Daily Archives: September 6, 2020

জকিগঞ্জে ৫ ব্যবসায়ীকে জরিমানা

নিজস্ব প্রতিনিধি, সিলেট: সিলেটের জকিগঞ্জে মেয়াদোত্তীর্ণ পণ্য বিক্রয় ও স্বাস্থ্যবিধি না মানায় ৫ ব্যবসায়ীকে জরিমানা করেছেন উপজেলা প্রশাসন পরিচালিত ভ্রাম্যমাণ আদালত।

রোববার বিকেলে ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনা করেন জকিগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট সুমী আক্তার।

এসময় মেয়াদোত্তীর্ণ খাদ্য বিক্রির দায়ে জকিগঞ্জ বাজারের ব্যবসায়ী গন্ধদত্ত গ্রামের আব্দুল মালিকের ছেলে নজরুল ইসলামকে দুই হাজার, বাবুর বাজারের ফল ব্যবসায়ী আব্দুল জলিলের পুত্র আব্দুল ওয়াহিদকে এক হাজার টাকা, স্বাস্থ্যবিধি না মানায় ঔষধ বিক্রেতা হেলাল আহমদকে এক হাজার, ইলাবাজ গ্রামের আব্দুন নুরের ছেলে ওসমান গনি, পশ্চিমবন্দ গ্রামের সজল বিশ্বাসের ছেলে চন্দন বিশ্বাস ও গুয়াবাড়ী গ্রামের আব্দুল মালিকের পুত্র তাজুল ইসলাম প্রত্যেককে পাঁচশত টাকা করে জরিমানা করেন ভ্রাম্যমাণ আদালত।

জনস্বার্থে এ ধরণের অভিযান অব্যাহত থাকবে বলে জানিয়েছেন নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট সুমী আক্তার।

নবীগঞ্জে সাপের কামড়ে এক ব্যক্তির মৃত্যু

জাবেদ ইকবাল তালুকদার, নবীগঞ্জ (হবিগঞ্জ): হবিগঞ্জ জেলার নবীগঞ্জ উপজেলার আউশকান্দি ইউনিয়নের মিনাজপুর গ্রামে হাওরে ঘাস কাটতে গিয়ে বিষাক্ত সাপের কামড়ে আব্দুল আউয়াল (৩৫) নামে এক যুবকের মর্মান্তিক মৃত্যু হয়েছে।

জানা যায়,  রবিবার দুপুরে উপজেলার মিনাজপুর গ্রামের মৃত আরব উল্লার পুত্র মোঃ আব্দুল আউয়াল গ্রামের পাশের হাওরে ঘাস কাটতে যায়। সারাদিন চলে গেলেও তার কোন খোঁজ না পাওয়ায় পরিবারের লোকজন তার সন্ধানে বের হন। অনেক খোঁজাখুজি করে দুপুর ২ টায় জমির মধ্যে তার নিথর দেহ পড়ে থাকতে দেখে স্থানীয় লোকজন তাকে উদ্ধার করেন। খবর পেয়ে নবীগঞ্জ থানার একদল পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে লাশের সুরতহাল রিপোর্ট তৈরি করে।

এ ব্যাপারে নবীগঞ্জ থানার ওসি মোঃ আজিজুর রহমান বলেন- নবীগঞ্জ থানা পুলিশ আব্দুল আউয়ালের লাশ উদ্ধার করেছে। প্রাথমিক ভাবে ধারনা করা হচ্ছে বিষাক্ত সাপের কামড়ে তার মৃত্যু হয়েছে।

মৌলভীবাজার জেলা পরিষদের অস্থায়ী চেয়ারম্যান রিজুয়ানা

পিন্টু দেবনাথ, কমলগঞ্জ (মৌলভীবাজার):
মৌলভীবাজার জেলা পরিষদের চেয়ারম্যান মুক্তিযোদ্ধা আলহাজ্ব আজিজুর রহমান গত ১৮ আগষ্ট মৃত্যু বরন করায় চেয়ারম্যান পদ শূন্য ঘোষনা করা হয়।

নতুন চেয়ারম্যান তাঁর পদে যোগদান না করা পর্যন্ত প্যানেল চেয়ারম্যান-১ তফাদার রিজুয়ানা ইয়াসমিনে কে অস্থায়ী চেয়ারম্যান হিসেবে দায়িত্ব পালন করবেন।

অস্থায়ী চেয়ারম্যান হিসেবে তফাদার রিজুয়ানা ইয়াসমিন সুমি জেলা পরিষদের সকল কার্যক্রম পরিষদের চেয়ারম্যানের দৈনন্দিন যাবতীয় রুটিন কার্যাদি সম্পাদন করবেন বলে ৬ সেপ্টেম্বর রোববার স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রণালয় স্থানীয় সরকার বিভাগ জেলা পরিষদ শাখা উপ-সচিব একে এম মিজানুর রহমান স্বাক্ষরিত আদেশে উল্লেখ করা হয়। ইতি মধ্যে তিনি সরকারি ভাবে ইন্ডিয়া ও যুক্তরাজ্য সফর করেছেন।

তফাদার রিজুয়ানা ইয়াসমিন সুমি জেলা পরিষদ নির্বাচনে মৌলভীবাজার (১৩, ১৪ ও ১৫) নং ওয়ার্ড ও সংরক্ষিত নারী আসনের ৫ নং ওয়ার্ড থেকে সদস্য নির্বাচিত হন। জেলা পরিষদের প্রথম সভায় তিনি প্যানেল চেয়ারম্যান নির্বাচিত হন। তাঁর বাড়ী মৌলভীবাজার জেলার কমলগঞ্জ উপজেলার আদমপুর এলাকায়। তিনি সকলের দোয়া ও আর্শিবাদ কামনা করছেন।

