Daily Archives: September 5, 2020

সাংবাদিক সৈয়দ এখলাছুর রহমান খোকনের শ্বশুরের ইন্তেকাল

নিজস্ব প্রতিনিধি: সিলেটের দক্ষিণ সুরমা উপজেলার লালা বাজার ইউনিয়নের ফুলদি গ্রামের বাসিন্দা হাজী ডা. আব্দুল মালিক ইন্তেকাল করেছেন (ইন্নালিল্লাহি…রাজিউন)।

শনিবার বিকেল পৌণে ৫টায় সিলেটে মাউন্ট এডোরা হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন।

মৃত্যুকালে তার বয়স হয়েছিল ৮০ বছর। তিনি স্ত্রী, ২ ছেলে, ৭ মেয়ে ও নাতি
নাতনীসহ অসংখ্য গুণগ্রাহী রেখে গেছেন।

তার মৃত্যুর খবরে নিজ গ্রামসহ আশপাশের বিভিন্ন গ্রাম থেকে শত শত মানুষ তাকে এক নজর দেখার জন্য ছুটে আসেন।

হাজী ডা. আব্দুল মালিক হবিগঞ্জ প্রেসক্লাবের সাবেক সাধারণ সম্পাদক, দৈনিক যুগান্তর, একুশে টিভি ও জাগো নিউজের জেলা প্রতিনিধি
সৈয়দ এখলাছুর রহমান খোকনের শ্বশুর।

রোববার (৬ সেপ্টেম্বর) সকাল সাড়ে ১০টায় ফুলদি জামে মসজিদ প্রাঙ্গণে নামাজে জানাজা শেষে তাকে পারিবারিক কবরস্থানে দাফন করা হবে।

মাধবপুরে হোটেলে হামলা,ভাংচুর,লুটপাঠ

আবুল হাসান ফায়েজ: হবিগঞ্জের মাধবপুরে হোটেলে হামলা করে ভাংচুর হোটেল মালিক ,তার ছেলে ও পুত্রবধু কে আহত করে টাকাপয়সা, স্বর্ণ লুট করে নিয়ে গেছে বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে। এ ঘটনায় মাধবপুর থানায় একটি লিখিত অভিযোগ করা হয়।

আজ শনিবার দুপুরে উপজেলার তেলিয়াপাড়া এলাকায় এ ঘটনা ঘটে।

হোটেল মালিক স্থানীয় পুলিশ ফাঁড়িতে অভিযোগ করলেও তারা কোন প্রতিকার করেনি।

উপজেলার তেলিয়াপাড়া গ্রামের এরশাদ আলীর ছেলে রুবেল মিয়া জানান, শনিবার দুপুরে তেলিয়াপাড়া গ্রামের বাচ্চু মিয়ার ছেলে কামাল ও শাহজাহানের নেতৃত্বে একদল লোক তাদের হোটেলে হামলা করে তাদের মারপিট করে।

তাদের হামলায় তার স্ত্রী তাছলিমা বেগম(১৯) তার পিতা এরশাদ আলী(৫০) আহত হয়েছে।

গুরুতর আহত অবস্থায় তাদের মাধবপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করা হয়েছে।

এ সময় হামলাকারীরা দোকান থেকে নগদ টাকা ও তার স্ত্রীর গলা থেকে স্বর্ণের চেইন নিয়ে গেছে।

ঘটনাটি স্থানীয় তেলিয়াপাড়া পুলিশ ফাঁড়ির ইনচার্জ(ইন্সপেক্টর) গোলাম মোস্তফা কে অবগত করা হলেও তিনি কোন প্রতিকার করেনি। পরবর্তীতে মাধবপুর থানায় একটি লিখিত অভিযোগ করা হয়েছে।

তেলিয়াপাড়া পুলিশ ফাঁড়ির ইনচার্জ(ইন্সপেক্টর) গোলাম মোস্তফা জানান, যারা সংঘর্ষ করেছে তারা পরস্পর আত্মীয় স্বজন। বিষয়টি স্থানীয় ভাবে আপোষ নিষ্পত্তি হওয়ার কথা রয়েছে।

মাধবপুর থানার অফিসার ইনচার্জ(ওসি) মোঃ ইকবাল হোসেন জানান, ঘটনাটি শুনেছি । অভিযোগ পেলে তদন্ত করে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

লাখাইয়ে ৯৭০০ মিটার অবৈধ কারেন্ট পুড়িয়ে ধ্বংশ

লাখাই (হবিগঞ্জ) প্রতিনিধি: হবিগঞ্জের লাখাই উপজেলায় অবৈধ কারেন্ট জাল পুড়িয়ে ধ্বংশ করা হয়েছে।

শনিবার সারা দিনব্যাপী ভ্রাম্যমাণ আদালতের মাধ্যমে ৯৭০০ মিটার কারেন্ট জাল জব্দ করার সময় জেলেরা কারেন্ট জাল রেখে পালিয়ে যায়।

মৎস্য রক্ষা ও সংরক্ষণ আইন, ১৯৫০ এর আওতায় মৎস্য সম্পদ রক্ষার উদ্দেশ্যে নোয়াগাঁও, শিবপুর এর হাওরে সারাদিনব্যাপী ভ্রাম্যমাণ আদালতের অভিযান পরিচালনা করেন লাখাই উপজেলা সহকারী কমিশনার ( ভূমি) ইয়াছিন আরাফাত রানা।

অবৈধ কারেন্ট জাল ব্যবহারকারীদের বিরুদ্ধে অভিযান অব্যাহত থাকবে ও প্রয়োজনে জেলেদের আইনের আওতায় আনা হবে বলে জানান তিনি।

অভিযান পরিচালনায় সহযোগিতা করেন উপজেলা মৎস্য কর্মকর্তা বোরহান উদ্দিন ও লাখাই থানার একদল পুলিশ সদস্য।

শাবিতে হবিগঞ্জের ১১ জনের করোনা শনাক্ত

নিজস্ব প্রতিনিধি: শাবির ল্যাবে শনিবার (৫ সেপ্টেম্বর) ১৪২টি নমুনা পরীক্ষায় সিলেট বিভাগের ৩৩ জন করোনা পজিটিভ শনাক্ত হয়েছেন। এর মধ্যে হবিগঞ্জের ১১ জন রয়েছে।

শাবির জিইবি বিভাগের প্রভাষক জি এম নুরনবী আজাদ জুয়েল বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।

তিনি জানান, নতুন শানক্তদের মধ্যে সিলেটের ২ জন ও সুনামগঞ্জের ১০ জন, মৌলভীবাজারের ১০ জন ও হবিগঞ্জ জেলার ১১ জন।

ব্যাচ ৯৪ চুনারুঘাট এর বর্ণিল যাত্রা শুরু

আবুল কালাম আজাদ ,চুনারুঘাট (হবিগঞ্জ): হবিগঞ্জের চুনারুঘাট উপজেলার সকল বিদ্যালয় ও মাদ্রাসার ৯৪ ব্যাচের শিক্ষার্থীদের নিয়ে ২৬ বছর ব্যাচ-৯৪ এর বর্ণিল যাত্রা শুরু হয়েছে।

শুক্রবার দিনব্যাপী সাতছড়ি জাতীয় উদ্যানে সহপাঠী ৯৪ এর ১ম পুনর্মিলনীর মাধ্যমে এ সংগঠনআত্বপ্রকাশ করে।

চুনারুঘাটের প্রায় সকল বিদ্যালয়ের ৯৪ ব্যাচটি আইকন হিসেবে পরিচিত। কারণ একমাত্র এ ব্যাচেই দেশের নামকরা ডাক্তার, উপ সচিব, ইঞ্জিনিয়ার থেকে শুরু করে দেশ বিদেশের নানা প্রান্তে মেধাবিরা ছড়িয়ে আছে। দীর্ঘদিন এ ব্যাচটি বিদ্যালয় ভিত্তিক আর্তমানবতার সেবা ও সামাজিক নানা কাজে সম্পৃক্ত হলেও এবারই প্রথম অধিকাংশ বিদ্যালয়ের ৯৪ ব্যাচের শিক্ষার্থীদের নিয়ে একসাথে সংগঠনের আত্বপ্রকাশ ঘটলো যা চুনারুঘাটে কোন ব্যাচের এই প্রথম।

শুক্রবার সকাল থেকেই ব্যাচ ৯৪ এর বন্ধুরা চুনারুঘাট শহরে আনন্দ র‌্যালীর মাধ্যমে
তাদের আত্বপ্রকাশ জানান দেন। এরপর দুটি বাসযোগে শতাধিক বন্ধু চা বাগান
পেরিয়ে সকাল সাড়ে ১০টায় পৌছান সাতছড়ি জাতীয় উদ্যানে। নানা হই হুল্লুড় আর  ছুটাছুটির মধ্যেই শুরু হয পরিচয় পর্ব। ব্যাচ ৯৪ এর বন্ধু সরকারের সংস্কৃতি মন্ত্রনালয়ের উপ সচিব মোস্তফা মোর্শেদ এর সঞ্চালনায় পরিচষয় পর্ব শেষে শুরু হয় স্কুল জীবণের নানা স্মৃতিচারণ। বেলা সাড়ে ১২টায় প্রথম পর্বের সমাপ্তি ঘটে।

জুম্মার নামাজ শেষে শুরু হয় খাবার দাবার পর্ব। শুরুতেই যোগ দেন ব্যাচ ৯৪ এর তিন কৃতি ডাক্তার, বিশিষ্ট চক্ষু বিশেষজ্ঞ ও সার্জন ডাঃ আব্দুল মোন্তাকিম সাহিদ, বিশিষ্ট অর্থপেডিক ও সার্জন ডাঃ মোস্তাহিজুর রহমান মোমেন ও আরেক কৃতি বন্ধু চুনারুঘাট উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডাঃ মোজাম্মেল হোসেন এবং সাবেক ছাত্রনেতা সাইফুল আলমরুবেল।

খাবারের দায়িত্ব পাওয়া ব্যাচ ৯৪ এর আব্দুল মুকিত, খায়রুল হাসান, মোঃ লিটন, মুরাদ, হাফিজসহ কয়েকজন খাসি, চিকেন আর ইলিশ ছাড়াও দই আর ড্রিংস দিয়ে সবার মন জয় করে নেন।

