#  আজমিরীগঞ্জে বৃদ্ধ পিতাকে সিলেটে নিয়ে জবাই করে হত্যা #  চুনারুঘাটে ৩ হাজার পিস ভারতীয় কলগেট জব্ধ #  সিলেটে শুরু হচ্ছে হিফজুল কোরআন প্রতিযোগিতা #  সুনামগঞ্জে বিজিবি-বিএসএফ’র বৈঠক #  বাহুবলে করাঙ্গী নদী বাচাঁও কমিটি গঠন #  বানিয়াচংয়ে হাম রুবেলা ক্যাম্পেইন বর্জন #  বাহুবলে মাটিবাহি ট্রাক্টর, শিক্ষার্থীসহ ৮ গ্রামবাসীর দুর্ভোগ #  নারীদের সংসারে বিনা যুুদ্ধে জয় লাভ করতে হবে: হবিগঞ্জের এসপি #  শায়েস্তাগঞ্জে অবহিতকরণ কর্মশালা অনুষ্ঠিত #  বাহুবলে ট্রেনের নিচে কাটা পড়ে যুবকের মৃত্যু #  মাধবপুরে নিয়োগপ্রাপ্ত শিক্ষকদের বরণ #  খালেদা জিয়ার জামিন আবেদন গ্রহণ, শুনানি রোববার #  চুনারুঘাটে ৫ বছরের সাজাপ্রাপ্ত আসামী গ্রেফতার #  ৩ শতাধিক প্রাণীর অভয়াশ্রয় সাতছড়ি জাতীয় উদ্যান #  বাহুবলের করাঙ্গী নদীতে ফেলা হচ্ছে কেমিক্যাল মিশ্রিত বর্জ্য

মোবাইলের জন্য শিশুকে হত্যা করে খোয়াই নদীতে ফেলে দেয় লাশ

এম সাজিদুর রহমান:  হবিগঞ্জ সদর উপজেলার উত্তর তেঘরিয়া গ্রামের স্কুল ছাত্র ইসমাইল হোসেন হৃদয় হত্যার মূল রহস্য উদঘাটন করেছে পুলিশ।

এ মামলার অন্যতম আসামী হত্যাকান্ডের মূলহোতা স্কুল ছাত্র শাহরিয়ার মারুফ সাইমিন (১৫) দ্বায় স্বীকার করে লোমহর্ষক বর্ণনা দিয়েছে।

বুধবার বিকেলে হবিগঞ্জের সিনিয়র জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে ১৬৪ ধারায় স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দী প্রদান করে সাইমিন।

বুধবার সন্ধ্যা ৭টায় পুলিশ সুপারের কার্যালয়ে এক সংবাদ সম্মেলনের মাধ্যমে লোমহর্ষক হত্যাকান্ডের বর্ণনা দেন পুলিশ সুপার মোহাম্মদ উল্লাহ।

ঘাতকের জবানবন্দীর বরাত দিয়ে তিনি জানান, নিহত হৃদয়ের পিতা সৌদি প্রবাসী ফারুক মিয়া ২২ হাজার টাকা দামের একটি মোবাইল ফোন সেট তার সন্তানকে দিলে ওই মোবাইলের উপর লোভ হয় ঘাতক সাইমিনের। মোবাইলটি আত্মসাত করতে নানা কৌশল অবলম্বন করতে থাকে সে। কোন উপায় না পেয়ে নাটক তৈরির অযুহাতে গত ১০ জানুয়ারী বিকেলে নিহত হৃদয়কে নিয়ে যায়।

সদর উপজেলা লস্করপুর ইউনিয়নের চরহামুয়া এলাকায় খোয়াই নদীর পাড়ে নির্জন স্থানে হাত-পা বেধে নৃসংশভাবে হত্যা করে লাশ নদীতে ফেলে মোবাইলটি নিয়ে যায়।

গত ১৩ জানুয়ারী সকালে স্থানীয় লোকজন হৃদয়ের লাশ দেখতে পেয়ে পুলিশকে খবর দেন।

খবর পেয়ে সদর থানার ওসি মোঃ মাসুক আলীসহ একদল পুলিশ লাশ উদ্ধার করে ময়না তদন্ত শেষে পরিবারের জিম্মায় হস্তান্তর করে। ওইদিন রাতেই একই গ্রামের মুরগ ব্যবসায়ী আব্দুস শহিদ ওরফে কদর আলীর পুত্র হবিগঞ্জ জেকে এন্ড এইচকে হাইস্কুলের ১০ম শ্রেণীর ছাত্র সাইমিনকে আটক করে পুলিশ। এছাড়া আরও ১০/১৫ জন নারী পুরুষকে আটক করে ব্যাপক জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়।

অতিরিক্ত পুলিশ সুপার রবিউল ইসলামের সন্দেহ হয় এই হত্যার সাথে সাইমিন জড়িত থাকতে পারে। তিনি নিভিড়ভাবে ২ দিন জিজ্ঞাসাবাদ করে এ রহস্য উদঘাটন করেন। ইতিমধ্যে ঘাতকের মা বাবা ও আত্মীয় স্বজন ঘর তালাবন্ধ করে আত্মগোপন করেছে। তাদেরকে আটক করলে এ ঘটনার আরও রহস্য উদঘাটন হতে পারে বলে পুলিশের ধারণা। তবে এখন পর্যন্ত মোবাইলটি উদ্ধার করতে পারেনি পুলিশ। মোবাইলটি উদ্ধারের জন্য পুলিশের অভিযান অব্যাহত আছে।

এদিকে নিহতের চাচা মৃত জহুর আলীর পুত্র টেনু মিয়া বাদী হয়ে হবিগঞ্জ সদর মডেল থানায় একটি হত্যা মামলা দায়ের করেন।

সংবাদ সম্মেলনে উপস্থিত ছিলেন অতিরিক্ত পুলিশ সুপার রবিউল ইসলাম, ওসি মোঃ মাসুক আলী, কোর্ট পুলিশ পরিদর্শক মোঃ আল-আমিনসহ অন্যান্য পুলিশ কর্মকর্তা।