করোনার আক্রান্ত হয়ে নবীগঞ্জের এডভোকেট নজরুলের মৃত্যু

জাবেদ ইকবাল তালুকদা,  নবীগঞ্জ (হবিগঞ্জ): নবীগঞ্জ উপজেলার ইনাতগঞ্জ ইউনিয়নের বানিউন্দ গ্রামের মৃত সোনাই উল্লার পুত্র হবিগঞ্জ জেলা আইনজীবি সমিতির সদস্য এডভোকেট নজরুল ইসলাম করোনায় আক্রান্ত হয়ে মারা গেছেন।(ইন্না…….রাজিউন)।  মৃত্যুকালে তার বয়স হয়েছিল ৫৬ বছর। তিনি ২ ছেলে স্ত্রী ভাই বোনসহ অসংখ্য আত্মীয় স্বজন রেখে গেছেন।
পাবারিক সুত্রে জানা যায়, গত এক সপ্তাহ ধরে এডভোকেট নজরুল ইসলাম জ্বর কাশিতে ভুগছিলেন। পরবর্তীতে  পরীক্ষায় তার করোনা পজিটিভ রিপোর্ট আসে।  গত বুধবার তাকে ঢাকা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়।
সেখানে তার অবস্থার কোন উন্নতি হয়নি। অবশেষে গতকাল রোববার সকাল সাড়ে ৯ টার সময়  ঢাকা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে তার মৃত্যু হয়। ওইদিনই সন্ধা ৭ টায় হবিগঞ্জ কোর্ট মাঠে ১ম জানাযা ও রাত ১১ টায় নিজ জন্ম স্থান নবীগঞ্জ উপজেলার ইনাতগঞ্জ বানিউন গ্রামে ২য় নামাজে জানাযা শেষে তাকে গ্রাম্য কবরস্থানে দাফন করা হয়।

কমলগঞ্জে লাউয়াছড়া জাতীয় উদ্যানে গাছ চুরি

পিন্টু দেবনাথ, কমলগঞ্জ (মৌলভীবাজার):
মৌলভীবাজারের কমলগঞ্জের লাউয়াছড়া জাতীয় উদ্যানে গাছ চুরি বৃদ্ধি পেয়েছে।

বনের টিলায় পড়ে আছে এসব গাছের মোথা। ফলে হুমকির মুখে পড়েছে লাউয়াছড়া
জাতীয় উদ্যানের বণ্যপ্রাণী।

লাউয়াছড়া উদ্যানের বাঘমারা ক্যাম্পের সম্মুখে ও মুজিবের উঠনি টিলায় গত
কয়েকদিনে কেটে নেয়া হয়েছে চারটি মূল্যবান গাছ। বাঘমারা ক্যাম্পের
সম্মুখের টিলায় দু’টি চিকরাশি ও একটি মেহগনি এবং মুজিবের উঠনি টিলায় কেটে
নেয়া একটি চিকরাশির গাছের গোড়া পড়ে থাকতে দেখা যায়। কয়েকদিন পূর্বে এসব
গাছ কেটে নেয়া হয়।

স্থানীয় একটি প্রভাবশালী মহল দীর্ঘ দিন ধরে গভীর রাতে বনের ভেতর থেকে বড় বড় এসব গাছ কেটে পাচার করছে। কেটে নেয়া এসব গাছের খন্ডাংশ পিকআপ ও ঠেলাগাড়ি যোগে পাচার করা হয়।

লাউয়াছড়া উদ্যানটি বিরল প্রজাতির প্রাণির সংমিশ্রণে জাতীয় পর্যায়ে
গুরুত্ব বহন করলেও এ বনের গাছ উজাড় হওয়ার কারণে অস্থিত্ব সংকটে পড়েছে বন।

বনের অবক্ষয়, খাবার ও বাসস্থান সংকটে অতিষ্ঠ প্রাণিকূল। পূর্বের মতো
দিনের বেলা এখন আর বনে অন্ধকার দেখা যায় না। এতে একদিকে প্রাণির আবাসস্থল
বিলুপ্ত হচ্ছে অন্যদিকে খাবার সংকটে পড়ছে বন্যপ্রাণি। তবে গাছ পাচার
বিষয়ে বাঘমারা বনক্যাম্পের প্রহরী মো. মোতাহের বলেন, আসলে গাছটি ঝড়ে পড়তে
পারে। তাছাড়া কয়েকবছর পূর্বেও যেহারে গাছ চুরি হতো এখন মোটেও গাছ চুরি
হচ্ছে না। গাছ চুরি রোধে আমরা কঠোর অবস্থানে আছি।

লাউয়াছড়া রেঞ্জ কর্মকর্তা মোনায়েম হোসেন জানান, এখানে একটি গাছ ঝড়ের
কারণে পড়ে যায়। তাছাড়া আর কোন গাছ চুরি হওয়ার কথা নয়।

এব্যপারে বন্যপ্রাণী ব্যবস্থাপনা ও প্রকৃতি সংরক্ষণ বিভাগের বিভাগীয় বন
কর্মকর্তা রেজাউল করিম চৌধুরী বলেন, গাছ চুরি হওয়ার মতো কোন সংবাদ পাননি।
তবে এই দুই টিলা থেকে চারটি গাছ কেটে নেয়ার বিষয়টি অত্যন্ত গুরুত্বসহকারে
খতিয়ে দেখা হবে।

মিরপুর মসজিদে অনুদান দিলেন চেয়ারম্যান প্রার্থী শামীম

টিপু সুলতান জাহাঙ্গীর, বাহুবল (হবিগঞ্জ): হবিগঞ্জের বাহুবলে মসজিদ সংষ্কারের জন্য অনুদান প্রদান করেছেন মিরপুর ইউনিয়নের বর্তমান মেম্বার ও চেয়ারম্যান প্রার্থী শামীম আহমদ।

রোববার দুপুরে উপজেলার মিরপুর ইউনিয়নের সৈয়দ কুতুবুল আউলিয়া রা: জামে মসজিদে নগদ অর্থ প্রদান করেন।

মেম্বার শামীম মিরপুর ইউনিয়নের ২ নং ওয়ার্ড ছাড়াও প্রতিটি ওয়ার্ডে জনগনের সেবা দিয়ে যাচ্ছেন। তিনি রাস্তাঘাট, চিকিৎসা, সামাজিক উন্নয়নে কাজ করে যাচ্ছেন।

ফদ্রখলা গ্রামের আমির হুসেন বলেন, মেম্বার শামীম শুধু তার নিজ ওয়ার্ডের জনগনের জন্যই সেবা দিয়ে দায় শেষ করেন নি, তিনি ইউনিয়নের প্রতিটি ওয়ার্ডের জনগনের পাশে থেকে সেবা দিয়ে যাচ্ছেন।

তিনি বিভিন্ন জায়গা থেকে অনুদান এনে মিরপুর ইউনিয়নের জনগনের মাঝে বিতরন করছেন।

তিনি আরো বলেন, শামীম মেম্বার নিজের পকেটের টাকা দিয়ে যারা অভাবের তাড়নায় মেয়েকে বিয়ে দিতে পারছেন না তাদের বিয়ের ব্যবস্থা করে দিচ্ছেন। তিনি রাতের আধারে বাজার করে অভাবীদের ঘরে ঘরে পৌঁছে দিচ্ছেন এমন লোকরাই চেয়ারম্যান হয়ে আসুক।

