1. nafiz.hridoy285@gmail.com : Hridoy Fx : Hridoy Fx
  2. miahraju135@gmail.com : MD Raju : MD Raju
  3. koranginews24@gmail.com : সম্পাদক : সম্পাদক
রইছ উল্লাহ স্যার ছিলেন এক আলোকবর্তিকা - করাঙ্গীনিউজ
  • Youtube
  • English Version
  • মঙ্গলবার, ২৮ জুন ২০২২, ০৮:৩৮ পূর্বাহ্ন

করাঙ্গী নিউজ
স্বাগতম করাঙ্গী নিউজ নিউজপোর্টালে। ১৩ বছর ধরে সফলতার সাথে নিরপেক্ষ সংবাদ পরিবেশন করে আসছে করাঙ্গী নিউজ। দেশ বিদেশের সব খবর পেতে সাথে থাকুন আমাদের। বিজ্ঞাপন দেয়ার জন‌্য যোগাযোগ করুন ০১৮৫৫৫০৭২৩৪ নাম্বারে।

রইছ উল্লাহ স্যার ছিলেন এক আলোকবর্তিকা

  • সংবাদ প্রকাশের সময়: শুক্রবার, ৮ এপ্রিল, ২০২২
ফয়সল আহমদ রুহেল : বাবা ছিলেন মধ্যবিত্ত কৃষক। বাবার অর্থনৈতিক অবস্থায়-ই বলে দিচ্ছে, সন্তানের পথচলা যে কতোটা কঠিন। প্রতিদিন বাড়ি থেকে ৫ মাইল পায়ে হেঁটে বিদ্যালয়ে আসা-যাওয়া। স্কুলে যেতে বাবা দিতেন ৪ পয়সা। দুপুরে খেতেন ২ পয়সায় একটা নাড়ু আর ২ পয়সায় এস আকৃতির তেরা কুকিজ। কলেজ জীবনে থেকেছেন মানুষের বাড়িতে বাড়িতে লজিং। অভাব অনটনের সংসার থাকা এই ছেলেকে নিয়ে বাবা স্বপ্নও দেখতেন। অবশেষে বাবার স্বপ্নই একদিন সত্য হলো। ছেলে বাবার সেই স্বপ্ন পূরণ করেছেন। শ্রদ্ধেয় শিক্ষক মো. রইছ উল্লাহ স্যারের এগিয়ে চলার কথা বলছি। তিনি হবিগঞ্জ জেলার চুনারুঘাট উপজেলার শাকির মোহাম্মদ উচ্চ বিদ্যালয় প্রাক্তন প্রধান শিক্ষক।
জন্ম : হবিগঞ্জ জেলার চুনারুঘাট উপজেলার শাকির মোহাম্মদ ডাকঘর এলাকার চরঘাট একটি ছোট্ট গ্রাম। সেই গ্রামে মো. আব্দুল হাশিম ও আয়ছান বানু দম্পতির কোল আলো করে ১৯৪৭ সালের ৩১ ডিসেম্বর আসে একমাত্র পুত্র সন্তান। পিতা-মাতা ছেলেটির নাম রেখেছিলেন মো. রইছ উল্লাহ।
শিক্ষাজীবন : গুণী শিক্ষক মো. রইছ উল্লাহ সিকান্দপুর সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয়ে ১৯৫৪ সালে শিক্ষার প্রথম হাতেখড়ি। তিনি ১৯৬৫ সালে কুমিল্লা শিক্ষাবোর্ডের অধীনে শায়েস্তাগঞ্জ উচ্চ বিদ্যালয় থেকে এসএসসি পরীক্ষায় মানবিক শাখায় উত্তীর্ণ হন। এরপর ১৯৬৭ সালে কুমিল্লা শিক্ষা বোর্ডের অধীনে হবিগঞ্জের বৃন্দাবন কলেজ থেকে এইচএসসি পরীক্ষায় মানবিক শাখায় কৃতকার্য হন। ১৯৬৯ সালে চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের অধীনে একই কলেজ থেকে ডিগ্রি সম্পন্ন করেন। ১৯৮৭ সালে রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের অধীনে বি.এড ডিগ্রি অর্জন করেন।
