চুনারুঘাটের বাল্লা স্থলবন্দরে ভূমি জটিলতা

আব্দুর রাজ্জাক রাজু,চুনারুঘাট (হবিগঞ্জ): হবিগঞ্জের চুনারুঘাট উপজেলার বাল্লা স্থলবন্দরে সরকারিভাব ভূমি অধিগ্রহনের উদ্যোগ নিয়েছে সরকার। কিন্তু এই ভূমি অধিগ্রহন নিয়ে সৃষ্টি হয়েছে জটিলতা। ভূমি মালিকদের অভিযোগ, যে মূল্য নির্ধারণ করা হয়েছে তার চেয়ে অনেক বেশী মূল্যে সেখানে বিক্রি হয় ভূমি। আর সরকার যে টাকা দিবে তা দিয়ে নতুন বাড়ী করা দূরে থাক, বাড়ীর জমির জন্য নতুন ভূমি ক্রয়ও করতে পারবেন না।

বাল্লা স্থলবন্দরের জন্য যাদের জমি অধিগ্রহণ করা হয়েছে সেই দুই শতাধিক ভূমি মালিকের এখন মাথায় হাত। তারা যথাযথ ভূমির দাম না পেলে দুর্বার আন্দোলনের প্রস্তুতি নিচ্ছেন। যথাযথ ক্ষতিপূরণ না পেলে রক্ত দিয়ে জমি রক্ষার শপথ নিয়েছেন তারা। এমনটাই জানিয়েছেন তারা।

সূত্রে জানা যায়, হবিগঞ্জ সীমান্তের বাল্লা স্থলবন্দরটি ১৯৫১ সালে ৪.৩৭ একর জমির উপর প্রতিষ্ঠিত হয়। এ স্থান দিয়ে খোয়াই নদীর পানিতে পায়ে হেটে ও নৌকায় দু’দেশের মাঝে ব্যবসা বাণিজ্য চলে আসছে। এখানে রয়েছে চেকপোষ্টসহ সীমান্ত ঘাটি। ২০১২ সালের ১১ জুন কেদারাকোট নামক স্থানে স্থলবন্দর স্থাপনের সম্ভাব্যতা যাচাইয়ে জন্য বাংলাদেশ-ভারতের বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের একটি যৌথ প্রতিনিধি দল সীমান্ত এলাকা পরিদর্শন করে। এর আগে ২০১১ সালের ৩০ জুলাই তখনকার বাংলাদেশ রপ্তানী উন্নয়ন ব্যুরোর ভাইস চেয়ারম্যান জালাল আহমেদ ও বর্তমান বন্দর ও কেদারাকোট উভয় স্থান পরিদর্শন করেন এবং স্থলবন্দর উন্নয়ন-এর গুরুত্ব অনুধাবন করে কেদারাকোট এলাকায় বন্দর স্থাপনের কথা বলেন। ২০১৬ সালের ফেব্রুয়ারী মাসে ত্রিপুরায় অনুষ্ঠিত সীমান্ত সম্মেলনে বাল্লা স্থলবন্দর প্রতিষ্ঠায় ঐক্যমত পোষন করে দুই দেশ।

কেদারাকোট এলাকায় নতুন বন্দর হবে জানতে পেরে দেশের বড় বড় শিল্প মালিক ও ব্যবসায়ীরা ওই এলাকায় জমি ক্রয় শুরু করলে বাড়তে থাকে জমির দাম। বন্দরকে কেন্দ্র করে ব্যবসা বাণিজ্যের আশায় সেখানকার জমির রেজিস্ট্রি মূল্যের অধিক মূল্যেও জমি ক্রয় করেন অনেকে।

বাংলাদেশ সরকারের পক্ষে নৌ পরিবহণ মন্ত্রণালয়ের অধিনস্থ স্থলবন্দর কর্তৃপক্ষ চুনারুঘাট উপজেলার ১৬২নং জেএলস্থিত গাজিপুর মৌজায় ১৩ একর ভুমি অধিগ্রহণ করে। ভুমি মন্ত্রণালয় কর্তৃক প্রশাসনিক অনুমোদন করা হলে জেলা প্রশাসন ও স্থলবন্দর কর্তৃপক্ষসহ সংশ্লিষ্ট দপ্তরগুলোর সমন্বয়ে যৌথ তদন্তপূর্বক জেলা ভুমি বরাদ্দ কমিটি কর্তৃক অধিগ্রহণের প্রস্তাব চুড়ান্ত অনুমোদন করা হয়।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

fifteen − six =