একজন আল্লাহ ওয়ালা মানুষের বিদায়

এম এ মজিদ: একজন মানুষের মৃত্যুর সংবাদ লিখতে কয়বার কাঁদা যায়, আমি জানি না। লিখতে গিয়ে বারবারই চোখে পানি চলে আসছে। আপাদমস্তক একজন ভাল মানুষ ছিলেন হবিগঞ্জ জেলা এডভোকেট সমিতির সিনিয়র সদস্য আলহাজ্জ মোঃ নজরুল ইসলাম। হঠাৎ করে তার মৃত্যুর সংবাদটি পুরো আদালত পাড়ায় শোকের ছায়া নেমে আসে। বিজ্ঞ বিচারক, বিজ্ঞ এডভোকেট, কোর্টগুলোর পেশকার, সেরেস্তাদার, মোহরার, আইনজীবী সমিতির স্টাফ,
কোর্টগুলোর স্টাফ, অনেক বিচার প্রার্থী প্রায় সবার মধ্যেই শোক বিরাজ করছে।

অনেককে কোর্টের ভেতরেই কাদতে দেখেছি। করোনা আক্রান্ত হয়ে এডভোকেট নজরুল ইসলাম যখন হবিগঞ্জ থেকে ঢাকার মুগদা হাসপাতালে ভর্তি হন, তখন থেকেই এক ধরনের টেনশন কাজ করছিল।

মুগদা হাসপাতাল থেকে আশংকাজনক অবস্থায় বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ে তাকে স্থানান্তরের সংবাদটি ছিল আমাদের কাছে খুবই আতংকের। করোনা আক্রান্ত হওয়ার মাত্র কয়েকদিনের ব্যবধানে ৬ সেপ্টেম্বর
সকাল সাড়ে ৯টার দিকে তিনি মারাই গেলেন।

হবিগঞ্জ জেলা আইনজীবী সমিতিতে নজরুল ইসলাম নামে বেশ কয়েকজন আইনজীবী রয়েছেন। তিনি ছিলেন দাড়িওয়ালা নজরুল ভাই। সবার কাছে এই নামেই পরিচিত। একজন সাধারণ শিক্ষায় শিক্ষিত হয়ে রাসুল (সাঃ) এর সুন্নত পালনে তার জুড়ি ছিল না। সুন্নতী দাড়ি রাখা, টাকনুর উপরে পেন্ট পড়া, পাচ ওয়াক্ত নামাজ জামাতে পড়ায় এডভোকেট নজরুল ইসলাম ছিলেন সর্বাগ্রে। রাতের
প্রথমভাগে তিনি ঘুমাতেন। উঠতেন ফজরের নামাজের আগে। বাসায় তাহাজ্জুত পড়ে ফজর নামাজ পড়তেন মসজিদে গিয়ে। এসব রাসুল (সা) এর অন্যতম সুন্নত ছিল।

কোর্টে আসার সময় হালকা খাবার ও পানি নিয়ে আসতেন ব্যাগে করে। বাহিরের কিছু
তেমন খেতেন না। এডভোকেট নজরুল ইসলাম খুজে খুজে আত্বীয় বের করতেন। অনেক দুরের আত্বীয় তার কাছে অনেক কাছের, ঘনিষ্ট। আত্বীয়ের হক আদায় করা তার কাছে অনেক গুরুত্বপূর্ণ ছিল। বর্তমান যোগে আত্বীয় স্বজন থেকে দুরে থাকা যেখানে কালচারে পরিনত হয়েছে সেখানে এই একটি সুন্নত পালনে তিনি ছিলেন ব্যতিব্যস্ত।

আত্বীয়দের কে কোন জায়গায় কিভাবে আছে তা নিয়মিতই বর্ণনা করতে আমাদের
কাছে। সদা হাস্যোজ্জল ও ফুর্তিবাজ মানুষ ছিলেন তিনি। যেখানে যেতেন, বসতেন,
সবাইকে একটা আনন্দের মাঝে ডুবিয়ে রাখতেন। ফুল ও আতর ছিল তার কাছে অধিক জনপ্রিয়। বাসা থেকে নিজের লাগানো গাছের বিভিন্ন ফুল সাথে করে কোর্টে নিয়ে আসতেন নজরুল ভাই। ফুলের পাপড়ি বিলাতেন আমাদের মাঝে। মজা করে বলতেন, আমাকে ফুল মিয়াও ডাকতে পারো তোমরা। উন্নত মানের আতর ব্যবহার করতেন তিনি।

নিত্যসঙ্গী ছিল আতর। কোর্টে নিয়ে আসতেন। আমাদের সহকর্মীরা তার কাছ থেকে আতর পায়নি, এমন সংখ্যা খুব কম। আতর দেয়ার সময় বলতেন, আমাকে আতর আলী ডাকবে না? তিনি ফুল ও আতর ভালবাসতেন এই জন্য যে, রাসুল (সাঃ) ফুল ও আতর ভালবাসতেন বলে।
এডভোকেট নজরুল ইসলাম আল-াহর ঘরের মেহমানদের এতো বেশি সম্মান ও স্নেহ করতেন, সাধারণত তা দেখা যায় না। ২০১৫ সালে আমি পবিত্র ওমরা হজ্জে যাব শুনেই তিনি একটি দাবী রাখলেন। বাসায় গিয়ে দাওয়াত খেতে হবে। আমি অবাক হলাম। এমনিতেই আমরা খুব ঘনিষ্ট, তবে বাসায় দাওয়াত খাওয়ার মতো সম্পর্ক ছিল না নজরুল ভাইর সাথে। স্ত্রী ও সন্তানকে নিয়ে গেলাম দাওয়াত খেতে। আমাদের জন্য এতো বেশি খাবারের আইটেম
তৈরী করলেন, দেখে আমরা অবাক। বারবার বললেন, তুমি আল-াহর ঘরের মেহমান হতে যাচ্ছ, তোমার খুশিতে আল-াহ ও রাসুল (সা) খুশি হবেন। ক্বানায়ে ক্বাবায় ও রাসুল (সা) এর রওয়াজায় মোনাজাতের সময় যদি আমি নজরুল ইসলামের নামটি তোমার মুখ দিয়ে উচ্চারণ হয়ে যায়, তাহলেই হল। বিশ্বাস করুন, এই নামটি আমি ভুলতে পারিনি।

