চুনারুঘাটে ধর্ষণের পর হত্যা করা হয় রোকসানাকে

করাঙ্গীনিউজ: র্দীঘ ৭ মাস পর হবিগঞ্জের চুনারুঘাটের রোকসানা আক্তার মিষ্টি
(২২) হত্যাকান্ডের রহস্য উদঘাটন করতে সক্ষম হয়েছে পুলিশ। পরকীয়ার জের ধরে আসামিরা মিষ্টিকে ধর্ষণের পর গলায় ওড়না দিয়ে ফাঁস লাগিয়ে হত্যা করে।

হত্যাকান্ডের সাথে জড়িত আসামি আফসার মিয়া (২৮) ও তার স্ত্রী রিপা বেগম (২৪) বুধবার বিকেলে হবিগঞ্জের সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়েছে।

মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা চুনারুঘাট থানার ওসি (তদন্ত) চম্পক দাম বলেন,৬ ফেব্রয়ারী রাতে চুনারুঘাটের রানীগাঁও যুগীর টিলা নামক স্থানে অজ্ঞাত এক যুবতীর লাশ পাওয়া যায়। পুলিশ লাশ উদ্ধার করে চুনারুঘাট থানায় নিয়ে আসে।

পরে যুবতীর নাম ঠিকানা নিশ্চিত না হওয়ায় পুলিশ বাদী হয়ে অজ্ঞাতনামা ব্যক্তিদের বিরোদ্ধে চুনারুঘাট থানায় মামলা দায়ের করে।

ঘটনার ৭ মাস পর আসামী আফসারের সাথে ঢাকার পাওনাদার ফারুকেরমারামারি ঘটনার সূত্র ধরে পুলিশ তথ্য প্রযুক্তি সহায়তায় আসামি চুনারুঘাট উপজেলার পাচারগাঁও গ্রামের আবদুল খালেকের পুত্র
আফসার মিয়া (২৮) ও তার স্ত্রী রিপা বেগম (২৪) কে চুনারুঘাট পুলিশ গ্রেফতার করতে সক্ষম হয়।

এ ঘটনায় বুধবার রাতে হবিগঞ্জ পুলিশ সুপার কার্যলয়ে এক প্রেস ব্রিফিংএ পুলিশ সুপার মোহাম্মদ উল্যা সাংবাদিকদের
বলেন,রোকসানা আক্তার মিষ্টি মৌলভীবাজারে একটি কোম্পানীর
বিক্রয় প্রতিনিধি হিসেবে কাজ করত। মিষ্টি নোয়াখালী জেলার চাটখিল উপজেলার ষোল্লা গ্রামের খুর্শেদ আলী মজুমদারের কন্যা।

মৌলভীবারে রিফার সাথে মিষ্টির পরিচয় হয়। পরিচয়ের সূত্র ধরে মিষ্টি রিপা ও তার স্বামী আফসারের সাথে একই বাসায় ভাড়া থাকত। এ সুবাদে মিষ্টির সাথে আফসারের পরকিয়া প্রেমের সর্ম্পক গড়ে উঠে। এ নিয়ে স্বামী স্ত্রীর মধ্যে জগড়া বিবাধ লেগে থাকত।

এ পর্যায়ে রিফা তার বাবার বড়ী চলে যায়। পরে আফসার মিষ্টিকে দোনিয়া থেকে সড়িয়ে ফেলবে বলে প্রতিশ্রুতি দিলে সে বাড়ী ফিরে আসে। এবং আফসারের গ্রামের বাড়ী চুনারুঘাটের পাচারগাঁও গ্রামে মিষ্টিকে নিয়ে ৬ ফেব্রয়ারী ২০২০ রাতে বেড়াতে আসে।

রাতে খাওয়া দাওয়া শেষে তাকে আসামিরা কৌশলে রানীগাঁও ও চাটপাড়া গ্রামের মাঝামাঝি হাওড়ের যুগীর আসন টিলায় নিয়ে আফসার মিষ্টিকে ধর্ষন করে এবং তার ওড়না দিয়ে রিফা ও তার স্বামী মিষ্টিকে গলায় ফাঁস লাগিয়ে হত্যা করে। পরে মৃত্যু নিশ্চিত হয়ে তারা মিষ্টিকে টিলার নিচে ফেলে চলে যায়।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

three × 2 =