1. nafiz.hridoy285@gmail.com : Hridoy Fx : Hridoy Fx
  2. miahraju135@gmail.com : MD Raju : MD Raju
  3. koranginews24@gmail.com : সম্পাদক : সম্পাদক
না ফেরার দেশে শেকড় সন্ধানী লেখক সৈয়দ আব্দুল্লাহ - করাঙ্গীনিউজ
করাঙ্গী নিউজ
স্বাগতম করাঙ্গী নিউজ নিউজপোর্টালে। ১৩ বছর ধরে সফলতার সাথে নিরপেক্ষ সংবাদ পরিবেশন করে আসছে করাঙ্গী নিউজ। দেশ বিদেশের সব খবর পেতে সাথে থাকুন আমাদের। বিজ্ঞাপন দেয়ার জন‌্য যোগাযোগ করুন ০১৮৫৫৫০৭২৩৪ নাম্বারে।

না ফেরার দেশে শেকড় সন্ধানী লেখক সৈয়দ আব্দুল্লাহ

  • সংবাদ প্রকাশের সময়: শনিবার, ২ এপ্রিল, ২০২২

পংকজ কান্তি গোপ টিটু:
শেকড় সন্ধানী লেখক, শিক্ষক ও সাংবাদিক সৈয়দ আব্দুল্লাহ স্যার আর নেই। তিনি শনিবার ভোর ৩.২০মিনিটে ঢাকায় ইন্তেকাল করেন।

সৈয়দ আব্দুল্লাহ হবিগঞ্জের বাহুবল উপজেলার উত্তরসুর গ্রামের বিখ্যাত সৈয়দ পরিবারে জন্মগ্রহণ করেন। বহু ভাষাবিদ পণ্ডিত সৈয়দ মুজতবা আলীর পৈতৃক নিবাসও এই উত্তরসুর গ্রামে। সৈয়দ আব্দুল্লাহ ছিলেন একজন নিভৃতচারী লেখক। সরকারি চাকুরী থেকে স্বেচ্ছায় অবসর নিয়ে অর্জিত টাকা দিয়ে বই ছাপিয়েছেন। ভাবা যায়!

সৈয়দ আব্দুল্লাহ স্যার দীর্ঘদিন সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে শিক্ষকতা করেছেন। আমার বাবা-মা দুজনই সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষক ছিলেন এবং আমার মা-বাবা দুজনেরই সহকর্মী ছিলেন তিনি। যে কারণে আব্দুল্লাহ স্যারের সাথে ছিল আমাদের আত্মিক সম্পর্ক। আমার বাবা করিমপুর সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক থাকাকালীন ওই স্কুল থেকেই আব্দুল্লাহ স্যার পেনশনে যান। লিচুর মৌসুমে উদগ্রীব হয়ে থাকতাম, কখন বাবা উত্তরসুর সৈয়দ বাড়ির সুমিষ্ট লিচু নিয়ে আসবেন। এভাবেই দুই পরিবারের ভালোবাসা বিনিময় হতো। স্যারের কাছে আমি ছিলাম পুত্রসম। সৈয়দ আব্দুল্লাহ স্যার উনার প্রকাশিত একাধিক বইয়ে আমার মা-বাবার কথা উল্লেখ করেছেন।

আব্দুল্লাহ স্যার মুলত ইতিহাস-ঐতিহ্য নিয়েই বেশী লিখেছেন। উনার প্রকাশিত উল্লেখযোগ্য গ্রন্থগুলো হলো- গবেষণার আলোকে তরফ বিজয়, মুসলিম মনীষা, সিলেটে বঙ্গবন্ধু ইত্যাদি। তিনি নিজ বাড়িতে প্রতিষ্ঠিত করেছেন একটি সমৃদ্ধ লাইব্রেরি। আমি এত সমৃদ্ধ পারিবারিক লাইব্রেরি দ্বিতীয়টি দেখিনি। অনেক সময় বহু গবেষক ও গুণীজন এই লাইব্রেরি দেখতে এসেছেন । মফস্বল এলাকায় বসবাস করেও তিনি প্রতিষ্ঠা করেছেন ‘তরফ সাহিত্য পরিষদ’ নামে একটি অন্যতম সাহিত্য সংগঠন। স্যার আমৃত্যু ওই সংগঠনের সভাপতি ছিলেন।

কালের আবর্তে ‘বাহুবল একুশে বইমেলা’য় স্থবিরতা দেখা দিলেও একসময় এর পরিচিতি ছিল দেশব্যাপী। এ বইমেলার তিনি ছিলেন অন্যতম স্বপ্নদ্রষ্টা। বাহুবল প্রেসক্লাবের নেতৃত্বে ছিলেন দীর্ঘদিন।

