1. nafiz.hridoy285@gmail.com : Hridoy Fx : Hridoy Fx
  2. miahraju135@gmail.com : MD Raju : MD Raju
  3. koranginews24@gmail.com : সম্পাদক : সম্পাদক
প্রত্যেক প্রাণীকে আস্বাদন করতে হবে মৃত্যু ! - করাঙ্গীনিউজ
  • Youtube
  • English Version
  • মঙ্গলবার, ২৪ নভেম্বর ২০২০, ০৭:০১ অপরাহ্ন

করাঙ্গী নিউজ
স্বাগতম করাঙ্গী নিউজ নিউজপোর্টালে। ১২ বছর ধরে সফলতার সাথে নিরপেক্ষ সংবাদ পরিবেশন করে আসছে করাঙ্গী নিউজ। দেশ বিদেশের সব খবর পেতে সাথে থাকুন আমাদের। বিজ্ঞাপন দেয়ার জন‌্য যোগাযোগ করুন ০১৮৫৫৫০৭২৩৪ নাম্বারে।

প্রত্যেক প্রাণীকে আস্বাদন করতে হবে মৃত্যু !

  • সংবাদ প্রকাশের সময়: শুক্রবার, ২০ নভেম্বর, ২০২০
মৃত‌্যু

পবিত্র কুরআনুল কারীমের সূরা – আল ইমরান- ১৮৫ নং আয়াতে এরশাদ হয়েছে- ‘প্রত্যেক প্রাণীকে আস্বাদন করতে হবে মৃত্যু। আর তোমরা কিয়ামতের দিন পরিপূর্ণ বদলা প্রাপ্ত হবে। তারপর যাকে দোযখ থেকে দূরে রাখা হবে এবং জান্নাতে প্রবেশ করানো হবে, তার কার্যসিদ্ধি ঘটবে। আর পার্থিব জীবন ধোঁকা ছাড়া অন্য কোন সম্পদ নয়।

জীবন যার আছে মৃত্যু তার সুনিশ্চিত। আর দুনিয়াতে সবচেয়ে কষ্টদায়ক হচ্ছে মানুষের মৃত্যু। কারো আপন জনের মৃত্যুতে স্বজনের বিয়োগ ব্যাথাই নয় বরং মৃত্যুবরণকারী ব্যক্তিও প্রচণ্ড শারীরিক কষ্টের সম্মুখীন হয়।

সুরা ক্বাফের ১৯ নম্বর আয়াতে মৃত্যু সম্পর্কে উল্লেখ করা হয়েছে। মহান আল্লাহ বলছেন:
‘মৃত্যুযন্ত্রণা নিশ্চিতই আসবে। তাকে বলা হবে,এ হচ্ছে সে বিষয় যা থেকে তুমি পালিয়ে বেড়াতে।’

আরো পড়ুন.. পরকালে যেসব প্রশ্নের মুখোমুখি হতে হবে

হযরত আয়েশা (রা) রাসূল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) এর মৃত্যু যন্ত্রণার বর্ণনা দিতে গিয়ে বলেন, রাসূল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) এর পাশে চামড়া অথবা লাকরির একটি ছোট্ট পানি ভর্তি পাত্র ছিল। তিনি প্রায়ই তাঁর হস্তদ্বয় এই পাত্র থেকে ভিজিয়ে মুখমণ্ডল মুছিয়ে দিতেন আর বলতেন, লা ইলাহা ইল্লাল্লাহ ! মৃত্যু যন্ত্রণা বড়ই কঠোর। – (বুখারি)

মৃত্যুকালীন সময় মানুষের কষ্টের তীব্রতা কেমন? এ প্রসঙ্গে আল্লামা ইমাম সুয়ুতী রহঃ বলেন, যখন আজরাঈল (আঃ) আসবে তখন ৫০০ ফেরেশতা তাকে চাপ দিয়ে ধরবে। মুমিন হলে ৫০০ রহমতের ফেরেশতা আসবে। আর মৃত্যুর যন্ত্রণা শুরু হবে পায়ের বৃদ্ধা আঙ্গুল থেকে। এমনকি তা কণ্ঠনালী পর্যন্ত চলে আসবে।

রাসুলূল্লাহ (সাঃ) বলেছেন, তোমরা বনী ইসরাঈল থেকে ঘটনাবলি বর্ণনা কর। এতে কোনো ক্ষতি নেই। কেনো, তাদের মাঝে বহু বিস্ময়কর ঘটনা আছে। অতঃপর তিনি একটি ঘটনা বলতে শুরু করলেন, বনী ইসরাঈলের কিছু লোক একবার হাঁটতে হাঁটতে এক কবরস্থানে এসে পেঁৗছলো। তারা তখন বলল, এসো আমরা নামাজ পড়ে আমাদের রবের নিকট দুআ করি। যেনো তিনি আমাদের সামনে কোনো মৃত ব্যক্তিকে জীবিত করে দেন। আর সে আমাদের নিকট মৃত্যু সম্পর্কে কিছু বলে। তারপর তারা নামাজ পড়ল এবং দুআ করলো। ইতোমধ্যে একটি কবর থেকে এক ব্যক্তি মাথা তুলে বলল, হে লোকেরা! তোমরা কী চাও? নব্বই বছর আগে আমি মৃত্যুবরণ করেছি। এখনো মৃত্যুযন্ত্রণা আমার থেকে দূর হয়ে যায়নি। এখনো আমি তা অনুভব করি। সুতরাং তোমরা আল্লাহর নিকট দুআ কর, যেন আমি (দুনিয়াতে) যে অবস্থায় ছিলাম, সে অবস্থায় তিনি আমাকে ফিরিয়ে নেন। আর সেই ব্যক্তির কপালে সিজদার দাগ ছিলো। নব্বই বছর পরও মৃত্যুর কষ্ট ভুলতে পারেনা, তাহলে মৃত্যুর কষ্ট কত ভয়ঙ্কর হতে পারে।

