Daily Archives: September 4, 2020

ইউএনওকে হামলার ‘কারণ’ জানাল ‘যুবলীগের’ আসাদুল

নিজস্ব প্রতিনিধি: দিনাজপুরের ঘোড়াঘাট উপজেলার নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) ওয়াহিদা খানমের ওপর হামলার ঘটনায় যুবলীগের বহিষ্কৃত সদস্য আসাদুলসহ তিনজনকে গ্রেফতার করেছে র‌্যাব। গ্রেফতার অন্যরা হলেন, সান্টু ও নবীরুল ইসলাম।

শুক্রবার সন্ধ্যা ৭টার দিকে রংপুরে র‌্যাব কার্যালয়ে এক ব্রিফিংয়ে এসব তথ্য জানানো হয়।

র‌্যাব জানায়, আটককৃত আসাদুল স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়েছে- চুরির উদ্দেশেই তারা এ হামলা চালিয়েছে। তার সহযোগী হিসেবে অপর দুইজন ছিল। তবে র‌্যাব বলছে, এটা আসাদুলের বক্তব্য, র‌্যাবের নয়। র‌্যাবের বিস্তারিত জানাতে সময় লাগবে। র‌্যাব জানায় সেন্টু ও নবীরুল দু’জনই রঙ মিস্ত্রি।

এদিকে ইউএনওকে হামলার ঘটনায় ঘোড়াঘাট যুবলীগ আহ্বায়ক জাহাঙ্গীর হোসেন ও সদস্য আসাদুল ইসলামকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য আটক করে র‌্যাব। পরে এদের মধ্যে জিজ্ঞাসাবাদ শেষে জাহাঙ্গীরকে ছেড়ে দেয়া হয়। আর আসাদুলকে গ্রেফতার দেখানো হয়। পরে জিজ্ঞাসাবাদে ইউএনও হামলার দায় স্বীকার করে আসাদুল।

র‌্যাবের জিজ্ঞাসাবাদের জন্য আটকের পরেই কেন্দ্রীয় যুবলীগের পক্ষ থেকে তাদের বহিষ্কার কর হয়েছে। বহিষ্কৃতরা হলেন, ঘোড়াঘাট উপজেলা যুবলীগের আহ্বায়ক জাহাঙ্গীর হোসেন ও সদস্য আসাদুল ইসলাম। শুক্রবার বিকালে যুবলীগের কেন্দ্রীয় সাধারণ সম্পাদক মাইনুল হোসেন খান নিখিল এ তথ্য গণমাধ্যমকে নিশ্চিত করেছেন।

এদিকে দুর্বৃত্তদের হামলায় গুরুতর আহত দিনাজপুরের ঘোড়াঘাট উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) ওয়াহিদা খানমের অস্ত্রোপচারের পর ভোরেই জ্ঞান ফিরেছে। বর্তমানে তাকে ৭২ ঘণ্টার নিবিড় পর্যবেক্ষণে রাখা হয়েছে।

বুধবার রাতে ঘোড়াঘাট উপজেলা পরিষদ ক্যাম্পাসে ইউএনওর বাসভবনের ভেন্টিলেটর দিয়ে বাসায় ঢুকে ওয়াহিদা খানম ও তার বাবা ওমর আলীর ওপর হামলা হয়।

ওই ঘটনায় জড়িত থাকার অভিযোগে শুক্রবার ভোরে হাকিমপুর উপজেলার কালীগঞ্জ থেকে স্থানীয় এক যুবলীগ নেতাসহ তিনজনকে আটক করেছে পুলিশ।

বানিয়াচংয়ে ডাকাতসহ ৬ আসামী গ্রেফতার

এস এম খোকন: হবিগঞ্জের বানিয়াচংয়ে থানা পুলিশ বিশেষ অভিযান পরিচালনা করে এক ওয়ারেন্ট ভূক্ত ডাকাতসহ বিভিন্ন মামলার পলাতক ৬ আমামীকে গ্রেফতার করেছে।

শুক্রবার ভোররাতে বিভিন্ন স্থানে অফিসার ইনচার্জ মোহাম্মদ এমরান হোসেনের নেতৃত্বে একদল পুলিশ অভিযান চালিয়ে একাদিক ডাকাতি ও চুরির মামলার ওয়ারেন্টভূক্ত পলাতক আসামী জাহির মিয়া (৩২) কে
গ্রেফতার করে।

