#  হবিগঞ্জে করোনা শনাক্ত আরো ৯ জনের #  অষ্টগ্রাম প্রেসক্লাবের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক নির্বাচিত হয়েছেন হাওর দিগন্তের সম্পাদক #  বাহুবলে গীতিকার মামুন ফুটবল একাডেমির উদ্বোধন #  আজমিরীগঞ্জে বাল্য বিয়ে পণ্ড #  দেশে ২৪ ঘন্টায় করোনায় মৃত্যু ২৭ জন #  বানিয়াচংয়ে স্বামীর হাতে স্ত্রী খুন #  সিলেটে ট্রাক চাপায় মোটরসাইকেল আরোহীর মৃত্যু #  দোয়ারাবাজারে পাগলি ধর্ষণ: ধর্ষক গ্রেফতার #  নবীগঞ্জে গলায় ফাঁস দিয়ে কিশোরীর আত্নহত্যা #  শায়েস্তাগঞ্জে ইয়াবা-মদসহ আটক ২ #  মাধবপুরে সাংবাদিক জাহের মিয়া ফকির আর নেই #  হবিগঞ্জে আ’লীগের আলোচনা সভা ও মিলাদ মাহফিল #  সিলেটে বোমাসদৃশ্য বস্তুটি ‘গ্রাইন্ডিং মেশিন’ #  নবীগঞ্জে পৌর মেয়র দম্পতিসহ ৫ জনের করোনা শনাক্ত #  হবিগঞ্জে প্রতারক আফজালের জামিন নামঞ্জুর

বাঙালীর আরেকটি বৈচিত্রময় উৎসব কোরবানীর ঈদ

করাঙ্গীনিউজ: ছোট বেলা থেকেই দেখে আসছি কুরবানীর ঈদ বাঙালীর জন্য আরেকটি বৈচিত্র্যময় উৎসব হিসেবেই আসে। বাঙালী যেকোন উপলক্ষকেই উৎসবে পরিনত করে । একুশে ফেব্রুয়ারী যেখানে গাম্ভীর্য আর শ্রদ্ধার সাথে পালন করার কথা, সেটাও উৎসব হয়ে যায়! কুরবানী হওয়ার কথা ত্যগের চেতনায়, হয় উৎসবের আমেজে! অবশ্য ঈদ মানেই উৎসব। এক্ষেত্রে ত্যগের উৎসব। তা সে যাই হোক ছোটবেলার মত আনন্দ এখন আর ঈদে পাই না।

কোরবানীর ঈদ শুরু হয় গরু কেনা দিয়ে। হাট থেকে গরু কিনে বাড়ি পর্যন্ত যেতে যেতে কমপক্ষে ৫০ জনকে ফিরিস্তি দিতে হয় গরুর দাম কত! গরু কেনার পর থেকে ঈদের দিন পর্যন্ত আগে খুব ভাল লাগত।

ছোটবেলায় গরু জবাইয়ের সময় সামনেই থাকতাম। কোন অনুভূতি ছিল না। আর এখন বিষয়টা বেশ নিষ্ঠুর মনে হয়। আসলে জবাই করা কোন সুখকর দৃশ্য হতে পারে না। তাই বলে মাংস খাওয়া বাদ দিলে চলবে কেন! বাজারের মাংস কেনার সময় আমরা কিন্তু জবাইয়ের দৃশ্যটা দেখি না! এমনকি আগে মুরগিও বাসায় এনে জবাই করা লাগত। এখন আর লাগে না। উন্নত বিশ্বে স্টটারিং হাউজ ছাড়া জবাই করা যায় না। অবশ্য একদিনের জন্য কোরবানীর এতগুলো পশু, বাংলাদেশের মত গরীব দেশে স্টটারিং হাউজে করা সম্ভব না। তবে অন্তত একটু ঢেকে ঢুকে করতে পারলে ভাল হত। অবশ্য যাদের দৃশ্যটা পছন্দ না, তারা সামনে না থাকলেই হয়!

জবাই দেখি না মানে কিন্তু মাংস কাটাকুটি বাদ থাকে না! কাটাকাটি, ভাগাভাগি, রান্না সবকিছুতেই অংশগ্রহন করি! বিচ্ছিরি লাগে ফুসফুস আর কলিজা কাটতে (কারন ফুসফুসে কিছু পরজীবি থাকে…ইয়াক!)। আবার সবার আগে খাওয়া হয় কলিজাটাই! অনেকে আবার ভূড়ি খেতে খুব পছন্দ করে। আমি আগে খেতাম এবং এখনও খেতে ইচ্ছে করে। কিন্তু সেই একই সমস্যা, ব্যপারটা অরুচিকর!

কোরবানীর ঈদে সবচেয়ে অরুচিকর ব্যপারটা হয় অন্য জায়গায়। মাংস কাটার ঠিক পর পরই। গরীব মানুষ গেইটে এসে ভিড় করে। তাদের হাহাকার দেখলে নিজেই লজ্জা পাই। এই ঘটনা অবশ্য কোরবানী ছাড়াও অন্য সময়ও হয়। যেমন- ঈদুল ফিতরে যাকাতের শাড়ি নিয়ে কামড়া কামড়ি। এসব দেখলে মনে হয় আমরা এখনও সেই তলাবিহীন ঝুড়িই রয়ে গেলাম। স্বার্থপরতার অর্থনীতি থেকে আমরা এখনও বের হতে পারলাম না।
কোরবানীর ঈদে আরও কিছু ছোট খাট ব্যপার খুবই খারাপ লাগে। কার গরু কত বড়, কে জিতল কে ঠকল, কার গরুতে মাংস বেশি হইল, কারটা স্বাদ বেশি হবে, কে কয়টা গরু কোরবানী দিল এই ধরনের আলোচনা মোটামুটি সারাদিনই চলতে থাকে। আর সামনে নির্বাচন থাকলে ত কথাই নাই! আসলে এই ব্যাপারগুলো বোধহয় আগের প্রজন্মের মধ্যেই সীমাবদ্ধ থাকবে।

খুজে খুজে খারাপ ব্যপারগুলিই বললাম! ভাবলাম সবাইকে একটা ঈদ মোবারক জানাব, তা আর হল না! খুজে খুজে হতাশার দিকগুলিই দেখছি। সময়টাই বোধহয় এরকম। মানুষের মধ্যে হিংসা-বিদ্বেষ, পরশ্রীকাতরতা, সম্পদ নিয়ে কাড়াকাড়ি, মারামারি এসব থাকবেই। বন্টন ঠিকমত হচ্ছে না, হবে না এটাই স্বাভাবিক। তাই বলে অন্যের ভালকে হিংসার চোখে না দেখে নিজের উন্নতির চিন্তা করা উচিৎ। অন্যের খুত না ধরে নিজের খুতগুলো খুজে বের করা উচিৎ। সেটাই ত কোরবানীর আসল লক্ষ্য!