কথা প্রসঙ্গে তিনি জানলেন-আমার স্ত্রী তার এক ভাগ্নীর ক্লাশ ফ্রেন্ড। ব্যস, আমি তার
ছোট ভাই, আমার স্ত্রী তার ভাগ্নী। এরপর থেকে এই সম্পর্কই বিদ্যমান ছিল। দেখা হলেই জানতে চাইতেন, ছোট ভাই ভাগ্নী কেমন আছে। আইনজীবী সমিতির সিনিয়রদের প্রতি তার সম্মান ছিল চোখে পড়ার মতো। এডভোকেট আজিজুল বারী কামাল ছিলেন তার সিনিয়র। এডভোকেট আজিজুল বারী কামাল সাহেবকে তিনি এতো সমীহ করতেন, আজিজুল বারী কামাল সাহেব কোর্টে থাকলে প্রায় সময়ই এডভোকেট নজরুল ইসলাম
চেয়ারেই বসতেন না। অথচ এডভোকেট নজরুল ইসলামও অনেক সিনিয়র।

এডভোকেট নজরুল ইসলামের এক ছেলে মেডিকেল কলেজে পড়ছে। আরেক ছেল স্কুলে পড়ছে। পরিবারের অন্য সদস্যদের প্রায় সবাই প্রবাসে। একটা সুখি ও সুন্দর পরিবার থেকে এক আল্লাহ ওয়ালা মানুষের বিদায়ে শোকে মহ্যমান সবাই। এডভোকেট নজরুল ইসলামের মুত্যুতে আবারও প্রমানিত হল সমাজে, আত্বীয় স্বজনের মাঝে, কর্মক্ষেত্রে, পরিবারে সর্বত্র ভাল
মানুষ হওয়ার প্রয়োজন আছে। যেটা তিনি দেখিয়ে গেলেন।

লেখকঃ আইনজীবী ও সংবাদকর্মী
হবিগঞ্জ ৬ সেপ্টেম্বর ২০২০

হবিগঞ্জে বাস চাপায় মোটরসাইকেল আরোহীর মৃত্যু

নিজস্ব প্রতিনিধি,হবিগঞ্জ: হবিগঞ্জে বাস ও মোটরসাইকেলের মুখোমুখি সংঘর্ষে মোশাহিদ মিয়া নামে (৩৬) এক মোটরসাইকেল আরোহী নিহত হয়েছেন।

তিনি সদর উপজেলার সৈয়দপুর গ্রামের ফারুক মিয়ার ছেলে।

রোববার (৬ সেপ্টেম্বর) বেলা সাড়ে ১১টার দিকে হবিগঞ্জ-শায়েস্তাগঞ্জ সড়কের ধুলিয়াখাল তেমুনিয়া এলাকায় এ দুর্ঘটনা ঘটে।

হবিগঞ্জ সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. মাসুক আলী বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।

সুনামগঞ্জে বজ্রপাতে যুবকের মৃত্যু

নিজস্ব প্রতিনিধি, সুনামগঞ্জ: সুনামগঞ্জ জেলার দক্ষিণ সুনামগঞ্জের হাওরে বজ্রপাতে মিঠু মিয়া (২৮) নামের এক যুবকের মৃত্যু হয়েছে। সেই সাথে বজ্রপাতে আরও ৩জন আহত হয়েছেন।

রবিবার (৬ সেপ্টেম্বর) ভোরবেলা দক্ষিণ সুনামগঞ্জের দেখার হাওরে এ ঘটনাটি ঘটে।

বজ্রপাতে নিহত যুবক উপজেলার পশ্চিম পাগলা ইউনিয়নের ইসলামপুর (নতুনপাড়া) গ্রামের রইব্বা মিয়ার ছেলে।

সূত্রে জানা যায়, রবিবার ভোরবেলা নিত্যদিনের মত মাছ ধরতে হাওরে যান তারা। হাওরে যাওয়ার পর আবহাওয়া বেগতিক দেখে হাওর থোকে বাড়ির উদ্দেশ্যে রওনা হন। ফেরার পথে বজ্রপাতে ঘটনাস্থলেই মিঠু মিয়া মারা যান। বাকিরা আহত অবস্থায় পানিতে ছিটকে পড়েন।

আহতরা হলেন একই গ্রামের ফকির মিয়ার ছেলে এনামুল হক (২০), আবু মিয়ার ছেলে মহিবুল্লাহ (২১), আঃ কাইয়ুমের ছেলে আঃ আজিজ (২০)।

আহত আঃ আজিজের অবস্থা আশঙ্কাজনক হওয়ায় কৈতক ৫০ শয্যা হাসপাতালে প্রেরণ করা হয়েছে। অন্য আহতদের স্থানীয়ভাবে চিকিৎসা প্রদান করা হয়েছে।

পশ্চিম পাগলা ইউনিয়ন চেয়ারম্যান নুরুল হক ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করেছেন।

মসজিদে বিস্ফোরণের ঘটনায় মৃত বেড়ে ২৩

করাঙ্গীনিউজ: নারায়ণগঞ্জের ফতুল্লায় তল্লা এলাকায় বায়তুস সালাত জামে মসজিদে গ্যাসের লিকেজ থেকে বিস্ফোরণের ঘটনায় জুলহাস উদ্দিন (৩০) নামের আরও একজনের মৃত্যু হয়েছে।

রোববার (৬ সেপ্টেম্বর) সকালে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে স্থাপিত শেখ হাসিনা জাতীয় বার্ন ও প্লাস্টিক সার্জারি ইনস্টিটিউটে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তার মৃত্যু হয়।

শেখ হাসিনা জাতীয় বার্ন ও প্লাস্টিক সার্জারি ইনস্টিটিউটের আবাসিক চিকিৎসক পার্থ শঙ্কর পাল যুগান্তরকে এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন।

বিস্ফোরণের ঘটনায় এ নিয়ে ২৩ জনের মৃত্যু হলো। নিহতদের মধ্যে বায়তুস সালাত জামে মসজিদের ইমাম ও মুয়াজ্জিন এবং শিশু রয়েছে। এছাড়া আরও ১৪ জনের অবস্থা আশঙ্কাজনক।

গত শুক্রবার রাত সাড়ে ৮টার দিকে নারায়ণগঞ্জ শহরের পশ্চিম তল্লা এলাকায় বায়তুস সালাত জামে মসজিদে বিকট শব্দে বিস্ফোরণ ঘটে। এতে অর্ধশতাধিক মুসল্লি দগ্ধ হন।

