#  সেপ্টেম্বরে এইচএসসি পরীক্ষার পরিকল্পনা #  দেশে ২৪ ঘন্টায় করোনায় মৃত্যু ৩৩ জন #  বানিয়াচংয়ে হাসপাতাল ব্যবস্থাপনা কমিটির সভা #  বাহুবলে শ্রীশ্রী শচীঅঙ্গন ধামে রহস্যজনক চুরি,আটক ১ #  নবীগঞ্জে ভুয়া সিআইডি আটক #  হবিগঞ্জ- লাখাই আঞ্চলিক মহাসড়কে ঘটতে পারে দূর্ঘটনা #  নবীগঞ্জে বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান ও ব্যক্তিকে জরিমানা #  প্রণোদনা পাচ্ছেন হবিগঞ্জের কৃষকরা #  পিইসি ও জেএসসি পরীক্ষা হচ্ছে না #  হবিগঞ্জে আরও ৩৪ জনের করোনা শনাক্ত #  বিশ্বনাথে এমপি মোকাব্বির খানের গাড়িতে হামলা #  বাহুবলে জাতীয় শোক দিবস পালনের প্রস্তুতি সভা #  শায়েস্তাগঞ্জে গরীব মেধাবী শিক্ষার্থীদের মাঝে শিক্ষাবৃত্তি প্রদান #  দেশে ২৪ ঘন্টায় করোনায় মৃত্যু ৩৯ জন #  মাধবপুরে ভারতীয় চা পাতাসহ আটক ২

লাখাইর সন্তোষপুরের ৬শ গৃহহীন লোকের কপালে নেই ঈদ

মোজাহিদ রানা লাফু: খুন হয়েছে, মামলাও হয়েছে, বিচার হবে; বিচারে সর্বোচ্ছ শাস্তি মৃত্যুদন্ডও হতে পারে দোষীদের। কিন্তু এই বাড়ি, ঘর, গাছ পালা, গরু, ছাগল, হাস মুরগী, পুকুরের মাছ, ক্ষেতের ফসল- এগুলোর কী অপরাধ? কেন আসামীদের ঘর ভেঙ্গে ভিটা শূন্য করতে হবে? কেন আসামদের ভিটাচ্যুত করে দেশ ছাড়া করেতে হবে? কেন বাড়ি ঘর লুটপাট করে আসামীদের নিঃস করতে হবে? কেন তাদের ক্ষেতের ফসল কেটে নিতে হবে? কেন এভাবে আইন নিজের হাতে তুলে নিতে হবে?

তাহলে কি এভাবে লুটপাট করার জন্যই পরিকল্পিতভাবে দাঙ্গা লাগানো হয়? প্রতিপক্ষের সর্বস্ব লুটপাট করে, বসত ঘর ভেঙ্গে নিয়ে চিরতরে নিঃস করে দিয়ে নিজেদের এবং গডফাদারদের পকেট ভারী করা জন্যই কি পরিকল্পিতভাবে খুনের ঘটনা ঘটানো হয়?
এভাবে আসামীদের সর্বস্ব লুটপাট করে, তাদের দেশ ছাড়া করে কি নিজেদের বিচার নিজেরা করার সামিল নয়?

দেশে আইন আছে, সুদক্ষ আইন শৃঙ্খলা বাহিনী আছে, আদালত আছে। খুন, জখম সবকিছুরই মামলা হয়, তদন্ত হয়; বিচার হয়; হচ্ছে এবং হবে। এভাবে আইন নিজের হাতে তুলে নেওয়া কার সাহসে, কোন সাহসে? কে বা কারা এসবের মদদ দাতা? কারা এই বেআইনী কাজে ইন্দ জোগায়? কারা আইন শৃঙ্খলা বাহিনী এবং প্রশাসনকে প্রশ্নবিদ্ধ করতে এভাবে খুনের বদলে লুটপাটের হুলি খেলার কোচের দায়িত্ব পালন করে?
এভাবে আইন নিজের হাতে তুলে নেওয়াও বেআইনী কাজ, ফৌজদারী অপরাধ।

প্লিজ! এসব বন্ধ করুন। খুনাখুনি বন্ধ করুন। রক্তের হুলি খেলা বন্ধ হোক, খুনের পর লুটপাটের হুলি খেলাও বন্ধ হোক।

পরিশেষে হবিগঞ্জের মানবিক পুলিশ সুপার মহোদয়ের সুদৃষ্টি কামনা করছি- খুন এবং খুনের প্রতিক্রিয়ায় এধরনের লুটপাটের মদদ দাতা, গডফাদাদের আইনের আওতায় আনুন। তাহলেই বন্ধ হবে খুনাখুনি, ভাংচুর লুটপাট।

মোজাহিদ রানা লাফুর ফেসবুক আইডিতে লিখাগুলি করাঙ্গীনিউজ পাঠকদের জন্য হুবহু তুলে ধরা হল-

