#  শায়েস্তাগঞ্জে ইয়াবা-মদসহ আটক ২ #  মাধবপুরে সাংবাদিক জাহের মিয়া ফকির আর নেই #  হবিগঞ্জে আ’লীগের আলোচনা সভা ও মিলাদ মাহফিল #  সিলেটে বোমাসদৃশ্য বস্তুটি ‘গ্রাইন্ডিং মেশিন’ #  নবীগঞ্জে পৌর মেয়র দম্পতিসহ ৫ জনের করোনা শনাক্ত #  হবিগঞ্জে প্রতারক আফজালের জামিন নামঞ্জুর #  চুনারুঘাটে মাদক ব্যবসায়ী বাঘা লিটনসহ আটক ২ #  নবীগঞ্জে ১৪ ডাকাতি মামলার প্রধান আসামী গ্রেফতার #  লাখাইয়ে ঝুঁকিপূর্ণ আনন্দ ভ্রমন না করার নির্দেশ #  দেশে করোনায় আরো ৩৯ জনের মৃত্যু #  মাধবপুরে করোনা আক্রান্ত হয়ে শিক্ষকের মৃত্যু #  চুনারুঘাটে শেখ কামালের জন্মদিনে মিলাদ মাহফিল #  কমলগঞ্জে এক ব্যবসায়ীর মালামাল উদ্ধার করলো পুলিশ #  বাহুবলে ডাকাতি মামলার আসামী গ্রেফতার #  শায়েস্তাগঞ্জে মোটরসাইকেল আরোহী নিহত

দিরাইয়ে স্বজনদের হাতেই নিহত হয় শিশু তুহিন, আটক ৭

নিজস্ব প্রতিনিধি, সুনামগঞ্জ: সুনামগঞ্জের দিরাই উপজেলার রাজানগর ইউনিয়নের কেজাউড়া গ্রামে প্রতিহিংসাপরায়ন হয়ে প্রতিপক্ষকে ফাঁসাতে গিয়ে বীভৎস হত্যাকান্ডের শিকার হয়েছে শিশু তুহিন।

নৃশংস হত্যার ঘটনায় এলাকার লোকজনের মধ্যে তোলপাড়ের সৃষ্টি হয়েছে। এ ঘটনায় শিশুর পিতাসহ ৭স্বজনকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য আটক করা হয়।

সোমবার (১৪ অক্টোবর) সকাল ১০টার দিকে উপজেলার রাজানগর ইউনিয়নের গচিয়া কেজাউড়া গ্রাম থেকে ওই শিশুর মরদেহ উদ্ধার করা হয়।

নিহত শিশুর নাম তুহিন(৬)। সে গ্রামের আবদুল বছির মিয়ার ছেলে।

পুলিশ জানায়, হত্যাকারীরা ধারালো অস্ত্র দিয়ে শিশুটির কান, গলা ও প্যানিশ কেটে পাশবিক কায়দায় হত্যা করে গাছের সঙ্গে ঝুলিয়ে রাখে। শিশুটির পেটে বিদ্ধ ছিল দুটি ধারালো ছুরি। তবে কে বা কারা, কি কারণে এ শিশুকে পাশবিক কায়দায় হত্যা করেছে তা এখনও স্পষ্ট জানা যায়নি। শিশুর মরদেহে বিদ্ধ ছোরা দুটির হাতলে সোলেমান ও সালাতুলের নাম লিখা রয়েছে। এ নাম দুটি নিয়ে শিশু হত্যার রহস্য আরো ঘনীভূত হচ্ছে।

পুলিশ বলছে, অনেক ক্লু তাদের হাতে এসেছে। জিজ্ঞাসাবাদের জন্য শিশুর বাবা-চাচাসহ ৭ জনকে আটক করা হয়েছে। এদিকে দুপুর ১২ টার দিকে ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছেন পুলিশ সুপার মিজানুর রহমান , ডিআইও ওয়ান সুনামগঞ্জ আনোয়ার হোসেন মৃধা, ডিবির ওসি মুক্তাদির আহমদসহ সিআইডির ফরেনসিক বিভাগের সদস্যরা।

পুলিশ সুপার মিজানুর রহমান বলেন, ঘটনার কিছু ক্লু আমাদের হাতে এসেছে, তদন্তের স্বার্থে আমরা এখনই কিছু বলতে চাচ্ছি না। জিজ্ঞাসাবাদের জন্য শিশুর বাবা বাছির, চাচা আবদুল মোচাব্বির, জমশেদ, নাছির ও জাকিরুলসহ ৭ জনকে আটক করা হয়েছে। আসামীদের শীঘ্রই গ্রেফতার করা হবে।

