Category Archives: মৌলভীবাজার

কমলগঞ্জে টমেটো চাষীদের সাথে মতবিনিময় সভা

পিন্টু দেবনাথ, কমলগঞ্জ (মৌলভীবাজার) :মৌলভীবাজারের কমলগঞ্জ উপজেলার মাধবপুর ইউনিয়নের পাত্রখোলা চা বাগানে আধুনিক প্রযুক্তিতে (গ্রাফটিং) টমেটো ও অন্যান্য সবজি চাষকারী সফলকৃষকদের সাথে মতবিনিময় সভা অনুষ্ঠিত হয়।

শনিবার (১৯ সেপ্টেম্বর) কমলগঞ্জ উপজেলা প্রশাসন ও উপজেলা কৃষি অধিদপ্তরের আয়োজনে মতবিনিময় সভায় প্রধান অতিথি হিসাবে উপস্থিত ছিলেন মৌলভীবাজার জেলা প্রশাসক মীর নাহিদ আহসান।

অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন কমলগঞ্জ উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান অধ্যাপক রফিকুর রহমান, উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা আশেকুল হক, কমলগঞ্জ থানার অফিসার ইনচার্জ মোহাম্মদ আরিফুর রহমান, কমলগঞ্জ উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা আশরাফুল ইসলাম, উপজেলা আওয়ামীলীগের সাবেক সভাপতি এম. মোসাদ্দেক আহমেদ মানিক।

মতবিনিময় সভায় উপস্থিত কৃষকরা বলেন, কমলগঞ্জে প্রচুর সবজি চাষ হয়ে থাকে।

এলাকার চাহিদা মিটেয়ে চাষীরা অন্যত্র জেলায় সরবরাহ করে থাকেন। দেশের বিভিন্ন স্থান থেকে পাইকারী ব্যবসায়ীরাও এসে কমলগঞ্জ থেকে সবজি নিয়ে থাকেন। বর্তমান করোনা কাল কৃষকদের জন্য বড়ই ক্রান্তিকাল। তাই সহজ শর্তে সরকারি ভাবে ঋণ দিয়ে অথবা সরকারের বিভিন্ন সুযোগ সুবিধা কৃষকরা যাতে পায় সে দিকে নজর রাখার জন্য প্রশাসনের প্রতি জোর দাবী জানানো হয়।

জেলা প্রশাসক মীর নাহিদ আহসান বলেন, বাংলাদেশ কৃষি প্রধান দেশ। কৃষকদের উন্নয়নে বর্তমান সরকার কাজ করে যাচ্ছে। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নির্দেশ দিয়েছেন কৃষকদের কোন জায়গা যাতে খালি না থাকে। সবজি অথবা গাছ লাগাতে হবে। যেহেতু মৌলভীবাজার জেলার মধ্যে কমলগঞ্জ উপজেলায় সবজি চাষ বেশি হয়। সে কারণে সরকারের পক্ষ থেকে হিমাগার করার চিন্তা ভাবনা রয়েছে।

মতবিনিময় সভা শেষে জেলা প্রশাসক কৃষকদের ফলিত সবজি চাষ পরিদর্শন করেন।

মৌলভীবাজারে সাংবাদিক রাধিক মোহন গোস্বামী স্মৃতি পদক ২০২০ প্রদান

পিন্টু দেবনাথ, কমলগঞ্জ ( মৌলভীবাজার): মৌলভীবাজারের সাংবাদিক রাধিকা মোহন গোস্বামী স্মরনে প্রদান করা হয়েছে রাধিকা মোহন গোস্বামী স্মৃতিপদক ২০২০।

শনিবার ( ১৯ সেপ্টেম্বর) মৌলভীবাজার প্রেসক্লাব ভবনে এ পদক অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন মৌলভীবাজার-৩ আসনের সংসদ সদস্য নেছার আহমদ।

অনুষ্ঠানে প্রিন্ট মিডিয়ায় প্রথম স্থান অধিকিারী প্রথম আলো কমলগঞ্জ প্রতিনিধি মুজিবুর রহমান রঞ্জু ও ইলেক্টনিক মিডিয়ায় প্রথম হওয়া এটিএন বাংলা সিলেট বিভাগীয় প্রতিনিধি শাহ মুজিবুর রহমান জকন এর হাতে তুলে দেয়া হয় পদক, ক্রেষ্ট, সার্টিফিকেট ও নগদ অর্থ।

ইলেক্ট্রনিক মিডিয়া জার্নালিষ্ট (ইমজা) মৌলভীবাজার এর সহযোগীতায় এবং রাধিকা মোহন স্মৃতি সংসদের উদ্যোগে আয়োজিত এ অনুষ্ঠানে প্রতিযোগীতায় অংশগ্রহনকারী আরো ১৫ জনকে পুরস্কার ও সার্টিফিকেট ও প্রতিযোগীতার বিচারক মন্ডলীকে সম্মাননা স্মারক প্রদান করা হয়।

ইমজা সভাপতি শাহ অলিদুর রহমানের সভাপতিত্বে ও সাধারণ সম্পাদক বিকুল চক্রবর্তীর সঞ্চালনায় বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন মৌলভীবাজার জেলা প্রশাসক মীর নাহিদ আহসান, মৌলভীবাজার পুলিশ সুপার ফারুক আহমদ, প্রতিযোগীতার বিচারক লিয়াকত শাহ ফরিদী, ডা: রস রঞ্জন গোস্বামী ও মৌলভীবাজার মডেল থানার ওসি ইয়াছিনুল হক।

প্রতিযোগীতায় বিচারক ছিলেন রাজশাহী বিশ্ব বিদ্যালয়ের গণযোগাযোগ ও সাংবাদিকতা বিভাগের বিভাগীয় প্রধান প্রদীপ কুমার পান্ডে, একাত্তর টেলিভিশনের বার্তা সম্পাদক পলাশ আহসান, ষাটের দশকের প্রবীণ সাংবাদিক সৈয়দ নেসার আহমদ, সিলেটর প্রবীণ সাংবাদিক আল আজাদ, অধ্যক্ষ লিয়াকত শাহ ফরিদী ও প্রথম আলো মৌলভীবাজার প্রতিনিধি আকমল হোসেন নিপু।

অনুষ্ঠানে প্রয়াত রাধিকা মোহন গোস্বামীর জীবনী পাঠ করেন ইমজার যুগ্ন সাধারণ সম্পাদক আফরোজ আহমদ। শুভেচ্ছা বক্তব্য রাখেন ইমজার নব নির্বাচিত সাধারণ সম্পাদক বকশি মিজবা উর রহমান, মৌলভীবাজার প্রেসক্লাব সাধারণ সম্পাদক পান্না দত্ত ও রাধিকা মোহন গোস্বামীর পুত্র অধ্যাপক রজত গোস্বামী।

অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি বলেন, রাধিকা স্মৃতি পদক একই সাথে দুটি ফল বহন করবে। এক দিকে এ জেলার এই গুণী মানুষকে স্মরণ করা হবে। যা এ প্রজন্ম একজন আদর্শ মানুষের কর্মকান্ড জানাতে পারবে এবং তাদের মননে রাখবে। অন্য দিকে তাঁর নামে এই পদক চালু করায় সাংবাদিকরা তাদের কাজে আরো উৎসাহী হবেন।

শমশেরনগরে ট্রেনের ইঞ্জিন বিকল, যাত্রীদের ৪ ঘন্টার দুর্ভোগ

কমলগঞ্জ (মৌলভীবাজার) প্রতিনিধি: ইঞ্জিন বিকল হয়ে প্রায় ৪ ঘন্টা মৌলভীবাজারের শমশেরনগর রেলওয়ে স্টেশনে আটকা পড়েছিলো আন্তনগর পাহাড়িকা এক্সপ্রেস। সিলেট থেকে ছেড়ে যাওয়া চট্টগ্রামগামী এ ট্রেনটি বিকল্প ইঞ্জিনে বৃহস্পতিবার বিকেলে শমশেরনগর থেকে চট্রগ্রামের উদ্দেম্যে ছেড়ে যায়।

জানা যায়, বৃহস্পতিবার (১০সেপ্টেম্ব) দুপুর ১২টায় চট্রগ্রামগামী আন্তনগর পাহাড়িকা এক্সপেস ট্রেন শমশেরনগর স্টেশনে আসার পর ইঞ্জিন বিকল হয়ে পড়ে।

শমশেরনগর স্টেশন সূত্রে জানা যায়, সিলেট থেকে ছেড়ে আসা চট্রগ্রাম অভিমূখী ৭২০ নং আন্তনগর পাহাড়িকা এক্সপ্রেস ট্রেন বৃহস্পতিবার দুপুরে শমশেরনগর রেলওয়ে স্টেশনে এসে পৌছে। এখানে ২ মিনিট যাত্রা বিরতির পর ইঞ্জিন বিকল হওয়ার পর ট্রেনটি এখানেই আটকা পড়ে। এ অবস্থায় চট্রগ্রামগামী যাত্রীরা চরম দুর্ভোগের মাঝে পড়েন। পরে বিকাল ৪টায় আখাউড়া জংশন স্টেশন থেকে একটি বিকল্প ইঞ্জিন আসার পর বিকাল ৪টা ৫ মিনিটে আটকাপড়া আন্তনগর পাহাড়িকা এক্সপ্রেস ট্রেনটিকে ট্রেন চট্রগ্রামের উদ্দেশ্যে ছেড়ে যায়।

শমশেরনগর রেলওয়ে স্টেশনের সহকারি মাস্টার নাজমুল হোসেন বলেন, পাহাড়িকা এক্সপ্রেস ট্রেনের ইঞ্জিন বিকল হওয়ায় ট্রেনটি এ স্টেশনে ৪ ঘন্টা আটকা ছিল। রেলওয়ের সংশ্লিষ্ট বিভাগের উর্দ্ধতন র্কর্তপক্ষকে অবহিত করলে আখাউড়া জংশন স্টেশন থেকে একটি বিকল্প ইঞ্জিন এসে আটকাপড়া ট্রেনটিকে উদ্ধার করে টেনে নিয়ে যায়। বিকল ইঞ্জিন শমশেরনগর স্টেশনে রয়েছে। তবে এসময়ের মধ্যে অন্যকোন ট্রেন না থাকায় বিঘ্ন ঘটেনি।

