• Youtube
  • English Version
  • শুক্রবার, ২৩ ফেব্রুয়ারী ২০২৪, ১১:৪৬ পূর্বাহ্ন

করাঙ্গী নিউজ
স্বাগতম করাঙ্গী নিউজ নিউজপোর্টালে। ১৫ বছর ধরে সফলতার সাথে নিরপেক্ষ সংবাদ পরিবেশন করে আসছে করাঙ্গী নিউজ। দেশ বিদেশের সব খবর পেতে সাথে থাকুন আমাদের। বিজ্ঞাপন দেয়ার জন‌্য যোগাযোগ করুন ০১৮৫৫৫০৭২৩৪ নাম্বারে।

বানিয়াচংয়ে ক্যান্সার আক্রান্ত রোগীর চেক বিতরণে ঘুষ নিলেন অফিস সহকারী

  • সংবাদ প্রকাশের সময়: সোমবার, ৯ ডিসেম্বর, ২০১৯

বানিয়াচং (হবিগঞ্জ) প্রতিনিধি: হতভাগিনী সুলেমা বেগম (৪৮)। একদিকে তিনি প্রতিবন্ধী অপরদিকে মরণব্যাধি ক্যান্সারে বাসা বাধে তার শরীরে। তিনি উপজেলার ৬ নং কাগাপাশা ইউনিয়নের উমরপুর গ্রামে কবির মিয়ার স্ত্রী।

বুকভরা আশা নিয়ে ৫০ হাজার টাকা পাওয়ার জন্য তিনি আবেদন করেন বানিয়াচং সমাজসেবা অফিসে।

আবেদনে হবিগঞ্জ-২ এর সাংসদ আব্দুল মজিদ খানের সুপারিশও নিয়েছিলেন তিনি। কর্তৃপক্ষ তার নামে ৫০ হাজার টাকা মঞ্জুর করেন। কিন্তুু যখন মঞ্জুর হলো তখন আর তিনি দুনিয়াতে নাই।

ওই মৃত ক্যান্সার রোগীর প্রতিনিধিকেই সরকারি অর্থ পাইয়ে দিতে ৫ হাজার টাকা ঘুষ নিয়েছেন সমাজসেবা অফিস সহকারি একেএম ফজলুল হক (স্বপন)।

সোমবার (০৯ ডিসেম্বর) দুপুরে ডাকযোগে এ সংক্রান্ত একটি লিখিত অভিযোগ প্রেরণ করেছেন উপজেলার ৬ নং কাগাপাশা ইউনিয়নের উমরপুর গ্রামের আশরাফ মিয়া।

অভিযোগটি উপজেলা নির্বাহী অফিসার ও সমাজসেবা অফিসার বরাবর প্রেরণ করা হয়।

বানিয়াচং সমাজসেবা অফিসের দুর্নীতির মুল হোতা অফিস সহকারি ফজলুল হকের কর্মকান্ডে উপজেলার সর্বত্র তোলপাড় শুরু হয়েছে।

তিনি স্থানীয় বাসিয়া পাড়া বাসিন্দা হওয়ায় এলাকার প্রভাব খাটিয়ে দাঁপিয়ে বেড়াচ্ছেন বলে অভিযোগ রয়েছে।

অভিযোগ সুত্রে জানা যায়, কয়েক মাস আগে উমরপুর গ্রামের সুলেমা বেগম (৪৮) ক্যান্সার রোগে আক্রান্ত হয়ে বানিয়াচং সমাজসেবা অফিসে আর্থিক সহায়তার আবেদন করেন। এসময় তিনি তার নিজের একাউন্টের চেক বইয়ে স্বাক্ষর করে রাখেন।

আবেদন করার কিছুদিন পর তিনি মারা যান। পরে নিহতের ভাই মোঃ আশরাফ মিয়া টাকা উত্তোলনের জন্য অফিস সহকারি ফজলুল হকের কাছে গেলে তিনি কয়েকদিন ঘুরিয়ে অবশেষে তার কাছে মোটা অংকের ঘুষ দাবী করেন। আশরাফ মিয়া বাধ্য হয়ে ৫ হাজার টাকা তাকে ঘুষদেন। ঘুষ পেয়ে ফজলুল হক মৃত সুলেমার ৫০ হাজার টাকার চেক তার ভাইয়ের কাছে হস্তান্তর করেন।

এব্যাপারে নিহতের ভাই আশরাফ মিয়া জানান, বার বার তার কাছে ধরনা দিয়েও টাকা উত্তোলন করতে না পেরে বাধ্য হয়ে ৫ হাজার টাকা ঘুষ দেন তিনি।

তিনি জানান ওই সময় বানিয়াচং সমাজসেবা অফিসে কোন অফিসার কর্মরত ছিলেন না। এ সুযোগে অসৎ উপায়ে অফিস সহকারি ঘুষ-বাণিজ্য শুরু করেন।

সমাজসেবা অফিসার সাইফুল ইসলাম প্রধান জানান, আমি যোগদান করেছি মাত্র ৪ মাস হলো। ঘটনাটি তিনি যোগদানের আগের দাবী করে বলেন, ঘুষের বিষয়টি দেখবেন দুদক কর্তৃপক্ষ। আর আমার অফিসের সহকারির বিরুদ্ধে অভিযোগটি জেলা সমাজসেবার পরিচালক মহোদয়ের মাধ্যমে আলাদাভাবে তদন্ত করে দোষী হলে তার বিরুদ্ধে বিভাগীয় ব্যবস্থা নিবেন।

উল্লেখ্য, ৪ বছর ওই অফিসে স্থায়ীভাবে কোন অফিসার ছিলেন না। এ সুযোগে ফজলুল হক অফিসকে ঘুষ-বাণিজ্যের আখড়ায় পরিণত করেন বলে জানান ভূক্তভোগীরা। সম্প্রতি মাঠ পর্যায়ে জিটুপি (গভর্মেন্ট টু পার্সন) চালু করার সময় শতকরা ১০ শতাংশ ভাতাভোগীর অস্তিত্বই খোঁজে পাওয়া যায় না।

স্থানীয়দের দাবী দুর্নীতিবাজ ফজলুল হক স্বপনসহ অন্যান্য সাবেক ও বর্তমান কর্মচারীদের নিয়ে তদন্ত করলেই সত্য ঘটনা বেরিয়ে আসবে।

এ ব্যাপারে ফজুলল হক জানান, আমি এ বিষয়ে কোন কিছু জানি না। আমি কারও কাছ থেকে কখনও ঘুষ নেইনি। এটি আমার বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্র।

সংবাদটি শেয়ার করুন

এ জাতীয় আরো সংবাদ