1. nafiz.hridoy285@gmail.com : Hridoy Fx : Hridoy Fx
  2. miahraju135@gmail.com : MD Raju : MD Raju
  3. koranginews24@gmail.com : সম্পাদক : সম্পাদক
চুনারুঘাটে চা উৎপাদনে ঘাটতির আশংকা - করাঙ্গীনিউজ
করাঙ্গী নিউজ
স্বাগতম করাঙ্গী নিউজ নিউজপোর্টালে। ১৩ বছর ধরে সফলতার সাথে নিরপেক্ষ সংবাদ পরিবেশন করে আসছে করাঙ্গী নিউজ। দেশ বিদেশের সব খবর পেতে সাথে থাকুন আমাদের। বিজ্ঞাপন দেয়ার জন‌্য যোগাযোগ করুন ০১৮৫৫৫০৭২৩৪ নাম্বারে।

চুনারুঘাটে চা উৎপাদনে ঘাটতির আশংকা

  • সংবাদ প্রকাশের সময়: রবিবার, ২৪ এপ্রিল, ২০১৬

আবুল কালাম আজাদ, চুনারুঘাট (হবিগঞ্জ):
হবিগঞ্জের চুনারুঘাটে ভয়াবহ বিদ্যুৎ বিপর্যয় ও লাইন মেরামতের নামে দিনে ১০/১২ ঘন্টা বিদ্যুৎ বন্ধ থাকায় উপজেলার ১৭টি চা বাগানে উৎপাদনে ব্যাপক ঘাটতির আশংকা দেখা দিয়েছে।

 

গত ১৫ দিনে  ভ্যালীতে কমপক্ষে ৫ লক্ষাধিক কেজি চা তৈরী ব্যাহত হয়েছে। এতে বাগানগুলো প্রায় ২ কোটি টাকা ক্ষতির মধ্যে পড়েছে। পাশাপাশি উত্তোলনকৃত পাতা সময়মতো প্রক্রিয়াজাত না করায় চায়ের গুনগত মানও নষ্ট হচ্ছে। এ অবস্থায় চা শিল্পের অস্থিত্ব সংকটে পড়বে বলে মনে করছে চা সংশ্লিষ্টরা।

 

চুনারুঘাট উপজেলার লস্করপুর ভ্যালীর ১৭টি চা বাগানের মধ্যে হাতে গোনা কয়েকটি বাগান নিজস্ব গ্যাস জেনারেটর দ্বারা চা প্রক্রিয়াজাত করন করে। বাকী সকল বাগানই বিদ্যুতের উপর নির্ভরশীল। চলতি বছর ফেব্রুয়ারী থেকেই চা উৎপাদন এবং মার্চের প্রথমেই ফ্যাক্টরী চালু করা হয়। কিন্তু মওসুমের শুরুতেই বিদ্যুতের ভয়াবহ বিপর্যয় দেখা দেয় পুরো উপজেলায়। গত ১৫ দিন ধরে গড়ে দৈনিক ১০ থেকে ১২ ঘন্টা বিদ্যুৎ পাওয়া যাচ্ছে। কোন কোন দিন সকাল থেকে রাত পর্যন্ত বিদ্যুৎ বন্ধ রাখা হচ্ছে।

 

হবিগঞ্জ পল্লী বিদ্যুৎ সমিমিতে যোগাযোগ করা হলে বলা হচ্ছে শাহজিবাজার ৩৩ কেভি বন্ধ করা হয়েছে। লাইনের উপর গাছ পড়েছে ইত্যাদি।
উপজেলার ন্যাশনাল টি কোম্পানীর চন্ডিছড়া চা বাগান সুত্রে জানা গেছে, ১ এপ্রিল থেকে ১৫ এপ্রিল পর্যন্ত প্রায় ১ ’শ ঘন্টা বিদ্যুৎ সরবরাহ বন্ধ ছিল। কোন কোন দিন ১৩/১৪ ঘন্টা পর্যন্ত বিদ্যুৎ বন্ধ ছিল। এ অবস্থায় ঐ বাগানের ফ্যাক্টরি বন্ধ থাকায় উৎপাদন কমেছে প্রায় ৫০ হাজার কেজি চা। প্রতিদিন প্রায় ৩০ হাজার কাচা পাতা প্রক্রিয়াজাত করে প্রায় ৬ হাজার কেজি চা তৈরী করা হয়।