এদিকে সন্ধ্যা সাতটার দিকে পুলিশ সুপার মিজানুর রহমান গমাধ্যমকর্মীদের সামনে নৃশংস হত্যাকান্ডের শিকার তুহিনের হত্যা কান্ড নিয়ে প্রেস ব্রিফিংয়ে বলেন, প্রতিপক্ষকে ফাঁসাতে পারিবারিক ভাবে নৃশংস ও ভয়াবহ হত্যাকান্ডের শিকার হয়েছে শিশু তুহিন। কেন তাকে মারা হল প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, কেন তাকে মারা হয়েছে, কিভাবে মারা হয়েছে, কতজন এই হত্যাকান্ডে অংশ নিয়েছে সবই আমরা পেয়েছি, তবে তদন্তের স্বার্থে আমরা এখনই সবকিছু বলতে চাচ্ছি না।

আটককৃত স্বজনদের মধ্যে ৩/৪জন এর সম্পৃক্ততার কথা তারা স্বীকার করেছে। গ্রামের দীর্ঘদিনের বিরোধ, একাধিক মামলা সব মিলিয়ে প্রতিহিংসা প্রসূত এ হত্যাকান্ডের পরিকল্পনা করা হয়েছে। নিহত শিশুর দেহে বিদ্ধ ছোরার হাতলে লিখা সোলেমান ও সালাতুল তারা অন্য মামলার আসামী তাদেরকেও ফাঁসানোর জন্য তাদের নাম লিখা হতে পারে। নিহত তুহিনের বাবাও একটি হত্যা মামলার আসামী হিসেবে আছেন। সব কিছু মিলিয়ে আমরা বিষয়টি গুরুত্ব সহকারে দেখছি, এখনো জিজ্ঞাসাবাদ অব্যাহত রয়েছে। ফাইন্ড আউট করে মামলা দায়ের করা হবে।

স্বজনরা জানান, রোববার রাতে প্রতিদিনের মতো খাবার খেয়ে পরিবারের সবাই ঘুমিয়ে পড়েন। রাত ১২টার দিকে শিশু তুহিন প্রকৃতির ডাকে উঠলে তার মা বাহিরে নিয়ে যান। এর পর তাকে এনে আবার ঘুম পাড়িয়ে দেন।

রাত ৩টার দিকে মা-বাবা হঠাৎ দরজা খোলার শব্দ শুনে ঘুম থেকে জেগে দেখেন তুহিন ঘরে নেই। এর পর পরিবারের লোকজন খোঁজাখুঁজি শুরু করেন।
একপর্যায়ে বাড়ির পাশে রক্ত দেখেন। এর পর কিছু দূরে সুফিয়ান মোল্লার উঠানে মসজিদের পাশে গাছে ঝুলন্ত অবস্থায় তুহিনের গলাকাটা মরদেহ দেখতে পান। এস আই তাহের জানান, সুরতহাল রিপোর্ট তৈরি করে ময়না তদন্তের জন্য সুনামগঞ্জে প্রেরণ করা হয়েছে।

নিহত শিশুর দেহে বিদ্ধ ছোরায় সোলেমান ও সালাতুল এ দুটি নামের লোক আনোয়ার মেম্বারের পক্ষের বলে জানা গেছে।

নিহত শিশুর বাবা আবদুল বছির মিয়া জানান, গ্রাম্য বিরোধ থাকলেও আমার এই ছেলেকে নৃশংসভাবে হত্যা করা হবে আমি তা বিশ্বাস করিনা।

স্থানীয়রা জানান, বিগত ৪ বছর আগে গ্রামের গিয়াস উদ্দিনের স্ত্রী নিলুফা হত্যার ঘটনায় কেজাউরা গ্রাম দুভাগে বিভক্ত হয়ে পড়ে। এক পক্ষ এলাছ মিয়া ও নিহত শিশুর পিতা আবদুল বছির গং এবং আসামী অপর পক্ষ আনোয়ার মেম্বার গং। আজ সোমবার নিলুফা হত্যা মামলা আপোষ মিমংসার জন্য নির্ধারিত ছিল। কিন্তু নিহত শিশুর পিতা বছির মিয়া আপোষের পক্ষে থাকলেও এলাছ মিয়াসহ কয়েক জন আপোষ মানতে নারাজ ছিলেন। বিরোধ জিয়ে রাখতেই এ হত্যাকান্ডের ঘটনা ঘটতে পারে বলে অনেকে মনে করছেন।