1. nafiz.hridoy285@gmail.com : Hridoy Fx : Hridoy Fx
  2. miahraju135@gmail.com : MD Raju : MD Raju
  3. koranginews24@gmail.com : সম্পাদক : সম্পাদক
একজন শিক্ষক মোমবাতির মত, নিজেকে জ্বালিয়ে অন্যকে আলোকিত করেন - করাঙ্গীনিউজ
  • Youtube
  • English Version
  • রবিবার, ২৪ অক্টোবর ২০২১, ০২:৫৯ পূর্বাহ্ন

করাঙ্গী নিউজ
স্বাগতম করাঙ্গী নিউজ নিউজপোর্টালে। ১২ বছর ধরে সফলতার সাথে নিরপেক্ষ সংবাদ পরিবেশন করে আসছে করাঙ্গী নিউজ। দেশ বিদেশের সব খবর পেতে সাথে থাকুন আমাদের। বিজ্ঞাপন দেয়ার জন‌্য যোগাযোগ করুন ০১৮৫৫৫০৭২৩৪ নাম্বারে।

একজন শিক্ষক মোমবাতির মত, নিজেকে জ্বালিয়ে অন্যকে আলোকিত করেন

  • সংবাদ প্রকাশের সময়: মঙ্গলবার, ৫ অক্টোবর, ২০২১

নুরুল আমিন শাহজাহান: “পৌরাণিক সেই কাল থেকে উন্নত প্রযুক্তির এই প্রজন্মেও যে চরিত্রটি আজও সমান ভাবে প্রয়োজনীয়, তিনিই শিক্ষক। ”

‘জীবনের খেলো খাতায় হিসাব মিলানো সেই জটিল সমীকরণের নামই – শিক্ষক।’

বইয়ের মাঝে বিশ্বের বিখ্যাত ব্যাক্তিদের আত্মা লুকায়িত আছে। সেই লোকায়িত, সুপ্ত আত্মা থেকে নির্যাস আহরণ করে সেটা জগতে বিলিয়ে দেওয়ার গুরু দায়িত্ব কাঁধে নিয়েছেন শিক্ষকরা।

একজন শিক্ষক চক ও চ্যালেঞ্জের মাধ্যমে অসংখ্য জীবন বদলে দিতে পারেন। তাই, গ্রীক দার্শনিক এরিস্টটল বলেন- “একজন পিতা-মাতা সন্তান জন্ম দেন,আর একজন শিক্ষক দেন সুন্দর জীবন”
কাগজে-কলমে, লোকমুখে,বিশেষ প্রয়োজনে শিক্ষকতা মহান পেশা হিসেবে সংজ্ঞায়িত করা হলেও বাস্তবে সবচেয়ে অবহেলিত,, লাঞ্চিত-বঞ্চিত ও উপহাসের পেশা হিসেবে গণ্য করা হয়। অতচ একজন শিক্ষক মোমবাতির মত নিজেকে জ্বালিয়ে অন্যকে আলোকিত করছেন প্রতিনিয়ত। যাদের কাছে নিজেকে বিলিয়ে দিয়েছেন,উপহাসকারীদের মাঝে তারাই অন্যতম।
কিন্তু উন্নত বিশ্বে শিক্ষকের মর্যাদা ও সম্মান অনন্য। যেমন, মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে ভিআইপি মর্যাদা, কোরিয়ায় মন্ত্রীর মর্যাদা, ফ্রান্সের আদালতে শিক্ষকদের বসতে চেয়ার দেয়ার মত মর্যাদায় পর্যভূষিত করা হয়েছে।

অর্থের দিক থেকে গড়ে সুইজারল্যান্ডে ১লক্ষ ১০হাজার ডলার, লুক্সেকমবার্গে ১লক্ষ ডলার,কানাডায় ৭৪হাজার ডলার বেতন দেয়া হয়। সুক্ষদৃষ্টিতে লক্ষ্য করলে দেখা যায়, আমাদের দেশের শিক্ষক ও উন্নত বিশ্বের শিক্ষকের মাঝে আকাশ-পাতাল তফাৎ। কথায় আছে,”যেদেশে গুণী’র কদর নেই,সেদেশে গুণী জন্মায় না”।

যেদেশে শিক্ষকরা- তাদের সম্মান ও অধিকার আদায়ের জন্য আন্দোলন-অনশণ করতে গিয়েও বাধাগ্রস্ত হয়,খেয়ে না খেয়ে দপ্তরে দপ্তরে ধন্যা দিতে হয়,সেদেশে মহৎ লোক জন্ম নিবে কিভাবে?
ইতিহাসের দিকে লক্ষ্য করলে দেয়া যায়,একজন সক্রেটিস জন্মেছিলেন বলেই একজন প্লেটো জন্মছিলেন, একজন প্লেটো জন্মেছিলেন বলেই
একজন এরিস্টটল জন্মেছিলেন, একজন এরিস্টটল জন্মেছিলেন বলেই একজন আলেক্সান্ডারজন্মেছিলেন।

