Daily Archives: August 6, 2020

শায়েস্তাগঞ্জে ইয়াবা-মদসহ আটক ২

করাঙ্গীনিউজ: হবিগঞ্জের শায়েস্তাগঞ্জ উপজেলায়  মাদক বিরোধী বিশেষ অভিযানে ইয়াবা ও চোলাই মদসহ দুই মাদক ব্যবসায়ীকে আটক করেছে পুলিশ।

বৃহস্পতিবার (৬ আগস্ট) সকালে গোপন সংবাদের ভিত্তিতে শহরের হাসপাতাল সড়কে অভিযান চালিয়ে মনির নামে একজনকে ৪০ পিস ইয়াবাসহ আটক করা হয়।

এর আগে বুধবার রাতে পুরানবাজার এলাকায় অভিযান চালিয়ে ৩০ লিটার মদ সহ নুর আলী ফকির নামে একজনকে আটক করে পুলিশ।

শায়েস্তাগঞ্জ থানার ওসি মোজাম্মেল হোসেন জানান, অপরাধ দমনের পাশাপাশি উপজেলা মাদক মুক্ত করার প্রত্যয়ে পুলিশ নিরলসভাবে কাজ করে যাচ্ছে। মাদকের সাথে জড়িতদের সমাজ থেকে নির্মুল করা হবে মাদকের সাথে জড়িত কাউকে ছাড় দেওয়া হবে না।

মাধবপুরে সাংবাদিক জাহের মিয়া ফকির আর নেই

মাধবপুর (হবিগঞ্জ) প্রতিনিধি: সিনিয়র সাংবাদিক ও দৈনিক আমাদের অর্থনীতির মাধবপুর প্রতিনিধি জাহের মিয়া ফকির (৭৫) ইন্তেকাল করেছেন (ইন্নালিল্লাহি … রাজিউন)।
বৃহস্পতিবার দুপুর আড়াইটার দিকে রাজধানীর সম্মিলিত সামরিক হাসপাতালে (সিএমএইচ) চিকিৎসাধীন অবস্থায় তার মৃত্যু হয়।

৩ আগষ্ট থেকে ব্রাম্মণবাড়ীয়া ল্যাবএইড হাসপাতালে চিকিৎসা নেয়ার পর অবস্থার অবনতি হলে উন্নত চিকিৎসার জন্য তাকে সিএমএইচে নেয়া তার শারীরিক অবস্থার অবনতি হলে গত কয়েক দিন তাকে হাসপাতালটির নিবিড় পরিচর্যাকেন্দ্রে রাখা হয়।

তিনি মাধবপুর উপজেলার শাহজাহানপুর ইউনিয়নের জালুয়াবাদ গ্রামে এক সভ্রান্ত পরিবারে জন্মগ্রহন করেন।

মরহুম জাহের ফকির ছাত্র জীবনেই ৬নং শাহজাহানপুর ইউনিয়ন পরিষদের ১নং ওয়ার্ডের সাবেক মেম্বার ছিলেন এবং উপজেলা আওয়ামীলীগের সদস্য ছিলেন। মৃত্যুকালে তিনি ৫ ছেলে ও ১ মেয়েসহ অসংখ্য গুণগাহী রেখে গেছেন।

 

হবিগঞ্জে আ’লীগের আলোচনা সভা ও মিলাদ মাহফিল

নিজস্ব প্রতিনিধি: ১৫ আগস্ট জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের ৪৫তম শাহাদত বার্ষিকী উপলক্ষে হবিগঞ্জ পৌরসভার ১, ২ ও ৩নং ওয়ার্ড আওয়ামী লীগের উদ্যোগে আলোচনা সভা এবং মিলাদ মাহফিল অনুষ্ঠিত হয়েছে।

বৃহস্পতিবার বিকেলে শহরের শংকর সিটির রমা কমিউনিটি সেন্টারে সভায় প্রধান অতিথি ছিলেন জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি অ্যাডভোকেট মোঃ আবু জাহির এমপি।