বিকেলে দ্বিতীয় পর্বে ছিল ৯৪ ব্যাচের
যাত্রার প্রাক্ষালের কথা ও নানা পরিকল্পনা এবং আর্তমানবতার সেবায় কল্যাণকর কিছু করা প্রয়াস। সেখানে আলোচনায় অংশ নেন উপ-সচিব মোস্তফা মোর্শেদ, ডাঃ মোজাম্মেল হোসেন, ডাঃ মোস্তাহিজুর রহমান মোমেন, ডাঃ মোন্তাকিম সাহিদ, সাইফুল আলম রুবেল, আমেরিকা প্রবাসী আব্দুর রউফ জলাই, নুরুল গনি সজিব, আকিকুর রহমান মোবেদ, ইঞ্জিনিয়ার দেওয়ান বদরুল আলম, নাসির উদ্দিন চৌধুরী, লুৎফুর রহমান, জাহাঙ্গীর আলম, আজাদ, সোহেল, জাকারিয়া, শফিকুল ইসলাম মনা, ছায়েব আলী, আফজাল চৌধুরী, মোহাম্মদ আলী, টিপুসহ অনেকেই।

সামারান্তে গুরুত্বপুর্ণ বিষয়গুলো কার্যকরের সিদ্ধান্ত হয়।

এরপরই শুরু হয় উপহার প্রদান ও র‌্যাফেল ড্র। এতে মোস্তফা মোর্শেদ, মনিলাল, সজল, সজিব, মুকিতসহ অনেকেই সহযোগিতা করেন।

ব্যাচ ৯৪ এর দিনব্যাপী পুনর্মিলণীর সকল আয়োজনের পেছনে যারা অগ্রণী
ভুমিকা পালন করেছেন তাদের প্রবাসী বন্ধু আব্দুর রউফ জলাই, উপ সচিব মোস্তফা
মোর্শেদ. খায়রুল হাসান, নুরুল গনি সজিব, লিটন, মুকিত, মনিলাল, রাহী, মুরাদ, সোহেলসহ আরও অনেকেই।

রেজিষ্ট্রেশনের অর্থ ছাড়া তাদেরকে মোটা অর্থ দিয়ে সহযোগিতা করেছেন, আমেরিকা প্রবাসী আব্দুর রউফ জলাই, ডাঃ মোস্তাহিজুর রহমান মোমেন, ডাঃ মোন্তাকিম সাহিদ, ডাঃ মোজাম্মেল,
আমেরিকা প্রবাসী তায়েফুর রহমান বায়েস, ফিলিপাইন প্রবাসী মোস্তাফিজ চৌধুরী, প্রবাসী শেখ তাহিরসহ অনেক প্রবাসী বন্ধুরা। তাদের প্রতিও সর্বশেষ কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করা হয়।

হবিগঞ্জ ছাত্রসেনার বিক্ষোভ মিছিল

প্রেস বিজ্ঞপ্তি: ফ্রান্সের বিতর্কিত পত্রিকা শার্লি এব্দতে রাসূল (দ:)-কে নিয়ে ব্যঙ্গচিত্র প্রকাশ এবং সুইডেনের দক্ষিণাঞ্চলীয় মালমো শহরে উগ্রপন্থী খ্রিষ্টান কর্তৃক পবিত্র কুরআন শরীফে অগ্নিসংযোগের প্রতিবাদে হবিগঞ্জ জেলা ছাত্রসেনার বিক্ষোভ মিছিল ও মানববন্ধন অনুষ্ঠিত হয়েছে।

শনিবার বাদ জোহর জেলা ছাত্রসেনার অস্থায়ী কার্যালয় থেকে এই বিক্ষোভ মিছিল শুরু হয়ে শহরের বিভিন্ন স্থান প্রদর্শন করে শায়েস্তানগর ট্রাফিক পয়েন্ট এলাকায় মানববন্ধনের মাধ্যমে সমাপ্ত হয়।

বাংলাদেশ ইসলামী ছাত্রসেনা, হবিগঞ্জ জেলার সংগ্রামী সভাপতি শাহজাদা সৈয়দ মোহাম্মদ আলী বশনীর সভাপতিত্বে এবং সাধারণ সম্পাদক এম.এ. কাদিরের সঞ্চালনায় মানববন্ধনে প্রধান অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন হবিগঞ্জ জেলা আহলে সুন্নাত ওয়াল জামা’আতের সভাপতি পীরে তরিকত মাওলানা শাহ জালাল আহমদ আখঞ্জি।

অন্যান্যদের মধ্যে বক্তব্য রাখেন জেলা আহলে সুন্নাত ওয়াল জামাতের সহ-সভাপতি জনাব এমডি মুহিত, সাধারণ সম্পাদক মাওলানা শহিদুল ইসলাম সাহেব, হবিগঞ্জ জেলা ইসলামী ফ্রন্টের সহ-সভাপতি মাওলানা আবুল খায়ের শানু, মাওলানা সাইফুল মোস্তফা, সাধারণ সম্পাদক জাহিদুল ইসলাম বিএসসি, অর্থ সম্পাদক মুফতি খাইরুদ্দিন,সাহিত্য ও সাংস্কৃতিক বিষয়ক সম্পাদক মোঃ আব্দুল ওয়াদুদ, হবিগঞ্জ জেলা যুবসেনা সভাপতি হাবিবুর রহমান হাবিব, সহ-সভাপতি মাওলানা আব্দুল কাদের বিপ্লবী,ইসলামী ছাত্রসেনা কেন্দ্রীয় পরিষদের সংগ্রামী সাংগঠনিক সম্পাদক ছাত্রনেতা কাউসার আহমেদ রুবেল, সহ সাংগঠনিক সম্পাদক ছাত্রনেতা শাহ আলম, ছাত্রনেতা মইনুল ইসলাম।

অন্যান্যদের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন হবিগঞ্জ জেলা ছাত্রসেনা সাংগঠনিক সম্পাদক আব্দুল আউয়াল সুমন, মুহাম্মদ রহমত আলী, নাহিদুল ইসলাম, হানিফ আহমেদ সজীব, সদর উপজেলা ছাত্রসেনা সভাপতি মুহিবুর রহমান রাজন, পৌর ছাত্রসেনা সভাপতি গোলাম শাফিউল আলম মাহিন, রিদওয়ান আহমেদ খান, ইমরান হোসেন, সাইফুল ইসলাম হামজা, আমির হামজা মামুনসহ প্রমুখ।

এসময় বক্তারা উক্ত ঘটনা দুটির তীব্র নিন্দা এবং প্রতিবাদ জানিয়ে জাতিসংঘের কাছে এ ঘটনা গুলোর বিচার দাবি করেন। অন্যথায় দেশব্যাপী কঠোর আন্দোলনের হুঁশিয়ারি দেন। পরিশেষে সারাবিশ্বে নির্যাতিত মুসলমাদের উপর আল্লাহর রহমত কামনা করে মুনাজাত পরিচালনা করা হয়।

নারায়ণগঞ্জে মসজিদে বিস্ফোরণে মৃতের সংখ্যা বেড়ে ১৪

করাঙ্গীনিউজ: নারায়ণগঞ্জ শহরের বায়তুস সালাত জামে মসজিদে নামাজ আদায় করতে গিয়ে বিস্ফোরণে দগ্ধ আরেক শিশুর মৃত্যু হয়েছে। তার নাম মাইনুদ্দিন (১২)।

শনিবার দুপুরে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে স্থাপিত শেখ হাসিনা জাতীয় বার্ন ও প্লাস্টিক সার্জারি ইনস্টিটিউটে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তার মৃত্যু হয়।

শেখ হাসিনা জাতীয় বার্ন ও প্লাস্টিক সার্জারি ইনস্টিটিউটের আবাসিক চিকিৎসক পার্থ শংকর পাল যুগান্তরকে বলেন, দুপুরে মাইনুদ্দিন নামে আরও এক শিশু মারা গেছেন।

এর আগে অগ্নিদগ্ধ হয়ে গতকাল রাতে জুবায়ের নামে সাত বছরের এক শিশু মারা যায়।

বিস্ফোরণের ঘটনায় এ পর্যন্ত এই দুই শিশু ও মুয়াজ্জিনসহ মোট ১৪ জনের মৃত্যু হলো। এছাড়া দগ্ধ আরও ২৩ জনের অবস্থা আশঙ্কাজনক।

গতকাল শুক্রবার রাত সাড়ে ৮টার দিকে নারায়ণগঞ্জ শহরের পশ্চিম তল্লা এলাকায় বায়তুস সালাত জামে মসজিদে বিকট শব্দে বিস্ফোরণ ঘটে। এতে অর্ধশতাধিক মুসল্লি দগ্ধ হন।

দগ্ধ ব্যক্তিদের মধ্যে ৩৭ জনকে গুরুতর অবস্থায় ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। তাদের মধ্যে ১৩ জনের মৃত্যু হলো।

বিস্ফোরণে মসজিদের ছয়টি এসি পুড়ে গেছে। জানালার কাচ উড়ে গেছে। ফায়ার সার্ভিসের ৫টি ইউনিট ঘটনাস্থলে এসে আধা ঘণ্টা চেষ্টা চালিয়ে আগুন নিয়ন্ত্রণে আনে।

ফেঞ্চুগঞ্জে ট্রেনে কাটা পড়ে যুবকের মৃত্যু

নিজস্ব প্রতিনিধি, সিলেট: সিলেটের ফেঞ্চুগঞ্জে ট্রেনের নিচে কাটা পড়ে আল আমিন (২২) নামের এক যুবকের মৃত্যু হয়েছে।

শনিবার সকালের দিকে এ দুর্ঘটনাটি ঘটে।

সে উপজেলার উত্তর কুশিয়ারা ইউনিয়নের পাঠানচক গ্রামের আয়াজ আলীর ছেলে।

বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন সিলেট রেলওয়ে থানার সাব ইন্সপেক্টর দিপন। তিনি বলেন, ঢাকাগামী জয়ন্তিকা এক্সপ্রেসের নিচে কাটা পড়ে যুবক নিহত হয়েছে। বিস্তারিত জানতে দূর্ঘটনাস্থলের সিলেট রেলওয়ে থানা পুলিশের একটি দল গেছে।

