Category Archives: সুনামগঞ্জ

প্রেমের টানে ভারতীয় তরুণী সুনামগঞ্জে!

নিজস্ব প্রতিনিধি: প্রেমের টানে কাঁটাতারের বেঁড়া অতিক্রম করে সুনামগঞ্জের দোয়ারাবাজারে এসেছেন ভারতীয় তরুণী। তিনি ভারতের আসাম প্রদেশের কামরুপ জেলার চাংসারি থানার টাপারপাথার গ্রামের মুগুর আলীর মেয়ে মঞ্জুরা বেগম (২০)।

জানা যায়, ৫ বছর আগে কথিত মামলার আসামি আব্দুস সাত্তার (২৭) বাংলাদেশ থেকে পালিয়ে ভারতের আসামে পাড়ি জমান। তিনি দোয়ারাবাজার উপজেলার বাংলাবাজার ইউনিয়নের উত্তর কলাউড়া গ্রামের আবুল কাশেমের ছেলে।

ভারতে যাওয়ার পর সাত্তারের সঙ্গে পরিচয় হয় ভারতীয় তরুণী মঞ্জুরা বেগমের। গড়ে উঠে প্রেমের সম্পর্ক। কিছুদিন পর সাত্তার দেশে ফিরে এলে মোবাইল, ইমো ও ফেসবুক ম্যাসেঞ্জারে চলে তাদের প্রেমর সম্পর্ক। দীর্ঘ ৫ বছর পর প্রেমের টানে মঞ্জুরা বেগম ছুটে এসেছেন বাংলাদেশে।

স্থানীয়রা জানান, আব্দুস সাত্তার ৫ বছর আগে তার এক বন্ধুর প্রেমসংক্রান্ত মামলায় আসামি হন। ওই মামলায় তার বন্ধু জেল খাটেন আর সাত্তার পালিয়ে যান ভারতে। পরবর্তীতে সাত্তার দেশে এসে বাহরাইনে পাড়ি জমান।

ওই সময়ও দুইজনের মধ্যে প্রেমের সম্পর্ক অব্যাহত থাকে। সম্প্রতি মঞ্জুরা বেগমের বিয়ের প্রস্তাব আসে বিভিন্ন জায়গা থেকে। মঞ্জুরা বিষয়টি সাত্তারকে জানালে সাত্তার বাংলাদেশে তার বাড়ির ঠিকানা জানিয়ে দেন। ওই ঠিকানা অনুযায়ী গত মঙ্গলবার বাংলাদেশ সীমান্তে চলে আসে ভারতীয় তরুণী মঞ্জুরা বেগম।

সাত্তারের ছোটভাই ইমরান সেখান থেকে তাকে বাড়িতে নিয়ে আসেন। পরে মঞ্জুরা বেগমের সম্মতিতে মোবাইল ফোনে বাহরাইনে অবস্থানরত সাত্তারের সঙ্গে বিয়ে সম্পন্ন হয় কিন্তু কাঁটাতারের সীমানা বাধা হয়ে দাঁড়ায় তাদের জীবনে।

বিনা পাসপোর্টে সীমান্ত পাড়ি দেয়ার দায়ে বুধবার খবর পেয়ে বিজিবি আটক করে মঞ্জুরা বেগমকে। বিজিবি মঞ্জুরার বিরুদ্ধে পাসপোর্ট ছাড়া বিনা অনুমতিতে বাংলাদেশে প্রবেশ করার কারণে মামলা দিয়ে বুধবার রাতেই দোয়ারাবাজার থানায় তাকে হস্তান্তর করে।

দোয়ারাবাজার থানার ওসি মোহাম্মদ নাজির আলম ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে বলেন, বিজিবি একটি মামলা দায়ের করেছে। ওই মামলার আসামি মঞ্জুরাকে বৃহস্পতিবার কোর্টে সোপর্দ করা হয়েছে।

ট্রলারডুবিতে নিহতদের মধ্যে সুনামগঞ্জের ৯ জন

নিজস্ব প্রতিনিধি: নেত্রকোনা জেলার কলমাকান্দা উপজেলায় যাত্রীবাহী ট্রলারডুবির ঘটনায় সুনামগঞ্জের ৯ জন নিহত হয়েছেন।

আজ বুধবার (৯ সেপ্টেম্বর) বিকেল ৪টা পর্যন্ত নেত্রকোনার একজনসহ সুনামগঞ্জের ধর্মপাশা উপজেলার ২ জন ও মধ্যনগর থানার ৭ জনের মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে।

নিহতদের মধ্যে ৫ জন শিশু, ৩ জন নারী ও ২ জন পুরুষের মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে। এর মধ্যে আছেন দুই পরিবারের ৬ জন। আর জীবিত অবস্থায় উদ্ধার করা হয়েছে ৫ জনকে।

পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, সুনামগঞ্জের মধ্যনগর থেকে নেত্রকোনা সদরের ঠাকুরাকোণা ঘাটের উদ্দেশে ছেড়ে যাওয়ার পর বুধবার সকাল ১১টার দিকে কলমাকান্দা উপজেলার বড়কাপন ইউনিয়নের রাজনগর এলাকার গুমাই নদীতে বিপরীত দিক থেকে আসা একটি বালুবাহী ট্রলারের ধাক্কায় ডুবে যায় ওই ট্রলার। পরে স্থানীয়রা ১০ জনের লাশ উদ্ধার করেন।

