Daily Archives: September 2, 2019

নবীগঞ্জে পানিতে ডুবে সহোদরের মৃত্যু

নিজস্ব প্রতিনিধি, হবিগঞ্জ: হবিগঞ্জের নবীগঞ্জে পানিতে ডুবে দুই সহোদরের মৃত্যু হয়েছে।

সোমবার সন্ধ্যায় উপজেলার পূর্বজাহিদপুর গ্রামে এ ঘটনাটি ঘটে।

নিহত দুই সহোদর ওই গ্রামের আজমান আলীর পুত্র শাহান মিয়া ও রায়হান আহমেদ। এর মধ্যে শাহান মিয়া বাকপ্রতিবন্ধি বলে জানা গেছে।

নবীগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. ইকবাল হোসেন জানান, বিকেলে দুই সহোদর খেলা করছিল। একপর্যায়ে পরিবারের লোকজনের অগোচরে তারা বাড়ির পার্শ্ববর্তী পুকুরে ডুবে যায়। অনেক খোঁজাখুঁজির পর তাদের মরদেহ পানিতে ভেসে উঠতে দেখে উদ্ধার করে নবীগঞ্জ স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে আসলে কর্তৃব্যরত চিকিৎসক তাদেরকে মৃত ঘোষণা করেন।

মাধবপুরে যুবকের লাশ উদ্ধার

মাধবপুর (হবিগঞ্জ) প্রতিনিধি: হবিগঞ্জের মাধবপুর উপজেলার বেলঘর গ্রাম থেকে উদয় দাশ নামে এক যুবকের লাশ উদ্ধার করেছে পুলিশ।

সোমবার (২ সেপ্টেম্বর) দুপুরে তার শয়নকক্ষ থেকে লাশ উদ্ধার করা হয়।

তিনি ওই গ্রামের পল্লী চিকিৎসক তাপস দাশের ছেলে ।

পল্লী চিকিৎসক তাপস দাশ জানান, তার ছেলে উদয় দাশ দীর্ঘদিন যাবত মাদক সেবন করে আসছিল। রোববার রাতে উদয় খাওয়া শেষে তার ঘরে ঘুমাতে যায়। সোমবার সকালে সে ঘুম থেকে না উঠলে তার মা দরজা খোলে তাকে মৃত অবস্থায় দেখতে পায়।

মাধবপুর থানার অফিসার ইনচার্জ(ওসি) কেএম আজমিরুজ্জামান জানান, লাশ উদ্ধার করে ময়না তদন্তের জন্য হবিগঞ্জ সদর হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে। ময়না তদন্ত প্রতিবেদন পেলে মৃত্যুর সঠিক কারণ জানা যাবে।

বিশ্বনাথে দাফনের ২৮ দিন পর নারীর লাশ উত্তোলন

বিশ্বনাথ (সিলেট) প্রতিনিধি: দাফনের ২৮ দিন পর সিলেটের বিশ্বনাথে কবর থেকে উত্তোলন করা হয়েছে ৪ সন্তানের জননী আয়ফুল বেগম (৫৫)’র লাশ।

সোমবার (২ সেপ্টেম্বর) দুপুরে আদালতের নির্দেশে নির্বাহী ম্যাজিষ্ট্রেট ও উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) ফাতেমা-তুজ-জোহরার উপস্থিতিতে উপজেলার রামপাশা ইউনিয়নের দোহাল গ্রামস্থ মরহুমার পারিবারিক কবরস্থান থেকে লাশ উত্তোলন করা হয়।

আয়ফুল বেগম দোহাল গ্রামের মৃত ফজর আলীর স্ত্রী এবং ২ কন্যা ও ২ পুত্র সন্তানের জননী।

স্থানীয় ও পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, গত ৩ আগস্ট দিবাগত রাতে নিজ বসতঘরে মারা যান আয়ফুল বেগম। পরদিন তাকে দাফনও করা হয়। লাশ দাফনের পর ঘরে রক্ষিত ১ লাখ টাকা খুঁজে না পাওয়ায় আয়ফুল বেগমের বড় মেয়ে নাসিমা বেগমের সন্দেহ হয় যে ওই টাকার জন্য তার মাকে হত্যা করা হয়েছে। আর তাই মাকে (আয়ফুলল বেগম) হত্যা করার অভিযোগ এনে গত ৭ আগস্ট থানা পুলিশের কাছে অভিযোগ করেন নাসিমা বেগম।