সে বানিয়াচং উপজেলার বাগজোর গ্রামের মৃত ছায়েদ মিয়ার পুত্র।

এছাড়া একই উপজেলার বভিন্ন মামলায় ওয়ারেন্টভূক্ত কালনজুড়া গ্রামের লুৎফুর হকের পুত্র শামছুল হক (৪৫), আলমপুর গ্রামের মুতাব্বির মিয়ার পুত্র রানা মিয়া (২৩), বাগজোড় গ্রামের রাইছ উল্ল্যার পুত্র তৈয়ব আলী (৫৫), দুর্গাপুর গ্রামের মৃত দুদু মিয়ার পুত্র মাসুম মিয়া (৩৬) ও পৈলার কান্দি গ্রামের মৃত আব্দুল বারিকের পুত্র মহিত মিয়া (৩৮) কে পুলিশ গ্রেফতার করেছে।

এব্যাপারে বানিয়াচং থানার অফিসার ইনচার্জ মোহাম্মদ এমরান হোসেন বলেন বর্তমানে অপরাধীদের গ্রেফতারে পুলিশ বিশেষ অভিযান পরিচালনা করে যাচ্ছে। যেকোন ধরনের অপরাধ সংগটিত হওয়ার পুর্বে পুলিশকে খবর দিন। সকলের সম্মিলিত প্রচেষ্টাই
কেবল সমাজ থেকে সকল প্রকার অপরাধ নির্মুল সম্ভব।

যাত্রীর ফেলে যাওয়া আড়াই লক্ষ টাকা ফিরিয়ে দিল রিক্সা চালক নাজমুল

জাবেদ ইকবাল তালুকদার, নবীগঞ্জ (হবিগঞ্জ) : রিক্সায় যাত্রীর ফেলে যাওয়া প্রায় আড়াই লক্ষ টাকা ও একটি মোবাইল ফোন হাতে পেয়েও এর প্রকৃত মালিকের মালিকের নিকট তা ফিরিয়ে দিলেন রিক্সাচালক নাজমুল।

গতকাল বৃহস্পতিবার বিকেলে হবিগঞ্জ জেলার নবীগঞ্জ উপজেলার ইনাতগঞ্জ বাজারে সততার এমন দৃস্টান্ত স্থাপন করেন রিক্সাচালক নাজমুল।

জানা যায়, ইনাতগঞ্জ বাজার থেকে  টাকার মালিক উপজেলার কাজীগঞ্জ বাজারের বাসিন্দা ওই যাত্রীকে নিয়ে কাজিরগঞ্জ বাজারে নামিয়ে দিয়ে আসার পথে তার রিক্সার সিটে পড়ে থাকা একটা সপিং বেগ দেখতে পায় নাজমুল। ব্যাগটি খুলে টাকা এবং দামী একটি মোবাইল ফোন দেখতে পান তিনি।
তাৎক্ষনিক নাজমুল আরেকটা ড়্রাইবারের সহায়তা নিয়ে ইনাতগঞ্জ বাজারে কেয়া ষ্টোরের মালিক গোলাম জিলানী সাইফুল আলম এর কাছে নিয়ে আসলে মোবাইল ফোনের সুত্রে ব্যাগের মালিককে ফোন দেন তিনি। টাকার মালিক ফোন পেয়ে দ্রুত আরো দুজন ব্যাক্তি কে সাথে নিয়ে ইনাতগঞ্জ বাজারে আসেন। পরে মোবাইল ও ২ লক্ষ ৪৭ হাজার টাকা ব্যাগ মালিককে ফেরত দেয়া হয়। এসময় ব্যাগ মালিক অনেকের উপস্থিতে নিজ টাকা বুঝে নেন এবং আল্লাহর শুকরিয়া আদায় করেন। সততার দৃস্টান্ত স্থাপন করা এই রিক্সাচালককে ২৫০০ টাকা প্রায় জুড় করেই তার পকেটে ডুকিয়ে দেন এবং খুশি হয়ে ঐ টাকার মালিক তাকে একটা মোবাইল ফোন উপহার দেন উপস্থিত সকলকে কৃতজ্ঞতাও জানান তিনি। সততার এ দৃস্টান্ত স্থাপন করা রিক্সাচালক ৩নং ইনাতগঞ্জ ইউনিয়নের মধ্যসমত গ্রামের ঠেলা চালক রিফন মিয়ার ছেলে রিকশা চালক নাজমুল হোসেন।
এ ব্যাপারে রিকশা চালক নাজমুল হোসেন বলেন, নিজে কষ্ট করে রোজগার করে খাব তবুও অন্যের সম্পত্তি বা টাকার লোভ লাসনা নেই আমার।আমি গরিব যেখাবে জীবন-যাপন করতেছি এতে আল্লাহর কাছে শুকরিয়া সেই সাথে আমার জন্য সবাই দোয়া করবেন যাতে সত্যতার সাথে সারা জীবন তাকতে পারি।রিকশায় ফেলে যাওয়া টাকাগুলো তিনি মালিককে ফেরত দিতে পেরে অনেক খুশি।