কমলগঞ্জে ভাতার বই বিতরন

কমলগঞ্জ (মৌলভীবাজার) প্রতিনিধি:
মৌলভীবাজারের কমলগঞ্জ উপজেলার আদমপুরে বয়স্ক, বিধবা ও প্রতিবন্ধী ভাতার বই বিতরন করা হয়েছে।

৯ সেপ্টেম্বর (বুধবার) বেলা ২ টায় আদমপুর ইউনিয়ন পরিষদ প্রাঙ্গনে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত থেকে এসব বই বিতরন কার্যক্রম উদ্বোধন করেন কমলগঞ্জ উপজেলা পরিষদ চেয়ারম্যান আলহাজ্ব অধ্যাপক মো. রফিকুর রহমান।

এসময় উপস্থিত ছিলেন কমলগঞ্জ উপজেলা পরিষদ ভাইস চেয়ারম্যান বিলকিস বেগম, কমলগঞ্জ থানার অফিসার ইনচার্জ আরিফুর রহমান. ইন্সপেক্টর তদন্ত সুধীন চন্দ্র দাস, আদমপুর ইউপি চেয়ারম্যান আবদাল হোসেন, সাংবাদিক শাব্বির এলাহী, সাংবাদিক শাহীন আহমেদ, এস আই শহিদুর রহমান. এ এস আই সাইদুজ্জামান।

অনুষ্ঠানে ৬৭ টি বয়স্ক, ৪৩ টি বিধবা ও ৭৬ টি প্রতিবন্ধীসহ মোট ১৮৬জনকে ভাতার বই বিতরন করা হয়।

কমলগঞ্জে বিট পুলিশিং এর উঠান বৈঠক

কমলগঞ্জ (মৌলভীবাজার) প্রতিনিধি
মৌলভীবাজারের কমলগঞ্জ উপজেলার আদমপুরে সম্প্রসারিত বিট পুলিশিং কার্যক্রম নিয়ে উঠান বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়েছে।

কমলগঞ্জ থানা পুলিশের আয়োজনে বুধবার (৯ সেপ্টেম্বর) আদমপুর ইউনিয়ন পরিষদ প্রাঙ্গনে অনুষ্ঠিত উঠান বৈঠকে প্রধান অতিথি ছিলেন কমলগঞ্জ উপজেলা পরিষদ চেয়ারম্যান অধ্যাপক মো. রফিকুর রহমান।

আদমপুর ইউপি চেয়ারম্যান আবদাল হোসেন এর সভাপতিত্বে ও সাংবাদিক শাব্বির এলাহীর সঞ্চালনায় অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি ছিলেন কমলগঞ্জ উপজেলা পরিষদ ভাইস চেয়ারম্যান বিলকিস বেগম, কমলগঞ্জ থানার অফিসার ইনচার্জ আরিফুর রহমান. ইন্সপেক্টর তদন্ত সুধীন চন্দ্র দাস, কমলগঞ্জ প্রেসক্লাবের সাবেক সাধারণ সম্পাদক শাহীন আহমেদ, এস আই শহিদুর রহমান. এএসআই সাইদুজ্জামান।

মৌলভীবাজারে অটোরিকশা শ্রমিকদের মানববন্ধন

নিজস্ব প্রতিনিধি, মৌলভীবাজার: অটোরিকশায় গ্রিল স্থাপনের নির্দেশনা, অনটেস্ট গাড়ি চলাচলে স্টিকার ব্যবসা ও রং পার্কিং এর নামে মিথ্যা মামলার প্রতিবাদে মানববন্ধন ও প্রতিবাদ সমাবেশ করেছেন মৌলভীবাজারের অটোরিকশা শ্রমিকরা।

আজ বুধবার (৯ সেপ্টেম্বর) দূপুরে মৌলভীবাজার প্রেসক্লাবের সম্মুখে এই মানববন্ধনের আয়োজন করে জেলা অটোটেম্পু, অটোরিকশা, মিশুক ও সিএনজি সড়ক পরিবহন শ্রমিক ইউনিয়ন।

রাস্তার পাশে সিএনজিচালিত অটোরিকশা রেখে শত শত চালক মানববন্ধনে অংশগ্রহণ করেন। এ সময় উপস্থিত ছিলেন, শ্রমিক নেতা পাবেল আহমেদ, আজিজুল হক সেলিমসহ জেলার সাধারণ অটোরিকশা শ্রমিকগণ।

মানববন্ধনে বক্তারা বলেন, দরজা লাগানো, অনটেস্ট গাড়িতে টিকার সিস্টেম বাতিল ও যত্রতত্র পার্কিং করার নামে জরিমানা প্রথা বাতিল করতে হবে। নতুবা তারা কঠোর আন্দোলনের ডাক দেবেন।

মানববন্ধন শেষে জেলা প্রশাসক বরাবরে একটি স্মারকলিপি প্রদান করা হয়।

কমলগঞ্জে গাছ চাপায় চা শ্রমিকের মৃত্যু

কমলগঞ্জ (মৌলভীবাজার) প্রতিনিধি: মৌলভীবাজারের কমলগঞ্জে ঘর মেরামতের জন্য গাছের খন্ডাংশ বহনকালে পা ছিটকে পড়ে গিয়ে এক চা শ্রমিকের মৃত্যু হয়েছে।

সোমবার সন্ধ্যায় দলাই চা বাগানের বড় লাইন শ্রমিক এলাকায় ঘটলে রাতে হাসপাতালে চা শ্রমিকের মৃত্যু হয়েছে।

জানা যায়, সীমান্তর্তী দলই চা বাগানের বড় লাইন শ্রমিক পাড়ায় ঘর মেরামতের জন্য গাছের খন্ডাংশ বহনকালে পা ছিটকে গাছের খন্ডাংশ শরীরের আঘাত করলে নিতাই পাশীর ছেলে অর্জুন পাশি (৩৮) গুরুত্বর আহত হয়। পরে বাগানের শ্রমিক ও স্বজনরা তাকে কমলগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে গেলে রাতে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষনা করেন।

কমলগঞ্জ থানার অফিসার ইনচার্জ আরিফুর রহমান জানান, ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করেন।

গাছের সঙ্গে মোটরসাইকেলের ধাক্কায় যুবকের মৃত্যু

বড়লেখা (মৌলভীবাজার) প্রতিনিধি: মৌলভীবাজারের বড়লেখায় গাছের সঙ্গে মোটরসাইকেলের ধাক্কায় মাসুম আহমদ (২০) নামে এক যুবকের মৃত্যু হয়েছে।

সোমবার দুপুরে সিলেটের একটি প্রাইভেট ক্লিনিকে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তার মৃত্যু হয়। তিনি উপজেলার নিজ বাহাদুরপুর ইউনিয়নের কবিরা গ্রামের মুতিবুল মিয়ার ছেলে।

প্রত্যক্ষদর্শী ও নিহতের পরিবার জানায়, মাসুম আহমদ রোববার দুপুরে মোটরসাইকেলযোগে উত্তর শাহবাজপুর থেকে বড়লেখা উপজেলা সদরে যাচ্ছিলেন। পথিমধ্যে একটি গাছের সঙ্গে ধাক্কা লেগে তিনি গুরুতর আহত হন।

প্রত্যক্ষদর্শীরা তাকে উদ্ধার করে প্রথমে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স ও পরে সিলেটের একটি প্রাইভেট ক্লিনিকে ভর্তি করে। সোমবার দুপুরে সেখানে তার মৃত্যু হয়।

বড়লেখা থানার ওসি মো. জাহাঙ্গীর হোসেন সরদার জানান, অত্যন্ত দ্রুত বেগে মোটরসাইকেল চালিয়ে তিনি বড়লেখা শহরের দিকে যাচ্ছিলেন। পথে নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে গাছের সঙ্গে ধাক্কা লেগে গুরুতর আহত হন। পরে সিলেটে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি মারা যান। এ ঘটনায় থানায় কোনো মামলা হয়নি।

মৌলভীবাজার জেলা পরিষদের অস্থায়ী চেয়ারম্যান রিজুয়ানা

পিন্টু দেবনাথ, কমলগঞ্জ (মৌলভীবাজার):
মৌলভীবাজার জেলা পরিষদের চেয়ারম্যান মুক্তিযোদ্ধা আলহাজ্ব আজিজুর রহমান গত ১৮ আগষ্ট মৃত্যু বরন করায় চেয়ারম্যান পদ শূন্য ঘোষনা করা হয়।

নতুন চেয়ারম্যান তাঁর পদে যোগদান না করা পর্যন্ত প্যানেল চেয়ারম্যান-১ তফাদার রিজুয়ানা ইয়াসমিনে কে অস্থায়ী চেয়ারম্যান হিসেবে দায়িত্ব পালন করবেন।

অস্থায়ী চেয়ারম্যান হিসেবে তফাদার রিজুয়ানা ইয়াসমিন সুমি জেলা পরিষদের সকল কার্যক্রম পরিষদের চেয়ারম্যানের দৈনন্দিন যাবতীয় রুটিন কার্যাদি সম্পাদন করবেন বলে ৬ সেপ্টেম্বর রোববার স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রণালয় স্থানীয় সরকার বিভাগ জেলা পরিষদ শাখা উপ-সচিব একে এম মিজানুর রহমান স্বাক্ষরিত আদেশে উল্লেখ করা হয়। ইতি মধ্যে তিনি সরকারি ভাবে ইন্ডিয়া ও যুক্তরাজ্য সফর করেছেন।

তফাদার রিজুয়ানা ইয়াসমিন সুমি জেলা পরিষদ নির্বাচনে মৌলভীবাজার (১৩, ১৪ ও ১৫) নং ওয়ার্ড ও সংরক্ষিত নারী আসনের ৫ নং ওয়ার্ড থেকে সদস্য নির্বাচিত হন। জেলা পরিষদের প্রথম সভায় তিনি প্যানেল চেয়ারম্যান নির্বাচিত হন। তাঁর বাড়ী মৌলভীবাজার জেলার কমলগঞ্জ উপজেলার আদমপুর এলাকায়। তিনি সকলের দোয়া ও আর্শিবাদ কামনা করছেন।

