1. nafiz.hridoy285@gmail.com : Hridoy Fx : Hridoy Fx
  2. miahraju135@gmail.com : MD Raju : MD Raju
  3. koranginews24@gmail.com : সম্পাদক : সম্পাদক
বৈচিত্রময় উৎসব কোরবানীর ঈদ - করাঙ্গীনিউজ
  • Youtube
  • English Version
  • বৃহস্পতিবার, ০৫ অগাস্ট ২০২১, ০৩:১৭ অপরাহ্ন

করাঙ্গী নিউজ
স্বাগতম করাঙ্গী নিউজ নিউজপোর্টালে। ১২ বছর ধরে সফলতার সাথে নিরপেক্ষ সংবাদ পরিবেশন করে আসছে করাঙ্গী নিউজ। দেশ বিদেশের সব খবর পেতে সাথে থাকুন আমাদের। বিজ্ঞাপন দেয়ার জন‌্য যোগাযোগ করুন ০১৮৫৫৫০৭২৩৪ নাম্বারে।

বৈচিত্রময় উৎসব কোরবানীর ঈদ

  • সংবাদ প্রকাশের সময়: মঙ্গলবার, ২০ জুলাই, ২০২১

কামরুল হাসান: কোরবানীর ঈদ শুরু হয় গরু কেনা দিয়ে। হাট থেকে গরু কিনে বাড়ি পর্যন্ত যেতে যেতে কমপক্ষে ৫০ জনকে ফিরিস্তি দিতে হয় গরুর দাম কত! গরু কেনার পর থেকে ঈদের দিন পর্যন্ত আগে খুব ভাল লাগত। ছোটবেলায় গরু জবাইয়ের সময় সামনেই থাকতাম। এখনো থাকি। শুধু থাকি বললে ভুল হবে, গরুকে মাটিতে শুয়াইয়ে দুই-চারজন মিলে ধরে রাখায়ও সহযোগিতা করি। ছোট বেলায় কোন অনুভূতি ছিল না। আর এখন বিষয়টা একটু নিষ্ঠুর মনে হয়। আসলে জবাই করা কোন সুখকর দৃশ্য হতে পারে না। তাই বলে মাংস খাওয়া বাদ দিলে চলবে কেন! বাজারের মাংস কেনার সময় আমরা কিন্তু জবাইয়ের দৃশ্যটা দেখি না! এমনকি আগে মুরগিও বাসায় এনে জবাই করা লাগত। এখন আর লাগে না। উন্নত বিশ্বে একটি হাউজ ছাড়া জবাই করা যায় না।

অবশ্য একদিনের জন্য কোরবানীর এতগুলো পশু, বাংলাদেশের মত গরীব দেশে একটি হাউজে করা সম্ভব না। তবে অন্তত একটু ঢেকে ঢুকে করতে পারলে ভাল হত। অবশ্য যাদের দৃশ্যটা পছন্দ না, তারা সামনে না থাকলেই হয়! গরু জবাইয়ে হবার পর চামড়া ছাড়ানোতেও থাকি, মাংস কাটাকুটি বাদ থাকে না! কাটাকাটি, ভাগাভাগি সবকিছুতেই অংশগ্রহন করি! বিচ্ছিরি লাগে ফুসফুস আর কলিজা কাটতে (কারন ফুসফুসে কিছু পরজীবি থাকে…ইয়াক!)।

আবার সবার আগে খাওয়া হয় কলিজাটাই! অনেকে আবার ভূড়ি খেতে খুব পছন্দ করে। আমি আগে খেতাম এবং এখন খেতে ইচ্ছে করে না। কিন্তু সেই একই সমস্যা, ব্যপারটা অরুচিকর!

কোরবানীর ঈদে সবচেয়ে অরুচিকর ব্যাপারটা হয় অন্য জায়গায়। মাংস কাটার ঠিক পর পরই। গরীব মানুষ এসে ভিড় করে। তাদের হাহাকার দেখলে নিজেই লজ্জা পাই। এই ঘটনা অবশ্য কোরবানী ছাড়াও অন্য সময়ও হয়ে থাকে। যেমন- ঈদুল ফিতরে যাকাতের শাড়ি নিয়ে কামড়া কামড়ি। এসব দেখলে মনে হয় আমরা এখনও সেই তলাবিহীন ঝুড়িই রয়ে গেলাম। পরার্থপরতার অর্থনীতি থেকে আমরা এখনও বের হতে পারলাম না।

কোরবানীর ঈদে আরও কিছু ছোট খাট ব্যাপার খুবই খারাপ লাগে। যেমন- কার গরু কত বড়, কে জিতল কে ঠকল, কার গরুতে মাংস বেশি হইল, কারটা স্বাদ বেশি হবে, কে কয়টা গরু কোরবানী দিল এই ধরনের আলোচনা মোটামুটি সারাদিনই চলতে থাকে। আর সামনে নির্বাচন থাকলে ত কথাই নাই! আসলে এই ব্যাপারগুলো বোধহয় আগের প্রজন্মের মধ্যেই সীমাবদ্ধ থাকবে।

খুজে খুজে খারাপ ব্যাপারগুলিই বললাম! ভাবলাম সবাইকে একটা ঈদ মোবারক জানাব, তা আর হল না! খুজে খুজে হতাশার দিকগুলিই দেখছি। সময়টাই বোধহয় এরকম। মানুষের মধ্যে হিংসা-বিদ্বেষ, পরশ্রীকাতরতা, সম্পদ নিয়ে কাড়াকাড়ি, ধর্ষণ, খুন মারামারি এসব থাকবেই। বন্টন ঠিকমত হচ্ছে না, হবে না এটাই স্বাভাবিক। তাই বলে অন্যের ভালকে হিংসার চোখে না দেখে নিজের উন্নতির চিন্তা করা উচিৎ। অন্যের খুত না ধরে নিজের খুতগুলো খুজে বের করা উচিৎ। সেটাই ত কোরবানীর আসল লক্ষ্য!

লেখক: বার্তা সম্পাদক, করাঙ্গীনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম

সংবাদটি শেয়ার করুন

এ জাতীয় আরো সংবাদ