প্রতক্ষ্যদর্শীরা জানান, আজ শনিবার দিকে উপজেলার উস্তারের ও মোস্তফার সড়কের রেলওয়ের মধ্যেখানে ঢাকাগামী জয়ন্তিকা এক্সপ্রেসের নিচে কাটা পড়ে আল আমিনের মৃত্যু হয়।

এই সময় তার দেহ ছিন্নভিন্ন টুকরা রেলওয়ের আশেপাশে পাওয়া যায়। তবে কিভাবে আল আমিন ট্রেনের নিচে কাটা পড়ে সেই তথ্য এখনো পাওয়া যায়নি।

সাইফুর রহমানের মৃত্যুবার্ষিকী আজ

নিজস্ব প্রতিনিধি: খ্যাতিমান অর্থনীতিবিদ, সাবেক অর্থ ও পরিকল্পনামন্ত্রী এম সাইফুর রহমানের ১১তম মৃত্যুবার্ষিকী আজ শনিবার। ২০০৯ সালের ৫ সেপ্টেম্বর তিনি ইন্তেকাল করেন। মৃত্যুবার্ষিকী উপলক্ষে ‘মরহুম এম সাইফুর রহমান স্মৃতি পরিষদ’ আয়োজন কোরআন খতম, আলোচনা সভা, মিলাদ ও দোয়া মাহফিলের আয়োজন করেছে।

এদিকে সিলেট জেলা ও মহানগর বিএনপির পৃথক প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়েছে, সাইফুর রহমানের মৃত্যুবার্ষিকী উপলক্ষে শনিবার (৫ সেপ্টেম্বর) বাদ আসর দরগাহ মসজিদে জেলা বিএনপির উদ্যোগে মিলাদ ও দোয়া মাহফিলের আয়োজন করা হয়েছে।

সাইফুর রহমান বাণিজ্যমন্ত্রী, পরিকল্পনামন্ত্রী ও একাধিকবার অর্থমন্ত্রীর দায়িত্ব পালন করেছেন। তার রাজনৈতিক জীবন শুরু হয় ১৯৭৬ সালে জিয়াউর রহমান সরকারের বাণিজ্য উপদেষ্টা হিসেবে। তিনি ১৯৭৯ সালে মৌলভীবাজার-৩ আসন থেকে সংসদ সদস্য হিসেবে নির্বাচিত হন। পরে ১৯৯৬ সালে ষষ্ঠ ও সপ্তম জাতীয় সংসদ নির্বাচনে মৌলভীবাজার-৩ আসন এবং ২০০১ সালে অষ্টম জাতীয় সংসদ নির্বাচনে মৌলভীবাজার-৩ ও সিলেট-১ আসন থেকে নির্বাচিত হন। অর্থমন্ত্রী হিসেবে সংসদে ১২ বার বাজেট উপস্থাপন করেন তিনি।

পরিবেশ মন্ত্রীর শহরে পানির মারণ! বড়লেখাবাসীর বিড়ম্বিত জীবনের গল্প

আবদুল কাদের তাপাদার: স্বাধীনতার সুদীর্ঘকাল পর দেশের সীমান্তবর্তী ও ঐতিহ্যবাহী জনপদ বড়লেখা অঞ্চলে একজন পূর্ণ মন্ত্রীর গাড়িতে পতাকা উড়ছে। এই দৃশ্যমান চেতনা এলাকাবাসীকে গৌরবান্বিত করেছে। বড়লেখা পৌরসভার প্রাণকেন্দ্র পাখিয়ালার বাসিন্দা সরকারের বন, পরিবেশ ও জলবায়ু পরিবর্তন মন্ত্রী মোঃ শাহাব উদ্দিন তৃণমূল থেকে উঠে আসা একজন জনদরদী রাজনীতিক।

মহামারী করোনা পরিস্থিতিতে এলাকার অসহায় গরীব মানুষের মাঝে মন্ত্রীর ব্যক্তিগত ও মানবিক সহায়তা সাধারণ মানুষের মধ্যে আলোচিত হয়েছে। গণমাধ্যমেও বিষয়টি ইতিবাচকভাবে এসেছে।

কিন্তু সপ্তাহান্তে বড়লেখা পৌরসভাসহ আশপাশের বিপুল সংখ্যক অধিবাসীর জীবনে পানির মারণ অস্বস্তিকর ও চরম বিড়ম্বনার এক বিপর্যস্ত পরিস্থিতির সৃষ্টি করে। যা বিগত ৫০ বছরে দেখেনি বড়লেখার মানুষ। ৫ বছর আগে এমনই হঠাৎ
ভারীবর্ষণে পাহাড় ভাঙ্গা ঢল নেমে প্লাবিত হয়েছিল বড়লেখা শহর। মাত্র দুই ঘন্টায় পানি নেমে গেলেও কিছু ক্ষয়ক্ষতি হয়েছিল।

কিন্তু গত রোববার, সোমবার জুড়ে তিন দফায় ৯/১০ ঘন্টার পাহাড়ি ঢল বড়লেখা শহরসহ আশপাশের সড়কপথ, রাস্তাঘাট, হাটবাজার, অফিস আদালত ও মাঠের ফসলী জমির ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে। দোকানপাটে পানি উঠেছে।
এক, দুইদিনে সমস্ত পৌরশহরের মানুষ জীবনযাত্রায় বড় ধরনের বিড়ম্বনা ও বিপর্যস্ত পরিস্থিতির মুখোমুখি হন।

এক ধরনের উঁচু ও পাহাড় টিলার পাদদেশে এই এলাকার ভৌগোলিক পরিমণ্ডল গড়ে উঠায় অধিবাসীরা এর আগে কখনো এমন পরিস্থিতির সম্মুখীন হননি। ফলে উপজেলা পরিষদ এলাকা, বড়লেখা শহরের দোকানপাট, সড়ক ও জনপথের ব্যস্ত সড়ক, বড়লেখা উত্তর চৌমুহনা থেকে দক্ষিণের নিকড়িছড়ার পার কাঠালতলী পর্যন্ত শিক্ষা প্রতিষ্ঠানসহ গুরুত্বপূর্ণ স্হাপনা পানিতে সয়লাব হয়ে যায়।

পানিতে ডুবে যাওয়ার এমন উদ্বেগজনক পরিস্থিতির অস্বাভাবিক চিত্র সামাজিক যোগাযোগের কল্যানে দেশ বিদেশে মুহূর্তেই ভাইরাল হয়ে যায়। দেশে বিদেশে অবস্থানরত বড়লেখাবাসী পৌরসভা কর্তৃপক্ষকে এজন্য দায়ী করে নানা তির্যক মন্তব্য করতে দেখা যায়।

যেদিন যেভাবে ঢলের তোড়ে ভেসে যায় পৌরশহর

স্থানীয় অধিবাসীরা জানান, শনিবার রাত ১১টা থেকে বড়লেখায় ভারী বৃষ্টিপাত শুরু হয়ে একটানা চলে রোববার সকাল ৯টা পর্যন্ত। প্রায় ১০ ঘন্টার ভারী বর্ষণ ও উজান থেকে নেমে আসা ঢলের পানি দ্রুত নেমে যেতে না পারায় পৌর শহরের বিভিন্ন বাসা-বাড়ি ও ব্যবসা প্রতিষ্ঠানে ঢুকে পড়ে। এছাড়া বড়লেখা-মৌলভীবাজার আঞ্চলিক মহাসড়কের বিভিন্নস্থান তলিয়ে যায়। রোববার বৃষ্টি কম হলেও সোমবার সকালের ভারীবর্ষণে নতুন নতুন এলাকা প্লাবিত হয়েছে।

বড়লেখা শহরের একজন ব্যবসায়ী জানান, বৃষ্টি ও উজান থেকে নেমে আসা ঢলে শহরের বিভিন্ন বাসা ও ব্যবসা প্রতিষ্ঠানে পানি উঠেছে। বিভিন্ন ব্যবসা প্রতিষ্ঠানে পানি ওঠে মালামাল নষ্ট হয়েছে। বড়লেখা-মৌলভীবাজার আঞ্চলিক মহাসড়কের বড়লেখা থানা, হাসপাতাল, উপজেলা পরিষদ, পল্লী বিদ্যুতের সাব-স্টেশন, ফায়ার সার্ভিস স্টেশনের সম্মুখ, কাঠালতলী বাজার ও দক্ষিণভাগের টিলাবাজার নামক স্থান পানিতে তলিয়ে গেছে। এসব স্থানে পানি ওঠায় যানবাহন চলাচল ব্যাহত হয়েছে। পানি ঠেলে চলতে গিয়ে অনেক যানবাহন বিকল হয়ে মারাত্মক ক্ষতির মুখে পড়েছেন চালক মালিকরা। মানুষজনকে পানি মাড়িয়ে চলাচল করতে চরম দুর্ভোগে পোহাতে হয়েছে।

পৌর শহরের কয়েকজন বাসিন্দার অভিযোগ, দখল আর দূষণে নালা, ছড়া-খাল ভরাট হয়ে যাওয়ায় পানি প্রবাহের পথ বন্ধ হয়ে পড়েছে। ফলে বিভিন্ন সময় বৃষ্টি ও উজান থেকে নেমে আসা ঢলের পানি দ্রুত নামতে না পেরে গোটা পৌর শহরে জলাবদ্ধতার সৃষ্টি হয়। এছাড়া পৌরশহরে অপর্যাপ্ত ড্রেনেজ ব্যবস্থার কারণেও অল্প বৃষ্টিতে কৃত্রিম জলাবদ্ধতা দেখা দেয়। যার কারণে স্থানীয়দের বাসা বাড়ি ও ব্যবসা প্রতিষ্ঠানে পানি ঢোকায় তাদের লাখ লাখ টাকার ক্ষয়ক্ষতি হয়।

বড়লেখা পৌরশহরে বিশেষ করে এমন পরিস্থিতিতে আওয়ামী লীগ সরকার তথা মন্ত্রী শাহাব উদ্দিনের দীর্ঘ সফলতায় বিরোধিরা একটা অজুহাত খোঁজার চেষ্টা করতেই পারে! কারা এমন পরিস্থিতি তৈরি করছেন? কেনো এমন কিছু মুখরোচক প্রশ্নের মুখোমুখি আজ ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগ?