নাসিমার অভিযোগের প্রেক্ষিতে ওই দিনই জিজ্ঞাসাবাদের জন্য একই গ্রামের মনু মিয়ার ছেলে (আয়ফুল বেগমের ভাইয়ের মেয়ের জামাই) নূর উদ্দিন (৩৫)’কে আটক করে থানা পুলিশ।

প্রাথমিক বিজ্ঞাসাবাদে পুলিশের কাছে নূর উদ্দিন স্বীকার করে সে আয়ফুল বেগমের ওই ১ লাখ টাকা চুরি করার জন্যই ঘুমের ঔষধ খাইয়ে আয়ফুল বেগমকে হত্যা করেছে। এঘটনায় ৮ আগস্ট নূর উদ্দিনকে একমাত্র অভিযুক্ত করে বিশ্বনাথ থানায় হত্যা মামলা দায়ের করেন খুন হওয়া আয়ফুল বেগমের বড় মেয়ে নাসিমা বেগম।

এদিকে ঘটনার সুষ্ট তদন্তের স্বার্থে ও মৃত্যুর সঠিক কারণ নির্ণয় করতে নিহত আয়ফুল বেগমের লাশ কবর থেকে উত্তোলন করে ময়না তদন্তের জন্য অনুমতি প্রার্থনা করে আদালতে আবেদন জানান মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা বিশ্বনাথ থানার এসআই দেবাশীষ শর্ম্মা।

ওই আবেদনের প্রেক্ষিতে আদালতের নির্দেশে নির্বাহী ম্যাজিষ্ট্রেট ও উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) ফাতেমা-তুজ-জোহরার উপস্থিতিতে সোমবার কবর থেকে আয়ফুল বেগমের লাশ উত্তোলন করে ময়না তদন্তের মর্গে প্রেরণ করা হয়।

‘মায়ের হত্যাকারী নূর উদ্দিনের ফাঁসি’ দাবি করে আয়ফুল বেগমের মেয়ে নাসিমা বেগম স্থানীয় সাংবাদিকদের বলেন, আমার মা (আয়ফুল বেগম) গত ২৮ জুলাই নূর উদ্দিনকে সাথে নিয়ে ঘর নির্মাণের জন্যে একটি এনজিও সংস্থা থেকে এক লাখ টাকা ঋণ উত্তোলন করেন। এরপর থেকে এই টাকা আত্মসাৎ করতে সে (নূর উদ্দিন) আমার মাকে কৌশলে ঘুমের ট্যাবলেট খাইয়ে আসছিল। একইভাবে গত ৩ আগস্ট রাতেও তাকে (আয়ফুল) ঘুমের ট্যাবলেট খাইয়ে ওই রাতেই কোনো এক সময়ে নিজের শয়ন কক্ষে তাকে (আয়ফুল) হত্যা করে নূর উদ্দিন।

পরদিন সকালে সবার আগে রহস্যজনকভাবে চা নিয়ে এসে আমার মাকে ডাকাডাকি শুরু করে ঘাতক নূর। আমার মা দরজা না খুলায় পরবর্তিতে এলাকার লোকজন দরজা খুলে মাকে উদ্ধার করেন। এ সময় তার মুখ দিয়ে রক্ত ঝরছিল এবং তার বুক ফুলা ছিল। কক্ষের কার্পেটের নীচে ছিল ঘুমের ট্যাবলেটের খোসা। মাকে উদ্ধার করা হলেও তার পুরো শয়ন কক্ষ খুঁজেও ঋন হিসেবে এনজিও থেকে উত্তোলন করা ওই ১ লাখ টাকার কোনো হদিস মেলেনি। টাকার বিষয়ে কিছু জানো কিনা-এমন প্রশ্ন করলে নূর উদ্দিন সন্দেহজনক কথাবার্তা বলে।

মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা বিশ্বনাথ থানার এসআই দেবাশীষ শর্ম্মা বলেন, আদালতের নির্দেশে আয়ফুল বেগমের লাশ কবর থেকে উত্তোলন করে মর্গে প্রেরণ করা হয়েছে। ময়না তদন্ত শেষে মৃত্যুর সঠিক কারণ নির্ণয় এবং মূল রহস্য উদঘাটন হবে।

আয়ফুল বেগমের লাশ আদালতের নির্দেশে দাফনেরর ২৮ দিন পর উত্তোলন করার সত্যতা স্বীকার করেছেন নির্বাহী ম্যাজিষ্ট্রেট ও উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) ফাতেমা-তুজ-জোহরা।

সুনামগঞ্জে দু’পক্ষের সংঘর্ষে নারী নিহত

নিজস্ব প্রতিনিধি, সুনামগঞ্জ: সুনামগঞ্জের দক্ষিণ সুনামগঞ্জ উপজেলায় দুই পক্ষের সংঘর্ষে আনোয়ারা বেগম (৫০) নামে এক নারী নিহত হয়েছেন। এ ঘটনায় আরও ২০ জন আহত হয়েছেন।

সোমবার (২ সেপ্টেম্বর) সকাল ১১টার দিকে উপজেলার পাথারিয়া ইউনিয়নের হরিপুর গ্রামে এ সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে।

নিহত আনোয়ারা বেগম ওই উপজেলার হরিপুর গ্রামের ফয়জুর রহমানের স্ত্রী।

স্থানীয়রা জানায়, পাথারিয়া ইউনিয়নের হরিপুর গ্রামের পঞ্চায়েতের সঙ্গে ফকির মেম্বারের গোষ্ঠীর মধ্যে দীর্ঘদিন ধরে বিরোধ চলছিল এনিয়ে সকালে দুই পক্ষের মধ্যে কথাকাটাকাটি হয়। এক পর্যায়ে দুই পক্ষের লোকজন দেশীয় অস্ত্র নিয়ে সংঘর্ষে জড়িয়ে পড়ে। তখন আনোয়ারা বেগম সংঘর্ষের মধ্যে পড়ে লাঠির আঘাতে ঘটনাস্থলেই মারা যান।

দক্ষিণ সুনামগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) হারুনুর রশীদ চৌধুরী বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।

গোয়াইনঘাটে ‘বন্দুকযুদ্ধে’ মাদকবিক্রেতা নিহত

নিজস্ব প্রতিনিধি, সিলেট: সিলেটে র‌্যাপিড অ্যাকশন ব্যাটালিয়নের (র‌্যাব) সঙ্গে ‘বন্দুকযুদ্ধে’ ফজর আলী (৩২) নামে এক মাদকবিক্রেতা নিহত হয়েছেন।

সোমবার (২ সেপ্টেম্বর) ভোরে সিলেটের সীমান্তবর্তী গোয়াইনঘাট উপজেলার মিত্রিমহল গ্রামে বন্দুকযুদ্ধের ঘটনা ঘটে।

নিহত ফজর আলী কোম্পানীগঞ্জ উপজেলার গৌখালের পাড় গ্রামের মৃত আব্দুল গফুর বাদাইয়ের ছেলে।

সিলেটের গোয়াইনঘাট থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আব্দুল আহাদ এ তথ্য নিশ্চিত করে বলেন, নিহত ফজর আলী মাদকবিক্রেতা ছিলেন। তার বিরুদ্ধে মাদক ও শিশু নির্যাতনসহ ২১টি মামলা রয়েছে।

র‌্যাব সূত্র জানায়, ফজর আলীর বিরুদ্ধে শিশু নির্যাতন, অস্ত্র ও মাদকসহ ২১টি মামলা রয়েছে। রোববার (০১ সেপ্টেম্বর) তাকে আটক করা হয়। পরবর্তীতে সোমবার ভোরে তাকে নিয়ে মিত্রিমহল এলাকায় মাদকের আস্তানায় অভিযান চালায় র‌্যাব।