দগ্ধ ব্যক্তিদের মধ্যে ৩৭ জনকে গুরুতর অবস্থায় ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। তাদের মধ্যে ২৩ জনের মৃত্যু হলো।

বিস্ফোরণে মসজিদের ছয়টি এসি পুড়ে গেছে। জানালার কাচ উড়ে গেছে। ফায়ার সার্ভিসের ৫টি ইউনিট ঘটনাস্থলে এসে আধা ঘণ্টা চেষ্টা চালিয়ে আগুন নিয়ন্ত্রণে আনে।

চুনারুঘাটে চোরাচালান নিয়ে সংঘর্ষে নিহত ১

নিজস্ব প্রতিনিধি : হবিগঞ্জের চুনারুঘাট উপজেলার বাল্লা সীমান্তে দু’দল চোরাকারবারীর মাঝে সংঘর্ষে ইয়াকুত (৪৫) নামের এক চোরাকারবারী নিহত হয়েছে।

এ ঘটনায় আহত হয়েছে আরও ৫ জন। এর মধ্যে রমজান আলীর ( ৪৮) অবস্থা গুরুতর।

শনিবার (৫ সেপ্টেম্বর) দিবাগত রাত প্রায় ১০ টায় গাজীপুর ইউনিয়নের সীমান্তবর্তী গ্রাম টেকেরঘাটে এই ঘটনাটি ঘটেছে।

এলাকাবাসি ও পুলিশ জানায়, রাত প্রায় ১০ টার সময় টেকেরঘাট গ্রামের কুখ্যাত চোরাকারবারী জমসের আলীর পুত্র ইয়াকুত ও একই গ্রামের আঃ খালেকের পুত্র রমজান আলীর মাঝে চোরাচালানের মালামাল কেনা-বেচা নিয়ে কথা কাটি হয়।

এক পর্যায়ে উভয়ের মাঝে সংঘর্ষ বাধলে উভয় পক্ষের ৫ জন আহত হয়েছে। এতে ইয়াকুত এবং রমজান গুরুতর আহত হয়। এলাকাবাসি গুরুতর আহত ইয়াকুত ও রমজানকে উদ্ধার করে হাসপাতালে প্রেরন করেন। ইয়াকুত হাসপাতালে পৌছার পুর্বেই রাজার বাজার নামক স্থানে প্রাণ হারায়।

রমজানকে সিলেট ওসমানী মেডিকেল কলেজ ও হাসপাতালে প্রেরণ করা হয়েছে। পুলিশ বলছে, রমজানের অবস্থা সংকটাপন্ন।

সুত্র জানান, রমজান এবং ইয়াকুত ভারতে চুরি করতো। সাম্প্রতি সময়ে এরা চুরি চামারি ছেড়ে চোরাচালানীতে যোগ দেয়। এরা স্থানীয় আসামপাড়া বাজার থেকে মটরসুটি, ছোলা, ছানার ডাল ও ইলিশ মাছ কিনে ভারতের ত্রিপুরাতে পাচার করতো।

মহানায়ক সালমান শাহ’র মৃত্যুবার্ষিকী আজ

করাঙ্গীনিউজ: বাংলাদেশের চলচ্চিত্রের রুপালি পর্দার নব্বই দশকের অন্যতম শ্রেষ্ঠ ও সুদর্শন নায়ক সালমান শাহর ২৪তম মৃত্যুবার্ষিকী আজ রোববার।

১৯৯৬ সালের ৬ সেপ্টেম্বর ১১/বি, নিউ ইস্কাটন রোডের ইস্কাটন প্লাজার বাসার নিজ কক্ষে সালমান শাহকে ফ্যানের সঙ্গে ঝুলন্ত অবস্থায় পাওয়া যায়।

এরপর মেডিকেল রিপোর্টে এ নায়কের মৃত্যুকে আত্মহত্যা বললেও তার পরিবার ও ভক্তদের দাবি ‘হত্যা’ করা হয়েছে সালমানকে। বিষয়টি এখনো বিচারাধীন।

সালমান শাহ আসল নাম শাহরিয়ার চৌধুরী ইমন। ক্ষণজন্মা এ মহানায়ক ১৯৭১ সালে সিলেট জেলায় অবস্থিত জকিগঞ্জ উপজেলায় জন্মগ্রহণ করেন। তার পিতা কমর উদ্দিন চৌধুরী ও মাতা নীলা চৌধুরী। তিনি পরিবারের বড় ছেলে। সালমান শাহ ১২ আগস্ট ১৯৯২ বিয়ে করেন, এবং তার স্ত্রীর নাম সামিরা।

প্রখ্যাত চলচ্চিত্র পরিচালক সোহানুর রহমান সোহানের হাত ধরে কেয়ামত থেকে কেয়ামত সিনেমার মাধ্যমে চলচ্চিত্র জগতে পদার্পণ করেন তিনি। প্রথম ছবিতেই দর্শকের মনে জায়গা করে নেন সালমান শাহ।

তারপর আর পেছন ফিরে তাকাতে হয়নি তাকে। একের পর এক ব্যবসাসফল চলচ্চিত্র উপহার দিয়ে গেছেন। কেয়ামত থেকে কেয়ামত ছবির মাধ্যমে তার চলচ্চিত্রে অভিনয়জীবন শুরু এবং বুকের ভেতর আগুন চলচ্চিত্রের মাধ্যমে সমাপ্তি। এই অভিনেতা সর্বমোট ২৭টি চলচ্চিত্রে অভিনয় করেন। নায়িকা শাবনূরের সঙ্গে সবচেয়ে বেশি ১৪টি ছবিতে জুটি বেঁধেছেন। এ ছাড়াও টেলিভিশনে তার অভিনীত কয়েকটি নাটক প্রচারিত হয়।

গায়ক হিসেবেও সালমানের পরিচিতি ছিল। ছোটবেলা থেকেই শিল্প-সংস্কৃতির প্রতি দারুণ আগ্রহ ছিল তার। বন্ধুমহলে সবাই তাকে কণ্ঠশিল্পী হিসেবে চিনতেন। ১৯৮৬ সালে ছায়ানট থেকে পল্লীগীতিতে উত্তীর্ণ হয়েছিলেন তিনি।

আরও কয়েক বছর পর প্রয়াত নাট্যজন আব্দুল্লাহ আল মামুনের প্রযোজনায় ‘পাথর সময়’ ধারাবাহিক নাটকে একটি ছোট চরিত্র এবং কয়েকটি বিজ্ঞাপনচিত্রেও কাজ করেছিলেন তিনি।