বড়লেখার মাটি মানুষের নেতা ও সরকারের জনপ্রিয় মন্ত্রী শাহাব উদ্দিন তৃণমূল পর্যায়ে আলাপ আলোচনা করে বড়লেখার প্লাবন সম্পর্কে খোঁজ নিয়েছেন বলে একটি সূত্র জানিয়েছে। তিনি এ ব্যাপারে প্রশাসনিকভাবেও জানার চেষ্টা করতে পারেন বলে জানিয়েছেন বড়লেখা আওয়ামী লীগের একজন নেতা।

ষাটমা নিকড়িছড়া খননের নামে লেফাফাদুরস্ত, দায়িত্বহীনতার অভিযোগ

কয়েক বছর আগে যখন মাত্র ৬/৭ ঘন্টার ভারীবর্ষণে পাহাড়ি ঢলের তোড়ে বড়লেখা পৌরশহর আকস্মিক পানিতে নিমজ্জিত হয়ে পড়ে তখন থেকেই আলোচনায় আসে পাথারিয়া পাহাড়ে সৃষ্ট এককালের খরস্রোতা পাহাড়ি ছড়া ষাটমা নিকড়িছড়া খননের প্রসংগ।

বড়লেখা শহরের উজানে এই দুটি খরস্রোতা পাহাড়ি ছড়া ভরাট হয়ে যাওয়াকে পৌরশহরের আকস্মিক বন্যার কারণ হিসেবে চিহ্নিত করা হয়। নানাভাবে আলাপ আলোচনার পর বর্তমান মেয়র আবুল ইমাম মো. কামরান চৌধুরীর বিশেষ প্রচেষ্টায় এবং মন্ত্রী শাহাব উদ্দিনের ঐকান্তিক সহযোগিতায় বাংলাদেশ কৃষি উন্নয়ন কর্পোরেশন বড়লেখা পৌশহরকে অকাল বন্যার হাত থেকে রক্ষায় “বন্যা, জলাবদ্ধতা ও তীরবর্তী পতিত ভূমি সেচের আওতায় নিয়ে আসতে “বড়লেখা পৌরসভার উত্তর সীমানার পাহাড়ি ছড়া ষাটমা ও দক্ষিণ সীমানার নিকড়িছড়া পুনঃখননের প্রকল্প নেয়।

কিন্তু খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, কয়েক দফায় এই দুটি ছড়ার পুনঃখননের কাজের নামে এক ধরনের লেফাফাদুরস্ত করা হয়। মেয়র কামরান চৌধুরী এসব কাজের সার্বিক তত্ত্বাবধান করেন। ঠিকাদারির দায়িত্ব পালন করেন বিএডিসির লোকজন। কিন্তু এই প্রতিবেদকের সাথে আলাপকালে মেয়র কামরান চৌধুরী ও বর্তমানে খাগড়াছড়িতে দায়িত্বরত তৎকালীন মৌলভীবাজার বিএডিসির সাব এসিট্যান্ট ইঞ্জিনিয়ার গিয়াসউদ্দিনের বক্তব্যে বিস্তর ফারাক লক্ষ্য করা যায়।

মেয়র কামরান জানিয়েছেন তিনি কাজের তদারকি করেছেন। সবকিছু তার মনে নেই। প্রকল্পে কতো টাকা ব্যয় হয়েছে বা কত কিলোমিটার খনন হয়েছে তা বিএডিসির ঠিকাদাররা বলতে পারবেন। বিএডিসির যে কর্মকর্তা এখানে কাজ করেছেন সেই গিয়াস উদ্দিনের সঙ্গে আলাপকালে জানান, তিনি এখন খাগড়াছড়িতে কর্মরত আছেন।

তিনি জানান, দুই ছড়া মিলে ৪ কিলোমিটার খনন করা হয়েছে বলে তার মনে হয়। এবং এই প্রকল্পের বাজেট খুব বেশি নয়। ১৪/১৫ লাখ টাকা হতে পারে। তবে মেয়র কামরান চৌধুরী দুই ছড়া মিলে ৬ কিলোমিটার খনন হয়েছে বলে জানান। তিনি জানান, বাজেট কত তাঁর সঠিক মনে নেই। তবে প্রায় কোটি টাকার কাছাকাছি হবে বলে তার ধারণা।

কাউন্সিলর যেহিন সিদ্দিকীর আগ্রহের প্রকল্প, মেয়র জানতে দেননি কিছুই

ষাটমা ও নিকড়িছড়া পুনঃখনন প্রকল্প নিয়ে প্রথম থেকেই খুব আগ্রহ নিয়ে খোঁজ খবর রাখছিলেন বড়লেখা পৌরসভার প্রভাবশালী কাউন্সিলর, উপজেলা আওয়ামী লীগের দফতর সম্পাদক যেহিন সিদ্দিকী। তিনি জানান, বড়লেখাকে অকাল বন্যার হাত থেকে রক্ষায় এলাকার সংসদ সদস্য ও মন্ত্রী শাহাব উদ্দিন ভাইয়ের বিশেষ সহযোগিতায় এই প্রকল্প আলোর মুখ দেখে।

কিন্তু খাল পুনঃখনন প্রকল্পের নামে এই প্রকল্পে অনিয়ম ও দুর্নীতির ঘটনা ঘটেছে। সত্যিকারার্থে, প্রকল্প অনুযায়ী খাল খনন হলে মাত্র দুই বছরের মাথায় বড়লেখা পৌর শহর পানিতে ডুবে সয়লাব হতো না।

তিনি অভিযোগ করেন, খাল পুনঃখনন প্রকল্প অনুযায়ী খালের তলদেশ থেকে আরো ৬ ফুট গভীর পর্যন্ত খনন করার কথা। কিন্তু দেখা গেছে, খালের সাইড খুঁড়ে কিছু মাটি পারে তোলা হয়েছে। ফলে গত দুবছর ধরে পাহাড়ী ঢল নেমে ধীরে ধীরে পারের মাটি খালে পড়ে তা আরো বেশি আকারে ভরাট হয়ে পড়েছে।

এবার ভারী বর্ষণ ও একটানা পাহাড়ি ঢলের তোড়ে তাই খালের দু পার ছাপিয়ে জনপদের বাসা বাড়ি, দোকানপাট, সড়কপথসহ সবকিছু প্লাবিত হয়েছে। সঠিক নিয়মে খাল পুনঃখনন হলে অনেক বছর ঢলের পানি খাল নালা ধরে রাখতে পারতো। প্রকল্পের আরেকটি উদ্দেশ্য পারের পতিত জমিতে সেচ দিয়ে। ফসল আবাদ করা যেতো। কিন্তু অনিয়মের কারণে সবকিছু ভেস্তে গেছে।

পৌর পরিষদের সভায় এই প্রকল্প সম্পর্কে জানতে চাইলে মেয়র কামরান কিছুই জানতে দেননি বলে দাবি করেছেন কাউন্সিলর যেহিন সিদ্দিকী।

তিনি বলেন, এ বিষয়ে শুধু মেয়র কামরান সবকিছুই জানেন। তিনিই এই প্রকল্প তদারকি করেছেন। আমরা খাল খনন প্রকল্পে তাকেই শুধু দেখেছি। কোনো ঠিকাদারকে দেখিনি। যেহিন জানান, এই প্রকল্পে কয়েক কোটি টাকার বাজেট ছিল বলে তার ধারণা। খান খননের নামে দুই ছড়ায় ৭ কিলোমিটার খোঁড়া হয়েছে বলে তিনি মনে করেন।

যেহিনের এই অভিযোগের বিষয়ে জানতে চাইলে মেয়র কামরান বলেন, এই প্রকল্প তাকে জানানোর কথা নয়। আমি একা কিছুই করিনি। বিএডিসি সবকিছু করেছে। আমি তদারকি করেছি।

অপরিকল্পিত পৌর শহর, জোর যার মূলক তার

২০০১ সালে সাবেক বড়লেখা সদর ইউনিয়নকে ভেঙে উপজেলা সদরের ৭ বর্গ কিলোমিটার এলাকা নিয়ে গড়ে উঠে বড়লেখা পৌরসভা। বড়লেখা পৌরসভার যাত্রা শুরুর প্রায় দুই দশক অতিক্রান্ত হতে চললেও আজো কোনো সমন্বিত পরিকল্পনা নেয়া হয়নি।

সম্পূর্ণ অপরিকল্পিতভাবে গড়ে উঠছে বড়লেখা পৌর শহর। শহরের অনেক নালা খাল এখন তার অস্তিত্ব হারিয়েছে। সওজসহ সরকারি জায়গা দখল করে স্হায়ী স্হাপনা গড়ে তোলা হয়েছে। অবৈধভাবে অনেক ভূমি অনেক দখল করে বাসা বাড়ি, দোকান পাট নির্মাণের হিড়িক পড়েছে। জোর যার মূলক তার নীতিতে বদলে যাচ্ছে বড়লেখা পৌর শহর।

পৌর শহরের উত্তর সীমানা ষাটমা ছড়া থেকে উত্তরে পানিধার নিকড়িছড়া এলাকা পর্যন্ত দখল বেদখলের খেলা চলছে। এটা দেখার যেনো কেউ নেই। তাছাড়া পৌরসভা গঠিত হলেও এখন পর্যন্ত শহরে পর্যাপ্ত ড্রেনেজ ব্যবস্হা গড়ে উঠেনি।পয় নিষ্কাশনের তেমন কোনো পরিকল্পিত ব্যবস্হাপনাও গড়ে তোলা হয়নি।

দখলে ক্ষিনেশ্বরী খাল, লংলীছড়াসহ নালা খালের অস্তিত্ব হারাচ্ছে

বড়লেখা পৌর শহর এলাকায় উপজেলা কমপ্লেক্স সংলগ্ন টিটিডিসি স্কুলের পাশ দিয়ে বয়ে যাওয়া একসময়ের পাহাড়ি খরস্রোতা ক্ষিনেশ্বরী খাল কিংবা উত্তর বাজার বালিকা বিদ্যালয়ের পাশ দিয়ে বয়ে যাওয়া লংলীছড়া ও নিমাই কালভার্টের অস্তিত্ব এখন হারিয়ে যেতে বসেছে।