এতো কর্মঠ, পরিশ্রমী মানুষটি শেষ পর্যন্ত ক্যান্সারের কাছে পরাজিত হলেন। চরম অসুস্থতার সময়ও তিনি দেশকে নিয়ে ভাবতেন, সাহিত্য নিয়ে ভাবতেন। আমার এখনও মনে আছে দুবছর আগের কথা। তখন দুর্গা পুজো চলছে। আমার পাড়ায় পুজো। তাই ব্যস্ততাও বেশী। সন্ধ্যায় শাহীন ভাই (বাহুবল কলেজের অধ্যক্ষ) ফোন করে বললেন, আব্দুল্লাহ স্যার ঢাকা থেকে এসেছেন, দেখিতে যাবো কিনা। রাজি হয়ে গেলাম। আমি, তৎকালীন ইউএনও আয়েশা স্যার, ওসি সাহেব ও শাহীন ভাই স্যারকে দেখতে গেলাম।
আব্দুল্লাহ স্যারের বই, পুরাকীর্তির সংগ্রহ দেখে তো অতিথিবৃন্দ হতবাক! অনেকক্ষণ সাহিত্য নিয়ে কথা হলো। কিছু আশ্বাস দেয়া হলো স্যারকে! তখন স্যারের চিকিৎসার জন্য খুব টাকার দরকার ছিল। কিন্তু আশ্বাস গুলোর বাস্তবায়ন তিনি দেখে যেতে পারলেন না।

আব্দুল্লাহ স্যারের মতো মানুষরা এমনই হন। উনারা ইচ্ছে করেই কষ্টগুলোকে বরণ করেন মনের মাধুরি মিশিয়ে। না হলে, কেউ পেনশনের টাকায় বই ছাপান?
আব্দুল্লাহ স্যারের শেষ সময়ের দিনগুলো খুব কষ্টে কেটেছে। ঢাকায় থেকে ক্যান্সারের মতো ব্যয়বহুল চিকিৎসা করানো সত্যি কষ্টসাধ্য। স্যার প্রায়ই বিছানায় শুয়ে ফোন দিতেন। আমার মা-বাবার খবর নিতেন। তখন স্যারের দীর্ঘশ্বাস আমি মর্মে মর্মে উপলব্ধি করেছি! তবে স্যারের একমাত্র ছেলে অনুজ প্রতিম সৈয়দ আনোয়ার আব্দুল্লাহ স্যারের সেবাশুশ্রূষার দ্রুটি রাখনি; এটি ভেবে খুব শান্তি পাই।

দেখা হলেই স্যার ওনার প্রতিষ্ঠিত লাইব্রেরি নিয়ে বেশ দুঃশ্চিন্তা করতেন। এতো বই তিনি কি করবেন। তিনি চেয়েছিলেন একটি সুন্দর লাইব্রেরি ও গবেষণাগার প্রতিষ্ঠিত হোক উনার বাড়িতে। কি ছোট্ট চাহিদা!
স্যার আরেকটি জিনিস চেয়েছিলেন। তিনি বহু ভাষাবিদ পণ্ডিত, রম্য লেখক সৈয়দ মুজতবা আলীকে প্রতিষ্ঠিত করতে চেয়েছিলেন মনেপ্রাণে।

স্যার নেই মানে, বাহুবল তথা হবিগঞ্জের সাহিত্য-সংস্কৃতিপ্রেমীরা একজন অভিভাবককে হারালো ।
এ বড়ো কষ্টের, এ বড়ো বেদনার!
স্যারের ছাত্র কিংবা ছাত্রসমরা আজ দেশ-বিদেশে প্রতিষ্ঠিত।
সবাই উদ্যোগী হলে আমরা স্যারকে বাচিঁয়ে রাখতে পারি প্রজন্মের কাছে।
স্যারের জীবনের শেষ ইচ্ছেগুলো পূরণ হোক, আজকের দিনে এটিই প্রত্যশা।
পরিশেষে স্যারের আত্মার শান্তি কামনা করছি এবং শোকসন্তপ্ত পরিবারের প্রতি গভীর সমবেদনা জানাচ্ছি।

লেখক:
সংস্কৃতিকর্মী ও
সহকারী শিক্ষক, পুটিজুরী এস.সি.উচ্চ বিদ্যালয়
বাহুবল, হবিগঞ্জ।

সংবাদটি শেয়ার করুন

এ জাতীয় আরো সংবাদ
x