ডিজিটাল নিরাপত্তা আইনসহ সকল কালাকানুন বাতিলের দাবি

প্রেস বিজ্ঞপ্তি: মৌলভীবাজার জেলা জাতীয় গণতান্ত্রিক ফ্রন্ট-এনডিএফ’র এক সভা থেকে সরকারের গণবিরোধী কার্যক্রমের বিরুদ্ধে জনগণ যাতে ঐক্যবদ্ধ সংগ্রাম গড়ে তুলতে না পারে সেজন্য ডিজিটাল নিরাপত্তা আইনের মাধ্যমে জনগণের বাকস্বাধীনতা ও মতপ্রকাশের মত প্রকাশের মৌলিক অধিকার কেড়ে নেওয়া হচ্ছে বলে মন্তব্য করা হয়েছে।

সভা থেকে আরও বলা হয় এই সকল নিবর্তনমূলক আইনের মাধ্যমে সরকার বিরোধী মতকে দমন-পীড়নের মাধমে যেন তেন উপায়ে ক্ষমতাকে দীর্ঘস্থায়ী করতে চাচ্ছে।

শুক্রবার সন্ধ্যার সময় মৌলভীবাজারে শহরের মনুসেতু সংলগ্ন কার্যালয়ে জেলা এনডিএফ’র সভাপতি কবি শহীদ সাগ্নিকের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত সভা থেকে ডিজিটাল নিরাপত্তা আইন ও সংশোধিত শ্রমআইনসহ সকল কালাকানুন বাতিল করার দাবি জানানো হয়।

জেলা এনডিএফ’র সাধারণ সম্পাদক রজত বিশ্বাসের পরিচালনায় অনুষ্ঠিত সভায় বক্তব্য রাখেন বাংলাদেশ কৃষক সংগ্রাম সমিতি মৌলভীবাজার জেলা কমিটির আহবায়ক ডা. অবনী শর্ম্মা, বাংলাদেশ ট্রেড ইউনিয়ন সংঘ জেলা কমিটির সহ-সভাপতি মোঃ সোহেল আহমেদ, ধ্রুবতারা সাংস্কৃতিক সংসদ মৌলভীবাজার জেলা কমিটির সাধারণ সম্পাদক অমলেশ শর্ম্মা, মৌলভীবাজার জেলা হোটেল শ্রমিক ইউনিয়ন রেজিঃ নং চট্টঃ-২৩০৫ এর সভাপতি মোঃ মোস্তফা কামাল, জেলা এনডিএফ’র কোষাধ্যক্ষ মোঃ শাহিন মিয়া, দপ্তর সম্পাদক তারেশ বিশ্বাস সুমন, মৌলভীবাজার জেলা রিকশা শ্রমিক ইউনিয়ন রেজিঃ নং চট্টঃ-২৪৫৩ এর সহ-সভাপতি মোঃ গিয়াস উদ্দিন, হোটেল শ্রমিকনেতা আহাদ আলী, রিকশা শ্রমিকনেতা মোঃ জসিমউদ্দিন প্রমূখ।

সভায় বক্তারা দেশের আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির অবনতিতে তীব্র ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন সরকারি দলের মদদে একের পর এক লোমহর্ষক সন্ত্রাসী কার্যক্রম ঘটে চলেছে, যা থেকে রেহাই পাচ্ছেন না সরকারের শীর্ষ পর্যায়ের কর্মকর্তারা পর্যন্ত। যার সর্বশেষ শিকার হয়ে দিনাজপুরের ঘোড়াঘাটার ইউএনও ওয়াহিদা খানম আজ জীবনমৃত্যুর সন্ধিক্ষণে চিকিৎসাধীন।

সভায় বক্তারা জনগণের নিরাপত্তাহীনতা এবং দক্ষিণ এশিয়ায় সাম্প্রতিক সময়ের যুদ্ধ উন্মাদনায় গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করে বলেন দক্ষিণ ও দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার স্থল সংযোগ সেতু এবং প্রশান্ত ও ভারত মহাসাগরের সংযোগকারী মালাক্কাপ্রণালী সংলগ্ন বঙ্গোপসাগরীয় দেশ হিসেবে বাংলাদেশের ভূ-রাজনৈতিক ও রণনীতিগত গুরুত্বের প্রেক্ষিতে মার্কিন সাম্রাজ্যবাদ যেমন তার প্রাধান্য অব্যাহত রাখতে চায় তেমনি সাম্রাজ্যবাদী রাশিয়া ও পুঁজিবাদী চীনও তাদের প্রাধান্য প্রতিষ্ঠা করতে চায়।

সাম্প্রতিক সময়ে বৃহত সাম্রাজ্যবাদের লক্ষ্যে অগ্রসরমান পূঁজিবাদী চীন ও নয়াউপনিবেশিক ভারতের মধ্যে সীমান্ত সংঘাত ও যুদ্ধ উত্তেজনার মূল কারণ হচ্ছে চীনের উচ্চাবিলাশী বেল্ট এন্ড রোড ইনিশিয়েটিভ(বিআরআই) প্রকল্প এবং মার্কিন সাম্রাজ্যবাদের ইন্দো-প্যাসিফিক রণনীতির মধ্যকার দ্বন্দ্বে প্রকাশ। আন্তঃসাম্রাজ্যবাদী দ্বন্দ্বের প্রেক্ষিতে বাংলাদেশকে ছাড় দেওয়ার উপায় তাদের নেই। তাই সাম্রাজ্যবাদী ষড়যন্ত্র-চক্রান্তের বিরুদ্ধে সকল দেশপ্রেমিক শক্তিকে ঐক্যবদ্ধ হয়ে সাম্রাজ্যবাদ-সামন্তবাদ বিরোধী জাতীয় গণতান্ত্রিক আন্দোলনকে বেগবান করার আহবান জানান।