এভাবে খাল নালা এবং সড়ক জনপথের জায়গা দখল করে বাড়িঘর, দোকাটপাটসহ নানা রকম স্হাপনা গড়ে তোলা হয়েছে। প্রতিনিয়ত দখল বেদখলের খেলা চললেও এসব অনিয়মের বিরুদ্ধে কেউ কোনো ব্যবস্হা নিচ্ছেন না বলে অভিযোগ পৌরবাসী সচেতন মানুষের।

ক্রম বর্ধমান প্রায় অর্ধ লক্ষ মানুষের এই পৌর শহরে দিন দিন বাড়ছে জীবনের কোলাহল। মানুষ বাড়ছে। দোকানপাট, বাণিজ্যিক বিপণী, শিক্ষা প্রতিষ্ঠান, বাড়িঘর বৃদ্ধি পাচ্ছে। কিন্তু সেরকম সুযোগ সুবিধা বাড়ছে না। যে যার মতো সেখানে যেখানে স্হাপনা নির্মাণ করছেন। কেউ এতে বাধা দিচ্ছেন না।

এক ধরনের বেপরোয়া প্রতিযোগিতা চলছে স্হাপনা নির্মাণের। এভাবেই সম্পূর্ণ অপরিকল্পিতভাবে গত দুই দশক ধরে অগোছালোভাবে গড়ে শহরের অবকাঠামো। যা ভবিষ্যতের জন্য হুমকিস্বরূপ বলে মনে করছেন পৌরসভার অনেক বাসিন্দা।

প্রায় দুই দশকেও প্রাতিষ্ঠানিক রূপ পায়নি এই পৌরসভা

২০০১ সালে বড়লেখা পৌরসভা গঠনের পর প্রথমে প্রশাসক হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন তৎকালীন উপজেলা নির্বাহী অফিসার- ইউএনও জসিম উদ্দিন বাদল। ২০০৩ সালে পৌরসভার প্রথম নির্বাচনে পৌরসভা চেয়ারম্যান হিসেবে নির্বাচিত হন আওয়ামী লীগ নেতা আবদুল মালিক।

তার দায়িত্বকালিন সময়েই চেয়ারম্যান পদবীটিকে সরকার মেয়র হিসেবে ঘোষণা করে। বর্ধিত মেয়াদে দায়িত্ব পালনকালিন সময়ে ২০০৮ সালে মহবন্দ প্রকাশিত সোনাপুর নিবাসী মেয়র আবদুল মালিক ইন্তেকাল করেন।

পরবর্তীতে প্যানেল মেয়র ও বিএনপি নেতা পাখিয়ালার মতিউর রহমান ইরাজ আলী ভারপ্রাপ্ত মেয়র হিসেবে ২০১১ পর্যন্ত দায়িত্ব পালন করেন। পরবর্তী পৌরসভা নির্বাচনে বিএনপি নেতা গাজিটেকার ফখরুল ইসলাম মেয়র হিসেবে বিজয়ী হন। সর্বশেষ নির্বাচনে পৌরসভার মহবন্দের বাসিন্দা উপজেলা আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক ও উপজেলা ছাত্র লীগের সাবেক সভাপতি আবুল ইমাম মোঃ কামরান চৌধুরী মেয়র নির্বাচিত হন। বর্তমানে তিনি মেয়র হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন।

বড়লেখা বি-ক্যাটাগরির একটি পৌরসভা। বিগত ২০ বছরেও পৌরসভার নিজস্ব কোনো ভবন নির্মিত হয়নি। জেলা পরিষদের “উপজেলা জনমিলন কেন্দ্র” কে পৌরসভা অস্হায়ী অফিস হিসেবে ব্যবহার করছে।

অপরিকল্পিত শহর, ড্রেনেজ সংকট ও বেদখলের কথা সবার মুখে

বড়লেখা শহরে অকাল বন্যায় ক্ষয়ক্ষতি ও বাসিন্দাদের বিড়ম্বনার জীবন প্রসংগে কথা বলতে গিয়ে সাবেক ও বর্তমান মেয়রসহ আওয়ামী লীগ এবং বিএনপির নেতৃবৃন্দ
অপরিকল্পিত শহরে অপর্যাপ্ত পয়ঃনিষ্কাশন, ড্রেনেজ ব্যবস্হার সংকট এবং দখল বেদখলের কারণে বিপর্যস্ত অবস্থার কথা প্রায় একই সুরে উচ্চারণ করেছেন।

বড়লেখা উপজেলা পরিষদের তরুণ জনপ্রিয় ও প্রভাবশালী চেয়ারম্যান, উপজেলা আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক সোয়েব আহমদ, বড়লেখা উপজেলা পরিষদের ভাইস চেয়ারম্যান ও উপজেলা যুবলীগ সভাপতি তাজ উদ্দিন, সাবেক মেয়র, বিএনপি নেতা ফখরুল ইসলাম, সাবেক উপজেলা পরিষদ চেয়ারম্যান ও উপজেলা আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক রফিকুল ইসলাম সুন্দর, পৌর আওয়ামী লীগের সভাপতি আবদুল আহাদ, পৌর বিএনপির সভাপতি আনোয়ারুল ইসলাম, বড়লেখা সদর ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যান সিরাজ উদ্দিন ও দক্ষিণভাগ উত্তর (কাঠালতলী) ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যান এনাম উদ্দিন আহমদ বড়লেখা পৌরসভা ও আশপাশের এলাকায় অকাল বন্যা এবং বিশেষ করে পৌরবাসীর নানা সংকট সমস্যা নিয়ে কথা বলেছেন।

সোয়েব বললেন, অপরিকল্পিত শহরে সুষ্ঠু পয়ঃনিষ্কাশন ব্যবস্থা গড়ে উঠেনি

বড়লেখা পৌর শহরে অকাল বন্যার কারণে বাসিন্দাদের বিড়ম্বনার বিষয় নিয়ে কথা গিয়ে উপজেলা পরিষদের তরুণ চেয়ারম্যান সোয়েব আহমদ বললেন, বড়লেখা পৌর শহর গড়ে উঠছে সম্পূর্ণ অপরিকল্পিতভাবে।পয়ঃনিষ্কাশন ব্যবস্হা, ড্রেনেজ ব্যবস্হাপনার মারাত্মক সংকট ক্রমবর্ধমান এই ছিমছাম শহরকে এখন সমস্যাগ্রস্ত করে তুলছে।

খাল নালাসহ জায়গা জমি বেদখল হয়ে বাড়িঘর, দোকানপাট নির্মিত হচ্ছে। তিনি বলেন, সড়ক ও জনপথের উভয়পাশে দখল হওয়া জায়গায় ড্রেনেজ ব্যবস্হাপনা গড়ে তুলতে পারলে পয়ঃনিষ্কাশনের ব্যবস্থা হবে। এতে করে ঢলের পানি নেমে যেতে পারবে।

ষাটমা নিকড়িছড়া পুনঃখনন সঠিকভাবে হয়েছে কিনা জানতে চাইলে সোয়েব বলেন, আমার জানামতে খনন হয়েছে। তবে কতটুকু সঠিকভাবে হয়েছে সেটা আমি জানি না। তিনি ষাটমা ও নিকড়িছড়ার উজানের অংশ খনন না করলে এই পরিস্থিতি থেকে রক্ষা পাওয়া কঠিন হবে বলে মত দেন। একটি পরিকল্পিত শহর গড়ে তুলতে তিনি পরিকল্পনা তৈরি করার উপর গুরুত্বারোপ করেন।

পাহাড়ি ছড়া ষাটমা নিকড়িছড়ার উজানে খনন না হলে বিড়ম্বনার শেষ হবে না: ভাইস চেয়ারম্যান

এবার ষাটমার উজান এলাকা জফরপুর, সাতকরাকান্দি এবং দক্ষিণে নিকড়িছড়ার উজানে মুছেগুল কুতুবনগর দিয়ে পাহাড়ি ঢল নেমে বড়লেখা পৌর শহর প্লাবিত হয়েছে বলে মনে করেন উপজেলা পরিষদের তরুণ ভাইস চেয়ারম্যান তাজ উদ্দিন। তিনি জানান, খননকৃত ষাটমা নিকড়িছড়ার সাইডের মাটি খালে পড়ে যাওয়ার কারণেও ঢলের পানি জনপদে ঢুকে পড়েছে।

তিনি বলেন, শহরে অবৈধভাবে খাল নালা ভরাট হয়ে গিয়ে বর্তমান পরিস্থিতি তৈরি করেছে। এ থেকে উত্তরণে পরিকল্পিত শহর গড়ার দিকে মনোনিবেশ দিতে হবে বলে তিনি মনে করেন।

কর্তৃপক্ষের খামখেয়ালিপনা ও দায়িত্বহীনতার কারণে অকাল বন্যাঃ সাবেক মেয়র ফখরুল

বড়লেখা পৌরসভার নির্বাচিত দ্বিতীয় (সাবেক) মেয়র বিএনপি নেতা প্রভাষক ফখরুল ইসলাম মনে করেন, খাল খননের নামে অনিয়ম ও শহরজুড়ে খাল নালা বেদখলের বেপরোয়া প্রতিযোগিতার কারণে বড়লেখায় পাহাড়ি ঢলে নেমে মানুষজন বিড়ম্বনার মুখোমুখি হয়েছেন।

সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের খামখেয়ালিপনা ও দায়িত্বহীনতার কারণে এমন অস্বস্তিকর পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে বলে মনে করেন সাবেক এই মেয়র। তিনি বলেন, যথাযথ কর্তৃপক্ষ দায়িত্ব পালন করলে এই অবস্থার সৃষ্টি হতো না।