পৌর আওয়ামী লীগের সভাপতি অ্যাডভোকেট নিলাদ্রী শেখর পুরকায়স্থ টিটোর সভাপতিত্বে ও সাধারণ সম্পাদক এবং সদর উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান মোতাচ্ছিরুল ইসলামের পরিচালনায় সভায় বিশেষ অতিথি ছিলেন জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক অ্যাডভোকেট মোঃ আলমগীর চৌধুরী।

এছাড়াও বক্তব্য রাখেন পৌর আওয়ামী লীগের সহ সভাপতি সুজিত বণিক, যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক হাবিবুর রহমান খান, সাংগঠনিক সম্পাদক ও পৌর মেয়র মোঃ মিজানুর রহমান, সাংগঠনিক সম্পাদক শেখ মামুন, ১নং ওয়ার্ড আওয়ামী লীগের সভাপতি অমীয় রায়, ২নং ওয়ার্ডের সহ সভাপতি মনসুর আলী কুটি, ৩নং ওয়ার্ডের সাধারণ সম্পাদক নূরুল ইসলাম প্রমুখ।

আলোচনা সভার শুরুতেই জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানসহ সকল শহীদের স্মরণে দাঁড়িয়ে এক মিনিট নিরবতা পালন এবং পরে মিলাদ, দোয়া ও উপস্থিত নেতাকর্মীদের মাঝে তাবারুক বিতরণ করা হয়।

প্রধান অতিথি’র বক্তব্যে এমপি আবু জাহির বলেন, অনেক জেল-জুলুম অত্যাচার সহ্য করে বাংলাদেশ সৃষ্টি করেছিলেন বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান। কিন্তু পাকিস্তানের প্রোতত্মারা তাঁকে সপরিবারে হত্যা করে ক্ষতিগ্রস্ত করেছে জাতিকে। চেষ্টা করেছে জাতির পিতা হত্যার বিচার বানচালের।

তিনি বলেন, খালেদা জিয়া বাংলাদেশের প্রকৃত ইতিহাস বদলে দিতে চেয়েছিলেন। স্বাধীনতা বিরোধীদের গাড়িতে তুলে দিয়েছিলেন পতাকা। এছাড়া জিয়াউর রহমান ও এরশাদের মাধ্যমে দেশের অপূরণীয় ক্ষতি হয়েছে। এদের হাত থেকে দেশকে রক্ষা করতে হলে আওয়ামী লীগের সকল নেতাকর্মীকে ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করতে হবে।

সিলেটে বোমাসদৃশ্য বস্তুটি ‘গ্রাইন্ডিং মেশিন’

নিজস্ব প্রতিনিধি, সিলেট: সিলেট নগরীর চৌহাট্টা পয়েন্টে দুই দিনের আলোচিত অভিযান শেষ হয়েছে। একটি মোটরসাইকেলে বোমাসদৃশ্য বস্তু দেখে কাল সন্ধ্যার পর থেকে শুরু হয়েছিল উদ্ধার অভিযান।

আজ বৃহস্পতিবার বিকালে সেই অভিযান শেষ হয়েছে ‘গ্রাইন্ডিং মেশিন’ উদ্ধারের মধ্য দিয়ে।

অভিযান শেষে বিকাল সাড়ে ৪টার দিকে সেনাবাহিনীর পক্ষ থেকে জানানো হয়, মোটরসাইকেলে থাকা বস্তুটি কোনো বোমা ছিল না, ছিল গ্রাইন্ডিং মেশিন (টাইলস বা রড কাটার যন্ত্রবিশেষ)।