দুর্ঘটনায় নিহতরা হলেন- ধর্মপাশা উপজেলার ইনাতনগর গ্রামের সাহেব আলীর স্ত্রী মজিদা আক্তার (৫০), মধ্যনগর এলাকার কামারউড়া গ্রামের আলমগীর হোসেনের ছেলে অনিক (৭), একই গ্রামের হাবিকুলের স্ত্রী লাকি আক্তার (৩০), তার দুই সন্তান টুম্পা আক্তার (৫) ও জাহিদ হোসেন (৩), ধর্মপাশা উপজেলার জামালপুর গ্রামের জোবাইরের ছেলে মোজাহিদ (৪), একই গ্রামের আব্দুল করিমের স্ত্রী সুলতানা আক্তার (৪৫), ইনাতনগর গ্রামের ওয়াহাব আলীর স্ত্রী লুৎফুন্নাহার ও তার আড়াই বছরের ছেলে ইয়াসিন। একই পরিবারের মনিরা (৫) নামের আরও এক শিশু নিখোঁজ রয়েছে। এছাড়া মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে নেত্রকোনা সদরের মেদনী গ্রামের আবুচানের স্ত্রী হামিদা খাতুনের (৪৫)।

এছাড়া নিখোঁজ রয়েছেন, ইনাতনগরের আব্দুল হান্নানের ছেলে রতন মিয়া (৩৫), একই এলাকার ফাতেমা আক্তার (৩৫) ও মোফাজ্জল।

ইতোমধ্যে সুনামগঞ্জের জেলা প্রশাসক আব্দুল আহাদ ধর্মপাশা ও মধ্যনগর উপজেলার উদ্দেশে রওয়ানা হয়েছেন বলে জানা গেছে। তিনি নিহতদের স্বজনদের সাথে দেখা করার কথা রয়েছে। এই মর্মান্তিক দুর্ঘটনায় ধর্মপাশা ও মধ্যনগরের নিহতদের পরিবারে চলছে শোকের মাতম।

সুনামগঞ্জ বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় স্থাপিত হবে

করাঙ্গীনিউজ: সুনামগঞ্জে একটি পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয় স্থাপনে জাতীয় সংসদে ‘সুনামগঞ্জ বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় বিল-২০২০’ নামে একটি বিল উত্থাপন করা হয়েছে।

সোমবার জাতীয় সংসদে বিলটি উত্থাপন করেন শিক্ষামন্ত্রী ডা. দীপু মনি। পরে বিলটি অধিকতর পরীক্ষা-নিরীক্ষার জন্য শিক্ষা মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত সংসদীয় স্থায়ী কমিটিতে পাঠানো হয়।

বিলটির উদ্দেশ্য ও কারণ সম্বলিত বিবৃতিতে বলা হয়েছে, উচ্চশিক্ষার বিভিন্ন ক্ষেত্রে অগ্রসরমান বিশ্বের সঙ্গে সংগতি রক্ষা ও সমতা অর্জন এবং জাতীয় পর্যায়ে উচ্চশিক্ষা ও গবেষণা বিশেষ করে বিভিন্ন ক্ষেত্রে আধুনিক জ্ঞানচর্চা ও পঠন-পাঠনের সুযোগ সৃষ্টি ও সম্প্রসারণের উদ্দেশ্যে প্রধানমন্ত্রী নীতিগত সন্মতির পরিপ্রেক্ষিতে সুনামগঞ্জ জেলায় সুনামগঞ্জ বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় নামে একটি বিশ্ববিদ্যালয় স্থাপনের উদ্যোগ গ্রহণ করা হয়েছে। বিলটি পাস হলে বিশ্ববিদ্যালয় স্থাপনের কার্যক্রম শুরু করা হবে।

সংসদে উত্থাপিত বিলটি অন্যান্য বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় আইন অনুসরণ করে প্রণয়ন করা হয়েছে। সেখানে ৫৫টি ধারা রয়েছে। সংক্ষিপ্ত শিরোনাম, প্রবর্তন ও সংজ্ঞা ছাড়াও উল্লেখযোগ্য ধারাগুলোর মধ্যে ৯ ধারা চ্যান্সেলর, ১০-১১ ধারা ভাইস চ্যান্সেলর, ১২ ধারা প্রো-ভাইস চ্যান্সেলর, ১৩ ধারা কোষাধ্যক্ষ, ১৮-২০ ধারা সিন্ডিকেট, ২১-২২ ধারা অ্যাকাডেমিক কাউন্সিল, ২৯-৩০ ধারা অর্থ কমিটি সম্পর্কিত।

এর আগে গত ২ মার্চ বিলটি মন্ত্রিসভায় চূড়ান্ত অনুমোদন দেওয়া হয়। আইন পাসের মাধ্যমে এ বিশ্ববিদ্যালয়টি চালু হলে দেশে বিজ্ঞান প্রযুক্তি ও প্রকৌশল পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ের সংখ্যা হবে ২০টি।

করোনায় সুনামগঞ্জ জেলা আ’লীগ নেতা আলমগীর কবীরের মৃত্যু

নিজস্ব প্রতিনিধি, সুনামগঞ্জ: করোনা ভাইরাসে আক্রান্ত হয়ে মৃত্যুবরণ করলেন সুনামগঞ্জ জেলা আওয়ামী লীগ সিনিয়র সদস্য আলমগীর কবীর (৬০)। (ইন্না লিল্লাহি ওয়া ইন্না ইলাইহি রাজিউন )।

করোনা ভাইরাসে আকান্ত হয়ে তিনি রাজধানী ঢাকার মুগদা জেনারেল হাসপাতালে চিকিৎসার জন্য ভর্তি হলে রবিবার দিবাগত মধ্যরাতে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি মৃত্যু বরণ করেন।

প্রয়াত আলমগীর কবীর জেলার ধর্মপাশা উপজেলার ধর্মপাশা গ্রামের প্রয়াত চাঁন মিয়ার জেষ্ঠ সন্তান ও দৈনিক যুগান্তরের ধর্মপাশা উপজেলার সাঊেশ প্রতিনিধি জুবায়ের পাশা হিমুর সহোদর বড় ভাই।

