• Youtube
  • English Version
  • শুক্রবার, ১৯ জুলাই ২০২৪, ০২:৩৭ অপরাহ্ন

করাঙ্গী নিউজ
স্বাগতম করাঙ্গী নিউজ নিউজপোর্টালে। ১৫ বছর ধরে সফলতার সাথে নিরপেক্ষ সংবাদ পরিবেশন করে আসছে করাঙ্গী নিউজ। দেশ বিদেশের সব খবর পেতে সাথে থাকুন আমাদের। বিজ্ঞাপন দেয়ার জন‌্য যোগাযোগ করুন ০১৮৫৫৫০৭২৩৪ নাম্বারে।

টাঙ্গুয়ার হাওর এখন মাছের মরণ ফাঁদ

  • সংবাদ প্রকাশের সময়: মঙ্গলবার, ২০ ডিসেম্বর, ২০২২

এম,এ আহমদ আজাদ,হাওরাঞ্চল প্রতিনিধি(বাংলাদেশ): দেশের উত্তর-পূর্ব প্রান্তের জীববৈচিত্র সমৃদ্ধ সবচেয়ে বড় জলাভূমি রামসার সাইট ও মাদার ফিসারিজ খ্যাত সুনামগঞ্জের তাহিরপুরের টাঙ্গুয়ার হাওর। এ হাওর এখন মাছের জন্য মরণ ফাঁদ। দিন দুপুরে পুরো হাওর জুড়ে কারেন্ট ও কোনা জাল এবং প্লাষ্টিকের মাছ ধরার গুই (চাই) পাতা রয়েছে।

এসব ফাঁদে প্রতিদিন মাছ ও পাখি ধরা পড়ছে। এতে হাওরে কমছে মাছ। তবে টাঙ্গুয়ার হাওরে নিরাপত্তায় দায়িত্বে থাকা আনসারদের ম্যানেজ করে রাতের আঁধারে অবৈধভাবে চুরি করে মাছ ধরা ও অতিথি পাখি শিকার অব্যাহত রয়েছে বলে অভিযোগ করে জানালেন পরিবেশবাদি সংগঠন ও স্থানীয়রা।

অথচ হাওরে দায়িত্বে থাকা সংশ্লিষ্টরা জানালেন,‘হাওরে আনসার সদস্যদের বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় তথ্য প্রমান পেলে আমরা শাস্তিমূলক ব্যবস্থা গ্রহণ করছি। তবে টাঙ্গুয়ার হাওরের জীববৈচিত্র্য রক্ষা করতে আমরা কাজ করে যাচ্ছি।’

সরজমিনে টাঙ্গুয়ার হাওর ঘুরে দেখা যায়, শুষ্কু মৌসুমেও টাঙ্গুয়ার হাওরে দিনের বেলা অবাধে চলছে মাছ শিকার। শিকারিরা কারেন্ট জাল দিয়ে ধরছেন মাছ। বিভিন্ন এলাকায় বিভিন্ন ধরণের কারেন্ট জাল দিয়ে মাছ শিকার করা হচ্ছে। এছাড়াও মাছ ধরার একধরণের গুই ব্যবহার করেন জেলেরা। এসব গুই দিয়ে ছোট মাছ শিকার করা হয়। হাওরের অনেক জায়গায় অপ্রয়োজনীয় গুই ও কারেন্ট জাল পরিত্যক্ত রাখা। এগুলোর কোনো মালিক নেই। এই পরিত্যক্ত কারেন্ট জালে লেগে মাছ মরতেও দেখা গেছে।

