Oops! It appears that you have disabled your Javascript. In order for you to see this page as it is meant to appear, we ask that you please re-enable your Javascript!
 #  একদিনে সর্বোচ্চ আড়াই হাজার রোগী শনাক্ত, মৃত্যু ২৩ জনের #  মাধবপুরে খেলা নিয়ে সংঘর্ষে যুবকের মৃত্যু, মা ছেলে আটক #  বাহুবলে সংঘর্ষের ঘটনায় ৫শ জনের বিরুদ্ধে মামলা,গ্রেফতার ২৫ #  লিবিয়ায় মানব পাচারকারীদের গুলিতে ২৬ বাংলাদেশিসহ নিহত ৩০ #  লাখাইয়ে ‘বিপর্যয়ে সৈনিকরা’ কাজ করেছে দিন রাত #  করোনা ও কৃষি #  হবিগঞ্জে আরো ৭ জন শনাক্ত, মোট ১৭১ #  বাহুবলে অবৈধ বালু উত্তোলন, লক্ষ টাকা জরিমানা #  বাহুবলে সরকারি চালের বস্তা জব্দ: দোকান কর্মচারীর জেল #  ১৫ জুন পর্যন্ত মানতে হবে ১৫ শর্ত #  খোয়াই পত্রিকার সার্কুলেশন ম্যানেজারের পিতা আর নেই #  নবীগঞ্জে সরকারি ২৫০০ টাকার তালিকায় অনিয়ম! #  দেশে করোনায় নতুন শনাক্ত ২০২৯ #  শ্রীমঙ্গলে মুক্তিযোদ্ধা বিকাশ দত্ত’র সৎকার করল এক মুসলিম সংগঠন #  বাহুবলে মিষ্টির দোকান থেকে সরকারী চাল জব্দ: আটক ১

কমলগঞ্জে চা শ্রমিক দিবস দিবস পালিত

পিন্টু দেবনাথ, কমলগঞ্জ (মৌলভীবাজার): আজ ২০ মে ঐতিহাসিক চা শ্রমিক দিবস। ১৯২১ সালের এই দিনে ব্রিটিশদের অত্যাচারথেকে মুক্ত হতে সিলেট অঞ্চলের প্রায় ৩০ হাজার চা-শ্রমিক নিজেদেরজন্মস্থানে ফিরে যাওয়ার চেষ্টা চালায়। এ সময় চাঁদপুরের মেঘনাঘাটে বৃটিশসৈন্যরা নির্বিচারে গুলি চালিয়ে হাজার হাজার চা শ্রমিককে হত্যা করে। এরপরথেকে ২০ মে চা শ্রমিকেরা ‘চা-শ্রমিক দিবস’ হিসেবে পালন করে আসছেন। তবে বারবার দাবি জানানো এবং অনেক আন্দোলনের পরও ৯৯ বছরেও রাষ্ট্রীয় স্বীকৃতিপায়নি দিবসটি। ঘুচেনি চা শ্রমিকদের বঞ্চনা।

বুধবার (২০ মে) চা শ্রমিকদিবস পালন উপলক্ষে কমলগঞ্জ উপজেলার মৃর্ত্তিঙ্গা চা বাগানসহ দেশের বিভিন্ন চা-বাগানের চা ছাত্র-যুব সংঘের উদ্যোগে বিভিন্ন কর্মসুচী পালিতহয়েছে।

বিভিন্ন কর্মসূচীর মধ্যে ছিল সামাজিক দূরত্ব বজায় রেখে গুলিতেনিহত চা-শ্রমিকদের স্মরণে শহীদ বেদিতে পুষ্পার্ঘ্য অর্পণ ও সংক্ষিপ্ত আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়।

আলোচনা সভায় এদিনের গুরুত্ব বিবেচনা করে ২০
মে-কে রাষ্ট্রীয় স্বীকৃতি দেওয়ার আহবান জানানো হয়।
জানা যায়, পঞ্চদশ ও ষোড়শ শতাব্দীতে চীন ছাড়া পৃথিবীর অন্য কোথাও চায়ের প্রচলন ছিল না। ১৮৫৪ সালে পরীক্ষামূলকভাবে সিলেটের মালিনীছড়া চা বাগানে
চা চাষ শুরু করে ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানি। সে সময় বৃহত্তর সিলেটে চা বাগান তৈরির জন্য ভারতের আসাম, উড়িষ্যা, বিহার, উত্তর প্রদেশসহ বিভিন্ন এলাকা থেকে শ্রমিকদের নিয়ে আসা হয়। বিশাল পাহাড় পরিষ্কার করে চা বাগান করতে গিয়ে হিংস্র পশুর কবলে পড়ে কত শ্রমিকের জীবন গেছে তার কোনো হিসেব নেই। এ ছাড়া ব্রিটিশদের অত্যাচার তো ছিলই। তাদের অব্যাহত নির্যাতনের প্রতিবাদে তৎকালীন চা শ্রমিক নেতা পন্ডিত গঙ্গাচরণ দীক্ষিত ও পন্ডিত দেও সরন‘মুল্লুকে চল’ (দেশে চল) আন্দোলনের ডাক দেন। ১৯২১ সালের ২০ মে সিলেট অঞ্চলের প্রায় ৩০ হাজার চা শ্রমিক সিলেট থেকে হেঁটে চাঁদপুর মেঘনা স্টিমার ঘাটে পৌঁছেন। তারা জাহাজে চড়ে নিজ দেশে ফিরে যেতে চাইলে ব্রিটিশরা গুলি চালিয়ে শত শত চা শ্রমিককে হত্যা করে মেঘনা নদীতে ভাসিয়ে দেয়। যারা পালিয়ে এসেছিলেন তাদেরকেও আন্দোলন করার অপরাধে পাশবিকনির্যাতনের শিকার হতে হয়।

