1. nafiz.hridoy285@gmail.com : Hridoy Fx : Hridoy Fx
  2. miahraju135@gmail.com : MD Raju : MD Raju
  3. koranginews24@gmail.com : সম্পাদক : সম্পাদক
‘রডের বদলে বাঁশ’ সুরাহা হয়নি ১২ দিনেও? - করাঙ্গীনিউজ
  • Youtube
  • English Version
  • সোমবার, ০৫ ডিসেম্বর ২০২২, ০৫:০৪ পূর্বাহ্ন

করাঙ্গী নিউজ
স্বাগতম করাঙ্গী নিউজ নিউজপোর্টালে। ১৪ বছর ধরে সফলতার সাথে নিরপেক্ষ সংবাদ পরিবেশন করে আসছে করাঙ্গী নিউজ। দেশ বিদেশের সব খবর পেতে সাথে থাকুন আমাদের। বিজ্ঞাপন দেয়ার জন‌্য যোগাযোগ করুন ০১৮৫৫৫০৭২৩৪ নাম্বারে।

‘রডের বদলে বাঁশ’ সুরাহা হয়নি ১২ দিনেও?

  • সংবাদ প্রকাশের সময়: বুধবার, ২৭ এপ্রিল, ২০১৬

এমএ আর শায়েল: দর্শনায় প্রায় আড়াই কোটি টাকা ব্যয়ে নির্মিত কৃষি অধিদপ্তরের ভবন নির্মাণে বাঁশের ফালি ব্যবহারের বিষয়ে বেরিয়ে আসতে শুরু করেছে চাঞ্চল্যকর তথ্য। সরকারিকাজে এত বড় অনিয়ম-দুর্নীতির নেপথ্যে থাকা গডফাদারদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি উঠেছে সর্বত্র।

 

গত ৭, ৮ ও ৯ এপ্রিল দেশী ও বিদেশী মিডিয়ার এ বিষয়ে সংবাদ প্রকাশ হলে ফেসবুকসহ সর্বত্র নিন্দা ও প্রতিবাদের ঝড় উঠে। দেশী-বিদেশীসহ সচেতন মহলের দাবির প্রেক্ষিতে এ বিষয়ে গঠন করা হয় তিন সদস্যের কমিটি। বরখাস্ত করা হয় দুই প্রকৌশলীকে।

 

তদন্ত কমিটির প্রধান সৌমেন সাহা থেকে শুরু করে কৃষি অধিদপ্তরের প্রতিনিধিদলসহ চুয়াডাঙ্গা-২ আসনের সংসদ সদস্য, স্থানীয় জেলা পরিষদের প্রশাসকসহ অনেকেই নির্মাণাধীন ভবন পরিদর্শন করে এ বিষয়ে নিন্দা ও ক্ষোভ প্রকাশ করে তদন্তপূর্বক ব্যবস্থা গ্রহণের নির্দেশ দেন। তাদের অনেকেই ভবনের যেস্থানে বাঁশের ব্যবহার করা হয়েছে তা ভেঙে ফেলার নির্দেশ দেন।

 

 

এক পর্যায়ে দামুড়হুদা উপজেলা নির্বাহী অফিসার ও জেলা কৃষি কর্মকর্তা এবং দামুড়হুদা কৃষি কর্মকর্তা ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে নির্মাণ কাজ বন্ধ করে দিয়ে তদন্তপূর্বক জড়িতদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা গ্রহণ করার কথা বলেন। কিন্তু অনিয়ম-দুর্নীতি ধরা পড়ার প্রায় ১২ দিনেও এর নেপথ্যে থাকা গডফাদারদের বিরুদ্ধে নেয়া হয়নি কার্যকর কোন ব্যবস্থা। এতে করে স্থানীয় বাসিন্দাদের মাঝে অসন্তোষ দেখা দিয়েছে। সরকারি নির্মাণ কাজে এ ধরনের অভিযোগ নতুন নয়।

 

এমন অনিয়মের নেপথ্যে থাকা গডফাদারদের বিরুদ্ধে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির ব্যবস্থা না নেয়ায় এ ধরনের অনিয়ম ঘটেই চলেছে বলে মনে করছেন সচেতন মহল। ইতোমধ্যে তদন্ত কমিটি তাদের প্রতিবেদন প্রকাশ করেছে।

 