তিনি আমৃত্যু সুনানামগঞ্জ জেলা আওয়ামী লীগের সিনিয়র সদস্য ও ধর্মপাশা উপজেলা আওয়ামী লীগেরর সহ-সভাপতি ,ধর্মপাশা জনতা মডেল উচ্চ বিদ্যালয় পরিচালনা কমিটির সভাপতি, খয়েরদীর চর দাখিল মাদ্রাসার সভাপতির দায়িত্ব পালন করে গেছেন।

এছাড়াও তিনি সুনামের সাথে দ্বীর্ঘ মেয়াদে ধর্মপাশা বিআরডিবির চেয়ারম্যান ও ধর্মপাশা ডিগ্রী কলেজ পরিচালনা কমিটির সদস্য হিসাবে জনকল্যাণমুলক কাজ করে গেছেন।

মৃত্যুকালে তিনি স্ত্রী দুই মেয়ে সহ অসংখ্য আত্বীয় স্বজন ও গুণগ্রহী রেখে গেছেন।

এদিকে আওয়ামী লীগ নেতা আলমগীর কবীরের মৃত্যুতে গভীর ভাবে শোক প্রকাশ করে শোকাগত পরিবারের প্রতি সমবেদনা জানিয়েছেন দৈনিক যুগান্তরের ষ্টাফ রিপোর্টার , তাহিরপুর প্রেসক্লাবের প্রতিষ্ঠাতা সাধারন সম্পাদক, সুনামগঞ্জ প্রেসক্লাবের প্রচার ও প্রকাশনা সম্পাদক সাংবাদিক হাবিব সরোয়ার আজাদ,দৈনিক যুগান্তরের জামালগঞ্জ উপজেলা প্রতিনিধি প্যানেল চেয়ারম্যান হাবিবুর রহমান, দৈনিক যুগান্তরের ধর্পাশা উপজেলা প্রতিনিধি ও প্রেসক্লাব সাধারন সম্পাদক এনামুল হক।

সুনামগঞ্জে বজ্রপাতে যুবকের মৃত্যু

নিজস্ব প্রতিনিধি, সুনামগঞ্জ: সুনামগঞ্জ জেলার দক্ষিণ সুনামগঞ্জের হাওরে বজ্রপাতে মিঠু মিয়া (২৮) নামের এক যুবকের মৃত্যু হয়েছে। সেই সাথে বজ্রপাতে আরও ৩জন আহত হয়েছেন।

রবিবার (৬ সেপ্টেম্বর) ভোরবেলা দক্ষিণ সুনামগঞ্জের দেখার হাওরে এ ঘটনাটি ঘটে।

বজ্রপাতে নিহত যুবক উপজেলার পশ্চিম পাগলা ইউনিয়নের ইসলামপুর (নতুনপাড়া) গ্রামের রইব্বা মিয়ার ছেলে।

সূত্রে জানা যায়, রবিবার ভোরবেলা নিত্যদিনের মত মাছ ধরতে হাওরে যান তারা। হাওরে যাওয়ার পর আবহাওয়া বেগতিক দেখে হাওর থোকে বাড়ির উদ্দেশ্যে রওনা হন। ফেরার পথে বজ্রপাতে ঘটনাস্থলেই মিঠু মিয়া মারা যান। বাকিরা আহত অবস্থায় পানিতে ছিটকে পড়েন।

আহতরা হলেন একই গ্রামের ফকির মিয়ার ছেলে এনামুল হক (২০), আবু মিয়ার ছেলে মহিবুল্লাহ (২১), আঃ কাইয়ুমের ছেলে আঃ আজিজ (২০)।

আহত আঃ আজিজের অবস্থা আশঙ্কাজনক হওয়ায় কৈতক ৫০ শয্যা হাসপাতালে প্রেরণ করা হয়েছে। অন্য আহতদের স্থানীয়ভাবে চিকিৎসা প্রদান করা হয়েছে।

পশ্চিম পাগলা ইউনিয়ন চেয়ারম্যান নুরুল হক ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করেছেন।

জগন্নাথপুরে চাঁদাবাজ শাহজাহান গ্রেফতার

জগন্নাথপুর (সুনামগঞ্জ) প্রতিনিধি: সুনামগঞ্জের জগন্নাথপুরে চাঁদাবাজি মামলার গ্রেফতারি পরোয়ানাভুক্ত আসামী শাহজাহানকে গ্রেফতার করেছে থানা পুলিশ।

গ্রেফতার হওয়া চাঁদাবাজ উপজেলার চিলাউড়া-হলদিপুর ইউনিয়নের বাউধরণ (ওয়াহিদনগর) এলাকার আশিকুর রহমানের ছেলে।

বুধবার (২ সেপ্টেম্বর) সন্ধ্যা ৭ টায় জগন্নাথপুর থানার উপ-পরিদর্শক (এসআই) অনিক কুমারের নেতৃত্বে একদল পুলিশ তাকে গ্রেফতার করে।

গ্রেফতারের সত্যতা নিশ্চিত করেছেন অভিযান পরিচালনাকারী এসআই অনিক।

তিনি বলেন, ২০১১ সালের একটি চাঁদাবাজির মামলায় শাহজাহানকে গ্রেফতার করা হয়েছে। সে দীর্ঘদিন পলাতক ছিল। গতকাল ৭টার দিকে বাউধরণ থেকে তাকে গ্রেফতার করে আজ (বৃহস্পতিবার) আদালতে প্রেরণ করা হয়েছে।