ডিজিটাল নিরাপত্তা আইনসহ সকল কালাকানুন বাতিলের দাবি

প্রেস বিজ্ঞপ্তি: মৌলভীবাজার জেলা জাতীয় গণতান্ত্রিক ফ্রন্ট-এনডিএফ’র এক সভা থেকে সরকারের গণবিরোধী কার্যক্রমের বিরুদ্ধে জনগণ যাতে ঐক্যবদ্ধ সংগ্রাম গড়ে তুলতে না পারে সেজন্য ডিজিটাল নিরাপত্তা আইনের মাধ্যমে জনগণের বাকস্বাধীনতা ও মতপ্রকাশের মত প্রকাশের মৌলিক অধিকার কেড়ে নেওয়া হচ্ছে বলে মন্তব্য করা হয়েছে।

সভা থেকে আরও বলা হয় এই সকল নিবর্তনমূলক আইনের মাধ্যমে সরকার বিরোধী মতকে দমন-পীড়নের মাধমে যেন তেন উপায়ে ক্ষমতাকে দীর্ঘস্থায়ী করতে চাচ্ছে।

শুক্রবার সন্ধ্যার সময় মৌলভীবাজারে শহরের মনুসেতু সংলগ্ন কার্যালয়ে জেলা এনডিএফ’র সভাপতি কবি শহীদ সাগ্নিকের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত সভা থেকে ডিজিটাল নিরাপত্তা আইন ও সংশোধিত শ্রমআইনসহ সকল কালাকানুন বাতিল করার দাবি জানানো হয়।

জেলা এনডিএফ’র সাধারণ সম্পাদক রজত বিশ্বাসের পরিচালনায় অনুষ্ঠিত সভায় বক্তব্য রাখেন বাংলাদেশ কৃষক সংগ্রাম সমিতি মৌলভীবাজার জেলা কমিটির আহবায়ক ডা. অবনী শর্ম্মা, বাংলাদেশ ট্রেড ইউনিয়ন সংঘ জেলা কমিটির সহ-সভাপতি মোঃ সোহেল আহমেদ, ধ্রুবতারা সাংস্কৃতিক সংসদ মৌলভীবাজার জেলা কমিটির সাধারণ সম্পাদক অমলেশ শর্ম্মা, মৌলভীবাজার জেলা হোটেল শ্রমিক ইউনিয়ন রেজিঃ নং চট্টঃ-২৩০৫ এর সভাপতি মোঃ মোস্তফা কামাল, জেলা এনডিএফ’র কোষাধ্যক্ষ মোঃ শাহিন মিয়া, দপ্তর সম্পাদক তারেশ বিশ্বাস সুমন, মৌলভীবাজার জেলা রিকশা শ্রমিক ইউনিয়ন রেজিঃ নং চট্টঃ-২৪৫৩ এর সহ-সভাপতি মোঃ গিয়াস উদ্দিন, হোটেল শ্রমিকনেতা আহাদ আলী, রিকশা শ্রমিকনেতা মোঃ জসিমউদ্দিন প্রমূখ।

সভায় বক্তারা দেশের আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির অবনতিতে তীব্র ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন সরকারি দলের মদদে একের পর এক লোমহর্ষক সন্ত্রাসী কার্যক্রম ঘটে চলেছে, যা থেকে রেহাই পাচ্ছেন না সরকারের শীর্ষ পর্যায়ের কর্মকর্তারা পর্যন্ত। যার সর্বশেষ শিকার হয়ে দিনাজপুরের ঘোড়াঘাটার ইউএনও ওয়াহিদা খানম আজ জীবনমৃত্যুর সন্ধিক্ষণে চিকিৎসাধীন।

সভায় বক্তারা জনগণের নিরাপত্তাহীনতা এবং দক্ষিণ এশিয়ায় সাম্প্রতিক সময়ের যুদ্ধ উন্মাদনায় গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করে বলেন দক্ষিণ ও দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার স্থল সংযোগ সেতু এবং প্রশান্ত ও ভারত মহাসাগরের সংযোগকারী মালাক্কাপ্রণালী সংলগ্ন বঙ্গোপসাগরীয় দেশ হিসেবে বাংলাদেশের ভূ-রাজনৈতিক ও রণনীতিগত গুরুত্বের প্রেক্ষিতে মার্কিন সাম্রাজ্যবাদ যেমন তার প্রাধান্য অব্যাহত রাখতে চায় তেমনি সাম্রাজ্যবাদী রাশিয়া ও পুঁজিবাদী চীনও তাদের প্রাধান্য প্রতিষ্ঠা করতে চায়।

সাম্প্রতিক সময়ে বৃহত সাম্রাজ্যবাদের লক্ষ্যে অগ্রসরমান পূঁজিবাদী চীন ও নয়াউপনিবেশিক ভারতের মধ্যে সীমান্ত সংঘাত ও যুদ্ধ উত্তেজনার মূল কারণ হচ্ছে চীনের উচ্চাবিলাশী বেল্ট এন্ড রোড ইনিশিয়েটিভ(বিআরআই) প্রকল্প এবং মার্কিন সাম্রাজ্যবাদের ইন্দো-প্যাসিফিক রণনীতির মধ্যকার দ্বন্দ্বে প্রকাশ। আন্তঃসাম্রাজ্যবাদী দ্বন্দ্বের প্রেক্ষিতে বাংলাদেশকে ছাড় দেওয়ার উপায় তাদের নেই। তাই সাম্রাজ্যবাদী ষড়যন্ত্র-চক্রান্তের বিরুদ্ধে সকল দেশপ্রেমিক শক্তিকে ঐক্যবদ্ধ হয়ে সাম্রাজ্যবাদ-সামন্তবাদ বিরোধী জাতীয় গণতান্ত্রিক আন্দোলনকে বেগবান করার আহবান জানান।

সভা থেকে সাম্রাজ্যবাদী দেশ ও সংস্থা সমূহের সাথে সম্পাদিত জাতীয় ও জনস্বার্থ বিরোধী সকল চুক্তি বাতিল, ডিজিটাল নিরাপত্তা আইনসহ সকল কালাকানুন বাতিল, বিনাবিচারে হত্যা-খুন-গুম বন্ধ, দফায় দফায় গ্যাস-বিদ্যুতের মূল্যবৃদ্ধির পাঁয়তারা, নিত্যপ্রয়োজনীয় দ্রব্যমূল্যের উর্ধ্বগতি রোধ, রাষ্ট্রায়ত্ব পাটকল বন্ধের সিদ্ধান্ত বাতিল, শ্রমিক-কর্মচারিদের জন্য বাজারদরের সাথে সংগতি রেখে ন্যূনতম মূল মজুরি ২০ হাজার টাকা নির্ধারণ ও শ্রমিকস্বার্থ বিরোধী সংশোধিত শ্রমআইন বাতিল করে গণতান্ত্রিক শ্রমআইন প্রণয়ন, বন্যা ও আম্ফানে ক্ষতিগ্রস্থ কৃষকদের বিনামূল্যে কৃষি উপকরণ বিতরণ, সকল কৃষি ও এনজিও ঋণ সুদসহ মওকুফ, ধান-পাটসহ কৃষিপণ্যে ক্রয়ে সকল দূর্নীতি অনিয়ম বন্ধ করে কৃষিপণ্যের ন্যায্য মূল্য নিশ্চিত করা, ভূমিহীন দরিদ্র কৃষকের হাতে জমি ও কাজ, কৃষি উৎপাদনের খরচ কমানো এবং ফসলের ন্যায্যমূল্য, সার, ডিজেল. কীটনাশকের দাম কমানোর দাবিতে দুর্বার আন্দোলন গড়ে তোলার আহ্বান জানান।

সাইফুর রহমানের মৃত্যুবার্ষিকী আজ

নিজস্ব প্রতিনিধি: খ্যাতিমান অর্থনীতিবিদ, সাবেক অর্থ ও পরিকল্পনামন্ত্রী এম সাইফুর রহমানের ১১তম মৃত্যুবার্ষিকী আজ শনিবার। ২০০৯ সালের ৫ সেপ্টেম্বর তিনি ইন্তেকাল করেন। মৃত্যুবার্ষিকী উপলক্ষে ‘মরহুম এম সাইফুর রহমান স্মৃতি পরিষদ’ আয়োজন কোরআন খতম, আলোচনা সভা, মিলাদ ও দোয়া মাহফিলের আয়োজন করেছে।

এদিকে সিলেট জেলা ও মহানগর বিএনপির পৃথক প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়েছে, সাইফুর রহমানের মৃত্যুবার্ষিকী উপলক্ষে শনিবার (৫ সেপ্টেম্বর) বাদ আসর দরগাহ মসজিদে জেলা বিএনপির উদ্যোগে মিলাদ ও দোয়া মাহফিলের আয়োজন করা হয়েছে।

সাইফুর রহমান বাণিজ্যমন্ত্রী, পরিকল্পনামন্ত্রী ও একাধিকবার অর্থমন্ত্রীর দায়িত্ব পালন করেছেন। তার রাজনৈতিক জীবন শুরু হয় ১৯৭৬ সালে জিয়াউর রহমান সরকারের বাণিজ্য উপদেষ্টা হিসেবে। তিনি ১৯৭৯ সালে মৌলভীবাজার-৩ আসন থেকে সংসদ সদস্য হিসেবে নির্বাচিত হন। পরে ১৯৯৬ সালে ষষ্ঠ ও সপ্তম জাতীয় সংসদ নির্বাচনে মৌলভীবাজার-৩ আসন এবং ২০০১ সালে অষ্টম জাতীয় সংসদ নির্বাচনে মৌলভীবাজার-৩ ও সিলেট-১ আসন থেকে নির্বাচিত হন। অর্থমন্ত্রী হিসেবে সংসদে ১২ বার বাজেট উপস্থাপন করেন তিনি।

পরিবেশ মন্ত্রীর শহরে পানির মারণ! বড়লেখাবাসীর বিড়ম্বিত জীবনের গল্প

আবদুল কাদের তাপাদার: স্বাধীনতার সুদীর্ঘকাল পর দেশের সীমান্তবর্তী ও ঐতিহ্যবাহী জনপদ বড়লেখা অঞ্চলে একজন পূর্ণ মন্ত্রীর গাড়িতে পতাকা উড়ছে। এই দৃশ্যমান চেতনা এলাকাবাসীকে গৌরবান্বিত করেছে। বড়লেখা পৌরসভার প্রাণকেন্দ্র পাখিয়ালার বাসিন্দা সরকারের বন, পরিবেশ ও জলবায়ু পরিবর্তন মন্ত্রী মোঃ শাহাব উদ্দিন তৃণমূল থেকে উঠে আসা একজন জনদরদী রাজনীতিক।