আর সেই আলেক্সান্ডার প্রাচীন গ্রীস থেকে ভারতের পাঞ্জাব পর্যন্ত জয় করে পৃথিবীতে একটা নতুন মাত্রা যোগ করে দিয়েছেন।তিনিই উল্লাস করেবলেছেন-“পিতা ফিলিপস্ আমাকে জন্ম দিয়েছেন আর উস্তাদ এরিস্টটল দিয়েছেন সুন্দর জীবন”।

জগতে যারা স্মরণীয়,বঁরণীয় তাঁরা সবাই একেকজন শিক্ষক ছিলেন। হযরত মোহাম্মদ (সঃ) ছিলেন একজন আদর্শ শিক্ষক, যিনি গোটাজাতিকে ধর্ম,আদর্শ, নৈতিকতা ও মহানুভবতার শিক্ষা দিয়ে গেছেন। অমনিভাবে মাওলানা জালাল উদ্দিন রুমি,শেখ শাদী, ইমাম বোখারী এবং যিশুখৃস্ট, গৌতমবুদ্ধ, শ্রীকৃষ্ণ, গুরু নানক, বেদব্যাস, শ্রী চৈতিন্য,পন্ডিত চার্ণক্য সহ অসংখ্য মনিষিরাই আধ্যাত্মিক শিক্ষক ছিলেন। এটা উপলদ্ধির মত জ্ঞানচক্ষু আমাদের কি আছে? শিক্ষকদের অবমাননা মানে অকপটে তাদেরকেই অবমাননার শামিল।

পক্ষান্তরে সামস-ই-তাবরিজের শিক্ষায় শিক্ষিত মাওলানা রুমি,মাওলানা রুমির শিক্ষায় শিক্ষিত ইবনুল আরাবির, আর ইবনুল আরাবির আদর্শে আদর্শিত উসমান গাজী। আর উসমানের হাত ধরেই উসমানি (অটোম্যান সাম্রাজ্য) সালতানাত আরবের এক যাযাবর জাতি কায়ী গোষ্টির “বে” থেকে ৫২লাখ বর্গকিলোমিটার মুসলিম ভুখন্ড প্রতিষ্টা করে ইসলামের বার্তা এশিয়া হতে আফ্রিকা হয়ে ইউরোপ পর্যন্ত পৌঁছাতে সক্ষম হয়েছেন। তিনি মুখ খুলে চিৎকার করে বলেছেন- “আমার সংগ্রাম,আমার প্রেরণা, আমার শক্তি, আমার জয়,আমার উস্তাদ ইবনুল আরাবী”।

আমাদের পার্শবর্তী হিন্দু অধ্যাসিত দেশ ভারত। ২৮টি প্রদেশ সংযুক্ত দেশটির প্রত্যকটি প্রদেশের ভাষা, সাহিত্য, সংস্কৃতি আলাদা আলাদা হলেও ভারত এক। ভারতকে ঐক্যবদ্ধ রাখার মুলেমন্ত্রে রয়েছে “এক ঈশ্বরবাদ”,কোন সরকার কিংবা সংবিধান নয়।

এই এক ঈশ্বরবাদের স্নপ্নদ্রষ্টা মহর্ষী কৃষ্ণ দৈপায়ণ বেদ ব্যাস। তিনিও ছিলেন একজন শিক্ষক (গুরু)। যিনি বেদ বিভক্ত সহ ১৮ খানা মহাপুরাণ রচনা করে সাম্য, নীতি, আদর্শসহ ইহজগৎ ও পরজগতের শিক্ষা দিয়া গেছেন। তীক্ষ্ণদৃষ্টিতে তাকালে দেখা যাবে, তাজমহল, গয়া কাশি ও হিমালয়ের উপর ভিত্তি করে ভারত দাঁড়িয়ে নয়, ভারত দাঁড়িয়ে আছে বেদ ব্যাসের এক ঈশ্বরবাদের মুলমন্ত্রের উপর।

শিক্ষক হচ্ছে একটা জাতির শেখর। যে জাতি তার শেখরের অস্থিত্ব ভুলে যায় সে জাতির কপালে দুর্দশা ছাড়া কিছুই জুটেনা। উন্নত বিশ্বে শেখরের মযার্দা আছে বলেই তারা উন্নত। আর তাই ওসব দেশেই জন্ম নিয়েছে সক্রেটিস,প্লেটো,জন লকের মত স্মরণীয়-বঁরণীয় ব্যাক্তিত্ব। অন্যদিকে শেখড়ের অবমাননার ফলেই জন্ম নেয় সাহেদ,পাপিয়া,সাবরিনা,সম্রাট ও ইন্সপেক্টর প্রদীপের মত কুলাঙ্গারেরা।

তাই বিশ্ব দরবারে মাথা উঁচু করে দাঁড়াতে জাতির ফাউন্ডেশন শিক্ষকদের অধিকার, চাহিদা, সম্মান অক্ষুন্ন রাখা অত্যাবশ্যক। তবেই আমরা পাব সুসংগঠিত জাতি এবং উন্নত বাংলাদেশ।

লেখক-
সহঃ শিক্ষক(আইসিটি)
মিরপুর দাখিল মাদরাসা,
বাহুবল, হবিগঞ্জ।

সংবাদটি শেয়ার করুন

এ জাতীয় আরো সংবাদ