কর্মজীবন : শ্রদ্ধেয় শিক্ষক মো. রইছ উল্লাহ স্যার শিক্ষকতার মত মহান পেশায় ১৯৬৯ সালের ২৮ জুলাই শাকির মোহাম্মদ উচ্চ বিদ্যালয়ে সহকারী শিক্ষক হিসেবে যোগদান করে শুরু করেছিলেন কর্মজীবন। প্রায় ১৯ বছর সহকারী ও সিনিয়র শিক্ষক হিসাবে দায়িত্ব পালন করেন। ১৯৮৮ সালের ১ ডিসেম্বর থেকে প্রধান শিক্ষকের দায়িত্ব গ্রহণ করেন তিনি। প্রধান শিক্ষক পদে ১৮ বছর নিষ্টার সাথে দায়িত্ব পালন শেষে ২০০৭ সালের ৩০ ডিসেম্বর অবসর গ্রহণ করেন।
শৈশব : মো. রইছ উল্লাহ এর বয়স যখন ৬-৭ বছর তখন তাঁর দাদা মো. হেফাজত উল্লাহ মৃত্যুবরণ করেন। তিনি খুবই স্নেহ পরায়ন ও সাদামাটা কৃষক ছিলেন। তিনি বলতেন আমার নাতি মেধাবী ও সৎ মানুষ হবে। দাদার কৃষি নির্ভর অর্থনৈতিক অবস্থা ভালো ছিলো না। দাদা মো. হেফাজত উল্লাহ এর একমাত্র সন্তান ছিলেন মো. আব্দুল হাশিম। রইছ উল্লাহর বাবা ছিলেন নিম্ন মধ্যবিত্ত কৃষক। সৎ চরিত্র ও ভালো মেজাজের অধিকারী ছিলেন। ছেলের আচার আচরণে মো. আব্দুল হাশিম স্ত্রীকে বলতেন আমার ছেলে মেধাবী হবে। রইছ উল্লার বয়স যখন ৭ বছর তখন তাঁর বাবা পাশের গ্রামের (জাকিরগাঁও) মক্তবে ধর্মীয় শিক্ষা অর্জনের জন্য ভর্তি করে দেন। জনাব রফিক মিয়া হুজুর সাহেবের তত্ত্বাবধানে কোরআন শিক্ষা লাভ করেন রইছ উল্লাহ।
৮ বছর বয়সে ১৯৫৪ সালে সিকান্দপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে প্রথম শ্রেণিতে ভর্তি হন তিনি। সেখান থেকে ১৯৫৭ সালে প্রাথমিক শিক্ষা সমাপ্ত করেন (তখন ৪র্থ শ্রেণী পর্যন্ত ছিল প্রাথমিক শিক্ষা)। সেসময় রইছ উল্লাহর শিক্ষক ছিলেন জনাব আব্দুল গফ্ফার স্যার (বড়কোটা)। একমাত্র শিক্ষক ছিলেন যিনি প্রথম শ্রেণী থেকে চতুর্থ শ্রেণী পর্যন্ত পড়াতেন। ছাত্রছাত্রীদের লেখাপড়ার প্রতি খুবই যত্নবান ও দায়িত্বশীল ছিলেন। তখনকার সময় ওই স্কুলে ইংরেজি বিষয় না থাকায় ১৯৫৮ সালে শায়েস্তাগঞ্জ উচ্চ বিদ্যালয়ে ৩য় শ্রেনিতে ভর্তি হন। তখন প্রধান শিক্ষক ছিলেন জনাব আব্দুর নুর স্যার। তিনি খুবই বিচক্ষণ ও দায়িত্বশীল ব্যক্তি ছিলেন। স্কুলের নিয়মশৃঙ্খলা ছিল খুবই কঠোর। রইছ উল্লাহ স্কুল জীবনে ইংরেজী ও বাংলা সাহিত্যে সহপাঠীদের মধ্য সবচেয়ে বেশী নাম্বার পেতেন।
