1. nafiz.hridoy285@gmail.com : Hridoy Fx : Hridoy Fx
  2. miahraju135@gmail.com : MD Raju : MD Raju
  3. koranginews24@gmail.com : সম্পাদক : সম্পাদক
২০৩০ সালের মধ্যে পঞ্চাশ লক্ষ স্কাউট তৈরীর লক্ষ্যমাত্রা বাস্তবায়নে চ্যালেঞ্জ ও করণীয় - করাঙ্গীনিউজ
  • Youtube
  • English Version
  • মঙ্গলবার, ৩১ জানুয়ারী ২০২৩, ০৭:২৮ অপরাহ্ন

করাঙ্গী নিউজ
স্বাগতম করাঙ্গী নিউজ নিউজপোর্টালে। ১৪ বছর ধরে সফলতার সাথে নিরপেক্ষ সংবাদ পরিবেশন করে আসছে করাঙ্গী নিউজ। দেশ বিদেশের সব খবর পেতে সাথে থাকুন আমাদের। বিজ্ঞাপন দেয়ার জন‌্য যোগাযোগ করুন ০১৮৫৫৫০৭২৩৪ নাম্বারে।

২০৩০ সালের মধ্যে পঞ্চাশ লক্ষ স্কাউট তৈরীর লক্ষ্যমাত্রা বাস্তবায়নে চ্যালেঞ্জ ও করণীয়

  • সংবাদ প্রকাশের সময়: মঙ্গলবার, ২৯ নভেম্বর, ২০২২

মোহাম্মদ জাহির মিয়া তালুকদার: স্কাউট আন্দোলন সারা বিশ্বে প্রায় শত বছরের বেশী সময় ধরে সৎ, যোগ্য, দক্ষ ও দেশপ্রেমিক নাগরিক গড়ে তোলার জন্য কাজ করে যাচ্ছে । রবার্ট স্টিফেনসন স্মিথ লর্ড ব্যাডেন পাওয়েল অব গিলওয়েল – যাকে সারা বিশ্ব বিপি বা ব্যাডেন পাওয়েল নামে জানে- ১৯০৭ সালে পরীক্ষামূলকভাবে স্কাউট আন্দোলন শুরু করেছিলেন, যা আজকে সারা বিশ্বের ১৭২টি দেশে বিশাল মহিরুহের মত প্রভাব বিস্তার করে যাচ্ছে । স্কাউট আইন , প্রতিজ্ঞা ও মটোকে সামনে রেখে জীবন পরিচালনা করতে পারলেএকটি দেশের সকল পর্যায়ে এর প্রভাব লক্ষ্য করা যাবে ।

বাংলাদেশ স্কাউটস এর হিসাব মতো দেশে প্রায় বাইশ লক্ষ স্কাউট আছে । স্কাউট আন্দোলন পরিচালনা করতে হলে ইউনিট বা দল একটি গুরুপূর্ণ বিষয় । দুই ধরনের স্কাউট দলের মাধ্যমে স্কাউট আন্দোলন চলমান রয়েছে । মুক্ত দল ও নিয়ন্ত্রিত দল । কোন সংস্থা বা শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের অধীনে ইউনিট খোলে স্কাউট আন্দোলন করা হয় যা উক্ত প্রতিষ্ঠান এ দলটিকে নিয়ন্ত্রণ করে থাকে । আবার যে কোন এলাকায় স্কাউটদের নিয়ে সম্পূর্ণ স্বধীনভাবে দলগঠন করে স্কাউট আন্দোলন পরিচালনা করা হয়ে থাকে । মুক্ত এবং নিয়ন্ত্রিত দল উপজেলা স্কাউটস এর নিয়ন্ত্রণে থাকে । তার মানে হচ্ছে, মুক্তদল মুক্ত বা স্বাধীন হলেও তাকে উপজেলা স্কাউটসের অধীনেই স্কাউট আন্দোলন করতে হয় ।

