#  শায়েস্তাগঞ্জে ইয়াবা-মদসহ আটক ২ #  মাধবপুরে সাংবাদিক জাহের মিয়া ফকির আর নেই #  হবিগঞ্জে আ’লীগের আলোচনা সভা ও মিলাদ মাহফিল #  সিলেটে বোমাসদৃশ্য বস্তুটি ‘গ্রাইন্ডিং মেশিন’ #  নবীগঞ্জে পৌর মেয়র দম্পতিসহ ৫ জনের করোনা শনাক্ত #  হবিগঞ্জে প্রতারক আফজালের জামিন নামঞ্জুর #  চুনারুঘাটে মাদক ব্যবসায়ী বাঘা লিটনসহ আটক ২ #  নবীগঞ্জে ১৪ ডাকাতি মামলার প্রধান আসামী গ্রেফতার #  লাখাইয়ে ঝুঁকিপূর্ণ আনন্দ ভ্রমন না করার নির্দেশ #  দেশে করোনায় আরো ৩৯ জনের মৃত্যু #  মাধবপুরে করোনা আক্রান্ত হয়ে শিক্ষকের মৃত্যু #  চুনারুঘাটে শেখ কামালের জন্মদিনে মিলাদ মাহফিল #  কমলগঞ্জে এক ব্যবসায়ীর মালামাল উদ্ধার করলো পুলিশ #  বাহুবলে ডাকাতি মামলার আসামী গ্রেফতার #  শায়েস্তাগঞ্জে মোটরসাইকেল আরোহী নিহত

শায়েস্তাগঞ্জ মুক্ত দিবস আজ

কামরুল হাসান: আজ ৮ ডিসেম্বর। দীর্ঘ নয় মাস রক্তক্ষয়ী মুক্তিযুদ্ধের পর এ দিনই শত্রু মুক্ত হয়েছিল হবিগঞ্জ জেলার শায়েস্তাগঞ্জ। মুক্তিকামী জনতা আকাশে উড়িয়ে ছিল বাংলাদেশের মানচিত্র খচিত লাল-সবুজের পতাকা। মুখে মুখে ধ্বনিত হচ্ছিল শ্লোগান ‘জয়বাংলা’।

১৯৭১ সালের ২৫ শে মার্চ কালো রাতে হানাদার বাহিনী কর্তৃক গন হত্যা শুরুর পর পরই স্থানীয় রাজনৈতিক নেতাকর্মীরা সাধারণ মানুষকে সাথে নিয়ে এখানে গড়ে তোলেন প্রতিরোধ। বৃহত্তর সিলেটের সাথে সারাদেশের যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন করতে মুক্তিবাহিনী উড়িয়ে দেয় শায়েস্তাগঞ্জ খোয়াই সেতু। স্থানে স্থানে রেল লাইনেও প্রতিরোধের ব্যবস্থা নেয়া হয়। এরই মাঝে ২৯শে এপ্রিল হঠাৎ করেই পাক-হানাদার বাহিনী শায়েস্তাগঞ্জ শহরে এসে উপস্থিত হয় বলে জানা যায় স্থানীয় মুক্তিযোদ্ধাদের সাথে কথা বলে। এখানে অবস্থান নিয়ে তারা সাধারণ মানুষের উপর চালাতে থাকে নির্মম হত্যাচার। যোগাযোগের জন্য খোয়াই নদীতে ফেরী চালু করে। স্থাপন করে ক্যাম্প।

প্রত্যক্ষদর্শীদের বিবরণ থেকে জানা যায়, অসংখ্য মানুষকে চোখ বেঁধে বিধ্বস্ত খোয়াই সেতুর উপর থেকে কখনো গুলি করে, আবার কখনো হাত-পা বেঁধে জীবন্ত অবস্থায়ই নদীতে ফেলে দিতো হায়েনার দল।

এদিকে সারাদেশের সাথে সড়ক ও রেল এবং নৌ-পথের যোগাযোগের সুবিধার্থে হানাদার বাহিনী এখানে তাদের শক্তি বৃদ্ধি করতে থাকে। ফলে মুক্তিবাহিনীর সদস্যরা সাধারণ মানের অস্ত্র নিয়ে চোরাগুপ্তা হামলা চালালেও যুদ্ধে এদের সাথে পেরে উঠছিলেন না। অন্যদিকে এখান থেকে ভারত সীমান্তের কাছে থাকায় পাকিস্তানিরা সবসময় ভারী অস্ত্রে-শস্ত্রে সজ্জিত থাকতো। পাশাপাশি মিত্র বাহিনীর ভয়ে ভীত থাকতো বলে গুপ্তচর সন্দেহে তারা নির্বিচারে অনেক সাধারণ মানুষকেও হত্যা করে বলে অনেকে জানান। অবশেষে আসে সেই মাহীন্দ্রক্ষণ।

১৯৭১ এর ৮ ডিসেম্বর সিলেটের সর্বত্র যুদ্ধে হেরে পাকবাহিনী সড়ক ও রেলপথে শায়েস্তাগঞ্জ হয়ে ঢাকার উদ্দেশ্যে পালাতে থাকে। একই সাথে শায়েস্তাগঞ্জ থেকেও ছটকে পড়ে কুখ্যাত হায়েনার দল।

দীর্ঘ নয় মাস পর এলাকার সর্বস্তরের মানুষ বিজয় পতাকা হাতে বেরিয়ে পড়ে রাস্তায়। গগন বিদারী ‘জয়বাংলা’ শ্লোগানে মুখরিত হয়ে উঠে শাস্তেগাগঞ্জ শহর।

স্থানীয় মুক্তিযোদ্ধা কাজী গোলাম মর্তুজা বলেন, যুদ্ধের সময় তিনি সেনাবাহিনীর সঙ্গে শেরপুর নামক স্থানে পাকিস্তানী হানাদারদের মোকাবেলায় অস্ত্র হাতে ঝাঁপিয়ে পড়েন। পরবর্তীতে ভারতের ত্রিপুরার খোয়াই নামক স্থানে ২২-এম.এফ কোম্পানীতে যোগদান করে যুদ্ধে শরিক হন। পরে তিনি জানতে পারেন আজকের দিনে শায়েস্তাগঞ্জ এলাকা হানাদার মুক্ত হয়।

 

লেখক : বার্তা সম্পাদক, করাঙ্গীনিউজ