এক পর্যায়ে র‌্যাবকে লক্ষ্য করে গুলি চালায় মাদকবিক্রেতারা। এসময় র‌্যাব সদস্যরাও আত্মরক্ষার্থে পাল্টা গুলি চালায়। গোলাগুলির এক পর্যায়ে ফজর আলী পালিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করলে গুলিতে নিহত হন।

গোয়াইনঘাট থানা পুলিশের উপ-পরিদর্শক (এসআই) রজিউল্লাহ জানান, খবর পেয়ে ওসমানী মেডিক্যাল কলেজ হাপসাতালে গিয়ে মরদেহ তাদের হেফাজতে নিয়ে ময়নাতদন্তের জন্য মর্গে পাঠায়।

এ বিষয়ে র‌্যাব-৯ এর মিডিয়া ইউংয়ের অতিরিক্ত পরিচালক মনিরুজ্জামানের সঙ্গে মোবাইল ফোনে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করলেও তিনি রিসিভ করেননি।

২৮৯ রানে ইনিংস ঘোষণা আফগানিস্তানের

ক্রীড়া ডেস্ক: শুরুটা ভালো করেছিল আফগানিস্তান। তবে পরে তাদের চেপে ধরেন বিসিবি একাদশের বোলাররা। ফলে ইনিংসটা খুব একটা বড় হয়নি রশিদ খানদের। ৯৯ ওভার খেলে ৯ উইকেটে ২৮৯ রান তুলে ইনিংস ঘোষণা করেছে তারা।

একমাত্র টেস্টের আগে একটি প্রস্তুতি ম্যাচ খেলছে বাংলাদেশ-আফগানিস্তান। চট্টগ্রামের এমএ আজিজ স্টেডিয়ামে বিসিবি একাদশের বিপক্ষে দুদিনের প্রস্তুতি ম্যাচ খেলছেন আফগানরা। ৮৮.১ ওভারে ৬ উইকেটে ২৪২ রান নিয়ে প্রথম দিন শেষ করেন তারা। দ্বিতীয় দিন সকালে আর ১১ ওভারের মতো খেলে ব্যাটিং ছেড়ে দেন সফরকারীরা।

আগের দিন টস জিতে ব্যাটিং করতে নেমে শুরুটা শুভ করেন ইহসানউল্লাহ আর ইব্রাহিম জাদরান। স্বাগতিকদের ভোগাতে থাকেন দুই ওপেনার। দুজনই তুলে নেন হাফসেঞ্চুরি। ইহসানউল্লাহ ৬২ ও ইব্রাহিম ৫২ রান করার পর দলের অন্য ব্যাটসম্যানদের সুযোগ করে দিতে স্বেচ্ছায় অবসরে যান। তাদের ওপেনিং পার্টনারশিপ ছিল ১৩২ রানের।

পরে কিছুটা বিপদে পড়ে আফগানিস্তান। পার্টটাইমার আল আমিনের অফস্পিন ভেলকিতে ধুঁকতে থাকেন পরের ব্যাটসম্যানরা। একে একে চার ব্যাটসম্যানকে তুলে নেন তিনি। ফলে দারুণ শুরুর পর ১৮৭ রান তুলতে ৫ উইকেট হারিয়ে বসে কাবুলিওয়ালাদের দল। পরে মোহাম্মদ নবী ৩৩ ও আফসার জাজাইয়ের অপরাজিত ৩৫ ব্যাটে চড়ে বিপদ কাটিয়ে ওঠেন তারা।

বিসিবি একাদশের হয়ে বল হাতে সবচেয়ে সফল ছিলেন আল আমিন জুনিয়র। পার্টটাইম এ অফস্পিনার ৫১ রানে নিয়েছেন ৪ উইকেট। ৪৩ রানে ৩ উইকেট শিকার করেন সুমন খান।

