Daily Archives: September 8, 2020

চুনারুঘাটে মাদক বিরোধী সচেতনতামূলক সভা অনুষ্ঠিত

আব্দুর রাজ্জাক রাজু, চুনারুঘাট (হবিগঞ্জ): চুনারুঘাটে মাদক বিরোধী সচেতনতামূলক সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে।

মঙ্গলবার বিকেলে উপজেলার চানপুর ও রামগঙ্গা চা-বাগানে চুনারুঘাট থানা পুলিশ এ সভা আয়োজন করে।

এতে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন- পুলিশ সুপার মোহাম্মদ উল্ল্যা বিপিএম, পিপিএম।

দেওরগাছ ইউপি চেয়ারম্যান আলহাজ্ব শামছুন্নাহার চৌধুরীর সভাপতিত্বে ও চুনারুঘাট থানার অফিসার ইনচার্জ শেখ নাজমুল হকের পরিচালনায় বিশেষ অতিথি ছিলেন- চানপুর চা-বাগানের ম্যানেজার শামীম আহমেদ, চাকলাপুঞ্জি চা-বাগানের সহকারী ম্যানেজার শেখ মোদাব্বির হোসেন, উপজেলা মুক্তিযোদ্ধা সন্তান কমান্ডের সদস্য সচিব মোঃ রুমন ফরাজী, এসআই জাহাঙ্গীর কবির, শেখ আলী আজহার, এএসআই সম্রাট, চা-শ্রমিক নেতা নিপেন পাল, স্বপন সাঁওতাল প্রমুখ।

উক্ত বিট সভায় ৩০টি মাদকমুক্ত চা-শ্রমিক পরিবারের মাঝে সম্মাননা স্মারক ও শিক্ষার্থীদের মধ্যে খাতা প্রদান করা হয়।

পুলিশ সুপার মোহাম্মদ উল্ল্যা বলেন- “মাদকমুক্ত পরিবারের সন্ধানে, আমরা আছি চা-বাগানে : এবাক্যকে প্রতিপাদ্য করে আমরা মাদকমুক্ত সমাজ উপহার দিতে মাদক বিরোধী সচেতনতামূলক বিট সভা করে যাচ্ছি। আশা করি অচিরেই মাদকমুক্ত সমাজ প্রতিষ্ঠিত হবে।

কমলগঞ্জে গাছ চাপায় চা শ্রমিকের মৃত্যু

কমলগঞ্জ (মৌলভীবাজার) প্রতিনিধি: মৌলভীবাজারের কমলগঞ্জে ঘর মেরামতের জন্য গাছের খন্ডাংশ বহনকালে পা ছিটকে পড়ে গিয়ে এক চা শ্রমিকের মৃত্যু হয়েছে।

সোমবার সন্ধ্যায় দলাই চা বাগানের বড় লাইন শ্রমিক এলাকায় ঘটলে রাতে হাসপাতালে চা শ্রমিকের মৃত্যু হয়েছে।

জানা যায়, সীমান্তর্তী দলই চা বাগানের বড় লাইন শ্রমিক পাড়ায় ঘর মেরামতের জন্য গাছের খন্ডাংশ বহনকালে পা ছিটকে গাছের খন্ডাংশ শরীরের আঘাত করলে নিতাই পাশীর ছেলে অর্জুন পাশি (৩৮) গুরুত্বর আহত হয়। পরে বাগানের শ্রমিক ও স্বজনরা তাকে কমলগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে গেলে রাতে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষনা করেন।

কমলগঞ্জ থানার অফিসার ইনচার্জ আরিফুর রহমান জানান, ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করেন।