সেনাবাহিনীর ১৭ পদাতিক ডিভিশনের বোমা ও বিস্ফোরক বিশেষজ্ঞ লে. কর্ণেল রাহাত বলেন, ‘আপনারা জানেন, গতকাল সন্ধ্যার সময় একজন পুলিশ সদস্যের মোটরসাইকেলে একটি অবজেক্ট, একটা সাসপেক্ট (সন্দেহজনক বস্তু) পাওয়া যায়। পরবর্তীতে বাংলাদেশ পুলিশ বাহিনী থেকে বাংলাদেশ সেনাবাহিনীকে এই অবজেক্টটা ইন্সপেকশন ও পরবর্তী ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য অনুরোধ জানানো হয়। সেনাবাহিনীর সদর দপ্তর থেকে নির্দেশনা পেয়ে সিলেটে থাকা ১৭ পদাতিক ডিভিশনের বোমা নিষ্ক্রিয়করণ ও বোমা ধ্বংসকরণ টিম আমরা এখানে আসি।’

তিনি বলেন, ‘আমরা এখানে এসে আমাদের পদ্ধতি অবলম্বন করেছি, পরিদর্শন করেছি। আমাদের কাছে মনে হয়েছে, এটা একটা গ্রাইন্ডিং মেশিন। কিন্তু অধিকতর তদন্তের জন্য এবং এখানে যাতে অন্য ধরনের সন্দেহজনক বস্তু না থাকে, এটা নিশ্চিত করতে আমাদের নির্দিষ্ট কর্মপদ্ধতি অনুযায়ী নির্দিষ্ট সময় অপেক্ষা করেছি এবং আরো নিশ্চিত হতে আমরা এটাকে খুলেছি।’

লে. কর্ণেল রাহাত আরো বলেন, ‘হতে পারে ভুলবশত, অথবা হতে পারে কেউ এটা পুলিশ সদস্যের গাড়িতে রেখে একটা আতঙ্ক ছড়াতে চেয়েছিল।’

সিলেট মহানগর পুলিশের অতিরিক্ত উপ-কমিশনার (উত্তর) আজবাহার আলী শেখ বলেন, ‘আমরা দুই দিক থেকে চিন্তা করতে পারি। কেউ ভুলবশত গ্রাইন্ডিং মেশিনটা এখানে রেখে যেতে পারেন। আবার আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর গাড়ি, সরকারি গাড়ি, সেজন্য আতঙ্ক সৃষ্টির জন্য বা জনমনে ভ্রান্ত ধারণা সৃষ্টির জন্য হয়তো কেউ রেখে থাকতে পারেন।’

এ নিয়ে তদন্ত চলছে বলেও জানান তিনি।

গতকাল বুধবার সন্ধ্যায় সিলেট মহানগর পুলিশের ট্রাফিক সার্জেন্ট চয়ন নাইডু তাঁর ঢাকা মেট্রো ১৪-৯২৭০ নম্বরের কালো রঙের পালসার মোটরসাইকেলটি চৌহাট্টা পয়েন্টে পুলিশ বক্সের পাশে রাখেন। তিনি পার্শ্বস্থ একটি দোকান থেকে ফিরে মোটরসাইকেলে লাল রঙের বস্তু দেখতে পান। বিষয়টি তাঁর কাছে সন্দেহজনক মনে হওয়ায় তিনি খবর দেন ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে।

পরে পুলিশের একটি টিম ঘটনাস্থলে এসে ওই মোটরসাইকেলে ঘিরে ফেলে। মুহুর্তেই চৌহাট্টা পয়েন্টে মোটরসাইকেলে বোমা রাখা হয়েছে বলে গুঞ্জন ও আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে সিলেটজুড়ে।

ঘটনাস্থলে পুলিশের ক্রাইসিস রেসপন্স টিম (সিআরটি) ও র‌্যাব-৯ এর টিমও আসে। বন্ধ করে দেওয়া হয় চৌহাট্টা-জিন্দাবাজার সড়কে যান চলাচল। শ্বাসরুদ্ধকর অপেক্ষা শুরু হয়।