তাহিরপুরে ভারতীয় কয়লা ও সুপারি আটক

তাহিরপুর (সুনামগঞ্জ) প্রতিনিধি: সুনামগঞ্জের তাহিরপুর উপজেলার সীমান্তে বিজিবির অভিযানে চোরাই পথে আসা ভারতীয় কয়লা ও সুপারি আটক করা হয়েছে।

আজ বুধবার (২ সেপ্টেম্বর) লাউড়েরগড় বিওপির টহল দল সীমান্ত পিলার ১২০৩/২-এস এর নিকট বাদাঘাট (উত্তর) ইউনিয়নের যাদুকাটা নদী থেকে ৯ হাজার কেজি ভারতীয় কয়লা আটক করে।

এর আগে গত শনিবার আরেক অভিযানে সীমান্ত পিলার ১২০৩/৭-এস এর নিকট শাহ আরেফিন নামক স্থান থেকে ৫০ কেজি ভারতীয় সুপারি আটক করা হয়েছিল।

সুনামগঞ্জ-২৮ বর্ডার গার্ড ব্যাটালিয়নের অধিনায়ক লে. কর্নেল মো. মাকসুদুল আলম ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে বলেন, আটককৃত ভারতীয় কয়লা ও সুপারি শুল্ক কার্যালয় সুনামগঞ্জে জমা করার কার্যক্রম প্রক্রিয়াধীন রয়েছে।

দিরাইয়ে বজ্রপাতে জেলের মৃত্যু

নিজস্ব প্রতিনিধি, সুনামগঞ্জ: সুনামগঞ্জের দিরাই উপজেলার কালিয়াকোঠা হাওরে মাছ ধরার সময় বজ্রপাতে তোতন মিয়া (৪৮) নামের এক জেলের মৃত্যু হয়েছে।

তিনি উপজেলার রন্নারচর ইউনিয়নের মৃত শুক্কুর আলীর পুত্র।

সোমবার (৩১ আগস্ট) দুপুরের এ ঘটনাটি ঘটে।

রাজানগর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান সৌম্য চৌধুরী জানান, হাওরে মাছ ধরার সময় বজ্রপাতে তোতন মিয়া মারা যান। এরপর তার লাশ অন্য জেলেরা উদ্ধার করে বাড়িতে নিয়ে আসেন।

 

তাহিরপুরে বিদশি মদসহ আটক ৩

নিজস্ব প্রতিনিধি, সুনামগঞ্জ:
একই মোটর সাইকেলযোগে বিদেশি মদ ও ভারতীয় মুদ্রা নিয়ে পালিয়ে যাবার পথে তিন মাদক চোরাকারবারীকে আটক করেছে বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি)।

রবিবার সকালে বিজিবি সিলেট সেক্টরের ২৮-বর্ডার গার্ড ব্যাটালিয়ন সুনামগঞ্জের অধিনায়ক লে. কর্ণেল মো. মাকসুদুল আলম (আটিলারী) এ তথ্য নিশ্চিত করেন।

আটককৃতরা হলো, জেলার তাহিরপুর উপজেলার উওর শ্রীপুর ইউনিয়নের সীমান্ত গ্রাম বিরেন্দ্র নগরের বিল্লাল হোসেনের ছেলে জুনায়েদ হাসান,একই গ্রামের লাল মিয়ার ছেলে আলী আকবর,হোসেন আলীর ছেলে শাহাদৎ হোসেন।

বিজিবি অধিনায়ক আরো জানান, জেলার তাহিরপুর উপজেলার পার্শ্ববর্তী ধর্মপাশার উপজেলার মধ্যনগর থানার উওর বংশ্রীকুন্ডা ইউনিয়নে থাকা ব্যাটালিয়নের মাটিরাবন বিওপির বিজিবি টহল দল শনিবার দুপুরে সীমান্ত সড়কে নেত্রেেকানার কলমাকান্দা গামী তিন আরোহী মোটরসাইকেল যোগে দ্রুত গতিতে পালিয়ে যাবার পথে সীমান্ত সড়ক বাঁকাতলায় সন্দেহভাজন হিসাবে আরোহীদের আটক করেন।

এরপর তাদের দেহ তল্লাশী করে ১২ বোতল বিদেশি মদ, ভারতীয় ১ হাজার রুপীর দুটি মুদ্রা, ১০০ সিসি প্লাটিনা আরোও একটি চোরাই মোটরসাইকেল জব্দ করেন বিজিবি টহল দল।

আলামত সহ মামলা দায়ের পুর্বক শনিবার রাতে আটককৃত মাদক চোরাকারবারীদের মধ্যনগর থানায় সোপর্দ করেন বিজিবি টহল দল।

ধর্মপাশায় পানিতে ডুবে দুই বোনের মৃত্যু

নিজস্ব প্রতিনিধি, সুনামগঞ্জ: সুনামগঞ্জের ধর্মপাশা উপজেলা জালধরা হাওরের পানিতে ডুবে খাদিজা আক্তার (৫) ও বিয়া আক্তার( ৭) বছর বয়সী আপন ২ বোনের মর্মান্তিক মৃত্যু হয়েছে। তারা উপজেলার জয়শ্রী ইউনিয়নের বড়ই গ্রামের বাসিন্দা হবুল মিয়ার মেয়ে।

শুক্রবার (২৮ আগস্ট) সকাল ১১টার দিকে জালধরা হাওরের পানিতে পড়ে তারা তলিয়ে যায়।

এলাকাবাসী ও শিশু দুটির পরিবার সূত্রে জানা গেছে, উপজেলার জয়শ্রী ইউনিয়নের বড়ই গ্রামের স্বামীর বাড়ি থেকে মাস খানেক আগে ওই দুটি মেয়ে শিশুকে নিয়ে মা ময়না আক্তার নিজের বাবার বাড়ি উপজেলার সেলবরষ ইউনিয়নের ভাটাপাড়া গ্রামে বেড়াতে আসেন।