মাধবপুরে স্বাক্ষরতা দিবসে পুরষ্কার বিতরণ

মোহা. অলিদ  মিয়া, মাধবপুর (হবিগঞ্জ): আন্তজার্তিক স্বাক্ষরতা দিবস উপলক্ষে মাধবপুরে আলোচনা সভা ও পুরস্কার বিতরন করা হয়েছ।
আজ মঙ্গলবার সকালে উপজেলা প্রশাসনের আয়োজনে অনুষ্ঠানের সভাপতিত্ব করেন  সভাপতিত্ব করেন নির্বাহী অফিসার তাসনূভা নাশতারান ।
উপজেলা পরিষদ কনফারেন্স রুমে অন্যান্যদের মাঝে   উপস্থিত ছিলেন সহকারী কমিশনার (ভূমি) আয়েশা আক্তার, উপজেলা প্রকৌশলী মোঃ জুলফিকার হক চৌধুরী, উপজেলা শিক্ষা অফিসার সিদ্দিকুর রহমান, উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা অফিসার আবুল হোসেন, উপজেলা মৎস্য কর্মকর্তা আবু আসাদ ফরিদুল হক প্রুমূখ। পরে অতিথিবৃন্দ বিজয়ীদের হাতে পুরস্কার তুলে দেন।

চুনারুঘাটে গাঁজাসহ দুই মাদক ব্যবসায়ী আটক

চুনারুঘাট (হবিগঞ্জ) প্রতিনিধি:
হবিগঞ্জের চুনারুঘাটে ১০কেজি গাঁজাসহ দুইজন মাদক ব্যবসায়ীকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ।

আজ মঙ্গলবার সকালে উপজেলার চানভাঙ্গা তেমুনিয়া নামক স্থানে গোপন সংবাদের ভিত্তিতে থানার অফিসার ইনচার্জ শেখ নাজমুল হকের নেতৃত্বে এসআই আবু বককার খান সহ একদল পুলিশ বিশেষ অভিযান চালিয়ে এক বস্তায় দশ কেজি গাঁজাসহ দুইজনকে আটক করেন।

আটককৃতরা হলো- চুনারুঘাট উপজেলার নালুয়া চা-বাগানের মধু মঙ্গল তাঁতীর ছেলে পলাশ তাঁতী (২২) ও একই উপজেলার দুমদমিয়া ঠিলার প্রমথ কর্মকারের ছেলে পিন্টু কর্মকার (২১)।

চুনারুঘাট থানার ওসি (তদন্ত) চম্পক দাম জানান- চলমান মাদক বিরোধী অভিযানের প্রেক্ষিতে আজকের এই অভিযান। মাদক নির্মূলের জন্য মাদক সংক্রান্ত তথ্য দিয়ে চুনারুঘাটবাসীকে পাশে থাকার অনুরোধ রইলো।

চুনারুঘাট থানার অফিসার ইনচার্জ শেখ নাজমুল হক বলেন- “মাদকের বিরুদ্ধে জিরো টলারেন্স নীতিতে আমরা নিরলসভাবে কাজ করে যাচ্ছি। চুনারুঘাট থেকে মাদক নির্মূল না হওয়া পর্যন্ত আমাদের অভিযান অব্যাহত থাকবে।”

চুনারুঘাটে বন্যায় ক্ষতিগ্রস্তদের মাঝে চাউল বিতরণ

আব্দুর রাজ্জাক রাজু,  চুনারুঘাট (হবিগঞ্জ): বন্যায় ক্ষতিগ্রস্তদের মাঝে চাউল বিতরন করে চুনারুঘাট উপজেলার আহম্মদাবাদ ইউনিয়ন পরিষদ।

মঙ্গলবার দুপুরে চাউল বিতরণের সময় উপস্থিত ছিলেন চুনারুঘাট উপজেলা পরিষদ চেয়ারম্যান আলহাজ্ব আব্দুল কাদির লস্কর,আহম্মদাবাদ ইউপি চেয়ারম্যান আবেদ হাসনাত চৌধুরী সনজু,দুলাল মেম্বার,রউপ মেম্বার,জাহেদ চৌধুরী, ইউনিয়ন পরিষদের সচীব মাসুদ আহমেদ,যুবলীগ নেতা লিজন ও ছাত্রলীগ নেতা সফিকুল ইসলাম প্রমুখ।