মহামারী করোনা পরিস্থিতিতে এলাকার অসহায় গরীব মানুষের মাঝে মন্ত্রীর ব্যক্তিগত ও মানবিক সহায়তা সাধারণ মানুষের মধ্যে আলোচিত হয়েছে। গণমাধ্যমেও বিষয়টি ইতিবাচকভাবে এসেছে।

কিন্তু সপ্তাহান্তে বড়লেখা পৌরসভাসহ আশপাশের বিপুল সংখ্যক অধিবাসীর জীবনে পানির মারণ অস্বস্তিকর ও চরম বিড়ম্বনার এক বিপর্যস্ত পরিস্থিতির সৃষ্টি করে। যা বিগত ৫০ বছরে দেখেনি বড়লেখার মানুষ। ৫ বছর আগে এমনই হঠাৎ
ভারীবর্ষণে পাহাড় ভাঙ্গা ঢল নেমে প্লাবিত হয়েছিল বড়লেখা শহর। মাত্র দুই ঘন্টায় পানি নেমে গেলেও কিছু ক্ষয়ক্ষতি হয়েছিল।

কিন্তু গত রোববার, সোমবার জুড়ে তিন দফায় ৯/১০ ঘন্টার পাহাড়ি ঢল বড়লেখা শহরসহ আশপাশের সড়কপথ, রাস্তাঘাট, হাটবাজার, অফিস আদালত ও মাঠের ফসলী জমির ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে। দোকানপাটে পানি উঠেছে।
এক, দুইদিনে সমস্ত পৌরশহরের মানুষ জীবনযাত্রায় বড় ধরনের বিড়ম্বনা ও বিপর্যস্ত পরিস্থিতির মুখোমুখি হন।

এক ধরনের উঁচু ও পাহাড় টিলার পাদদেশে এই এলাকার ভৌগোলিক পরিমণ্ডল গড়ে উঠায় অধিবাসীরা এর আগে কখনো এমন পরিস্থিতির সম্মুখীন হননি। ফলে উপজেলা পরিষদ এলাকা, বড়লেখা শহরের দোকানপাট, সড়ক ও জনপথের ব্যস্ত সড়ক, বড়লেখা উত্তর চৌমুহনা থেকে দক্ষিণের নিকড়িছড়ার পার কাঠালতলী পর্যন্ত শিক্ষা প্রতিষ্ঠানসহ গুরুত্বপূর্ণ স্হাপনা পানিতে সয়লাব হয়ে যায়।

পানিতে ডুবে যাওয়ার এমন উদ্বেগজনক পরিস্থিতির অস্বাভাবিক চিত্র সামাজিক যোগাযোগের কল্যানে দেশ বিদেশে মুহূর্তেই ভাইরাল হয়ে যায়। দেশে বিদেশে অবস্থানরত বড়লেখাবাসী পৌরসভা কর্তৃপক্ষকে এজন্য দায়ী করে নানা তির্যক মন্তব্য করতে দেখা যায়।

যেদিন যেভাবে ঢলের তোড়ে ভেসে যায় পৌরশহর

স্থানীয় অধিবাসীরা জানান, শনিবার রাত ১১টা থেকে বড়লেখায় ভারী বৃষ্টিপাত শুরু হয়ে একটানা চলে রোববার সকাল ৯টা পর্যন্ত। প্রায় ১০ ঘন্টার ভারী বর্ষণ ও উজান থেকে নেমে আসা ঢলের পানি দ্রুত নেমে যেতে না পারায় পৌর শহরের বিভিন্ন বাসা-বাড়ি ও ব্যবসা প্রতিষ্ঠানে ঢুকে পড়ে। এছাড়া বড়লেখা-মৌলভীবাজার আঞ্চলিক মহাসড়কের বিভিন্নস্থান তলিয়ে যায়। রোববার বৃষ্টি কম হলেও সোমবার সকালের ভারীবর্ষণে নতুন নতুন এলাকা প্লাবিত হয়েছে।

বড়লেখা শহরের একজন ব্যবসায়ী জানান, বৃষ্টি ও উজান থেকে নেমে আসা ঢলে শহরের বিভিন্ন বাসা ও ব্যবসা প্রতিষ্ঠানে পানি উঠেছে। বিভিন্ন ব্যবসা প্রতিষ্ঠানে পানি ওঠে মালামাল নষ্ট হয়েছে। বড়লেখা-মৌলভীবাজার আঞ্চলিক মহাসড়কের বড়লেখা থানা, হাসপাতাল, উপজেলা পরিষদ, পল্লী বিদ্যুতের সাব-স্টেশন, ফায়ার সার্ভিস স্টেশনের সম্মুখ, কাঠালতলী বাজার ও দক্ষিণভাগের টিলাবাজার নামক স্থান পানিতে তলিয়ে গেছে। এসব স্থানে পানি ওঠায় যানবাহন চলাচল ব্যাহত হয়েছে। পানি ঠেলে চলতে গিয়ে অনেক যানবাহন বিকল হয়ে মারাত্মক ক্ষতির মুখে পড়েছেন চালক মালিকরা। মানুষজনকে পানি মাড়িয়ে চলাচল করতে চরম দুর্ভোগে পোহাতে হয়েছে।

পৌর শহরের কয়েকজন বাসিন্দার অভিযোগ, দখল আর দূষণে নালা, ছড়া-খাল ভরাট হয়ে যাওয়ায় পানি প্রবাহের পথ বন্ধ হয়ে পড়েছে। ফলে বিভিন্ন সময় বৃষ্টি ও উজান থেকে নেমে আসা ঢলের পানি দ্রুত নামতে না পেরে গোটা পৌর শহরে জলাবদ্ধতার সৃষ্টি হয়। এছাড়া পৌরশহরে অপর্যাপ্ত ড্রেনেজ ব্যবস্থার কারণেও অল্প বৃষ্টিতে কৃত্রিম জলাবদ্ধতা দেখা দেয়। যার কারণে স্থানীয়দের বাসা বাড়ি ও ব্যবসা প্রতিষ্ঠানে পানি ঢোকায় তাদের লাখ লাখ টাকার ক্ষয়ক্ষতি হয়।

বড়লেখা পৌরশহরে বিশেষ করে এমন পরিস্থিতিতে আওয়ামী লীগ সরকার তথা মন্ত্রী শাহাব উদ্দিনের দীর্ঘ সফলতায় বিরোধিরা একটা অজুহাত খোঁজার চেষ্টা করতেই পারে! কারা এমন পরিস্থিতি তৈরি করছেন? কেনো এমন কিছু মুখরোচক প্রশ্নের মুখোমুখি আজ ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগ?

বড়লেখার মাটি মানুষের নেতা ও সরকারের জনপ্রিয় মন্ত্রী শাহাব উদ্দিন তৃণমূল পর্যায়ে আলাপ আলোচনা করে বড়লেখার প্লাবন সম্পর্কে খোঁজ নিয়েছেন বলে একটি সূত্র জানিয়েছে। তিনি এ ব্যাপারে প্রশাসনিকভাবেও জানার চেষ্টা করতে পারেন বলে জানিয়েছেন বড়লেখা আওয়ামী লীগের একজন নেতা।

ষাটমা নিকড়িছড়া খননের নামে লেফাফাদুরস্ত, দায়িত্বহীনতার অভিযোগ

কয়েক বছর আগে যখন মাত্র ৬/৭ ঘন্টার ভারীবর্ষণে পাহাড়ি ঢলের তোড়ে বড়লেখা পৌরশহর আকস্মিক পানিতে নিমজ্জিত হয়ে পড়ে তখন থেকেই আলোচনায় আসে পাথারিয়া পাহাড়ে সৃষ্ট এককালের খরস্রোতা পাহাড়ি ছড়া ষাটমা নিকড়িছড়া খননের প্রসংগ।

বড়লেখা শহরের উজানে এই দুটি খরস্রোতা পাহাড়ি ছড়া ভরাট হয়ে যাওয়াকে পৌরশহরের আকস্মিক বন্যার কারণ হিসেবে চিহ্নিত করা হয়। নানাভাবে আলাপ আলোচনার পর বর্তমান মেয়র আবুল ইমাম মো. কামরান চৌধুরীর বিশেষ প্রচেষ্টায় এবং মন্ত্রী শাহাব উদ্দিনের ঐকান্তিক সহযোগিতায় বাংলাদেশ কৃষি উন্নয়ন কর্পোরেশন বড়লেখা পৌশহরকে অকাল বন্যার হাত থেকে রক্ষায় “বন্যা, জলাবদ্ধতা ও তীরবর্তী পতিত ভূমি সেচের আওতায় নিয়ে আসতে “বড়লেখা পৌরসভার উত্তর সীমানার পাহাড়ি ছড়া ষাটমা ও দক্ষিণ সীমানার নিকড়িছড়া পুনঃখননের প্রকল্প নেয়।

কিন্তু খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, কয়েক দফায় এই দুটি ছড়ার পুনঃখননের কাজের নামে এক ধরনের লেফাফাদুরস্ত করা হয়। মেয়র কামরান চৌধুরী এসব কাজের সার্বিক তত্ত্বাবধান করেন। ঠিকাদারির দায়িত্ব পালন করেন বিএডিসির লোকজন। কিন্তু এই প্রতিবেদকের সাথে আলাপকালে মেয়র কামরান চৌধুরী ও বর্তমানে খাগড়াছড়িতে দায়িত্বরত তৎকালীন মৌলভীবাজার বিএডিসির সাব এসিট্যান্ট ইঞ্জিনিয়ার গিয়াসউদ্দিনের বক্তব্যে বিস্তর ফারাক লক্ষ্য করা যায়।

মেয়র কামরান জানিয়েছেন তিনি কাজের তদারকি করেছেন। সবকিছু তার মনে নেই। প্রকল্পে কতো টাকা ব্যয় হয়েছে বা কত কিলোমিটার খনন হয়েছে তা বিএডিসির ঠিকাদাররা বলতে পারবেন। বিএডিসির যে কর্মকর্তা এখানে কাজ করেছেন সেই গিয়াস উদ্দিনের সঙ্গে আলাপকালে জানান, তিনি এখন খাগড়াছড়িতে কর্মরত আছেন।

তিনি জানান, দুই ছড়া মিলে ৪ কিলোমিটার খনন করা হয়েছে বলে তার মনে হয়। এবং এই প্রকল্পের বাজেট খুব বেশি নয়। ১৪/১৫ লাখ টাকা হতে পারে। তবে মেয়র কামরান চৌধুরী দুই ছড়া মিলে ৬ কিলোমিটার খনন হয়েছে বলে জানান। তিনি জানান, বাজেট কত তাঁর সঠিক মনে নেই। তবে প্রায় কোটি টাকার কাছাকাছি হবে বলে তার ধারণা।