সভা থেকে সাম্রাজ্যবাদী দেশ ও সংস্থা সমূহের সাথে সম্পাদিত জাতীয় ও জনস্বার্থ বিরোধী সকল চুক্তি বাতিল, ডিজিটাল নিরাপত্তা আইনসহ সকল কালাকানুন বাতিল, বিনাবিচারে হত্যা-খুন-গুম বন্ধ, দফায় দফায় গ্যাস-বিদ্যুতের মূল্যবৃদ্ধির পাঁয়তারা, নিত্যপ্রয়োজনীয় দ্রব্যমূল্যের উর্ধ্বগতি রোধ, রাষ্ট্রায়ত্ব পাটকল বন্ধের সিদ্ধান্ত বাতিল, শ্রমিক-কর্মচারিদের জন্য বাজারদরের সাথে সংগতি রেখে ন্যূনতম মূল মজুরি ২০ হাজার টাকা নির্ধারণ ও শ্রমিকস্বার্থ বিরোধী সংশোধিত শ্রমআইন বাতিল করে গণতান্ত্রিক শ্রমআইন প্রণয়ন, বন্যা ও আম্ফানে ক্ষতিগ্রস্থ কৃষকদের বিনামূল্যে কৃষি উপকরণ বিতরণ, সকল কৃষি ও এনজিও ঋণ সুদসহ মওকুফ, ধান-পাটসহ কৃষিপণ্যে ক্রয়ে সকল দূর্নীতি অনিয়ম বন্ধ করে কৃষিপণ্যের ন্যায্য মূল্য নিশ্চিত করা, ভূমিহীন দরিদ্র কৃষকের হাতে জমি ও কাজ, কৃষি উৎপাদনের খরচ কমানো এবং ফসলের ন্যায্যমূল্য, সার, ডিজেল. কীটনাশকের দাম কমানোর দাবিতে দুর্বার আন্দোলন গড়ে তোলার আহ্বান জানান।

হবিগঞ্জ পৌরসভায় বর্জ্য দিয়ে খাল ভড়াটে উদ্বেগ প্রকাশ বাপার

নিজস্ব প্রতিনিধি: বাংলাদেশ পরিবেশ আন্দোলন (বাপা) এর একটি প্রতিনিধিদল  শনিবার (৫ সেপ্টেম্বর) বিকালে হবিগঞ্জ আধুনিক স্টেডিয়াম সংলগ্ন খালে  পৌরসভার স্তূপীকৃত বর্জ্য পরিদর্শন কালে এই উদ্বেগের কথা জানান।
বাপা কেন্দ্রীয় কমিটির সাধারণ সম্পাদক শরীফ জামিল এর নেতৃত্বে পরিদর্শন কালে উপস্থিত ছিলেন বাপা হবিগঞ্জের সাধারণ সম্পাদক তোফাজ্জল সোহেল, বাপা আজীবন সদস্য শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক ডঃ জহিরুল হক শাকিল, বাপা সদস্য ডাক্তার আলী হাসান চৌধুরী পিন্টু ও মোহাম্মদ আবদুর রহমান।
প্রতিনিধিদল পরিদর্শনকালে দেখেন, আধুনিক স্টেডিয়াম এবং কিবরিয়া মিলনায়তনের পাশে বাইপাস খাল ভরাট করে পৌরসভার যাবতীয বর্জ্য উন্মুক্ত অবস্থায় স্তূপ করে রাখা হয়েছে। এতে সরকারি বৃন্দাবন কলেজ ,আনসার একাডেমিসহ আশপাশের বৃহৎ এলাকা মারাত্মক পরিবেশ বিপর্যয় এর কারণে জন চলাচলের অনুপযোগী হয়ে পড়েছে।
শরীফ জামিল বলেন, এক পশলা বৃষ্টিতে হবিগঞ্জ শহর জলাবদ্ধতায় নিমজ্জিত হওয়ার কারণে অবিলম্বে পুরাতন খোয়াই নদীসহ সকল খাল পুকুর-জলাশয় পুনরুদ্ধার ও সংরক্ষণ করা জরুরি। কিন্তু  দেশের একটি প্রথম শ্রেণীর পৌরসভা হিসেবে উল্টো খাল ভরাট ও বর্জ্য অব্যবস্থাপনা সারা দেশের অন্যান্য পৌরসভার বাস্তব দুর্গতির পরিচয় বহন করে। তিনি স্থানীয় পর্যায়ে জনসম্পৃক্ত পরিকল্পনা বাস্তবায়নের পাশাপাশি জাতীয় নীতিনির্ধারণী মহলে দেশের পৌর এলাকা সমূহের বাসযোগ্য টেকসই ব্যবস্থাপনা নিশ্চিতে নীতি, কাঠামো ও অর্থায়নে সমন্বিত বিজ্ঞানভিত্তিক ও স্বচ্ছ পদক্ষেপ গ্রহণের আহ্বান জানান।
ডঃ জহিরুল হক শাকিল বলেন, আসলে ভূত তাড়াতে হয় শর্ষে দিয়ে। কিন্তু শর্ষের মধ্যে ভূত থাকলে তো সমস্যা। পাগলকে বাধতে হয় রশি দিয়ে। কিন্তু রশিই যদি পাগল হয়ে যায়! পৌরসভার অনেক কাজের মধ্যে অন্যতম প্রধান কাজ হলো সুষ্ঠু বর্জ্য ব্যবস্থাপনা ব্যবস্থাপনা ও পয়ঃনিষ্কাশনের মাধ্যমে পরিবেশ নির্মল রাখা। পৌরসভাকে সকলের জন্য বাসযোগ্য করা। কিন্তু হবিগঞ্জ পৌরসভা সেটা করতে ব্যর্থ হয়েছে। হবিগঞ্জের মানুষ পৌরসভা বা পৌর কর্তৃপক্ষ থেকে বেশি কিছু চায় না। চায় শুধু নির্মল পরিবেশে শ্বাস প্রশ্বাস নিতে। যা নিশ্চিত করার সক্ষমতা হবিগঞ্জ পৌরসভার রয়েছে।
বাপা প্রতিনিধিদল জলাবদ্ধতা মুক্ত ও সুষ্ঠু বর্জ্য ব্যবস্থাপনার আওতায় একটি বাসযোগ্য হবিগঞ্জ পৌরসভার দাবি জানায়।

দূর্নীতি-দুশাসন, মহামারি-দুর্ভিক্ষের জন্য দায়ী প্রচলিত সমাজব্যবস্থা

প্রেস বিজ্ঞপ্তি: দূর্নীতি, দুশাসন, দূর্যোগ, মহামারি-মহাদূর্ভিক্ষের জন্য দায়ী নয়াউপনিবেশিক আধাসামন্তবাদী ব্যবস্থা পরিবর্তনের সংগ্রাম বেগবান করার আহবানে দেশব্যাপী কেন্দ্রীয় কর্মসূচির অংশ হিসেবে জাতীয় গণতান্ত্রিক ফ্রন্ট সিলেট জেলা শাখা শনিবার (৫ সেপ্টেম্বর) বিকেল ৫ টায় বিক্ষোভ মিছিল ও সমাবেশ করে। সংগঠনরে জেলা কার্যালয় থেকে বিক্ষোভ মিছিল শুরু হয়ে নগরীর গুরুত্বপূর্ণ সড়ক প্রদক্ষিণ করে সিলেট কেন্দ্রীয় শহিদ মিনারে এক সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়। সমাবেশে সভাপতিত্ব করেন জাতীয় গণতান্ত্রিক ফ্রন্ট সিলেট জেলা শাখার সভাপতি মোঃ সুরুজ আলী।