১শটি পরিবারের মধ্যে ১০ কেজি করে ১০০০ কেজি চাউল বিতরণ করা হয়।

হবিগঞ্জ পাসপোর্ট অফিসে ঘুষের আখড়া,মাসে ৫০ হাজার নেন তৌফিকুল

নিজস্ব প্রতিনিধি: পাসপোর্টের আঞ্চলিক অফিসগুলো রীতিমতো ঘুষের আখড়ায় পরিণত হয়েছে। অলিখিতভাবে দালাল নিয়োগ দিয়ে প্রতিদিন প্রকাশ্যে চলে ঘুষ কমিশনের কারবার। যা ওপেন সিক্রেট। ৬৯টি আঞ্চলিক পাসপোর্ট অফিস থেকে কর্মকর্তাদের নামে প্রতি মাসে কমবেশি ঘুষ তোলা হয় ১২ কোটি টাকা। বিভিন্ন হারে যার ভাগ যথাসময়ে পৌঁছে যায় প্রধান কার্যালয়ের পদস্থ কর্মকর্তাদের পকেটেও।

এরমধ্যে সিলেট, হবিগঞ্জ, সুনামগঞ্জ ও মৌলভীবাজার পাসপোর্ট অফিসে ঘুষ লেনদেন করার সত্যতা পেয়েছে গোয়েন্দা সংস্থা।

পিলে চমকানো এ রকম ঘুষ কারবারের তথ্যপ্রমাণ বেরিয়ে এসেছে গুরুত্বপূর্ণ একটি গোয়েন্দা সংস্থার বিস্তারিত প্রতিবেদনে। যেখানে তৌফিকুল ইসলাম নামে এক পরিচালকই ৩ বছরে মাসোয়ারা তুলেছেন প্রায় সাড়ে ৬ কোটি টাকা। সাক্ষ্যপ্রমাণসহ গোয়েন্দা সংস্থার চাঞ্চল্যকর রিপোর্টটি এখন দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক) কার্যালয়ে। করোনা পরিস্থিতির কারণে কিছুটা বিলম্ব হলেও সম্প্রতি সংশ্লিষ্ট দুর্নীতিবাজ কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নিতে দুদকের শীর্ষ পর্যায় থেকে নির্দেশনা দেয়া হয়েছে।

দুদকে পাঠানো গোয়েন্দা প্রতিবেদনে বলা হয়, বাংলাদেশের ৬৯টি আঞ্চলিক পাসপোর্ট অফিসে প্রতি মাসে গড়ে ২ লাখ ২৬ হাজার ৫শ’টি পাসপোর্টের আবেদন জমা হয়। এর মধ্যে ৫০ থেকে ৬০ শতাংশ জমা হয় দালালদের মাধ্যমে। দালালদের জমা করা আবেদনপ্রতি পাসপোর্ট কর্মকর্তারা ঘুষ নেন ১ হাজার টাকার নির্ধারিত রেটে। সে হিসাবে পাসপোর্ট আবেদন থেকে প্রতি মাসে ঘুষ আদায় হয় ১১ কোটি ৩২ লাখ ৫০ হাজার টাকা।

বিশাল অঙ্কের এই ঘুষের টাকা থেকে ১০ শতাংশ হারে ১ কোটি ১৩ লাখ ২৫ হাজার টাকা পাঠানো হয় ঢাকায় পাসপোর্টের প্রধান কার্যালয়ে। এছাড়া আদায়কৃত ঘুষের ৪০ শতাংশ বা ৪ কোটি ৫৩ লাখ টাকা সংশ্লিষ্ট আঞ্চলিক অফিসের প্রধানরা নেন। আদায়কৃত ঘুষের ১৮ থেকে ২০ শতাংশ হিসাবে ২ কোটি ২৬ লাখ ৫০ হাজার টাকা পান সংশ্লিষ্ট সহকারী পরিচালকরা। বাকি ঘুষের টাকা অন্য কর্মচারীদের মধ্যে বণ্টন করা হয়।

প্রধান কার্যালয়ে আসা বিপুল অঙ্কের ঘুষের টাকা গ্রহণ ও বণ্টনের দায়িত্ব পালন করেন ৪-৫ জন প্রভাবশালী কর্মকর্তা। এরা হলেন উপপরিচালক বিপুল কুমার গোস্বামী, তৎকালীন উপপরিচালক (অর্থ) তৌফিকুল ইসলাম খান, সহকারী পরিচালক (প্রশাসন) আজিজুল ইসলাম, সিস্টেম এনালিস্ট নজরুল ইসলাম ভূঁইয়া এবং হিসাবরক্ষণ কর্মকর্তা মাসুদ রানা।