বৃহস্পতিবার (২৭ আগস্ট) মা ময়না আক্তার তার দুজন মেয়েকে নিয়ে পাশ্ববর্তী সলপ গ্রামে আবদুল মোতালিব নামের এক আত্বীয়ের বাড়িতে বেড়াতে যান। ওই দুটি শিশু আজ শুক্রবার সকাল ১১টার দিকে ওই বাড়ির উঠানে খেলাধূলা করতে করতে এক পর্যায়ে তারা ওই বাড়ির সামনে থাকা জালধরা হাওরের পানিতে পড়ে গিয়ে তলিয়ে যায়।

স্থানীয় লোকজন খোজাখোঁজি করে দুপুর ১২টার দিকে ওই হাওরের পানি থেকে তাদের উদ্ধার করে ধর্শপাশা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের জরুরি বিভাগে নিয়ে যায়।পরে হাসপাতালের ডাক্তার ওই দুজন শিশুকে মৃত ঘোষণা করেন।

সেলবরষ ইউনিয়নের ৭ নম্বর ওয়ার্ডের ইউপি সদস্য মো. ইকবাল মিয়া এই খবরটির তথ্যের সত্যতা নিশ্চিত করেছেন।

বদলির ক্ষেত্রে এক অন্যন্য নজির স্থাপন করলেন সুনামগঞ্জের ডিসি!

হাবিব সরোয়ার আজাদ:
গণপ্রশাসনে বদলি একটি নিয়মিত ও স্বাভাবিক চর্চা। নির্দিষ্ট সময় অন্তর অন্তর কর্মস্থল পরিবর্তন সরকারি বিধি বিধান দ্বারা নির্ধারিত।

এ ধরনের একটি স্বাভাবিক বিষয় তখনই আলোচ্য বিষয় হিসাবে গুরুত্ব পায় যখন সেটি ইতিবাচক বা নেতিবাচকভাবে আলোচিত সমালোচিত হয়।

বলা বাহুল্য সুনামগঞ্জ জেলা প্রশাসনের সম্প্রতি একটি বদলি আদেশ সুশীল সমাজ ও সুধীজনের দৃষ্টি আকর্ষণ করেছে। যা প্রশংসনীয় ও অনুকরণযোগ্য উদ্যোগ হিসাবে দেখছে গোট জেলাবাসী।

বিভিন্ন স্থানীয় , আঞ্চলিক ও জাতীয় দৈনিকে সম্প্রতি প্রকাশিত সংবাদ সূত্রের আলোকে জানা যায়, সুনামগঞ্জ জেলা প্রশাসন থেকে সম্প্রতি ১০ জন ভূমি সহকারি কর্মকর্তা ও ১৮ জন ভূমি উপ সহকারি কর্মকর্তাকে বদলি করা হয়েছে।

এ বদলি আদেশ জারি করতে যে প্রক্রিয়া অনুসৃত হয়েছে সেটিই আসলে শুধু মাত্র জেলাবাসীকে নয় গোটা দেশবাসীর সামনে একটি দৃষ্টান্ত বা অনুকরণীয় কাজ হিসাবে প্রশংসার দাবি রাখে।

ওই ২৮ জন সরকারি কর্মচারি সরকারি নীতিমালা অনুসারে বদলিযোগ্য ছিলেন।

কর্তৃপক্ষ যাকে যেমন ইচ্ছা তেমন স্থানে বদলি করতে পারতেন। আবার ওইসব সরকারি কর্মচারী কর্মকর্তার চাহিদা মাফিক নিজের পছন্দেও স্থানে বদলী করতে পারতেন।

বিশেষ করে ভূমি সহকারি বা উপ সহকারি কর্মকর্তাদের বদলির ক্ষেত্রে অতীতে নানা অনৈতিক সুবিধা বিনিময়ের বিস্তর অভিযোগ শোনা যেত।

জনপ্রতিনিধিদের দিয়ে চাঁপ তৈরী,তদবির, ঘুষ বাণিজ্য প্রদান ইত্যাদি অনৈতিক প্রক্রিয়ায় উপরি আয়ের দিক দিয়ে বেশ ভালো আয়ের স্থানে বা তহসিল অফিসে পদায়ন পাওয়ার পুরনো প্রথা চালু ছিল। জেলার শিল্প নগরী ও প্রবাসী অধ্যুষিত ছাতক , প্রবাসী অধ্যুষ্যত জগন্নাথপুর, জেলা সদর, খনিজ, প্রাকৃতিক সম্পদ, বাণিজ্যিক ও সীমান্তজনপদ তাহিরপুর সহ জেলার কোনো কোনো তহসিল অফিসে পদায়ন পেতে নানাবিধ লোভনীয় উপটৌকন, পকেট ভর্তি নয় ব্যাগ ভরে টাকা লেনদেনের গল্প গুজবও শোনা যেতো। আলোচ্য চলমান বদলিটিও সেভাবেই হতে পারত।

কিন্তু হয়নি একজন জেলা প্রশাসকের স্বদিচ্ছা ও স্বচ্ছতা ও নিজ দায়িত্ব কর্তব্যেও গুরুত্ব অনুধাবন করার কারনে।

সুশীল স্বজ্জন জনবান্ধব ব্যক্তিত্ব হিসাবে সুনামগঞ্জর জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ আব্দুল আহাদ ইতোমধ্যে অত্র জেলার সর্বমহলে নিজের স্বতন্ত্র সাদামাটা জীবনের অধিকারী হিসাবে পৃথক একটি ভাবমূর্তি দাড় করাতে পেরেছেন ।