কাউন্সিলর যেহিন সিদ্দিকীর আগ্রহের প্রকল্প, মেয়র জানতে দেননি কিছুই

ষাটমা ও নিকড়িছড়া পুনঃখনন প্রকল্প নিয়ে প্রথম থেকেই খুব আগ্রহ নিয়ে খোঁজ খবর রাখছিলেন বড়লেখা পৌরসভার প্রভাবশালী কাউন্সিলর, উপজেলা আওয়ামী লীগের দফতর সম্পাদক যেহিন সিদ্দিকী। তিনি জানান, বড়লেখাকে অকাল বন্যার হাত থেকে রক্ষায় এলাকার সংসদ সদস্য ও মন্ত্রী শাহাব উদ্দিন ভাইয়ের বিশেষ সহযোগিতায় এই প্রকল্প আলোর মুখ দেখে।

কিন্তু খাল পুনঃখনন প্রকল্পের নামে এই প্রকল্পে অনিয়ম ও দুর্নীতির ঘটনা ঘটেছে। সত্যিকারার্থে, প্রকল্প অনুযায়ী খাল খনন হলে মাত্র দুই বছরের মাথায় বড়লেখা পৌর শহর পানিতে ডুবে সয়লাব হতো না।

তিনি অভিযোগ করেন, খাল পুনঃখনন প্রকল্প অনুযায়ী খালের তলদেশ থেকে আরো ৬ ফুট গভীর পর্যন্ত খনন করার কথা। কিন্তু দেখা গেছে, খালের সাইড খুঁড়ে কিছু মাটি পারে তোলা হয়েছে। ফলে গত দুবছর ধরে পাহাড়ী ঢল নেমে ধীরে ধীরে পারের মাটি খালে পড়ে তা আরো বেশি আকারে ভরাট হয়ে পড়েছে।

এবার ভারী বর্ষণ ও একটানা পাহাড়ি ঢলের তোড়ে তাই খালের দু পার ছাপিয়ে জনপদের বাসা বাড়ি, দোকানপাট, সড়কপথসহ সবকিছু প্লাবিত হয়েছে। সঠিক নিয়মে খাল পুনঃখনন হলে অনেক বছর ঢলের পানি খাল নালা ধরে রাখতে পারতো। প্রকল্পের আরেকটি উদ্দেশ্য পারের পতিত জমিতে সেচ দিয়ে। ফসল আবাদ করা যেতো। কিন্তু অনিয়মের কারণে সবকিছু ভেস্তে গেছে।

পৌর পরিষদের সভায় এই প্রকল্প সম্পর্কে জানতে চাইলে মেয়র কামরান কিছুই জানতে দেননি বলে দাবি করেছেন কাউন্সিলর যেহিন সিদ্দিকী।

তিনি বলেন, এ বিষয়ে শুধু মেয়র কামরান সবকিছুই জানেন। তিনিই এই প্রকল্প তদারকি করেছেন। আমরা খাল খনন প্রকল্পে তাকেই শুধু দেখেছি। কোনো ঠিকাদারকে দেখিনি। যেহিন জানান, এই প্রকল্পে কয়েক কোটি টাকার বাজেট ছিল বলে তার ধারণা। খান খননের নামে দুই ছড়ায় ৭ কিলোমিটার খোঁড়া হয়েছে বলে তিনি মনে করেন।

যেহিনের এই অভিযোগের বিষয়ে জানতে চাইলে মেয়র কামরান বলেন, এই প্রকল্প তাকে জানানোর কথা নয়। আমি একা কিছুই করিনি। বিএডিসি সবকিছু করেছে। আমি তদারকি করেছি।

অপরিকল্পিত পৌর শহর, জোর যার মূলক তার

২০০১ সালে সাবেক বড়লেখা সদর ইউনিয়নকে ভেঙে উপজেলা সদরের ৭ বর্গ কিলোমিটার এলাকা নিয়ে গড়ে উঠে বড়লেখা পৌরসভা। বড়লেখা পৌরসভার যাত্রা শুরুর প্রায় দুই দশক অতিক্রান্ত হতে চললেও আজো কোনো সমন্বিত পরিকল্পনা নেয়া হয়নি।

সম্পূর্ণ অপরিকল্পিতভাবে গড়ে উঠছে বড়লেখা পৌর শহর। শহরের অনেক নালা খাল এখন তার অস্তিত্ব হারিয়েছে। সওজসহ সরকারি জায়গা দখল করে স্হায়ী স্হাপনা গড়ে তোলা হয়েছে। অবৈধভাবে অনেক ভূমি অনেক দখল করে বাসা বাড়ি, দোকান পাট নির্মাণের হিড়িক পড়েছে। জোর যার মূলক তার নীতিতে বদলে যাচ্ছে বড়লেখা পৌর শহর।

পৌর শহরের উত্তর সীমানা ষাটমা ছড়া থেকে উত্তরে পানিধার নিকড়িছড়া এলাকা পর্যন্ত দখল বেদখলের খেলা চলছে। এটা দেখার যেনো কেউ নেই। তাছাড়া পৌরসভা গঠিত হলেও এখন পর্যন্ত শহরে পর্যাপ্ত ড্রেনেজ ব্যবস্হা গড়ে উঠেনি।পয় নিষ্কাশনের তেমন কোনো পরিকল্পিত ব্যবস্হাপনাও গড়ে তোলা হয়নি।

দখলে ক্ষিনেশ্বরী খাল, লংলীছড়াসহ নালা খালের অস্তিত্ব হারাচ্ছে

বড়লেখা পৌর শহর এলাকায় উপজেলা কমপ্লেক্স সংলগ্ন টিটিডিসি স্কুলের পাশ দিয়ে বয়ে যাওয়া একসময়ের পাহাড়ি খরস্রোতা ক্ষিনেশ্বরী খাল কিংবা উত্তর বাজার বালিকা বিদ্যালয়ের পাশ দিয়ে বয়ে যাওয়া লংলীছড়া ও নিমাই কালভার্টের অস্তিত্ব এখন হারিয়ে যেতে বসেছে।

এভাবে খাল নালা এবং সড়ক জনপথের জায়গা দখল করে বাড়িঘর, দোকাটপাটসহ নানা রকম স্হাপনা গড়ে তোলা হয়েছে। প্রতিনিয়ত দখল বেদখলের খেলা চললেও এসব অনিয়মের বিরুদ্ধে কেউ কোনো ব্যবস্হা নিচ্ছেন না বলে অভিযোগ পৌরবাসী সচেতন মানুষের।

ক্রম বর্ধমান প্রায় অর্ধ লক্ষ মানুষের এই পৌর শহরে দিন দিন বাড়ছে জীবনের কোলাহল। মানুষ বাড়ছে। দোকানপাট, বাণিজ্যিক বিপণী, শিক্ষা প্রতিষ্ঠান, বাড়িঘর বৃদ্ধি পাচ্ছে। কিন্তু সেরকম সুযোগ সুবিধা বাড়ছে না। যে যার মতো সেখানে যেখানে স্হাপনা নির্মাণ করছেন। কেউ এতে বাধা দিচ্ছেন না।

এক ধরনের বেপরোয়া প্রতিযোগিতা চলছে স্হাপনা নির্মাণের। এভাবেই সম্পূর্ণ অপরিকল্পিতভাবে গত দুই দশক ধরে অগোছালোভাবে গড়ে শহরের অবকাঠামো। যা ভবিষ্যতের জন্য হুমকিস্বরূপ বলে মনে করছেন পৌরসভার অনেক বাসিন্দা।

প্রায় দুই দশকেও প্রাতিষ্ঠানিক রূপ পায়নি এই পৌরসভা

২০০১ সালে বড়লেখা পৌরসভা গঠনের পর প্রথমে প্রশাসক হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন তৎকালীন উপজেলা নির্বাহী অফিসার- ইউএনও জসিম উদ্দিন বাদল। ২০০৩ সালে পৌরসভার প্রথম নির্বাচনে পৌরসভা চেয়ারম্যান হিসেবে নির্বাচিত হন আওয়ামী লীগ নেতা আবদুল মালিক।

তার দায়িত্বকালিন সময়েই চেয়ারম্যান পদবীটিকে সরকার মেয়র হিসেবে ঘোষণা করে। বর্ধিত মেয়াদে দায়িত্ব পালনকালিন সময়ে ২০০৮ সালে মহবন্দ প্রকাশিত সোনাপুর নিবাসী মেয়র আবদুল মালিক ইন্তেকাল করেন।

পরবর্তীতে প্যানেল মেয়র ও বিএনপি নেতা পাখিয়ালার মতিউর রহমান ইরাজ আলী ভারপ্রাপ্ত মেয়র হিসেবে ২০১১ পর্যন্ত দায়িত্ব পালন করেন। পরবর্তী পৌরসভা নির্বাচনে বিএনপি নেতা গাজিটেকার ফখরুল ইসলাম মেয়র হিসেবে বিজয়ী হন। সর্বশেষ নির্বাচনে পৌরসভার মহবন্দের বাসিন্দা উপজেলা আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক ও উপজেলা ছাত্র লীগের সাবেক সভাপতি আবুল ইমাম মোঃ কামরান চৌধুরী মেয়র নির্বাচিত হন। বর্তমানে তিনি মেয়র হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন।

বড়লেখা বি-ক্যাটাগরির একটি পৌরসভা। বিগত ২০ বছরেও পৌরসভার নিজস্ব কোনো ভবন নির্মিত হয়নি। জেলা পরিষদের “উপজেলা জনমিলন কেন্দ্র” কে পৌরসভা অস্হায়ী অফিস হিসেবে ব্যবহার করছে।

অপরিকল্পিত শহর, ড্রেনেজ সংকট ও বেদখলের কথা সবার মুখে

বড়লেখা শহরে অকাল বন্যায় ক্ষয়ক্ষতি ও বাসিন্দাদের বিড়ম্বনার জীবন প্রসংগে কথা বলতে গিয়ে সাবেক ও বর্তমান মেয়রসহ আওয়ামী লীগ এবং বিএনপির নেতৃবৃন্দ
অপরিকল্পিত শহরে অপর্যাপ্ত পয়ঃনিষ্কাশন, ড্রেনেজ ব্যবস্হার সংকট এবং দখল বেদখলের কারণে বিপর্যস্ত অবস্থার কথা প্রায় একই সুরে উচ্চারণ করেছেন।