সিলেট মহানগর পুলিশে বোমা নিষ্ক্রিয়করণ ইউনিট না থাকায় খবর পাঠানো হয় ঢাকায়। পুলিশের সদর দপ্তর থেকে চৌহাট্টা পয়েন্টে বোমা নিষ্ক্রিয়করণ ও বোমা ধ্বংসকরণ টিম পাঠাতে অনুরোধ জানানো হয় সেনাবাহিনীর সদর দপ্তরকে। সেনা সদর দপ্তর নির্দেশনা পাঠায় সিলেটস্থ ১৭ পদাতিক ডিভিশনকে।

এ ডিভিশনের বোমা বিশেষজ্ঞ লে. কর্ণেল খালেদ, ক্যাপ্টেন নূর, ক্যাপ্টেন গালিবসহ একটি টিম আজ বৃহস্পতিবার বেলা ২টার দিকে ঘটনাস্থলে আসে। শুরু হয় তাঁদের অভিযান।

সেই সফল অভিযানে বোমাসদৃশ বস্তুটি উদ্ধার করা হয়। জানা যায় সেটি আসলে বোমা নয়, গ্রাইন্ডিং মেশিন।

নবীগঞ্জে পৌর মেয়র দম্পতিসহ ৫ জনের করোনা শনাক্ত

জাবেদ ইকবাল তালুকদার, নবীগঞ্জ (হবিগঞ্জ): হবিগঞ্জের নবীগঞ্জে পৌর মেয়র দম্পত্তিসহ আরো ৫জনের শরীরে করোনাভাইরাসের সংক্রমন পাওয়া গেছে। ৫ আগস্ট রাতে এ রিপোর্ট আসে।

এর আগে কয়েক ধাপে নবীগঞ্জের ১৪১ জনের শরীরে করোনাভাইরাসের সংক্রমন পাওয়া যায়। এখন পর্যন্ত নবীগঞ্জে মোট আক্রান্তের সংখ্যা ১৪৬জন।

এ প্রতিবেদককে বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন নবীগঞ্জ উপজেলা স্বা্স্থ ও প.প. কর্মকর্তা ডা. আব্দুস সামাদ।

নতুন করে করোনা শনাক্ত হওয়া ৫জন হলেন নবীগঞ্জ পৌরসভার মেয়র আলহাজ্ব ছাবির আহমদ চৌধুরী, তার সহধর্মিনী শিল্পি বেগম, ১ জন পূবালি ব্যাংক কর্মকর্তা ও ১জন রুকনপুর এলাকার বাসিন্দা।

নবীগঞ্জ থেকে এখন পর্যন্ত ১০৯০ জনের নমুনা সংগ্রহ করে পরীক্ষার জন্য ল্যাবে পাঠানো হয়েছে। ১৪৬ জনের করোনা পজিটিভ রিপোর্ট এসেছে ও ৮২৬ জনের করোনা নেগেটিভ রিপোর্ট এসেছে। উপজেলায় আক্রান্তদের মধ্যে এখন পর্যন্ত ১১১ জন সুস্থ হয়েছেন এবং ১ জন মারা গেছেন।

উপজেলা স্বাস্থ ও প.প কর্মকর্তা ডা. আব্দুস সামাদ এ প্রতিবেদককে এসব তথ্য জানান। তিনি আরো বলেন, নবীগঞ্জে প্রতিদিন বেড়ে চলছে করোনা আক্রান্তের সংখ্যা। প্রয়োজন ছাড়া কেউ বাইরে বের হবেন না। বাইরে বের হলে মাস্ক পরিধান করুন। শারীরিক দুরত্ব বজায় রেখে স্বাস্থবিধি মেনে চলাফেরা করুন।নিজের ও পরিবারের কথা ভেবে সবাই সতর্ক থাকুন সুস্থ থাকুন।

