Oops! It appears that you have disabled your Javascript. In order for you to see this page as it is meant to appear, we ask that you please re-enable your Javascript!
 #  হবিগঞ্জে যত্রতত্র ঘোরাফেরা না করার আহব্বান জেলা প্রশাসকের #  বাহুবলে বাড়ি বাড়ি গিয়ে খাদ্যসামগ্রী পৌঁছে দিচ্ছেন মেম্বার শামীম #  সিলেটে করোনা আক্রান্ত প্রথম রোগী একজন চিকিৎসক #  সিলেটে স্বামীকে ভিডিওকলে রেখে স্ত্রীর আত্মহত্যা #  শ্রীলংকার চেয়েও এগিয়ে বাংলাদেশ! #  ওসমানীনগরে আল-আমানাহ ফাউন্ডেশন ইউকের খাদ্য সামগ্রী বিতরণ #  মাধবপুরে ২ গাঁজা পাচারকারী গ্রেফতার #  হবিগঞ্জে করোনা সচেতনতামূলক কর্মসূচি অব্যাহত রেখেছেন এমপি আবু জাহির #  মাধবপুরের লোকজনকে ঘরে থাকার জন্য সেনাবাহিনীর সচেতনতা অভিযান #  চুনারুঘাটে মাদক ব্যবসায়ি ফুল মিয়া আটক #  দেশে করোনায় আরেক জনের মৃত্যু #  বড়লেখার সাবেক এমপি সিরাজুল আর নেই #  নবীগঞ্জে মোটরসাইকেল আরোহী নিহত #  করোনায় মৃতের সংখ্যা ছাড়াল ৬৪ হাজার #  বাহুবলের ২২টি দোকানের ভাড়া মওকুফ করলেন মার্কেটের মালিক

গণহত্যা দিবস আজ

করাঙ্গীনিউজ: জাতি আজ স্মরণ করবে ১৯৭১ সালের ২৫ মার্চের ভয়াল কালরাত্রির কথা। ওই রাতে পাকিস্তানি সেনাবাহিনী ঢাকা, চট্টগ্রামসহ সারা দেশে যে গণহত্যায় মেতে উঠেছিল, তা শুধু এ দেশের নয়, সমগ্র বিশ্বের ইতিহাসে এক জঘন্য কালো অধ্যায়।

সে রাতে তৎকালীন পাকিস্তানের প্রাদেশিক রাজধানী ঢাকার ফার্মগেটে মিছিলরত বাঙালিদের নির্বিচার হত্যার পর পিলখানা, রাজারবাগ পুলিশ লাইনস, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়, রমনাসহ বিভিন্ন এলাকায় একযোগে হামলা চালিয়ে অসংখ্য বাঙালিকে হত্যা করেছিল তারা। বর্বরতার মর্মন্তুদ সেই কাহিনী সংক্ষেপে বর্ণনা করা সম্ভব নয়। ২৫ মার্চের সেই গণহত্যার কথা দেশি-বিদেশি বিভিন্ন বই, ডকুমেন্টারি ও মিডিয়ায় প্রচারিত হলেও দীর্ঘ ৪৫ বছর দিনটিকে আনুষ্ঠানিকভাবে গণহত্যা দিবস হিসেবে পালনের কোনো উদ্যোগ আমরা নিতে পারিনি।

এই সুযোগে অথবা আমাদের এই ব্যর্থতার কারণে ইতিহাস বিকৃতির এক ঘৃণ্য খেলায় মেতে উঠেছে মুক্তিযুদ্ধে পরাজিত পাকিস্তানিরা এবং তাদের সঙ্গে যুক্ত হয়েছে এদেশীয় দোসর সম্প্রদায়। এমনকি পাকিস্তানের জুনায়েদ আহমেদ নামের এক লেখক ‘ক্রিয়েশন অফ বাংলাদেশ : মিথস এক্সপ্লোডেড’ নামক বইয়ে ২৫ মার্চের গণহত্যার ছবিকে বাংলাদেশিদের হাতে বিহারি হত্যা বলে চালানোর অপচেষ্টা করেছে। বোঝাই যায়, বইটি লিখিয়েছেন পাকিস্তানের সরকারি কর্তৃপক্ষ ও গোয়েন্দা বাহিনী।

আশার কথা, স্বাধীনতার এত বছর পর ২০১৭ সালের ১১ মার্চ জাতীয় সংসদে ২৫ মার্চকে সর্বসম্মত প্রস্তাবে গণহত্যা দিবস হিসেবে গ্রহণ করা হয়েছে। এ দেশের রাজনৈতিক ইতিহাসে এ এক ঐতিহাসিক ও গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত। এ সিদ্ধান্ত অনুযায়ী আমরা আজকের দিনটিকে ‘গণহত্যা দিবস’ হিসেবে পালন করছি। তবে এখানেই থেমে থাকলে চলবে না। আদায় করতে হবে এর আন্তর্জাতিক স্বীকৃতি।

আমরা ইতিপূর্বে ২১ ফেব্রুয়ারিকে আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস হিসেবে পালনের জাতিসংঘ স্বীকৃতি আদায় করেছি। কূটনৈতিক তৎপরতার ফলেই তা সম্ভব হয়েছে। গণহত্যা দিবসের ক্ষেত্রেও আমাদের চালাতে হবে জোর কূটনৈতিক তৎপরতা।

খোদ জাতিসংঘসহ বিভিন্ন আন্তর্জাতিক সংস্থার কাছে ২৫ মার্চের গণহত্যার বহু নথিপত্র ও প্রমাণ রয়েছে। সেই কালরাতের প্রত্যক্ষদর্শী অনেক বিদেশি সাংবাদিক, মানবাধিকার কর্মী এখনও জীবিত রয়েছেন। সত্যের পক্ষে তারা এগিয়ে আসবেন, এতে কোনো সন্দেহ নেই। সঠিক পথে কার্যকরভাবে কূটনৈতিক তৎপরতা চালাতে পারলে গণহত্যা দিবসের আন্তর্জাতিক স্বীকৃতি সহজেই আদায় করা সম্ভব বলে মনে করি আমরা। এই দায় শুধু আমাদের নয়, সমগ্র মানবসভ্যতার।

বিশ্ববাসী দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধসহ নানা নিষ্ঠুরতা সম্পর্কে জ্ঞাত রয়েছে। ১৯৭১ সালের ২৫ মার্চ বাংলাদেশে প্রকৃতপক্ষে কী ঘটেছিল সেই খবর এখনও বিশ্বের অনেকের কাছে অজানা।

দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের ওপর তৈরি হয়েছে আন্তর্জাতিক অসংখ্য চলচ্চিত্র, লেখা হয়েছে বিভিন্ন ভাষায় উপন্যাস, কবিতা; তেমনি আমাদের মুক্তিযুদ্ধ নিয়েও তৈরি হতে পারে তেমন কিছু। ২৫ মার্চ গণহত্যা দিবসের আন্তর্জাতিক স্বীকৃতি মিললে সেই কাজগুলো সহজ হয়ে যাবে। আমরা চাই, আমাদের ওপর দিয়ে যে ভয়াবহ নিষ্ঠুরতা চালানো হয়েছিল, সমগ্র বিশ্বই তার পুঙ্খানুপুঙ্খ ইতিহাস সম্পর্কে অবহিত হোক।