বড়লেখা উপজেলা পরিষদের তরুণ জনপ্রিয় ও প্রভাবশালী চেয়ারম্যান, উপজেলা আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক সোয়েব আহমদ, বড়লেখা উপজেলা পরিষদের ভাইস চেয়ারম্যান ও উপজেলা যুবলীগ সভাপতি তাজ উদ্দিন, সাবেক মেয়র, বিএনপি নেতা ফখরুল ইসলাম, সাবেক উপজেলা পরিষদ চেয়ারম্যান ও উপজেলা আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক রফিকুল ইসলাম সুন্দর, পৌর আওয়ামী লীগের সভাপতি আবদুল আহাদ, পৌর বিএনপির সভাপতি আনোয়ারুল ইসলাম, বড়লেখা সদর ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যান সিরাজ উদ্দিন ও দক্ষিণভাগ উত্তর (কাঠালতলী) ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যান এনাম উদ্দিন আহমদ বড়লেখা পৌরসভা ও আশপাশের এলাকায় অকাল বন্যা এবং বিশেষ করে পৌরবাসীর নানা সংকট সমস্যা নিয়ে কথা বলেছেন।

সোয়েব বললেন, অপরিকল্পিত শহরে সুষ্ঠু পয়ঃনিষ্কাশন ব্যবস্থা গড়ে উঠেনি

বড়লেখা পৌর শহরে অকাল বন্যার কারণে বাসিন্দাদের বিড়ম্বনার বিষয় নিয়ে কথা গিয়ে উপজেলা পরিষদের তরুণ চেয়ারম্যান সোয়েব আহমদ বললেন, বড়লেখা পৌর শহর গড়ে উঠছে সম্পূর্ণ অপরিকল্পিতভাবে।পয়ঃনিষ্কাশন ব্যবস্হা, ড্রেনেজ ব্যবস্হাপনার মারাত্মক সংকট ক্রমবর্ধমান এই ছিমছাম শহরকে এখন সমস্যাগ্রস্ত করে তুলছে।

খাল নালাসহ জায়গা জমি বেদখল হয়ে বাড়িঘর, দোকানপাট নির্মিত হচ্ছে। তিনি বলেন, সড়ক ও জনপথের উভয়পাশে দখল হওয়া জায়গায় ড্রেনেজ ব্যবস্হাপনা গড়ে তুলতে পারলে পয়ঃনিষ্কাশনের ব্যবস্থা হবে। এতে করে ঢলের পানি নেমে যেতে পারবে।

ষাটমা নিকড়িছড়া পুনঃখনন সঠিকভাবে হয়েছে কিনা জানতে চাইলে সোয়েব বলেন, আমার জানামতে খনন হয়েছে। তবে কতটুকু সঠিকভাবে হয়েছে সেটা আমি জানি না। তিনি ষাটমা ও নিকড়িছড়ার উজানের অংশ খনন না করলে এই পরিস্থিতি থেকে রক্ষা পাওয়া কঠিন হবে বলে মত দেন। একটি পরিকল্পিত শহর গড়ে তুলতে তিনি পরিকল্পনা তৈরি করার উপর গুরুত্বারোপ করেন।

পাহাড়ি ছড়া ষাটমা নিকড়িছড়ার উজানে খনন না হলে বিড়ম্বনার শেষ হবে না: ভাইস চেয়ারম্যান

এবার ষাটমার উজান এলাকা জফরপুর, সাতকরাকান্দি এবং দক্ষিণে নিকড়িছড়ার উজানে মুছেগুল কুতুবনগর দিয়ে পাহাড়ি ঢল নেমে বড়লেখা পৌর শহর প্লাবিত হয়েছে বলে মনে করেন উপজেলা পরিষদের তরুণ ভাইস চেয়ারম্যান তাজ উদ্দিন। তিনি জানান, খননকৃত ষাটমা নিকড়িছড়ার সাইডের মাটি খালে পড়ে যাওয়ার কারণেও ঢলের পানি জনপদে ঢুকে পড়েছে।

তিনি বলেন, শহরে অবৈধভাবে খাল নালা ভরাট হয়ে গিয়ে বর্তমান পরিস্থিতি তৈরি করেছে। এ থেকে উত্তরণে পরিকল্পিত শহর গড়ার দিকে মনোনিবেশ দিতে হবে বলে তিনি মনে করেন।

কর্তৃপক্ষের খামখেয়ালিপনা ও দায়িত্বহীনতার কারণে অকাল বন্যাঃ সাবেক মেয়র ফখরুল

বড়লেখা পৌরসভার নির্বাচিত দ্বিতীয় (সাবেক) মেয়র বিএনপি নেতা প্রভাষক ফখরুল ইসলাম মনে করেন, খাল খননের নামে অনিয়ম ও শহরজুড়ে খাল নালা বেদখলের বেপরোয়া প্রতিযোগিতার কারণে বড়লেখায় পাহাড়ি ঢলে নেমে মানুষজন বিড়ম্বনার মুখোমুখি হয়েছেন।

সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের খামখেয়ালিপনা ও দায়িত্বহীনতার কারণে এমন অস্বস্তিকর পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে বলে মনে করেন সাবেক এই মেয়র। তিনি বলেন, যথাযথ কর্তৃপক্ষ দায়িত্ব পালন করলে এই অবস্থার সৃষ্টি হতো না।

ভরাট ও বেদখলের কারণে বড়লেখা পৌর শহর প্লাবিত হয়েছেঃ সুন্দর

একটি সুষ্ঠু পয়ঃনিষ্কাশন ব্যবস্থা গড়ে তুলতে না পারা ও পরিকল্পনার অভাবে পৌর শহরে অকাল বন্যা দেখা দিয়েছে বলে মনে করেন বড়লেখা উপজেলা পরিষদের সাবেক চেয়ারম্যান ও এককালের তারকা ফুটবলার রফিকুল ইসলাম সুন্দর। তিনি বলেন, সড়ক ও জনপথের জায়গাসহ সরকারি খাল নালা নিজেদের মতো ব্যবহার করে বাড়িঘর নির্মিত হচ্ছে। এটা দেখার কেউ নেই।

অবৈধ দখল ও ভরাট বন্ধ করতে বললেন আবদুল আহাদ

বড়লেখা পৌর আওয়ামী লীগের সভাপতি ও সাবেক কৃতি ফুটবলার মহবন্দ নিবাসী আবদুল আহাদ পৌর শহরকে সংকটের হাত থেকে রক্ষা করতে সবরকমের দখল বেদখল খেলা ও নালা খাল ভরাট বন্ধ করার আহবান জানান। তিনি একটি সুন্দর শহর গড়ে তুলতে বড়লেখাবাসীকে চিন্তা চেতনায় ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করার দৃঢ় সংকল্প ব্যক্ত করেন।

খাল খননের নামে সামান্য কাজ হয়েছে, তদন্ত চাইঃ আনোয়ার

বড়লেখা পৌরসভা বিএনপির সভাপতি আনোয়ারুল ইসলাম জানান, আমরা শুনেছি অকাল বন্যার হাত থেকে বড়লেখা পৌর শহরকে রক্ষায় বড় অংকের প্রকল্প নেয়া হয়। ষাটমা নিকড়িছড়া পুনঃখনন করার এই প্রকল্পে আসলে কী হয়েছে আমাদের জানার সৌভাগ্য হয়নি। তবে পুরোপুরি খনন হলে এটা মাত্র দুই বছরে ভরাট হওয়ার কথা নয়। দুই খালের তীর ছাপিয়ে পাহাড়ি ঢলের পানিতে পৌর এলাকা সয়লাব হয়েছে। আনোয়ারুল ইসলাম এই প্রকল্পে কী কাজ হয়েছে তার তদন্তের দাবি জানান। তিনি পরিকল্পিত পৌর শহর গড়ে তোলার বিষয়ে পরিকল্পনা প্রণয়নেরও দাবি করেন।

ষাটমা নিকড়িছড়া উজান থেকে গভীরে গিয়ে খনন করার দাবি চেয়ারম্যান সিরাজের

বড়লেখা সদর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান, সদর ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সভাপতি, এলাকার দীর্ঘদিনের জনপ্রতিনিধি সিরাজ উদ্দিনকে বুধবার সকালে যখন ফোন করি জানালেন, তিনি এখন তার ইউনিয়নের নিকড়িছড়া তীরের বিভিন্ন ওয়ার্ডে অকাল বন্যায় ক্ষতিগ্রস্ত রাস্তাঘাট, কালভার্ট ও বাড়িঘর দেখতে বেরিয়েছেন। তিনি জানালেন, নিকড়িছড়া বা ষাটমায় খালের তলদেশ গভীরভাবে খনন করতে হবে।

সদর ইউনিয়নের সীমানা উজানের ৩ কিলোমিটারসহ সঠিকভাবে ও গভীরতাসহ খনন না করলে পাহাড়ি ঢলের তোড়ে আমরা আগামীতে ভেসে যাবো। ষাটমা নিকড়িছড়া সঠিকভাবে খনন হয়নি দাবি করে তিনি অবিলম্বে সঠিকভাবে খাল খননের প্রকল্প নেয়ার দাবি জানান।

নিকড়িছড়ার উজানের ৩ কিলোমিটার খননের দাবি চেয়ারম্যান এনামের

নিকড়িছড়ার প্লাবনে শুধু পৌরবাসী নয়, এবার নাকাল হয়েছেন কাঠালতলী বাজারসহ এলাকার মানুষ। কাঠালতলী বাজার বড়লেখা পৌরসভার সীমানা পেরিয়ে বড়লেখা উপজেলার দক্ষিণভাগ উত্তর ইউনিয়ন পরিষদের অন্তর্ভুক্ত। এই ইউনিয়নের চেয়ারম্যান এনাম উদ্দিন এবারের পাহাড়ি ঢলের মতো প্লাবনের তোড় আর কোনোদিন দেখেননি উল্লেখ করে বলেন, মানুষের অনেক ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে। বিড়ম্বনার শেষ ছিল না। নিকড়িছড়ার ডাউন অংশ শুধু খনন করলে সমস্যার সমাধান হবে না বলে মত দেন দেশের একমাত্র আকর্ষণীয় জলপ্রপাত মাধবকুণ্ড এলাকার এই তরুণ চেয়ারম্যান।