 

 

বিদ্যুতের কারণে একদিকে চা উৎপাদন কম হচ্ছে, অন্যদিকে পাতা প্রক্রিয়াজাত করতে গিয়ে চায়ের গুণগত মান নষ্ট হচ্ছে। দৈনিক উত্তোলিত পাতা ঐ দিনই প্রক্রিয়াজাত করতে না পারলে পাতার মান ঠিক রাখা সম্ভব হয়না। ফলে চায়ের গুণগত মানও সঠিক রাখা সম্ভব হচ্ছে না। এ অবস্থা শুধু চন্ডিছড়া চা বাগানেই নয়, প্রায় প্রতিটি বাগানেই।

 

 

 

ডানকান ব্রাদার্সের চান্দপুর চা বাগানে চলতি বছর জেনারেটর ও পানি সমস্যার কারণে ফ্যাক্টরী চালু করা সম্ভব হয়নি। ফলে বাধ্য হয়েই তারা একই কোম্পানীর আমু ও নালুয়া চা বাগানে পাতা পাঠিয়ে সেখানে চা প্রক্রিয়াজাত করছে। কিন্তু বিদ্যুতের এ সমস্যার কারণে ঐ দুটি বাগানে বিরামহীন ভাবে জেনারেল চালু করেই চা উৎপাদন ঠিক রাখতে হিমশিম খাচ্ছে বাগান কর্তৃপক্ষ। এতে করে তাদের চা উৎপাদন ঘাটতির পাশাপাশি খরচও বেড়ে যাচ্ছে।
পরিসংখ্যানে দেখা গেছে ভ্যালীর ১৭টি চা বাগানে গত ১৫ দিনে বিদ্যুৎ না থাকায় প্রতিদিন গড়ে ৫ ঘন্টা ফ্যাক্টরী বন্ধ ছিল। ফলে ঐ সময়ে ভ্যালীর চা বাগানে গড়ে উৎপাদন কম হয়েছে প্রায় ৩০ হাজার কেজি। এতে করে ভ্যালীর ১৭ বাগানে গড়ে উৎপাদন ঘাটতি রয়েছে প্রায় ৫ লাখ কেজি পাতা। এতে চলতি বছর উৎপাদন ঘাটতির আংশকা করা হচ্ছে।
এ বিষয়ে ন্যাশনাল টি কোম্পানীর জেনারেল ম্যানেজার আব্দুল আউয়াল বলেন, তাদের চন্ডিছড়া চা বাগানেই গত এক সপ্তাহে ৫০ থেকে ৬০ ঘন্টা বিদ্যুৎ ছিলনা। এসময় বিদ্যুৎ বন্ধ থাকায় ফ্যাক্টরী চালানো সম্ভব হয়নি। ফলে চায়ের উৎপাদন কমেছে ২০ থেকে ২৫ হাজার কেজি।

 

 

দেউন্দি চা বাগানে সিনিয়র ব্যবস্থাপক রিয়াজ উদ্দিন বলেন, চা উৎপাদনে বিদ্যুৎ এখন বড় সমস্যা হয়ে দাড়িয়েছে। প্রতিদিন বিদ্যুৎ বন্ধ থাকছে ৫/৬ ঘন্টা। এতে উৎপাদন ব্যহত হচ্ছে।

 

 

এ বিষয়ে হবিগঞ্জ পল্লী বিদ্যুৎ সমিতির সহকারি জেনারেল ম্যানেজার আরিফ হোসেন বলেন, ঝড়ের কারণে বিদ্যুৎ লাইনে প্রায়ই সমস্যা হচ্ছে। এছাড়া ৩৩ কেভি কিংবা শাহজিবাজার- চুনারুঘাট লাইনে ক্রুটি দেখা দিচ্ছে ঘন ঘন। ফলে বিদ্যুৎ সরবরাহ বন্ধ রাখা হচ্ছে।

সংবাদটি শেয়ার করুন

এ জাতীয় আরো সংবাদ
x