবক নিহত #  ‘সীমিত পরিসরে’ গণপরিবহন চালুর সিদ্ধান্ত

ঐতিহাসিক শিক্ষা দিবস আজ

করাঙ্গীনিউজ: তিন স্তরের শিক্ষাব্যবস্থা প্রবর্তনের লক্ষ্যে ৮ বছর আগে সরকার শিক্ষানীতি তৈরি করে। সে অনুযায়ী গত বছর ডিসেম্বরের মধ্যে ৫ম শ্রেণির পরিবর্তে ৮ম শ্রেণিতে প্রাথমিক স্তর উন্নীতের কথা ছিল।

এছাড়া দ্বাদশ শ্রেণিতে মাধ্যমিক স্তর উন্নীতের কথা আছে। এরপর উচ্চশিক্ষার স্তর। কিন্তু ৮ম শ্রেণিতে প্রাথমিক স্তর উন্নীতের কাজ পাইলটিংয়ের মধ্যেই সীমিত আছে। মাধ্যমিক স্তর পুনর্গঠনের পদক্ষেপই নেই।

২০১০ সালের জাতীয় শিক্ষানীতিতে বেশকিছু গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত আছে, যা বাস্তবায়ন হয়নি। শিক্ষানীতি উপেক্ষা করে ৫ম ও ৮ম শ্রেণি শেষে জাতীয়ভাবে পরীক্ষা নেয়া হচ্ছে। শিক্ষানীতি বাস্তবায়নে বাজেটে আলাদা বরাদ্দও নেই। শিক্ষা খাত পরিচালনায় শিক্ষা আইন তৈরির উদ্যোগ নেয়া হলেও সেটিও ফাইলবন্দি। উচ্চশিক্ষার প্রায় ৭০ ভাগ নিয়ন্ত্রণ করে জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়।

এর মান নিয়ে আছে প্রশ্ন। বিভিন্ন কলেজের গভর্নিং বডির সভাপতিসহ অন্যদের বিরুদ্ধে লুটপাটের অভিযোগ ভয়াবহ। পরিদর্শন ও নিরীক্ষা অধিদফতরের (ডিআইএ) তদন্তে একাধিক কলেজে লুটপাটের প্রমাণও মিলেছে। শিক্ষা খাতে কর্মকর্তাদের মধ্যে সিনিয়র-জুনিয়র দ্বন্দ্বও প্রকট। পদায়ন নিয়ে ক্যাডারদের মধ্যে অসন্তোষ জমছে। সব মিলে শিক্ষাব্যবস্থায় একধরনের নৈরাজ্য চলছে।

এমন পরিস্থিতিতে বছর ঘুরে আজ আবার এসেছে ১৭ সেপ্টেম্বর, ঐতিহাসিক ‘শিক্ষা দিবস’। ১৯৬২ সালের এই দিনে তৎকালীন স্বৈরাচার আইয়ুর সরকারের তৈরি শিক্ষানীতির বিরুদ্ধে এ দেশের ছাত্রসমাজ ফুঁসে ওঠে। পাকিস্তানি শাসন, শোষণ ও শিক্ষা সংকোচন নীতির বিরুদ্ধে লড়াই করতে গিয়ে শহীদ হন ওয়াজিউল্লাহ, গোলাম মোস্তফা, বাবুলসহ নাম না জানা অনেকে। তাদের স্মরণে এই দিনকে ‘শিক্ষা দিবস’ হিসেবে পালন করা হয়। শিক্ষার জন্য সংগ্রাম, ত্যাগ, বিজয়, গৌরব ও ঐতিহ্যের প্রতীক এই শিক্ষা দিবসের এবার ৫৭তম বার্ষিকী। বিভিন্ন শিক্ষক ও ছাত্রসংগঠন আজ নানা কর্মসূচি পালন করবে।

বাষট্টির ছাত্রদের শিক্ষা আন্দোলনের প্রেক্ষাপটে বর্তমানে শিক্ষা ব্যবস্থার ফারাক কতটা- এ প্রশ্নের জবাবে বিশিষ্ট শিক্ষাবিদ অধ্যাপক ড. সৈয়দ মনজুরুল ইসলাম যুগান্তরকে বলেন, শিক্ষায় বর্তমানে পাকিস্তানি আমল থেকে তেমন অগ্রগতি হয়নি। জ্ঞাননির্ভর অগ্রসর চিন্তার সমাজ তৈরির লক্ষ্য ছিল বাষট্টির শিক্ষা আন্দোলন। শরীফ কমিশনের শিক্ষানীতির লক্ষ্য ছিল এলিট শ্রেণি তৈরি, যা বৈষম্যমূলক শিক্ষা ব্যবস্থা দ্বারা সম্পন্ন লক্ষ্য ছিল। বর্তমানেও সেই বৈষম্যমূলক শিক্ষা আছে।

মাদ্রাসা শিক্ষা কিছুটা এগিয়েছে। কিন্তু সমাজে বাংলা মাধ্যম, ইংরেজি ভার্সন, ইংরেজি মাধ্যম ইত্যাদি বিভাজন আছে। অন্তর্ভুক্তিমূলক শিক্ষা চালু হয়নি। ’৭৪ সালের কুদরতে শিক্ষানীতির আলোকেই প্রায় ৬০-৭০ শতাংশ রেখেই একটি মোটামুটি গ্রহণযোগ্য শিক্ষানীতি ২০১০ সালে তৈরি করা হয়। কিন্তু সেটির মৌলিক দিক বাস্তবায়ন করা হয়নি।

তখন এই নীতির বিপক্ষে যারা ছিলেন তাদের দাবি মেনে পাঠ্যপুস্তকে আনা পরিবর্তন বাতিল করা হয়েছে। কোচিং ও নোট-গাইড ব্যবসায়ীদের স্বার্থ বজায় রাখতে পিইসি ও জেএসসির মতো পরীক্ষা হুটহাট করে চালু করা হয়, যা শিক্ষানীতিতে নেই। ৮ বছর ধরে চলছে প্রাথমিক স্তর অষ্টম শ্রেণিতে উন্নীত করার পাইলটিং। তিন স্তরবিশিষ্ট শিক্ষাব্যবস্থা চালু করা হয়নি। শিক্ষকের জন্য স্বতন্ত্র পে-স্কেলও চালু হয়নি। সবকিছু দেখে মনে হচ্ছে, বাস্তবায়নের জন্য ২০১০ সালের শিক্ষানীতি করা হয়নি। তাহলে এত টাকা খরচ করে অনেক মানুষের কষ্টের মাধ্যমে কেন এই নীতি তৈরি করা হল।