আমার কারণেই ষাটমা নিকড়িছড়া পুনঃখনন সম্ভব হয়েছে, দুর্নীতির অভিযোগ সঠিক নয়ঃ মেয়র কামরান

বড়লেখা পৌরসভার বর্তমান মেয়র আবুল ইমাম মোঃ কামরান চৌধুরী মহবন্দের বাসিন্দা। তিনি উপজেলা আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক। পৌর শহরকে অকাল বন্যার হাত থেকে রক্ষা করা ও খালের পারের পতিত জমি সেচের আওতায় এনে চাষাবাদের উপযুক্ত করতে তার একান্ত প্রচেষ্ঠায় এই প্রকল্প নেয়া হয় বলে তিনি জানান।

মেয়র কামরান জানান, গত ৫০ বছরে কেউ এ ধরনের পাহাড়ি ছড়া খননের চিন্তা করেননি। বড়লেখা উপজেলার গুরুত্বপূর্ণ পাহাড়ি ছড়া দেওছড়া, মাধবছড়া খননের খুব দরকার ছিল। এগুলো কেউ খনন করার সাহস করেনি। আমি সাহস করে ষাটমা ও নিকড়িছড়া খননের প্রকল্প নেই। খাল পুনঃখনন হওয়ায় পৌরবাসী অনেক সুবিধা পাবে। খাল পুনঃখনন সঠিকভাবে হয়নি এবং এতে অনেক অনিয়মের বিষয়ে জানতে চাইলে মেয়র বলেন, কাজ করেছে বিএডিসি। তিনি তদারকি করেছেন। তাই অনিয়মের বিষয়ে তিনি বলতে পারবেন না।

খাল খননের বাজেট কত টাকা এ বিষয়ে জানতে চাইলে মেয়র কামরান বলেন, কোটি টাকার মতো হবে। তবে এটাও বিএডিসি ভালো বলতে পারবে। তাদের কাছে হিসাবপত্র আছে। তবে বড়লেখা পৌর শহরে অবৈধ দখল ও খাল নালা ভরাট করে বেআইনি স্হাপনা নির্মাণের বিষয়ে তিনি বলেন, আগে থেকেই এসব দখল বেদখলের খেলা চলছে। এসব বন্ধ হওয়া উচিত বলে তিনি মন্তব্য করে বলেন, সড়ক জলপথের জায়গা দখলমুক্ত করে পয়ঃনিষ্কাশন ও ড্রেনেজ ব্যবস্থাপনা গড়ে তুলতে হবে।

পৌরশহরকে বন্যা ও জলাবদ্ধতা থেকে রক্ষার প্রকল্প কী আসলে আলোর মুখ দেখেছে?

২০১৯ সালের মার্চে সিলেটের সংবাদপত্রে প্রকাশিত নীচের এই রিপোর্ট আমাদেরকে আসলে কী জানান দেয়?

রিপোর্টটি শিরোনামসহ তুলে ধরা হলোঃ

“ষাটমাছড়া পুণঃখনন কর্মসুচির দ্বিতীয় ধাপের কাজ শুরু”

বড়লেখা পৌরশহরের অকাল বন্যা ও জলাবদ্ধতার অন্যতম কারণ শহরের উত্তর সীমান্ত দিয়ে প্রবাহিত ষাটমাছড়া (নদী) ভরাট ও ভুমি দস্যুদের জবর দখল। পৌরমেয়র আবুল ইমাম মো. কামরান চৌধুরীর বিশেষ তৎপরতায় ছড়াটির পুণঃখননের প্রকল্প গ্রহণ করে বাংলাদেশ কৃষি উন্নয়ন কর্পোরেশন (বিএডিসি)। প্রকল্পের প্রথম ধাপের ২ কিলোমিটার খনন কাজ গত বছর সম্পন্ন হয়। বৃহস্পতিবার দুপুরে কর্মসুচির দ্বিতীয় ধাপের ৩ কিলোমিটার এলাকার খনন কাজের উদ্বোধন করেন মেয়র কামরান চৌধুরী।

বড়লেখা ডিগ্রী কলেজ সংলগ্ন ষাটমা ব্রীজের পার্শে খননকাজের উদ্বোধনকালে উপস্থিত ছিলেন সদর ইউনিয়নের চেয়ারম্যান (ভারপ্রাপ্ত) সিরাজ উদ্দিন, পৌরসভার কাউন্সিলার আব্দুল মালিক ঝুনু, বিএডিসি’র সাব-এসিসটেন্স ইঞ্জিনিয়ার মো. গিয়াস উদ্দিন, সাংবাদিক আব্দুর রব, ইকবাল হোসেন স্বপন, ইউপি মেম্বার ফারুক আহমদ, মাওলানা জুবায়ের আহমদ, ব্যবসায়ী আব্দুল আজিজ, মৌলুদ হোসেন চৌধুরী, এবাদুর রহমান প্রমূখ।

বিএডিসি সুত্রে জানা গেছে, বন্যা, জলাবদ্ধতা ও তীরবর্তী পতিত ভুমি সেচের আওতায় নিয়ে আসতে বড়লেখার ষাটমা ছড়া পুণঃখননের উদ্যোগ গ্রহণ করে বাংলাদেশ কৃষি উন্নয়ন কর্পোরেশন (বিএডিসি)। বিএডিসি’র সিলেট বিভাগ ক্ষুদ্র উন্নয়ন প্রকল্পের আওতায় গত বছর কর্মসুচির প্রথম ধাপে ষাটমাছড়ার ২ কিলোমিটার এলাকা পূণঃখনন করা হয়। একই প্রকল্পের আওতায় আরো ৩ কিলোমিটার এলাকা দ্বিতীয় ধাপে পূণঃখনন কাজের প্রকল্প গ্রহণ করা হয়। এতে সরকারের ব্যয় হচ্ছে ৩৫ লাখ টাকা।

বিএডিসি’র সাব-এসিসটেন্স ইঞ্জিনিয়ার মো. গিয়াস উদ্দিন জানান, ষাটমাছড়ার প্রথম ধাপের খনন কাজ গত বছর সম্পন্ন হয়েছে। চলিত বছর পৃথক দুটি লটে ছড়ার আরো ৩ কিলোমিটার পূণঃখনন কাজ শুরু হয়েছে। প্রকল্পটি বাস্তবায়িত হলে শুধু বড়লেখা পৌরশহরের অকাল বন্যা ও

জলাবদ্ধতার স্থায়ী সমাধানই হবে না, এছাড়াও ষাটমা ছড়ার উভয় তীরের ব্যাপক কৃষি জমি চাষাবাদের আওতায় আসবে।”

উপরের রিপোর্টে দেখা যাচ্ছে দ্বিতীয় ধাপের এই প্রকল্পে ব্যয় ধরা হয়েছে ৩৫ লাখ টাকা। এবং এখানে ৩ কিলোমিটার কাজ করার কথা রয়েছে। রিপোর্টে দেখা যাচ্ছে এর আগে ষাটমা ছড়ায় আরো ২ কিলোমিটার কাজ সম্পন্ন হয়েছে। অর্থাৎ শুধুমাত্র ষাটমা ছড়ায় ৫ কিলোমিটার কাজ হয়েছে। তাহলে নিকড়িছড়ায় কত টাকায় কত কিলোমিটার কাজ হয়েছে? বিএডিসির প্রকৌশলী গিয়াসউদ্দিন এখন বলছেন, সবমিলিয়ে ১৫/১৬ লাখ টাকার কাজ হয়েছে।

আসলে এখন কেউই সঠিক কোনো হিসাব বলছেন না কেনো? ষাটমা ও নিকড়িছড়া খাল পুনঃখনন প্রকল্পে আসলে কত কিলোমিটার কাজ হয়েছে এবং কত টাকা খরচ হয়েছে এই তথ্য নিশ্চিত করে এখন কেউই বলতে চাচ্ছেন না। তাহলে খাল পুনঃখননের নামে লেফাফাদুরস্তের যে অভিযোগ উঠেছে তাই কি সত্য?

মন্ত্রী শাহাব উদ্দিনের সামনে আধুনিক বড়লেখা গড়ার এক সুবর্ণ সুযোগ অপেক্ষমান

বড়লেখা পৌরসভার পাখিয়ালায় জন্ম ও বেড়ে উঠা তৃণমূলের রাজনীতিক আজকের পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তন মন্ত্রী শাহাব উদ্দিন আওয়ামী লীগ সরকারের প্রধানমন্ত্রী ও দলের সভাপতি বঙ্গবন্ধু কন্যা শেখ হাসিনার অত্যন্ত প্রিয়ভাজন মন্ত্রী হিসেবে অনেকেই মনে করেন।

তাঁর সামনে বড়লেখা পৌরসভাকে এ ক্যাটাগরিতে উন্নীতকরণ ও বড়লেখা পৌর শহরকে একটি আধুনিক শহরে রূপান্তরের সুবর্ণ সুযোগ অপেক্ষা করছে।

আধুনিক বড়লেখা গড়ার নির্মাতা হিসেবে তাঁর নাম ইতিহাসের সোনালী পাতায় লিখে রাখতে তিনি নিশ্চয়ই চাইবেন। যেহেতু তিনি এ মাটির ‘সান অব দ্য সয়েল। তিনি বড়লেখার ভূমিপুত্র। বড়লেখাবাসী চেয়ে আছেন তাঁর দিকে। তাদের স্বপ্ন ও আশা নিয়ে।

লেখক: সম্পাদক,এখন সিলেট।

৩৭ দিন পর কাজে যোগ দিল দলই চা বাগানের চা শ্রমিকরা

পিন্টু দেবনাথ, কমলগঞ্জ (মৌলভীবাজার): দীর্ঘ ৩৭ দিন বন্ধ থাকার পর মৌলভীবাজারের কমলগঞ্জ উপজেলার মাধবপুর ইউনিয়নের সীমান্তবর্তী দলই চা বাগানে উপজেলা প্রশাসন, চা শ্রমিক নেতৃবৃন্দ, শ্রম অধিদপ্তরের কর্মকর্তা ও মালিক পক্ষের যৌথ বৈঠক শেষে দ্রুততম সময়ে মামলা প্রত্যাহার ও বিতর্কিত ব্যবস্থাপককে বদলীর আশ্বাসে বৃহস্পতিবার চা বাগান খুলেছে।