হবিগঞ্জে প্রতারক আফজালের জামিন নামঞ্জুর

নিজস্ব প্রতিনিধি: বিচারপতি,মন্ত্রী,এমপি,আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় নেতা, বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক, সেনাবাহিনীর ব্রিগেডিয়ার, নৌ বাহিনীর কমোডরের সাথে ছবি তুলে ফেসবুকে প্রচার করে নিজেকে একজন গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তি হিসাবে পরিচিত করে প্রতারনার ফাঁদ পেতে সাধারন লোকজনের সাথে প্রতারনাকারী যুবক শাহ আফজাল হোসেন এর জামিন না মঞ্জুর করেছে আদালত।

বৃহস্পতিবার দুপুরে হবিগঞ্জের সিনিয়র জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট তৌহিদুল ইসলাম এই না মঞ্জুর করেন।

আদালত সূত্রে জানা যায়, বুধবার শাহ আফজাল হোসেন এর জামিন প্রার্থনা করেন সাবেক পিপি এডভোকেট আকবর হোসেন জিতু। মামলার বাদী মো. টিপুর পক্ষে জামিনের বিরোধীতা করেন এডভোকেট শাহ ফখরুজ্জামান। দীর্ঘ শুনানী শেষে বিজ্ঞ বিচারক আসামীর জামিন না মঞ্জুর করেন।
এদিকে মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা হবিগঞ্জ সদর থানার এসআই পলাশ দেব প্রতারক শাহ আফজাল হোসেন এর বিরুদ্ধে ৫দিনের রিমান্ড প্রার্থনা করেছেন। হবিগঞ্জ আদালতের পরিদর্শক আল আমিন জানান, রিমান্ডের শুনানীর জন্য তারিখ নির্ধারন করা হবে।

স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, শাহ আফজাল হোসেন ভিআইপিদের সাথে ছবি দেখিয়ে এলাকায় প্রচার করে বঙ্গভবন, গণভভন ও সচিবালয়ে তার অবাধ যাতায়াতের সুযোগ রয়েছে। যে কোন কাজ সে করে দিতে পারে। কোন কোন স্থানে সে নিজেকে আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় নেতা হিসাবেও প্রচার করে। সিলেট থেকে ঢাকায় ডমেস্টিক ফ্লাইটে ভ্রমণ করে সেই ছবিও মাঝে মাঝে পোস্ট দিয়ে নিজের অবস্থান জানান দেয় সে। আর সাধারন লোকজন এই ছবি দেখে বিশ্বাস করে শাহ আফজাল এর মাধ্যমে সব কাজই সম্ভব। ফলে বিভিন্ন লোকজন ঠিকাদারী কাজ,চাকুরী, নিবন্ধন পরীক্ষায় পাশ, স্থানীয় নির্বাচনে দলীয় মনোনয়ন এবং বিদেশের ভিসা পেতে লক্ষ লক্ষ টাকা দেয় তাকে। কিন্তু টাকা দেয়ার পর কোন কাজই সে না করে সে টাকা হাতিয়ে নেয়। টাকা ফেরত চাইলে পাল্টা হুমকি দিয়ে বলে বিচারপিত তার আত্মীয়। বড় বড় কর্মকর্তারা তার পকেটে। বাড়াবাড়ি করলে সে ফাঁসিয়ে দিবে। ফলে প্রতারিত হয়েও কেউ মুখ খুলেনি তার বিরুদ্ধে। পরে হবিগঞ্জ সদর থানায় প্রতারণার লিখিত অভিযোগ দায়ের করেন শায়েস্তানগর এলাকার ঠিকাদার মোহাম্মদ টিপু ও রিচি গ্রামের ফারুক মিয়া। মোহাম্মদ টিপু অভিযোগে উল্লেখ করেন সিলেট শহরে বড় ধরণের কাজ পাইয়ে দেয়ার কথা বলে ৬ লাখ টাকা হাতিয়ে নিয়েছে প্রতারক আফজাল। মোহাম্মদ টিপুর দায়ের করা মামলায় শাহ আফজাল কে ৪ জুলাই গ্রেফতার করা হয়। ফারুক মিয়া তার মামলার অভিযোগে উল্লেখ করেন প্রতারক আফজল তার স্ত্রীকে হাই স্কুলের নিবন্ধন পরীক্ষায় পাশ করিয়ে দিবে বলে ৪ লাখ টাকা হাতিয়ে নেয়।
অভিযোগ রয়েছে জেলা মুক্তিযোদ্ধা সংসদের সাবেক ডেপুটি কমান্ডার গৌর প্রসাদ রায়ের কাছ থেকে আফজল পরিবার পরিকল্পনা অধিদপ্তরে চাকুরী নিয়ে দিবে বলে ৩ লাখ টাকা নেয়। মৌলভীবাজার সদর উপজেলার মল্লিখ সরাই গ্রামের হাশিম মিয়া নামে এক ব্যাক্তির কাছ থেকে ইংল্যান্ড প্রেরণ করবে বলে চুক্তি করে ১২ লাখ টাকা হাতিয়ে নেয়। হবিগঞ্জ জেলা ছাত্রলীগের সাবেক সহ-সভাপতি শফিউল্লাহর কাছ থেকে পিস্তলের লাইসেন্স করে দিবে বলে নেয় ৬০ হাজার টাকা। এভাবে বহু লোকের সাথে প্রতারনা করে সে।