হবিগঞ্জে অনুষ্ঠিত হয়েছে পতাকা উৎসব

নিজস্ব প্রতিনিধি, হবিগঞ্জ: সঠিক মাপ আর রঙে জেলার সবকটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে প্রদান করা হয় লাল সবুজের বাংলার জাতীয় পতাকা। কেবল পতাকা প্রদান করাই নয়, বাঙালির জাতীয় জীবনে সবুজ আয়তক্ষেত্রের মাঝে লাল বৃত্তের এ পতাকার গুরুত্ব শিক্ষার্থীদের মাঝে তুলে ধরতে পতাকা নিয়ে উপস্থাপন করা হয় প্রবন্ধ। আয়োজন করা হয় পতাকার গুরুত্ব ও উত্তোলন নিয়ে আলোচনা সভা। সংযোগ ঘটানো হয় জেলার সকল শিক্ষার্থীদের। যে অনুষ্ঠানের নাম দেয়া হয় ‘ জাতীয় পতাকা উৎসব’। দেশের এ ব্যতিক্রমী উৎসবটি পালিত হয়েছে সিলেট বিভাগের হবিগঞ্জ জেলায়।

সোমবার (২ সেপ্টেম্বর) সকালে হবিগঞ্জ জেলা পরিষদ মিলনায়তনে অনুষ্ঠিত এ উৎসবে জেলার নয়টি উপজেলার ১ হাজার ৫শত ৫০টি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে জেলা প্রশাসনের উদ্যোগে প্রধান করা হল জাতীয় পতাকা। সঠিক মাপ ও রংয়ে জাতীয় পতাকা জেলার সবকটি সরকারী বেসরকারি কলেজ, স্কুল, মাদরাসা, কিন্ডারগার্ডেন ও ইবতেদায়ী শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের শিক্ষার্থীদের নিজ নিজ উপজেলা মিলনায়তন থেকে ভিডিও কনফারেন্সের মাধ্যমে যুক্ত করা হয়। ব্যতিক্রমী আয়োজন করেন হবিগঞ্জের জেলা প্রশাসক মাহমুদুল কবীর মুরাদ।

এসময় প্রতিটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান কর্তৃপক্ষের হাতে একটি করে পতাকা তুলে দেয়ার পাশাপাশি অনুষ্ঠানে উপস্থিত সকল ও শিক্ষার্থীদের হাতেও দেয়া হয় ছোট আকারের পতাকা। ফলে সে মুহূর্তটি পরিণত হয় লাল সবুজের পতাকার মায়াময় মুহূর্ত।

পতাকা উৎসবে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন জেলা প্রশাসক মাহমুদুল কবীর মুরাদ। অনুষ্ঠানে জাতীয় পতাকার ইতিহাস ও তাৎপর্যেও উপর মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন সিলেট শাহ জালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক ড. জহিরুল হক শাকিল।

গৌরী রায় এর সঞ্চালনায় স্বাগত বক্তব্য রাখেন, অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক রাজস্ব তারেক মোহাম্মদ জাকারিয়া, বিশেষ অতিথি ছিলেন, পুলিশ সুপার মোহাম্মদ উল্ল্যা, হবিগঞ্জ পৌরসভার মেয়র মিজানুর রহমান মিজান, স্থানীয় সরকার বিভাগের উপ-পরিচালক মো. নুরুল ইসলাম, মুক্তিযোদ্ধা এডভোকেট মো. মোহাম্মদ আলী পাঠান, অধ্যক্ষ জাহানারা খাতুন, প্রেসক্লাব সভাপতি হারুনুর রশীদ চৌধুরী, তাহমিনা বেগম গিনি।

অনুষ্ঠানের শুরুতে বিকেজিসি সরকারী বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা সমবেতে কন্ঠে জাতীয় সংগীত পরিবেশন করে।