ঢাকা থেকে অপহরণ হওয়া ব্যক্তি হবিগঞ্জে উদ্ধার

নিজস্ব প্রতিনিধি : বিকাশে থাকা লাখ টাকা লোভে পড়ে অপহরণ করেও শেষ রক্ষা হল না দুই অপহরণকারীর। হবিগঞ্জ ডিবি পুলিশের ওসি মানিকুল ইসলামের দক্ষতায় শ্বাসরুদ্ধকর অভিযান শেষে অপহৃত ব্যক্তিকে উদ্ধার ও আটক করা হয়েছে দুই অপহরণকারীকে। একই সাথে উদ্ধার করা হয়েছে মুক্তিপণের জন্য দেয়া ১০ হাজার টাকা।

শুক্রবার সকাল সাড়ে ১১ টায় পুলিশ সুপার কার্যালয়ে এসব তথ্য প্রকাশ করে অতিরিক্ত পুলিশ সুপার শৈলেন চাকমা।

তিনি বলেন, ঢাকা তেজগাঁও ‘সিভিল এভিয়েশন স্কুল এন্ড কলেজের’ ক্লিনার আলতাফ হোসেনের মোবাইলের বিকাশ একাউন্টে ১ লাখ টাকা রয়েছে জানতে পেরে তাকে অপহরণের পরিকল্পনা করে পূর্ব পরিচিত শরবত বিক্রেতা মনিরুল ইসলাম। গত ৩১ আগস্ট আলতাফ হোসেনকে অপহরণ করে হবিগঞ্জ নিয়ে আসে মনিরুলসহ দুই অপহরণকারী।

পরে তারা আলতাফ হোসেনের পরিবারের কাছে ১ লাখ টাকা মুক্তিপণ দাবি করে। আলতাফ হোসেনকে না পেয়ে তার পরিবার তেজগাঁও থানায় সাধারণ ডায়েরি করেন এবং বিষয়টি র‌্যাবকে অবগত করলে র‌্যাব জানতে পারে তারা হবিগঞ্জ রয়েছে।

পরে হবিগঞ্জ গোয়েন্দা পুলিশের কাছে আসলে গত বুধবার রাতে অভিযান চালিয়ে শহরের সিনেমাহল রোড এলাকার আবাসিক হোটেল ‘পলাশ’ থেকে অপহৃত আলতাফকে উদ্ধার করে এবং দুই অপহরণকারীকে আটক করে।

আটককৃত দুই অপহরণকারী হল লাখাই উপজেলার মুড়িয়াউক ইউনিয়নের ধর্মপুর গ্রামের আজদু মিয়ার পুত্র মনিরুল ইসলাম মনির (২৪) ও একই এলাকার বাতিন মিয়ার পুত্র হাবিব মিয়া (২০)।

এ ঘটনায় আটকৃতদের বিরুদ্ধে ভিকটিম আলতাফ হোসেনের মেয়ের জামাই মোঃ তুহিন চৌধুরী বাদী হয়ে একটি অপহরণ মামলা দায়ের করেছে।

ভিকটিম আলতাফ হোসেনের গ্রামের বাড়ি পটুয়াখালী জেলার মির্জাগঞ্জ থানার সুলতানাবাদ গ্রামে। সে তেজগাঁও ‘সিভিল এভিয়েশন স্কুল এন্ড কলেজের’ ক্লিনার হিসেবে কর্মরত। প্