ভরাট ও বেদখলের কারণে বড়লেখা পৌর শহর প্লাবিত হয়েছেঃ সুন্দর

একটি সুষ্ঠু পয়ঃনিষ্কাশন ব্যবস্থা গড়ে তুলতে না পারা ও পরিকল্পনার অভাবে পৌর শহরে অকাল বন্যা দেখা দিয়েছে বলে মনে করেন বড়লেখা উপজেলা পরিষদের সাবেক চেয়ারম্যান ও এককালের তারকা ফুটবলার রফিকুল ইসলাম সুন্দর। তিনি বলেন, সড়ক ও জনপথের জায়গাসহ সরকারি খাল নালা নিজেদের মতো ব্যবহার করে বাড়িঘর নির্মিত হচ্ছে। এটা দেখার কেউ নেই।

অবৈধ দখল ও ভরাট বন্ধ করতে বললেন আবদুল আহাদ

বড়লেখা পৌর আওয়ামী লীগের সভাপতি ও সাবেক কৃতি ফুটবলার মহবন্দ নিবাসী আবদুল আহাদ পৌর শহরকে সংকটের হাত থেকে রক্ষা করতে সবরকমের দখল বেদখল খেলা ও নালা খাল ভরাট বন্ধ করার আহবান জানান। তিনি একটি সুন্দর শহর গড়ে তুলতে বড়লেখাবাসীকে চিন্তা চেতনায় ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করার দৃঢ় সংকল্প ব্যক্ত করেন।

খাল খননের নামে সামান্য কাজ হয়েছে, তদন্ত চাইঃ আনোয়ার

বড়লেখা পৌরসভা বিএনপির সভাপতি আনোয়ারুল ইসলাম জানান, আমরা শুনেছি অকাল বন্যার হাত থেকে বড়লেখা পৌর শহরকে রক্ষায় বড় অংকের প্রকল্প নেয়া হয়। ষাটমা নিকড়িছড়া পুনঃখনন করার এই প্রকল্পে আসলে কী হয়েছে আমাদের জানার সৌভাগ্য হয়নি। তবে পুরোপুরি খনন হলে এটা মাত্র দুই বছরে ভরাট হওয়ার কথা নয়। দুই খালের তীর ছাপিয়ে পাহাড়ি ঢলের পানিতে পৌর এলাকা সয়লাব হয়েছে। আনোয়ারুল ইসলাম এই প্রকল্পে কী কাজ হয়েছে তার তদন্তের দাবি জানান। তিনি পরিকল্পিত পৌর শহর গড়ে তোলার বিষয়ে পরিকল্পনা প্রণয়নেরও দাবি করেন।

ষাটমা নিকড়িছড়া উজান থেকে গভীরে গিয়ে খনন করার দাবি চেয়ারম্যান সিরাজের

বড়লেখা সদর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান, সদর ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সভাপতি, এলাকার দীর্ঘদিনের জনপ্রতিনিধি সিরাজ উদ্দিনকে বুধবার সকালে যখন ফোন করি জানালেন, তিনি এখন তার ইউনিয়নের নিকড়িছড়া তীরের বিভিন্ন ওয়ার্ডে অকাল বন্যায় ক্ষতিগ্রস্ত রাস্তাঘাট, কালভার্ট ও বাড়িঘর দেখতে বেরিয়েছেন। তিনি জানালেন, নিকড়িছড়া বা ষাটমায় খালের তলদেশ গভীরভাবে খনন করতে হবে।

সদর ইউনিয়নের সীমানা উজানের ৩ কিলোমিটারসহ সঠিকভাবে ও গভীরতাসহ খনন না করলে পাহাড়ি ঢলের তোড়ে আমরা আগামীতে ভেসে যাবো। ষাটমা নিকড়িছড়া সঠিকভাবে খনন হয়নি দাবি করে তিনি অবিলম্বে সঠিকভাবে খাল খননের প্রকল্প নেয়ার দাবি জানান।

নিকড়িছড়ার উজানের ৩ কিলোমিটার খননের দাবি চেয়ারম্যান এনামের

নিকড়িছড়ার প্লাবনে শুধু পৌরবাসী নয়, এবার নাকাল হয়েছেন কাঠালতলী বাজারসহ এলাকার মানুষ। কাঠালতলী বাজার বড়লেখা পৌরসভার সীমানা পেরিয়ে বড়লেখা উপজেলার দক্ষিণভাগ উত্তর ইউনিয়ন পরিষদের অন্তর্ভুক্ত। এই ইউনিয়নের চেয়ারম্যান এনাম উদ্দিন এবারের পাহাড়ি ঢলের মতো প্লাবনের তোড় আর কোনোদিন দেখেননি উল্লেখ করে বলেন, মানুষের অনেক ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে। বিড়ম্বনার শেষ ছিল না। নিকড়িছড়ার ডাউন অংশ শুধু খনন করলে সমস্যার সমাধান হবে না বলে মত দেন দেশের একমাত্র আকর্ষণীয় জলপ্রপাত মাধবকুণ্ড এলাকার এই তরুণ চেয়ারম্যান।

আমার কারণেই ষাটমা নিকড়িছড়া পুনঃখনন সম্ভব হয়েছে, দুর্নীতির অভিযোগ সঠিক নয়ঃ মেয়র কামরান

বড়লেখা পৌরসভার বর্তমান মেয়র আবুল ইমাম মোঃ কামরান চৌধুরী মহবন্দের বাসিন্দা। তিনি উপজেলা আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক। পৌর শহরকে অকাল বন্যার হাত থেকে রক্ষা করা ও খালের পারের পতিত জমি সেচের আওতায় এনে চাষাবাদের উপযুক্ত করতে তার একান্ত প্রচেষ্ঠায় এই প্রকল্প নেয়া হয় বলে তিনি জানান।

মেয়র কামরান জানান, গত ৫০ বছরে কেউ এ ধরনের পাহাড়ি ছড়া খননের চিন্তা করেননি। বড়লেখা উপজেলার গুরুত্বপূর্ণ পাহাড়ি ছড়া দেওছড়া, মাধবছড়া খননের খুব দরকার ছিল। এগুলো কেউ খনন করার সাহস করেনি। আমি সাহস করে ষাটমা ও নিকড়িছড়া খননের প্রকল্প নেই। খাল পুনঃখনন হওয়ায় পৌরবাসী অনেক সুবিধা পাবে। খাল পুনঃখনন সঠিকভাবে হয়নি এবং এতে অনেক অনিয়মের বিষয়ে জানতে চাইলে মেয়র বলেন, কাজ করেছে বিএডিসি। তিনি তদারকি করেছেন। তাই অনিয়মের বিষয়ে তিনি বলতে পারবেন না।

খাল খননের বাজেট কত টাকা এ বিষয়ে জানতে চাইলে মেয়র কামরান বলেন, কোটি টাকার মতো হবে। তবে এটাও বিএডিসি ভালো বলতে পারবে। তাদের কাছে হিসাবপত্র আছে। তবে বড়লেখা পৌর শহরে অবৈধ দখল ও খাল নালা ভরাট করে বেআইনি স্হাপনা নির্মাণের বিষয়ে তিনি বলেন, আগে থেকেই এসব দখল বেদখলের খেলা চলছে। এসব বন্ধ হওয়া উচিত বলে তিনি মন্তব্য করে বলেন, সড়ক জলপথের জায়গা দখলমুক্ত করে পয়ঃনিষ্কাশন ও ড্রেনেজ ব্যবস্থাপনা গড়ে তুলতে হবে।

পৌরশহরকে বন্যা ও জলাবদ্ধতা থেকে রক্ষার প্রকল্প কী আসলে আলোর মুখ দেখেছে?

২০১৯ সালের মার্চে সিলেটের সংবাদপত্রে প্রকাশিত নীচের এই রিপোর্ট আমাদেরকে আসলে কী জানান দেয়?

রিপোর্টটি শিরোনামসহ তুলে ধরা হলোঃ

“ষাটমাছড়া পুণঃখনন কর্মসুচির দ্বিতীয় ধাপের কাজ শুরু”

বড়লেখা পৌরশহরের অকাল বন্যা ও জলাবদ্ধতার অন্যতম কারণ শহরের উত্তর সীমান্ত দিয়ে প্রবাহিত ষাটমাছড়া (নদী) ভরাট ও ভুমি দস্যুদের জবর দখল। পৌরমেয়র আবুল ইমাম মো. কামরান চৌধুরীর বিশেষ তৎপরতায় ছড়াটির পুণঃখননের প্রকল্প গ্রহণ করে বাংলাদেশ কৃষি উন্নয়ন কর্পোরেশন (বিএডিসি)। প্রকল্পের প্রথম ধাপের ২ কিলোমিটার খনন কাজ গত বছর সম্পন্ন হয়। বৃহস্পতিবার দুপুরে কর্মসুচির দ্বিতীয় ধাপের ৩ কিলোমিটার এলাকার খনন কাজের উদ্বোধন করেন মেয়র কামরান চৌধুরী।

বড়লেখা ডিগ্রী কলেজ সংলগ্ন ষাটমা ব্রীজের পার্শে খননকাজের উদ্বোধনকালে উপস্থিত ছিলেন সদর ইউনিয়নের চেয়ারম্যান (ভারপ্রাপ্ত) সিরাজ উদ্দিন, পৌরসভার কাউন্সিলার আব্দুল মালিক ঝুনু, বিএডিসি’র সাব-এসিসটেন্স ইঞ্জিনিয়ার মো. গিয়াস উদ্দিন, সাংবাদিক আব্দুর রব, ইকবাল হোসেন স্বপন, ইউপি মেম্বার ফারুক আহমদ, মাওলানা জুবায়ের আহমদ, ব্যবসায়ী আব্দুল আজিজ, মৌলুদ হোসেন চৌধুরী, এবাদুর রহমান প্রমূখ।

বিএডিসি সুত্রে জানা গেছে, বন্যা, জলাবদ্ধতা ও তীরবর্তী পতিত ভুমি সেচের আওতায় নিয়ে আসতে বড়লেখার ষাটমা ছড়া পুণঃখননের উদ্যোগ গ্রহণ করে বাংলাদেশ কৃষি উন্নয়ন কর্পোরেশন (বিএডিসি)। বিএডিসি’র সিলেট বিভাগ ক্ষুদ্র উন্নয়ন প্রকল্পের আওতায় গত বছর কর্মসুচির প্রথম ধাপে ষাটমাছড়ার ২ কিলোমিটার এলাকা পূণঃখনন করা হয়। একই প্রকল্পের আওতায় আরো ৩ কিলোমিটার এলাকা দ্বিতীয় ধাপে পূণঃখনন কাজের প্রকল্প গ্রহণ করা হয়। এতে সরকারের ব্যয় হচ্ছে ৩৫ লাখ টাকা।