ভূমি কর্মকর্তাদের আলোচিত বদলি আদেশটি তাঁর ওই ভাবমূর্তিকে আরও উজ্জ্বল করেছে।

এই ২৮ ভূমি কর্মকর্তার বদলির ক্ষেত্রে জেলা প্রশাসক গতানুগতিকতা পরিহার করে লটারির ব্যবস্থা করে দিয়েছিলেন। বদলিযোগ্য কর্মচারিরা নিজেরাই লটারির মাধ্যমে নিজেদের বদলিকৃত কর্মস্থল নির্ধারণ করেছেন। এতে কারও ভালো কিংবা অপেক্ষাকৃত কম ভালো কর্মস্থল নির্ধারিত হয়েছে, কিন্তু সবচাইতে যেটি ভাল হয়েছে তা হল, এই পদায়ন নিয়ে কারও কোনো আপত্তি জানাবার সুযোগই থাকলো না।

একই সাথে এ বদলির ক্ষেত্রে কোন জনপ্রতিনিধির চাঁপ, উপটৌকন বিনিময় ,তদবির, প্রভাব, সম্পর্ক, অর্থ ইত্যাদি অসৎ ও অনৈতিক সংযোগের কোন সেতুবন্ধন ছিলো না।

সম্পূর্ণ স্বচ্ছতা ও নিরপেক্ষতা বজায় রেখে এই বদলি আদেশ জারি করা হয়েছে। এ হেন একটি অনুকরনীয় ও দৃষ্টান্ত স্থাপনকারী কাজ করার জন্য সুনামগঞ্জ জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ আব্দুল আহাদকে জেলার সর্বমহল সাধুবাদ জানিয়েছেন। তার এ কাজ দেশের অন্যান্য জেলার নিকট অনুকরণীয় কাজ হিসাবে গ্রহনযোগ্য হতে পারে বলে জেলার সুশীল সমাজ আস্থা করেন।

সরকারী নানা অধিক্ষেত্রে বড় বড় দুর্নীতি ও অব্যবস্থাপনার খবর দেশের প্রিন্ট, ইলেকট্রনিক্স, অনলাইন মিডিয়ার নানা সময়ে ফলাও করে প্রচার হয়।
সরকারি পর্যায়ে থাকা প্রশাসনযন্ত্র বা বিভিন্ন দফতর নিয়ে দেশের সাধারণ মানুষের মনোভাব আজো স্বস্থিকর কিংবা সুখকর নয়। বরং জনমনে সরকারি বেসরকারী প্রশাসন, দফতর নিয়ে সন্দেহ, ভয় ও অন্যায্যতার চিন্তা শঙ্কা কাজ করে।

এইরকম বাস্তবতায় সরকার জনপ্রশাসনকে গণমুখী করতে নানামুখী প্রক্রিয়া শুরু করেছেন। সরকারি প্রশাসনে শুদ্ধাচার, উদ্ভাবন, সমানাভূতি, প্রাযুক্তিক উৎকর্ষতা, ইত্যাকার বিভিন্ন আধুনিক ধ্যান ধারণার প্রয়োগ ঘটানো হয়েছে। কিছু কিছু কর্মকর্তা যে সরকারি এই উদ্যোগগুলোকে নিছক খেতাবি পরিভাষা না ভেবে অন্তরে আত্বায় ধারণ করে রেখেছেন সুনামগঞ্জ জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ আব্দুল আহাদ আরও একাধিক দাফতরিক কর্মকান্ডের সাথে এই বদলি আদেশ জারির মাধ্যমে তার উজ্জল এক দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছেন।
আমরা চাইব এই অভিনব প্রক্রিয়ার অন্তর্নিহিত সদ্ভাবনাটি দেশের সর্বত্র অনুকরনীয় হোক।

বিশেষ করে যে সব সরকারী দফতর সমুহে সেবা ও উন্নয়ন কর্মকান্ড বাস্তবায়ন করা হয় সেইসব দফতরে এ ধরনের চর্চার প্রসার প্রয়োগ ঘটুক।

তাহলে জনপ্রশাসন সত্যিকার অর্থে জনমুখী চরিত্র ধারণ করে শুভ্র সমুজ্জ্বল হয়ে দেশের সাধারন নাগরিকগণের নিকট আস্থা অর্জনে সক্ষম হবে, থাকবেনা জনমনে কোন রকম শঙ্কা, টাকা খরচ কওে বধলী হয়ে টাকা কামানোর মেশিনে রুপন্তিরিত হওয়ার চিন্তা চেতনা থেকেও বেড়িয়ে আসবেন অনেক সরকারী কর্মচারী-কর্মকর্তা।

সবশেষে ছোট্ট একটি কথা।
লটারি একটি যান্ত্রিক ও ভাগ্যনির্ভর প্রক্রিয়া। এতে কর্মস্থলের জন্য উপযুক্ত লোক নির্বাচন নাও হতে পারে। তবে আর সব প্রক্রিয়া যখন প্রশ্নবিদ্ধ ও নিষ্কলুষ রাখা কঠিন তখন লটারিই উত্তম। একসময় হয়তো উপযুক্ততা ও ন্যায্যতা বিবেচনা করে পদায়ন করার পরিবেশ তৈরি হবে।

সুনামগঞ্জ জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ আব্দুল আহাদের নিজস্ব উদ্যোগে বদলীর ক্ষেত্রে নিজের পছন্দের জায়গার পরিবর্তে লটারি উদ্যোগটি সেই পথকেই প্রসারিত করেছে।

লেখক:
হাবিব সরোয়ার আজাদ, দৈনিক যুগান্তর, স্টাফ রিপোর্টার।

স্বামীসহ করোনায় আক্রান্ত দক্ষিণ সুনামগঞ্জের ইউএনও

নিজস্ব প্রতিনিধি: দক্ষিণ সুনামগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) জেবুন নাহার শাম্মী (৩৪) ও তার স্বামী নাহিদ হাসান রিংকু (৩৮) করোনাভাইরাসে আক্রান্ত হয়েছেন।