রেস ব্রিফিংকালে অন্যান্যদের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন, জেলা ডিবি পুলিশের ওসি মানিকুল ইসলাম, গোয়েন্দা শাখার (ডিএসবি) ওসি কাজী কামাল হোসেন, ডিএসবি’র এসআই আবুল হোসেন, এসআই আবুল কালাম আজাদসহ পুলিশ প্রশাসন ও হবিগঞ্জে কর্মরত সাংবাদিকবৃন্দ।

এদিকে, শহরের সিনেমাহল এলাকায় হোটেল গুলোর একের পর এক অপরাধ কর্মকান্ডে আতঙ্কিত হয়ে পড়েছেন স্থানীয় বাসিন্দারা। তারা হোটেল পলাশসহ সবকটি হোটেলকে পুলিশী নজরদারীর বাড়ানোর পাশাপাশি আইনগত ব্যবস্থা গ্রহন করার দাবী জানান।

এ ব্যাপারে আবাসিক হোটেল ‘পলাশের’ ম্যানেজার নারায়ন চন্দ্র বিশ্বাস বলেন- ‘দুই অপহরণকারীসহ তিনজনই স্বাভাবিকভাবে হোটেলে প্রবেশ করেছে এবং রুম ভাড়া নিয়েছে। তবে যাকে অপহরণ করে নিয়ে আসা হয়েছিল সে কিছুটা অস্বাভাবিক ছিল। তবে সাথে থাকা দুজন জানিয়েছে সে মানসিক রোগী।’

অপারেশন চুনারুঘাটের শানখলা

এম এ মজিদ: যে কৃষি পণ্য তৈরী করতে কয়েক কোটি টাকা ব্যয় করার কথা সেই কৃষি পণ্য তৈরী করা হচ্ছে চুনারুঘাটের শানখলা গ্রামে। ফলাফল শূণ্য জেনেও শুধু টাকার স্বপ্নে বিভোর এক দোকানদার নকল এসব পণ্য তৈরী করে দেদারছে বিক্রি করছে কৃষকদের কাছে। এলাকায় ভদ্র ও নম্র হিসাবে পরিচিত শানখলা গ্রামের জামাল মিয়ার দোকান, বাড়ি ও গোডাউনে মিলেছে নকল কৃষি পণ্য তৈরীর সরঞ্জামাদী। বাড়ির আনাচে কানাচে ড্রামে ড্রামে পড়ে আছে নকল ক্যামিকেল, খালি বোতল। শানখলা বাজারের দোকানে মিলেছে প্রায় সকল কৃষি পণ্যই মেয়াদ উত্তীর্ণ, মেয়াদ উত্তীর্ণ ট্রেড লাইসেন্স। তথ্য ছিল দিনভর জামাল মিয়ার গোডাউন শানখলা মাসুদ মিয়া মডেল সুন্নিয়া হাফিজিয়া মাদ্রাসা মার্কেটে নকল ডান এগ্রোর ডান ফুরানসহ বিভিন্ন কৃষি পণ্যে লেভেল লাগানো হয়েছে। অভিযানের শুরু থেকেই গোডাউন বন্ধ। কোনোভাবেই গোডাউন খুলা যাচ্ছিল না। বিষয়টি অভিযানে অংশ গ্রহণকারী সকলকেই ভাবিয়ে তুলে।

অভিযানের সূত্রপাতঃ প্রায় এক সপ্তাহ আগে ফিরোজপুর জেলার মদন উপজেলার একজন সংবাদকর্মীর ফোন আসে এই প্রতিবেদকের কাছে- হবিগঞ্জের অন্তত ৩টি স্থানে নকল কৃষি পণ্য তৈরী করা হচ্ছে। এসব কৃষি পণ্য আসল পণ্য হিসাবে বাজারে বিক্রি করা হচ্ছে। কৃষকরা তা ক্রয় করে প্রয়োগ করছেন জমিতে কিন্তু কোনো ফল পাচ্ছেন না। একদিকে কৃষির মারাত্বক ক্ষতি হচ্ছে অন্যদিকে পরিবেশও নষ্ট হচ্ছে। এরপরই ঢাকার এক আইনজীবী বন্ধুর ফোন আসে। তারা নকল পণ্যের বিরুদ্ধে কাজ করছেন। কিছু সহযোগিতা লাগবে। তারা তথ্য দিলেন হবিগঞ্জের বগলা বাজারের এক কীটনাশক ব্যবসায়ী নকল বিভিন্ন কৃষি পণ্য তৈরী করে বিক্রি করছেন। যেখানে ১০ গ্রামের এক প্যাকেট ঔষধের দাম ১৫০ টাকা অর্থাৎ এক কেজির দাম ১৫ হাজার টাকা, সেখানে নকল ১০ গ্রাম ওজনের এক প্যাকেট ঔষধ তৈরীতে খরচ হচ্ছে সর্বোচ্চ ৫ টাকা অর্থাৎ প্রতি কেজি তৈরীতে খরচ হচ্ছে সর্বোচ্চ প্রতি কেজি ৪০০ টাকা থেকে ৫০০ টাকা।