সূত্র জানায়, গত অক্টোবরে পাসপোর্ট অধিদফতরের দুর্নীতি অনুসন্ধানে একটি বিশেষ গোয়েন্দা সংস্থা কাজ শুরু করে। ৭-৮ জন কর্মকর্তাকে গোয়েন্দা কার্যালয়ে ডেকে নিবিড় জিজ্ঞাসাবাদ করা হলে তারা নিজেরাই তাদের ঘুষ কেলেঙ্কারির ফিরিস্তি তুলে ধরেন। তাদের স্বীকারোক্তির ভিত্তিতে ২৫ জন পাসপোর্ট কর্মকর্তার নামের তালিকা গোয়েন্দা প্রতিবেদনে সংযুক্ত করা হয়।

দুর্নীতিগ্রস্ত এসব কর্মকর্তার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়ার জন্য এ সংক্রান্ত প্রতিবেদন দুদক চেয়ারম্যান ইকবাল মাহমুদের কাছে পাঠানো হয়। তালিকাভুক্ত কর্মকর্তাদের বিষয়ে যুগান্তরের অনুসন্ধান টিমে পরবর্তী বিস্তারিত তথ্যানুসন্ধান অব্যাহত আছে।

এতে দেখা যায়, তৌফিকুল ইসলাম নামের এক পরিচালক একাই ২৯টি অফিস থেকে নিয়মিত মাসোয়ারা তুলেছেন। গোয়েন্দা জেরার মুখে তৌফিক নিজেই কোন অফিস থেকে কত টাকা মাসোয়ারা আদায় করেছেন তার স্বীকারোক্তি দেন। রীতিমতো অবাক করার মতো ঘুষের ফিরিস্তি।

যেসব অফিস থেকে তিনি মাসোয়ারা তুলেছেন সেগুলো হল- আগারগাঁও পাসপোর্ট অফিস থেকে প্রতি মাসে এক লাখ ষাট হাজার টাকা, যাত্রাবাড়ী থেকে ৩০ হাজার টাকা, ময়মনসিংহ থেকে ৮০ হাজার টাকা, কুমিল্লা থেকে মাসভেদে এক থেকে ৪ লাখ টাকা, মনসুরাবাদ থেকে ২ লাখ টাকা, চান্দগাঁও, ব্রাহ্মণবাড়িয়া ও নারায়ণগঞ্জ থেকে ১ লাখ টাকা করে, সিলেট ও মৌলভীবাজার থেকে ৫০ হাজার টাকা করে, মাদারীপুর ও বরিশাল পাসপোর্ট অফিস থেকে ২০ হাজার টাকা করে, বগুড়া থেকে ১৫ হাজার টাকা, হবিগঞ্জ থেকে ৫০ হাজার টাকা, নরসিংদী থেকে ২৫ হাজার, ফরিদপুর থেকে ২০ হাজার, সুনামগঞ্জ থেকে ১৫ হাজার, সাতক্ষীরা থেকে ১৫ হাজার, নোয়াখালী থেকে ১ লাখ, যশোর থেকে ৫০ হাজার, লক্ষ্মীপুর থেকে ১৫ হাজার, কুষ্টিয়া ও শরীয়তপুর থেকে ১০ হাজার টাকা করে, চাঁদপুর থেকে ১৫ হাজার, ঝিনাইদহ থেকে ১০ হাজার, বাগেরহাট থেকে ১০ হাজার, রাজশাহী থেকে ১৫ হাজার এবং মুন্সীগঞ্জ থেকে ১৫ হাজার টাকা।

সূত্র বলছে, দুর্নীতিগ্রস্ত কর্মকর্তাদের আমলনামা ধরে দুদকের অনুসন্ধান শুরুর পর সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা প্রভাবশালী মহলে ব্যাপক দৌড়ঝাঁপ শুরু করেন। এমনকি দুদক থেকে দায়মুক্তি পেয়েছেন বলে বেশ কয়েকজন কর্মকর্তা নিজেদের অবস্থান ঠিক রাখতে বানোয়াট তথ্য ছড়াতে থাকেন। অথচ বাস্তবে তাদের বিরুদ্ধে দুদকের অনুসন্ধান আরও জোরেশোরে চলছে।