প্রধান অতিথি মাহমুদুল কবীর মুরাদ বলেন, আমি আমার দায়িত্ববোধ থেকে এ আয়োজন করেছি। আমার অর্থনৈতিক ভাবে স্বাভলম্বি হচ্ছি। মুক্তিযুদ্ধেও চেতনায় দেশ এগিয়ে যাচ্ছে। কিন্তু আমরা অনেকে ইচ্ছা ও অনিচ্ছাকৃত ভাবে জাতীয় পতাকা অবমাননা করছি। বিগত জেলা প্রশাসক সম্মেলনে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ও এ ব্যাপারে গুরুত্বারোপ করেছেন। আমি চাই আমাদের নতুন প্রজন্ম জাতীয় পতাকার সঠিক ইতিহাস জানুক। জাতীয় পতাকাকে সম্মান দিতে শিখুক। অচিরেই হবিগঞ্জ জেলার শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে জাতীয় পতাকার উপর কুইজ ও বিজয়ীদের পুরস্কৃত করা হবে বলেও জানান তিনি।

মুল প্রবন্ধে প্রফেসর ড. জহিরুল হক শাকিল বলেন, আমাদের জাতীয় ঐক্য ও আশা আকাঙ্ক্ষার প্রতিফলন জাতীয় পতাকা। আমাদের জাতীয় পতাকার বাংলাদেশের ইতিহাসে ধারক ও বাহক। দীর্ঘ সংগ্রাম ও ত্যাগ তিথিক্ষার যেমন আমাদের পতাকায় ফুটে উঠেছে তেমনি আমাদের পরিবেশ, প্রকৃতি শুভ্রতার পরিচয় পাওয়া যায়।

অনুষ্ঠান শেষে প্রধান অতিথি জেলা প্রশাসক মাহমুদুল কবীর মুরাদ হবিগঞ্জ পৌর এলাকার শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের প্রধানদের হাতে জাতীয় পতাকা তুলে দেন।

ধর্মপাশায় পানিতে ডুবে একদিনে ৩ শিশুর মৃত্যু

ধর্মপাশা (সুনামগঞ্জ) প্রতিনিধি: সুনামগঞ্জের ধর্মপাশা উপজেলার পাইকুরাটি ইউনিয়নের নওধার গ্রামের বাসিন্দা খোকন মিয়ার তিন বছরের শিশুপুত্র সাব্বির মিয়া ও একই গ্রামের সবুজ মিয়ার সাত বছরের শিশু পুত্র ইয়াসিন মিয়া রোববার সকালে পৃথক পৃথক সময়ে নিজ নিজ বাড়ির সামনের ডোবার পানিতে ডুবে মারা যায়।

এ ছাড়া ওইদিন সকালে উপজেলার চামরদানী ইউনিয়নের সোলেমানপুর গ্রামের বাসিন্দা মঞ্জু সরকারের আড়াই বছরের শিশুপুত্র অভিজিৎ সরকার তাদের নিজেদের বাড়ির সামনের মনাই নদীর পানিতে ডুবে মারা যায়।

পাইকুরাটি ইউপি চেয়ারম্যান ফেরদৌসুর রহমান ও চামরদানী ইউপি চেয়ারম্যান জাকিরুল আজাদ মান্না পানিতে ডুবে তিনজন শিশুর মৃত্যুর খবরটির সত্যতা নিশ্চিত করেছেন।

হবিগঞ্জে পতাকা উৎসব আজ

নিজস্ব প্রতিনিধি: জাতীয় পতাকার সঠিক মাপ নিয়ন্ত্রণ ও শিক্ষার্থীদের মনে পতাকার সম্মানবোধ জাগ্রত করার লক্ষ্যে আজ সোমবার হবিগঞ্জে উদযাপিত হতে যাচ্ছে পতাকা উৎসব। ব্যতিক্রমী এ উদ্যোগ গ্রহণ করেছে হবিগঞ্জ জেলা প্রশাসন।

এ ব্যাপারে হবিগঞ্জ জেলা প্রশাসক মাহমুদুল কবীর মুরাদ বলেন, এখনও অনেক শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে দায়সারাভাবে জাতীয় পতাকা উত্তোলন করা হয়। এর সঠিক মাপ ও যথাযথ সম্মানের ব্যাপারে প্রতিষ্ঠানের শিক্ষক ও শিক্ষার্থীদের মধ্যে ধারণা নেই। অথচ আমাদের একটি পতাকা বিধি আছে। তা অনেক সময়ই মানা হয় না। সঠিকভাবে পতাকা ব্যবহার করা হয় না। সঠিক মর্যাদা দেয়া হয় না।