বাংলাদেশ স্কাউটস দেশে স্কাউটদের সংখ্যা ও গুণগতমান বৃদ্ধির লক্ষ্যে কাজ করে যাচ্ছে । ২০৩০ সালে পঞ্চাশ লক্ষ স্কাউট তৈরী করার লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করছে । এটা নিঃসন্দেহে একটা ভাল দিক । পঞ্চাশ লক্ষ স্কাউট তৈরীর অর্থ হলো দেশের বিশাল একটা কর্মক্ষম লোক ইতিবাচক চিন্তা চেতনা নিয়ে দেশ গড়ার কাজে আত্মনিয়োগ করবে ।

স্কাউট আন্দোলনের নীতি আদর্শকে ধারণ করার অর্থ হলো, একজন লোক স্রষ্টার প্রতি এবং দেশের প্রতি কর্তব্য পালন করবে , অন্যের উপকার করবে এবং আত্ম উন্নয়নের ফসলকে সমাজ ও দেশের কাজে প্রয়োগ করে দেশ কে দেশের মানুষকে এবং নিজেকে সমৃদ্ধ উন্নত এবং ইতিবাচক ভাবধারার পর্যায়ে উন্নীত করবে।

পঞ্চাশ লক্ষ স্কাউট রেডি করতে হলে আমাদের কিছু বিষয়ের উপর নজর দেয়া দরকার ।

নিয়ন্ত্রিত দলের ক্ষেত্রে প্রতি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে দুটি করে পুর্ণাঙ্গ কাব স্কাউট/ স্কাউট/রোভার স্কাউট ইউনিট গঠন করার সরকারি সিদ্ধান্ত বাস্তবায়ন করতে হবে । কোন কোন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে দুইটা ষষ্ঠক /উপদল নিয়ে ইউনিট পরিচালনা করা হচ্ছে যেখানে অন্তত চারটি ইউনিট গঠন করার মতো সামর্থ বা স্কাউট রয়েছে সেখানে পুর্নাঙ্গ কাব স্কাউট/ স্কাউট/ রোভার স্কাউট ইউনিট গঠন করা নিশ্চিত করতে হবে ।

স্কাউট ইউনিট লিডারের সংকট নিরসণের জন্য বেসিক কোর্স আয়োজন করতে হবে প্রয়োজন অনুসারে। শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে জনবল নিয়োগের পরপরই বুনিয়াদি প্রশিক্ষণ দেয়া হয় । সেখানে স্কাউট ইউনিট লিডার বেসিক কোর্সকে যুক্ত করে দিলে একই সাথে সকল শিক্ষক প্রশিক্ষণপ্রাপ্ত ইউনিট লিডার তৈরী করা হয়ে যাবে । এর জন্য দেশের সকল পিটিআই, নায়েম এবং নেক্টারকে কাজে লাগানো যেতে পারে । পিটিআই এ ডিপিএড কোর্সের সাথে , নায়েমে বুনিয়াদি প্রশিক্ষণের সাথে এবং নেক্টারের বিভিন্ন কোর্সের সাথে স্কাউট ইউনিট লিডা ওরিয়েন্টেশন ও বেসিক কোর্স সম্পন্ন করার ব্যবস্থা করলে দক্ষ যোগ্য ইউনিট লিডারের সংকট নিরসন হবে বলে আশা করা যায় ।

স্কাউট আন্দোলন বয়স্কনেতা নির্ভর একটি শিক্ষামূলক অরাজনৈতিক আন্দোলন । তাই যত বেশী বয়স্ক নেতা তৈরী করা যাবে তত বেশী আন্দোলন জোরদার করা সম্ভব হবে । গঠন ও নিয়মে স্পষ্ট বলা আছে যে, একটা ইউনিটের প্রথম দুইটি ষষ্ঠক/ উপদলের জন্য একজন বয়স্কনেতা দরকার । এরপর প্রতি ষষ্ঠক/ উপদলের জন্য অতিরিক্ত আরো একজন করে বয়স্ক নেতা প্রয়োজন । তাই একটা পুর্ণাঙ্গ ইউনিটে তিন জন বয়স্ক নেতা কাজ করতে পারবেন । সে হিসেবে দুইটি ইউনিটে ছয়জন করে বয়স্ক নেতা তৈরী করা দরকার । সেদিক বিবেচনা করে সকল শিক্ষককে বয়স্কনেতা কোর্স সম্পন্ন করানো অত্যন্ত সময়োপযোগী বলে মনে হচ্ছে ।