প্রসঙ্গত, গত বছর হাফেজ আহাম্মদ নামের এক ভারতীয় চরমপন্থী গোপনে বাংলাদেশি পাসপোর্ট নিয়ে বিদেশে পালিয়ে যায়। বিষয়টি নিয়ে গোয়েন্দা অনুসন্ধান শুরু হলে পাসপোর্ট কর্মকর্তাদের ঘুষ-দুর্নীতির ভয়াবহ সব তথ্য বেরিয়ে আসে। গোয়েন্দা অনুসন্ধানের এক পর্যায়ে পাসপোর্টের বিগশট দুর্নীতিবাজদের প্রত্যেককে সেখানে পৃথকভাবে ডাকা হয়। বিষয়টি চাউর হলে গোটা অধিদফতরজুড়ে এক ধরনের ভীতি আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে।

কার কখন ডাক পড়ে এমন আতঙ্কে অনেকের ঘুম হারাম হয়ে যায়। সমূহ বিপদ আঁচ করতে পেরে ঘুষখোর কর্মকর্তারা নিজেদের রক্ষায় নানামুখী তদবিরও শুরু করেন। কেউ কেউ টাকার বস্তা নিয়ে প্রভাবশালী মহলে দৌড়ঝাঁপ করতে থাকেন। আবজাউল আলম নামের এক কর্মকর্তা ৫০ লাখ টাকা দিয়ে হলেও গোয়েন্দা তদন্ত থেকে নিষ্কৃতি পাওয়ার চেষ্টা করেন। সূত্র : যুগান্তর।

চুনারুঘাটের বাল্লা স্থলবন্দরে ভূমি জটিলতা

আব্দুর রাজ্জাক রাজু,চুনারুঘাট (হবিগঞ্জ): হবিগঞ্জের চুনারুঘাট উপজেলার বাল্লা স্থলবন্দরে সরকারিভাব ভূমি অধিগ্রহনের উদ্যোগ নিয়েছে সরকার। কিন্তু এই ভূমি অধিগ্রহন নিয়ে সৃষ্টি হয়েছে জটিলতা। ভূমি মালিকদের অভিযোগ, যে মূল্য নির্ধারণ করা হয়েছে তার চেয়ে অনেক বেশী মূল্যে সেখানে বিক্রি হয় ভূমি। আর সরকার যে টাকা দিবে তা দিয়ে নতুন বাড়ী করা দূরে থাক, বাড়ীর জমির জন্য নতুন ভূমি ক্রয়ও করতে পারবেন না।

বাল্লা স্থলবন্দরের জন্য যাদের জমি অধিগ্রহণ করা হয়েছে সেই দুই শতাধিক ভূমি মালিকের এখন মাথায় হাত। তারা যথাযথ ভূমির দাম না পেলে দুর্বার আন্দোলনের প্রস্তুতি নিচ্ছেন। যথাযথ ক্ষতিপূরণ না পেলে রক্ত দিয়ে জমি রক্ষার শপথ নিয়েছেন তারা। এমনটাই জানিয়েছেন তারা।