ইউএনওর করোনা আক্রান্তের সত্যতা নিশ্চিত করেছেন উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ কর্মকর্তা ডা. জসিম উদ্দিন।

তিনি জানান, জ্বরসহ করোনার উপসর্গ থাকায় সোমবার উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ও তার স্বামীর নমুনা সংগ্রহ করে তা পরীক্ষার জন্য সিলেট শাবিপ্রবির ল্যাবে পাঠানো হয়। মঙ্গলবার রাতে তাদের নমুনা পরীক্ষার রিপোর্টে করোনা পজিটিভ আসে।

উপজেলা স্বাস্থ্য কর্মকর্তা জানান, ইউএনও জেবুন নাহার শাম্মী ও তার স্বামী নাহিদ হাসান রিংকু বর্তমানে সরকারি বাসভবনেই হোম আইসোলেশনে রয়েছেন। তাদের শারীরিক অবস্থা স্থিতিশীল আছে।

দক্ষিণ সুনামগঞ্জ ইউএনও করোনায় আক্রান্ত

নিজস্ব প্রতিনিধি: সুনামগঞ্জের দক্ষিণ সুনামগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী র্কমর্কতা (ইউএনও) জেবুন নাহার শাম্মী করোনায় আক্রান্ত হয়েছেন।

মঙ্গলবার রাতে সুনামগঞ্জ জেলা প্রশাসন কার্যালয়ের দায়িত্বশীল সুত্র বিষয়টি নিশ্চিত করেন।

ওই সুত্র আরও জানান, ইউএনও জেবুন নাহার শাম্মী গত কয়েকদিন ধরে জ্বরে ভুগছিলেন। সোমবার উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের মাধ্যমে তিনি নিজেই নমুনা প্রদান করেন।

সিলেট শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় পিসিআর ল্যাবে তার নমুনা পাঠানো হলে মঙ্গলবার রাতে পজিটিভ রিপোর্ট আসে।

উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. জসিম উদ্দিন জানান, ইউএনও মঙ্গলবার রাত হতেই উপজেলায় থাকা সরকারি বাসভবনে আইসোলেশনে রয়েছেন।

দিরাইয়ে পানিতে ডুবে দুই বোনের মৃত্যু

দিরাই (সুনামগঞ্জ) প্রতিনিধি: সুনামগঞ্জের দিরাইয়ে পুকুরের পানিতে ডুবে দুই বোনের মৃত্যু হয়েছে।

মঙ্গলবার (২৫ আগস্ট) সকাল ১০টার দিকে উপজেলার কুলঞ্জ ইউনিয়নের তেতৈয়া গ্রামে এ ঘটনা ঘটেছে।

নিহতরা হলো ওই গ্রামের পরাছ মিয়ার মেয়ে সিমি আক্তার (৭) ও সিমরান আক্তার (৫)।

কুলঞ্জ ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মুজিবুর রহমান তালুকদার পানিতে ডুবে দুই শিশুর মৃত্যুর বিষয়টি নিশ্চিত করে জানান, পরাছ মিয়ার তিন শিশুকন্যা প্রতিদিনের মতো গ্রামের মক্তবে পড়তে গিয়ছিল। পড়া শেষে বাড়ি ফেরার পথে পুকুরের পানিতে পা ধুতে গিয়ে এক বোন পুকুরে ডুবে গেলে তাকে বাঁচাতে আরেক বোন এগিয়ে যায় এবং সেও পুকুরের পানিতে ডুবে যায়। অন্য শিশুকন্যাটি দৌড়ে পরিবারের লোকজনের কাছে গিয়ে দুর্ঘটনার খবর জানায়।

খবর পেয়ে প্রতিবেশীসহ পরিবারের লোকজন শিশু দু’টিকে উদ্ধার করেন।

পরে তাদের চিকিৎসার জন্য স্থানীয় মার্কুলীবাজারে নিয়ে গেলে চিকিৎসক তাদের মৃত ঘোষণা করেন। গ্রামের বাড়িতে তাদের দাফন করা হবে বলে জানা গেছে।

সুনামগঞ্জে কিশোর গ্যাং’র ৮ সদস্য গ্রেফতার

নিজস্ব প্রতিনিধি: নিজেরা সেীরব্রেটি হতে গিয়ে মাত্র তোরো বছর বয়সী এক শিশুর গলায় দা ঠেকিয়ে মাদক সেবন করিয়ে টিকটক ভিডিও চিত্র ধারণ করায় সুনামগঞ্জের তাহিরপুরে কিশোর গ্যাং’র ৮ সদস্য গ্রেফতার করেছে থানা পুলিশ।

সোমবার গ্রেফতারকৃতদের ডিজিটাল নিরাপওা ও শিশু নির্যাতন আইনে গ্রেফতার দেখিয়ে আদালতের মাধ্যমে জেলা কারাগারে পাঠানো হয়েছে।

সুনামগঞ্জ পুলিশ সুপার মো. মিজানুর রহমান বিপিএম’র নজরে গোটা বিষয়টি আসার পর পরই গোয়েন্দা ও থানা পুলিশকে বিশেষ নির্দেশানা দিলে সোমবার কয়েকদফা অভিযান চালিয়ে ওই কিশোর গ্যাং’র সদস্যদেও গ্রেফতার করা হয়।