শাহ আফজাল হোসেন হবিগঞ্জ সদর উপজেলার আউশপাড়া গ্রামের সাবেক মেম্বার আব্দুল হেকিমের ছেলে। সে হাই স্কুলের লেখাপড়া শেষ করতে পারেনি। এক পর্যায়ে আনসারে চাকুরী নিলেও দুর্নীতির কারনে চাকুরিচ্যুত হয় সে। পরে সিলেটে গিয়ে এক সাংবাদিকের বাসায় গিয়ে আশ্রয় নিয়ে বড় বড় নেতাদের সাথে ছবি তোলার সুযোগ খুজতে থাকে। এভাবে সে বিভিন্ন নেতাদের কাছে চলে যায়। এক পর্যায়ে সরকারী উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা,মন্ত্রী এমপিদেও সাথেও ছবি তুলে তা ফেইসবুকে পোস্ট করে। বেশ কয়েকজন লন্ডন প্রবাসীর সাথেও ব্যাক্তিগত পরিচয় সৃষ্টি করে। সে কোন পদবীধারী না হলেও সরকারী বিভিন্ন অনুষ্ঠানের চিঠিও পেয়ে থাকে।

চুনারুঘাটে মাদক ব্যবসায়ী বাঘা লিটনসহ আটক ২

চুনারুঘাট (হবিগঞ্জ) প্রতিনিধি: হবিগঞ্জের চুনারুঘাটে ১৩ মামলার পলাতক আসামী মাদক ব্যবসায়ী বাঘা লিটন ও রাজুকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ ।

বুধবার রাতে চুনারুঘাট থানার ওসি শেখ নাজমুল হক এর নেতৃত্বে এসআই শেখ আলী আজহার ও এসআই সম্রাট সহ একদল পুলিশ গোপন সংবাদর ভিত্তিতে উপজেলার সীমান্ত এলাকায় পৃথক অভিযান চালিয়ে রাজু ও বাঘা লিটনকে গ্রেফতার করা হয়।

রাজু গাজিপুর ইউনিয়নের পশ্চিম ডোলনা গ্রামের আজিম উদ্দিনের ছেলে ও বাঘা লিটন পৌরশহরের হাতুন্ডা গ্রামের জাহাঙ্গীর মিয়ার ছেলে।

থানা সুত্র জানায়- তাদের বিরুদ্ধে বিভিন্ন মামলা থাকলেও পুলিশের চোখকে ফাঁকি দিয়ে মাদক ব্যবসা চালিয়ে আসছিল। গাঁজা ব্যবসায়ী ডোলনার রাজু ও হাতুন্ডার বাঘা লিটন দীর্ঘদিন ধরে তার মাধ্যমে মাদক ব্যবসা অব্যাহত থাকায় এলাকায় নিত্যদিন বেড়ে চলছিল নানা অপরাধ। এতে স্থানীয় জনগণ ও জনপ্রতিনিধিরা উদ্ধিগ্ন হয়ে পড়েন।