সূত্রে জানা যায়, হবিগঞ্জ সীমান্তের বাল্লা স্থলবন্দরটি ১৯৫১ সালে ৪.৩৭ একর জমির উপর প্রতিষ্ঠিত হয়। এ স্থান দিয়ে খোয়াই নদীর পানিতে পায়ে হেটে ও নৌকায় দু’দেশের মাঝে ব্যবসা বাণিজ্য চলে আসছে। এখানে রয়েছে চেকপোষ্টসহ সীমান্ত ঘাটি। ২০১২ সালের ১১ জুন কেদারাকোট নামক স্থানে স্থলবন্দর স্থাপনের সম্ভাব্যতা যাচাইয়ে জন্য বাংলাদেশ-ভারতের বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের একটি যৌথ প্রতিনিধি দল সীমান্ত এলাকা পরিদর্শন করে। এর আগে ২০১১ সালের ৩০ জুলাই তখনকার বাংলাদেশ রপ্তানী উন্নয়ন ব্যুরোর ভাইস চেয়ারম্যান জালাল আহমেদ ও বর্তমান বন্দর ও কেদারাকোট উভয় স্থান পরিদর্শন করেন এবং স্থলবন্দর উন্নয়ন-এর গুরুত্ব অনুধাবন করে কেদারাকোট এলাকায় বন্দর স্থাপনের কথা বলেন। ২০১৬ সালের ফেব্রুয়ারী মাসে ত্রিপুরায় অনুষ্ঠিত সীমান্ত সম্মেলনে বাল্লা স্থলবন্দর প্রতিষ্ঠায় ঐক্যমত পোষন করে দুই দেশ।

কেদারাকোট এলাকায় নতুন বন্দর হবে জানতে পেরে দেশের বড় বড় শিল্প মালিক ও ব্যবসায়ীরা ওই এলাকায় জমি ক্রয় শুরু করলে বাড়তে থাকে জমির দাম। বন্দরকে কেন্দ্র করে ব্যবসা বাণিজ্যের আশায় সেখানকার জমির রেজিস্ট্রি মূল্যের অধিক মূল্যেও জমি ক্রয় করেন অনেকে।

বাংলাদেশ সরকারের পক্ষে নৌ পরিবহণ মন্ত্রণালয়ের অধিনস্থ স্থলবন্দর কর্তৃপক্ষ চুনারুঘাট উপজেলার ১৬২নং জেএলস্থিত গাজিপুর মৌজায় ১৩ একর ভুমি অধিগ্রহণ করে। ভুমি মন্ত্রণালয় কর্তৃক প্রশাসনিক অনুমোদন করা হলে জেলা প্রশাসন ও স্থলবন্দর কর্তৃপক্ষসহ সংশ্লিষ্ট দপ্তরগুলোর সমন্বয়ে যৌথ তদন্তপূর্বক জেলা ভুমি বরাদ্দ কমিটি কর্তৃক অধিগ্রহণের প্রস্তাব চুড়ান্ত অনুমোদন করা হয়।

গাছের সঙ্গে মোটরসাইকেলের ধাক্কায় যুবকের মৃত্যু

বড়লেখা (মৌলভীবাজার) প্রতিনিধি: মৌলভীবাজারের বড়লেখায় গাছের সঙ্গে মোটরসাইকেলের ধাক্কায় মাসুম আহমদ (২০) নামে এক যুবকের মৃত্যু হয়েছে।

সোমবার দুপুরে সিলেটের একটি প্রাইভেট ক্লিনিকে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তার মৃত্যু হয়। তিনি উপজেলার নিজ বাহাদুরপুর ইউনিয়নের কবিরা গ্রামের মুতিবুল মিয়ার ছেলে।

প্রত্যক্ষদর্শী ও নিহতের পরিবার জানায়, মাসুম আহমদ রোববার দুপুরে মোটরসাইকেলযোগে উত্তর শাহবাজপুর থেকে বড়লেখা উপজেলা সদরে যাচ্ছিলেন। পথিমধ্যে একটি গাছের সঙ্গে ধাক্কা লেগে তিনি গুরুতর আহত হন।

প্রত্যক্ষদর্শীরা তাকে উদ্ধার করে প্রথমে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স ও পরে সিলেটের একটি প্রাইভেট ক্লিনিকে ভর্তি করে। সোমবার দুপুরে সেখানে তার মৃত্যু হয়।

বড়লেখা থানার ওসি মো. জাহাঙ্গীর হোসেন সরদার জানান, অত্যন্ত দ্রুত বেগে মোটরসাইকেল চালিয়ে তিনি বড়লেখা শহরের দিকে যাচ্ছিলেন। পথে নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে গাছের সঙ্গে ধাক্কা লেগে গুরুতর আহত হন। পরে সিলেটে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি মারা যান। এ ঘটনায় থানায় কোনো মামলা হয়নি।