গ্রেফতারকৃতরা হল, সুনামগঞ্জের তাহিরপুর উপজেলার পাগলপুর গ্রামের হরমুজ আলীর ছেলে মনির হোসেন একই উপজেলার বাদাঘাট (কাশতাল চরগাঁও) গ্রমের হাবিবুর রহমান সংগ্রামের ছেলে মজিবুর রহমান সাগর , কামড়াবন্দ গ্রামের কাঁচামাল ব্যবসায়ী বাচ্চু মিয়ার ছেলে তোফিকুল ইসলাম রনি , বাদাঘাট গ্রামের আব্দুর রহমান শেখের ছেলে আলম শেখ, একই গ্রামের আনোয়ারের ছেলে আনিসুল বারি তারেক ,পৈলনপুর গ্রমের মৃত আব্দুল গফুরের ছেলে মোজাম্মেল হক, বাদাঘাট বাজারের খোরশেদ আলমের ছেলে আবুল হাসনাত আব্দুল্লাহ,নাজির হোসেনের ছেলে মাহমুদুল হাসান দিপু ।

রবিবার রাতে ডিজিটাল নিরাপক্তা আইন ও শিশু নির্যাতন দমন আইনের সংশ্লিস্ট ধারায় ১০ জনের নামোল্লেখ করে উপজেলার কামড়াবন্দ গ্রামের নেকবর মিয়ার ছেলে মোশারফ ওরফে আরিয়ান, একই গ্রামের মৃত ছাক্তারের ছেলে জিসান ওরফে বকুলকে পলাতক আসামী করে অজ্ঞাত নামা আরো ৭ হতে ৮ জনের বিরুদ্ধে থানায় মামলাটি দায়ের করা হয়।

অপরদিকে গ্রেফতার মজিবুর রহমান সাগর , তোফিকুল ইসলাম রনি ও পলাতক আসামী মোশারফ ওরফে আরিয়ান, জিসান ওরফে বকুল এ কিশোর গ্যাং’র চার সসস্যের বিরুদ্ধে সাইবার ক্রাইমের পাশাপাশী, এলাকায় ইভটিজিং, ইয়াবা- বাবাসহ নানা মাদক বিক্রয়- সেবন, নিরীহ পরিবারের কিশোর-কিশোরী, স্কুল গামী ছাত্রীদের ভয় ভীতি দেখিয়ে ব্লাক মেইলিং করা এমনকি এলাকার বিদ্যুতের বাল্ব, লোহা জাতীয় সামগ্রী, ফ্যান. টিউবওয়েলের বডি, পানির মোটর, বিভিন্ন বাসা বাড়ি ও ব্যবসায়ীক প্রতিষ্ঠানে সব ধরণের ছোট বড় চুরির মত অপরাধ কর্মকান্ডের সাথে জড়িত রয়েছে বলে এলাকাবাসীর অভিযোগ রয়েছে।

মামলা ও ভিকটিমের পারিবারীক সুত্রে জানা যায়, উপজেলার লাউরগড় (ঢালারপাড়) গ্রামের দিনমজুর সিরাজুল ইসলামের ১৩ বছর বয়সী শারিরীক বুদ্ধি প্রতিবন্দী শিশু সন্তান শরিফ মিয়াকে একাধিক বখে যাওয়া কিশোর গ্যাং’র সদস্যরা নিজেরা সেলিব্রটি হতে গিয়ে মাদক সেবন, গলায় ধারালো দা ঠেকিয়ে হত্যার হুমকি দিয়ে মারধর করে টিকটকের জন্য একাধিবার ভিডিও চিত্র ধঅরণ করে।

চলতি বছরের জুলাই হতে ধারণকৃত ভিডিও চিত্রগুলো কিশোর গ্যাং’র সদস্যরা সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুক নিজেদের বিভিন্ন গ্রপ, পেইজ, টিকটকে, ইউটিউবে পোষ্ট করে।

এ ধরণের আপক্তিকর,ভীতিকর বেশ কয়েকটি ভিডিও চিত্র সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ভাইরাল হলে দেশ ও প্রবাসের নেটিজেনরা প্রতিবাদ জানিয়ে ঘটনার সাথে জড়িতদের আইননের আওতায় নিয়ে আসার দাবি তুলেন।

এ ঘটনায় শনিবার ‘বাংলাদেশ সিভিলিয়ান ফোর্স’নামে একটি ভেরিফাইড ফেইসবুক পেইজ হতে ফের ভিডিও চিত্র পোষ্ট করে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়,পুলিশের আইজিপি,ডিআইজি,পুলিশ সুপার, র‌্যাব সহ আইনশৃস্খ লা বাহিনী দৃষ্টি আকর্ষণ করা হয়।

বিষয়টি রবিবার সকালে সুনামগঞ্জ জেলা পুলিশ সুপারের নজরে আসার পর ওই ভেলা ১১টা হতে রাত ১১টা অবধি গোয়েন্দা ও থানা পুলিশ, বাদাঘাট পুলিশ ফাঁড়ির সদস্যরা থানার ওসি মো.আতিকুর রহমানের নেতৃত্বে দফায় দফায় অভিযান চালিয়ে এ ঘটনায় জড়িত কিশোর গ্যাং’র ৮ সদস্যকে গ্রেফতার করেন।

সোমবার সন্ধায় সুনামগঞ্জ পুলিশ সুপার মো. মিজানুর রহমান বিপিএম গণমাধ্যমকে বলেন, প্রথমত প্রতিটি পরিবার থেকেই কিশোরদের অপরাধ প্রবণতার পথ প্রতিরোধে এগিয়ে আসতে হবে, এরপর আইনি ব্যবস্থা তো রয়েছেই।

তিনি আরো বলেন, মাদক, চোরাচালান,ইভটিজিং, বখাটেপনা, সন্ত্রাসী কর্মকান্ড,চাঁদাবাজিসহ যে কোন ধরণের অপতৎপরতা রোধে জেলার সকল থানা পুলিশ ও গোয়েন্দা পুলিশকে তৎপরতা রাখা হয়েছে।