পুকুরের শহর হবিগঞ্জ: ঐতিহ্য হারিয়ে বিপর্যয়ের সম্মুখীন

নিজস্ব প্রতিনিধি: একসময়কার পুকুরের শহর হবিগঞ্জ আজ তার ঐতিহ্য হারিয়ে পরিবেশগত বিপর্যয়ের সম্মুখীন। বেশিদূর যেতে হবে না। কেবল গত এক দশকে হবিগঞ্জ থেকে হারিয়ে গেছে অনেকগুলো পুকুর ও জলাশয়। সেখানে গড়ে উঠেছে অট্টালিকা, মার্কেট, ট্রাক স্ট্যান্ডসহ নানা ধরনের স্থাপনা। আবার কোনো কোনো জলাশয় ময়লা আবর্জনা ফেলে ভরাট করে ফেলা হয়েছে। এমনকি পুকুর ভরাট করে খোদ পৌরসভাই মার্কেট নির্মানের মতো পদক্ষেপ নিয়েছে। সেজন্য বাজেটে বরাদ্দ রাখা হয়েছ। আর সবকিছু ঘটছে সবার সামনে। দেশে পুকুর ও জলাশয় ভড়াটের বিরুদ্ধে আইন  থাকলেও সে আইন হবিগঞ্জে অচল। বিভিন্ন ব্যক্তির পাশাপাশি খোদ সরকারী বেসরকারী প্রতিষ্ঠান হবিগঞ্জের ফুসফুস খ্যাত পুকুর ও জলাশয়গুলো ভরাট করেছেন। এ ধারা এখনও অব্যাহত রয়েছে। গত ৬ ও ৭ সেপ্টেম্বর বাংলাদেশ পরিবেশ আন্দোলন বাপার একটি প্রতিনিধিদলের হবিগঞ্জ শহরের বিভিন্ন পুকুর ও জলাশয় সরজমিনে পরিদর্শনে এ চিত্র উঠে আসে।
বাপার কেন্দ্রীয় সাধারন সম্পাদক শরীফ জামিলের নেতৃত্বে প্রতিনিধিদলে ছিলেন হবিগঞ্জ বাপার সাধারন সম্পাদক ও খোয়াই রিভার ওয়াটারকিপার তোফাজ্জল সোহেল, বাপার আজীবন সদস্য ও সিলেট শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের  অধ্যাপক ডঃ জহিরুল হক শাকিল, বাপা সদস্য ডাঃ আলী আহসান পিন্টু, পরিবেশকর্মী আবিদুর রহমান প্রমূখ।
বাপার এ প্রতিনিধিদলটি শহরের টাউন মডেল স্কুলের সামনের পুকুর, বিয়াম স্কুল সংলগ্ন জলাশয়, বিকেজিসি স্কুল সংলগ্ন দীগন্ত পাড়ার পুকুর, হবিগঞ্জ হাইস্কুল সংলগ্ন নুকুল দিঘী, বাজার রেলস্টেশন সংলগ্ন জলাশয়, মাস্টার কোয়াটার এর পুকুর, চিরিয়াকান্দি এলাকায় গোপিনাথপুরের পুকুর, গার্নিং পার্ক এর প্রবেশদ্বারের পুকুরসহ বেশ কিছু পুকুর ও জলাশয় পরিদর্শন করেন।
এ ব্যাপারে বাপার সাধারন সম্পাদক শরীফ জামিল বলেন, যেকোন শহরের পুকুর ও প্রাকৃতিক জনাশয় হচ্ছে ঐ শহরের বারিপাত অন্চল যা ভরাটের কারনে জলাবদ্ধতার সৃষ্টি হয়। ভূগর্ভস্থ পানির স্তর ধরে রাখার ক্ষেত্রে এই জনাশয়সমূহ মূখ্য ভূমিকা পালন করে। যেকোন জলাশয়কে সংস্কার করলে অল্প খরচে দৃশ্যমান উন্নয়ন করা সম্ভব।  পুকুর রক্ষায় হবিগন্জে ইতিপুর্বে বৃহৎ সামাজিক আন্দোলনের পরও রাজনৈতিক নেতৃত্বের এমন উদাসীন দৈনতা আমাকে হতাশ করেছে। যেসকল পুকুর পুরোপুরি বা আংশিক ভরাট করা হয়েছে তা পুণঃখনন করতে হবে। পাশাপাশি বিদ্যমান পুকুরগুলো রক্ষা করার পদক্ষেপ  গ্রহন করতে হবে।
হবিগঞ্জ বাপার সাধারন সম্পাদক ও খোয়াই রিভার ওয়াটারকিপার তোফাজ্জল সোহেল বলেন, জলাবদ্ধতা নিরসনে জলাশয়গুল পুনরুদ্ধার ও সংরক্ষণ অত্যন্ত জরুরী বিষয়।  শুকনো মৌশুমে ভূগর্ভস্থ পানিরস্তর কাঙ্ক্ষিত অবস্থায় রাখার ক্ষেত্রেও জলাধারগুল গুরুত্বপূর্ণ ভুমিকা পালন করে। হবিগঞ্জকে আগামিতে আরও প্রাকৃতিক ও মানবিক বিপর্যয়ের হাত থেকে রক্ষার জন্য শহরের সকল পুকুর, দীঘি ও জলাশয় ভরাট বন্ধ , পুনরুদ্ধার, সংরক্ষণ ও সর্ব সাধারনের জন্য উন্মুক্ত রাখা অত্যন্ত  জরুরী প্রয়োজন হলেও হবিগঞ্জের পরিবেশ ও নাগরিক জীবনমান সংরক্ষণে কার্যকর পদক্ষেপ নজরে পরছেনা।
বাপার আজীবন সদস্য ও সিলেট শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের  অধ্যাপক ডঃ জহিরুল হক শাকিল বলেন, হবিগঞ্জের অনেকগুলো পুকুরের সাথে আমাদের ইতিহাস ঐতিহ্য জড়িত। সেসকল পুকুর ভরাট করে মেরে ফেলার অর্থ হলো আমরা আমাদের ঐতিহ্যকে গলা টিপে মেরে ফেলছি। পুকুর ও জলাশয় ভরাট করে অবকাঠামো নির্মান সভ্য মানুষের কাজ নয়। পৃতিবীর কোনো সভ্যদেশ এ কাজ করেনা।  হবিগঞ্জ পৌরসভার মাস্টারপ্ল্যান ও পুকুর-জলাশয় ভরাটে প্রশাসনের কার্যকর ভূমিকাই পাড়ে বিদ্যমান পুকুরগুলোকে রক্ষা করতে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

12 + five =