পরিবেশ ও হাওর উন্নয়ন সংস্থা এবং স্থানীয়রা জানান,‘গোলাবাড়ি গ্রামের উত্তর দিকে টাঙ্গুয়ার হাওরের গভীর এলাকা হওয়ায় পর্যটকদের নৌকা প্রবেশ নিষেধ। অতিথি পাখি ও হাওরের সৌন্দর্য্য দেখার জন্য আলাদা ছোট নৌকা করে যেতে হয় পর্যটকদের। এসব গভীর এলাকায় পানির নিচে অসংখ্য কারেন্ট জাল পাতা রয়েছে। হাতিরগাঁতা, রউয়া, লেচ্ছচুয়া মারা, ছডাইন্না, বেরবেরিয়া, নোয়াল, কাজ্জুয়াউরির মতো বড় বড় বিলেও রয়েছে কারেন্ট জাল। পুরানো অনেক কারেন্ট জালে মাছ লেগে পচা শুরু হয়েছে। হাওরে এসব অবৈধভাবে কারেন্ট জাল দিয়ে মাছ শিকার করছে জেলেরা।’

পরিবেশ ও হাওর উন্নয়ন সংস্থা এবং স্থানীয়রা অভিযোগ করে জানান,‘রামসার প্রকল্পভুক্ত টাঙ্গুয়ার হাওরের ব্যবস্থাপনা জেলা প্রশাসনের তদারকি চলছে। কিন্তু হাওরের দায়িত্বে থাকা নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেটকে বহনকারী নৌকার মাঝি ও নিরাপত্তার দায়িত্বে থাকা আনসার সদস্যদেরকে সপ্তাহিক টাকার বিনিময়ে প্রতি রাতেই চলে অবৈধভাবে মাছ ও অতিথি পাখি শিকার।’

সূত্র বলছে, নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট হাওরে অভিযানে যাবার আগেই আনসার ও নৌকার মাঝিরাই মুঠোফোনে সংকেত পাঠিয়ে দিলে জেলেরা ও শিকারিরা বন ঝোপঝাড়ে কিছুক্ষণ আত্মগোপন করে থাকার পর ম্যাজিস্ট্রেট ফিরে আসার সাথে সাথেই শুরু হয় তাদের কর্মযজ্ঞ। xxx

মাঝে মধ্যে দু’একজন মাছ ও পাখি শিকারী ধরা পড়লে কিছু জাল, নৌকা ও পাখি আটকের পর ভ্রাম্যমাণ আদালতের মাধ্যমে লঘুদণ্ড ও জরিমানা আদায় করা হয়। কিন্তু কোনোভাবেই রোধ করা যাচ্ছে না মাছ ও পাখি শিকার। এভাবে চলতে থাকলে অনেক প্রজাতির মাছ ও পাখি আগামি চার-পাঁচ বছর পর বিলুপ্ত হয়ে যাবে বলে মনে করছেন স্থানীয়রা।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক জেলেরা ও হাওর পাড়ের একাধিক বাসিন্দা জানান, ‘নৌকার মাঝি ও আনসার সদস্যদের টাকা দিয়ে ম্যানেজ করে রাতের আধাঁরে মাছ ও পাখি শিকার করা হয়। এতে প্রতি সপ্তাহে নির্দিষ্ট পরিমাণে অর্থ পেয়ে থাকেন তারা। রাতে চুরি করে পাখি ও মাছ শিকারের ফলে হাওরের জলমহালই এখন মাছ ও পাখি শুন্য হয়ে পড়ছে।’

উত্তর শ্রীপুর ইউনিয়নের জয়পুর গ্রামের বাসিন্দা মো. ফয়জুল ইসলাম বলেন,‘জয়নাল সাবের আমলে টাঙ্গুয়ার হাওরে মাছে ভরপুর ছিল। এখন মাছ কমে গেছে। কাগজে কলমে মাছ ধরা নিষেধ হলেও অবাধে মাছ শিকার হচ্ছে। আনসার সদস্যরা এসব দেখেও না দেখার ভান করছেন। তাদেরকে ম্যানেজ করে হাওরে অবাধে মাছ শিকার করা হয়।’

গোলাবাড়ী গ্রামের বাসিন্দা ডালিম আহমদ বলেন,‘দিন-দুপুরে হাওরে মাছ

সংবাদটি শেয়ার করুন

এ জাতীয় আরো সংবাদ