হবিগঞ্জ জেলার লাখাই উপজেলার নিভৃত পল্লী সন্তোষপুর এখন যেন এক যুদ্ধ বিধ্বস্ত জনপদ। যেন মৃত্যু উপত্যকা। সাবেক ও বর্তমান মেম্বারের আদিপত্য বিস্তারের মরন খেলায় তছনছ হয়ে গেছে বলভদ্র পাড়ের সাজানো গোছানো গ্রামটি। ২০১৭ সালে এক রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষের ঘটনায় নিহত হন ছুরত আলীর পুত্র আনোয়ার আলী। ২০১৯ সালে আবারও মারামারি।

মোজাহিদ রানা লাফুর ফেসবুক আইডির স্কীন শর্ট

আবারও খুন। এবার খুন হলেন সিরাজ মিয়া নামে এক বৃদ্ধ। তারপর ২০২০ সালের ২১ শে মার্চ আবারও দাঙ্গা। আবারও হত্যা। এবার একজন নয়, দুই জন। একজন ঘটনাস্থলেই নিহত হন, নাম- নজরুল ইসলাম। অন্যজন চিকিৎসাধীন অবস্থায়; নাম তার বেনু মিয়া। এই দুই খুনের ঘটনায় মামলা হওয়ার আগেই শুরু হয় প্রতিপক্ষের বাড়ি ঘরে হামলা, ভাংচুর, লুটপাট।

অন্ততঃ ১৫০টি ঘরের কোন অস্তিত্ব নেই। আছে শুধু শূন্য ভিটা। ১২০টি বাড়িতে নেই কোন ঘরের চিহ্ন, নেই কোন গাছ পালা। গরু, ছাগল , হাস, মুরগী, কবুতর, পুকুরের মাছ; কোন কিছুই বাদ যায়নি বাদী পক্ষের লুটপাট থেকে। এ ঘটনায় বাদী পক্ষের ২জনের প্রাণ হানী যেমনি মর্মান্তিক; হামলা মামলায় অন্ততঃ ৬শ লোক গৃহহীন হওয়াটাও অমানবিক।

খুন হয়েছে, মামলা হয়েছে। আসামী ৬২জন, অজ্ঞাতনামা আরও ১৫/২০জন। মামলা তদন্ত হচ্ছে, বিচার হবে। ঘটনা প্রমাণ হলে বিচারে দোষী সাব্যস্থদের সর্বোচ্চ সাজা ফাঁসি হবে। কিন্তু বিচারের আগেই আসামী পক্ষকে ও তাদের আত্মীয় স্বজনকে ভিটাচ্যুত করে, গৃহহীন করে, গ্রাম ছাড়া করে খুনের প্রতিশোধ নেওয়া রীতিমত বেআইনী কাজ। আইন নিজের হাতে তুলে নিয়ে আসামীদের বাড়ি ঘর ভাংচুর, তাদের সর্বস্ব লুটপাট করাও আইনতঃ অপরাধ।

ভূক্তভোগীদের একজন, জনৈক মাহবুবব হবিগঞ্জের মানবিক পুলিশ সুপার ও জেলা প্রশাসক বরাবরে উল্লেখিত ব্যাপক লুটপাটের প্রতিকার চেয়ে আবেদন করেছে। তার আবেদন হতে জানা যায় উল্লেখিত দুই খুনের ঘটনার প্রতিক্রিয়ায় বাদী পক্ষ কর্তৃক আসামীপক্ষের অনুমান দশ কোটি পাঁচ লক্ষ টাকার সম্পদ হানী হয়েছে; পরবর্তীতে কয়েক কোটি টাকা মূল্যের ইরি ধানও কেটে নিয়েছে বাদী পক্ষ, দাবী উক্ত মাহবুবের। গৃহহীন অনুমান ৬শ লোক। এই করোনা মহামারিতে তারা কোথায় থাকে, কোথায় খায় কেউ জানে না, কেউ খবরও রাখে না।

গত ইদুল ফিতর তারা কোথায় উদযাপন করেছে, এই খবর নেওয়ারও কেউ নেই। এই গৃহহীন, সহায় সম্বলহীন লোকগুলো আগামী ঈদুল আযহা কোথায় পালন করবে সেটাও কেউ জানেনা। কারো জানার গরজও নেই? বাধ্য হয়ে তাদের ২৯ জন লোক, যারা হত্যা মামলারা আসামী, নিম্ন আদালতে স্বেচ্ছায় হাজির হয়ে জেল হাজতে গেছে। তাদের কাউকে চিন্তিত কিংবা দুঃখিত হতে দেখা যায়নি। কারন জিজ্ঞাসা করলে জানায়, এতদিন রাস্তায় রাস্তায় ঘুরেছে, রোদে শুকিয়েছে, বৃষ্টিতে ভিজেছে। অনাহারে অর্ধাহারে থেকেছে। এখন সরকারী মেহমানখানায়(জেলে) থাকা খাওয়ারতো ব্যবস্থা হলো! এটাইবা কম কিসে!!

(তার নিজ নামীয় ফেসবুক থেকে সংগৃহীত)