বয়স্ক নেতাদের চাঙ্গা করার জন্য নিয়মিত বিরতিতে বয়স্ক নেতা রিফ্রেশার্স কোর্স আয়োজন করা প্রয়োজন ।এতে করে ইউনিট পরিচালনার ক্ষেত্রে তারা নিজেদের অর্জিত জ্ঞানকে আরো বেশী শান দিতে পারবেন যা মানসম্পন্ন স্কাউট গড়ে তোলায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করতে পারে ।

দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনার অংশ হিসেবে যোগ্য বষয়স্ক নেতা পাওয়ার লক্ষ্যে আজকে যারা স্কাউট আছে তাদেরকে ষষ্ঠক নেতা /উপদল নেতা/ মেট কোর্স করার সুযোগ করে দিতে হবে । এতে করে স্কাউট আন্দোলনের ভিত আরো বেশী মজবুত হবে । এই স্কাউটরা যখন বয়স্ক নেতার পর্যায়ে উপনিত হবে তখন মানসম্পন্ন স্কাউটার এর মাধ্যমে মানসম্পন্ন স্কাউট তৈরীর কাজটি আরো বেশী তরান্বিত হবে।

গ্রুপ রেজিস্ট্রেশনের ক্ষেত্রে গতি আনয়ন করা একটা গুরুত্বপূর্ণ বিষয় । স্কাউটের সংখ্যা বাড়াতে হলে স্কাউট আন্দোলনকে সম্প্রসারণ ঘটাতে হবে। এরজন্য প্রয়োজন নতুন নতুন ইউনিট গঠন করে তা দ্রুততম সময়ের মধ্যে রেজিস্ট্রেশ করা এবং অঞ্চলের চার্টারভুক্ত করা ।

কোন কোন ক্ষেত্রে দেখা যায় পছন্দ অপছন্দের উপর ভিত্তি করে রেজিষ্ট্রেশন করা না করার বিষয়টি ঝুলিয়ে রাখা হয় । এ ক্ষেত্রে একটা ইউনিট স্কাউট আন্দোলন জোরদার করার যেমন বিধিবদ্ধভিত্তি থেকে বঞ্চিত হয় তেমনি স্কাউট আন্দোলন ও বাধাগ্রস্থ হয় । এজন্য উপজেলা ও জেলা স্কাউটস এর কাজে নিরপেক্ষতা ও গতিশীলতা আনয়ন করা খুবই জরুরী । তা না হলে স্কাউট আরন্দোলন আতুর ঘরে নবজাতককে হত্যাকরার মতই ঠোঁটি চেপে ধরা হবে । এ বিষয়ে বাংলাদেশ স্কাউটস গতি সঞ্চার করার জন্য এবং নিরপেক্ষতা বজায় রাখার জন্য মনিটরিং জোরদার করতে পারে ।