মেঘনা ঘাটে আসাম রাইফেলস এর গোর্খা সৈনিকরা নির্মমভাবে চা শ্রমিকদেরহত্যা করে। এর পর যারা বেঁচে ছিলেন তারা নিরুপায় হয়ে আবারো বাগানে চলে
আসেন। পরে জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের ডাকে চা-শ্রমিকরা তীর-ধনুক নিয়ে যুদ্ধ করে। কিন্তু দেশে এখনো চা-শ্রমিকরা ভূমির অধিকার
থেকে বঞ্চিত।

কমলগঞ্জ উপজেলার পাত্রখোলা চা বাগানের শ্রমিকনেতা রবি মুন্ডা জানান, চা শ্রমিকদেরকে মিথ্যা আশ্বাস দিয়ে এদেশে এনে স্বল্প মজুরীর মাধ্যমে হাড়ভাঙ্গা পরিশ্রমের কাজ করানো হয়। তাই শ্রমিকরা নিজ মুল্লুকে ফিরে যেতে চেয়েছিল। কিন্তু তারা সফল হয়নি। এখনো চা শ্রমিকরা বঞ্চিত আছে।

চা শ্রমিক নেতা শংকর কৈরী জানান, এখনো চা শ্রমিকদের জীবনমানের কোনোউন্নয়ন ঘটেনি। শিক্ষা, স্বাস্থ্য ও বাসস্থানের মৌলিক চাহিদা এখনও পূরণ হয়নি। তিনি ২০ মে রাষ্ট্রীয়ভাবে চা শ্রমিক দিবস ঘোষণা এবং ওই দিন সবেতনে ছুটি বাস্তবায়নেরও দাবি জানান। পাশাপাশি চা শ্রমিকদের চাকরি ক্ষেত্রে কোটারও দাবি জানান তিনি।

বাংলাদেশ চা শ্রমিক ইউনিয়নের সাধারণ সম্পাদক ও কমলগঞ্জ উপজেলা পরিষদের ভাইস চেয়ারম্যান রামভজন কৈরী বলেন, ‘চা-শ্রমিকদের মৌলিক চাহিদা পূরণেদীর্ঘদিন ধরে মজুরি বৃদ্ধি, ভূমি অধিকার, বাসস্থান ও চিকিৎসা ব্যবস্থার উন্নয়নসহ বিভিন্ন দাবি জানিয়ে আসছি। কিন্তু এসব বাস্তবায়ন না হওয়ায় তাঁদের মানবেতর জীবন যাপন করতে হচ্ছে।’ তার দাবী ‘অবহেলিত চা-শ্রমিকদের বাসস্থানের জায়গাটুকু তাঁদের নিজের নামে দিতে হবে। যাতে বাগান কর্তৃপক্ষ যখন-তখন ভূমি থেকে চা-শ্রমিকদের উচ্ছেদ করতে না পারে। যে বসতভিটায় প্রায় দেড়’শ বছর ধরে বসবাস করে আসছি, আমরা চাই সরকারের মাধ্যমে সেটা আমাদের নামে দেওয়া হোক। যদি সেটা করা হয়, তাহলে আমরা দাসত্ব জীবন থেকে মুক্তি পাব।’

জাগরণ যুব ফোরামের সভাপতি মোহন রবিদাস বলেন, অত্যন্ত কষ্ট নিয়ে বলতে হচ্ছে এই মুল্লুকে চলো আন্দোলনের ৯৯ বছর পরেও চা শ্রমিকদের অবস্থার কোন পরিবর্তন হয়নি। এখনও চা শ্রমিকরা চা-বাগান মালিক কর্তৃক অত্যাচার-নিপীড়নের শিকার হচ্ছেন। মাত্র ১০২ টাকা (বি ক্লাস বাগান ১০০, সি ক্লাস ৯৯ টাকা পায়) দিয়ে করোনা ভাইরাসের মতো এই মহামারির মধ্যেও তারা (চা কোম্পানি) চা শ্রমিকদের দিয়ে ঠিক দুই বেলাই কাজ করিয়ে নিচ্ছে। এমনকি আজকের এই ঐতিহাসিক (২০ মে) দিনেও কাজ করছেন চা শ্রমিকরা।

কয়েকদিন পূর্বেও দু’মুঠো ভাতের জন্য কালিটি চা বাগানের চা শ্রমিকদেরকে দীর্ঘ ১৪ কিলোমিটার পথ হেঁটে “ভুখা লং মার্চ” করতে হয়েছে। আজকের এই দিনেও দীর্ঘ আড়াই মাস ধরে রেশন-মজুরি না পেয়ে অনাহারে-অর্ধাহারে দিন কাটাচ্ছেন রেমা চা বাগানের চাশ্রমিকরা। এ রকম প্রতিটি চা বাগানের চা শ্রমিকরাই নানামুখী সমস্যায় জর্জরিত হয়ে আজ মানবেতর জীবন-যাপন করছেন।