তিনি বলেন, আমরা মহান জাতীয় পতাকার গুরুত্ব ও সম্মানবোধের বিষয়টি শিক্ষার্থীদের মনে স্থান করে দিতে চাই। আমরা এ উৎসবের মাধ্যমে জেলার সকল শিক্ষক ও শিক্ষার্থীদের এক জায়গায় নিয়ে আসতে চাই। যেখানে এ ব্যাপারে সঠিক দিক নির্দেশনা প্রদান করা হবে।

জেলার ৯টি উপজেলার ১ হাজার ৫শ শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে একযোগে উৎসবের উদ্বোধন করা হবে। এর আওতায় প্রাথমিক বিদ্যালয়, মাধ্যমিক বিদ্যালয়, মাদরাসা ও কলেজগুলোকে অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে।

বাহুবলে শোকের মাসে জুতা পায়ে শহীদ মিনারে

বাহুবল (হবিগঞ্জ) প্রতিনিধি: হবিগঞ্জের বাহুবলে শোকের মাসে জুতা পায়ে শহীদ মিনারে শিক্ষক শিক্ষার্থী ও সভাপতি।

গত ৩১ আগস্ট শনিবার দুপুরে উপজেলার মানব কল্যাণ উচ্চ বিদ্যালয়ের শহীদ মিনারে এ ঘটনাটি ঘটে।

শোকের মাসে জুতা পায়ে শহীদ মিনারে দাড়িয়ে ছবি ফেসবুকে ভাইরাল হয়ে পড়েছে।

বিদ্যালয়ের সভাপতি উস্তার মিয়া, প্রধান শিক্ষক মুজিবুর রহমান, সহকারী শিক্ষক মিজানুর রহমান, আব্দুস সামাদ ও রইস উদ্দিন জুতা পায়ে শহিদ মিনারে ছাত্রছাত্রীদের মধ্যে আইডি কার্ড বিতরণ করছিলেন।

এ নিয়ে তীব্র নিন্দার ঝড় উঠেছে। শোকের মাসে তারা কেমন করে শহীদ মিনারে জুতা পায়ে শিক্ষার্থীদের নিয়ে আইডি কার্ড বিতরণ করছেন।

মাধবপুরে সড়কে প্রাণ গেল ছাত্রলীগ নেতার

মাধবপুর (হবিগঞ্জ) প্রতিনিধি: হবিগঞ্জের মাধবপুর উপজেলায় দ্রুতগামী মাইক্রোবাসের ধাক্কায় মওদুদ আহমেদ রুবেল (২৭) নামে এক ছাত্রলীগ নেতার নিহত হয়েছেন।

রোববার (১ সেপ্টেম্বর) সন্ধ্যায় ঢাকা-সিলেট মহাসড়কের মাধবপুর বাজারে এ দুর্ঘটনা ঘটে।

নিহত রুবেল উপজেলার কালিকাপুর গ্রামের ফরিদ মিয়ার ছেলে ও উপজেলা ছাত্রলীগের সাবেক সহ সাংগঠনিক সম্পাদক।

মাধবপুর হাইওয়ে থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আনিসুর রহমান জানান, সন্ধ্যায় সিলেট থেকে ঢাকাগামী একটি দ্রুতগতির মাইক্রোবাস নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে ফুটপাতে উঠে রুবেলকে চাপা দেয়। স্থানীয় লোকজন গুরুতর অবস্থায় তাকে উদ্ধার করে মাধবপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে গেলে কর্তব্যরত চিকিৎসক মৃত ঘোষণা করেন।

ওসি আরও জানায়, ঘটনার পর মাইক্রোবাস জব্দ করা হলেও চালক পালিয়ে গেছে। মরদেহ ময়না তদন্তের জন্য হবিগঞ্জ আধুনিক জেলা সদর হাসপাতাল মর্গে পাঠানো হয়েছে।