হজরত আবদুল্লাহ বিন আমর বিন আস (রাঃ) বলেছেন, আমার পিতা (আমর বিন আস (রাঃ)) প্রায়ই বলতেন, ওই ব্যক্তির সম্পর্কে আমার বড়ই আশ্চর্যবোধ হয়, যার মধ্যে মৃত্যুর আলামত প্রকাশ পেয়েছে। তার হুশ এবং অনুভূতি বিদ্যমান আছে, বাক শক্তি নষ্ট হয়নি। এতদসত্ত্বেও সে কেনো মৃত্যুর অবস্থা বর্ণনা করে না? ঘটনাক্রমে হজরত আমর বিন আস (রাঃ) এর মৃত্যুর সময় উপস্থিত হয়, তখনও তাঁর হুশ, অনুভুতি ও বাকশক্তি বিদ্যমান। আমি তাঁকে জিজ্ঞাসা করলাম, আব্বাজান! এ অবস্থায় উপনীত ব্যক্তি মৃত্যুর অবস্থা বর্ণনা না করার ওপর তো আপনি আশ্চর্যবোধ করতেন। আজ আপনি মৃত্যুর অবস্থা কিছু বর্ণনা করুন।
হজরত আমর বিন আস রাদিয়াল্লাহু আনহু উত্তর দিলেন, হে পুত্র! মৃত্যুর অবস্থাতো বর্ণনা করা সম্ভব নয়। তারপরও আমি কিছু বর্ণনা দিচ্ছি আল্লাহর শপথ! আমার মনে হচ্ছে যে, আমার কাঁধের ওপর পাহাড় রাখা হয়েছে, এবং মনে হয় আমার প্রাণ সুঁচের ছিদ্র দ্বারা বাহির করা হচ্ছে এবং আমার পেট যেন কাঁটায় ভরপুর। আমার মনে হচ্ছে, আসমান-জমিন একত্রে মিশে গেছে। আর আমি ইহার মাঝে পিষ্ঠ হয়ে যাচ্ছি।

হজরত ওমর রাদিয়াল্লাহু আনহু একবার হজরত কাব রাদিয়াল্লাহু আনহুকে বলেছিলেন, আমাকে মৃত্যুর অবস্থা সম্পর্কে কিছু বলুন। তখন হজরত কা’ব রাদিয়াল্লাহু আনহু বলেন, ‘মৃত্যু হলো কাঁটাদার গাছের মতো। কাঁটাযুক্ত সে গাছটি যখন মানুষের পেটে ঢোকানোর পর তার প্রতিটি কাঁটা শিরায় শিরায় লেগে যায়।

তখন একজন শক্তিশালী মানুষ যদি গাছিটি ধরে জোরে টেনে বের করার চেষ্টা করে। ওই মুহূর্তে শিরায় শিরায় বিদ্ধ হওয়া কাঁটার আঘাতের কষ্ট মানুষটি হাড়ে হাড়ে উপলব্ধি করে।

অনুরূপভাবে মানুষের মৃত্যুকালীন সময়ে মৃত্যুপথযাত্রীর কাছেও মনে হয় যেন, তার শরীরের গোশতগুলো যেন একটি কাঁটার সঙ্গে বেরিয়ে আসছে। সে মৃত্যুযন্ত্রণা মানুষ হাড়ে হাড়ে উপলব্ধি করে থাকে।

এ হলো মৃত্যুকালীন সময়ে মানুষের মৃত্যু যন্ত্রণার নমুনা। এ কারণেই আল্লাহ তাআলা কুরআনে ইরশাদ করেন, ‘হে ঈমানদারগণ! তোমরা আল্লাহকে সেভাবে ভয় কর; যেভাবে ভয় করা উচিত। এবং অবশ্যই (সবধান!) মুসলমান না হয়ে মৃত্যুবরণ করো না।’ (সুরা আল-ইমরান : আয়াত ১০২)

আল্লাহ তাআলা কুরআনুল কারিমের মাধ্যমে মানুষকে আগেই সতর্ক করে দিয়েছেন। মৃত্যুর পূর্বে ইসলামে পরিপূর্ণভাবে প্রবেশ করে পূর্ণাঙ্গ মুসলমান হয়ে যাও। তবেই মৃত্যুকালীন কষ্টসহ পরকালের প্রথম মনজিল কবর, ফুলসিরাত, হাশরের ময়দান এবং আল্লাহর বিচারের দিন নাজাত লাভ করবে।

আল্লাহ তাআলা মুসলিম উম্মাহকে মৃত্যুকালীন সময়ের কষ্ট থেকে হেফাজত করুন। পরকালের নাজাত দান করুন। আমিন।

সংবাদটি শেয়ার করুন

এ জাতীয় আরো সংবাদ