শিক্ষা প্রশাসন বা ব্যবস্থাপনায় যারা কাজ করেন তাদেরকে এ আন্দোলনে সম্পৃক্ত করার উদ্যোগ গ্রহণ করা খুবই জরুরী। বিশেষ করে তাদের সকলকে বেসিক কোর্স করার সুযোগ করে দিলে মনিটরিং আরো বেশী জোরদার হবে বলে মনে করছি । একজন প্রশিক্ষণবিহীন লোকের পক্ষে নিশ্চয়ই স্কাউট আন্দোলনের সব কটা দিক দেখভাল করাটা খুব বেশী প্রত্যাশিত হবে না। তবে, প্রশিক্ষণ গ্রহণ করে শিক্ষা প্রতিষ্ঠান মনিটরিং করতে গেলে স্কাউট আন্দোলকে দাপ্তরিক কাজের সাথে যুগপৎ চালিয়ে নেয়া খুবই সহজ হবে বলে মনে হয় ।
সরকার যেখানে স্কাউট আন্দোলনের জন্য টাকা খরচ করছে, সেখানে সরকারের অঙ্গ প্রতিষ্ঠানে যারা আছেন তাদের সম্পৃক্ততা না থাকলে টাকা খরচ হবে ঠিকই কিন্তু কাজের কাজ খুব একটা হবে না । কারণ , নিয়ন্ত্রণকারী কর্তৃপক্ষ যতটুকু কাজ আদায় করতে পারবে স্বেচ্ছাসেবীদের দ্বারা সে পরিমাণ কাজ আদায় করা অর্থাৎ স্কাউট আন্দোলনে গতি বৃদ্ধি করা ততটুকু সম্ভব হবে না । তাই , ইউনিট, উপজেলা এবং জেলার কার্যক্রমকে জোরদার ও সহযোগিতা করার ক্ষেত্রে শিক্ষা ব্যবস্থাপনার সকল পর্যায়ের লোকদেরকে আরো বেশী সম্পৃক্ত করতে হবে ।
যদিও উপজেলা এবং জেলা স্কাউটস এ শিক্ষা বিভাগীয় কর্মকর্তাগণকে সম্পৃক্ত করা আছে কিন্তু প্রশিক্ষণ থাকালে তারা এ সম্পর্কে ভাল ভূমিকা রাখতে পারবেন । তেমনি ভাবে, জেলা এবং উপজেলা পর্যায়ে আরো যারা আছেন যেমন সহকারী জেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসার, সহকারী মনিটরিং অফিসার, ইউআরসি ইন্সট্রাক্টর, সহকারী উপজেলা শিক্ষা অফিসার, সহকারী ইন্সট্রাক্টর এবং পিটিআই এ কর্মরত সুপারিনটেনডেন্ট, সহকারী সুপারিনটেনডেন্টে এবং পিটিআই ইন্সট্রাক্টর কে প্রশিক্ষণের আওতায় নিয়ে আসলে মনিটরিং এর মাধ্যমে স্কাউট আন্দোলনে আরো বেশী গতির সঞ্চার হতো । আগামী ২০৩০ সালের মধ্যে পঞ্চাশ লক্ষ স্কাউট তৈরী করা সম্ভব হবে বলে মনে করছি ।
তবে, স্কাউট আন্দোলন কে আরো বেশী বেগবান করতে হলে প্রচার প্রচারণার ব্যবস্থা করাটা খুব জরুরী । বাংলাদেশ স্কাউটস এর পিআরএম বিভাগ এ কাজটা করে থাকে । প্রচারণার কাজে বিভিন্ন মিডিয়াকে খুব বেশী সম্পৃক্ত করার সুযোগ রয়েছে । সোশাল মিডিয়া একটা শক্তিশালী মাধ্যম । এখানে স্কাউটিং এর সকল কর্মকান্ড প্রকাশ করার ব্যবস্থা করলে সাধারণ মানুষের কাছে পৌঁছানোটা খুব সহজ হতো । বাংলাদেশ স্কাউটস অফিসিয়াল পেইজ তৈরী করে এ কাজটি করে যাচ্ছে । সমান তালে উপজেলা স্কাউটস ও জেলা স্কাউটস এর ফেইসবুক পেইজ গুলো সচল থাকলে প্রচারণার কাজটি আরো বেশী সহজ হবে। প্রচারণার মাধ্যমে স্কাউট আন্দোলনের ইতিবাচক দিক সম্পর্কে তোলে ধরে জনসচেতনতা বৃদ্ধি করে স্কাউটিং এ আকৃষ্ট করা যাবে এবং এরই মাধ্যমে স্কাউটের সংখ্যা বৃদ্ধি পাওয়ার সাথে সাথে স্কাউট আন্দোলন ও আরো বেশী জোরদার হবে বলে প্রত্যাশা করা যায় ।

লেখক: উডব্যাজার ( কাব ও স্কাউট শাখা)
ইন্সট্রাক্টর, উপজেলা রিসোর্স সেন্টার, হবিগঞ্জ সদর, হবিগঞ্জ।

সংবাদটি শেয়ার করুন

এ জাতীয় আরো সংবাদ
x