বাবার অর্থনৈতিক অবস্থা ভালো না থাকায় প্রতিদিন বাড়ি থেকে স্কুলে ৫ মাইল পায়ে হেঁটে বিদ্যালয় আসা যাওয়া করতেন। বিভিন্ন ক্লাশের কয়েকজন বড়কোটা নামক স্থানে একত্রিত হয়ে স্কুলের উদ্দেশ্যে রওয়ানা এবং স্কুল ছুটির পরে এক সাথে বাড়িতে রওয়ানা দিতেন। বাড়ি থেকে ভাত খেয়ে স্কুলে যেতেন যাওয়ার সময় বাবা ৪ পয়সা দিতেন তা দিয়ে দুপুরে ২ পয়সা দিয়ে একটা নাড়ু বাকী ২ পয়সা দিয়ে এস আকৃতির তেরা কুকিজ খেতেন তৃতীয় শ্রেণী থেকে দশম শ্রেণী পর্যন্ত ছাত্র সংসদের সদস্য ছিলেন তিনি। তারপর ১৯৬৫ সালে এসএসসি পরীক্ষায় কুমিল্লা বোর্ডের অধীনে উত্তীর্ণ হয়ে বৃন্দাবন কলেজে ভর্তি হন।
বাড়িতে বাড়িতে লজিং : বাড়ি থেকে বৃন্দাবন কলেজের দূরত্ব ১৪ মাইলের বেশি হওয়ায় রইছ উল্লাহর বাবা লজিং এর ব্যবস্থা করে দেন। প্রথম লজিং সৈয়দপুর গ্রামে শেখ আদম আলী সাহেবের বাড়িতে, দ্বিতীয় লজিং ধুলিয়াখাল খান বাড়ী, তৃতীয় লজিং মির্জাপুর সাদির হাজী সাহেবের বাড়িতে, সর্বশেষ লজিং উমেদনগরের চেয়ারম্যান সরাপত হাজী সাহেবের বাড়ি থেকে ১৯৬৯ সালে বিএ শেষ বর্ষ পরীক্ষা দেন তিনি। ১৯৬৯ সালের ২৮ জুলাই শাকির মোহাম্মদ উচ্চ বিদ্যালয়ে সহকারী শিক্ষক হিসেবে যোগদান করেন। প্রায় ১৯ বছর সহকারী ও সিনিয়র শিক্ষক হিসাবে দায়িত্ব পালন করেন। একই সাথে ১৯৮৭ সালে রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের অধীনে বি.এড ডিগ্রি অর্জন করেন। ১৯৮৮ সালের ১ ডিসেম্বর থেকে প্রধান শিক্ষকের দায়িত্ব গ্রহণ করেন।
বিদ্যালয়ের জন্য যত কিছু : তখনকার সময় শাকির মোহাম্মদ উচ্চ বিদ্যালয়ের আর্থিক অবস্থা ভাল ছিল না। তিনি দায়িত্ব গ্রহণ করার থেকে শিক্ষার্থীর সংখ্যা বৃদ্ধি পেতে থাকে এবং এসএসসি পরীক্ষার ফলাফল ও গুণগত মান বৃদ্ধি পেতে থাকে। প্রধান শিক্ষকতার জীবনে একটি ৪০ ফুট একটি ৬০ ফুট আধা পাকা ভবন ও একটি ৭৫ ফুট পাকা ভবন নির্মিত হয়। তিনি বিভিন্ন সরকারি অনুদানের সাহায্য খেলাধূলার মাঠ মাটি ভরাট করে বর্ষা মৌসুমে খেলার উপযোগী করেন। তিনি প্রধান শিক্ষক থাককালীন বাংলা, ইংরেজী, গণিত বিষয়ের শিক্ষক নিয়োগ হয়। বিদ্যালয়ের শিক্ষকগণ ছিলেন অমায়িক ভদ্র, কর্তব্যপরায়ন। শ্রদ্ধেয় মো. রইছ উল্লাহ স্যার প্রধান শিক্ষক পদে ১৮ বছর নিষ্টার সাথে দায়িত্ব পালন করে ২০০৭ সালের ৩০ ডিসেম্বর অবসরে চলে যান।