প্রতি কেজিতে অসাধু ব্যবসায়ীর লাভ ১৪ হাজার ৫শ টাকা! হবিগঞ্জের বগলা বাজারের যে ব্যবসায়ীর নাম ঠিকানা দেয়া হল, খোজ খবর নিতে গিয়ে জানা গেল, ওই পরিবারটি হবিগঞ্জের পরিচিত মুখ, পরিবারের একজন সদস্য দেশ বিদেশ ভ্রমণকারী ব্যবসায়ী সংগঠনের বড় নেতা। ওই দোকান থেকে নকল পণ্য কেনা হল, বুঝে ফেলায় তারা এক সময় তা বিক্রি বন্ধ করে দেয়। নকল কারখানা আবিষ্কার করা গেল না। কারখানা আবিষ্কার করাটা একেবারেই সহজ নয়। শায়েস্তাগঞ্জের একজন ব্যবসায়ীর নামও উঠে আসে নকল কৃষি পণ্য তৈরীর তালিকায়। ওই ব্যবসায়ী শায়েস্তাগঞ্জ ও হবিগঞ্জ শহরে খুবই পরিচিত, ভদ্রবেশী ব্যবসায়ী। যাকে গত বছর নকল কৃষি পণ্য তৈরীর অভিযোগে পুলিশ আটকও করেছিল। হবিগঞ্জ ও শায়েস্তাগঞ্জের নকল পূণ্য তৈরী কারক ব্যবসায়ীরা পোড় খাওয়া সুচতুর হওয়ায় অল্প সময়ের মধ্যে নকল কারখানা আবিষ্কার করা যায়নি। বিষয়গুলো প্রকৃত কোম্পানীগুলোর গোয়েন্দা নজরদারীতে রয়েছে।