বিএডিসি’র সাব-এসিসটেন্স ইঞ্জিনিয়ার মো. গিয়াস উদ্দিন জানান, ষাটমাছড়ার প্রথম ধাপের খনন কাজ গত বছর সম্পন্ন হয়েছে। চলিত বছর পৃথক দুটি লটে ছড়ার আরো ৩ কিলোমিটার পূণঃখনন কাজ শুরু হয়েছে। প্রকল্পটি বাস্তবায়িত হলে শুধু বড়লেখা পৌরশহরের অকাল বন্যা ও

জলাবদ্ধতার স্থায়ী সমাধানই হবে না, এছাড়াও ষাটমা ছড়ার উভয় তীরের ব্যাপক কৃষি জমি চাষাবাদের আওতায় আসবে।”

উপরের রিপোর্টে দেখা যাচ্ছে দ্বিতীয় ধাপের এই প্রকল্পে ব্যয় ধরা হয়েছে ৩৫ লাখ টাকা। এবং এখানে ৩ কিলোমিটার কাজ করার কথা রয়েছে। রিপোর্টে দেখা যাচ্ছে এর আগে ষাটমা ছড়ায় আরো ২ কিলোমিটার কাজ সম্পন্ন হয়েছে। অর্থাৎ শুধুমাত্র ষাটমা ছড়ায় ৫ কিলোমিটার কাজ হয়েছে। তাহলে নিকড়িছড়ায় কত টাকায় কত কিলোমিটার কাজ হয়েছে? বিএডিসির প্রকৌশলী গিয়াসউদ্দিন এখন বলছেন, সবমিলিয়ে ১৫/১৬ লাখ টাকার কাজ হয়েছে।

আসলে এখন কেউই সঠিক কোনো হিসাব বলছেন না কেনো? ষাটমা ও নিকড়িছড়া খাল পুনঃখনন প্রকল্পে আসলে কত কিলোমিটার কাজ হয়েছে এবং কত টাকা খরচ হয়েছে এই তথ্য নিশ্চিত করে এখন কেউই বলতে চাচ্ছেন না। তাহলে খাল পুনঃখননের নামে লেফাফাদুরস্তের যে অভিযোগ উঠেছে তাই কি সত্য?

মন্ত্রী শাহাব উদ্দিনের সামনে আধুনিক বড়লেখা গড়ার এক সুবর্ণ সুযোগ অপেক্ষমান

বড়লেখা পৌরসভার পাখিয়ালায় জন্ম ও বেড়ে উঠা তৃণমূলের রাজনীতিক আজকের পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তন মন্ত্রী শাহাব উদ্দিন আওয়ামী লীগ সরকারের প্রধানমন্ত্রী ও দলের সভাপতি বঙ্গবন্ধু কন্যা শেখ হাসিনার অত্যন্ত প্রিয়ভাজন মন্ত্রী হিসেবে অনেকেই মনে করেন।

তাঁর সামনে বড়লেখা পৌরসভাকে এ ক্যাটাগরিতে উন্নীতকরণ ও বড়লেখা পৌর শহরকে একটি আধুনিক শহরে রূপান্তরের সুবর্ণ সুযোগ অপেক্ষা করছে।

আধুনিক বড়লেখা গড়ার নির্মাতা হিসেবে তাঁর নাম ইতিহাসের সোনালী পাতায় লিখে রাখতে তিনি নিশ্চয়ই চাইবেন। যেহেতু তিনি এ মাটির ‘সান অব দ্য সয়েল। তিনি বড়লেখার ভূমিপুত্র। বড়লেখাবাসী চেয়ে আছেন তাঁর দিকে। তাদের স্বপ্ন ও আশা নিয়ে।

লেখক: সম্পাদক,এখন সিলেট।

চুনারুঘাটে সিআর দত্তের স্মরণে শোকসভা

চুনারুঘাট (হবিগঞ্জ) প্রতিনিধি:
হবিগঞ্জের চুনারুঘাটের বীর সন্তান প্রয়াত মেজর জেনারেল সি আর দত্ত বীর উত্তমের শোক সভা পালন করেছে চুনারুঘাট পদক্ষেপ গণ পাঠাগার।

শুক্রবার সন্ধ্যা সাতটায় পাঠাগার ভবনে উপজেলা পোষ্ট মাষ্টার এস এম মিজানের এর পরিচালনায়
অনুষ্ঠিত শোকসভায় সভাপতিত্ব করেন পাঠাগারের সভাপতি সংস্কৃতি মন্ত্রণালয়ের উপসচিব মোস্তফা মোরশেদ।

সি আর দত্তের জীবনী, কর্মময় জীবনের নানা দিক তুলে ধরে স্মৃতিচারণ করে বক্তব্য রাখেন উপজেলা আওয়ামীলীগের সভাপতি সৈযদ মোদাব্বির আলী, উপজেলা মুক্তিযুদ্ধ সংসদের সাবেক কমান্ডার আব্দুল গাফফার, সাবেক ছাত্রনেতা মুক্তাদির চৌধুরী
সাথী, সহকারী অধ্যাপক মাজহারুল ইসলাম রুবেল, মনিরুল ইসলাম জুয়েল, কাউসার খসরু, তোফায়েল আহমেদ, ও সায়েম তালুকদার।

সভায় বক্তারা মুক্তিযুদ্ধে প্রয়াত সি আর দত্তের অসামান্য অবদানের জন্য চুনারুঘাটের একটা রাস্তার নামকরণ ও তার দখলকৃত বাড়ী উদ্ধার করনে প্রশাসনের দৃষ্টি কামনা করেন।

সভাপতি উপ সচিব মোস্তফা মোর্শেদ তার বক্তব্যে বলেন, তিনি আমাদের চুনারুঘাটের গর্বিত সন্তান। তার দেশ প্রেম ও মহান মুক্তিযুদ্ধের রণাঙ্গনের কথা
জাতি চিরদিন মনে রাখবে।

সহকারী অধ্যাপক মাজহারুল ইসলাম রুবেল বলেন ,এলাকার সন্তান হিসেবে আমাদের উচিত সি আর দত্তের ত্যাগকে গভীর শ্রদ্ধার সাথে স্মরণ রাখা।

তিনি আমাদেরকে দেশপ্রেমের যে শিক্ষা দিলেন সেই শিক্ষাকে ধারণ করা আমাদের কর্তব্য।

মসজিদে বিস্ফোরণ: দগ্ধ মুয়াজ্জিনসহ ১২ জনের মৃত্যু

করাঙ্গীনিউজ: নারায়ণগঞ্জে মসজিদে গ্যাসের লিকেজ থেকে বিস্ফোরণের ঘটনায় এ পর্যন্ত ১২ জনের মৃত্যু হয়েছে।

গতকাল শুক্রবার দিনগত রাত একটা থেকে আজ শনিবার ভোর পর্যন্ত ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে স্থাপিত শেখ হাসিনা জাতীয় বার্ন ও প্লাস্টিক সার্জারি ইনস্টিটিউটে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তাদের মৃত্যু হয়।

শেখ হাসিনা জাতীয় বার্ণ ও প্লাস্টিক সার্জারি ইনিস্টিউটের আবাসিক চিকিৎসক ডা. পার্থ শংকর পাল যুগান্তরকে এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন।

তিনি জানান, বিস্ফোরণের ঘটনায় এ পর্যন্ত শিশু ও মুয়াজ্জিনসহ ১১ জনের মৃত্যু হয়েছে। এছাড়া ২৬ জনের অবস্থা আশঙ্কাজনক।

নিহতরা হলেন- মুয়াজ্জিন দেলোয়ার হোসেন (৪৫), সাব্বির (২২), জুয়েল (১৮), জামাল (৪০), জুবায়ের (৭), হুমায়ন কবির (৭০), মোস্তফা কামাল (৩৪), ইব্রাহিম (৪৩), রিফাত (১৮), জুনায়েদ (১৭) ও কুদ্দুস বেপারী (৭০)।

গতকাল শুক্রবার রাত সাড়ে ৮টার দিকে নারায়ণগঞ্জ শহরের পশ্চিম তল্লা এলাকায় বায়তুস সালাত জামে মসজিদে বিকট শব্দে বিস্ফোরণ ঘটে। এতে অর্ধশতাধিক মুসল্লি দগ্ধ হন।

দগ্ধ ব্যক্তিদের মধ্যে ৩৭ জনকে গুরুতর অবস্থায় ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। তাদের মধ্যে ১২ জনের মৃত্যু হলো।

বিস্ফোরণে মসজিদের ছয়টি এসি পুড়ে গেছে। জানালার কাচ উড়ে গেছে। ফায়ার সার্ভিসের ৫টি ইউনিট ঘটনাস্থলে এসে আধা ঘণ্টা চেষ্টা চালিয়ে আগুন নিয়ন্ত্রণে আনে।

করোনাকালেও ডা. অনুকূল দাসের চেম্বার ছিল অবারিত !