এই শিক্ষকের ছাত্ররা : একটি মোমবাতি যেমন নিজে পুড়ে অন্যের পথ প্রদর্শন করে ঠিক তেমনি রইছ উল্লাহ স্যার নিজের যোগ্যতা, সময় ও শ্রম দিয়ে শিক্ষার্থীদের পথ দেখিয়েছেন। শ্রদ্ধেয় শিক্ষক মো. রইছ উল্লাহ স্যারের ছাত্রদের মধ্যে ডাক্তার, প্রফেসর, উকিল, ডেপুটি সেক্রেটারী, শিক্ষক, ব্যবসায়ী বিভিন্ন দায়িত্বশীল পদে কর্মরত আছেন।
এই শিক্ষকের যত সহপাঠী : রইছ উল্লাহ শায়েস্তাগঞ্জ উচ্চ বিদ্যালয়ে অধ্যায়নকালীন সময়ে সহপাঠীদের মধ্যে ছিলেন দেওয়ান মওদুদ আহাম্মদ চৌ. (বাংলাদেশ টিএন্ড টি বোর্ডের চেয়ারম্যান)। মো. ইসহাক মিয়া (বাংলাদেশ ব্যাংকের সিনিয়র প্রোগ্রাম অফিসার)। এছাড়া ডা. জ্যোতিশ সুত্রধর, মো. মনজুর হোসেন (জিএম ন্যাশনাল টি কো.), হালিম খান (এএসপি), আব্দুল জলিল চৌ. (ডিএমডি, মার্কেন্টাইল ব্যাংক) ছিলেন।
কঠিন চ্যালেঞ্জ : শ্রদ্ধেয় শিক্ষক মো. রইছ উল্লাহ স্যারের স্ত্রী ১৯৯৫ সালের ২৬ অক্টোবর মৃত্যুবরণ করেন। তখন ছোট ছেলের বয়স ১২ বছর। স্ত্রীর মৃত্যুতে ছেলেদের নিয়ে কঠিন সমস্যার মধ্যে পরে যান। স্কুলে যাওয়া, বাচ্চাদের রান্না করে খাওয়ানো ও দেখাশোনা করা। সময় মতো পড়তে বসানোসহ সাংসারিক ও প্রতিষ্ঠান প্রধানের দায়িত্ব পালন-এক কঠিন চ্যালেঞ্জের মুখোমুখী হন তিনি। তারপরও ২য় সংসার করেননি। তাদেরকে মা এবং বাবার স্নেহ দিয়ে বড় করে তুলেন।
পারিবারিক : শ্রদ্ধেয় শিক্ষক মো. রইছ উল্লাহ স্যার চার সন্তানের জনক। বড় ছেলে এড. মো. নুরুল আমিন শোয়েব-এলএলবি (অনার্স) এল এল এম, চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়। কর্মক্ষেত্র-জজকোর্ট, হবিগঞ্জ ও সুপ্রিম কোর্ট, ঢাকা, সাবেক প্রভাষক, আইন বিভাগ, লিডিং ইউনিভার্সিটি,সিলেট । ২য় ছেলে মো. রুহুল আমিন ছয়েক, হোমিওপ্যাথিক চিকিৎসক।পড়াশোনাঃ- জালালাবাদ হোমিওপ্যাথিক মেডিকেল কলেজ, সিলেট। ৩য় ছেলে মো. খায়রুল আমিন সোহেল-প্রবাসে কর্মরত। ছোট ছেলে মো. বদরুল আমিন ফেরদৌস, বিএ (অনার্স) এমএ, চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়। কর্মক্ষেত্র : সহকারী অধ্যাপক, ইসলামের ইতিহাস ও সংস্কৃতি বিষয়ে, মৌলানা মুফজ্জল হোসেন মহিলা ডিগ্রি কলেজ, রাজনগর, মৌলভীবাজার। এই গুণী শিক্ষক মো. রইছ উল্লাহ স্যার ২য় ছেলেকে নিয়ে বাড়িতেই আছেন। আসলে আপনি যদি আপনার সন্তানকে আঁকড়ে ধরে রাখেন তাহলে তাঁরাও আপনাকে আঁকড়ে ধরে রাখবে।