চুনারুঘাট থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) শেখ নাজমুল হক বলেন- বাঘালিটনের ১৩টি মামলা ও রাজু বিরুদ্ধে ৩টি মামলা রয়েছে। এর মধ্যে অনেক মামলা চলমান।

নবীগঞ্জে ১৪ ডাকাতি মামলার প্রধান আসামী গ্রেফতার

মোঃ আলমগীর মিয়া নবীগঞ্জ থেকেঃ নবীগঞ্জে ১৪ টি ডাকাতি মামলার প্রধান আসামীকে গ্রেফতার করেছে নবীগঞ্জ থানা পুলিশ।

বুধবার (০৫ আগস্ট) দেবপাড়া বাজার থেকে তাকে গ্রেফতার করা হয়।গ্রেফতারকৃত প্রধান আসামী হলো বাউসা ইউনিয়নের কামিরাই গ্রামের মৃত মোজাফফর উল্ল্যা পুত্র আরশ আলী(৩৫)।

নবীগঞ্জ থানার অফিসার ইনচার্জ মোঃ আজিজুর রহমানের নেতৃতে ও অপারেশন ওসি আমিনুল ইসলামের পরিচালনায় নবীগঞ্জ থানার একদল পুলিশ তাকে গ্রেফতার করতে সক্ষম হয়।

পুলিশ সূত্রে জানা যায়, আরশ আলীর নামে নবীগঞ্জ,হবিগঞ্জ,বাহুবল,মৌলভী বাজার থানায় ১৪ ডাকাতি মামলা সহ মামলা দায়ের করা হয়।এরই প্রেক্ষিতে গোপন সংবাদের ভিত্তিতে আরশ আলীকে গ্রেফতার করা হয়।সে সিলেট বিভাগের সবকটি জেলাসহ ব্রাম্মণবাড়িয়া,কুমিল্লা অঞ্চলে ডাকাতি কর্মকান্ড করিয়া থাকে।সে তার সঙ্গীয় ডাকাতদের নিয়ে গত ২৩ ফ্রেবরুয়ারী দিবাগত রাতে গত ২৪ ফ্রেবরুয়ারী অত্র মামলার বাদীর বাড়ির বারান্দার গ্রীলের তালা ভাঙিয়া ও দরজা ভাঙিয়া ঘরে ডুকিয়া বাদীকে ধারালো অস্ত্র দ্ধারা কুপিয়ে জখম করে এবং বাদীর পরিবারের অনান্য সদস্যদের খুন,জখমের ভয় দেখিয়ে অস্ত্রের মুখে তাদেরকে জিম্মি বাদীর ঘরের আলমিরা,ওয়াড্রব,সকেছ ভাঙ্গিয়া বাদীর নামীয় লাইসেন্সকৃত একটি এসবিবিএল বন্দুক যাহার নং (টি-৫২৭৬৯৬)সহ স্বর্ণালংকার ,মোবাইল,নগদ ৩ লক্ষ ৫০ হাজার টাকা ডাকাতি করে নিয়ে যায়।

আরশ আলীর সঙ্গী ডাকাত আজমল আলীর পুত্র নজির মিয়া (৩০) কে গত ২৮ ফ্রেবরুয়ারী গ্রেফতার করে জিজ্ঞাসাবাদ করলে স্বীকাররোক্তিমূলক জবানবন্দিতে বলে ডাকাতির মূল পরিকল্পনাকারী হিসেবে উক্ত আরাশ আলীর নাম প্রকাশ করে।

নবীগঞ্জ থানার অফিসার ইনচার্জ মোঃ আজিজুর রহমান বিষয়ের সত্যতা নিশ্চত করে বলেন, গোপন সংবাদের ভিত্তিতে তাকে গ্রেফতার করা হয়।গ্রেফতার কৃত আরশ আলীকে হবিগঞ্জ কোর্টে প্রেরন করা হয়।

