Oops! It appears that you have disabled your Javascript. In order for you to see this page as it is meant to appear, we ask that you please re-enable your Javascript!
 #  চুনারুঘাটে গাঁজাসহ যুবক আটক #  জকিগঞ্জে ছেলের হাতে মা খুন #  গাছের সাথে বেঁধে চোরকে গণপিটুনি #  নাসিরনগরে একদিনে ৬ জন করোনায় আক্রান্ত #  নবীগঞ্জে মাদক ব্যবসায়ীকে ৩ মাসের জেল #  সিলেটে পরিবহন শ্রমিকদের মধ্যে সংঘর্ষ, ভাঙচুর #  অপমৃত্যু নয়, স্বাভাবিক মৃত্যুর প্রার্থনা #  দেশে নতুন শনাক্ত ২৯১১, মৃত্যু ৩৭ #  আমরা দেশের মানুষ ভালো থাকতে চাই #  শতবর্ষে মিরপুর দাখিল মাদ্রাসা, পাশের হারে উপজেলায় সেরা #  ভূমধ্যসাগরে ৩৬ বাংলাদেশি নিহতের প্রধান আসামি সিলেটে গ্রেফতার #  হবিগঞ্জের অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক হলেন তাহিরপুরের ইউএনও বিজেন ব্যানার্জী #  হবিগঞ্জের খোয়াই নদী থেকে অজ্ঞাত ব্যক্তির লাশ উদ্ধার #  শায়েস্তাগঞ্জে মেয়র ছালেক মিয়াসহ ১৫ জনের করোনা রিপোর্ট নেগেটিভ #  গোলাপগঞ্জে ১২ জনের করোনা জয়

হবিগঞ্জে হত্যার ৫ দিন পর চালকের লাশ উদ্ধার, আটক ২

নিজস্ব প্রতিনিধি: হবিগঞ্জের সাতছড়ি জাতীয় উদ্যান থেকে এক পিকআপ চালকের লাশ উদ্ধার করেছে পুলিশ। এ ঘটনায় দুইজনকে গ্রেফতার করা হয়েছে।

তারা হলেন, শায়েস্তাগঞ্জ উপজেলার কাদির মিয়ার ছেলে আলাউদ্দিন ও হবিগঞ্জ শহরতলীর যশেরআব্দা এলাকার তাজু মিয়ার ছেলে বাবুল মিয়া। পুলিশ জানিয়েছে, বাবুলই হত্যাকান্ডের মূল পরিকল্পনাকারী।

আটককৃতদের দেয়া তথ্যের ভিত্তিতে ঘটনার পাঁচদিন পর সোমবার (১৮ মে) বিকেলে চালকের মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ।

নিহত সাগর সরকার(১৮) হবিগঞ্জ শহরের ঘাটিয়া এলাকার প্রদীপ সরকারের ছেলে। সাগরকে হাত-পা বেঁধে শ্বাসরোধ করে হত্যার পর গাড়ি ছিনতাই করেছে চক্রটি।

গত ১০ মে সাগর নিখোঁজ হয়েছে জানিয়ে হবিগঞ্জ সদর মডেল থানায় একটি সাধারণ ডায়েরি করেন তার বাবা। এ নিয়ে তদন্তে নামলে তথ্য-প্রযুক্তির ব্যবহারের মাধ্যমে পুলিশের সন্দেহ সৃষ্টি হয় বাবুল ও আলাউদ্দিনকে ঘিরে। এক পর্যায়ে বাবুলকে আটক করে জিজ্ঞাসাবাদের পর হত্যার কথা স্বীকার করে সে। পরে আটক করা হয় আলাউদ্দিনকে। তাদের দেয়া তথ্যের ভিত্তিতে আজ পুলিশ সাতছড়ি থেকে গলিত মরদেহটি উদ্ধার করে।

অতিরিক্ত পুলিশ সুপার রবিউল ইসলাম জানান, হবিগঞ্জ শহরের কবির মিয়ার গাড়ি চালাতেন নিহত সাগর এবং ঘাতক বাবুল। পরিকল্পনা অনুযায়ী বাবুল, আলাউদ্দিনসহ একটি চক্র ভাড়ার নাম করে সাগরসহ তার গাড়িটি সাতছড়িতে নিয়ে যায়। সেখানে তাকে হাত-পা বেঁধে গামছা দিয়ে শ্বাসরোধ করে হত্যার পর গাড়ি নিয়ে মাধবপুরে মনতলায় ভারত-বাংলাদেশ সীমান্ত এলাকায় চলে যায় তারা। পরবর্তীতে গাড়িটি জব্দ ও দুইজনকে আটক করলে হত্যাকান্ডের রহস্যের জট খুলতে থাকে।

তিনি আরো জানান, বিষয়টি নিয়ে গুরুত্বের সাথে তদন্তে নেমেছে পুলিশ। হত্যাকান্ডে আরো লোকজন জড়িতে থাকতে পারে বলে তাদের ধারণা। সেই সাথে সাগর হত্যার পেছনে অন্য কোন কারণ রয়েছে কি না তাও খতিয়ে দেখছে পুলিশ।