গুনী এই শিক্ষক ২০২২ সালে অবসরপ্রাপ্ত শিক্ষকদের নিয়ে কাজ করা হবিগঞ্জ সরকারী উচ্চ বিদ্যালয়ের স্বনামধন্য শিক্ষক সিলেট জেলার বিয়ানীবাজার উপজেলার কৃতি সন্তান জনাব টি, আলী স্যারের নামে প্রতিষ্ঠিত যুক্তরাজ্য ভিত্তিক চ্যারেটি সংস্থা টি,আলী স্যার ফাউন্ডেশনের জরিপে চুনারুঘাট উপজেলার আদর্শ শিক্ষকের সম্মাননার স্বীকৃতি হিসেবে টি, আলী স্যার পদকে ভুষিত হয়েছেন।
উল্লেখ্য, ফাউন্ডেশন হবিগঞ্জ জেলার নয় উপজেলার ১৮ জন আদর্শ অবসরপ্রাপ্ত শিক্ষককে পদক দেয়ার পাশাপাশি তাদের জীবনী ধারাবাহিকভাবে লিখছেন ফাউন্ডেশনের সভাপতি টি, আলী স্যারের পুত্র বৃটেনের জনপ্রিয় চ্যানেল এস টেলিভিশনের সাংবাদিক ফয়সল আহমদ
( রুহেল )। পদকপ্রাপ্ত শিক্ষকদের মধ্যে থেকে আর্থিক দিক থেকে পিছিয়ে থাকা ৫ জন শিক্ষককে আর্থিক সহযোগিতাও দেবে সংস্থাটি।
শ্রদ্ধেয় শিক্ষক মো. রইছ উল্লাহ দীর্ঘ ৩৭ বছর নিজের দক্ষ কারিগরি মহিমায় সমাজকে উপহার দিয়েছেন অনেক র্কীতিমান। বাপ-দাদা কৃষক ছিলেন সেই কৃষক পরিবার থেকে উঠে আসেন মো. রইছ উল্লাহ। শৈশবে ৫ মাইল পায়ে হেঁটে বিদ্যালয়ে আসা-যাওয়া করেছেন। পরিবারের অর্থনীতি অবস্থা ভালো না থাকায় বাবা মায়ের একমাত্র সন্তান কলেজ জীবনে বাবা মাকে ছেড়ে মানুষের বাড়িতে বাড়িতে লজিংয়ে থেকেছেন। ছিল না পরিচিত মুখ। সেদিনের দিনগুলো ছিল খুবই কষ্টের। দারিদ্রতাকে জয় করে ঘুরে দাঁড়িয়েছেন। এর পেছনে দাদার স্বপ্ন, বাবার অনুপ্রেরণা হিসেবে কাজ করেছে। নিজের প্রবল ইচ্ছা শক্তি আজ তিনি সফল। ৪ পয়সায় একটা নাড়ু আর এস আকৃতির তেরা কুকিজ খাওয়া সেই রইছ উল্লাহর হাতে গড়া শিক্ষার্থীরা ডেপুটি সেক্রেটারীসহ দেশের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ পদে আসীন। শুধু তাই নয় শ্রদ্ধেয় মো. রইছ উল্লাহ স্যার স্ত্রীর মৃত্যুর পর নিজের চাওয়া-পাওয়া সব ভুলে চার ছেলেকে শুধু পিতামাতার স্নেহ দিয়ে বড় করে তুলেননি তাদেরকে আলোকিত মানুষ হিসেবে গড়ে তুলেছেন। এত বছরের কষ্টের ফসল নিজ চোখে দেখছেন তিনি। ৩৭ বছর শিক্ষকতা জীবনে শাকির মোহাম্মদ উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রতিটি কোনায় এই শিক্ষকের স্পর্শ বিদ্যমান। বিদ্যালয়ের প্রতি অঙ্গনে সংস্পর্শে স্মৃতি হয়ে থাকবে। শিক্ষার্থীদের প্রতি অনুশাসন, পরক্ষণেই তাদের প্রতি অপরিসীম ভালোবাসা, সময়ানুবর্তিকা, কর্মনিষ্ঠা, আদর্শ ও সৌহার্দ্য সত্যি শিক্ষার্থীদের জন্য তিনি এক আলোকবর্তিকা হয়ে থাকবেন। এই শিক্ষকের আগামী পথচলা হোক শান্তির। তাঁর সুস্থতা ও দীর্ঘায়ূ কামনা করি।

সংবাদটি শেয়ার করুন

এ জাতীয় আরো সংবাদ
x