লাখাইয়ে ঝুঁকিপূর্ণ আনন্দ ভ্রমন না করার নির্দেশ

নিতেশ দেব, লাখাই ( হবিগঞ্জ): হবিগঞ্জের  লাখাই উপজেলায়  ভ্রাম্যমাণ আদালত  জরিমানা করেছে এক সার দোকানি ও এক নৌকার মাঝি কে।
বৃহস্পতিবার দুপুর ২ টায়  উপজেলার   বুল্লা বাজারে ৪ হাজার টাকা জরিমানা আদায় করেন ভ্রাম্যমাণ আদালতে নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট ও  লাখাই উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা লুসিকান্ত হাজং।
এসময় সারের দোকানে  মূল্য তালিকা না থাকায় হাফিজুর কে ৩ হাজার টাকা ও বাজারের নৌকা ঘাটে এক নৌকার মাঝি স্বাস্থ্য বিধিনিষেধ না মানার কারনে ১ হাজার টাকা  জরিমানা করা হয়।
এছাড়া ইউএনও লুসিকান্ত হাজং নৌকার মাঝি ও জনসাধারণ কে  সতর্ক করে বলেন যে কনো ঝুঁকিপুর্ণ আনন্দ ভ্রমন করা যাবে না।

দেশে করোনায় আরো ৩৯ জনের মৃত্যু

করাঙ্গীনিউজ: দেশে গত ২৪ ঘণ্টায় করোনাভাইরাসে আক্রান্ত হয়ে আরো ৩৯ জনের মৃত্যু হয়েছে। একই সময় দেশে নতুন করে আরো ২৯৭৭ জনের শরীরে করোনাভাইরাসের সংক্রমণ শনাক্ত হয়েছে।

আজ বৃহস্পতিবার অনলাইন স্বাস্থ্য বুলেটিনে এ তথ্য জানানো হয়।

মাধবপুরে করোনা আক্রান্ত হয়ে শিক্ষকের মৃত্যু

মাধবপুর (হবিগঞ্জ) প্রতিনিধি: হবিগঞ্জের মাধবপুরে কোভিড-১৯ আক্রান্ত হয়ে মোহন বাঁশি দাস (৭৫) নামে এক প্রাথমিক বিদ্যালয়ের অবসরপ্রাপ্ত শিক্ষক মারা গেছেন।
বুধবার (৫ আগস্ট) সকালে উপজেলার আন্দিউড়া গ্রামে নিজ বাড়িতে তিনি মারা যান।
মাধবপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কর্মকর্তা এএইচ এম ইশতাক আল মামুন সত্যতা নিশ্চিত করেছেন। এনিয়ে মাধবপুর উপজেলায় করোনা আক্রান্ত হয়ে দুজনের মৃত্যু হয়েছে।

উপজেলার আন্দিউড়া গ্রামের বাসিন্দা প্রাক্তন  শিক্ষক মোহন বাঁশির  শরীরে করোনা উপসর্গ দেখা দিলে গত ২৮ জুলাই মাধবপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নমুনা দেন তিনি। ৩০ জুলাই মোহন বাঁশি দাসের করোনা পজিটিভ রিপোর্ট আসে। পরে উন্নত চিকিৎসার জন্য সিলেট নর্থ ইস্ট মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে গেলেও গত মঙ্গলবার রাতে স্বজনরা সেখান থেকে নিয়ে আসলে গতকাল বুধবার সকাল সাড়ে ৮টার দিকে তিনি মারা যান।স্বাস্থ্য কর্মকর্তা ইশতিয়াক মামুন জানান- এ পর্যন্ত উপজেলায় করোনাভাইরাস শনাক্ত হয়েছে ১৫৯ জনের শরীরে। এর মধ্যে সুস্থ হয়েছে ১৩২ জন এবং মারা গেছেন ২ জন।