শাহ মোস্তফা কামাল, শায়েস্তাগঞ্জ (হবিগঞ্জ): করোনাভাইরাস প্রাদুর্ভাবে পৃথিবী যখন বিপর্যয়ের মুখোমুখি। ভাইরাসের তান্ডব যখন চরম গরম ছিল। গ্রামের লোকালয়ে চিকিৎসা সেবা তখন ছিল সোনার হরিণের মতো দুষ্প্রাপ্য। গ্রামের লোকজন সাধারণ রোগ ব্যাধিতে চিকিৎসা নেওয়ার মতো আশপাশে কোন ডাক্তার খোঁজে পায়নি। ব্যক্তিগত সুরক্ষা সামগ্রীর অভাবে ও করোনা সংক্রমণের ভয়ে এলাকার ডাক্তারের চেম্বার এবং ডায়াগনস্টিক সেন্টারগুলো বন্ধ ছিল। ডা. অনুকূল দাসের চেম্বার তখনও ছিল সবার জন্য উন্মুক্ত। তিনি ক্ষণকালের জন্যও বন্ধ করেননি তার চিকিৎসা সেবা। তিনি একজন গণমানুষের ডাক্তার, গাছ তলা থেকে বহুতলা, প্রয়োজনে সবাই তার সেবা নেন।

হবিগঞ্জের শায়েস্তাগঞ্জ উপজেলার শায়েস্তাগঞ্জ পৌর এলাকার প্রাণকেন্দ্র দাউদনগর বাজার মসজিদ সংলগ্ন ডা. অনুকূল দাসের চেম্বার। ডা. অনুকূল দাস, ডি এম এফ (ঢাকা) অবঃ উপ-সহকারী কমিউনিটি মেডিকেল অফিসার। স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ কেন্দ্র শানখলা, শায়েস্তাগঞ্জ এ কর্মরত ছিলেন। অবসর জীবনে তিনি শায়েস্তাগঞ্জে নিয়মিত চেম্বারে বসে চিকিৎসা সেবা প্রদান করেন।

আলাপকালে ডা. অনুকূল দাস বলেন, প্রায় ২০/২৫ বছর যাবৎ শায়েস্তাগঞ্জ এলাকায় তিনি চিকিৎসা সেবা প্রদান করছেন। তিনি তাঁর অভিজ্ঞতার আলোকে কোন প্রকার পরিক্ষা নিরীক্ষা ছাড়াই সাধারণ রোগ ব্যাধির ওষুধ দিয়ে থাকেন। শিশু, বৃদ্ধ এবং চেম্বারে আসতে অক্ষম রোগীরা, ডা. অনুকূল দাসকে ফোন করলে তিনি সময় নিয়ে রোগীর বাড়িতে গিয়ে হাজির হন। এতে তিনি কোন অলসতা বোধ করেন না। চেম্বারে যতক্ষণ পর্যন্ত রোগী অবস্থান করে তিনি ততক্ষণই রোগী দেখেন। চিকিৎসক অনুকূল দাসের ভিজিট সাধারণ মানুষের নাগালের মধ্যে। তিনি ২ শ টাকা ভিজিটের মধ্যে ব্লাড প্রেসার পরিক্ষাসহ ব্যবস্থাপত্র দিয়ে থাকেন। ব্যক্তি জীবনে তিনি একজন সফল মানুষ। ইতোমধ্যে তার এক ছেলে এম বি বিএস ডাক্তার হয়ে শায়েস্তাগঞ্জের রোগীদের সেবা দিচ্ছেন।

 

ডা. অনুকূল দাসের চেম্বারে আসা রোগী বাগুনিপাড়ার, শাহ মোস্তফা কামাল এর সাথে কথা বলে জানা যায়, তিনি এ ডাক্তারের নিয়মিত রোগী। যখন প্রয়োজন হয় তখনই তিনি এ চেম্বারে আসেন। বিশেষ জটিল কোন প্রয়োজন হলে তিনি বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকের পরামর্শ নিতে অন্যত্র যান। শুধু ওষুধের মূল্য এবং ডাক্তারের ভিজিটের টাকা হলেই এখানে চিকিৎসা পাওয়া যায়।

 

ডা. অনুকূল দাসের চিকিৎসায় সন্তুষ্ট পৌর এলাকা দাউদনগরের, জুনাইদ চৌধুরী বলেন, তিনি সপরিবারে ঢাকার বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকের পরামর্শ নিয়ে থাকেন। তবে বেশিরভাগ সময়ই তিনি ডাক্তার অনুকূল দাসের চিকিৎসা নেন। তাই ডা. অনুকূল দাস একজন গণমানুষের চিকিৎসক, সব সময় তাকে হাতের কাছে পাওয়া যায়। তিনি এলাকায় একজন জনপ্রিয় চিকিৎসক।

এসি নয়, গ্যাস থেকেই মসজিদে বিস্ফোরণ

করাঙ্গীনিউজ: নারায়ণগঞ্জ সদর উপজেলার ফতুল্লা থানাধীন তল্লা চামার বাড়ি বাইতুল সালাত জামে মসজিদে রহস্যজনক বিস্ফোরণের ঘটনা ঘটে। গ্যাস থেকেই এ বিস্ফোরণ ঘটেছে বলে জানিয়েছেন ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্সের উপ সহকারী পরিচালক আবদুল্লাহ আল আরেফিনি।

শুক্রবার রাত পৌনে ৯টায় ওই বিস্ফোরণে ইতিমধ্যে ইমাম ও মুয়াজ্জিন, ফটো সাংবাদিক, জেলা প্রশাসনের একজন কর্মচারীসহ ৩৭ জনকে ঢাকা শেখ হাসিনা জাতীয় বার্ন ও প্লাস্টিক সার্জারি ইন্সটিটিউটে ভর্তি করা হয়েছে।

দুর্ঘটনার পর ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে ফায়ার সার্ভিসের টিম। রাত পৌনে ১১টায় আবদুল্লাহ আরেফিন জানান, ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে দেখা গেছে মসজিদের তল দিয়ে গ্যাসের একটি পাইপ রয়েছে। ওই পাইপের লিকেজ দিয়ে মসজিদের ভেতরে গ্যাস জমে যায়। এর মধ্যে এসি চলার কারণে মসজিদের ভেতরে সবগুলো জানালা ও দরজা টাইট করে বন্ধ ছিল। ফলে নির্গত গ্যাস বের হতে পারেনি।

তিনি বলেন, বিস্ফোরণের আগে কেউ হয়তো বাতি বা বিদ্যুতের কিছু জালানোর সময়ে স্পার্ক করে। সেই স্পার্ক থেকেই বিস্ফোরণ ঘটে। সঙ্গে সঙ্গে সেটার কারণে এসি ও বাইরের ট্রান্সফরমারেও আগুন ধরতে পারে।

আবদুল্লাহ আরেফিন বলেন, আমরা এখানে এসে প্রথমেই ধারণা করি এসিগুলো বিস্ফোরণের সঙ্গে বৈদ্যুতিক কারণের সংশ্লিষ্টটা কম। পরে মেঝেতে থাকা পানিতে গ্যাসের বুদবুদ উঠায় সন্দেহ হয়। এরপর দেখা যায়, মসজিদের নিচে দিয়ে তিতাস গ্যাসের অনেকগুলো লাইন গেছে। লাইনের পাইপগুলোর প্রতিটিতে একাধিক লিকেজ রয়েছে। সেই লিকেজের গ্যাস সমসময় মসজিদে উঠত।

তিনি বলেন, নামাজের আগে থেকেই মসজিদ বন্ধ করে এসিগুলো চালু করার ফলে পুরো রুমেই এসি ও গ্যাস মিশে যায়। আর গ্যাসের ধর্মই হল বিস্ফোরণের অবস্থা তৈরি হলে বা কোনো আগুনের সংশ্লিষ্টরা পেলে এরা বিস্ফোরিত হয় বা জ্বলে উঠে। সেই সূত্র মতেই কোন একটি বিস্ফোরণ কারণে এটি বিস্ফোরিত হয়। সেই সঙ্গে এসিগুলো বিস্ফোরিত হয় কারণ এসিতেও গ্যাস রয়েছে।

ফায়ার সার্ভিসের ওই কর্মকর্তা বলেন, আমরা ধারণা করে তিতাস গ্যাস কর্তৃপক্ষকে অবহিত করলে তারা দ্রুত এখানে এসে আমাদের ধারণাকে নিশ্চিত করে। তারা জানান- গ্যাসের লাইন থেকেই এই বিস্ফোরণ হয়েছে।

যেভাবে মেসিকে টপকে গেলেন রোনালদো

ক্রীড়া ডেস্ক: মাঠ ও মাঠের বাইরে দুই তারকার লড়াই অব্যাহত। তবে ক্রিস্টিয়ানো রোনালদো রিয়াল মাদ্রিদ ছেড়েছেন। আর অনেক জল্পনার পর জানা গেছে, আপাতত আরও এক বছর লিওনেল মেসির বার্সেলোনাতেই থাকছেন। তাই এই মুহূর্তে হয়ত দুই তারকার মাঠে মুখোমুখি সাক্ষাৎ সম্ভব হচ্ছে না। তবে মাঠের বাইরের লড়াইয়ে মেসিকে পিছনে ফেললেন রোনালদো। আয়ের দিক থেকে ফোর্বস তালিকায় মেসির চেয়ে এগিয়ে রোনালদো। অবশ্য পার্থক্য মাত্র ১ মিলিয়ন মার্কিন ডলারের।

আয়ের দিক থেকে বিশ্বের প্রথম দশজন তারকার তালিকা প্রকাশ করেছে ফোর্বস ম্যাগাজিন। তাতে আয়ের দিক থেকে ফুটবলারদের মধ্যে সবচেয়ে উপরে রয়েছে ক্রিশ্চিয়ানো রোনালদোর নাম। গত ২০১৯-২০ মৌশুমে মোট ১০৫ মিলিয়ন মার্কিন ডলার আয় করেছেন সিআর সেভেন। অন্যদিকে, এক মিলিয়ন কম আয় করে রোনালদোর পরে রয়েছেন মেসি। তার মোট আয় ১০৪ মিলিয়ন মার্কিন ডলার।

এছাড়া মূল তালিকায় যথাক্রমে ৪ এবং ৫ নম্বরে রয়েছেন রোনালদো এবং মেসি। তবে ক্রীড়াক্ষেত্রে সবচেয়ে বেশি আয় করেছেন টেনিস তারকা রজার ফেদেরার। এই সুইস খেলোয়াড় গত বছর আয় করেছেন ১০৬ মিলিয়ন মার্কিন ডলার। যদিও মূল তালিকায় তিনি রয়েছেন তিন নম্বরে। তালিকায় প্রথম ও দ্বিতীয় স্থানে রয়েছে কাইলি জেনার (‌৫৯০ মিলিয়ন মার্কিন ডলার) এবং কেনিই ওয়েস্ট (‌১৭০ মিলিয়ন মার্কিন ডলার)। সাত নম্বরে আছেন নেইমার। তিনি আয় করেছেন ৯৫.‌৫ মিলিয়ন মার্কিন ডলার। আর মোহম্মদ সালার আয়ের পরিমাণ সেখানে ৩৫.‌১ মিলিয়ন মার্কিন ডলার।