অপারেশন শানখলাঃ শানখলা বাজারে নকল কৃষি পণ্য তৈরীর বিষয়টি হবিগঞ্জের একটি গোয়েন্দা সংস্থাকে অবগত করা হল। তারা বিষয়টিতে পাত্তা দেয়নি। মনে হল এড়িয়ে যাওয়ার চেষ্টা তাদের। ২ সেপ্টেম্বর বুধবার দুপুর ২টার দিকে বিষয়টি জানানো হল চুনারুঘাট থানার ওসি শেখ নাজমুল ইসলামকে। তিনি তাৎক্ষনিক অপারেশনে রাজী হলেন। নিজে ব্যস্ত থাকায় এসআই আজহারসহ তার টিমকে এ কাজে নিযুক্ত করলেন। তথ্য উপাত্ত জেনে নিশ্চিত হয়ে ওসি শেখ নাজমুল ইসলাম জানালেন- এভাবে হবে না, মোবাইল কোর্ট সাথে নিতে হবে। যোগাযোগ করলেন চুনারুঘাট উপজেলার এসিল্যান্ড ও নির্বাহী ম্যাজিষ্ট্রেট মিলটন চন্দ্র গোপের সাথে। মোবাইল কোর্ট পরিচালনায় রাজী হলেন তিনি। যেহেতু বিষয়গুলো কৃষির সাথে সম্পৃক্ত, একাজে সংযুক্ত করা হল চুনারুঘাটের কৃষি অফিসার মোহাম্মদ জালাল উদ্দিন সরকারকে। বিকাল সাড়ে ৫টার দিকে শায়েস্তাগঞ্জ নতুন ব্রিজ থেকে আমাদের গাড়িগুলো ছুটল শানখলার দিকে। প্রথমেই জামাল মিয়ার দোকান ব্লক রেইড, তিন চার মিনিটের মাথায় জামাল মিয়ার গোডাউন ও বাড়িতে অভিযান। জামাল মিয়ার ভাই জসিম উদ্দিনকে দোকানে আটক করা হল। অভিযান আচ করতে পেরে জামাল মিয়া আগেই পালিয়ে যায়। বাড়িতে পাওয়া গেল কীটনাশক ও শতশত খালি বোতল। দোকানে পাওয়া গেল মেয়াদ উত্তীর্ণ কীটনাশকসহ বিভিন্ন পণ্য। ছোট ভাই জসিম উদ্দিনকে আটক করে নিয়ে যাওয়ার ঘোষনা দিলে স্থানীয় ইউপি মেম্বার আব্দুল হান্নানের মাধ্যমে মোবাইল কোর্টের সামনে আসে জামাল মিয়া। সন্ধা তখন সাড়ে ৭টা। তারপরও গোডাউন খুলতে রাজী হয়নি সে। অবশেষে তালা ভেঙ্গে গোডাউনে প্রবেশ করা হয়। সেখানে পাওয়া যায় সান এগ্রোর জেট ফুরান, বন্যা এগ্রোর বন্যা বোরাক্সসহ বিভিন্ন পণ্যের শতশত খালি মোড়ক, মোড়কগুলোতে ইলেক্ট্রিক আঠা লাগানোর মেশিন, কৃষি পণ্য তৈরী করার বস্তা বস্তা পাওডার, নিষিদ্ধ চিকন দানা সারের বস্তা, খালি বস্তা ইত্যাদি। যে নিষিদ্ধ সার উদ্ধার করা হয়েছে সেগুলো মাটির উর্বরতা কমিয়ে এক সময় মাটির কার্যকারীতা ধ্বংস করে দেয় বলে জানালেন কৃষি অফিসার জামাল উদ্দিন সরকার।

জিজ্ঞাসাবাদে জামাল স্বীকার করে তার অপরাধের কথা। স্থানীয় কৃষক সারাজ মিয়া জানালেন তিনি ২ বস্তা চিকন দানা সার নিয়েছেন জামাল মিয়ার দোকান থেকে, এবার তিনি সারের টাকা ফেরত চাইবেন। নির্বাহী ম্যাজিষ্ট্রেট মিলটন চন্দ্র পাল গুদাম ঘরের সমস্ত মালামাল জব্দ করার নির্দেশ দেন। একই সাথে জামাল মিয়াকে ৩ মাসের জেল, অনাদায়ে ৫০ হাজার টাকা জরিমানা করেন। রাত সাড়ে ৮টায় অভিযানের সমাপ্তি হয়। জানা যায় হবিগঞ্জের বিভিন্ন জায়গায় নকল কৃষি পণ্য তৈরী হচ্ছে। কোম্পানী গুলোর মোড়ক বানিয়ে তাতে নিম্ন মানের পাওডার ও ক্যামিকেল মিশিয়ে বাজারে দেদারছে বিক্রি হচ্ছে। এসব কৃষি পণ্য ব্যবহারে কার্যত কৃষকরা কোনো ফল পাচ্ছেন না। ক্ষতি হচ্ছে কৃষি, ক্ষতি হচ্ছে কৃষক, ক্ষতি হচ্ছে পুরো বাংলাদেশ। এমন একটি অপরাধমূলক কাজে কোনো ধরনের ভ্রুক্ষেপ নেই অসাধু ব্যবসায়ীদের।

হবিগঞ্জে নতুন করে ১৯ জন করোনায় আক্রান্ত

নিজস্ব প্রতিনিধি: হবিগঞ্জে নতুন করে আরও ১৯ জন করোনায় আক্রান্ত হয়েছেন। তন্মধ্যে ১৪ জন হবিগঞ্জ সদর উপজেলার, ৪ জন চুনারুঘাট ও ১ জন মাধবপুর উপজেলারবাসিন্দা। এ নিয়ে জেলায় মোট আক্রান্ত হয়েছেন ১ হাজার ৫৯৯ জন। তন্মধ্যে সস্থ হয়েছেন ১ হাজার ৪৭ জন। মৃত্যুবরণ করেছেন ১২।

এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন হবিগঞ্জের ডেপুটি সিভিল সার্জন ডাঃ মুখলেছুর রহমান উজ্জল।