1. nafiz.hridoy285@gmail.com : Hridoy Fx : Hridoy Fx
  2. miahraju135@gmail.com : MD Raju : MD Raju
  3. koranginews24@gmail.com : সম্পাদক : সম্পাদক
হবিগঞ্জ কি দুর্গন্ধের শহরে পরিণত হতে যাচ্ছে! - করাঙ্গীনিউজ
  • Youtube
  • English Version
  • মঙ্গলবার, ২৮ জুন ২০২২, ০৮:৫৯ পূর্বাহ্ন

করাঙ্গী নিউজ
স্বাগতম করাঙ্গী নিউজ নিউজপোর্টালে। ১৩ বছর ধরে সফলতার সাথে নিরপেক্ষ সংবাদ পরিবেশন করে আসছে করাঙ্গী নিউজ। দেশ বিদেশের সব খবর পেতে সাথে থাকুন আমাদের। বিজ্ঞাপন দেয়ার জন‌্য যোগাযোগ করুন ০১৮৫৫৫০৭২৩৪ নাম্বারে।

হবিগঞ্জ কি দুর্গন্ধের শহরে পরিণত হতে যাচ্ছে!

  • সংবাদ প্রকাশের সময়: বুধবার, ৬ এপ্রিল, ২০২২

জাহির মিয়া:  হবিগঞ্জ জেলা শহর হিসেবে চমৎকার একটা জায়গা । হাওরের কূল ঘেঁষে সমতলের পাশে দাঁড়িয়ে আছে হবিগঞ্জ শহরটি। শরীসৃপের মত এঁকেবেঁকে শহরের উত্তর পাশ দিয়ে বয়ে গেছে খোয়াই নদী । নদীর উজান অঞ্চলে বৃষ্টি হলে কানায় কানায় নদীটি পূর্ণ হয়ে ওঠে । আবার চারদিকে প্রচন্ড রোদ্দুর আর শুষ্ক পরিবেশ থাকলে খোয়াই একেবারে নেতিয়ে পড়ে বালুময় তীরে , দেখে মনে হবে নদী যেন একেবারে মরে গেছে । এ এক জোয়ার ভাটার খেলা বলা যায় ।
শহরের প্রায় মাঝামাঝি দক্ষিণ দিকের এলাকা অনেকটা ভিআইপি এলাকা বলা চলে। জেলা প্রশাসকের কার্যালয় এবং সরকারী বৃন্দাবন কলেজ , চীফ জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট এর কার্যালয়, জজকোর্টসহ গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনাগুলো এদিকেই পড়েছে ।
সবধরনের সভা সমাবেশ করার জন্য অডিটরিয়ামগুলোও এই এলাকাকে যথেষ্ট সমৃদ্ধি এনে দিয়েছে । হবিগঞ্জ শহরের গর্ব আধুনিক স্টেডিয়াম যা প্রতিদিন যুবকদের পদভারে মুখরিত থাকে । ফুটবল ক্রিকেট খেলা প্রতিদিন চলতে থাকে । তার বিপরীতপাশে রয়েছে আনসার একাডেমী ।
এত এত সুন্দর এবং গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনা যেখানে রয়েছে তার পাশেই বিশাল ময়লা আবর্জনার স্তুপ সব কিছুকে ম্লান করে দিচ্ছে ।
রাজনগর এলাকায় যারা বসবাস করছেন তারা সকাল শুরু করেন আবর্জনার স্তুপ থেকে আসা বিশ্রী দুর্গন্ধ নাকে লাগিয়ে , আবার দুর্গন্ধযুক্ত বাতাসে নিঃশ্বাস নিয়ে রাতে ঘুমাতে যান। আজকাল কিছু অট্টালিকা গড়ে উঠছে রাজনগর এলাকায় । অট্টালিকার ছাদের উপর বিশুদ্ধ বাতাসে নিঃশ্বাস নেয়ার জন্য গেলে ময়লা আবর্জনার পুড়া-গন্ধের সাথে বিশ্রী স্বাদের ধোঁয়া জীবনটাকে প্রতিনিয়ত বিষিয়ে তোলছে ।
স্টেডিয়ামের ঠিক উল্টা পাশে সড়কের পূর্ব পাশে পুরো হবিগঞ্জ শহরের ময়লা আবর্জনা রাখা হয় স্তুপ করে । ময়লা আবর্জনাকে নিয়ন্ত্রণ করার জন্য আবার আগুন জ্বেলে দেয়া হয় । এতে দুর্গন্ধ তো নিবৃত হয়ইনা , বরং আগুনের মাধ্যমে ধোঁয়ার সৃষ্টি হয়ে বাতাসে কার্বন মনোস্কাইডের মাত্রা বাড়িয়ে দেয়া হচ্ছে । পুরো এলাকাটা আবর্জনার দুর্গন্ধে বসবাসের প্রায় অযোগ্য হয়ে পড়েছে ।
ময়লা ফেলার কি আর কোন জায়গা নির্ধারণ করা গেলনা ? একেবারে জনবসতির নাকের ডগায় ই রাখতে হলো ?
যদি কোন ধরনের আন্তর্জাতি বা জাতীয় পর্যায়ের কোন ফুটবল বা ক্রিকেট টুর্নামেন্ট এর আয়োজন করা হয় আধুনিক স্টেডিয়ামে আর বিদেশী দর্শক এখানে একবার আসেন, তাহলে হবিগঞ্জ এর বর্জ ব্যবস্থাপনা সম্পর্কে নিশ্চয়ই কোন ধরনের ইতিবাচক ধারণা পোষণ করার কথা না ।
শহরবাসী তো পৌর কর দিয়ে যাচ্ছেন নাকের ডগায় সকাল বিকাল দুর্গন্ধ লাগানোর জন্য ? বর্জ ব্যবস্থাপনার জন্য একটু কি নজর দেয়া যায় না ?
এ বর্জ স্তুপ করে রাস্তার পাশে না রেখে তা থেকে জৈবসার উৎপাদনের কোন উপায় বের করা যায় কিনা সেটা ভেবে দেখার সময় এখনি ।
দরকার হলে উন্নত দেশ গুলো কীভাবে বর্জ ব্যবস্থাপনা করে সেটাও অনুসরণ করা যেতে পারে ।
তা হলে হবিগঞ্জবাসী কার্বন মনোক্সাইডসমৃদ্ধ ধোঁয়া এবং রোগ জীবাণুর আখড়া ময়লা আবর্জনার স্তুপ যা দুর্গন্ধের ফ্যাক্টেরী ও বলা চলে , এর খারাপ প্রভাব থেকে বাঁচতে পারে বলে মনে করছি ।

সংবাদটি শেয়ার করুন

এ জাতীয় আরো সংবাদ
x