এদিকে আমাদের প্রতিনিধি আব্দুর রাজ্জাক রাজু জানান, বাবুল মিয়া ও আলাউদ্দিন অপরাধচক্রের সক্রীয় সদস্য। বয়স আঠারো কিংবা তার একটু বেশী। তাদের পরিচয় হয় জেলখানায়। সেখানে সূচনা হয় অপরাধচক্রের নীল নকশা। জেল থেকে বেরিয়ে জড়িয়ে পড়ে চুরি, ছিনতাই, দস্যুতার মত কুখ্যাত অপরাধে। ধীরে ধীরে অপরাধের মাত্রা ও সদস্য সংখ্যা বৃদ্ধি করে গড়ে তুলে অপরাধ জগৎ। নেতৃত্ব দিতে থাকে বিভিন্ন অপরাধ কর্মকান্ডের। কিন্তু এই অপরাধ যে এতটা নির্মমতায় পরিনত হবে তা কেউ কখনো কল্পনা করতে পেরেছো কি? উত্তর হ্যাঁ বা না?

কিন্তু তারাই সংঘটিত করেছে লোমহর্ষক এক হত্যা কান্ড। ছিনিয়ে নিয়েছে ভিকটিমের চালিত পিকআপ। লাশ গুম করার জন্য ফেলে রেখেছে সাতছড়ি গহীন জঙ্গলের উচুঁ টিলায়। এমন তথ্যই বেড়িয়ে এসেছে ভিকটিমের পিতা প্রদীপ সরকারের দায়েরকৃত নিখোঁজ জিডি তদন্ত করতে গিয়ে।

গত ১৫ মে ২০২০ প্রদীপ সরকার নামে একজন অসহায় লোক হবিগঞ্জ সদর থানা হাজির হয়ে একটি সাধারন ডায়রী করেন যে, তার ছেলে সাগর সরকার একজন পিকআপ চালক। কবির মিয়ার পিকআপ গাড়ীতে ড্রাইভার হিসেবে ছিল। ১৩ মে ২০২০ থেকে সে বাড়িতে ফিরে আসছে না। এমনকি অনেক জায়গায় খোঁজাখুজি করার পরও তার কোন সন্ধান পাওয়া যাচ্ছে না।সেই জিডির সূত্র ধর তদন্ত শুরু করেন হবিগঞ্জের এডিশনাল এসপি রবিউল ইসলাম।

প্রথমে ধারনা করা হয়েছিল ভিকটিম সাগর সরকার সম্ভবত তার চালিত কবির মিয়ার মালিকানাধীন পিকআপ গাড়ীটি অন্যত্র বিক্রয় করে নিজেকে আত্মগোপন করে রেখেছে।

তৎপ্রেক্ষিতে এডিশনাল এসপি মোঃ রবিউল ইসলাম পিপিএম-সেবা, অতিরিক্ত পুলিশ সুপার, হবিগঞ্জ সার্কেল, হবিগঞ্জ, পুলিশ সুপারের নির্দেশে হবিগঞ্জ সদর মডেল থানার অফিসার ইনচার্জসহ অন্যান্য অফিসারগনের নিয়ে একটি চৌকস টিম গঠন করেন এবং দিনরাত অক্লান্ত পরিশ্রম করে ভিকটিমের চলিত পিকআপ গাড়ীটি মাধবপুর থানাধীন মনতলা থেকে উদ্ধার করেনন।

পিকআপ গাড়ীটি উদ্ধারের পর রহস্য মোড় নেয় অন্যদিকে তৈরী হতে থাকে নতুন নতুন সন্দেহ। তথ্য প্রযুক্তিগত সহায়তার মাধ্যমে তদন্ত কার্য পরিচালনা করে এবং ভিকটিম সাগরের বন্ধু বাবুল মিয়া (২২), পিতা- তাজু মিয়াকে আটক করতঃ ব্যাপক জিজ্ঞাসাবাদ করে পুলিশ । জিজ্ঞাসাবাদের একপর্যায়ে তার নিকট হতে লোমহর্ষক এই হত্যার রহস্য উদঘাটিত হয়।

বাবুল মিয়ার তথ্য মোতাবেক তার আরেক সহযোগী আলাউদ্দিন (২০), পিতা-আব্দুল কাদিরকে আটক করা হয়। উভয়কে জিজ্ঞাসাবাদে জানা যায় যে, অপরাধচক্রের সক্রীয় সদস্য গাড়ী চালক বাবুল মিয়ার পরিকল্পনা মোতাবেক তার পরিচিত আলাউদ্দিনসহ একটি অপরাধী গ্রুপ পূর্ব পরিকল্পিতভাবে গাড়ী ভাড়ার নাম করে ভিকটিম সাগর সরকার (১৮) কে প্রথমে শায়েস্তাগঞ্জ নিয়ে যায়। সেখান থেকে মাধবপুর নিয়ে যাওয়ার কথা বলে পথিমধ্যে অর্থ্যাৎ চুনারুঘাট থানাধীন সাতছড়ি রাস্তার পাশে জঙ্গলের উচুঁ টিলার উপর উঠিয়ে কৌশলে তার সহযোগীদের নিয়ে গলায় গামছা পেচিয়ে শ্বাসরোধ করে হত্যা করে লাশ গুম করার জন্য সেখানে ফেলে রেখে গাড়ীটি নিয়ে বিক্রয়ের উদ্দেশ্যে মাধবপুর উপজেলার মনতলা নামক সীমান্তবর্তী এলাকায় চলে যায়।