প্রতিবেদনে বলা হয়েছে মূল ভবন নির্মাণে তারা কোন প্রকার ত্রুটি পাওয়া যায়নি। যে অংশটি নিয়ে হৈচৈ তৈরি হয়েছে সেটি হচ্ছে ভবনের বাহ্যিক শোভা বর্ধনের জন্য লুভার তৈরির অংশ। তদন্ত কমিটি দোষীদের বিরুদ্ধে কোন শাস্তি মূলক ব্যবস্থা গ্রহণের সুপারিশ না করলেও মজার বিষয় হচ্ছে একটি মাত্র লুভারেই নাকি বাঁশের ফালি পাওয়া গেছে। তবে ওই ভবনে বাঁশ আরো আছে কিনা বিষয়টি নিশ্চিত হতে আরো কয়েকটি লুভার ভাঙা হয়েছিল কিন্তু সেখানে বাঁশ পাওয়া যায়নি।
সম্প্রতি এ বিষয়ে সরেজমিনে অনুসন্ধানে নামে ঢাকার একটি অনলাইন নিউজ (প্রতিবেদক.কম) টিম। তাদের অনুসন্ধানে বেরিয়ে আসে চাঞ্চল্যকর ও অজানা কিছু তথ্য।

 

ওই অনলাইনে বলা হয়, (সম্প্রতি কাজ বন্ধ থাকা) ভবনের পাশে এখনো পাঁচ থেকে ছয় টন রড পরিত্যক্ত অবস্থায় পড়ে রয়েছে।

 

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক কয়েকজন স্থানীয় বাসিন্দা তাদেরকে জানান, নির্মাণাধীন ভবনে যে কটি বাঁশের ফালি ব্যবহার করা হয়েছে তাতে আনুমানিক পাঁচ কেজি রডের বেশি রড লাগার কথা না। অথচ ৫ কেঁজি রড বাঁচাতে গিয়ে ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানটি কেন এমন আত্মঘাতী সিদ্ধান্ত নিয়েছিল তা ভেবে কুলকিনারা করতে পারছেন না এলাকাবাসির অনেকেই। ৭, ৮ ও ৯ এপ্রিল দেশী-বিদেশী বিভিন্ন গণমাধ্যমে প্রকাশিত সংবাদগুলো যাচাই করে দেখা যায়, প্রচারিত সংবাদগুলোতে নির্মাণ কাজে নিয়োজিত থাকা কোন রাজমিস্ত্রির বক্তব্য নেয়া হয়নি। ফলে সচেতন মহলের মাঝে বিভিন্ন প্রশ্নের সৃষ্টি হয়েছে।

 

 

অভিযোগে প্রকাশ নিয়োজিত রাজমিস্ত্রিদের বক্তব্য নেয়া হলেই বেরিয়ে আসতো থলের বিড়াল। তাদের কাছ থেকেই জানা যেত প্রকৃত অপরাধী কারা? কাদের ইন্ধনে কিংবা কি কারণে এই ঘৃণ্য কাজ করা হয়েছে?
অনুসন্ধানে জানা যায়, ঠিকাদার প্রতিষ্ঠান ‘জয় ইন্টারন্যাশনাল’ গত ডিসেম্বর থেকে ভবন নির্মাণের কাজ শুরু করে। এরপর থেকেই স্থানীয় কতিপয় নেতা নির্মাণ কাজটি সাব কন্টাক্টে নেয়ার জন্য তাদেরকে চাপ করে। এ প্রস্তাবে রাজি না হওয়ায় তারা ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠানের নিকট চাঁদা দাবি করে বিভিন্নভাবে হুমকি-ধামকি প্রদর্শন করে। কাজ শুরুর পরও ওই চাঁদাবাজদের কয়েক দফা চাঁদা দিয়েছেন বলে বলে দাবি করেছেন ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠান কর্তৃপক্ষ। এমনকি চাঁদা দাবির বিষয়টি তারা স্থানীয় সংসদ সদস্যকেও জানিয়ে রেখেছিলেন বলে সাংবাদিকদের জানান।

 

ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠান কর্তৃপক্ষ জানায়, চাঁদা না দেয়ায় তাদের ভাবমূর্তি ক্ষুন্ন করতেই এরকম নাটক সাজানো হয়েছে। এতে স্বাভাবিকভাবেই সচেতন মহলে প্রশ্ন উঠে তবে কি রাজমিস্ত্রিরাও এ অনিয়মের সাথে জড়িত ছিল?
অনুসন্ধানে জানা যায়, দর্শনা পৌরসভার পাশে তিন হাজার ৭৫০ বর্গফুট আয়তনের আধুনিকমানের ল্যাবরেটরি ও অফিস ভবন নির্মাণ কাজ শুরু হয় গত বছরের ১ ডিসেম্বর। বাংলাদেশ কৃষি সস্প্রসারণ অধিদপ্তরের মহাপরিচালক মোঃ হামিদুর রহমান নির্মাণকাজ উদ্বোধন করেন। কৃষি স¤প্রসারণ অধিদপ্তরের ফাইটো স্যানিটরি ক্যাপাসিটি শক্তিশালীকরণ প্রকল্পের আওতায় প্রায় দুই কোটি ৪২ লাখ টাকা ব্যয়ে নির্মিত হচ্ছে এ ভবন। আর এ ভবন নির্মাণের দায়িত্ব পান ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান ঢাকার ইঞ্জিনিয়ারিং কনস্ট্রাকশন লিমিটেড (ইসিএল)। ইতিমধ্যে ভবনটির প্রায় ৭০ ভাগ কাজ শেষ হয়ে গেছে। ইতোমধ্যে অনিয়মের বিষয়ে মামলা হলে মতি নামের স্থানীয় এক নেতা ইতোমধ্যেই গা ঢাকা দিয়েছেন।

 

 

এলাকাবাসি ও ঠিকাদার প্রতিষ্ঠানের তথ্যমতে মতি, জুয়েল, হাফেজ, দীপু, পারভেজ ও ববীই নামের কয়েক নেতার নিকট জিম্মি ছিল ওই এলাকা।

 

 

সূত্র জানিয়েছে, তাদের মাধ্যমেই প্রথম রডের বদলে বাঁশ ব্যবহারের খবরটি সর্বপ্রথম ফেসবুকের মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে। এ ছাড়া নির্মাণ কাজে নিয়োজিত থাকা ফোরম্যান নাজমুল নাজিম, রডমিস্ত্রি লোকমান, খোরশেদ, আলেক এবং রাজিব রডের বদলে বাঁশ আবিষ্কার হবার পর থেকেই নাকি পলাতক রয়েছেন। তাদের সাথে কয়েক দফা যোগাযোগ করে পাননি সাংবাদিকরা। অভিযোগের এখানেই শেষ নয়। যারা প্রথমে ভবনটির একটি লুভার ভাঙলো তারা কিভাবে জানলো এখানে রডের বদলে বাঁশ আছে? এমতাবস্থায় স্থানীয় এলাকাবাসিসহ সচেতন মহলে প্রশ্ন উঠেছে বাঁশের ফালিগুলো গেল কোথায়? যারা লুভার ভাঙলো তারা থানা বা পুলিশকেও খবর না দিয়ে নিজেরা কেন এটি ভাঙলো?
এলাকাবাসি অভিযোগ করে জানান, নির্মাণ কাজ তদারকি ও সুনির্দিষ্ট দায়িত্বপ্রাপ্ত লোক থাকলেও তাদের গাফিলতিতেই ঘটেছে বড় ধরনের এ অনিয়ম। অনেক ক্ষেত্রে দেখেও না দেখার ভান করা হয়েছে।

 

কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের নির্মাণাধীন ভবনটি যদি লোকচক্ষুর অন্তরালে নির্মিত হতো তাহলে রডের বদলে বাঁশ ব্যবহার করার ফলে ঘটতে পারতো ভয়াবহ দুর্ঘটনা। বর্তমান সরকার উন্নয়নকে অগ্রাধিকার দিচ্ছে। কিন্তু উন্নয়ন কর্মকান্ডে বিশেষ করে অবকাঠামোগত উন্নয়নের ক্ষেত্রে যদি মান রক্ষা করা না হয় তাহলে সে উন্নয়ন টেকসই হয় না বলে মন্তব্য করছেন সচেতন নাগরিক সমাজের অনেকেই। সচেতন নাগরিক সমাজের প্রশ্ন হচ্ছে পুকুর চুরির সাথে জড়িতরা যদি পার পেয়ে যায় তাহলে এ ধরনের অনিয়ম কোনোদিনই বন্ধ হবে না।

 

 

কেবল সাময়িক বরখাস্ত নয়, জাতির সাথে যারা বেঈমানি করে তাদের কঠোর শাস্তির আওতায় আনার কোনো বিকল্প নেই। দুর্নীতির বিরুদ্ধে বর্তমান সরকার যে জিরোটলারেন্স দেখাচ্ছে তা বাস্তবায়িত হবে তখনই যখন সাধারণ মানুষ দেখবে অপরাধীরা আইনের ফাঁকফোকর গলে বেরিয়ে যেতে পারছে না। তবেই বর্তমান সরকারের এ পদক্ষেপ বাস্তবায়িত হবে এবং সাধারণ মানুষ আস্থা রাখবে।

সংবাদটি শেয়ার করুন

এ জাতীয় আরো সংবাদ
x