বৈঠক শেষে বৃহস্পতিবার দুপুর সাড়ে ১২টা থেকে দলই চা বাগানের শ্রমিকরা কাজে যোগ দিয়েছে। গত ২৭ জুলাই সন্ধ্যায় আকস্মিক কর্তৃপক্ষ নোটিশ দিয়ে দলই চা বাগান অনির্দিষ্টকালের জন্য বন্ধ করেছিল।

মালিক পক্ষের নোটিশে গত ২৮ জুলাই থেকে দলই চা বাগান দীর্ঘ ৩৭ দিন বন্ধ ছিল। এ নিয়ে গত ২৯ জুলাই থেকে উপজেলা প্রশাসনের উদ্যোগ তিন দফা
বৈঠক, মৌলভীবাজার-৪ আসনের সংসদ সদস্য উপাধ্যক্ষ ড. মো. আব্দুস শহীদের নেতৃত্বে জেলা প্রশাসক ও জেলা পুলিশ সুপারের উপস্থিতিতে ১৭ আগষ্টের বৈঠকের পরও দলই চা বাগান বন্ধ ছিল। এ নিয়ে শ্রীমঙ্গলস্থ শ্রম অধিদপ্তর কর্মকর্তার কার্যালয়ে কয়েক দফা বৈঠকের পরও কোন লাভ হয়নি। সর্বশেষ গত বুধবার মৌলভীবাজার-৪ আসনের সংসদ সদস্য উপাধ্যক্ষ ড. মো. আব্দুস শহীদের পরামর্শে ও নির্দেশনায় বৃহস্পতিবার সকাল ১০টায় আবারও দলই চা বাগান বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়।

বৈঠকে উপস্থিত ছিলেন বাংলাদেশ শ্রম অধিদপ্তর শ্রীমঙ্গল কার্যালয়ের উপ-পরিচালক নাহিদুল ইসলাম, কমলগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা আশেকুল হক, কলকারখানা ও প্রতিষ্ঠান পরিদর্শন অধিদপ্তর, শ্রীমঙ্গল এর উপ-মহাপরিদর্শক মোহাম্মদ মাহবুবুল হাসান, কমলগঞ্জ থানার ওসি মো. আরিফুর রহমান, দলই চা বাগান কোম্পানীর উর্ধতন কর্মকর্তাবৃন্দ, বাংলাদেশ চা
শ্রমিক ইউনিয়নের সাধারণ সম্পাদক রামভজন কৈরী, সহ সভাপতি পংকজ কন্দ,সাংগঠনিক সম্পাদক বিজয় হাজরা, অর্থ সম্পাদক পরেশ কালিন্দি, মনু-দলই ভ্যালী সভাপতি ধনা বাউরী, সাধারণ সম্পাদক নির্মল দাশ পাইনকা, দলই চা বাগান পঞ্চায়েত সভাপতি নায়েক, সাধারণ সম্পাদক সেতু রায়সহ চা শ্রমিক নেতৃবৃন্দ।

শারিরীক অসুস্থতার জন্য বৈঠকে উপস্থিত না থাকলেও দলই চা বাগান কোম্পানির এজিএম খালেদ মঞ্জুর খান মোবাইল ফোনে শ্রমিকদের দাবী দাওয়া মেনে
নেয়ার আশ্বাস দেন। তবে দলই চা বাগানের ভারপ্রাপ্ত ব্যবস্থাপক মো. জাকারিয়াসহ কর্মকর্তাবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন।

বৈঠকে ব্যাপক আলোচনা শেষে বিতর্কিত দলই চা বাগানের ব্যবস্থাপক আমিনুল ইসলামকে বদলী ও চা শ্রমিকদের জন্য বন্ধকালীন মজুরী ও বাগান
কতৃপক্ষের দায়েরকৃত মামলা দ্রুততম সময়ে প্রত্যাহারের আশ্বাস দেওয়া হয়। এর পর বেলা সাড়ে ১২টা থেকে দলই চা বাগানের শ্রমিকরা দীর্ঘ ৩৭ দিন পর প্লান্টেশন এলাকায় চা পাতা উত্তোলন কাজে যোগ দেয়।

বাংলাদেশ চা শ্রমিক ইউনিয়নের সাধারণ সম্পাদক ও কমলগঞ্জ উপজেলা পরিষদের ভাইস চেয়ারম্যান রাম ভজন কৈরী বলেন, দলই চা বাগানের বিতর্কিত
ব্যবস্থাপক আমিনুল ইসলামের বাগানে প্রবেশ না করা, চা শ্রমিকদের জন্য বন্ধকালীন মজুরি দেওয়া ও শ্রমিক নেতৃবৃন্দের নামে দায়েরকৃত মামলা দ্রুততম
সময়ের মধ্যে প্রত্যাহারের আশ্বাস প্রদান করেন মালিক পক্ষ। এ অশ্বাসে সন্তোষ প্রকাশ করে দীর্ঘ ৩৭ দিন পর দলই চা বাগানের শ্রমিকরা বৃহস্পতিবার দুপুর থেকে কাজে যোগ দিয়েছেন।

কমলগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা আশেকুল হক দীর্ঘ ৩৭ দিন পর দলই চা বাগান খোলা ও চা শ্রমিদের কাজে যোগদানের সত্যতা নিশ্চিত করে বলেন, দলই চা
বাগান মালিক পক্ষের দেওয়া আশ্বাস পূরণ হলে আর দলই চা বাগানে সমস্যা থাকার কথা নয়। তিনি জরুরী ভিত্তিতে দলই চা বাগানের শ্রমিকদের মানবিক সহায়তা
প্রদানের আশ্বাস দেন।

কমলগঞ্জে ক্লিন এন্ড বিউটিফুল এর উদ্যোগে মাস্ক বিতরণ

কমলগঞ্জ (মৌলভীবাজার) প্রতিনিধি: মৌলভীবাজারের কমলগঞ্জ উপজেলার শমশেরনগর ক্লিন এন্ড বিউটিফুল এর উদ্যোগে শমশেরনগর বাজারে ৩০০ মাক্স বিতরণ করা হয়।

বৃহস্পতিবার (৩ সেপ্টম্বর) বিকেল সাড়ে ৫টায় বিতরণ কর্মসূচীতে অংশগ্রহণ করেন শমশেরনগর পুলিশ ফাঁড়ির অফিসার্স ইনচার্জ অরুপ কুমার চৌধুরী, আব্দুল মছব্বির একাডেমির সভাপতি আকমল মাহমুদ, ক্লিন এন্ড বিউটিফুল এর সভাপতি হাফিজুল হক চৌধুরী, শমশেরনগর ইউপি সদস্য শেখ রায়হান ফারুক, ক্লিন এন্ড বিউটিফুল এর সাধারণ সম্পাদক
শিমুল কান্তি পাল, সিরাজুল ইসলাম সিপন, সাইদুর রহমান সুমন, মামুনুর রহমান, রিয়াজুর রহমান রিজন, নবিল সহ ক্লিন এন্ড বিউটিফুল এর সদস্যবৃন্দ।

কমলগঞ্জে ধলাই নদীর উপর সেতু শুভ উদ্বোধন

পিন্টু দেবনাথ, কমলগঞ্জ (মৌলভীবাজার): মুক্তিযুদ্ধের স্মৃতি বিজড়িত মৌলভীবাজারের কমলগঞ্জ পৌরসভায় গুরুত্বপূর্ণ ধলাই নদীর উপর ৯০.১০ মিটার দীর্ঘ নতুন নির্মিত পিএসসি গার্ডার ব্রীজ আনুষ্ঠানিকভাবে শুভ উদ্বোধন করা হয়েছে।

সোমবার ৩১ আগস্ট বিকেল সাড়ে ৪টায় প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত থেকে ব্রীজের শুভ উদ্বোধন করেন সাবেক চিফ হুইপ মুক্তিযোদ্ধা আলহাজ্ব
উপাধ্যক্ষ ড. আব্দুস শহীদ এমপি।

কমলগঞ্জ পৌরসভার চেয়ারম্যান ও উপজেলা
যুবলীগের আহবায়ক মো. জুয়েল আহমেদ এর সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন কমলগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা আশেকুল হক, কমলগঞ্জ উপজেলা পরিষদের ভাইস চেয়ারম্যান রামভজন কৈরী, মহিলা ভাইস চেয়ারম্যান বিলকিস বেগম,
কমলগঞ্জ উপজেলা আওয়ামীলীগের সভাপতি মোঃ আছলম ইকবাল মিলন, সাধারন সম্পাদক
এড. এএসএম আজাদুর রহমান, যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক আব্দুল হান্নান, কমলগঞ্জ থানা ওসি তদন্ত সুধীন চন্দ্র দাস, উপজেলা বিআরডিবির চেয়ারম্যান ইমতিয়াজ আহমেদ বুলবুল, পৌর কাউন্সিলর মো: আনোয়ার হোসেন, সহ বিভিন্ন ইউপি চেয়ারম্যান, আওয়ামীলীগ, যুবলীগ, ছাত্রলীগ, মুক্তিযোদ্ধা, শিক্ষক ও সাংবাদিকবৃন্দ কমলগঞ্জ পৌরসভার অবকাঠামো উন্নয়ন প্রকল্পের বাস্তবায়নে ধলাই নদীর উপর
পিএসসি গার্ডার ব্রীজ নির্মাণ কাজে ব্যয় হয় ৬ কোটি ১৬ লাখ ৫৩ হাজার ৪২৬ টাকা।

পরে প্রধান অতিথি অনুমিত হিসাব সম্পর্কিত কমিটির সভাপতি মৌলভীবাজার-৪ আসনের সংসদ সদস্য উপাধ্যক্ষ ড. মো: আব্দুস শহীদ এমপি কমলগঞ্জ সরকারি মডেল স্কুল এন্ড কলেজ মাঠে উপজেলা যুবলীগের আয়োজনে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার
পক্ষ থেকে উপজেলা যুবলীগের উদ্যোগে ৯টি ইউনিয়ন ও ১টি পৌরসভায় করোনা দূর্যোগে যুবলীগ নেতৃবৃন্দকে খাদ্য সহায়তা বিতরণ অনুষ্ঠানে যোগদান করেন।

উপজেলা যুবলীগের আহবায়ক ও পৌরসভার মেয়র জুয়েল আহমেদ এর সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে ১০০০ নেতৃবৃন্দের মধ্যে খাদ্য সহায়তা বিতরণ করা হয়।