সমাবেশে বক্তারা দেশের আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির অবনতি ও আওয়ামী লীগের ছত্রছায়ায় সন্ত্রাসীদের দৌরাত্মে তীব্র ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, দেশে আজ সন্ত্রাসের রাজত্ব কায়েম হয়েছে। সরকার সন্ত্রাসীদের দমনের পরিবর্তে প্রতিটি ঘটনাকে বিচ্ছিন্ন ঘটনা এবং ব্যক্তির দায় হিসেবে দেখানোর চেষ্টা করে। অথচ সরকারি দলের মদদে একের পর এক লোমহর্ষক সন্ত্রাসী কার্যক্রম ঘটে চলেছে, যা থেকে রেহাই পাচ্ছেন না সরকারের শীর্ষ পর্যায়ের কর্মকর্তারা পর্যন্ত। যার সর্বশেষ শিকার হয়ে দিনাজপুরের ঘোড়াঘাটার ইউএনও ওয়াহিদা খানম আজ জীবনমৃত্যুর সন্ধিক্ষণে চিকিৎসাধীন। সমাবেশে বক্তারা আরও বলেন, করোনাভাইরাস মহামারী মোকাবেলায় চরমভাবে ব্যর্থ হয়ে সরকার ‘আপনার সুরক্ষা, আপনার হাতে’ স্লোগান সামনে এনে কার্যত নিজেদের দায় অস্বীকার করে চলেছে।

করোনাভাইরাস সংক্রমণের ঊর্ধ্বগতিতে যখন ব্যাপকভাবে সারাদেশে করোনা পরীক্ষা চালু করা উচিত তখন সরকার করোনা পরীক্ষার ফি জনগণের নিকট হতে আদায় করছে। কনোরা পরিস্থিতিতে কর্মহীন মানবেতর জীবনযাপন করা জনগণের নিকট তা ‘মরার উপর খাড়ার ঘাঁ’ তুল্য। করোনা মহামারির পাশাপাশি আম্ফান ও বন্যার দূর্যোগে দেশের শ্রমিক-কৃষক মেহনতি জনগণের জীবন দিশেহারা। আম্ফান ও বন্যায় ক্ষতিগ্রস্থ কৃষকদের জন্য বিনামূল্যে কৃষি উপকরণ বিতরণ, সকল কৃষি ও এনজিও ঋণ সুদসহ মওকুফ, ধান-পাটসহ কৃষিপণ্যে ক্রয়ে সকল দূর্নীতি-অনিয়ম বন্ধ করে ন্যায্যমূল্য নিশ্চিত করা জরুরী হলেও সরকার এ ব্যাপারে কার্যকর ভূমিকা নেয়নি।

তার ওপর চাল, ডাল, পিয়াজ, আলুসহ সকল নিত্যপণ্যে লাগামহীন উর্দ্ধগতিতে মেহনতি মানুষকে অনাহার-অর্ধাহারে দিনাতিপাত করতে হচ্ছে। বিদ্যুতের ভূতুড়ে বিলের চাপে জনগণকে বাড়তি বিদ্যুৎ বিল পরিশোধ করতে হচ্ছে। এ রকম সময়ে সরকার সাম্রাজ্যবাদ ও তাদের সংস্থাসমূহের নীতি-নির্দেশে পরিকল্পিতভাবে রাষ্ট্রায়ত্ব পাটকলকে ধারাবাহিকভাবে অলাভজনক দেখিয়ে ধ্বংস করার প্রক্রিয়ার চুড়ান্ত পদক্ষেপ হিসেবে পাটকল বন্ধ করা ও শ্রমিকদের কর্মহীন করে শ্রমিক পরিবার এবং পাটের ওপর নির্ভরশীল পাট ও পাটজাত পণ্যের ক্ষুদ্র শিল্প, পাটচাষী ও পাটব্যবসায়ীসহ কোটির অধিক জনগণের জীবন ও জীবিকাকে হুমকির মুখে ফেলে দিয়েছে।

সরকারের এহেন স্বৈরতান্ত্রিক গণবিরোধী কার্যক্রমের বিরুদ্ধে জনগণ যাতে ঐক্যবদ্ধ সংগ্রাম গড়ে তুলতে না পারে সে জন্য ডিজিটাল নিরাপত্তা আইন-২০১৮সহ কালকানুন জারি করে জনগণের বাক ও মতপ্রকাশের স্বাধীনতাকে রুদ্ধ করার পাশাপাশি বিনাবিচারে হত্যা, খুন, গুম, ক্রসফায়ার চালিয়ে ভীতি ও ত্রাসের রাজত্ব কায়েম করেছে। এমতবস্থায় জনস্বার্থে দূযোর্গ-মহামারী-দূর্নীতি-ক্ষুধা-দুর্ভিক্ষ মোকাবেলায় সর্বস্তরের জনগণের সোচ্চার ও ঐক্যবদ্ধ হয়ে কাজ, খাদ্য, চিকিৎসা ও রেশনিংয়ের দাবিতে সমাবেশে থেকে বৃহত্তর আন্দোলন গড়ে তোলার আহবান জানান।

জাতীয় গণতান্ত্রিক ফ্রন্ট সিলেট জেলা শাখার দপ্তর সম্পাদক রমজান আলী পটুর পরিচালনায় অন্যান্যের মধ্যে বক্তব্য রাখেন জাতীয় গণতান্ত্রিক ফ্রন্ট সিলেট জেলার সহ-সভাপতি আবুল ফাজল, জাতীয় ছাত্রদল সিলেট জেলার সাবেক সভাপতি মামুন আহমদ খান, বাংলাদেশ ট্রেড ইউনিয়ন সংঘ সিলেট জেলা শাখার সাধারণ সম্পাদক মো: ছাদেক মিয়া, সাবেক সাধারণ সম্পাদক শ্রমিকনেতা শেখর সেন, সিলেট জেলা প্রেস শ্রমিক ইউনিয়নের সভাপতি একে আজাদ সরকার, সিলেট জেলা হোটেল শ্রমিক ইউনিয়নের সহ-সাধারণ সম্পাদক আনছার আলী প্রমুখ।